ইউজার লগইন

১৪ ফেব্রুয়ারি : যে ইতিহাস আমরা ভুলতে বসেছি

কলা ভবন থেকে শিক্ষা ভবন অভিমুখে ছাত্রদের মিছিল... স্লোগানে মিছিলে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়... সামরিক শাষন মানিনা... মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিল কর... করতে হবে... হঠাৎ করেই গুলিতে প্রকম্পিত চারিদিক... মিছিলে পুলিশে ট্রাক তুলে দিয়ে শুরু হয় বর্বরতার এক ভয়াল নিদর্শন। স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের হিংস্র পুলিশ বাহিনির উন্মত্ততায় একে এক লুটিয়ে পরে জাফর, জয়নাল, দিপালী সাহা। আহতদের আহাজারীত হাসপাতাল গুলোতে তৈরী হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের... কলাভবনেও গুলি টিয়ার সেলের আঘাতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নৃশংস হামলা। গ্রেফতার হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা.. কারফিউ জারি। ১৫ই ফেব্রুয়ারী সারাদেশে হরতাল। ওইদিন পুলিশের গুলতে জবি ছাত্র আইয়ুব ও কাঞ্চন। বছর দুই পর এই মধ্য ফেব্রুয়ারীতেই হত্যা করা হয় রাউফুন বসুনিয়াকে...

বন্ধু তুমি বলো এর পর আমি কিভাবে এই দিন ভালবাসার কথা বলি? কিভাবে আমি ভুলে যাই আমার ভাইয়ের রক্ত? ক্ষমা কর আমায় বন্ধু... আমি পরবনা ... সত্যি পারবনা ভুলে যেতে আমার ভাইয়ের রক্তের কথা...

সেই সময়ে স্মৃতি ছোঁয়া একটি কবিতা। শিমুল মুস্তাফার কন্ঠে আবৃত্তিতে
http://www.esnips.com/doc/8b4ead39-f78a-42d5-beee-4e401d25d953/Tomake-Mone-Pore

মধুর কেন্টিনে যাই
অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে
বসু, তোমাকে মনে পড়ে যায়।

তোমার সেই সদা হাসিমাখা ফুল্ল ঠোঁট,
উজ্জ্বল চোখের দ্যুতি
সারাক্ষন চোখে চোখে ভাসে
বুঝি এখনই সংগ্রাম পরিষদের মিছিল শুরু করার তাগিদ দিবে তুমি

ওই তো, ওই তো সবার আগে তুমি মিছিলে
কি সুঠাম তোমার এগিয়ে যাবার ভঙ্গিমা
প্রতিটি পা ফেলছো কি দৃঢ় প্রত্যয়ে
কি উচ্চকিত তোমার কন্ঠের শ্লোগান
যেন আকাশ ফেটে পড়বে নিনাদে
হাত ঊঠছে হাত নামছে
মাথা ঝুকছে ঘাড় দুলছে চুল উড়ছে বাতাসে
ওই তো, ওই তো আমাদের ঐক্যের পতাকা হাতে এগিয়ে যাচ্ছ তুমি

মধুর কেন্টিনে যাই
নিত্য নতুন প্রোগ্রাম, মিছিল সভা বটতলা
অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে দুর্জয় শপথ
সামরিক জান্তার ছোবল থেকে
শিক্ষাজীবন, শিক্ষাঙ্গনের স্বায়ত্বশাসন রক্ষার অঙ্গীকারে
ডাক দেই দেশবাসীকে

তোমারি মত নিরাপত্বাহীনতায়
প্রতিটি ছাত্রের দুর্বিষহ জিম্মীজীবন এখনো এ ক্যাম্পাসে
হলে গেটে গেটে পড়ে থাকে ভংকর বিস্ফোরন্মোখ তাজা বোমা
প্রতিদিন চর দখলের মত হল দখলের হিংস্র মহড়া
গুলি ও বোমা ফাটার শব্দ
এখনো আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ
এ অস্ত্রের উৎস কোথায়?

মধুর কেন্টিনে যাই
প্রতিদিন আমাদের জীবন হাতের মুঠোয়
প্রতিদিন হামলা রুখতে হয়
বসু, আজ সেই প্রতিরোধের সারিতে তুমি নেই
আজ বড়ই অভাব অনুভব করছি তোমার

শিক্ষাভবন অভিমুখে সামরিক শাসন ভাঙ্গার প্রথম মিছিলে তুমি ছিলে
রক্তাক্ত ১৪ই ফেব্রুয়ারীর কাফেলায় তুমি ছিলে
৪ঠা আগস্ট সশস্ত্র দুবৃত্তদের কবল থেকে
আমাদের পবিত্র মাটি রক্ষা করার সম্মুখ সমরে তুমি ছিলে
এমন কোন ধর্মঘট, হরতাল, ঘেরাও, মিছিল আন্দোলন নেই যে তুমি ছিলে না

সেই নৃশংস ঘাতক রাতেও
তুমি অস্ত্রধারীদের দূর্গের দিকে অবিচল যাত্রা অব্যাহত রেখেছিলে
ঘাতক বুলেট ভেদ করে গেছে তোমাকে
কিন্তু তুমি পিছু হটনি
তুমি বীর, তুমি সাহসী যোদ্ধা, তুমি সময়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান
যুগে যুগে সংগ্রামীদের অফুরান প্রেরণা

মধুর কেন্টিনে যাই
অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে
বসু, তোমাকে মনে পড়ে যায়।

কাউন্টারের সামনে কতদিন
তোমার সঙ্গে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা খেয়েছি
কতদিন তুমি আমাকে চায়ের পয়সা দিতে দাওনি
কতদিন চায়ের সঙ্গে একটি সিঙ্গারা বা কেকের আবদার করেছ
কতদিন তোমার সঙ্গে খোশগল্প হাসিঠাট্টায় মেতে উঠেছি
বসু, আজ সব কথা মনে পড়ে যায়।

রিপার বিয়েতে তুমি বলেছিলে
অ্যাকশনে আপনার আর আগে থাকার দরকার নেই,
আমরা তো আছি
বসু, তুমি রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে সে কথা প্রমান করে গেলে
বসু, তুমি আমার শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার একটি রক্তকরবী বৃক্ষ

মধুর কেন্টিনে যাই
বসু, তোমাকে মনে পড়ে যায়।

তোমার মৃত্যুর সেই নৃশংস ঘাতক রাত্রিতে
আমি ছিলাম ঢাকার বাইরে
তোমার গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লাশ আমি দেখিনি
তোমার মৃত্যুর খবর শুনে
বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিলো মন
তবু সেই রাত্রেই আড়াইশত মাইল দূর থেকে
সঙ্গে সঙ্গে রওয়ানা দিয়েছিলাম
তোমার হত্যার প্রতিশোধ নিতে
তোমার খুনীদের রক্তে হাত রাঙ্গাতে

বসু, আমরা বহুবার তোমার হত্যার প্রতিশোধ নেবার শপথ গ্রহন করেছি
অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে, শহীদ মিনারে, বটতলায়, বায়তুল মোকারমে,
সারাদেশ তোমার হত্যার বদলা চায়
কিন্তু এখনো তোমার খুনীরা প্রকাশ্যে সগর্বে ঘুরে বেড়ায়
এখনো তোমার ঘাতকেরা ক্ষমতার কালো কেদারায় বসে
রাইফেল তাক করে আছে আমাদের প্রতি

বসু, আমাদের শিক্ষানীতি এখনো বদলায়নি
সামরিক খাতে ব্যয় শিক্ষাখাতের চেয়ে আরো বেড়েছে
নতুন নতুন ক্যান্টনমেন্ট তৈরীর পরিকল্পনা হলেও
সংস্কারের অভাবে জগন্নাথ হলের জীর্ন ছাদ ধ্বসে
তোমার অনেক বন্ধু মারা গেছে
এখনো হলে হলে মেধাভিত্তিক সিট বন্টন চালু হয়নি

বসু, তুমি এসবের পরিবর্তন চেয়ে জীবন দিয়েছ
কিন্তু আমরা এখন তোমার একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে পারিনি
বসু, আমরা তোমার কাঙ্খিত লড়াই চুড়ান্ত করতে পারিনি
আমরা তোমার হত্যার প্রতিশোধ নিতে পারিনি
আমরা এখনো অজস্র বসু হতে পারিনি বলেই...

মধুর কেন্টিনে যাই
বসু, তোমাকে মনে পড়ে যায়।
খুব মনে পড়ে।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


১৪ ফেব্রুয়ারি, স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস।

স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারির বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাতিল করে এবং আলপনাসহ বাঙালী ঐতিহ্যের অনেক কিছুকে ইসলামবিরোধী বলে ঘোষণা করে। শিক্ষা সঙ্কোচন ও সাম্প্রদায়িকীকরণসহ জনস্বার্থ এবং শিক্ষাবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে। স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রথম থেকে আন্দোলন শুরু হলেও সামরিক আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশাল মিছিল বের হয়। ছাত্রদের দাবি ছিল- "ছাত্র-স্বার্থবিরোধী শিক্ষা সঙ্কোচনের মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিল, সামরিক শাসন প্রত্যাহার, সাম্প্রদায়িক শিক্ষা বাতিল করে সেক্যুলার শিক্ষা চালু কর"।

নুশেরা's picture


আমরা যেন ভুলে না যাই।

পোস্টটার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

রেজওয়ান শুভ's picture


অশেষ ধন্যবাদ ভাই। জানা ছিলো না।

নড়বড়ে's picture


কোথাকার কোন ভ্যালেন্টাইনকে নিয়ে কত লাফঝাঁপ, অথচ দেশের ভালবাসায় তাজা প্রাণ দিয়ে গেল এঁরা, আমরা এদের কথা জানিই না!

অনেক অনেক ধন্যবাদ জানানোর জন্য। আমি জানতাম না।

মামুন ম. আজিজ's picture


এসব ইতিহাস ক'জন জানে এই প্রজন্মের......কিন্তু এই জানানোর উদ্যেগ এর জন্য আপনাকে ...ভেলেণ্টাইন এ দিনে অনেক অভিনন্দন।

নীড় সন্ধানী's picture


মধুর কেন্টিনে যাই
অরুনের চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে
বসু, তোমাকে মনে পড়ে যায়।
*************************

প্রথম ভালো লাগা শিমুল মুস্তফার কন্ঠে খুব প্রিয় এই আবৃত্তিটা.........

সত্যি ভুলে গিয়েছিলাম ওদের! দুরাচার লম্পট বদমাশ স্বৈরাচারী এরশাদের সেই দুঃশাসনের কথা আমরা ভুলতে বসেছিলাম। মনে করিয়ে দেবার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা!!

ভাস্কর's picture


এমন একটা পোস্ট প্রয়োজন ছিলো...টুটুল আবারো আপনেরে ধন্যবাদ...

নুশেরা's picture


এই পোস্টটা স্টিকি করার জন্য মডারেটরের বিবেচনা আশা করছি।

সাঈদ's picture


।এই ইতিহাস জানতাম না , কিন্তু এই মানুষদের কথা শুনেছি, জানার আগ্রহ ছিল।

 

ধন্যবাদ ভাই । দারুন।

১০

ভাস্কর's picture


এই পোস্ট স্টিকি করা হোক...আজকের জন্য হলেও...

১১

ভাস্কর's picture


মিছিলের উপর ট্রাক তুইলা দেওনের মতোন দুঃসাহসে গেছে স্বৈরাচারের তল্পিবাহকেরা...কী নৃশংস!

১২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আমার প্রিয় বন্ধু ৮৩ সালের এদিনে বুকে গুলি খেয়ে লুটিয়ে পড়ে রাস্তায়। 

১৮ দিন কুমিল্লার সম্বিলিত সামরিক হাসপাতালে আইসিইউতে অচেতন থাকার পর তার জ্ঞান ফিরে।

বুকের  ডানপাশ থেকে গুলিটা বের করলেও তার স্মৃতি নিয়ে বন্ধুটি

দিব্যি বেঁচে বর্তে আছে। সেইসব দিনের কথা কি ভোলা যায়...?

১৩

রন's picture


ধন্যবাদ, জানা ছিলো না বিষয়টা...স্টিকি করার অনুরোধ রইল।

১৪

নজরুল ইসলাম's picture


অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পোস্ট... স্টিকি করা হোক...

১৫

রন's picture


আমরা সবাই এই লেখাটা আমাদের বন্ধুদের মাঝেও শেয়ার করতে পারি, বিশেষ করে ফেইসবুক-এ

১৬

মুক্ত বয়ান's picture


গতকাল সচলের ব্যানার দেখে প্রথমবারের মত এই ব্যাপারটা জানতে পারি। ঐখানে আরেকটা পোস্টে এই নিয়ে বিস্তারিত লেখা। ভালো লাগে।
এই লেখাটা পড়ে দেখার অনুরোধ রইল সবাইকে।
http://www.sachalayatan.com/aninda21/30309#comment-300259

সবশেষে টুটুল ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বিষয়টা নিয়ে বিস্তারিত লেখার জন্য।

১৭

মুক্ত বয়ান's picture


অ:ট: ব্যানারটা জুশ হইছে। কোথায় বলতে হবে, জানি না, তাই এইখানেই বললাম। Smile

১৮

জয়িতা's picture


ধন্যবাদ টুটুল।অনেক ধন্যবাদ।পোষ্ট ষ্টিকি করায় মডুকে ধন্যবাদ। ভালোবাসার জন্য একটা দিন কেন!ভালো ত বাসি প্রতিদিন। তবে স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতনের এমন একটা দিনকে যেন কখনো ভুলে না যাই।

১৯

টুটুল's picture


মডু ভাইজানের একটা ব্যানার লৈয়া পোস্ট আছে Smile

২০

হাসান রায়হান's picture


২১

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


"বসু, আমরা বহুবার তোমার হত্যার প্রতিশোধ নেবার শপথ গ্রহন করেছি
অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে, শহীদ মিনারে, বটতলায়, বায়তুল মোকারমে,
সারাদেশ তোমার হত্যার বদলা চায়
কিন্তু এখনো তোমার খুনীরা প্রকাশ্যে সগর্বে ঘুরে বেড়ায়
এখনো তোমার ঘাতকেরা ক্ষমতার কালো কেদারায় বসে
রাইফেল তাক করে আছে আমাদের প্রতি"

এই লাইনগুলোর পর আর কিছু বলার থাকেনা ।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের লাল সালাম ।

২২

ধুলোবালিছাই's picture


 

আমি সে বছর ১০ম শ্রেণীর ছাত্র। সচেতন ছাত্রছাত্রীদেরকে ঘটনাটি আলোড়িত করেছিল এবং ২১শে ফেব্রুয়ারির স্কুলফাংশনে পরের বছর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারিও উদ্‌যাপনের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল (তখন আমরা ভালোবাসা দিবস অবশ্য চিনতাম না:(); কিন্তু হয় নি।

 ঘটনাটি আমরা ভুলে গেছি:(Sad

 

কবিতাটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

 

 

২৩

মুকুল's picture


অনেক ধন্যবাদ।

২৪

বিষাক্ত মানুষ's picture


শেয়ার করলাম

২৫

লোকেন বোস's picture


ভালো লাগলো লেখাটা। ধন্যবাদ

২৬

সোহেল কাজী's picture


সৈরাচার এখন ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করছে!!! হাহ........
থুতু দিতেও ঘৃণা হয়

২৭

কাঁকন's picture


ধন্যবাদ

২৮

তানবীরা's picture


কতো কিছু জানার বাইরে আছে। ভালোবাসা দিবস নিয়ে ঢাকা তোলপার অথচ এটা আমরা জানিই না।

আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানবেন টুটুল ভাই।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

টুটুল

টুটুল's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি আছি, একদিন থাকবো না, মিশে যাবো, অপরিচিত হয়ে যাবো, জানবো না আমি ছিলাম।

অমরতা চাই না আমি, বেঁচে থাকতে চাই না একশো বছর; আমি প্রস্তুত, তবে আজ নয়। আরো কিছুকাল আমি নক্ষত্র দেখতে চাই, শিশির ছুতেঁ চাই, ঘাসের গন্ধ পেতে চাই, বর্ণমালা আর ধ্বনিপুঞ্জের সাথে জড়িয়ে থাকতে চাই, মগজে আলোড়ন বোধ করতে চাই। আরো কিছুদিন আমি হেসে যেতে চাই।

একদিন নামবে অন্ধকার-মহাজগতের থেকে বিপুল, মহাকালের থেকে অনন্ত; কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ার আগে আমি আরো কিছু দুর যেতে চাই।

- হুমায়ুন আজাদ