ইউজার লগইন

১৪২ জনের বঙ্গোপসাগরে ১৯ ঘন্টা হারিয়ে যাওয়ার গপ্পো- ১

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596352_35-DSC01933.JPG

এটি ছিলো আমাদের দশম সূর্য উৎসব। এর আগে আমরা সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপ, কেওক্রাডাং, খাগড়াছড়ি, পঞ্চগড়, বিরিশিরি, রাঙামাটির পাবলাখালীসহ অন্য জায়গাগুলোতে গিয়েছিলাম। এবার আমাদের গন্তব্য সুন্দরবনের কটকা। এটি দ্বিতীয়বারের মত সুন্দরবনে সূর্য উৎসব আর আমার তৃতীয়বার সুন্দরবন যাওয়া। ২৮ তারিখ পৈ পৈ করে সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে- সূর্য উৎসব কোনো প্লেজার ট্রিপ নয়। এতে অংশ নেয়া সবাইকে ম্যালা কষ্ট করতে হবে। থাকা, খাওয়া, বাথরুম সব কিছুতেই কষ্ট। আসলে আমরা একটু বাড়িয়েই বলি। পারতপক্ষে কাউকেই তেমন কষ্ট করতে হয়না। তবুও বলে নেই, যাতে সমস্যা-টমস্যা হলে কেউ কোনো অভিযোগ করতে না পারে। এবারে সেভাবেই বলা হয়েছে। সবাই একমত হয়ে কবেই তার যাওয়া নিশ্চিত করেছে।

৩০ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় লঞ্চ ছাড়ার কথা । সদরঘাট থেকে আমাদের নিয়ে পারাবত- ১ ভেঁপু বাজালো দুপুর ২.১০ মিনিটে। যথারীতি শেষ সময়ে এটা সেটা কেনা, অনেকের না এসে পৌঁছানো, নতুন করে কারো কারো আমাদের সফরসঙ্গী হওয়া...। যাই হোক, জাহাজ ছাড়ার পরই সবাইকে তার কেবিনের চাবি (যদিও বলা ছিলো- শিশু এবং বৃদ্ধদের শুধু কেবিন দেয়ার পর কেবিন বাকী থাকলে অন্যদের দেয়া হবে) দিয়ে দেয়া হলো। খাবারে ক্ষানিকটা বিলম্ব হবে, সেজন্য সবাইকে মুড়ি-চানাচুর মাখা দেয়া হলো। আমরা যে যার কাজে নেমে পড়লাম।

জাহাজ চালাবার সার্বিক দায়িত্ব দেখবেন- মিলন ভাই।
মুড়ি-চানাচুরের দায়িত্ব- শিবলী।
আমাদের ১১ বেলা খাবারের দায়িত্ব - জুয়েল।
জাহাজ সাজানো, বাচ্চাদের ছবি আঁকা দেখবেন- রাশেদ, রিয়াজ।
গান-বাজনা-প্রজেকটর এসব দেখবে - শাওন।

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596260_30-DSC01874.JPG

রেফেল ড্র, কুইজ, বিচিত্রানুষ্ঠান ইত্যাদি দেখবো- আমি আর নওরোজ।
বিভিন্ন রঙ্গের ১০০ গজের একটি বিশাল পতাকা (যার মধ্যে আবার কন্টকীর বিশাল মুখোশ আঁকা রয়েছে) জাহাজের উপরে টানিয়ে দেয়া হলো। সবার সহযোগিতা নিয়ে বিশাল পতাকাবাহী বাঁশটিকে জাহাজের সামনের দিকে দাঁড় করিয়ে দেন রাশেদ আর রিয়াজ। সবাই বেশ আনন্দের মুডেই আছে। ছাদে দাঁড়িয়ে বিদায় জানাচ্ছে ঢাকাকে। মোটামুটি বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ দুপুরের খাবার দিয়ে দেয়া হলো। খাবার খেয়ে বেশিরভাগই ছাদে ইঠে গেলো। নিচে গান চলছে। উপরে আড্ডা আর ছবি তোলা। আমাদের সাথে যাচ্ছেন- বাংলাভিশন, বৈশাখী আর দেশটিভির বন্ধুরা। এছাড়াও আছেন- বিডি নিউজ ২৪.কম, ইত্তেফাক, ডেইলি স্টার, যুগান্তরসহ কয়েকটি প্রিন্টিং মিডিয়ার সাংবাদিকরা। এছাড়াও প্রায় সবার কাছেই রয়েছে ডিজিটাল ক্যামেরা। আস্তে আস্তে সূর্য ডুবে গেলো। তীব্র শীত। আমরা সবাই ছাদ থেকে নেমে এলাম নিচে।

আমাদের লঞ্চ চাঁদপুর পেরিয়ে যাবার পর জানা গেলো- এ জাহাজের চালক (যাকে সুকানী বলা হয়) জীবনেও সুন্দরবন এলাকায় যায়নি। তবে টেনশন নেই, মংলা থেকে পাইলট (যে রাস্তা চিনিয়ে নেয়) নিয়ে নেয়া হবে। ঢাকা থেকে নেননি ক্যানো ? কোনো জবাব নেই। মাথার চুল ছিঁড়ে আর কমাতে চাইনি। সিগারেট খাওয়ার পরিমান বেড়ে গেলো আমাদের কয়েকজনের। অন্যরা কিছুই জানেনা। সারারাত চালিয়ে সকাল ১০ টায় মংলায় থামলাম। ঘন্টাখানেক থামার পর জাহাজের মাস্টার এসে বললো- সব ঠিকাছে। জাহাজ ছাড়বে কিনা ? বললাম- ছাড়তে। জাহাজ চলছে...। আমাদের রুট ছিলো- ঢাকা থেকে শরণখোলা- রায়েন্দা হয়ে কটকা। অথচ এখন অন্তত ১০ ঘন্টার রাস্তা ঘুরে যাচ্ছি আমরা।

সন্ধ্যা নাগাদ আর কোনো অঘটন ছাড়াই পৌঁছলাম হিরন পয়েন্ট। সেখানে ২০০৯ সালের শেষ সুর্যাস্তটা দেখলাম। জাহাজের গাইড জানালো- রাতটা এখানে কাটাতে পারি। আবার ঘন্টাখানেক দুরের কটকাতেও কাটাতে পারি। যেহেতু আমাদের গন্তব্য কটকা, সকালে আমরা মাটিতে নামবো, নতুন সূর্যকে বরণ করে নেবো, বেশ কিছু ইভেন্ট আছে- তাই সিদ্ধান্ত হলো কটকাতেই রাত কাটাবো। কটকার কাছাকাছি যেয়ে জাহাজ নোঙ্গর করা হলো।

আজ ৩১ ডিসেম্বর। ১০টার মধ্যে রাতের খাবার দিয়ে দেয়া হলো। মাইকে গান বাজছে। আমাদের রাতের প্রোগ্রামের প্রস্তুতি চলছে। প্রথম প্রহরে আমরা মঙ্গল দ্বীপ জ্বালিয়ে নদীতে নামাবো। মাটির সরাতে রঙ্গীন কাগজ দিয়ে তার ভেতরে ছোট পিদিম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৫০ টি মঙ্গল দ্বীপ ভাসিয়ে দেব। আর এ কাজটিতে নের্তৃত্ব দেবেন আমাদের এ উৎসবের প্রধান অতিথি, আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান। প্রচন্ড বাতাস আর ভয়ঙ্কর সব ঢেউয়ের মাঝেও আমরা আমাদের মঙ্গল দ্বীপগুলো ভাসিয়ে দিলাম নদীতে। এরপর খালি গান, নাচা, মাস্তি আর লুকিয়ে লুকিয়ে তরল খাওয়া......। সবাইকে বলে দেয়া হলো- সকাল ৬ টায় রিপোর্ট করার জন্য । ৭ টায় আমরা মাটিতে নামবো।
http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596246_29-DSC01870.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596225_28-DSC01824.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596210_27-DSC01808.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596192_26-DSC01796.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596153_24-DSC01792.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596139_23-DSC01773.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596125_22-DSC01767.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596107_21-DSC01763.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596041_20-DSC01738.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596026_19-DSC01727.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262596012_18-DSC01725.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595982_16-DSC01709.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595965_15-DSC01695.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595940_14-DSC01684.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595907_12-DSC01667.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595892_11-DSC01666.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595860_9-DSC01653.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595844_8-DSC01649.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595819_7-DSC01645.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595807_6-DSC01636.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595795_5-DSC01624.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595781_4-DSC01622.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595769_3-DSC01621.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595755_2-DSC01620.JPG

http://media.somewhereinblog.net/images/mesbah_aajadblog_1262595742_1-DSC01616.JPG

চলবে....

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সাঈদ's picture


চলুক। আহা যদি যেতে পারতাম !!!!

মেসবাহ য়াযাদ's picture


এটি ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ট্যুর..

টুটুল's picture


জটিল মৌজ মাস্তি করছেন দেখি :)
হিংসিতের ইমে হপে

মেসবাহ য়াযাদ's picture


বিয়াপক টেনশনের মধ্যেও মেলা মৌজ মাস্তি হৈছে

হাসান রায়হান's picture


জটিল মিস হইছে! কয়পেগ খাইছিলেন?

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মাশাল্লাহ কম খাই নাই। ৭/৮ পেগতো হৈবেই

শাতিল's picture


আলহামদুলিল্লাহ ইয়াজিদ ভাই

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আসতাগফিরুল্লাহ ! নাম ভুল করেন ক্যান, পাতিল ভাই !!

আত্তদ্বিপ's picture


এরক্ম ঘোরার মজাই আলাদা, চলুক

১০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


সত্যই বিয়াপক মজা হৈছে

১১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মন্তব্য'এর জায়গা ফাকা আছে। দয়া করে আবার প্রদান করুন...।

১২

টুটুল's picture



আবার দেন :)

১৩

নজরুল ইসলাম's picture


আমি কয়মাস আগেই সুন্দরবন ঘুরে আসছি... তাই এবার আর যাই নাই

১৪

মেসবাহ য়াযাদ's picture


গেলেই পারতেন

১৫

সোহেল কাজী's picture


জটিল আনন্দ হৈছে দেখা যায়, পরের বর্বে ফটুক চাই। চলুক

১৬

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ফটুক দিছিতো...

১৭

বিহঙ্গ's picture


পুরা সহমত উইথ কাজীদা.....................পরের পর্বতন ফুটুক চাই.......। ব্যাফক মজা অইছে দেখা যায়.............চলুক

১৮

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ফটুক কয়বার দীমু...

১৯

নীড় সন্ধানী's picture


এই সূর্য উৎসব ব্যাপারটায় একবারো যাওয়া হলো না। বেশ কবার ডাক পেয়েও মিস করেছি। এইসব পড়ি আর আফসোসে কাত হই। :(

তা, ছবি টবি কবে দেবেন?

২০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


দিলামতো...!!!

২১

লোকেন বোস's picture


আপনার ভ্রমণ কাহিনী পড়ে ভালো লাগলো। ছবি থাকলে আরো ভালো লাগতো

২২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ছবি পেয়ে নিশ্চয়ই ভালো লাগছে...

২৩

টুটুল's picture


জট্টিল ঘুরন্তিস দিছেন দেখি :)

২৪

মেসবাহ য়াযাদ's picture


সাদাকালো জামা পরা মাইয়াটারে চিনছস ? এইটাই সেই পাংখা মাইয়া...

২৫

মীর's picture


Big smile

২৬

অরিত্র's picture


ছবি দেখে যেতে ইচ্ছা করছে

২৭

মেসবাহ য়াযাদ's picture


চলেন যাই...

২৮

হাসান রায়হান's picture


জটিল ফটু দিছেন উস্তাদ!  কে তুল্ছে, আপনি?

২৯

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ক্যান যে শরম দেন ? ফটুকতো তুলছেন আপনে...

৩০

অতিথি পাখি's picture


বড়ই হিংসিত হইলাম !!!
ছবিগুলান ব্যাপক হুয়া !!

৩১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


থ্যাংকুয়া, থ্যাংকুয়া...

৩২

শওকত মাসুম's picture


ছবি দেখে খেতে ইচ্ছা করতাছে.......সরি যেতে ইচ্ছা করতাছে

৩৩

মেসবাহ য়াযাদ's picture


কী খাইবেন, কৈ যাইবেন দুলাভাই ?

৩৪

গরমপত্র's picture


মামা, ফটুক যা দিছোনা... খালি উদাস উদাস লাগে। এইরম ফটুক আরো চাই মামা। লাগে তুমি সুন্দরবনে থাকতে থাকতে বাঘ অয়া যাউগা।

৩৫

মেসবাহ য়াযাদ's picture


হ ভাইগ্নে, কেনো জানি মোরো উদাস উদাস লাগতেছে...

৩৬

তানবীরা's picture


একদিন ছুটি হবে, তখন আপনাদের সাথে অনেক দূরে যাবোই যাবো।

৩৭

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মোরা সেই ছুটির দিনের অপেক্ষায় রৈলাম...

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।