ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

হৈ চৈয়েচ্ছার সুলুক সন্ধানে

একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে...।

আধুনিক বাংলা গানের কিছু কিছু লাইন আসলেই রগরগে একদম। এটা অবশ্য আমার নিজের কথা না। ভাষার চলমান বিবর্তন আজ এ কথার জন্ম দিয়েছে। গানটি যখন লেখা হয়েছিলো তখন হয়তো ব্যপারটা এমন (!) ছিলো না কিংবা কোনোদিন এমন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছিলো না। তাই সে সময় গীতিকার নিশ্চিন্তমনে লিখে চলে গিয়েছেন। আর শালীনতামুক্ত বঙ্গভাষীর দল আজ শব্দগুলোকে কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে। ওস্তাদ তুলে নাও।

শুরুতে একটা কৌতুক বলি। হাসি না আসলেও ঠা ঠা করে হাসতে হবে এই হচ্ছে কৌতুক পড়ার শর্ত।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৬

ভেতরে যখন রক্তক্ষরণ চলে
অশ্রু কি তখন সে রঙ ধারণ করতে পারে?
যখন খুঁজে পাই না একটাও মোবাইল নাম্বার
তখন ঠোঁট কামড়ে নিজেকে সামলাই,
কখনো হতাশ, কখনো শূন্য
মনের অনুভূতি রাখার কোটরে
সাজিয়ে রেখে পুরোনো স্মৃতিগুলো,
আবেগশূন্যতার দাবি জানাই।
আর দিনশেষে খুঁজে ফিরি
মোবাইলের ফোনবুকে কোনো
এক পরিচিত নাম্বার।
এইতো এইভাবে কেটে যায়
এইসব দিন। শুধু রাতগুলো কাটে না।

গল্প : কোয়ান্দ এল এতে সিউল

রাত্রি দ্বিপ্রহর। পাশের ঘরে ঘুমিয়ে আছে আমার স্ত্রী, নীলা। ও ঘুমের সময় নৈঃশব্দ চায়। নাহলে ঘুমুতে পারে না। যে কারণে আমি কখনো শোবার ঘরে বসে অফিসের কাজ করি না। অবশ্য এমনিও রাতে আমার তেমন কোনো কাজ করা হয় না। কাজের বাহানায় নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো হয় বড়জোর। হয়তো প্রথমে মিনিট পাচেঁক বা কোনো কোনো দিন আরেকটু বেশি সময় ওয়ার্ড আর এক্সেলে ডেটাশীট তৈরি করি। তখন কী-বোর্ডে একটু খুটুর-খাটুর শব্দ হয়। এরপরে ‘ধ্যূৎ কালকেরটা কালকে দেখা যাবে’ বলে একটা শ্রাগ করে ফাইলগুলো বন্ধ করে দিই। রাতের সুনসান ভাবটা আমার কাছেও বেশ প্রিয়। তবে আমি সেটা ঘুমিয়ে উপভোগের পক্ষপাতি নই। অবশ্য আমার একটা সুবিধে আছে। সকালে অফিসে যেতে হয় না। যদি সেটা করা লাগতো, তাহলে আমিও হয়তো দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ায় অভ্যস্ত হয়ে যেতাম।

তার আদলে মন খেলে

রান লোলা রান (১৯৯৮) দেখলাম। মুভিটা দেখতে বলেছিলেন আহাদ স্যার। বেশ ক'বছর আগে। এতদিন সুযোগ হয় নি। আজ হলো। আমার প্রিয় স্যার আজকের এই ক্ষণে, কেমন আছেন জানি না। ঘুমিয়ে থাকার কথা। কিন্তু তাঁর ছাত্র আমি এখন, নির্বাক মুগ্ধ হয়ে মনিটরের সামনে বসে আছি। মুভিটা দেখে।
এইটা টম টাইকারের আরেকটা মাস্টার-পিস্। এক সিনেমা ব্যাটা তিনবার দেখায়ে ছাড়ে। ২০ মিনিটের মধ্যে এক লাখ ডয়েশ মার্ক নিয়ে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পৌঁছুতে হবে লোলাকে। নাহলে ঘটে যাবে বিরাট অঘটন। বয়ফ্রেন্ড হয়তো কোনো শপিং মল লুটপাট শুরু করে দিতে পারে, যার পরিণতি আসলে নির্মম হতেই বাধ্য। কারণ উন্নত বিশ্বের আইন-শৃংখলায় আছে বিপুল কড়াকড়ি।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৫

আজকাল মনে হয় প্রসন্নতা কেবল
একদিনই অর্জন সম্ভব।
আর অন্য সবসময় বেঁচে থাকতে হবে
অনন্তের অনিশ্চিত ফুটপাতে ফুটপাতে।

আমি দিনমজুরের মতো শীতের সকালে ঠকঠক করে কাঁপি
আমার বন্ধ কাজের ঝাপি; নাহয় একদিন খুললামই না,
তাতে কার কি আসে যায়? নিরন্ন থাকার প্রহর বাড়ে
কেবল আমার। সামন্তদের সঙ্গে এইটুকু তফাত নিয়ে
বেঁচে আছি অকারণে। ওরা কেবল বিলাসীতাটুকু
বিনামূল্যে দেখানোর সুযোগ পায়।

ওদের ভিআইপি বক্সে বসে দেখা স্বপ্নগুলো
হয়তো কোনোদিন সত্যি হবে, অনাগত সেই
পার্থক্য হয়তো আমি আজ ধরতে পারি না, আমার
দুর্বিষহ অতীতকাল বর্তমানের স্রোতে ভেসে এগিয়ে
চলে ভবের পানে, পায়ে জড়ানো বেড়ি বারবার ফেলে
দেয়, মেঠো পথে শরীর থুবড়ায় আর আমি প্রতিদিন একবার
ঘুম থেকে উঠি।

আজকাল মনে হয় প্রসন্নতা কেবল
একদিনই অর্জন সম্ভব,
কেবল একটি মাত্র অপস্থানে
সেটি সমাহিত আছে,
আমাকেও সেখানে যেতে হবে একবার

আর কিছু নাই, একটা দুঃসম্পর্কের কথাই কেবল উল্লেখযোগ্য

আমার একটা ধারণা হচ্ছে- এই কঠিন-কঠোর পৃথিবীতে কেউ আসলে কাউকে খুব একটা বোঝে না। যার মূল কারণ এর কাঠিন্য। তাই আগের লাইনে 'কঠিন-কঠোর' দুইটি শব্দ ব্যবহার করেছি। আমাদের চারপাশের পৃথিবীটা এত কঠিন যে, জন্মদাত্রী মা’কেও আমরা বঞ্চিত করি। বাবা’কে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিই জীবন থেকে। শুনেছি স্নেহ নাকি সর্বদা নিম্নগামী। যে নিচের দিকে মানুষ হৃদয় নিংড়ানো স্নেহের বস্তা উপুড় করে দেয়, সেই নিচ থেকেই আবার চলে আসে উপরের জনের সঙ্গে করা অন্যায়ের প্রতিশোধ। মানুষ কি ভীষণ অসহায়!

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৪

প্রথম দু'টির পর টোয়াইলাইটের পরের পর্বগুলো আর দেখা হয় নি। তাই বুঝি সেদিন একজন এসেছিলো স্বপ্নে। স্বপ্নের মহানাগরিক প্রেক্ষাপটটা অচেনা ছিলো না। পরিচিত শহর, রাস্তা, ধুলা-বালি-কিংকর। দেখে দেখে মুগ্ধ দু'জন শুধু বুঝতে পারছিলাম না, সেটা কোন দেশ। অথচ আজন্ম পরিচিত মনে হচ্ছিলো সবকিছু।
আমরা যে হোটেলটায় গিয়ে উঠেছিলাম, সেটা ছিলো ঠিক পরিচিত একজনের বাসার মতো করে সাজানো। এমনকি টেবিলের লম্বা বাঁশি দু'টোও ছিলো সেগুলোর নির্ধারিত জায়গাতেই। আমি লম্বাটে মনিটরের নোটবুকটায় চালিয়ে দিয়েছিলাম শতাব্দীপ্রাচীন কোনো এক গ্রন্থের সিনেমারূপ। আর সেটা আমাদেরকে ক্রমাগত ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলো বর্তমান থেকে দূরে, দূর থেকে দূরান্তে।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৩

আমার প্রিয় জিনিসগুলোর তালিকা তৈরি করলে উপরের দিকে থাকবে বোধহয় আমার লাইটার। যেটা দিয়ে আমি ধূম্রশলাকাগুলোয় অগ্নিসংযোগ করি। আমি ধূমপান করতে পছন্দ করি, পছন্দ করি মানুষকে ধূমপানে উদ্বুদ্ধ করতেও। আমার ধারণা; কাজটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কিন্তু মনের জন্য নয়। আমি অবশ্য আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতির শিকার হই নি। হয়তো কোনোদিন হবো। ধূমপানে কি কি ক্ষতি হয়, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়াটা কঠিন না। আমি ধারণাগুলো থেকে বেছে বেছে যেটাকে পছন্দ করেছি, সেটা হচ্ছে ক্যানসার। আমার যদি ধূমপানজনিত কোনো সংকটে পড়তেই হয়, তাহলে আমি শ্বাসনালীর ক্যানসারে আক্রান্ত হতে চাই।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১২

আমি চলে যাবার সময় অবশ্যই
বারবার পেছনে ফিরে তাকাবো
দেখার জন্য কেউ কি দুঃখী মুখে
অপেক্ষা করছে কিনা।
যখন দেখবো কেউ অপেক্ষায় নেই
তখন সম্ভবত লঘুপায়ে
মাথা নিচু করে হেঁটে হেঁটে
পার হয়ে যাবো পৃথিবীর সীমানা।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১১

তারপর এক বছর আগে ছেড়ে যাওয়া প্রেমিকার মতো করে
ভেজা কুয়াশারা এসে সেই গাল দু’টো ছুঁয়ে দিতো,
আর সে খুব ভালোভাবে চাদরটা টেনে নিয়ে
নির্জন রাস্তায় তাড়াতাড়ি পা চালাতো।

কেউ জানতো না
হতাশারা প্রতিরাতে
একবার, তাকে খুন করে
যেতো আর, সে নিরন্তর খুঁড়তো
নিজেরই শবাধার
এই নরম মাটির বুকে।

অলিখিত জীবন যে সীমান্ত এঁকে যায়
জেনে রেখো দুইপাশে তার শুধু
কষ্টই থাকে হায়।
---

গল্প: অ্যাম্ফিটামাইন এবং ঝাকড়া চুলের মেয়েটি

১.
ইয়াবা একটা থাই শব্দ। যার অর্থ হচ্ছে পাগলা ওষুধ। হৃদয় কবে এই পাগলা ওষুধ প্রথম নিয়েছিলো, সেটা ওর স্পষ্ট মনে আছে। যদিও মুহসীন হলের অনেক রুমেই ইয়াবা নেয়া হয়। তবে হৃদয়রা জিনিসটা একটু এড়িয়েই চলতো প্রথম প্রথম।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১০

পৃথিবী তুমি আমায় নির্বাণ দাও
অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, প্লীজ
আমি পরিত্রাণ চাই।
এর বিনিময়ে তুমি চাইলে কেড়ে নিতে পারো
একটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার।
আমি কিংবা আর কেউ তাতে কিছু মনে করবে না।
শুধু দু'একজন সর্বংসহা হয়তো তোমার মতো করেই কাঁদবে,
যেভাবে কেঁদে কেঁদে তুমি নিজের নির্বাণ খুঁজে ফেরো।
---

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৯

১.
আমাদের অফিসের সামনে একটা চা’ওয়ালা কাকা আছে। আমি কাকাই বলি। কাকা এই ৭৫+ বয়সেও প্রোডাক্টিভ। তার সবচেয়ে ছোট ছেলেটা নটরডেম স্কুলে পড়ে। ওয়ান বা টু’য়ে মনে হয়। পিচ্চিটা খুব্বি কিউট। পিচ্চিরা এমনিতে কিউট'ই হয়। এইটা আবার মাঝে মাঝে বাপের দোকানে বসে ক্যাশ সামলায়। আর বাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা বানায়। দেখতেই ভালো লাগে। আমি গেলেই এই পিচ্চির মাথাটায় পাঁচ আঙ্গুলে একটা চাপ দিই। সে মনে হয় বুঝতে পারে না, এটা তাকে ‘আদর’ করা হইসে। খানিকটা বিরক্তি নিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে।
কাকা’র অন্যান্য ছেলেগুলোও দোকানে বসে। তার কি দেরীতে বিয়ে হয়েছিলো কিনা, কে জানে! তার একটা ছেলেকেও আমার বয়েসী দেখি না। অথচ আমার বাবার চেয়ে অন্তত ২০ বছরের বড় হবেন বয়সে।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৮

Don2-Stills.jpg

হিন্দি সিনেমা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। যেটা ডন-২ দেখে আমার মনে হলো। শাহরুখ খান একটা ভালো থ্রিলার করতে চাচ্ছিলো অনেকদিন ধরেই। রা-১ মার খেয়ে গেলো। বেচারার বোধহয় মন খারাপ ছিলো এজন্য। ওকে আবার আমি ভালো পাই তো খুবই, তাই আমারো মন খারাপ ছিলো। তো ডন-২ দেখে আমার মন খারাপ কেটে গেছে। এখন ওর কি হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

সবচাইতে যেটা মজা পাইলাম, সিনেমায় বর্ণ বা অন্যান্য থ্রিলার থেকে নোট তো নেয়া হয়েছেই; পরিচালক এমনকি ক্যাসল অভ ক্যালিয়োস্ত্রো'র দিকেও হাত বাড়িয়েছেন। ভালো নকল দেখে দেখে লেখা প্রশ্নের উত্তরগুলোও আসলে ভালো মার্কস্‌ই পায়। আর উল্টা রেসিং মনে হয় বলিউডে এইবারই প্রথম দেখলাম। অবশ্য এই ব্যপারে পুরোপুরি নিশ্চিত না আমি। স্বীকার করে রাখলাম।

চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৭

বিকালের দিকে যখন একটা আবিররঙা আলো কংক্রীটের বীমগুলোর ফাঁক-ফোকর দিয়ে আমার শরীরের কাছাকাছি এসে গড়াগড়ি খেতে চাইতো, তখন আমি একটু পাশে সরে বসতাম। নরম আদুরে আলোটাকে স্পর্শ করতে দিতাম না আমার শরীর, কারণ ওর স্পর্শ পাওয়ার মতো নরম নয় আমার চামড়া। আমার খসখসে সরীসৃপ শরীরটা চাইলে এ আলোর পুরোটাই চুষে নিতে সক্ষম। নিয়ে চারদিকে চাইলে নামিয়ে দিতে পারে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। এমনিতেও প্রতিদিন একটা নির্ধারিত সময়ে এখানে অন্ধকার নেমে আসে। তবে আমি চাইলে সেটা নামিয়ে দিতে পারি বেশ কিছুটা আগেই কিংবা যেকোন অনাকাঙ্খিত সময়ে। চাই না কখনো। কারণ তাহলে হয়তো মার খেয়ে যাবে, প্রতিদিন এখানকার আবির-আলোয় বসে কয়েকটা মানুষের যে কাজগুলো করার পরিকল্পনা থাকে, সেগুলো।