ইউজার লগইন

ভাঙ্গা পেন্সিল'এর ব্লগ

ছাগল জাতির কেচ্ছা

অনেক আগে "ইত্যাদি"র একটা সেগমেন্টে দেখাইছিলো যে পল্টনের ফুটপাথে বইয়ের পসরা সাজায়া বসে আছে দোকানীরা। পথ চলতে চলতে মানুষজন সেই বইয়ের পসরার সামনে দাঁড়ায় পড়তাছে। প্রতিটা বইয়ের ঝাঁপির সামনে ভিড়। ইত্যাদির সেগমেন্টটার সারমর্ম ছিল এই যে, ঢাকার মানুষের খেয়ে দেয়ে কাজ নাই, কোন কারণ ছাড়াই তামশা দেখতে ভিড় জমায়। এই আলসেমির কনটেক্সটে বই ঘেঁটে দেখা কিভাবে আসে তা হানিফ সংকেত ভাল বলতে পারবেন, তবে সারমর্মের কথাটুকু পুরাপুরি মিথ্যাও না। শাহজাহানপুরে যখন দেশের প্রথম ফ্লাইওভার বানানো হচ্ছিল, মানুষ গর্ত দেখতে গোল হয়ে জমা হতো। ফ্লাইওভারের কাজ চালায় যাবার জন্য পরে নির্মাতাদের মানুষ খেদানোর জন্য গার্ড ভাড়া করতে হইছে। একই ঘটনা ঘটতাছে এখন যাত্রবাড়ি-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের বেলায়ও। ওইখানকার স্থানীয় এক বন্ধুর ফেসবুক স্ট্যাটাসঃ

অপেক্ষা

কমিকসে মাঝে মাঝেই চোখে পড়তো, ঘুম না পেলে ভেড়া গুনো। আর যে বয়সে আমি চোখ চেপে-বুজে ঘুমাতে চাইতাম, সে বয়সে আমি ভেড়াই চিনতাম না, গুনবো কিভাবে! মাঝে মাঝে একা বাসায় ভয় পেতাম, তখন আমি খুব করে ঘুমাতে চাইতাম। কিন্তু ঘুম আসতো না। তবু চোখ চেপে শুয়ে থাকতাম, অপেক্ষা করতাম। একসময় ভয় কাটতো, আমি আস্তে আস্তে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যেতাম। ঠিক তলিয়ে যাবার আগ মুহূর্তে একটা দৃশ্য চোখে ভেসে উঠতো। একটা কালো বিড়াল দেয়ালের উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে মাটিতে নামছে। কালো বিড়াল দেখে আশ্বস্ত হবার কোনো কারণ নেই। তবু আমি হতাম, কারণ ঐ বিড়ালটাকে দেখতে পাওয়া মানে ঘুমিয়ে পড়া। আমি এখনো মাঝে মাঝে ঘুমের ঠিক আগে বিড়ালটাকে দেখি। এসব কথা কাউকে সাধারণত বলি না। কেউ বিশ্বাস করবে না। কাকে আর দোষ দিব...কোনো এক কালে যে আমার ঘুমাতে সমস্যা হতো সেটা এখন আমার নিজেরও বিশ্বাস হতে চায় না!

শোকগাথা

১.
একটা খবরঃ
আবীর নামে এক কলেজপড়ুয়া তরুণকে গুলি করে মেরে ফেলেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্যমতে সে বন্ধুদের নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ায় পুলিশ পাল্টা গুলি করে। আহত অবস্থায় অস্ত্র হাতে আবীর উদ্ধার হয়, পরে মারা যায়। তার বন্ধুরা পালিয়ে যায়। গোলাগুলির ঘটনায় একজন এএসআই আর একজন কন্সটেবল গুরুতর(!) আহত হয় বলে পুলিশ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। পল্লব থানার ওসি অবশ্য জানিয়েছেন,- সন্ত্রাসীদের গুলিতে না, পড়ে গিয়ে উনারা আহত হয়েছেন।

গোলাগুলির ঘটনায় দুজন আহত একজন নিহত হলেও ঘটনাস্থলের মানুষরা মাত্র দুটো গুলির আওয়াজ শুনতে পেরেছেন বলে জানান।

দাস

১.
ওপার বাংলার সাহিত্যিক সুনীলবাবু বলেছেন, ঔপন্যাসিকদের নাকি স্মৃতিশক্তি ভাল থাকতে হয়। আমি উপন্যাস লেখিনি, লেখার কোনো দরকারও পড়ছে না। তবে স্মৃতিশক্তির দরকার পড়ছে। এই যেমন এখন। খুলে বলি।

খুব নাম শুনেছি অপরাহ নামের এক মহিলার দুর্দান্ত টিভি শো'র। একদিন রিমোট গুতানোর এক ফাঁকে হঠাৎ সামনে পড়ে গেল। দেখতে লাগলাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোন এক নাৎসী ক্যাম্প নিয়ে সেবারের পর্ব। খুব সম্ভবত অশ্বউইৎজ*। অপরাহ'র সাথে আছে একজন নোবেলজয়ী সাহিত্যিক যিনি এই নাৎসী ক্যাম্প থেকে বেঁচে ফেরা অল্প কয়েক হাজারদের* মধ্যে একজন। অপরাহ'র শো'তেই দেখলাম সেই নাৎসী ক্যাম্পের স্থানে এখন একটা জাদুঘর তৈরি করা হয়েছে, আজকের সভ্য মানুষদেরকে তাদের পূর্বপুরুষদের অসভ্যতার ইতিহাস মনে করিয়ে দেবার জন্য। সে জাদুঘরে স্তূপ করে রাখা ছোট ছোট বাচ্চার লাখ লাখ জুতা, কেটে রাখা চুল, কাপড়-চোপড়। লাখ-লাখ* নিরপরাধ শিশু বিনা দোষে মারা গিয়েছিল সে নাৎসী ক্যাম্পে। অশ্রুভেজা চোখে নোবেলজয়ী সাহিত্যিক এ বর্ণনা দিচ্ছিলেন, শেষে এসে বললেন, "অল্প কয়েক হাজার* মানুষ বেঁচে ফিরেছিল, তার মধ্যে আমি একজন নোবেল জিতেছি। ভেবে দেখুন, এই লাখ লাখ* শিশুর কতোজন নোবেল পেতে পারতো...কতোজন অস্কার পেতে পারতো..."

বৃত্তের বাইরে

ও কেন্দ্রবিশিষ্ট এ-বি-সি বৃত্তের ঠিক উপরেই মন পালাতে চাওয়া জানলাটা, হালকা বাতাসে তার কাঠের পাল্লাটা ক্যাঁচকোঁচ করে উঠে। সেই জানলা বেয়ে অয়নের চোখ গিয়ে পড়ে উল্টো পাশের কাজী ভিলার চারতলার হলদে আলো ঝরা জানলাটায়। সূয্যি ডোবার পর থেকেই গুনগুন করে পীথাগোরাস কিংবা ইউক্লিডের পিত্তি চটকাচ্ছিল অয়ন, তার মাঝেই দূরের সে হলদে আলোয় একটু আনমনা হয়ে ওঠে। ঘাড়ের ঠিক পেছনে হঠাৎ রদ্দি খাবার ভয় তো আছেই... তারপরেও সারা সন্ধ্যা জুড়ে একতালে গুনগুনের এইটুকু এলো হওয়া হয়তো মায়ের কর্ণগোচর হবেই না! চারতলার জানলার ওপাশে অল্প একটু ছায়ার নড়ন-চড়ন দেখা যায় কালেভাদ্রে, আর কিছু না। আজও সেরকমই একটা নিস্তরঙ্গ রাত যাবে হয়তো...আরেকটু ভাল করে দেখার আশায় তাই চশমাটাকে নাকের ডগায় আগুপিছু করে নিল, কিন্তু তাতে কি আর চশমা দূরবীনে বনে যায়? ঠিক যেই মুহূর্তে হতাশ হতে যাবে, তখুনি দপ করে নিভে গেল বাতিটা। মন ফিরে এল এ-বি-সি বৃত্তের ভেতরের বৃত্তস্থ কোণে।

আধা-টেকি পোস্টঃ নিজ হাতে লেখা মোর কাকের ঠ্যাং খাসা !

আমরা বন্ধুর টেক্সট এডিটর ব্যাপক ঝামেলার। তাই শুরুতেই মূল পোস্টের লিঙ্ক। যারা এইখানে পড়ে বুঝতে পারবেন না, তাদের জন্য।

অন্তর্জালে ইংরেজির জন্য হাজার হাজার ফন্ট। সংখ্যাটা কি কম বলে ফেললাম? লাখ লাখ বলবো? ফন্ট নিয়ে গুতাগুতি করার সময় আমি এমন একটা সাইটও দেখেছি যেটায় নিজের হাতের লেখায় ৬২টা চিহ্ন(ইংরেজি লেটার ২৬টা বড় হাতের, ২৬টা ছোট হাতের+অঙ্ক ১০টা+ আর কোনো অপশনাল চিহ্ন) সাইটের সরবরাহ করা পিডিএফের নির্দিষ্ট জায়গায় লিখে আপলোড করে দিলে সাইট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই চিহ্ন অনুযায়ী তৈরি করে দিবে।

অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী -৩

অনেকদিন ধরে কিছু লেখছিলাম না। লেখার কথা মাথাতেও আনছিলাম না। ছবি আঁকাতে বেশ আগ্রহ পাচ্ছিলাম, তবে শেষ পর্যন্ত এই দুদিনের শখের যে কিছু হবে না, সেটা নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত আঁকা মাত্র একটা ছবি কল্পনা থেকে আঁকা, বাকি সবই অন্য কারো ছবি দেখে আঁকা। তারপরেও কিছুক্ষণ পেন্সিল-রাবারে ঘষাঘষি করাতে কিছু একটা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে - ভাবতে ভাল লাগছে।

সেদিন দুজনে...
সেদিন দুজনে...

ঘটনে-অঘটনে চট্টলা

১.

চট্টলার প্রথম ভ্রমণটারে অঘটন বলা যায়...নাকি ঘটন?

আমি আর মামুর ব্যাটা এক সন্ধ্যায় বসে আজাইরা ঝিমাচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো,- চল চট্টগ্রাম যাই, ভাবীরে নিয়া আসি। ভাবী পড়তেন চট্টগ্রাম ইউনিতে, ভাইয়ের পোস্টিং ঢাকায়। বৃহস্পতিবারের দিকে ভাবী ঢাকায় আসতো। তো আমরা ভাবলাম যে আমরাই গিয়ে নিয়ে আসি। মধ্যে দিয়ে চট্টলা ঘুরা হয়ে যাবে। মাথায় প্ল্যান আসার দশ মিনিটের মাথায় ফাইনাল করে ফেললাম। এবার যার বৌকে আনতে যাব, তার কাছে গেলাম। ভাই বললো, "ভাবীরে আনতে যাবি যা, আমারে জিগায়া তো প্ল্যান করস নাই!" আমাদের সামনে গা-ছাড়া ভাব ধরছে আর কি! Stare হু কেয়ারস! রাতের বাসে চড়ে বসলাম, সূর্য উঠতে না উঠতেই চট্টলা।

অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী

যথারীতি হাতে আজাইরা সময় থাকলে যা হয়...মেহেদী হকের টিউটোরিয়াল দেখে কাকের ঠ্যাং বকের ঠ্যাং এঁকে ফেললাম। অবশ্য উনার মতো স্পেসিফিক পেন্সিল-রাবার, কলম-দোয়াত, স্ক্যানার এতো ব্যবস্থা করতে পারি নাই। ৫৳ এর পেন্সিল, ৫৳ এর ইরেজার, ১৫৳ এর জেল কলম, আর মান্ধাতার আমলের বোগাস সনি সাইবারশট দিয়ে কাজ সারলাম। ছবিতে কোথায় লাইট হবে আর কোথায় শেড হবে তা অবশ্য এখনো বুঝতেছি না। না বুঝাটাই স্বাভাবিক, বুঝলে তো বহুত আগেই আর্টিস্ট হয়ে যেতাম! যাই হোক...নতুন একটা শখ আর কি! অঙ্কুরেই মরে যাবে হয়তো।

গুইশ

১.
"মেয়ে জেগে আছে, আস্তে কথা বলো," চাপা গলায় টুম্পার মা যেন গর্জে উঠলো। টুম্পা অবশ্য সবই শুনতে পেল। প্রতিদিনই বাবা-মা'র এরকম নোংরা ঝগড়া হয়। প্রতিদিনই দুজন দুজনকে বলে, "টুম্পা জেগে আছে, আস্তে কথা বলো" ,- তারপরেও টুম্পা প্রতিদিনই সব শুনতে পায়। প্রথম প্রথম খুব মন খারাপ হতো...মন খারাপ হয়, এখনও। আজ বিছানা থেকে আলতো পায়ে নামলো, আস্তে করে ঘরের দরজাটা ভিড়িয়ে দিল। এখনো অবশ্য বাবা-মায়ের চাপা গলার ঝগড়া শোনা যাচ্ছে, শুধু দরজার বাধা পেয়ে শব্দগুলো দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে...এই বা কম কি?

জ্বরে বিভোর

এবারের মৌসুমটাই কেমন কাঠফাটা রোদ্দুর আর ভ্যাপসা গরমের মৌসুম ছিল। গরমের সাথে তাল মিলিয়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং। ফ্যানের অভাব যতোটা না ভোগায়, তার চাইতে কম্পু-ছাড়া বেকার সময়টা বেশি ভোগায়। যাই হোক, তারপর অনেকদিন বৃষ্টি আসি আসি করলো, কিন্তু আসলো না। মাঝে গিয়েছিলাম কক্সসবাজার। প্রথম দিনের বিকালেই সাগরপাড়ে প্রচণ্ড বাতাস। চাঁদ ঢেকে দেয়া মেঘ,- এই বুঝি বৃষ্টি হবে। রাত বারোটার দিকে যখন এঞ্জেলড্রপ থেকে হোটেলে

আহা, আজি এ বসন্তে

এক ঝড়ের রাতের কথা।

পলাশীর মোড়ে আগে একটা ছাপড়া মতো বাজার ছিল। বুয়েটের টিচারদের ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন থেকে একটা বহুতল মার্কেট বানাবে, তাই বাজারটা উঠায় দেয়া হল। পাশেই বুয়েটের নতুন ক্যাম্পাস। সাময়িক ভাবে তার পেছনে একটা জায়গায় বাজার তৈরি করে দেয়া হয়েছে। আধাপাকা দালান আছে কিছু। উপরে টিন, দেয়াল ইট-সিমেন্টের মিশেলে গড়া। পলাশীর সেই পুরনো ফটোকপি মেশিনগুলো রাখা সেখানে, বুয়েটের বিখ্যাত চোথাশিল্পের সূতিকাগার বলা যায়।

যাই হোক, যা বলছিলাম...এক ঝড়ের রাতের কথা।

আধা টেকি পোস্টঃ ব্যানার কথন

এক.
আমি বেশ নিরাবেগ মানুষ। খুব আবেগী কথাবার্তা-কাজকর্ম আমারে দিয়ে হয় না। আমার মধ্যে অনুভূতি জিনিসটাই কম...স্টোন-কোল্ড যাকে বলে আর কি! বিপদে পড়লাম মা দিবসের ব্যানার করতে গিয়ে। অদ্ভূত রকম বিপদ।

একটা ব্যানার বানাতে খুব বেশি সময় নেই না আমি। মোটামুটি পনের থেকে বিশ মিনিট। এর মধ্যে দশ-বারো মিনিট যায় রিসোর্স খুঁজতে। বাকি পাঁচ-দশ মিনিটে আমি সেই রিসোর্স খিচুড়ি পাকিয়ে ব্যানার পয়দা করে ফেলি।

এক বৈশাখে


 আমরাবন্ধুতে যখন বৈশাখের স্মৃতি নিয়ে লেখা আহবান করা হলো, আমি আঁটঘাঁট বেঁধে বসলাম - কিছু একটা লিখেই ফেলবো এইবার! কিন্তু একটা অক্ষরও লেখতে পারলাম না। আমার জন্য লেখালেখিটা কোনোকালে সহজ ছিল না, এমনকি স্মৃতিকথাও না। স্মৃতি বলতেই সবার মনসচক্ষুতে ভেসে আসে হাসি-কান্না-অভিমান-ভালোবাসার মিশেলে টুকরো টুকরো অনেক ঘটনা। আমি এইদিক দিয়ে বড়ই অভাগা। আমার স্মৃতির সাথে দল বেঁধে ছুটে আসে স্মৃতিবিভ্রম, স্মৃতিবিভ্রাট সহ নানা গুন্ডা-পান্ডারা; আমাকে স্মৃতিভ্রষ্ট করে দিয়ে তারপর দাঁত কেলিয়ে হাসে।
 

শিশুদের অবক্ষয়

এই লেখাটা শিশুদের নিয়ে হলেও আঠারোর নিচে যাদের বয়স, তাদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হলো।