ইউজার লগইন

আমি

আমি এখন পর্যন্ত কাউকে শত্রু বলে মনে করতে পারলাম না। হ্যা, কিছু মানুষ আছে/ছিল যাদের আমি সযত্নে এড়িয়ে চলি, আবার কিছু আছে যাদেরকে দেখলে একটা রাগ/ক্ষোভ/বিরক্ত মেশানো অনুভূতি হয়, মাঝে মাঝে ঠাস করে মেরে বসার ইচ্ছাটা জোর করে হজমও করতে হয় - তবে এরা কেউ আসলে আমার শত্রু না। যেকোন মানুষের পক্ষেই পুরোপুরি খারাপ হওয়াটা একটা প্রায় অসম্ভব কাজ। কোথাও না কোথাও তো তারা ভাল মানুষ। আর বিশেষ করে আমার সাথে যাদের ইতিহাস কোথাও না কোথাও জড়িয়ে আছে তারা মোটামুটি সর্বজনগ্রাহ্য ভালমানুষ। এবং এই ইতিহাস খন্ডগুলোর প্রতিটাতেই আমি হলাম দ্য ভিলেইন। খারাপ মানুষটা। যে কিনা এখনো কোন বীরপুরুষ হিরোর অভাবে দিব্যি সবার চোখের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিন বছর আগে একটা ঘটনা ঘটল, না, একটা না, অনেকগুলো ঘটনা একেবারে পরপর অত‌্যন্ত দ্রুতগতিতে ঘটে গেল, এবং ঘটে যাবার পরবর্তি আঘাতগুলো সামলাতে সামলাতে আমি এই এইটুক জীবনের একটা গভীর সত্য জেনে গেলাম। সেটা হল, একটা মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করতে খুব বেশিদিন লাগেনা, ৬ মাস যথেষ্টর থেকেও বেশি। আর সেই ভাঙ্গা টুকরোগুলো আর কোনদিন ঠিকমত জোড়া দেয়া যায়না, সবসময় কোন না কোন টুকরো খসে পড়তে থাকে আর বাকি জীবনটা খসে পড়া টুকরোকে আবার জোড়া দিতে দিতে কেটে যায়। তো যাই হোক, সেই ভয়াবহ দুর্যোগকালে আমি একটা জিনিষ খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম - মানুষ আসলে যার কন্ঠ জোড়ালো (আরেকটা ব্যাপার আছে অবশ্য, যে তার মদ্যপানের সঙ্গী হবে) তার পক্ষে থাকতে পছন্দ করে। কিছু মানুষ যাদের বন্ধু মনে করতাম, যাদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিয়ে কাটিয়েছি, তারা নির্দ্বিধায় আমাকে নিয়ে কটুকথা, সোজা বাংলায় কুটনামি করতে শুরু করল অন্য কোন আড্ডায়। বাঙ্গালীর গন্ডী সেই প্রাচীনকাল থেকেই একটুখানি, তাই অবধারিতভাবে কে কোথায় আমাকে নিয়ে কি বলল, সব অবলীলায় আমার কাছে পাচার হতে শুরু করল। আমার মধ্যে তখন আত্মবিশ্বাসের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই, একটা অসুস্থ নেশার মধ্যে পড়ে গেলাম আমি এই পাচারকৃত গল্পগুলোর। অনেক পরে যখন বুঝলাম এই কথাগুলো আমাকে আরো ভেঙ্গে ফেলছে, তখন গল্পগুলোর উৎস থেকে নিজেই সরে এলাম।

সেই মনভাঙা সময় পার হয়ে বেশ তিন বছর পার করে এসেছি। এখনো মাঝে মাঝে ঐ সময়ে কারো ছুঁড়ে দেয়া কোন একটা পাথর ধাঁই করে কানের পাশ দিয়ে চলে যায়। তবে কষ্ট এখন আর ঐ ছয়মাস নিয়ে নেই। তবে ঐযে বন্ধু মনে করতাম, আর পরে আবিস্কার করলাম যে তারা আসলে কারোরই বন্ধু হতে পারে না, তাদেরকে দেখলে আপনা আপনি যে একটা কঠোরভাব চলে আসে মনে, সেটা আর কাটিয়ে উঠতে পারিনি। প্রেম আর বন্ধুত্বের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য হল, প্রেমের ক্ষেত্রে শুধু একটা মানুষ জড়িত থাকে, যা ভালমন্দ সব সেই একজনেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বন্ধু নামধারীরা যখন ভাঙা সময়ে হাতুরি বাটাল নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে আরো ভাঙার খেলায়, তখন জগতের যত বন্ধু আছে তাদের সবার প্রতি বিশ্বাস খানিকটা টলে যায়।

যাই হোক, এরপর আমার আর কোন নতুন বন্ধু তৈরি হয়নি। তার যে কোন দরকার নেই সেই উপলব্ধিটাই আমার জীবনের এই পর্বের একটা বড় শিক্ষা। আমার কাছের লোকজন বলতে মোটে চার-পাঁচজন, এরা আমাকে জানে। আমার জন্য এটুকুই অনেক বেশি। পুরোনো বন্ধুরা কখনোই আমার পাশ থেকে উধাও হয়ে যায়নি, শত মনোমালিন্য, শত পার্থক্য থাকা স‌ত্ত্বেও আমার মতন একটা আপাদমস্তক অপদার্থ মানুষকে এই অল্প কয়েকজন একেবারে পাখির মতন আগলে রেখেছে সব বিপদে, সব সংকটে। আমি কিছুতেই বুঝতে পারিনা ক্যানো! আই অ্যাবসোল্যুটলি ডু নট ডিসার্ভ দিস।

লেখাটা লিখতে চেয়েছিলাম শত্রু বিষয়ে। কোন একটা উপসংহারে পৌঁছবার কথা ছিল, কিন্তু কথার তোড়ে কোথায় এসে পড়লাম! আর কি উপসংহার তাও একদম ভুলে গেছি। এখন আর কিংকর্তব্য, আবার যদি কখনো মনে পড়ে তখন লিখবো।

পোস্টটি ১৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জেবীন's picture


- যেখানে তুমি ভিলেন প্রতিপন্ন হলে সেখানেও কাহিনী সম্পূর্নতা পেতে বীরপুরুষ হিরোর উপস্থিতি সব সময়েই প্রয়োজন?

- একটা মানুষকে মানসিকভাবে ভাঙতে বাইরের লোক লাগে না, কাছেরজনরাই তা করে, কারণ বাইরের লোকে জানতেই পারে না কিসে কষ্ট পাবে কেউ!

- সবকিছুই দেখি শিক্ষনীয়! মানে কষ্টকর পরিস্থিতির মাঝে পড়েছে বলেই না জেনেছ, নতুন করে বন্ধুর প্রয়োজনহীনতার ব্যাপারটা জানতে পারলে!!

নাম নাই's picture


বারে, বীরপুরুষ হিরো না থাকলে ভিলেইন তো সারা জীবন বেঁচেবর্তে থেকে বাকিদের গায়ে জ্বালা ধরায়ে ঘুরে বেড়াবে। যেভাবে আমি ঘুরতেছি এখন। এইটা কি ঠিক?

আর শিক্ষনীয় তো বটেই। এইসব শিক্ষা পাইতে পাইতেই একদিন মরে যাব, এইটা একটা আজিব ব্যাপার। এই শিক্ষা কাজে লাগাবার জন্য হলেও তো আরেকবার জন্মাবার সুযোগ পাওয়া উচিৎ সবার!

মীর's picture


আমারও সবসময় এরকম হয়। লিখতে চাই একটা কিছু। শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে যায় অন্যকিছু।

এরপর আমার আর কোন নতুন বন্ধু তৈরি হয়নি। তার যে কোন দরকার নেই সেই উপলব্ধিটাই আমার জীবনের এই পর্বের একটা বড় শিক্ষা।

বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমিও ভাবতেসি কয়দিন ধরে। আমার মনে হয়, ভাল বন্ধু দরকার আছে। আজাইরা বন্ধু আসলে একটা বিরাট সমস্যা। তারচেয়েও বড় সমস্যা হলো, ভাল আর আজাইরা বন্ধু ঠিকঠাকমতো রিকগনাইজ করতে পারা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, মানুষ ভুল বন্ধু পছন্দ করে। আমি তো আজীবনই ভুল বন্ধু চুজ করে করে আসছি। এখনও করতেসি। আমার মতো লোকদের ক্ষেত্রে আসলে আপনার উপলব্ধিই সঠিক। বন্ধুর কোনো দরকার নাই।

আইরনিটা দেখেন, এই আলাপটা হচ্ছে এমন একটা ব্লগে যেটার নাম আমরাবন্ধু Big smile

রাসেল আশরাফ's picture


বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, মানুষ ভুল বন্ধু পছন্দ করে। আমি তো আজীবনই ভুল বন্ধু চুজ করে করে আসছি। এখনও করতেসি। আমার মতো লোকদের ক্ষেত্রে আসলে আপনার উপলব্ধিই সঠিক। বন্ধুর কোনো দরকার নাই।

কথাটা পছন্দ হয়েছে।

মীর's picture


ধন্যবাদ Smile

টুটুল's picture


উমম...

তানবীরা's picture


ভুলে থেকে কিছু না শিখে আবার ভুল করার নামই জীবন

জ্যোতি's picture


সারা জীবনই বোধ হয় কেটে যাবে কিছু না কিছু শিখতে শিখতেই। জীবন সবসময়ই কিছু না কিছু শেখাতেই থাকে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.