ইউজার লগইন

আহমাদ মোস্তফা কামাল'এর ব্লগ

আমার রবীন্দ্রনাথ : প্রেমে ও প্রার্থনায় - 'বড়ো বেদনার মতো বেজেছো'

অনেকদিন ধরে লেখালেখি থেকে দূরে সরে আছি। আরো নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে - লিখতে পারছি না। এর ঘোরতর দুর্যোগ যেন নেমে এসেছে জীবনে। তবু, আজকে মনে হলো - রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে দু-চার কথা বলার চেষ্টা করি। তাঁকে নিয়ে সবসময়ই কথা বলা যায়, কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না। আজ তাঁর জন্মজয়ন্তী। এই উপলক্ষেই না হয় কিছু বলা যাক।

২.

তরুণদের নবজাগরণ ও কিছু তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন

[তরুণ প্রজন্মের নবজাগরণ নিয়ে একটা ফেসবুক নোট লিখেছিলাম "প্রিয় তরুণ প্রজন্মের প্রতি : ও আলোর পথযাত্রী, এ যে রাত্রি, এখানে থেমো না..." শিরোনামে। লেখাটি এই ব্লগে পোস্ট করেছিলেন রন। খুবই সম্মানিত বোধ করেছি আমি, সন্দেহ নেই। খুব তাৎক্ষণিকভাবে রচিত ওই লেখায় কিছু ভুলভ্রান্তি ছিল, যেগুলো পরে ঠিক করা হয়েছে। ইচ্ছে ছিল, সংশোধন করার পর নিজেই লেখাটি পোস্ট করবো। কিন্তু একই লেখা দুবার পোস্ট করার ব্যাপারে মন সায় দেয়নি। তাই একই বিষয়ে নতুন একটি লেখা নিয়ে এলাম। ]

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ দাবিতে নতুন প্রজন্মের তরুণরা শুধু নিজেরাই জেগে ওঠেননি, জাগিয়ে তুলেছেন সমগ্র জাতিকে। আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য এখনো আসেনি বটে, তবে এ পর্যন্ত অর্জন ঘটেছে বহুবিধ। কয়েকটি উল্লেখ করি :

১. রাজনীতিবিমুখ প্রজন্ম বলে পরিচিত হয়ে ওঠা এই তরুণরা দেখিয়ে দিলেন, তাদের রাজনীতি-সচেতনতা বড়ো বড়ো বুলি আউরানো বুদ্ধিজীবীদের চেয়ে বেশি। কাদের মোল্লার রায় ঘোষণার পর বুদ্ধিজীবীরা হতভম্ব হয়ে বসেছিলেন, আর তরুণরা সংগঠিত করেছেন তীব্র প্রতিবাদ।

কোথায় পাবো তারে

[কতো যে গল্প পড়েছি জীবনে, কতো কবিতা! মনে স্থায়ীভাবে গেঁথে আছে, এরকম গল্প-কবিতা-উপন্যাস-গানের সংখ্যাও কম নয়। সেসব নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু লিখতে গেলে যে আকারে বড়ো হয়ে যায়! ভাবছি, কিছু কথা মন্তব্যে জুড়ে দিলে কেমন হয়? ধরা যাক, মন্তব্যগুলোও এই লেখারই অংশ! শহীদুল জহিরের একটা গল্প নিয়ে কথা বলি আজকে। তবে তাঁকে নিয়ে এটিই শেষ লেখা নয়, পরপর কয়েকটা লিখতে হবে।]

কতিপয় ঘটনার গভীর অর্থ অনুসন্ধান

বিশেষ দ্রষ্টব্য - ১ : ইহা একটি ইয়ার্কি-মার্কা পোস্ট! যাহারা ইয়ার্কি পছন্দ করেন না তাহাদেরকে ইহা পাঠ না করিতে অনুরোধ করা হইলো!

বিশেষ দ্রষ্টব্য - ২ : পোস্টটি ব্লগের নারীকূলকে উৎসর্গকৃত। বিশেষ করে আজকের বার্থডে-গার্ল জয়িতা, এবং জেবীন, লীনা (দিলরুবা), তানবীরা, লীনা (ফেরেদৌস) সহ সেইসব পাষাণ নারীকূলের জন্য, যাদের সাথে পেচ্ছাপেচ্ছি করতে গেলেও ঝাড়ি খেতে হয়!!

----------------------------------------------------------------------------------------------------
যারা পথেঘাটে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন (যেমন আমাদের মীর Smile ) এবং চোখ-কান খোলা রেখে চলেন ( যেমন আমি Wink ), তাদের চোখে যে কতো গল্প, কতো কাহিনী, কতো সুখ-দুঃখগাথা ধরা পড়ে তার ইয়ত্তা নাই। দুঃখের গল্প তো বলিই সবসময়, আজকে দু-একটা মজার ঘটনা বলি।

বৃষ্টি... ছেলেবেলার গান...

বছরের প্রথম বৃষ্টি, আর আমার হাতে কলম উঠে আসবে না, তা কি হয়! এটুকুই তো পারি, আর সব হারিয়ে ফেলেছি। মাদকতাময় শৈশব-কৈশোর-তারুণ্য, সব। এই শহর, এই গ্লানিময়- ক্লান্তিকর শহর, এই মনোটোনাস শহর কোমল অনুভূতিগুলো সব কেড়ে নিয়েছে। এখন কেবল ছুটে চলা, অনির্দিষ্ট ছুটে চলা। এখন কেবল অবিরাম ব্যস্ততা, অহেতুক-অকারণ ব্যস্ততা! বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভেজার আকুলতা থাকলেও উদ্যমটি আর নেই। ব্যস্ত থাকলে হয়তো চোখ মেলে দেখারও ফুরসৎ মেলে না। আজকে একটু ব্যস্ততা কম, তাই ব্যালকনিতে বসে অনেকদিন পর বৃষ্টি দেখা হলো। এমন হঠাৎ বৃষ্টি, এমন হাওয়ামুখর তুমুল বৃষ্টি মনটাকেই এলোমেলো করে দেয়! কতো কথা মনে পড়ে! কতোকিছু...

একটা আনন্দের ব্লগ লিখি

আমাদের জীবন তো নানা বিপর্যয় আর দুর্ভাবনায় ভরা। আজকে আর সেসব কথা না বলি। বরং বলা যাক, আনন্দময় কিছু কথা।

ক্রিকেট আমি ততোটা বুঝি না, যতোটা বুঝলে একটা ম্যাচকে বিশ্লেষণ করা যায়। আজকের ম্যাচটাকেও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও আমার নেই। আমরা জিতেছি, সেটাই বড়ো কথা। হারলে বিশ্লেষণ করার জন্য লিখতে বসতাম না।

খেলা যে সবসময় দেখার সুযোগ হয়, তা নয়। ক্রিকেট বা ফুটবল নিয়ে আমার বিশেষ কোনো উন্মাদনাও নেই। বাংলাদেশ বিশ্বপর্যায়ে ক্রিকেট খেলছে - ভালো-খারাপ যা-ই খেলুক - সেজন্যই এটা নিয়ে আগ্রহ বোধ করি। বাংলাদেশের খেলা থাকলে আবেগও ভর করে। সেই আবেগকে আবার তুঙ্গে নিয়ে যেতে সহায়তা করে আমার লিটল প্রিন্সের হৈ হল্লা, চিৎকার, উন্মাদনা। আমার বাসায় অবশ্য অনেক বাচ্চাকাচ্চা। কোনো-না-কোনো উপলক্ষ্যে আমার ভাইবোনের ছেলেমেয়েরা সব দল বেঁধে হৈচৈ করে। সেটা মাঠের হৈচৈ-এর চেয়ে কম নয়!

জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ১২ মার্চ ২০১২ তারিখে আওয়ামী লীগের ঢাকা বন্‌ধ কর্মসূচি তথা মুড়ি খাওয়া দিবসের সাফল্য কামনা করছি

শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই চমকে গিয়েছেন! কিংবা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন! কিংবা আজকে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়ে টিভির নিউজটা দেখা হয়নি বলে আফসোস করছেন এই ভেবে যে, এত গুরুত্বপূর্ণ নিউজটা দেখা হলো না! না, চমকানোর কিছু নেই। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বা সরকারের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এটা তাদের অঘোষিত কর্মসূচি। ভাবছেন, একটা দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এরকম 'বিরোধী-দলীয়' কর্মসূচি গ্রহণ করে কিভাবে?

আনন্দগুলো যেন অতীতের সম্পত্তি, আর যন্ত্রণাগুলো বর্তমানের...

ইদানিং নানা অদ্ভুত চিন্তা মাথায় ভর করে। এই যেমন, কয়েকদিন ধরে কেবলই মনে হচ্ছে - 'ভালো আছি' কথাটা চিরকালের জন্যে পাস্ট টেন্সের অধিকারে চলে গেছে; প্রতিটি মধুর ঘটনাই যেমন যায়! নিশ্চয়ই ভাবছেন - শুধু মধুর ঘটনাই কেন অতীত হতে যাবে? অতীত তো হয়ে যায় সব ঘটনাই - আজকের বর্তমান, আগামীকাল হয়ে যাবে অতীত, এমনকি এই মুহূর্তের বর্তমান একটু পরই চলে যাবে অতীত কালের দখলে! হ্যাঁ, আপনাদের মতো আমিও সেটা জানি - এই ধরনের চিন্তার প্যাটার্নের সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। কিন্তু কিছু সত্য যেন কখনো-কখনো সবার চোখের আড়ালে থাকে, যেগুলো নিয়ে সম্ভবত খুব বেশি ভাবি না আমরা। অন্তত আমার সেরকমই মনে হচ্ছে আজকাল!

বাণী সমুচ্চয়

সময়টি অস্থিরতার। নানা কারণে মনটা এলোমেলো-তছনছ হয়ে আছে। চারদিকে তাকালে স্বস্তিদায়ক কিছু চোখে পড়ে না! এইরকম অস্থির মন নিয়ে সুস্থির হয়ে বসা আর গুছিয়ে কিছু লেখা কঠিন! এমনিতেও একটানা বেশ কিছুদিন লেখার মধ্যে ছিলাম। একাধিক ঈদসংখ্যার জন্য গল্প-উপন্যাস-গদ্য লিখতে হয়েছে! লিখেছি পত্রপত্রিকার জন্যও। এত লেখার পর একটা অসন্নতাও কাজ করছে লেখালেখি নিয়ে। অথচ কিছু না কিছু লেখার জন্য হাত নিশপিশ করছে। এই লেখাটি আমার বিভিন্ন সময়ের বিক্ষিপ্ত চিন্তার ফসল! চিন্তা তো একমুখী নয়, বিভিন্ন সময়ে নানাদিকে ধাবিত হয়। ফলে এই লেখার বিষয়গুলোও পারম্পর্যহীন, নানাভাবে আমার বিক্ষিপ্ত চিন্তাগুলোকে ধরে রেখেছে!

আলোকবর্তিকা...

অনেকদিন ব্লগে লেখা হয়নি, মূলত ব্যস্ততার কারণেই - যদিও মাঝে মাঝে লেখার কথা ভেবেছি। ভেবেছি, আনন্দময় কোনো অভিজ্ঞতার কথা লিখবো, পড়ে সবার মন-ও আনন্দে ভরে উঠবে! আমাদের নাগরিক জীবন থেকে আনন্দ তো হারিয়েই গেছে, যদি একটা লেখা অনেকের মনে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে - পারে মন্দ কি? আবার, এমন কিছু লেখার কথাও ভেবেছি কখনো কখনো যা পড়ে মনটা কোমল বিষণ্নতায় ভরে উঠবে । না, মন খারাপ করিয়ে দেয়ার মতো লেখার কথা বলছি না, বলছি কোমল অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হবার মতো লেখার কথা। আমাদের যাপিত জীবনের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাগুলো এতটাই রূঢ়, এতটাই কঠোর যে মনটা দুমড়ে-মুচড়ে থাকে সারাক্ষণ। আনন্দিত হবার মতো বা কোমল আচ্ছন্নতায় ভরে উঠবার মতো ঘটনা প্রায় ঘটেই না!

রিক্ত শাখা আবার কবে পূর্ণ হবে

[ উৎসর্গ : দুজন প্রিয় ব্লগার মেহরাব শাহরিয়ার, প্রিয় অনুজ - আমার কবিতালাপগুলো যে খুব পছন্দ করে এবং বৃত্তবন্দী, প্রিয় অনুজ - নিঃসঙ্গ এই তরুণটির লেখা আমাকে মুগ্ধ করে ]

ব্লগে আসার পর এমন কিছু লেখা হয়ে গিয়েছিল আমার, যা হয়তো কোনোদিনই লেখা হতো না এখানে না এলে। যেমন কবিতা বিষয়ক লেখাগুলো। এমনিতে আমি কখনো জীবিত কবিদের কবিতার আলোচনা করি না। কবিরা স্পর্শকাতর, অসহিষ্ণু, অসহনশীল, প্রশংসাকাতর এবং প্রশ্নবিমুখ। প্রশংসার বাইরে একটা অক্ষর বললেই - ‘আপনি কবিতার কী বোঝেন বলে তেড়ে আসেন তারা।‘ ব্যক্তিগত জীবনে এইরকম বিরূপ অভিজ্ঞতা আমার অনেক। স্বভাবতই তাদেরকে নিয়ে কথা বলতে ভয় পাই আমি। কিন্তু ব্লগে এসে সেই কাজটিই শুরু করলাম এবং ব্লগাররা সেটি পছন্দও করলেন। অনেকদিন পর আবার তেমন একটি লেখা, আমার খুব প্রিয় একটা কবিতা- শহীদ কাদরী’র ‘সংগতি’ নিয়ে।

একলা হবার গান

চৈত্র-সঙক্রান্তির রাতটা কাটলো বন্ধুদের সঙ্গে। নতুন নয় ব্যাপারটা, চৈত্রের শেষ রাতটি কবি এবং লেখক বন্ধুদের সঙ্গে কাটানোর একটা অলিখিত নিয়ম আমাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে। বিশেষ কোনো কারণ নেই এর পেছনে, একসঙ্গে অনেক বন্ধু মিলিত হবার একটা উপলক্ষ্য মাত্র। ব্যাপারটা অবশ্য এখন আর শুধু বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অনুজ ও অগ্রজ বন্ধুরাও যোগ দেয় এই আড্ডায় এবং বেশ জমজমাট একটা আড্ডা হয়! বিস্তর হাসিঠাট্টাদুষ্টুমি হয়, হয় তর্ক-বিতর্ক বা গম্ভীর আলোচনাও। অনুজরা তুলনামূলকভাবে অধিকতর প্রাণোচ্ছল, তারাই বেশি করে হুল্লোড় করে, অগ্রজদের বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে। অগ্রজরা - কী আর করবেন - অনুজদের ভালোবাসার অত্যাচার হাসিমুখে মেনে নেন! এবারও সেরকমই হলো। ওরা একেকজনকে গান গাওয়ার জন্য ফাঁদে ফেলতে লাগলো! তাতে যে সবাই খুব বিপদে পড়ে গেলো তা অবশ্য নয়!

রেডিমেড কমেন্ট সংগ্রহ

সবাই খালি সিরিয়াস পোস্ট দেয়! হাসিঠাট্টামশকরা উইঠা গেল নাকি দুনিয়া থিকা? Puzzled Puzzled

বৃষ্টি, বৃষ্টি বিলাস, বৃষ্টি কোলাজ

অনেকদিন পর শহরে বৃষ্টি নেমে এলে ভাবি, কতোদিন পর আজ বৃষ্টি হলো! কতোদিন! কতো কথা মনে পড়ে, কতো স্মৃতি! বৃষ্টি মানেই যেন ছোটবেলা, গ্রামের পথ, মায়ের কোলের মধুময় ওম।

ফিরে আসা, বইমেলা বা উত্থান-পতন বিষয়ে দু-এক ছত্র

অনেকদিন পরে ফিরে এলে নিজের চিরচেনা ঘরটিকেও অনেকখানি অচেনা লাগে, যদিও সেটি প্রায় পরিবর্তনহীন, আর আগের মতোই অনুজ্জ্বল, বৈশিষ্ট্যহীন! সেক্ষেত্রে অনেকদিন পর এসে ব্লগের মতো নিয়ত-পরিবর্তনশীল, কালারফুল, আর আড্ডা-মুখর একটি গণমাধ্যমকে অচেনা মনে হবে, এ আর অস্বাভাবিক কি?