ইউজার লগইন

বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ- ২

যখন এ পর্ব লিখব লিখব মনে করছি তখন সংশ্লিষ্ট প্রধান সংস্থা বিপিডিবি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবনা রেখেছে। বানিজ্যিক পর্যায় বলে বিশেষায়িত করলেও তা্র যে সর্ব ক্ষেত্রেই প্রভাব তা সহজেই অনুমেয়।বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দাম বৃ্দ্ধি মানে আপাত ভাবে সরকারের আয় ব্যয়ের একটা স্বমন্বয়ের সুযোগ মাত্র যদিও দারিদ্র্য বিমোচন, মধ্য আয়ের দেশ,শিল্প নির্ভর স্বপ্নের সাথে তার দূরত্ব যোজন যোজন মাইল। মোটা দাগে বলা যায় অর্থনৈতিক চরমাবস্থা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সুস্বপ্নকে চুরমার করে অপেক্ষাকৃ্ত দূর্বল গণতন্ত্রের দেশকে অস্থিতিশীল করবে। এমন এক সময়ে এসে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে যখন উৎপাদন ছাড়া সরবরাহ আর বিপণনের ক্ষেত্রে আগ্রহ কম বা অস্পষ্ট এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবার মান আর গ্রাহক বৃ্দ্ধির ইচ্ছা অনুপস্থিত। অন্য দিকে যে ব্যক্তিটি বিদ্যুৎ পেলনা সেও এর মুল্য বৃ্দ্ধি জনিত প্রভাবে বাজারে গিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ, এবং নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য তা পর্বত সম।

তবুও পণ্য হিসাবে এবং প্রতিশ্রুত পরিকল্পনার দিক ভেবে যদি বিদ্যুতের মূল্য বাড়াতেই হয় তবে মনে রাখতে হবে সরবরাহের মান, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং উৎপাদন খাতে এর যথাযোগ্য ব্যবহার। প্রস্তাবনায় বৃ্দ্ধির রোড ম্যাপে এ গুলোর ব্যাপারে যথাযথ আলোচনা আশা করেছিলাম এবং কৃ্ষি, শিল্প, সমাজ কল্যান বিষয়ক স্বমন্বয় প্রয়োজন ছিল।

একটু অন্য দিকে মুখ ফিরানো যাক, আমাদের জাতীয় আচারণে অসহিষ্ণুতা,অবকাঠামোগত দূর্বলতা, জ্বলানী স্বল্পতা, সর্বক্ষেত্রেই অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ প্রকৃ্ত উৎপাদনশীল খাতে সম্পৃক্ত হবার সাহস করছেনা, বানিজ্যিক ব্যাংকে ক্রমাগত সুদের হার পতনের জের ধরে ছুটে চলেছে পুঁজি বাজারের দিকে।আর জনতার পুঁজি যারা গ্রহণ করছে তারা উৎপাদনকে প্রাধান্য না দিয়ে ঘুরে ফিরছে পুঁজি বাজারের অলিতে গলিতে যার ফলে বাজার আজ প্রকৃ্ত বৈশিষ্টহীন তথাকথিত পুঁজি বাজারে পরিণত হয়েছে।।যেখানে ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে বিনিয়োগকারীর জন্য এক মুখি পথ সেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলো দূষছে বেচারা বিনিয়োগকারীকে ।এ দায় যেমন মূদ্রা নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার ঠিক তেমন বাজার নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার, বানিজ্যিক ব্যাংক এবং সরকার নামক যন্ত্রের।

যদি বিদ্যুৎ আর অবকাঠামোর কথা আজও চিন্তা করা যায় তবে খুব নিকট ভবিষ্যতে দেখা যাবে মানুষ তার জনশক্তি ঘন্টা নষ্ট করে কেবল পুঁজি বিনিয়োগ করে বসে না থেকে পুরো দেশকেই উৎপাদনের কারখানায় পরিণত করেছে। পুঁজির প্রবাহ আর উৎপাদনের গতি অর্থনীতিকে বেগবান করেছে। এখন যারা এ ব্যপার গুলো দেখ ভাল করছেন তাঁদের পরিচর্যার ধরণে হাজারো সমস্যা আছে, যেমন বলা যায় পুস্তকি জ্ঞানকে ব্যবহারিক ভাবে প্রয়োগ যোগ্য করবার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে পারছেন না তাঁরা।আই এম এফ, আর বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের চাহিদা ও ভাগ্য নিয়ে কাজ করবেনা ফলে তাদের ফর্মুলা বাংলাদেশ উন্ন্য়নের জন্য হাজারটা পদ্ধতির একটা হতে পারে প্রধানটা নয় কোন মতেই।ঋনের প্রবাহ ও সহায়তা কমলেও আমরা ওদের ফর্মুলা নিতে আগ্রহী কারণ এতে ব্যর্থতার দায় এড়ানো যায় আর টেকসই ব্যবস্থাপনা বা পরিকল্পনার জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রম দিতে হয়না। বিশ্বায়নের চাপে তাই প্রতি দিনই হারিয়ে যাই আমরা নিজের অজান্তে-----------
(চলবে--------------)

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


আপনি ভাবছেন কেনো নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? উপকারো কিন্তু হতে পারে। ধরেন দাম বাড়ালে যদি মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরা অকারণে এসি চালানো, ফ্যান চালানো, টিভি চালানো, লাইট জ্বালানো এগুলোতে হয়তো আরো সর্তক আর মিতব্যায়ী হতে পারে। তাতে হয়তো আখেরে পুরো ভোক্তা শ্রেণীই লাভবান হবে।

বাংলাদেশই বোধ হয় একমাত্র দেশ যেখানে তিনশ / চারশ টাকা মাসে দিয়ে আনলিমিটেড গ্যাস জ্বালানো যায়। যার ফলে এখন যে জন দিবসে চুলা জ্বলে না। দিয়াশালাইয়ের কাঠি বাঁচানোর জন্য গ্যাস জ্বালিয়ে রাখে এ দেশের মানুষ। প্রতি ইউনিটের জন্য গ্যাসের দাম দেয়াটাতো সবার জন্যই ফেয়ার তাই না?

তবে, সর্বশেষে একটাই কথা, টাকায় আটমন চাল যখন পাওয়া যেতো তখনো এদেশে বহু লোক না খেয়ে থাকতো, তাই............ সস্তা রাখাটাই বোধ হয় এক মাত্র সমাধান নয়

ধন্যবাদ আপনাকে

আহমেদ মারজুক's picture


মূদ্রার গতি, শ্রম বাজারের সাথে কারিগরী পরিচয়, স্বউদ্যোগে অর্জিত সচেতনতার ফলে এখন আর সেই টাকাই আট মণ- এর না খেয়ে থাকা অবস্থা হবে না। আর উচ্চ বিত্তের এসি চালানো, ফ্যান চালানো, টিভি চালানো, লাইট জ্বালানো সব তাকাই তো জোগাবে ঐ নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষেরা। আমি সব সময় সমাকলিত ফর্মে ভাবতে চাইছি তাই শুরুটা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের হতে হবে এবং তা নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের কথা সরাসরি ভেবেই। ধন্যবাদ।

রাসেল আশরাফ's picture


আজকেও আপনার লেখার মাঝে অনেকগুলো টাইপো দেখছি।হয়তো বাংলা টাইপিং এর অনভ্যস্ততা এর জন্য দায়ী।তাড়াতাড়ি এই সমস্যা কাটায় উঠেন এই কামনা রইলো।লিখুন হাত পা খুলে।

আর লেখা গুলো খুব ছোট হয়ে যাচ্ছে।।এক্টু রয়ে সয়ে যদি একটু বড় করে দিতেন তাইলে আমার মতো নাদানরা এই আলোচনা থেকে একটু জ্ঞান নিতে পারতাম অনায়াসে।

আহমেদ মারজুক's picture


রাইট, এই বাংলা টাইপ করতে আমার জীবন বেরিয়ে যায়

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


খুব ভালো সিরিজ। ধন্যবাদ এমন একটা বিষয় নিয়ে লেখার জন্য।

অনেক জায়গায়ই কিন্তু এমন উদাহরণ আছে যে " জাতীয় আচারণে অসহিষ্ণুতা,অবকাঠামোগত দূর্বলতা, জ্বলানী স্বল্পতা, সর্বক্ষেত্রেই অব্যবস্থাপনা" না থাকা সত্ত্বেও মানুষ ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ করছে।

আহমেদ মারজুক's picture


একলব্যের সাথে দ্রোনাচার্যের সে আচারণ কিশোর মনকে যে কি নাড়া দিয়েছিল !!
যা হোক আপনাকে অনেক ধন্যবাদ । আসলে আমি শেয়ার বাজার নিয়ে তেমন লিখব না কারণ আমার বিদ্যুৎ নিয়ে কিঞ্চিত উৎসাহ আছে। বিনিয়োগকারীদের ঢালাও ভাবে দোষ দেবার ব্যপারটা আমার ভালো লাগেনি।ইচ্ছা করেই ক্ষূদ্র আয়ের মানুষদের কাছ থেকে পূঁজি নিচ্ছে আর উৎপাদনে না গিয়ে বাজারের সমতা নষ্ট করছে তাই একটু ক্ষোভ থেকেই লিখে ফেলেছি এমন করে।

টুটুল's picture


খুবি জরুরী একটা বিষয় নিয়ে আপনার লেখা। প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই

যখন বিদ্যুতের জন্য দেশে হাহাকার থাকে তখন একটু খেয়াল করবেন, যে সব এলাকায় বিদ্যুত থাকে সেই সব এলাকার প্রতিটা বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় অনেক বাতি জ্বলে। এটা বললাম কারন আমরা সচেতন নই। আমাদের একটু সচেতনতাই আরেকজনকে আলোকিত করতে পারে।

যদি বিদ্যুৎ আর অবকাঠামোর কথা আজও চিন্তা করা যায় তবে খুব নিকট ভবিষ্যতে দেখা যাবে মানুষ তার জনশক্তি ঘন্টা নষ্ট করে কেবল পুঁজি বিনিয়োগ করে বসে না থেকে পুরো দেশকেই উৎপাদনের কারখানায় পরিণত করেছে। পুঁজির প্রবাহ আর উৎপাদনের গতি অর্থনীতিকে বেগবান করেছে। এখন যারা এ ব্যপার গুলো দেখ ভাল করছেন তাঁদের পরিচর্যার ধরণে হাজারো সমস্যা আছে, যেমন বলা যায় পুস্তকি জ্ঞানকে ব্যবহারিক ভাবে প্রয়োগ যোগ্য করবার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে পারছেন না তাঁরা।আই এম এফ, আর বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের চাহিদা ও ভাগ্য নিয়ে কাজ করবেনা ফলে তাদের ফর্মুলা বাংলাদেশ উন্ন্য়নের জন্য হাজারটা পদ্ধতির একটা হতে পারে প্রধানটা নয় কোন মতেই।ঋনের প্রবাহ ও সহায়তা কমলেও আমরা ওদের ফর্মুলা নিতে আগ্রহী কারণ এতে ব্যর্থতার দায় এড়ানো যায় আর টেকসই ব্যবস্থাপনা বা পরিকল্পনার জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রম দিতে হয়না। বিশ্বায়নের চাপে তাই প্রতি দিনই হারিয়ে যাই আমরা নিজের অজান্তে-----------

অসাধারন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহমেদ মারজুক's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি লিখতে ভালোবাসি আর কবিতা শুনতে