ইউজার লগইন

আবু মকসুদ'এর ব্লগ

মুগ্ধ হাতপাখা

-আবু মকসুদ

গেরুয়া শহরের জমকালো রাত্রিগুলো
ঘোড়ার খুরের আওয়াজে
বিছানায় এলিয়ে পড়ে জীবনের অপূর্ণ ভাণ্ডার

সমুদ্র স্নানে গিয়ে বালির জানুতে
লুকিয়ে ছিলাম মাটির প্রদীপ,
হাত পা গুটানো সময়ে ফের ফিরে এসেছিল চুম্বন স্মৃতি

বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক আগুনের হল্কা ছুটায়
যৌথ বাগানের ফুলে ওড়ে কীট, আর
স্মৃতির প্রতিমা হয়ে কাঁদে একদার মুগ্ধ হাতপাখা।

ধুসর বৈধব্য সাজ, বিপরীত মুখী
হাওয়ায় নিভে যায় শেষ মোমবাতি
নদীর ওপাড়ে পোড়ে এক জীবনের দুটি চিতা।

প্রকীর্ণ কথার আবির

প্রকীর্ণ কথার আবির

-আবু মকসুদ

এবং আমার অনুশোচনা হলো-
বিষফনা তোলা বীভৎস ঘাতক
উড়াল পাখির চোখে গেঁথে দিলো
মৃত্যুর গাঢ় রঙ।

সারিবদ্ধ দুপুর, তার পাড়ে থমকানো
জল, ভীষণ উদ্যমী, জালে
আটকানো বাসনাতাড়িত পাখি
জানতো না মানচিত্রের আজব মারপ্যাঁচ

এইতো সেদিন ঘুড়ির সুতোর মতো
আঙ্গুল ছুঁয়েছে ম্রিয়মাণ চাঁদ,
প্রকীর্ণ কথায় আবির ছড়িয়েছে
আতুর সন্ধ্যায় হেঁটেছে শিকড় অবধি

ভোরের আগেই সাজাতে চেয়েছে
স্বপ্নের গুঁড়ো, করুণাশরীরে আগুন
ভাগাভাগি করতে চায়নি, চেয়েছে
বর্ষার আগেই মেঘকথা শিখে নিতে

অতঃপর—
অবৈধ মেঘ ফুঁড়ে হঠাৎ বৃষ্টি নামলে
মানুষের ভুল জন্ম হয়েছে জ্ঞাত। কাঁটাতারে
ঝুলেছে উড়াল পাখির দেহ, তাই দেখে
আমার মতো সীমারও কেঁদেছে অনুশোচনায়।

কুল যায়, পাশে বসে কাঁদে কালের সতী

কুল যায়, পাশে বসে কাঁদে কালের সতী

-আবু মকসুদ

বনাঞ্চলে গিয়ে হতাশই হয়েছি। দেখি, বদলে গেছে মানচিত্র। শ্যাওলা- মাঠের সুষমা কেড়েছে, বোবামুখ ডালপালা আকাশের নীলে উঁকি দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু পৌঁছাতে পারছেনা ঈশানের লক্ষ্যে। প্রকৃত বৃক্ষের আকাল বড় বেশী। পাতাতেও আজকাল বিঁধে থাকে ধূসর কাঁটাচামচ। মরণজয়ী মন্ত্রের দিন পেরিয়ে এসেছি অনেক আগেই , তাই বক্তাদের নীতিবাক্যগুলি আর মননে প্রভাব ফেলে না। মাটিবর্তী মাঠ ছেড়ে, ধানজমির আদি গন্ধ ভুলে ঘোমটার আড়ালে অহরহই পৌঁছি লোকালয়ে। পূর্বপুরুষের কঙ্কাল রোদবৃষ্টি পাহারা দেয়। তাদের ঋণ আদিমতার রাতগন্ধে পুনরায় নিমন্ত্রণ পাঠায়। অনির্বাণ পিলসুজে, ফুলেফলেবীজে অনন্ত হাঁটার শেষে বহে ধারাস্নান।