ইউজার লগইন

আশ্চর্য মেঘদল

আজকাল বাংলা লেখা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন ধরে একটা নস্টালজিয়ার মধ্যে আছি, তাই একটা কিছু লেখার জন্য মন একটু তাগাদা দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু আমার ব্রাউজারের অদ্ভুত আচরনের ফলে বাংলা লেখা এখন প্রচুর সময়সাপেক্ষ, এতো কষ্ট করতে এখন আর ভাল লাগেনা। বুড়ো হয়েছি।

আমি কাল আর আজ মিলে টানা অনেক পুরোন গান শুনলাম। গত কয়েক বছর ধরে স্মৃতিগুলির কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টায় গান শোনা একরকম বন্ধই করে রেখেছিলাম। নিজের একটা রোবট মোড চালু করে রেখেছিলাম, একটা অকারন দৌঁড়ে নিজেকে নিযুক্ত করে রেখেছিলাম, জানালা দরজা সব শক্ত করে খিল দিয়ে রেখেছিলাম, যাতে পুরোন কোনকিছুর আলো বন্ধ জানালা দিয়ে কোনভাবেই ঘরে ঢুকতে না পারে। মানে লিটরেলিও কিন্তু, জানালা বন্ধই রাখতাম, দিনে বের হতে ইচ্ছা করতো না, ইন ফ্যাক্ট বেরই হতে ইচ্ছা করতো না, দিন আর রাত। আর এই ব্যাপারটা কাউকে বুঝানো বড়ই হ্যাপা। আর আজকাল চারপাশে টক্সিক পজিটিভিটি দেখতে দেখতে সবাইকে অচেনা লাগে। কারো সাথে কিছু শেয়ার করার জো নাই, সবাই নিজ নিজ মোটিভেশনাল স্পিচের ঝাঁপি খুলে বসে। তাই নিজেকে আরো গুটিয়ে নেয়া।

যাক, ভাবলাম এখানে একটা নতুন ব্লগ খুলে বেনামে লিখবো, কিন্তু দেখা যাচ্ছে ব্লগ খুলতে গেলে যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য লগ করতে হবে। কি একটা অবস্থা! ওয়ার্ডপ্রেসে হয়তো খোলা যেত, কিন্তু সেখানে বাংলা লেখাটা এতো সহজ নহে।

একটা সুন্দর কথা মনে পড়লো তাই সেটা লিখতে ইচ্ছা করলো। বহু বছর আগে, একজন মানুষ যে কিনা পরবর্তিতে আমার একটা পরম আশ্রয় হয়ে উঠেছিল, আমাকে একটা গান পাঠিয়েছিল। সে এক অদ্ভুত সময়, দুজনের জীবনের ক্রান্তিকাল, দুজনেই খুব একটা মনের কথা খুলে বলতে পারিনা, আমি অস্থির, তবে সে অত্যন্ত সুস্থির। দুজনের অন্যতম কাজ কোন ভাল গান শুনলেই সেটা অপরজনকে পাঠানো। সেই বিভ্রান্ত সময়ে আমার ইয়াহু মেইলে একদিন এলো 'আকাশ মেঘে ঢাকা'। আমার মনে আছে পরের কয়েক দিন আর রাত ছিল এক চন্দ্রাহত সময়। তখন এমপিথ্রি প্লেয়ারের যুগ, প্লেয়ারে এই গান, আর কানে ইয়ারফোন নিয়ে আমি ঘোরলাগা চোখ আর নিশিতে পাওয়া মন নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম রাস্তায় রাস্তায়। তখন বয়স অনেক অল্প ছিল, অনেক বড় বড় ঝড়ঝাপ্টা সামাল দেয়ার সামর্থ ছিল, তাই ডিপ্রেশনের অতল খাদে পড়ে যাবার তুমুল সম্ভাবনাকেও পাত্তা না দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলাম সেই খাদের কিনার ধরে। মনে হয়না বিষয়টা এখন ঘটলে সেই ঝুঁকি নিতাম, কিংবা নিলেও, ঝড় সামাল দিতে পারতাম না, ঠিক খাদের একেবারে নিচে পড়ে চুরমার হয়ে যেতাম।

সেই গান অনেক অনেক কাল পর আজ আবার শুনলাম। সেই সময়টা মনে পড়ে গেল, যখন কানে হেডফোন গুঁজে মেঘদলকে সঙ্গে করে ঠান্ডায় হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে ধবধবে সাদা বরফের মধ্যে দিয়ে হেঁটে হেঁটে পার হচ্ছিলাম রেক্সহ্যাম নামক এক নতুন শহরের পথগুলি, যে শহরে আমার জন্য কোন মায়া ছিলনা, শুধু ছিল অনেক অনেক অভিযোগের তীর। জীবনের প্রথম দেখা তুষারপাত আমার কাছে কোন ম্যাজিক মোমেন্ট হয়ে আসেনি, বরং নিজের ভিতরটা কেমন করে হিম শীতল করে জমিয়ে রাখতে হয়, রেক্সহ্যামের সেই তুষার আমাকে তাই শিখিয়ে দিয়েছিল।

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


কত দিন পর আপনার লেখা পড়লাম!
এখনও সেই আগের মতোই অদ্ভুত লাগে আপনার লেখাগুলো। অল্পবয়সের ঝড়ঝাপ্টা সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে যা বললেন তা যে কত বড় সত্যি তা হাড়ে হাড়ে টের পাই আজকাল। কেন যে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনের ক্ষমতাও কমতে থাকে!
শুভেচ্ছা নিরন্তর Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.