ইউজার লগইন

কাল্পনিক এক প্রাপকের কাছে কখনও না লেখা চিঠি

প্রিয় ছটফটানি,

তোমার একটা ছবি দেখলাম অনলাইনে। আজকে দিনটা এমনিতেই কেমন যেন খারাপ যাচ্ছিল। খারাপ মানে ঠিক খারাপ না কিন্তু মেলানকোলিক আরকি। তখন এক বন্ধুকে বলছিলামও কথাটা। তোমার ছবিটা দেখে ভাবটা বেড়ে গেল আরও।

জানি না কেন। গত ক'দিন ধরেই এই অবস্থা। কোথায় যেন আমি হারিয়ে গেছি। খুঁজে পাচ্ছি না কোনোভাবেই। কোনোকিছুতেই। ছোট ছোট কিছু পাওয়া মাঝে মাঝে নিজেকে উদ্বেলিত করে। পরক্ষণেই বুঝতে পারি, শুধুমাত্র ওই অতোটুকু পাওয়ার জন্য মানবজন্ম লাভের দরকার ছিল না। স্বচ্ছলতা তো আরও বাতুলতা হয়ে গেছে তার ওপরে।

ছোট ছোট বিষয়ের মধ্য থেকে সুখ খুঁজে নিতে হয়। এক সময় বিশ্বাস করতাম না। বিশালতার ছোঁয়া না থাকলে একটা সময় কোনোকিছুই পছন্দ হতো না। সেটাকে ভাল লাগা বা তার ভেতর থেকে সুখী হওয়ার উপাদান খুঁজে বের করা তো দূরের ব্যপার। তারপর ধীরে ধীরে অপশন কমতে শুরু করলো। বড় বড় সুখের ঘটনা জীবনের সাথে ঘটা বন্ধ হয়ে গেল ঘটা করে। এখন ফেসবুকে বা ইন্সটাগ্রামে দুই-একটা লাইক পাওয়ার মতো বিষয়ে সুখী হতে হয়। ইন্সটাগ্রামে তো বেড়ালের ছবিতেও লক্ষ লক্ষ লাইক পড়ে। মানুষের আহ্লাদিত কমেন্টের জোয়ার বয়ে যায়। ওই টুকুতেই যদি সুখী হওয়া সম্ভব ছিল, তাহলে মানুষ হয়ে জন্মানোর মাজেজা কি?

প্রতিটা দিন গভীর মন খারাপের অনুভূতি নিয়ে ঘর থেকে বের হই। চাবি ঘুরিয়ে চেক করি, দরজার তালা ঠিকমতো লেগেছে কিনা। তারপর দ্রুতগতিতে বাসস্ট্যান্ডের দিকে হেঁটে যাই। ঠান্ডা বাতাস চুলগুলোকে এলোমেলো করে দেয়। এলোমেলো চুল নিয়েই বাসে ঢুকে, হেডফোনে মন খারাপ করা কোনো গান শুনতে শুনতে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অপেক্ষা করি। মন খারাপ করা গান ছাড়া আর কোনো গান আজকাল ভাল লাগে না। তারপর ৯ ঘন্টা কামলা খেটে, ঠিক একইভাবে ঘরে ফিরি। ফ্রীজ থেকে পিৎজা বের করে ওভেনে চড়াই। কম্পিউটারে একটা কিছু দেখার ব্যবস্থা করি। বেশিরভাগ সময় কমেডি টাইপ টিভি সিরিয়াল। শেষের ক'টা দিন দেখছিলাম ওয়েস্টওয়ার্ল্ড। ওটা দেখা শেষ হয়ে গেছে। এখন যা পাই, তাই দেখি প্রায়। কোনো বাছবিচারের বালাই নাই। খাওয়া আর কিছু একটা দেখা একইসাথে চলে। তারপর মন খারাপের বাক্সটা সাথে নিয়েই এক সময় ঘুমিয়ে পড়ি।

থেকে থেকে জেগে উঠি দুঃস্বপ্ন দেখে। একটা হৃদয় কতোটা কষ্ট সহ্য করতে পারে- এর উত্তরের খোঁজে পেইজে পেইজে ঘুরি। সেভাবে কোনো উত্তরও পাই না। যেসব দর্শনের খোঁজ পাই, তা গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করলে একটা কথাই শুধু মনে হয়, একেকজনের দর্শন একেকরকম। অন্যকেউ, সে যতো বড় দার্শনিকই হোক না কেন; তার দেয়া বাণী আমার জন্য কখনোই শতভাগ কার্যকরী হবে না। এই এতো বড় পাজল আমি কিভাবে সলভ করবো, সেটাও বুঝতে পারি না।

আর কেকের টপিংয়ে চেরীর মতো ছোটখাটো জাগতিক সংকট তো আছেই। এই সব মিলিয়ে ভাল আছি। শুধু চোখ দু'টোতে বিরাম নেই। এক অদৃশ্য অশ্রুধারা সেখান থেকে ক্রমাগত বইছে। বইছে তো বইছেই। আজকাল মাঝে মাঝে ভয় পাই। কোনো একদিন হয়তো ভেঙ্গে পড়বো। কোনো এক সময় হয়তো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনেকগুলো মানুষকে কষ্টের সীমাহীন সাগরে ভাসিয়ে দেবো।

চিঠিটার সমাপ্তি টানছি এখানেই। আরও বেশি কিছু লিখে তোমাকে একটা মানসিক সংকটে ফেলে দেয়ার আগেই। আমি জানি তুমি জানো, আমার লেখাগুলো এক সময় সত্যি হয়েই যায়। তবে এটা সত্যি হবে না। আমার মতো একজন কাপুরুষের পক্ষে অতোটা সাহস এক জায়গায় জড়ো করা কখনও সম্ভব হবে না। নো ওরিস্।

ভাল থেকো। শুভেচ্ছা নিও।
---

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অতিথি's picture


না বলা

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

more efficient in reading than writing. will feel honored if I could be all of your mate. nothing more to write.