Best Drupal HostingBest Joomla HostingBest Wordpress Hosting

ইউজার লগইন

দূরের মানুষ - কাছের মানুষ [গল্প - ৩য় পর্ব]

মাথার কাছে নিঃস্বাস ফেলার শব্দ করে এ সি টা চলছে আবিদের রুমে। বছর খানেক হল এখানে অফিস নিয়েছে আবিদ। নয়া পল্টনে ছোট খাটো অফিস, হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। গত বছর এই সি এ ফার্ম দিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছে সে, মার্কেটে একটু একটু করে বাড়ছে তার পরিচিতি। একটু আগে এক ক্লায়েন্ট এসে মিটিং করে গেল আবিদের সাথে। মিটিং শেষ করে আবিদ কাঁচের দেয়ালের দিকে তাকায়। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভার্টিকেল ব্লাইন্ড ঝুলছে দেয়ালে, একটু ফাঁক করে তাকায় আবিদ।

আষাঢ়ের এই বৃষ্টিহীন দুপুরে বাইরে খা-খা রোদ। তার ভিতর দিয়ে প্রায় ভিজতে ভিজতে হেঁটে চলেছে লোকজন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসের ভিতরের লোকজন জ্যামের মধ্যে ঘামছে আরো বেশী। এই লোকজনগুলো বৃষ্টি হলে তাতে ভিজে আবার ঘামেও ভিজে। আসলে গরম কালটা ভিজতে ভিজতেই যায় তাদের। এমন সময় আবিদ দেখে এই জ্যামের ভিতরে এক মহিলা রাস্তা পার হচ্ছে , সাথের সন্তানটিকে প্রায় টেনে হিচড়ে টানতে টানতে। পরনে ময়লা জায়গায় জায়গায় ছেঁড়া শাড়ী প্রকাশ করছে তার দারিদ্রের কাব্যগাঁথা। সাথের ছেলেটি খালি গায়ে, এক হাতে পরনের প্যান্ট ধরে দৌড়ে পার হচ্ছে আরেক হাতে শক্ত করে ধরে রাখা মা’র হাত ধরে।

মহিলা আর তার সন্তানের রাস্তা পারাপারের দৃশ্যটা দেখে আবিদের সেই কষ্ট টা আবার জেগে উঠে। চেপে রাখা কষ্ট টা বেরিয়ে আসতে আইলে তাকে আটকে রাখা আরও কষ্টকর। সব হারিয়ে সব পাওয়া কিংবা সব পেয়েও না পাওয়ার জটিল সমীকরন বারে বারে আবিদকে ক্ষত বিক্ষত করে। আজো তাই সে বিয়ে-থা করে সংসারী হতে পারলো না, এই ৩৫/৩৬ বছর বয়সেও।

আজও আবিদ চোখ বুঁজে স্পষ্ট দেখতে পায় সেই ৪/৫ বছরে তার হারিয়ে যাওয়া, লঞ্চ থেকে ঢাকায় প্রথম পদার্পনের সাথে সাথে মা’র কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সদরঘাটে কাঁদতে কাঁদতে মা’কে খুঁজে ফেরা। না খেয়ে সারাদিন শুধু চোখের জলে মাকেই খুঁজে ফিরেছিল সেদিন। কতখানিক কষ্টে কেটেছে সেই দিন , আজো সে মনে করলে জল গড়িয়ে পড়ে তার চোখের কোন থেকে, বুকের ভিতর শুনতে পায় সেদিনের গোঙানি।ছোট বেলার হারিয়ে যাওয়া অনেক স্মৃতির ভীড়ে এই কষ্টের স্মৃতি টাই তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।

অথচ তাকে সেদিন কুড়িয়ে এনেছিল এই আজকের এই বাবা-মা। অভাবের তাড়নায় ঢাকা আসা সেই ৪/৫ বছরে, সেই অভাব আর দেখেনি চোখে কিন্তু সাথে সাথে দেখেনি তার জন্মদাত্রীকেও। কত আজব হতে পারে মানুষের জীবন তাই না !!! প্রতিটা মানুষের জীবনই তো এক একটা অলিখিত উপন্যাসের পান্ডুলিপি, সেটাকে সাঁজিয়ে দিলেই হয় ছাপার অক্ষরে আঁকা উপন্যাস।

বিশাল ধনী অথচ ছেলেপুলে হীন এ পরিবারেই সেদিন আবিদের ঠাঁই হয়েছিল, আশ্রিত হিসাবে না , তাদের সন্তান হিসাবে। তার সেই ছোটবেলার নাম পালটে গিয়েছিল জীবনের মোড় ঘোরার সাথে সাথে। আবিদ মোঃ খান নাম নিয়েই পরিচিত হতে থাকে সে আরো নাম নিয়ে ঘোরা মানুষের ভিড়ে। যতখানি চাওয়ার ছিল , তার থেকে বেশীই পেয়ে এসেছে সে সেই সময় থেকে। মা হারানোর শোক এক সময় কমে আসে, যে শোক তাকে সুই ফুটাতো সব সময়, তা কমে এসে এক পর্যায়ে শুধু বিশেষ কষ্টের মুহুর্তের অনুভূতি বা উপল্বদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে আপন নিয়মে। মানুষ তো বদলাবেই, চিরন্তন ধর্ম মানুষের।

সেই উপল্বব্ধি এখন ফুটাচ্ছে আবিদ কে, অফিসের এই হিমেল বাতাসে। চেয়ারে চুপ করে বসে থাকতে থাকতেই আবিদ টের পায় তার ক্ষিদের অস্তিত্ব। প্রতিদিন সে বাসায় গিয়েই লাঞ্চ সেরে ফেলে , কিন্তু আজ আর যেতে ইচ্ছে করছে না তার, পিয়ন কে ডেকে খাবার আনতে পাঠায়।

ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে বেলা ৩ টার বেশী। এখনও ফোন করা হয়নাই তার। মোবাইল টা হাতে নেয় সে ফোন করবে বলে , তার একান্ত গোপনীয় নম্বরটাতে।

গত পর্বের লিঙ্কঃ

http://www.amrabondhu.com/raihansayeed/330

http://www.amrabondhu.com/raihansayeed/311

পোস্টটি ৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

আপন_আধার's picture


পড়তাসি  ...

সাঈদ's picture


শুনে খুশী হইলাম।

মামুন ম. আজিজ's picture


গল্প এক সাথে না পড়লে সেই মজাটা পাই না।

সাঈদ's picture


কথাটা অবশ্য সঠিক ।

টুটুল's picture


আর একটু বড় করে দেয়া যায়না? পড়ার আগেই শেষ হয়ে যায় Sad

সাঈদ's picture


একসাথে বেশী লিখতে পারিনা , আবার মাথায় স্টক করেও রাখতে পারিনা , যা আসে দিয়ে দেই ব্লগে।

জয়িতা's picture


পড়তে বসলাম।তৃষ্ণা থেকেই গেলো।এতদিন পর পর একটা ছোট পরব দেন এইটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। পরব বড় করেন।ফাকিবাজ হইলে চলবে না।

সাঈদ's picture


কত্ত কষ্ট করে যে এই পর্ব টা দিলাম আমি জানি আর আমার আল্লাহ জানে। Sad

কাঁকন's picture


বাহ্ নতুন ক্যারেক্টার নতুন মোড় গল্পের; ভালো জামচ্ছেন ; পর্বগুলো আরেকটু বড় করলে এবং আরো একটু তারাতারি পরের পর্ব আসলে ভালো হয়

সাঈদ's picture


ল্যাপ্টপে সমস্যা , ডেস্কটপের সামনে বেশীক্ষন বসে থাকতে পারিনা , নানাবিধ ঝালেমা।

তানবীরা's picture


পড়ে যাচ্ছি, আছি সাথে

সাঈদ's picture


সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

নুশেরা's picture


সাবলীলভাবে এগুচ্ছে, পড়ে যাচ্ছি।
পর্বের দৈর্ঘ্যে আপত্তি নেই, তবে পরের পর্বগুলোর মধ্যে বিরতির দৈর্ঘ্য হ্রাস পেলে ভালো হয়।

"কত আজব হতে পারে মানুষের জীবন তাই না !!!"- গল্পের গতিময়তার মধ্যে এই লাইনটা লেখকের বক্তব্য সরাসরি এসে পড়ায় হঠাৎ ছন্দপতন মনে হচ্ছে... একটু অন্যরকম করে দেয়া যায়?

সাঈদ's picture


ল্যাপটপে সমস্যা, পিসিতে সমস্যার কারনে ঠিকমতো বাংলা লেখা , কমেন্ট করা কিছুই হয়নাই এই কয়দিন। আশা করি বিরতি আর লম্বা হবে না।

ও , ঐটা লেখকের কথা হিসাবে আনার চিন্তা ছিলনা কিন্তু মাঝে একটা বাক্য বাদ পড়াতে লেখকের কথা মনে হচ্ছে।

সাঈদ's picture


ল্যাপটপে সমস্যা, পিসিতে সমস্যার কারনে ঠিকমতো বাংলা লেখা , কমেন্ট করা কিছুই হয়নাই এই কয়দিন। আশা করি বিরতি আর লম্বা হবে না।

ও , ঐটা লেখকের কথা হিসাবে আনার চিন্তা ছিলনা কিন্তু মাঝে একটা বাক্য বাদ পড়াতে লেখকের কথা মনে হচ্ছে।

আশরাফ মাহমুদ's picture


চলুক। সম্ভব হলে পুরোটা একবারে পড়ে বড় মন্তব্য করব।

সাঈদ's picture


ওখে। মাঝে মাঝে পদধূলি দিয়েন।

সুবর্ণা's picture


তিন পর্ব একসাথে পড়লাম। কিভাবে মিস করলাম পোস্ট গুলি মাথায আসছে না। তাড়াতাড়ি পরের পর্ব দিয়েন। বেশী দেরীতে দিলে সিরিয়ালের মতো আগের পর্বের কাহিনী সারাংশ দিতে হবে কিন্ত শুরুতে।

সাঈদ's picture


এর পর আর দেরী হবেনা, চেষ্টা করবো একদিন পর পর দিতে।

নীড় সন্ধানী's picture


আর পড়বো না, পুরোটা একসাথ হোক তারপর Smile

সাঈদ's picture


Sad

সাঈদ's picture


Sad

শাওন৩৫০৪'s picture


ইশ, এইজন্যই সিরিজ লেখা শেষ করার আগে ধরার নিয়ম নাই.....পরেরটা কবে?

সাঈদ's picture


আমি লিখতে গেলেই সিরিজ হইয়া যায় !!! কি করুম।

ভাস্কর's picture


আমি পড়তেছি...তয় কমেন্ট করুম সবশেষে...

সাঈদ's picture


ওকে ভাই। শেষ হোক তাইলে।

সোহেল কাজী's picture


সেদিনই পড়েছিলাম কমেন্টানো হয়নাই Sad
চলুক, আছি সাথেই .....................

সাঈদ's picture


ধন্যবাদ ভ্রাতঃ