ইউজার লগইন

ইভটিজিং > স্টকিং!

চাইরদিকে ইভটিজিং ইভটিজিং রব। কয়েকটা মানুষ না মরলে মিডিয়ার কখনো কোন জিনিষ নজরে আসেনা। আর মিডিয়ার নজরে না আসলে কখনো অন্য মানুষগুলার নজরে আসেনা। ভাবতেছিলাম ইভ টিজিং বিষয়টা কি আসলে। উইকিতে দেখলাম টার্মটা ইন্ডিয়ান। ইভ নাকি অ্যাডাম এ্যান্ড ইভের সেই ইভ। আর ইভরে ইতিহাসে ক্যামনে দেখা হয়? যে এ্যাডামরে প্রলুব্ধ করছিল। বাহ! আরেকটা হইতে পারে, সহজ সরল বোকা মেয়েমানুষ, যে শয়তানের ডাকে দিনদুনিয়া ভুইলা যায়। তো হয় মেয়েরা খারাপ, তাদের আচরনের জন্যই তারা ইভ টিজিং এর স্বীকার হয়, নাইলে তারা অবলা ইশটুপিড মেয়েলোক, যার কোন মনের জোর নাই। এখন যিনি এই শব্দ আবিষ্কার করছেন তিনি মনে হয় দ্বিতীয় অর্থেই এইটারে বলছেন। তো আমাদেরকে ধইরাই নিতে হবে মেয়েরা অবলা, ভোলাভালা।

অফিসে একটা বিদেশী আসছে কাজ করতে। বাচ্চা ছেলে, জীবনে প্রথম বাইর হইছে নিজের দেশ থেকে, আইসা পড়ছে বাংলাদেশে। সে খুব হাসির কথা বলার চেস্টা করে, কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় তার জোক কেউ কখনো বুঝেনা। তো সেই ছেলে একদিন আমারে বলে, 'তোমাদের এইখানে নাকি ছেলেরা stalk করে মেয়েদেরকে? তোমাকে কেউ stalk করে নাকি?' আমি ভাবলাম এইটা মনে হয় এই ছেলের আরেকটা লেইম জোক, তাই বেশি পাত্তা দিলাম না। একটু পর পোলায় ইংলিশ পেপার নিয়া আসল। দেখি আসলেই বড় বড় হেডলাইনে stalking বিষয়ক জিনিষপাতি লেখা। তো, বাংলাদেশে আইসা ইন্ডিয়ান ইভ টিজিং এর ইংলিশ হইয়া গেছে stalking! একটা বিষয়, সেইটার কত টার্ম কতকিছু! যেই জিনিষটারে আমি এদ্দিন sexual harassment আর assault ভাবতাম, আমাদের সংবাদপত্রের সেইটারে নমনীয় করার আপ্রান প্রচেষ্টা দেইখা আমি যারপরনাই মুগ্ধ!

এখন চিন্তার বিষয় ইভ টিজিং কোনটা? রাস্তায় যাইতে যাইতে কিছু লোক যে ইচ্ছা কইরা গা ঘেইসা হাইটা যায়গা সেইটা কি ইভটিজিং না? কেউ কেউ ভীরের মধ্যে গা ছুঁইয়া দেয়, কিংবা আরো বেশী কিছু। এখন এইগুলা ছোটবেলা থেইকা এত হইছে যে এখন ক্যামন জানি গা সওয়া হইয়া গেছে। আর কমেন্টের কথা তো ছাইড়াই দিলাম। কমেন্ট পাস করা একটি অতীব বিনোদনের কাজ মনে হয়। ছেলে হইলে ঐ স্বাধীনতাটা থাকত, তখন হয়ত বুঝতাম এইগুলার বিনোদনটা কি। মেয়ে বইলা কোনদিন বুঝতে পারিনাই। ছোটবেলা বাসায় ফিরা আইসা দরজা বন্ধ কইরা কানতাম, ক্যান মেয়ে হইয়া জন্ম নিলাম সেই দুঃখে। এখন বড় হইছি, সহ্য ক্ষমতা বাড়ছে, কেউ এইরকম কিছু করলে জোরসে একটা গালি দিয়া আইসা পরি, গা ঘিনঘিন করে কিছুক্ষণ, কিন্তু একটু পরেই ভুইলা যাই। এখন সব ফিলোসফিক্যালি দেখা শিখছি। উদাস হইয়া এনজিও ধর্মী চিন্তাভাবনা করি.. যেই দেশে বেকার লোকের কোন অভাব নাই, রাস্তায় বাইর হইলেই হুদা কামে ফুটপাতে দাঁড়ায়া গুলতানি মারা লোক সংখ্যা কাকের মতই, আর যেই দেশের মোটামুটি অর্ধেক জনসংখ্যা সেক্সুয়ালি রিপ্রেসড অথবা ডিপ্রেসড, সেই দেশে তো এইটা হবেই!

কিন্তু আমি যেইটা প্রত্যেকদিন দেখতেছি সেইগুলা আসলে কিছুই না। আর আমি ঐ মনের জোরটা রাখি এইগুলা পাত্তা না দেয়ার। সব মেয়েতো রাখেনা। ক্যান রাখেনা? মনের জোরটা ক্যান নাই? সুইসাইড কইরা ফেলে ক্যান? এইটা কি মেয়ে বইলা? মেয়ে বইলা তার মনের জোর কম হবে এই ধারনা কোত্থেইকা আসলো? সমাজে জানাইছে। কারন তুমি তো ইভ! তো তোমার মনের জোর কম, তুমি অসহায় অবলা মেয়ে, স্টেইট তোমারে প্রটেকশন দিতেছেনা, মাস্তান তোমারে ধমকাইতেছে, সেই অবস্থায় তুমি দেখলা পেপারে নিউজ আসছে, সব মেয়েরা সুইসাইড করে 'সম্মান বাঁচাতে'! তো তোমার মনে হইল 'সম্মান বাঁচাতে' হলে মরে যাইতে হবে। এইটাও তোমারে কে শিখাইছে? সমাজ। কারন তুমি সুইসাইড করলে সেইটারে গ্লোরিফাই করবে সমাজ, আহা, কি মিস্টি মেয়েটা, নিজের জীবন দিয়ে দিল! তারপর আবার তোমার পরিস্থিতিতে আরেক মেয়ে পড়বে, সে তোমার খবরটা জানত, তাই সেও একি পথ বাইছা নিবে। সমাজ-ই তোমারে ইভ কয়, সমাজ-ই সেক্সুয়ালি ডিপ্রেস্ড বেকার লোকজন বানায়, সমাজ-ই তোমারে 'সম্মান' রক্ষার পথ বাতলাইয়া দেয়।

যাকগা, মেজাজটা খারাপ হইয়া গেল লিখতে লিখতে, একটা আধাখেচড়া চিন্তা মাথায় ছিল। একটা দেশে কিছুদিন ছিলাম, ঐখানে বাসে উঠলে কে টিকেট পান্চ করল, কে করলনা কেউ হিসাব রাখতোনা। ঐখানে দেখছিলাম কিছু হাই স্কুল, ইউনিভার্সিটির পোলাপাইন আছে, যারা স্টুডেন্ট, কিন্তু একটা আইডি আছে যেইটা শো কইরা ওরা টিকেট দেখতে চাইতে পারে। এরা পার্ট টাইম সাদা পোশাকের টিকেট চেকার। ওদের কোন ডিউটি টাইম নাই, যখন বাসে উইঠা কোথাও যায়, তখন যদি কাউরে দেইখা মনে হয় যে টিকেট নাই আইসা জিগায়। মনে হইল সারা দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির কিছু মেয়েদের যদি এইরকম সাদা পোশাকের পুলিশি দায়িত্ব দিয়া দেয়া যাইত তাইলে ভালই হইত। কোন মেয়ে পুলিসের লোক এইটাতো পোলারা জানবেনা, তাই দুই তিনটা যখন ধরা খাবে, তখন আপনাসেই বাকিগুলা আর সাহস পাবেনা। আমার মনে হয় এইটাতে মেয়েরা নিজের ইচ্ছায় আসবে, টাকাও দেয়া লাগবেনা, ভলান্টিয়ার-ই হইতে পারে। এই পদ্ধতি ফুলপ্রুফ না, কারন মাস্তানি করনেওয়ালারা সবাই কোন না কোন নেতার আত্মীয়..কিন্তু মনে হয় যদি এই কাজটা করা হয় তাইলে একটা সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে। মানে হওয়ার কথা নরমালি। আর সবচাইতে বড় ব্যাপার যেইটা সেইটা হইল মেয়েদের মনের জোর বাড়বে। এইটা সবথেইকা ইম্পরটেন্ট। এইগুলিরে ছোটবেলা থেইকা দূর্বল, অসহায় ইত্যাদি ভাবাইতে ভাবাইতে এদের মনের জোর ভাইঙ্গা গুড়া গুড়া কইরা দিছে আমাদের মহান সমাজ। সবার আগে দরকার এদের মনের জোরটা বাড়ানো। তো ওদের হাতে যদি কিছু পাওয়ার দিয়া দেয়া যায়, মনের জোর তো বাড়ার কথা তাইনা? তবে সেইটা করার ঝামেলা হইল, সমাজ একটু বিপদে পইরা যাবে, মেয়েরা তো অবলা, ওদেররে পাওয়ার ক্যামনে দেয়! দূর্বলদের প্রটেকশন দিতে হবে যাতে পাওয়ারফুলরা ওদের উপর অত্যাচার না করে, দূর্বলদের হাতে আবার পাওয়ার ক্যান দিতে হবে?

আচ্ছা আবার মেজাজ খারাপ শুরু হইছে। যাইগা।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শওকত মাসুম's picture


আমরা গত কদিন ধরেই ভাবছিলাম হঠাৎ করে ইভটিজিং আর মৃত্যুর ঘটনা কেন
বাড়লো। পত্রিকাগুলো লিখছে বলে আপনি যেমন বললেন, সেভাবে প্রভাবিত হচ্ছে?
ঘটনা ঘটলে পত্রিকাগুলো লিখবে, সেটাই স্বাভাবিক। নাকি পত্রিকা লিখবে না? এটা
নিয়ে আমরা নিজেরাই আলোচনা করছি। সমাধান পাইনি।
দুর্ঘটনা ঘটবে, অঘটনও ঘটতেই থাকবে। কিন্তু আইন যদি কঠোর হয় তাহলে
প্রকোপ মনে হয় কমবে। আমাদের এখানে এটাই বড় সমস্যা।

সবমিলিয়ে লেখাটা দারুণ।

নাম নাই's picture


আমার এইটা মনে হয় যে পত্রিকার সংবাদ দেখে মেয়েরা প্রভাবিত হয়, তবে এইটাই একমাত্র কারন না। সমাজ মেয়েদেরকে এইভাবে দেখে অভ্যস্ত। একটা মেয়েরে ছোটবেলা থেকে শিখানো হয় তুমি দূর্বল প্রজাতির অংশ। তারপর এই অঞ্চলে মেয়েদের সম্মান রক্ষার্থে আত্মহত্যা করাটা একটা ঐতিহাসিক বিষয়। এখানকার মানুষজন এমনেই ইমোশনাল, তার উপর যখন দেখে যে আরো মেয়েরা করতেছে এই কাজ, তখন প্রভাব তো একটা পরবেই তাইনা? এখন নিউজ হইলে সংবাদপত্র ঐটা ছাপবে এইটাও জরুরী। জিনিষটা একটা প্যারাডক্স মত আসলে। কিন্তু আমার মনে হয় খবর কিভাবে, কোন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখা হল, ঐটাই সবথেকে ইমপর্টেন্ট। আমাদের দেশের খবরওয়ালারা সমাজের মেয়েদের সম্পর্কে যেই দৃষ্টিভঙ্গি ঐটাকেই প্রমোট করে। যেমন ধরেন আজকের প্রথম আলোর সম্পাদকীয়। আত্মহত্যা নাকি প্রতিবাদী! রূপালীরা নিরাপদ হবে! বিপন্ন মেয়ে! এইগুলি লেখার মানেই এইটা ধরে নেয়া যে মেয়েরা দূর্বল, ইনফিরিয়র। আমার মনে হয় মনের জোর একটা বিশাল ব্যাপার। পত্রিকাগুলা এইদিকটা দেখলেই হয়। আত্মহত্যাকে গ্লোরিফাই না করে, আত্মহত্যা কে প্রতিবাদী না দেখায়ে আত্মহত্যা একটা বোকামি এইটা দেখানো কি অসম্ভব? নিউজ যত পড়ি মেয়েদের তত অসহায় মনে হয়। মেয়েরা অসহায় না, এইটা কি প্রমোট করা যায়না? আইন তো কতকিছুরি আছে, আইনের প্রয়োগ না করলে তো আইন হয়ে কোন লাভ নাই।

রশীদা আফরোজ's picture


নাম নাই-এর সাথে একমত।
সম্ভবত ৯৪/৯৫'র ঘটনা। এক মেয়ে রেপড হওয়ার পর ভোরের কাগজে চিঠি লেখে, এখন কি আমার গলায় কলসি বেধে আত্মহত্যা করা উচিত? বেশ তোলপাড় হয়। ভোরের কাগজ এবং পাঠকফোরামের সদস্যরা মেয়েটার পাশে দাঁড়ায়। সেই সময় ভোরের কাগজের সম্পাদক ছিলেন মতিউর রহমান। মেয়েটার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারেও সম্পাদক সাহেব সহায়তা দিয়েছেন। সেই মেয়ের কথা মনে হলে আমি আজও শ্রদ্ধায় নতজানু হই।

মানুষ's picture


মেয়েগুলার আত্মহত্যার প্রথম কারণ তারা রাস্তায় সেক্সুয়ালি হ্যারাস্ড হবার পর সেইটা কাউকে বলতেও পারে না। বললে উল্টা সবাই এ মেয়েরই দোষ খুঁজতে লেগে যায়। এত মানসিক চাপ সহ্য করে তারা টিকে থাকে কিভাবে কে জানে? সাম্প্রতিক কালে ইভটিজিং নিয়া সবাই সোচ্চার হইলেও বিভিন্ন ব্লগে ব্লগে দেই অনেকে ইভটিজারদের হইয়া সাফাই গাচ্ছে। অমুকে কেনু আমারে ছ্যাঁকা দিল, আমুকে কেনু বোরকা পরে না, অমুকের কেনু শর্ট কামিজ পরছে এই টাইপ সব যুক্তি। মেজাজ বিলা হইয়া যায়। ইচ্ছা করে জুতা হাতে বাইর হই। এইসব দুপেয়ে কুকুরগুলাকে জুতা পিটা করতে পারলে খানিক শান্তি পাইতাম।

তানবীরা's picture


আমি নাম নাই এর সাথে একমত। রাইসুদাও এরকম একটা ফেসবুক নোট লিখেছিলেন, আত্মহত্যাকারীদের প্রতি কোন সমবেদনা নয়। আত্মহত্যাকে ধিক্কার দিয়ে সাংবাদিকদের লেখা উচিত পত্রিকায়। আত্মহত্যা ছোট করে দিয়ে গ্রেফতার শাস্তির ব্যাপারগুলো বড় করে দেয়া উচিত যাতে মেয়েরা মনে সাহস পায়। টিজিং এর মধ্যে দিয়েই এশিয়ান কিংবা উপমহাদেশের মেয়েরা বড় হয়ে ওঠে। কিশোরী, বালিকারা অন্যের আত্মহত্যার খবর পরে নিজেরাও এটাতে আগ্রহ বোধ করে। সে বয়সটাতে আমরাও বাবা মা বা ফ্রেন্ডদের সাথে ঝগড়া করে প্রথমে আত্মহত্যার কথাই ভাবতাম। এটা একটা বয়সের দুর্বলতাও। আর একটু বড় হলে মনের ভেতর প্রোটেকশন এমনিতেই এসে যায়।

ডিজিটাল দেশের কি আইয়ামে জাহেলিয়াত অবস্থা। Sad

ঈশান মাহমুদ's picture


আপনার নাম নাই কেন?নাম দিতে সাহস পান নাই? নাকি 'মনের জোর' নাই?তবু ,আপনার পর্যবেক্ষন খুবই বাস্তবধর্মী, হে অনামিকা, আপনাকে 'স্যালুট' করলাম।

নাম নাই's picture


হাহাহা, কি লিখলাম যেইটা লিখতে মনের জোর লাগে! নাম দেইনাই এম্নেই, পরিচিত মানুষজন এড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা কইতে পারেন। লাভ হইছে বইলা মনে হইতেছেনা যদিও, অচেনা লোকজন-ও নাকি চিনতে পারে আমি কে। Sad

মীর's picture


যেই দেশে বেকার লোকের কোন অভাব নাই, রাস্তায় বাইর হইলেই হুদা কামে ফুটপাতে দাঁড়ায়া গুলতানি মারা লোক সংখ্যা কাকের মতই, আর যেই দেশের মোটামুটি অর্ধেক জনসংখ্যা সেক্সুয়ালি রিপ্রেসড অথবা ডিপ্রেসড, সেই দেশে তো এইটা হবেই!

লেখা পৈড়ে ভাল্লাগলো। যুক্তিগুলা অকাট্য। কিন্তু যুক্তিগুলা তুলে ধরছেন সমাজের একটা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সামনে। এইতে লাভ কি? এই লেখাটা যত্ন কইরা (লিখতে লিখতে আপনার অবশ্য খালি মেজাজ খারাপ হয়, যা বুঝলাম; কিন্তু সেইটারে বিশেষ পাত্তা দেওনের কাম নাই, দায়িত্বটা আগে) লেখলে পত্রিকায় অং-বং (মানে অদুরদর্শী ও অপরিণামদর্শী প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয়) না ছাপাইয়া এইগুলা ছাপাইতো। মাইনষের আসলেই লাভ হৈত।

এমুনকি, বুদ্ধিটাও আপ্নে খারাপ দেন্নাই। বাজি ধরতে পারি, মন্ত্রী-আমলাগো মাথায় এইটা কখনো খেলে নাই। ওরা কখনো স্কুলবয়দের সাদা পোশাকে টিকিট চেক কর্তে দেখেই নাই, আইডিয়া পাইবো কৈত্থিকা?

আরো কথা আছে, আইজ-কাল টিজিংটা খুবই ফালতু পর্যায়ে চলে গেছে এক শ্রেণীর পত্র-পত্রিকার কল্যাণে। ওরা এমনভাবে লেখে যে মনে হয়; দেশে কোন সিরিয়াল কিলার জন্মাইছে, যে একটা পর একটা মেয়েরে হত্যা করতেসে এবং পুলিশ-এফবিআই তারে ধরার জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে, কিন্তু ধর্তে পারতেসে না।

'আবার আত্মহত্যা' -এইটা কোন হেডিং হৈল? মানবজমিনটাইপ পত্রিকাগুলার পলিসি মেকারগোরে আবার ইথিক্স পড়ানি দর্কার।

ধুরো, আপনের এইখানে কমেন্টাইতে কমেন্টাইতে আমারো মেজাজ বিলা খায়া গেলো। ভালো থাইকেন। একটা কথা কৈতে পারি, জাগায় দাঁড়ায়া খোমার উপ্রে ঠাডায়া একখান থাবড়া যদি লাগায় দিতে পারেন, তাইলেও কিন্তুক কাম হয়।

নাম নাই's picture


প্রবলেম হইল গুছাইয়া লেখা ব্যাপারটা আমার নাই। পত্রিকায় ছাপার উপযোগী কইরা লেখা আমার পক্ষে সম্ভব না। আর এইগুলা কাউরে অ্যাড্রেস কইরাও লিখিনাই। যখন মনে হয় ব্লগ লিখতে ইচ্ছা করতেছে তখন যা মাথায় থাকে তা লিখি। আর হ, লিখতে গেলে নানান কারনে মেজাজ খারাপ হইতে থাকে। এই কারনে থিসিস নিয়া বিপদে আছি বহুত! তবে মেজাজ খারাপ হইলে সবকিছু ভুইলা গিয়া গলা ফাটায় গান ধরবেন। দেখবেন মেজাজ ঠিক হইয়া গেছে। অ্যাট লিস্ট আমার এইটা কাজে দেয়। আর থ্যান্কস আপনের ঝারির জন্য।

১০

নুশেরা's picture


যথাযথ বলছেন।

যেই দেশে বেকার লোকের কোন অভাব নাই, রাস্তায় বাইর হইলেই হুদা কামে ফুটপাতে দাঁড়ায়া গুলতানি মারা লোক সংখ্যা কাকের মতই, আর যেই দেশের মোটামুটি অর্ধেক জনসংখ্যা সেক্সুয়ালি রিপ্রেসড অথবা ডিপ্রেসড, সেই দেশে তো এইটা হবেই!

আরেকটু বলা যায়, পরিবারেই নারী সদস্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার চর্চা থাকলে এই প্রবণতা বাড়ে।

১১

নাজমুল হুদা's picture


"সবার আগে দরকার এদের মনের জোরটা বাড়ানো।"

১২

জুলিয়ান সিদ্দিকী's picture


মাইয়ারা নিজেগরে মানুষ মনে করবো কবে, কইতে পারেন?

১৩

নাম নাই's picture


মানুষ মনে করনের পরিস্থিতি তো থাকা লাগবরে ভাই। জন্ম থেইকা কন্টিনিউয়াস ঘরেবাইরে যদি 'তুমি মাইয়া, তুমি ইনফিরিয়র' এই জিনিষ ফেইস করা লাগে তাইলে তো আপনেও নিজেরে মাইয়া বাদে মানুষ ভাবতে পারবেননা।

১৪

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


কম্যুনিটি পুলিস টাইপ আইডিয়াটা নগরে কাজ করতে পারে; মফস্বল/গ্রামে যেখানে সবাই সবাইকে চিনে তবু ইভটিজিং চলে, সেখানে কাজ করবে না

১৫

নীড় সন্ধানী's picture


পূর্ব এশিয়ার কয়েকটা দেশে সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রনে এসেছে সাদা পোষাকের পুলিশ দিয়ে। ঢাল তরোয়াল নিয়ে পান খাওয়া পুলিশ দিয়ে কোন দেশে অপরাধ নিয়ন্ত্রন হয়নি।

তবে ওটা চালু করতে গেলে বেড়ায় ক্ষেত খাওয়া পুলিশ ছেকে ফেলতে হবে সবার আগে। শুধু ইভ টিজিং না, সব ধরনের ছুটকা অপরাধ কমে যাবে।

১৬

রন্টি চৌধুরী's picture


পত্রিকাগুলোর ভুমিকা খুবই দরকারী। যা করছে তারা সেটা ভালই হচ্ছে। আজকে ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে একটা বিশাল ব্যাপার ঘটে যাচ্ছে সেটা অনেকের চোখে বাড়াবাড়ি লাগতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশে স্টকিং এর রূপটা ভয়াবহ যে একে আর স্টকিং বলা চলে না। সুইসাইডের নিউজ গুলোই মানুষের চোখ খুলে দিচ্ছে, তাতে করে দেশের কোটি মানুষ ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে ঘৃনার অবস্থান নিচ্ছে, আমি নিশ্চিত এতে করে দেশের তরুনপ্রজন্মের একটা অংশ, যারা মুলত ষ্টাকার, এবং মাত্রা ছাড়া স্টাকার বা ইভটিজার, তারা নিরুতসাহিত হবে, এবং বাড়াবাড়ি কিছু করতে ভয় পাবে।

প্রত্যেক দেশেই এমন সমস্যা আছে, মেয়েদের রাস্তায় উত্তক্ত করা। সেটাকে লোকজন স্টাকিংই বলে, রাস্তায় কেউ পিছে পিছ হাটলে বলে স্টাকার পেয়েছিল রাস্তায়। কিন্তু একই ষ্টাকার একই মেয়েকে বারবার ষ্টাক করলে সেটা আর স্টাকিং থাকে না, এটা হয়ে যায় সিরিয়াস অফেন্স হ্যারাসমেন্ট, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট। উন্নত বিশ্বে এটি একটু কম হয়। ষ্টাকার এক একটা সমাজে স্টাকিং স্বাভাবিক উপাদান, হ্যারাসমেন্ট ক্ষতিকর। অনেক উন্নত দেশে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট কঠিন হাতে হ্যান্ডল করে যার ফলে ষ্টাকাররা সচরাচক সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট করতে ভয় পায়। আজকের খবর দেখুন, ইংল্যান্ডে পাচজন পাকিস্তানীবৃটিশ নাগরিককে ৩২ বছরের জেল দিয়েছে যারা ৪ জন টিনএইজারকে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট করেছে ।
আমাদের দেশে তেমন উদাহরন কোথায়?

একটা এলাকায় তরুনদের মধ্যে কিছু তরুন থাকে বেপরোয়া, যাদেরকে তাদের বাবা মা নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। সেই তরুনরা নিজেদের ভবিষ্যত কেয়ার করে না, সারাদিন ষ্টাকিং করে, এবং বাড়াবাড়ি করে। যে ফ্যামিলির মেয়েদের ভাই নাই, তারা এ তুরনদের অত্যাচার সহ্য করে যায়। যে ফ্যামিলি নিরীহ তাদেরও সহ্য করতে হয়। রাস্তায় মেয়েকে আটকায়, প্রেম ,প্রস্তার করে অসভ্যতা করে, কিন্তু মেয়ে কি বলবে? ফ্যামিলিও কিছু করতে পারে না, অগত্যা মেয়েকে স্কুলে পাঠানো সাময়িক বন্ধ করে। তাতে করে যদি ওই ছেলে ওই মেয়েকে ভুলে যায় তাহলে বাচোয়া। কিন্তু এটা কি সমাধান?

আমার নিজের চাচাত বোনকে একবার এক বখাটে ঝামেলা করেছিল। সচরাসচ আমাদের ফ্যামিলির মেয়েদের সাথে পুলাপান ঝামেরা করে না, যেহেতু আমাদের কড়া হিসেবে কিছু দুর্নাম আছে তাই। কিন্তু ওই পুলা করেছিল, আমরা নিয়মমাফিক ওই ছেলের পরিবারে বিচার দিলাম কিন্তু কিছুই হল না। উল্টো পরদিন ছেলে বোনকে বলে বিচার দিছ কেন কি হবে? ছেলে আসলে জানত ওর ভাইবোন নেই।
পরে বাধ্য হয়ে ওই ছেলেকে গিয়ে রাম পিটনা দিতে হয়েছে :পি ।
কিন্তু যে ফ্যামিলি রাম পিটনা দেবার মত ভাই নাই তারা কি করবে?
তাদের করা উচিত কমপ্লেইন। পুলিশে। কিন্তু সেই কালচার আমাদের দেশে ছিল না। সবাই কলংকের ভয়ে, ঝামেলা এড়ানোর ভয়ে তা করতে যেত না।
ইভটিজিং এর আজকালের আন্দোলনের কারনে এখন ইভটিজিং এর স্কীকার ফ্যামিলি আর এই ম্যাটারটা নিয়ে অভিযোগ করতে লজ্জা পাবে না। আর পুলিশও এটাকে সিরিয়াসলি নিবে। যার ফলে এই প্রথাটা অনেক কমে যাবে বলে আমার ধারনা।

যারা আত্মহত্যা করছে তাদের ডিসিশানকে সম্মান করার কোন উপায় নাই। বখাটে উটতপাত করলেই সুইসাইড করতে হবে এটা খুবই নিচুশ্রেনীর একটা ভাবনা। কিন্তু হয়ত আমাদের দেশের কিছু মেয়েদের মানসিক গঠন এখনও এত শক্ত হয় নি। এটাও আমাদেরই দ্বায়। আমাদেরকেই এই সমস্যা সমাধান করতে হবে।
পত্রিকায় ইভটিজিং নিয়ে এইসব নিউজে হয়ত ইভটিজিং এর স্বীকার মেয়ে সমাধান খুজে পাবে, সাহস পাবে এবং তখন তাদের মাথায় সুইসাইডের চিন্তা আসবে না।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ইভটিজিং নিয়ে দেশের এমন আন্দোলনে মুগ্ধ। দেশের মানুষ সচেতন হচ্ছেন প্রতিনিয়ত এটাই তা প্রমান করে। বেশীদিন আগে নয়, কয়েকবছর আগে যখন দেশের ওভারঅল শিক্ষার হার খুব কম ছিল তখনকার অবস্থা আর এখনকার অবস্থার ফারাক অনেক। অনেক পরিবর্তনই খুবই পজিটিভ। ইভটিজিং নিয়ে নিউজ এবং প্রশাসনের উদ্দ্যোগ, স্কুলগুলোর র‌্যালি। চমতকার ভাবে চলছে ইভটিজিং বিরোধী কার্যকম।

১৭

রন্টি চৌধুরী's picture


সাদা পোষাকে মহিলা পুলিশ কিন্তু অনেকদিন ধরেই ডিউটি দেয়।

১৮

রন্টি চৌধুরী's picture


মাসুম ভাই এর কমেন্ট ধরে বলতে চাচ্ছি,
আমার মনে হয় সাম্প্রতিক সময়ে খবর প্রকাশের পরে ইভটিজিং আরও বেড়েছে তা একেবারে ঠিক না। এখন এগুলো লাইমটাইটে এসেছে। সুইসাইড আগেও মেয়েরা করেছে হ্যারাসমেন্টের স্বীকার হয়ে, তখন মেয়ের পরিবার লজ্জায় একে মায়ের সাথে অভিমান করে সুইসাইড, পরীক্ষায় খারাপ করায় সুইসাইড, বোনের সাথে ঝগড়া করে সুইসাইড এমন নাম দিয়ে দিত।

প্রায় প্রতি সপ্তাহেই লোকাল নিউজপেপারে মায়ের সাথে আভিমান, পড়াশোনায় খারাপ করে, বোনের সাথে ঝগড়ায় সুইসাইডের নিউজ পাওয়া যায় বা যেত।

১৯

রন্টি চৌধুরী's picture


খবরে কাগজে আত্মহত্যার নিউজ খুব ছোট আকারে আসে।
বরগুনায় এক কিশোরী সুইসাইড করলে সে নিউজ ভেতরের পাতায় এককলাম দুই ইন্চিতে আসবে। এখন ইভটিজিং একটা ফোকাসড আইটেম বলেই এখন এইসব সুইসাইড লিড নিউজ হিসেবে লাল কালারে আসছে।
আমাদের এভাবে একেকটা সামাজিক সমস্যার ইস্যু ফোকাসড করে জড়সুদ্ধ উপড়ে ফেলা উচিত।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.