তবু ঘুম যে আমার চলে আসে ডিসেম্বর মাসে...
কাল লিখতে বসেছিলাম এই পোষ্ট, কিছুদুর লিখে মনে হলো বাদ দেই এরচেয়ে অনলাইনে ধুম থ্রি দেখা যায় কিনা খুঁজি, পেয়ে গেলাম এক আপুর মেয়ে ইউটিউবের বিকল্প ডেইলীমোশন নামে এক সাইটের কথা বলেছিল অনেক কাল আগে- সেখানেই। প্রিন্ট খারাপ না, কিন্তু খারাপ কাজ হলো যে লেখাটা আর লেখা হলো না। সিনেমাটা শেষ করলাম খারাপ না। হাজী আমির খানরে আমার ভালো লাগে, কিন্তু তার ধুম থ্রি খুব বেশী ভালো লাগে নাই। কারন হিসেবে বলছি জর্জ ক্লুনিকে দিয়ে যদি ফাস্ট সিক্স বা এমেরিকান পাই করানো হয় যেমন হবে তেমনই লাগলো। তাও আমির খান হাজী বলে কথা, সিনেমা ব্যাপক হিট, ব্যাবসা করে ডজন খানেকের উপরে রেকর্ড ব্রোক করছে, সব চাইতে বেশী অর্থ উপার্জনকারী মুভি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। একজন আমির খানের ফ্যান হিসেবে আমার সুখী হওয়া উচিত, কিন্তু আমার ওতো ভালো লাগছে না। সামনের বছর আমিরের আরেকটা ছবি আসবে রাজকুমার হিরানীর বানানো নাম 'পিকে'। সেইটা নিয়েই সামনে এ বিষয়ে আশায় বাঁধি বুক!
হরতাল, অবরোধ, মার্চ ফর ডেমোক্রেসী নানান নামের অলস দিনগুলো আমার খারাপ কাটছে না। কিছুদিন আগেও হরতালে প্রচুর ঘুরাফেরা হতো, এখন কোথাও যাই না। সারাদিন বাসা আর চায়ের দোকান। ঝিম মেরে বসে থাকি হয় দোকানে নয় পিসিতে, বইও পড়ছি সমানে। একটা একাডেমিক বই বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, খারাপ লাগে না। নতুন নতুন অনেক নাম মুখস্থ করা যায় আর আরেকটা বই আছে আমার চরিত্রাভিধান, তাতেও মজা পাচ্ছি। আর সিনেমা তো আছেই হলিউডের রোমান্টিক কমেডি গুলান, নায়িকা পছন্দ করি তারপর উইকির আশ্রয়ে সিনেমা দেখে ফেলি অনলাইনে। দিনগুলো তাই যাচ্ছে কেটে হালকা হালকা। আর আরেকটা কাজ করছি তা হলো ঘুম থেকে নিয়ম করে দশটার দিকে উঠি। উঠেই আলুভাজি দিয়ে রুটি আর রাতে ও দুপুরে মাছের সাথে আলু, বেগুন, ফুলকপি ও ছিমের তরকারী ভুড়ি বাড়ছে শুধু তরতর করে!
রাজনৈতিক খেলাধুলা ও তাদের নাটক সিনেমার বাজার এখন খুব ভালো। টিভি দেখি না আর পত্রিকা পড়ি না। আগের দিনে আমাদের ঐদিকে যাত্রা হতো ইসলাম মনস্ক মানুষেরা বলতো 'যাত্রা দেখে ফাতরা'। কালের বিবর্তনে যাত্রা মানেই এখন অশ্লীল নাচানাচির মচ্ছব। গত ঈদে পুলকের মুখে যাত্রা দেখার যে ভয়াবহ এক্সপিরিয়েন্সে গল্প শুনছিলাম তা নিজেই বিরক্ত হয়েছিলাম। অশ্লীলতার চুড়ান্ত রকমের। রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গেলেও আমার এই একই জিনিস মনে হয়। প্রতিদিন যে নাটক বা যাত্রাপালা হচ্ছে তা চুড়ান্ত রকমের ভয়াবহ অশ্লীল। মানুষ মরছে ও কষ্ট পোহাচ্ছে একই সাথে। এরই ফাকে প্রান যাচ্ছে সিদ্ধার্থের মত পুলিশ সহ আরো নানান নিতান্তই সাধারন মানুষেরা। নিজে রাজনীতি করবো না তা ভিন্ন কথা, তাই বলে রাজনীতিবিদদের সমালোচনা হবে না তা কেমন কথা? যেই রাজনীতির কারনে দেশের অবস্থার বারোটা বেজে যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা করার ও ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার সবারই আছে। তবে বিরোধী দলের ব্যানার টাঙ্গিয়ে জামাত যেভাবে একশনে তখন অবশ্য মনে হয় ঠিকই আছে, আবার আওয়ামীলীগের অসংখ্য কাজ কারবার নিজেরই খুব বিরক্ত লাগে। কি যে এক আশ্চর্য ডিলেমায় আছি তা আমরাই বুঝি।
এইসব সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলি। আবীর আসছে ঢাকায়, জেমস মীরপুর থেকে আসে প্রতিদিন আর পুলক আমি মিলে দারুণ আড্ডা দেই দু বেলা করে। কত কিছু নিয়ে প্যাঁচাল পারি, সময় বয়ে যায় এই করেই। সিনেমা নিয়ে আলাপ হয়। আমি হলিউড নিয়ে জানি কম তাই পিছিয়ে পড়ে থাকি। আবার বলিউড আর টালিউড নিয়ে আলোচনা আসলে টাইমস অফ ইন্ডিয়া ঝেড়ে দেই, এই করেই চলছে! ক্রিকেট থেকে শুরু করে বাংলা সাহিত্য সেখান থেকে বিদেশ বিভূঁই সমাজ সংসার, সব নিয়েই আলাপে মশগুল আর চা পানেই সময় কেটে যায়। সিভিল ড্রেসে পুলিশের টিম ঘুরে আশেপাশে সাথে নানান আতংক এইসবকে নিয়ে মোটেও চিন্তিত হই না বাইরে বসে থাকলে। আব্বু ফোন দিয়ে চলছে বাসায় যা, বাইরে আর কত? চায়ের দোকানেই আবার আওয়ামীলীগ বিএনপির সমর্থক নিম্নবিত্ত শ্রেনীর মানুষরা ঝগড়া করে, কথার তুবড়ি ছোটায় গালিগালাজ করে খালি দেখি চুপচাপ। ৪৩ বছর ধরে এই খিস্তি আর অর্থহীন প্রলাপেই দিনগুলো চলে গেল। কাজের কাজ কেউ করলো না! দেশের যা অগ্রগতি হয়েছে তা মানুষের সচেতন বেঁচে থাকার তাগিদেই!
তাও হিন্দি সিনেমা দেখি আর এশেজে ইংল্যান্ডের হার নিয়ে তত্ত্ব তালাশে সময় কাটাই। এখনকার হিন্দী সিনেমা এত বেশী সাউথ ভাবাপন্ন দেখলে খালি গা জ্বলে। 'আর রাজকুমার' ও 'বুলেট রাজা' কিংবা 'সিং সাব দি গ্রেট' তিনটাই হিন্দী ভাষার সিনেমা শুধু আর সব কিছুই দক্ষিনী স্টাইলের ছবি। সাউন্ড অফ করলেই মনে হবে তামিল বা তেলেগুতে কথা বলছে সবাই। তবে এইসব ছবি দেখলে অন্যদের কি হয় জানি না, আমারো খুব মারামারি করা ইচ্ছা জাগে। দুনিয়া ভাঙচুর করে যদি দেশে শান্তি এনে দেয়া যেত তাহলে সানী দেওলের মত তাই শুরু করতাম। এইসব দেখে আরেকটা কাজ হয় কিছু সময়ের জন্য ভুলে যাই সব অনিশ্চয়তা গুলো।
সময়গুলো সব চলে যাচ্ছে। বছরটাই শেষ হয়ে গেল, আবার ডিসেম্বর মাস এসে পড়লো, রাতে বের হলে ভালো ঠান্ডা লাগে ভালোই। আম্মুর মুখে শুনি জামালপুরে ব্যাপক শীত, কাজ না থাকলে ব্লগে পুরানো পোষ্ট নিজের ও অন্যদের গুলো পড়ি মজা পাই এক ধরণের। আমার পোষ্টগুলোর বেশীর ভাগই দেখি কেমন যেনো বিষণ্ণতা বা কোনোকিছু নিয়ে বিরক্ত হবার সব গল্প। ভেবে দেখলাম আমারও দিনের বেশীর ভাগ সময়ই আমার নাক মুখ কুচকানো থাকে এত সুখময় দিন যাপনের ভেতরেও। আগে মানুষজন খালি প্রশ্ন করতো আমি কোনো কারনে বিরক্ত নাকি কারো উপরে ক্ষিপ্ত? আমি আসলে এমনি, উৎফুল্ল থাকার কিছুই নাই। চেহারাই এমন কি আর করার! তাও শত শংকা গেঞ্জাম আর ইত্যকার মন খারাপের ভিতর দিয়েও দুইটা বাজলেই ঘুমিয়ে পড়ি। ডোনোভান আর জোয়ান বায়াজের কালারস গানটা শুনতে শুনতে। অঞ্জনদত্তের গানটাও মনে পড়ে যায়,গানের ন্যারেটিভের সেই আলিবাবা আর বেকার আলী আরাফাত যেন একই টাইপের মানুষ, দুইজনেরই ঘুম এসে পড়ে ডিসেম্বর মাসে শত দুর্যোগ ও দুর্দিনেও!





গান-সিনেমা-আড্ডা - শান্তর দিন তো ভালই কেটে যাচ্ছে!
অস্থির সময়ে সবকিছুই যেন থমকে আছে। চাকরি-ব্যবসা দুটো নিয়েই চিন্তায় আছি
দোয়া কইরেন ভাইয়া!
কত্তো সিনেমা দেখে রে! হাজী সাহেবের মুভির প্রশংসা এইবার একজনকেও করতে শুনলাম না, এমনকি ডাই হার্ড ফ্যান ও ভাল বলে নাই! তাও দেখার ইচ্ছে আছে, কৃষ থ্রি দেখতে শুরু করে বিরক্ত লাগায় আর দেখা হয় নাই, এইটার কি অবস্থা হয় কেম্নে কই!
ক্রিশ থ্রি ফাউল, ধুম ত্রি চলে মোটামুটি!
আমির খান আমার একমাত্র পছন্দের লোক বলিউডে। আর কয়েকটা পছন্দের মহিলা আছে।
তাদের কি নাম জানায়ে দেন!
"হাজী আমির খান" শুনতেই কী কিউট লাগে, সিনেমা যেমনই হোক
পছন্দের এক্টর
আমি সেদিন রানঝানা দেখলাম, শেষটা ভাল লাগে নাই
আমার কাছে এই সিনেমাটার প্রথম দেড় ঘন্টা ভালো লাগছিল!
মন্তব্য করুন