ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৫

আজকাল মনে হয় প্রসন্নতা কেবল
একদিনই অর্জন সম্ভব।
আর অন্য সবসময় বেঁচে থাকতে হবে
অনন্তের অনিশ্চিত ফুটপাতে ফুটপাতে।

আমি দিনমজুরের মতো শীতের সকালে ঠকঠক করে কাঁপি
আমার বন্ধ কাজের ঝাপি; নাহয় একদিন খুললামই না,
তাতে কার কি আসে যায়? নিরন্ন থাকার প্রহর বাড়ে
কেবল আমার। সামন্তদের সঙ্গে এইটুকু তফাত নিয়ে
বেঁচে আছি অকারণে। ওরা কেবল বিলাসীতাটুকু
বিনামূল্যে দেখানোর সুযোগ পায়।

ওদের ভিআইপি বক্সে বসে দেখা স্বপ্নগুলো
হয়তো কোনোদিন সত্যি হবে, অনাগত সেই
পার্থক্য হয়তো আমি আজ ধরতে পারি না, আমার
দুর্বিষহ অতীতকাল বর্তমানের স্রোতে ভেসে এগিয়ে
চলে ভবের পানে, পায়ে জড়ানো বেড়ি বারবার ফেলে
দেয়, মেঠো পথে শরীর থুবড়ায় আর আমি প্রতিদিন একবার
ঘুম থেকে উঠি।

আজকাল মনে হয় প্রসন্নতা কেবল
একদিনই অর্জন সম্ভব,
কেবল একটি মাত্র অপস্থানে
সেটি সমাহিত আছে,
আমাকেও সেখানে যেতে হবে একবার

আর কিছু নাই, একটা দুঃসম্পর্কের কথাই কেবল উল্লেখযোগ্য

আমার একটা ধারণা হচ্ছে- এই কঠিন-কঠোর পৃথিবীতে কেউ আসলে কাউকে খুব একটা বোঝে না। যার মূল কারণ এর কাঠিন্য। তাই আগের লাইনে 'কঠিন-কঠোর' দুইটি শব্দ ব্যবহার করেছি। আমাদের চারপাশের পৃথিবীটা এত কঠিন যে, জন্মদাত্রী মা’কেও আমরা বঞ্চিত করি। বাবা’কে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিই জীবন থেকে। শুনেছি স্নেহ নাকি সর্বদা নিম্নগামী। যে নিচের দিকে মানুষ হৃদয় নিংড়ানো স্নেহের বস্তা উপুড় করে দেয়, সেই নিচ থেকেই আবার চলে আসে উপরের জনের সঙ্গে করা অন্যায়ের প্রতিশোধ। মানুষ কি ভীষণ অসহায়!

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৪

প্রথম দু'টির পর টোয়াইলাইটের পরের পর্বগুলো আর দেখা হয় নি। তাই বুঝি সেদিন একজন এসেছিলো স্বপ্নে। স্বপ্নের মহানাগরিক প্রেক্ষাপটটা অচেনা ছিলো না। পরিচিত শহর, রাস্তা, ধুলা-বালি-কিংকর। দেখে দেখে মুগ্ধ দু'জন শুধু বুঝতে পারছিলাম না, সেটা কোন দেশ। অথচ আজন্ম পরিচিত মনে হচ্ছিলো সবকিছু।
আমরা যে হোটেলটায় গিয়ে উঠেছিলাম, সেটা ছিলো ঠিক পরিচিত একজনের বাসার মতো করে সাজানো। এমনকি টেবিলের লম্বা বাঁশি দু'টোও ছিলো সেগুলোর নির্ধারিত জায়গাতেই। আমি লম্বাটে মনিটরের নোটবুকটায় চালিয়ে দিয়েছিলাম শতাব্দীপ্রাচীন কোনো এক গ্রন্থের সিনেমারূপ। আর সেটা আমাদেরকে ক্রমাগত ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলো বর্তমান থেকে দূরে, দূর থেকে দূরান্তে।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৩

আমার প্রিয় জিনিসগুলোর তালিকা তৈরি করলে উপরের দিকে থাকবে বোধহয় আমার লাইটার। যেটা দিয়ে আমি ধূম্রশলাকাগুলোয় অগ্নিসংযোগ করি। আমি ধূমপান করতে পছন্দ করি, পছন্দ করি মানুষকে ধূমপানে উদ্বুদ্ধ করতেও। আমার ধারণা; কাজটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কিন্তু মনের জন্য নয়। আমি অবশ্য আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতির শিকার হই নি। হয়তো কোনোদিন হবো। ধূমপানে কি কি ক্ষতি হয়, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়াটা কঠিন না। আমি ধারণাগুলো থেকে বেছে বেছে যেটাকে পছন্দ করেছি, সেটা হচ্ছে ক্যানসার। আমার যদি ধূমপানজনিত কোনো সংকটে পড়তেই হয়, তাহলে আমি শ্বাসনালীর ক্যানসারে আক্রান্ত হতে চাই।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১২

আমি চলে যাবার সময় অবশ্যই
বারবার পেছনে ফিরে তাকাবো
দেখার জন্য কেউ কি দুঃখী মুখে
অপেক্ষা করছে কিনা।
যখন দেখবো কেউ অপেক্ষায় নেই
তখন সম্ভবত লঘুপায়ে
মাথা নিচু করে হেঁটে হেঁটে
পার হয়ে যাবো পৃথিবীর সীমানা।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১১

তারপর এক বছর আগে ছেড়ে যাওয়া প্রেমিকার মতো করে
ভেজা কুয়াশারা এসে সেই গাল দু’টো ছুঁয়ে দিতো,
আর সে খুব ভালোভাবে চাদরটা টেনে নিয়ে
নির্জন রাস্তায় তাড়াতাড়ি পা চালাতো।

কেউ জানতো না
হতাশারা প্রতিরাতে
একবার, তাকে খুন করে
যেতো আর, সে নিরন্তর খুঁড়তো
নিজেরই শবাধার
এই নরম মাটির বুকে।

অলিখিত জীবন যে সীমান্ত এঁকে যায়
জেনে রেখো দুইপাশে তার শুধু
কষ্টই থাকে হায়।
---

গল্প: অ্যাম্ফিটামাইন এবং ঝাকড়া চুলের মেয়েটি

১.
ইয়াবা একটা থাই শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে পাগলা ওষুধ। হৃদয় কবে এই পাগলা ওষুধ প্রথম নিয়েছিলো, সেটা ওর স্পষ্ট মনে আছে। যদিও মুহসীন হলের অনেক রুমেই ইয়াবা নেয়া হয়। তবে হৃদয়রা জিনিসটা একটু এড়িয়েই চলতো প্রথম প্রথম।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১০

পৃথিবী তুমি আমায় নির্বাণ দাও
অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, প্লীজ
আমি পরিত্রাণ চাই।
এর বিনিময়ে তুমি চাইলে কেড়ে নিতে পারো
একটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার।
আমি কিংবা আর কেউ তাতে কিছু মনে করবে না।
শুধু দু'একজন সর্বংসহা হয়তো তোমার মতো করেই কাঁদবে,
যেভাবে কেঁদে কেঁদে তুমি নিজের নির্বাণ খুঁজে ফেরো।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৯

১.
আমাদের অফিসের সামনে একটা চা’ওয়ালা কাকা আছে। আমি কাকাই বলি। কাকা এই ৭৫+ বয়সেও প্রোডাক্টিভ। তার সবচেয়ে ছোট ছেলেটা নটরডেম স্কুলে পড়ে। ওয়ান বা টু’য়ে মনে হয়। পিচ্চিটা খুব্বি কিউট। পিচ্চিরা এমনিতে কিউট'ই হয়। এইটা আবার মাঝে মাঝে বাপের দোকানে বসে ক্যাশ সামলায়। আর বাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা বানায়। দেখতেই ভালো লাগে। আমি গেলেই এই পিচ্চির মাথাটায় পাঁচ আঙ্গুলে একটা চাপ দিই। সে মনে হয় বুঝতে পারে না, এটা তাকে ‘আদর’ করা হইসে। খানিকটা বিরক্তি নিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে।
কাকা’র অন্যান্য ছেলেগুলোও দোকানে বসে। তার কি দেরীতে বিয়ে হয়েছিলো কিনা, কে জানে! তার একটা ছেলেকেও আমার বয়েসী দেখি না। অথচ আমার বাবার চেয়ে অন্তত ২০ বছরের বড় হবেন বয়সে।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৮

Don2-Stills.jpg

হিন্দি সিনেমা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। যেটা ডন-২ দেখে আমার মনে হলো। শাহরুখ খান একটা ভালো থ্রিলার করতে চাচ্ছিলো অনেকদিন ধরেই। রা-১ মার খেয়ে গেলো। বেচারার বোধহয় মন খারাপ ছিলো এজন্য। ওকে আবার আমি ভালো পাই তো খুবই, তাই আমারো মন খারাপ ছিলো। তো ডন-২ দেখে আমার মন খারাপ কেটে গেছে। এখন ওর কি হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

সবচাইতে যেটা মজা পাইলাম, সিনেমায় বর্ণ বা অন্যান্য থ্রিলার থেকে নোট তো নেয়া হয়েছেই; পরিচালক এমনকি ক্যাসল অভ ক্যালিয়োস্ত্রো'র দিকেও হাত বাড়িয়েছেন। ভালো নকল দেখে দেখে লেখা প্রশ্নের উত্তরগুলোও আসলে ভালো মার্কস্‌ই পায়। আর উল্টা রেসিং মনে হয় বলিউডে এইবারই প্রথম দেখলাম। অবশ্য এই ব্যপারে পুরোপুরি নিশ্চিত না আমি। স্বীকার করে রাখলাম।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৭

বিকালের দিকে যখন একটা আবিররঙা আলো কংক্রীটের বীমগুলোর ফাঁক-ফোকর দিয়ে আমার শরীরের কাছাকাছি এসে গড়াগড়ি খেতে চাইতো, তখন আমি একটু পাশে সরে বসতাম। নরম আদুরে আলোটাকে স্পর্শ করতে দিতাম না আমার শরীর, কারণ ওর স্পর্শ পাওয়ার মতো নরম নয় আমার চামড়া। আমার খসখসে সরীসৃপ শরীরটা চাইলে এ আলোর পুরোটাই চুষে নিতে সক্ষম। নিয়ে চারদিকে চাইলে নামিয়ে দিতে পারে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। এমনিতেও প্রতিদিন একটা নির্ধারিত সময়ে এখানে অন্ধকার নেমে আসে। তবে আমি চাইলে সেটা নামিয়ে দিতে পারি বেশ কিছুটা আগেই কিংবা যেকোন অনাকাঙ্খিত সময়ে। চাই না কখনো। কারণ তাহলে হয়তো মার খেয়ে যাবে, প্রতিদিন এখানকার আবির-আলোয় বসে কয়েকটা মানুষের যে কাজগুলো করার পরিকল্পনা থাকে, সেগুলো।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৬

এই যে এখন একটা বিচ্ছেদ হলেই তোমার চেহারাটা নিয়ে
কনফিউজ হয়ে যাই,
বিশ্বাস করো আর নাই করো
এমন একটা সময় তুমি আর কখনোই ফিরে পাবে না।
এটা একটা ওয়ান’ন ওনলি।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৫

আসলে যখন তুমি জানো, লাগাম নামের একটা বস্তু তোমার হাতে আছে
তখন তুমি উড়ে বেড়াতে পারো এবং স্কাই ডাইভ দিতে পারো।
ট্যানডেম মাস্টার হতে পারো।
আর চাইলে পাপুয়া নিউগিনিতে স্কুবা ডাইভার হয়ে
সমুদ্রতলার আকোরিয়ামটা দেখে কাটিয়ে দিতে পারো দিন।

কিন্তু মনে রেখো জীবন তোমাকে কখনো দেবে না ঋণ।
তাই যদি সত্যি তোমার মনে হয়, তুমি এ কাজগুলো করতে পারো;
তাহলে আসলে বসে থেকে সময় নষ্ট করো না।
---

কবিতা : মিথ্যা কবিতা

শীতে কাবু হয়ে আছে চারিদিক। একদম চারিদিক। মাঝে মাঝে মনটা এত খারাপ হয়ে থাকে! কোনো কারণ ছাড়াই। অজস্র চিন্তা ভীড় করে আসে মাথায়। ইচ্ছেই হয় না, সেসবের কোনোটা নিয়ে ভাবতে। খালি পালাই পালাই করতে থাকি। কিন্তু পালিয়ে আসলে যাবো কই? যেখানে যাই, পৃথিবী ধাওয়া করে। সে সবসময় হাতে একটা ইট নিয়ে প্রস্তুত। আমার মাথায় আঘাত করার জন্য। সেটাও কোনো কারণ ছাড়াই।
বন্ধুত্ব একটা দারুণ ব্যপার। ভালো বন্ধুরা আপনাকে কখনো অপ্রস্তুত হতে দেবে না। যদি কোনো কারণে তাদেরকে আপনার জন্য চূড়ান্ত অপ্রস্তুতও হতে হয়, তাও চেষ্টা করবে আপনাকে সেটা কোনোভাবে বুঝতে না দিতে। যদি আপনি কষ্ট পান? তখন যে ওদের আরো কষ্ট হয়। আমার কপালটা খুব ভালো। এমন বন্ধু আমার কোটি কোটি আছে। আছে আসলে দু'একজনই। কিন্তু তারা দু'একজনই কোটি কোটি মানুষের সমান।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৪

আমরা এখনো কেউ কারো নই
তাই কথা না বলে চুপচাপ সময় কাটাতে পারি না একদমই।
আমার চলে যাওয়ার পরেও যে পাঁচ-ছ’ বছর তুমি একলা থাকবে,
আমি জানি তখন আমরা একে অপরের কিছু একটা হয়ে উঠবো।
---