ইউজার লগইন

সপ্তাহ নামা

ছোটবেলা থেকেই আমি বাইবর্ণ থিংকার।আমিও তাই শুধু ভাবাভাবিতেই থাকি।কত যে আমার ভাবনা তার কোন শেষ নেই।কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হল আমার ভাবনা শুধু ভাবনাতেই শেষ-ওগুলা বাস্তবে আনা নিয়ে আমার তেমন কোন ভাবনা নেই।এই যেমন চিন্তা করলাম এটা করব-প্ল্যান করলাম,তারপর ঘুম।সবচেয়ে হাসি আসে যখন সদ্য শেষ হয়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ভাবনার কথা মনে পড়ে।কাল পরীক্ষা আমরা পড়ে টের পেলাম যে কাল বেশি সুবিধা হবেনা।আমি আর আমার রুমমেট বসে বসে প্ল্যান করতাম না অনেক হয়েছে আগামী সেমিস্টার থেকে প্রথম দিন থেকে পড়া আর পড়া-নো হাংকি-পাংকি।টিউশিনি কমাতে হবে......।কিন্তু পরীক্ষা কোনমতে পাইড় করতে পারলে হল।–নারে দোস্ত এখন না।মিডটার্মের পর কোপায়ে স্টাডি করব-বাদ দে।মিডটার্ম শেষ-আরে ব্যাটা এখন পড়লে কিছুই মনে থাকবেনা-পিএলে পড়ব।পিএলে এখন শুধু চোখ বুলাই- ডিএলে একেবারে খিইচচা ফেলাব।ডিএলে এসে আবার না অনেক হয়েছে আগামী সেমিস্টার থেকে প্রথম দিন থেকে পড়া আর পড়া-নো হাংকি-পাংকি।টিউশিনি কমাতে হবে......। নিজেদের জাতীয়তা নিয়ে আর কোন সন্দেহ নেই।ভেবেই ভেবেই শেষ।
তারপরো কিছু ভাবনা থাকে যেগুলা আসলেই করতে চেষ্টা করি।কিন্তু পারিনা।এখন যেমন ভাবলাম এ সপ্তাহের ভাবনা নিয়ে লিখব। আমার আবার মআঝে মাঝে ভাবনা সপ্তাহ যায়। এসব সপ্তাহে হাইরে কত ভাবনা। কত যে প্ল্যান কত যে স্বপ্নের আকিবুকি...।এ সপ্তাহ টা একটা মারাত্মক ভাবনা সপ্তাহ গেল। দুইটা ভাবনা বা ঘটনা যাই হোক না কেন খুব বেশি এসেচে এ সপ্তাহে
কে সৃজনশীল??
শনিবার আমার মাথায় সারাক্ষণ ঘুরছে কে সৃজনশীল।আমার ছাত্রকে পড়াতাম আগে অনেক বিস্তারিত।শুধু বুঝাতাম তারপর লাইন দাগিয়ে দিতাম আর ও নিজে বিভিন্ন প্রশ্ন নোট করে আমাকে দেখাত।আমি আমার ছাত্রের প্রতিভা দেখে আমি মুগ্ধ। ভালৈ লাগত।এসব ঘটনা ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল যুগের আগে যখন ক্লাস সিক্সে। ও যখন ক্লাস সেভেনে উঠল এবার শুরু হল ঝামেলা।একদিন আমাকে একগাদা বাংলা প্রশ্ন নিয়ে এসে সারা সৃজনশীল প্রশ্ন দিসে নোট করে দেন। আমি বললাম আরাফ তুমি তো নিজেই নোট কর।স্যার আমারগুলা সুন্দর হয় না তাই ক্লাসের স্যার বলছে সুন্দর করে নোট করে নিয়ে আসতে।এই হল বাংলার সৃজনশীল শিক্ষার নমুনা। সব বাংলা নোট আমি বা তার ক্লাস টিচার দেয় আর ও মুখস্ত করে। আগে প্যারাগ্রাফ দিতাম- বই থেকে দাগিয়ে।এক্ষন না লিখে দিয়ে উপায় নেই।ক্লাস সেভেনের ছেলেকে যদি কে DRUG ADDICTION বা ROLE of FAMILY নিয়ে লিখতে বলা হয় তবে সে কতদুর পারবে? আনি অন্তত ক্লাস সেভেনে এই জিনিস লিখতে পারতাম না।অগত্যা আমাকেই লিখে দিতে হয়।সৃজনশীলে নাকি মুখস্ত করার সুযোগ নেই।আমি তো দেখি আগে ও কিছু হলেও বানিয়ে লিখত এখন পুরাই আমার উপর নির্ভরশীল।

স্রৃজনহীন আমলেই ও বেশি সৃজনশীল ছিল।

বরং বলা যায় প্রতিদিন একটা প্যারাগ্রাফ আর বাংলার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আমার নিতম্ব ফাটছে –আমিঈ সৃজনশীল হচ্ছি আর ভালোই হচ্ছে বিসিএস প্রিলির প্রিপারেশন।বাংলার রথি মহারথিরা কি ভাবে এসব =, নিত্য নতুন সিস্টেমে কি লাভ হচ্ছে।জাফর ইকবাল স্যার বা অন্য যারা এই প্রসেসে জড়িত তারা কি জানেন কি হচ্ছে সৃজনশীলতার আড়ালে???ব্যাবসা-স্রেফ ব্যাবসা।আপনার এলাকায় হাটুন – নানা কোচিং সেন্টারের ব্যানার পাবেন “এখানে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পড়ানো ও পরিক্ষা নেয়া হয়”।ভাল বেশ ভাল-সবাই চালিয়ে যাক।দুই বছর পর আবার আরো নয়া কোন পদ্ধতি বার করেন।ছাত্রদের উপর চাপান।বেশ জমবে বানিজ্য।নতুন বই-নতুন টেন্ডার সেমিনারে লম্বা বুলি আর কারো পেপারে “সাদাসিধে কথা” চলুক।আমি শুধু তালে আছি একবার একটা মোটামুটি চাকুরি মিলে যাক- এই অভিশপ্ত সাময়িক পেশা টিউশনি ছেড়ে দিব। কবে শুনব মনীষিসৃজন পদ্ধতি চলে আসবে। বাল গ্রামের স্কুলে নাই শিক্ষক-নাই সায়েন্সের ছাত্রদের ল্যাব।এসব দিকে কারো মাথাব্যাথা নাই-নতুন নতুন সব সিস্টেম-যার মুলমন্ত্র-“বার হাত আম থেকে বের করব তের হাত বিচি”।

মেমেন্টো আর স্টোন ওফ ডেসটিনিঃ
রোববার সকালে ভাবি মুভি দেখি।নোটবুকে দেখি স্টক ভালই।সিলেক্ট করলাম মেমেন্টো আর স্টোন ওফ ডেসটিনি।মেমেন্টো দেখা শেশ হল আর আমার মাথা ঘুরা।আমি চোখ সামনে রেখে হাটব না উলটা হাটব বুঝেই পাচ্ছিনা।আসলেই লিওনার্দ কে? আসলেই কি তার স্ত্রীর হত্যাকারীকেই সে মারছে। যারে মারল সে কি আসলেই জন জি।বাবারে কি বানাইছে এই ছবি।উল্টা দিকে থেইকাও দেখা যায়।কুনো সমস্যা নাই।বুঝিলাম বন্ধুরা ঠিকই বলছিল-মেমেন্টর নকল হইল গজনি।কিন্তু আমাদের জন্য গজনীঈ ভালা।মেমেন্টো বুঝার ক্ষমতা আমার নাই।তবে যাই বলেন ছবিটা বানাইসে সিরাম।পরিচালক রে সালাম।
রাতে দেখলাম স্টোন ওফ ডেসটিনি।স্কটল্যান্ডের রাজারা নাকি এ পাথরের উপর বসে রাজ্য চালানোর শপথ নিত।কিন্তু ইংরেজরা সেই পাথর নিয়ে যায় তাদের দেশে-রেখে দেয়।শাসন করতে থাকে স্কটল্যান্ডকে।এমনকি তাদের দেশের নাম ও হয়ে যায় “North Britain”.এরই মধ্যে অনেকেরই স্বপ্ন থাকে স্কটল্যান্ডকে জাগানোর।তাদের ই একজন আয়ান হ্যামিল্টন।তিনি একজন স্কটিশ জাতীয়তাবাদি।অবাক হয়ে দেখে যে মানুষ আজ আর নিজেদের স্কটিশ পরিচয়ে গর্বিত নয়। তার মনে রেখাপাত করে এক স্কটিশের কথাগুলিঃ

“we are all British now. Scotland is dead. It died in its sleep and nobody even came to the funeral ”

এক সময় সেভাবে স্টোন অফ ডেসটিনি চুরি করে স্কটল্যান্ডে নিয়ে আসার।কারণ এভাবে সে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিল মৃতপ্রায় স্কটিশ জাতীয়তাবাদকে।তার এই অসম্ভব প্রায় মিশনে সাথী হিসেবে পায় কে ম্যাথসন, গ্যাভিন ভ্যারনন, এলান স্টুয়ার্ট আর জন ম্যাক করমিক কে। শুরু হয় এক অসাধারন অভিযানের। বলবনা অসাধারন কোন কাহিনি বা খুব সুন্দর নির্মাণ। কিন্তু ছবিটা আমাকে তেনে রেখেছে পুরাটা সময়।এমনি যে আমি রাতে শোয়ার সময় ও দেখতে পাই স্কটিশদের উল্লাস আর কানে ভাসে আয়ান হ্যামিল্টনের কথাঃ

“On that day I heard the voice of Scotland speak as loudly as it did in 1320. As long as a hundred of us remain alive, we shall never give in to the domination of the English. We fight not for glory, not for wealth, nor honors, but only and alone for freedom, which no good man surrenders but with his life.”

ভালঈ ভাবিয়েছে ছবিটা। দেখতে পারেন। এতে সময়ের অন্তত অপচয় হবেনা।

পোস্টটি ৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


শিরোনাম দেখলাম সপ্তাহনামা। লিখলেন মাত্র দুদিনের কথা। বাকি দিনের ভাবনাগুলো কোথায় গেলো?

নীড় সন্ধানী's picture


টিউশানি অভিশপ্ত পেশা হবে কেন? আমি তো বরং জীবনে টিউশানি করিনি বলে আফসুসে মরি। স্যার ডাক শোনার জন্য প্রাণটা আকুপাকু করতো একসময়। Cool

আশফাকুর র's picture


আপনি টিউশনি করেন নি জেনে খুশি হলাম। বাধ্য না হলে আত্মসম্মান আছে এমন মানুষ কোন দিন টিউশনি করেনা। স্যার ডাক অনেকভাবেই শোনা যায়। আর টিউশনি করলে সাধারণত ভাইয়া ডাকা হয় স্যার না। স্যার শব্দটা এত সস্তা না।যান এখন গিয়ে দুই রাকাত শোকরানা নামাজ পড়েন।

মীর's picture


ভালো লাগলো।

বাতিঘর's picture


আমিও পরীক্ষার পর ছাত্র পড়াইছিলাম Smile নিজে সৃজনশীললুক তো Tongue ছাত্রীরেও পণ নিছিলাম সেরাম বানানোর..তারে রোজ একপাতা বাংলা এক পাতা ইংরাজী রোজনামচা লেখতে বলতাম। মাশাল্লাহ, আমার ছাত্র-ছাত্রীভাগ্য সেরাম ছিলো ভাইটি Steve খুবই ইনজয় করছি সময়টা। বকবক করতেই থাকতাম, শুধু একটা সময় বিরক্ত হতাম যখন খানা খাদ্য নিয়ে আসতো..ইশরে রীতিমতো কান্না পাইতো.... যখন দেশ ছেড়ে আসি আমার ছাত্র/ছাত্রীদের কান্নায় আমি পুরাই টাশকি খাইছিলাম, আমিও একজন মানুষ, তার জন্যেও কেউ কান্দে! Sad Sad Sad আপনের পুষ্ট পড়ে বড়ই স্মৃতিকাতর হলাম গো ভাই...অনেক কথা বললাম কিছু মনে নিবেন না পিলিজ Smile

প্রথম মুভীটা দেখছি Big smile দ্বিতীয়টা দেখিনাই...গল্পটা খুব ভালো লাগছে..দেখবার আশা থাকলো।ঠিকই তো সপ্তাহনামা কয়ে আমাদের ফাঁকি দিলেন তো মামা Crazy ধন্যবাদ আপনার পোষ্টের জন্য। ভালো থাকবেন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আশফাকুর র's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বপ্ন দেখতে ভাল লাগে। নানা স্বপ্ন দেখতে দেখতে জীবন কাটছে। ছেলেবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের প্রথম ট্যাংক বানাবো। আমার জলপাঈ রঙা সে ট্যাংকে চড়বে বাংলার সেনারা...।সে স্বপ্নের খাতিরে প্রকৌশলী হলাম। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হয়নি...।বানাতে পেরেছি একটা ছোট বহির্দহ ইঞ্জিন। জীবনে তাই আর বড় কিছু স্বপ্ন দেখিনা। একমাত্র অনেক টাকা কামাতে চাই...।সারা জীবন আমার মা টা অনেক ভুগেছে...।। আমি মার জন্য কিছু করতে চাই...।।স্বপম বলতে এটুকুই