ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

৩৬ মাস

আমি আবেগের গাট্টি বস্তা নিয়ে চলাচল করা মানুষ। অতি সাধারন জীবন যাপনের মাঝেও এতো বেশী নানান কারনে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ি যা দেখে নিজেই বিরক্ত হই বারবার। অনেক চেষ্টা করছি জীবনে যুক্তিশীলতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে চিন্তা করতে পারি নাই। তাই সেই ব্যার্থতা ঢাকার কোনো চেষ্টা করি নাই। আমার অনেক বন্ধুরা আমাকে নিয়ে বলে শান্তর আবেগ মাইয়া মানুষের মতো। কোনো একটা ঘটনা শোনার দুই তিনদিন পরে তা যখন কাউকে বলতে যাই চোখে পানি এসে যায় অবলীলায়। এ এক বিপদ। যার বিপদ তার খবর নাই চোখে পানি আসে আমার। বা কোনো বই পড়তে গেলাম সেখানে আবেগের কিস্তা কারবার দেইখা নিজের চোখেই পানি এসে গেছে। এমন না যে আমি কঠিন আবেগী মানুষ। অনেক জায়গাতেই আমি ঠিক ঠাক কেদেঁ উঠতে পারি নাই। এই যেমন আজ থেকে ১২ বছর আগে আমার নানু যে দিন মারা যায় সেদিনই আমার চোখ দিয়ে পানি আসে নাই এমনকি ৬ বছর আগে বন্ধু কামরুলের বাবা মেরে গেলো আমার ভালো বন্ধু কামরুলের যত মন খারাপ তার কাছাকাছি আমারো। আমার কাধে মাথা রেখে কামরুল সেমি চিতকার করে কাদছে সেদিন আমার তীব্র মন খারাপ তাও কান্না আসে নি এ এক নিদারুন মন খারাপের কথা। অথচ কিছু দিন উত্তরখন্ড আহমদ ছফার লেখা যখন পড়ছি সেখানে কর্নফ

আমি যদি ভীড় হয়ে যাই!

মন মেজাজ বলা যায় যথেষ্ট আমোদে ছিলো। কাল শেষ হলো বিসিএস রিটেন। ভালোই দিলাম মানে পার করলাম আর কি। সেমিস্টার ফাইনালও চলে গেলো। মনে করছিলাম যে সময়গুলো যাবে আগের মতো হেসে খেলেই অবসরে চায়ের দোকানে আড্ডায় সময় যাবে দারুন। কিন্তু মানুষ যা ভাবে তা আর কি হয় ইহাই সবচেয়ে বড় ফেইলোর। এমনিতেই সকালে একা একা চায়ের দোকানে বোর হচ্ছিলাম। তারভেতরে দুপুরে বাসায় ফিরে দেখি ফেসবুকে কি কান্ড। এক বন্ধু আমারে জব ক্যারিয়ার নিয়ে হেদায়েতের বানী দেয় মেসেজে। আমি শুধু জানতে চাইছিলাম লোক নিলে জানাইস। সে আমার জব সংক্রান্ত হেদায়েত দেয় সাথে আমার এটিচিউড টাইম ওয়েস্ট নিয়া নসিহত দেয়। মেজাজটা হান্ড্রেডের উপরে খারাপ হইলো। জানতে চাইছি সামান্য কথা সে দেখি দেয় হাদীসের বানী। আরে শালা হাদীস মানলে তো তোদের আগে চাকরী পাইতাম। ফাজায়েলে আমল পড়ে আমল করে বেহেশতের খোয়াব তো সবাই দেখে। সেইটা বয়ান দেয়ার ঠেকা কেন তোদের এতো?

হ্যাপী বার্থডে জেবীন আপু!

মন মেজাজ শরীর সব খারাপ। অবষাদ আর ক্লান্তিতে বসে আছি চায়ের দোকানে। বাসায় তো আর গীজার নাই তাই ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে এতো রাতে মন চায় না। এরকম জঘন্য দিন আমার খুব কম আসছে যে একদিনে তিনটা পরীক্ষা। পারি না পড়ি নাই কিছুই তাও দিয়ে আসলাম। একেকটা পরীক্ষায় কি লিখবো তা ভাবতে ভাবতেই সময় গেছে। শুধু ভার্সিটির সেমিষ্টার ফাইনালটাই একটু জাতের হইছে ক্লাস করছিলাম বলে। অথচ বিসিএস নিয়ে পোলাপানের যে সিরিয়াসনেস তা ম্যাট্রিক পরীক্ষার নার্ভাসনেসের কাছেও হার মেনে যায়। আমি কিছুই করিনা হাড়কাপানো শীতে রিকশা দিয়ে যাই যেয়ে বসে পোলাপানের ক্রিকেট খেলা দেখি মাঠে। সবার পরে হলে ঢুকি আর চেষ্টা করি সবার আগে খাতা জমা দেয়ার। কি লিখলাম তা নিয়ে ভাবি না প্রশ্ন মিলাই না ছিড়ে ফেলে দেই। আমার পাশে যে বসা তৌহিদ ভাই তার ধারনা আমি হিমু রাশির লোক তাই সিরিয়াস না এসব নিয়ে। আসলে আমার বাংলা লেখা সহজে আসে না। পিসিতে বা মোবাইলে লিখতে দিলে দিস্তায় দিস্তায় পেজ লিখতাম কিন্তু খাতায় কলম চলে না। এ এক বিপদ। আর বিসিএসে প্রতিটা প্রশ্ন অংক বাদে প্রচুর তথ্য জানতে হয়। আগে মাথায় প্রচুর তথ্য রাখতে পারতাম এখন কিছুই মনে থাকে না। মাথায় খালি ফেসবুক চায়ের দোকা

১৪ ডিসেম্বর

বিসিএসের রিটেন আর পেছালো না। টিকবো না কারন পড়ি না। একে তো সেমিস্টার ফাইনাল তারপর দুই বেলা করে রিটেন এক্সামের শিডিউল দেখেই মাথা ব্যাথা। জাহান্নামে যাক সব। আমি থাকি আমার মতো।ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকে ছিলো বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড নিয়ে একটা বাংলা পড়া। ক্লাস ফোরে নয়তো ফাইভে। তখন ম্যাডাম ছিলো খুলনা স্কুলের আলম আরা ম্যাডাম। তিনি বলছিলেন এরা বেচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক উন্নত দেশ হতো। উন্নত দেশ বলতে তখন আমার মনে ধারনা নেভীর কলোনীর পাশে যে বাস্তোহারা কলোনী সেখানে সবাই বিল্ডিংয়ে থাকবে। গোলপাতার ঘর কোথাও চোখে পড়বে না। শীতের কাপড় থাকবে সবার আগুন জ্বালতে হবে না কারোর। ছোটো মানুষ ছোটো চিন্তা। কিন্তু তা আর হয় নাই ঘাতকদের সুচারু প্ল্যানে তাদের সবাইকে ধরে নিয়ে মারা হইছে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বর্বরতায়। একেকটা উজ্জল মানুষের ঘটনা যখন পড়ি তখন অবাক হই কি অসাধারন একেকটা তারকা। তারা চাইলে পালাতে পারতো, নিরাপদে সটকে যেয়ে ভারতে কলমযোদ্ধা হতে পারতো। কিন্তু সেই চরম ক্রান্তিকালেও তারা দেশ ছাড়ে নাই। তার খেসারত দিলো শহীদ হয়ে। আর তাদের চিনিয়ে দেয়া সাথে ধরে নেয়ার দারুন কাজটা করে দিলো তাদেরই ছাত্রসম আলবদরের লোকেরা। বিচার হলো না এদের

আমি বেচে আছি আমার সময়ে!

কাহিনী সেই একি। একটা বিরতির পর পোষ্ট লেখতে বসলাম। পোষ্ট লেখার হুজুগ ছিলো প্রতিদিনই কিন্তু মাতি নাই। কারন এই সব দিন লিপি দেখিতে দেখিতে একি কথা পড়িতে পড়িতে পাঠককুলকে আর কত বিরক্ত করিবো। তাই অতো পোষ্ট দেয়াকে উত্তম কিছু বলে মনে হলো না। ভাবলাম একটা গল্প লিখি কিন্তু গল্প কবিতায় অনেক খাটনি। এই দুধ চা খাওয়া মাথায় এতো কিছু কুলায় না। আর গারমেন্টসে হত্যা এতো এতো মরন দেখে কিছুটা ধার্মিক মাওলানায় রুপান্তরিত হয়েছে। ইদানিং রাস্তা পার হতে সিড়ি ভেঙ্গে নামতে সব কিছুতেই খালি এই ভয়ে থাকি। যদি এই মুহূর্তে চলে যাই তবে বাবা মার কি হইবে?

সশস্ত্র বাহিনী দিবস!

পোষ্টটা লেখা উচিত ছিলো কাল। কাল লিখলে পারফেক্ট হতো। কিন্তু কাল ছিলো শরীরটা ভালো না আর সন্ধ্যায় হাটাহাটি করে চায়ের দোকানে প্যাচাল পেরে শরীরটা ক্লান্ত। তারপর কোনো এক অজানা কারনে হাতে ব্যাথা করছিলো। একদিন পরে লিখছি খারাপ একটাই দিনটার মুড মিস হলো। যা আমার ব্লগের জন্য খুব জরুরী। কি আর করা সান্তনা একটাই লেট বেটার দেন নেভার।

টানাটানির এই সমাজ সংসারে!

পুরান কথা গুলাই নতুন করে বলতে হয়। ডিসের লাইন কেটে দিছে স্কাই ক্যাবল ট্রেডিং। শেখেরটেকের একমাত্র লাইন যাদের। তাই নেটে বসেই লাইভ খেলা দেখি। তাতে এমবি চলে যায় দেদারছে। কী আর করা মন তো মানে না। আশা ছিলো না জিতলেও ড্র হবে কিন্তু এসে পড়লো লজ্জাজনক পরাজয়। আমার স্কুল বন্ধু আবীর চিটাগাং থাকে। সে আমাকে ফোন করে বলেছিলো বেশী আবেগ্রাক্রান্ত হয়ে স্টেডিয়ামে যাস না কারন লাঞ্চের আগে যদি উইন্ডিজ আউট হয়ে যায় যদি বাংলাদেশ দুই আড়াই সেশন ব্যাট করতে হয় তবে হারবে বাংলাদেশ। আমি তার কথা শুনে বলছিলাম বাংলাদেশ নিয়ে তুই এতো নেগেটিভ কাল যদি জিতেও যায় তাও তুই বাংলাদেশের খারাপটাই খুজবি। আজ যখন ক্লাস শেষে আবীরকে ফোন দিলাম। সাধারণত কারো কথা ফলে গেলে খুব আনন্দ পায় আবীরের মনে আনন্দ নাই। বলতেছে তোদের কে নিয়ে কত ভালো ভালো কথা বলি একটাও ফলে না। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে যখন যা বলি তাই লেগে যায়। এতো এতো মানুষের এতো আশা নিমিষেই তলিয়ে গেলো ভাবতেই মন খারাপ। আমি তো অবাক ভুতের মুখে রাম রাম। যাই হোক কী আর করা ৬০ টেষ্টের অর্ধেক ম্যাচই যারা ইনিংস ব্যাবধানে হারে তাদের নিয়ে এতো আশা করাও ঠিক না। যাই হোক খেলা ভালো লাগে। খেলা নিয়ে কথা বল

টিভি দেখা না দেখা বাসি হয়ে যাওয়া ঈদের কথা!

এই পোষ্টটা কাল একবার লিখছিলাম। পোষ্ট যখন করবো ক্লিক দিলাম বলতেছে এক্সেস ডিনাইড। লেখাটাও উদাও। ভুলে গেছিলাম যে আমি দেড় ঘন্টা যাবত লিখতেছি ট্যাব খুলে দেখা উচিত ছিলো এখনো লগ ইন কিনা। এই সামান্য ভুলের জন্য কত বড় একটা বিপদে পড়লাম। দুই ঘন্টা যাবত লেখা একটা জিনিস এডিট করা শেষ কিন্তু পোষ্ট দিতে পারলাম না। পিসিতেই এই সব কাজ হয় মোবাইল দিয়ে লিখলে এই সব সমস্যা নাই। লেখা অটোমেটিক ড্রাফটে থাকে। যাই হোক দুঃখের কথা বলে লাভ কি? জীবনজুড়েই আমার এসব বোকামীর দন্ড গা সওয়া হয়ে গেছে। সমস্যা হলো আমি এমএস ওয়ার্ডে লিখি না ডাইরেক্ট ব্লগে লিখি তাই একটু কিছু হলেই লেখা উদাও।

এই মফস্বলে দিনকাল।

ঘুম আসছে না যদিও ঘুমানো জরুরী। কারন কাল সকালেই ট্রেনে করে রাজধানী বরাবর রওনা দিবো এরকমই কথা আছে। টানা দশ বারোদিন যাবত আমার দেরীতে ঘুমানোর অভ্যাস। রাতে শুয়ে শুয়ে নেটে বসে থাকি। লোকজনের ফেসবুক চর্চা দেখি। রেডিও ফুর্তিতে গান শুনি বিসিএসের পড়ায় চোখ বুলাই এইতো। রাতে টকশো দেখা হয় না মোটেও কারন আব্বু আম্মুর রুমে টিভি। খামাখা বিরক্ত করতে ভালো লাগেনা। তাই এবারের ঈদে লাইভ গানের কোনো প্রোগ্রাম দেখি নাই। আর লাইভ প্রোগ্রাম দেখেও বিনোদন নাই। শিল্পী তার মতো গান গেয়ে যাবে আর দর্শক ফোন করে বলবে ভাইয়া আমি ভুরুংগামারীর অমুক আজ আপনাকে খুব সুন্দর লাগতেছে। আপনার পছন্দ মতো একটা গান গায়েন। এখন প্রশ্ন হলো সবাই ভালো পোষাক পড়ে কড়া মেকাপ নিয়েই টিভিতে গান গায়। সেখানে সুন্দর লাগবেই তা গাটের পয়সা খরচ করে ফোন দেয়ার দরকারটা কি? আর শিল্পীদের নিজের সব গানই প্রিয় যা গায়। বেশীর ভাগ লাইভ শোর উপস্থাপক বেকুব সুন্দরী তরুনী। এদের না আছে মিউজিক সেন্স না আছে কমনসেন্স!

কোরবানীর মেহেরবানী!

এন্ড্রয়েডে মায়াবী বাংলা কিবোর্ড দিয়ে পোষ্ট আগে কেউ লিখছে কিনা তা আমার জানা নাই। এই জটিল ঝামেলা পুর্ন কাজে চায়নিজের মালের উপরে আস্থা রাখলাম কি আর করা। তবে টাচে লিখতে আমার কাছে সবসময় ভেজাল লাগে তাও মনে হলো শুয়েই তো আছি লিখে ফেলি হাবিজাবি। আর আমার নোকিয়া সি টুতে টাকা নাই থাকলে সেটা দিয়েই লিখতাম এতো টাচের গেন্জামে যায় কে?

অনুভুতি শুন্য থতমত এই শহরে!

শিরোনামটা অযথাই রাখা। একটা না একটা শিরোনাম তো রাখতেই হবে কিছুই করার নাই। আবার শিরোনামহীন রাখবো তারও উপায় নাই। সাধারনত রিয়েল লাইফ বন্ধুদের ব্লগ কোনো কালেই পড়াই না। কারন ভালো লাগে না। নিজের যা ছাইপাশ লেখা মাঝে মাঝে বুধবার নিউএজে ছাপতো তারও খবর কাউকে জানাতে ইচ্ছা করতো না। নিজের প্রচার করতে ভালো লাগে না কখনোই। খুলনা নেভী স্কুলে তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন এমনি প্রতি বিকেলেই মুখস্থ করা গান বন্ধুদের শুনাই। বন্ধুরা খুব তারিফ করে। ক্লাসে সবার সামনে গাইতে বললেই বন্ধুদের শত অনুরোধেও সবার সামনে দাড়িয়ে গান গাই নি। সেই থেকেই শুরু। ঢাকায় এসে তা সামাজিক অনুষ্ঠান বর্জনে রুপ নিলো। আমার এখনো মনে আছে ভাবীর যে গায়ে হলুদ হলো তাদের বাসায় সেখানেই আমি যাই নি। নিজের ভাইয়ের বিয়েতে বন্ধু বান্ধব নিয়ে মোটামুটি এক কোনা তেই পড়ে ছিলাম। অথচ কত আয়োজন আমারই ভাইয়ের বিয়ে। যেদিন ভাইয়ার গায়ে হলুদ বাসায় শত শত কাজ। সেইদিনেও আমি ভার্সিটি গেছি। ক্লাস শেষে দুপুরে বাসায় আসছি তখন ভাইয়া বলে আজকেও তোর ভার্সিটি যেতে হলো। আমি মুখ ফসকে বলে উঠলাম কাজ তো নাই আমার তাই বাসায় থেকে কি করবো?

বেরঙ্গীন দিন যাপন!

পোষ্ট দেয়ার মতো তেমন কোনো ইস্যু নাই। গল্প কবিতা গবিতাও আমার দ্বারা হয় না। কখনো চেষ্টাও করি নাই। অথচ বেশীর ভাগ বয়স্ক ব্লগাররাই কত অসাধারন সব গল্প কখনো না কখনো লিখবেই যার সৌভাগ্য আমার কখনো হয় নি। আমার খুব ভালো বন্ধু নুর ফয়জুর রেজা। সে গত চার মাসের সামহ্যোয়ার ব্লগার। তাকে দেখে হিংসা হয়। আসক্তির মতো সে ব্লগিং করে। যা আমরাও করছি। ব্লগের বাইরে দুনিয়ার কথা কিংবা ফেসবুকে সময় নস্টের কথা ভাবতেই পারতাম না। কিন্তু এখন ফেসবুকেই বেশী ভালো লাগে। লাইক ডিস্ট্রিবিউশন ও স্ট্যাটাস শেয়ারের মধ্যেই আনন্দ খূজে পাই। সেই রাত জেগে ব্লগিং করে ঘুম থেকে উঠেই পিসির সামনে দৌড়ানো ভার্চুয়াল কিবোর্ড দিয়ে মন্তব্য করা, ছাগু তাড়ানো কত কিছু করতে হয় এই সামু আসক্তিতে। আমি অবশ্য তেমন যুতের কোনো ব্লগার ছিলাম তাও যারা ভালো লিখতো ভালো ভাবতো তাদের সমমনা বন্ধু ছোটভাই ছিলাম এই টুকুতেই আনন্দ। সেই সময়টাকে খুব মিস করি। এখনো নানান ব্লগে কত অজস্র ব্লগার যাদের কাউরেই আমি চিনি না তখন নিজের কাছেই খুব খারাপ লাগে। সময়ের সাথেই সাথেই কত কিছুই বদলে যায়। এখন এবিতে পোষ্টাই মাঝে মধ্যে কমেন্ট করি এইটাকে ব্লগিং বলা চলে না। স্রেফ সেই সময়ের কিছু কাজের

বিজয় পথে যাও অনাদিকাল!

চে সাহেবরে ধারনা করি প্রথম দেখছিলাম খুলনায়। তখন আমি বালক। তাই বালক সুলভ ইসলামের চেতনা টনটনে। গেঞ্জীতে মানুষের ছবি দেখে মেজাজ খারাপ হইছিলো। বন্ধুরে জিগেষ করছিলাম এই লোক কে? সে কইলো র‍্যাম্বোর মতো শক্তিশালী হলিউডের নায়ক। আমি সরল বিশ্বাসে তা মেনে নিয়েই দিন পার করছি। চিটাগাংয়ে থাকতে জানলাম চে র কথা। চে কি করে?

Naadodigal

মন মেজাজ যে খুব একটা ভালো তা বলা যায় না। তবু দিন কেটে যাচ্ছে এইটাই ভরসা। অন্য অনেকের চেয়ে ভালো আছি তাই সান্তনা। সাতক্ষীরা, ভো্লা, রামু, হাটহাজারী পটিয়া এই বছর জুড়ে যত ঘটনা ঘটলো সব কিছু নিয়েই আমি খুব চিন্তিত। তবে চিন্তা করা ছেড়ে দিলাম। অতো ভেবে কাজ নাই। ভেবে আমরা বেশি হলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবো। আরও বেশী হলে প্রেসক্লাবে কড়া রোদে ফ্রুটো খেতে খেতে মানব বন্ধন করবো এতটুকুই আমার সাধ্য। আর লোকজন সব আমার মতই সিরিয়াস। কিন্তু এই সিরিয়াসে কিছুই করা যাবে না। যতক্ষণ ফেসবুকের সিরিয়াসনেস আমরা সমাজে প্রভাব না করতে পারবো ততদিন এই দেশে সিরিয়াস হয়ে কোনো কিছুই ছেড়া যাবে না। আর এমনিতে চিন্তা করে দেখেন এই দেশে হিন্দু মুসলমান চাকমা সাওতাল কেউই নিরাপদ না। প্রতিটা শ্বাস নেয়ার সাথে সাথেই মনে হয় বেচে তো আছি। কারন আজকে একটি ইংরেজী পত্রিকা দুটো জাতীয় বাংলা দৈনিক পড়ে হিসাব করে জানলাম মারা গেছে ১৭-১৮ জনের মতো। এর ভেতরে রোড এক্সিডেন্টে ৩-৪ জন। স্কুল টিচারকে ক্লাস রুম থেকে ডেকে নিয়ে খুন। এক জোড়া কানের দুলের জন্য বুড়ো মহিলা খুন। হাউজ ওয়াইফ খুন। আরও কত খুন যার হিসেব থাকে না। ধরি ১০০০ এর মতো খুন হন ৩০ দিনে। ১০ হাজারের

একটি ছেলের কথা

শিরোনাম দেখে চমকে উঠার কিছু নাই। এইটা কোনো রোমান্টিক ছেলের গল্প না বা কোনো ধনীর দুলালের হারিয়ে যাওয়ার গল্প না। বা এইটা ওয়ারফেইজের গানের একটি ছেলেও না আবার সুমনের ব্যান্ড অর্থহীনের অদ্ভুত সেই ছেলেটিও না কিংবা এলআরবির সেই ঘুম ভাঙ্গা শহরের কিশোর ছেলেও না। এই ছেলেটি এমন এক ছেলে যে বাক প্রতিবন্ধী বয়স ১৩-১৪। জামালপুরের ভাষায় এদের বলে থেতলা। কথা জড়িয়ে যায়। ভালো ভাবে কথা না শুনলে বুঝাই দুস্কর এমন এক ছেলের কথা বলছি। যেই ছেলেটি সুদুর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী থেকে বাবার এক্সিডেন্টের খবর শুনে আগত। তার মামার ফোন করছিলো তা শুনে সে নানা বাড়ী থেকে রওনা দিছে। ২৫ তারিখ তার ডাচ বাংলা ব্যাংকের কি জানি একটা স্কলারশীপের এক্সাম। সে ক্লাস ফাইভে প্রতিবন্ধী হিসেবে বৃত্তি পাইছে। ঢাকাতে নেমেই সে দেখে তার মামার ফোন অফ। কে জানি তারে বুদ্ধি দিছিলো তাকে সদর ঘাটে যাবার জন্যে। সে যায় সদর ঘাট কোথাও তার মামা নাই। এদিকে পকেটে টাকাও নাই তার। সারাদিন কিছুই খায় না। সে অবস্থাতেই সে বাড়ীর দিকে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। এক ট্রাফিক পুলিশ তাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দেয়। সেই সুত্র ধরেই সে আসে আমাদের চায়ের দোকানে। হাটতে হাটতে এতো ক্লান্ত