ইউজার লগইন

নাম নাই'এর ব্লগ

দিনের প্যাচাল ৪৫

আমার বন্ধুবান্ধব আমাকে সারাজীবন টিউবলাইট ডাকে। আমি অনেককিছু বেশ খানিকটা দেরিতে বুঝি, এইটার কারনে। কৌতুহলের অভাব আছে আমার। আমি সমস্যা নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি, বরং ভাবতে ভাবতেই চুলটুল সব সাদা করে ফেলছি, কিন্তু কেউ সেধে এসে সমস্যা নিয়ে আলাপ না করলে ওর জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে আমি সাধারনত ভাবিনা তেমন একটা। আমি নিজে খুব একটা গোপন করতে জানিনা ব্যাপারস্যাপার, কোন এক কারনে মানুষজনকেও সারাজীবন সেইরকম ভেবে আসছি। বেশিরভাগ লোকজন আমার মতন নাঈভ কিংবা নির্লিপ্ত না, তারা দুইয়ে দুইয়ে চার মিলায় তারপর সেটা দিয়ে অনেককিছু বুঝেটুঝে বসে থাকে, আমি ঐ দুইটাই কখনো চোখে দেখিনা, কিংবা দেখলেও হাতের মুঠায় ভরে রাখিনা আরেকটা দুই পেলে এক করার জন্য। তাই এখনো যখন হঠাৎ করে কোন একটা কাছের বন্ধু কিংবা অন্যকিছু ভাবা মানুষের কোন একটা বড় ব্যাপার বুঝে ফেলি যেটা হয়তো অনেক আগেই বোঝা যেত তখন বিরাট ধাক্কা খাই। একটু আগে এইরকম একটা ধাক্কা খাইল

দিনের প্যাচাল ৪৪

দম আটকায় আসতেছে। একজনের একটা দূরবীন আছে। দূরবীনটাকে ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু একটা দূর্বল মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে ইচ্ছা করেনা। আমি দূর্বল মানুষ পছন্দ করিনা। অন্যকে বুঝতে পারা বলে একটা ব্যাপার আছে, এইটা তাদের ডিকশনারিতে নাই। মরলে আসলেই সব সমস্যার সমাধান। ভয়ে ভয়ে প্রতিটা পা ফেলতে হবেনা আর। একদিন দম আটকেই মরবো।

সবকিছুকে পজ করে রাখলাম। ভালবাসা, ভবিষ্যৎ। একটা ব্যাপার থেকে মুক্তি দরকার। মুক্তি পাওয়া সহজ হবেনা মোটেও। কিন্তু যুদ্ধটা করতেই হবে। আমার আটকে থাকতে ভালো লাগেনা। আমার কাছে আটকে থাকার থেকে মরে যাওয়া ভালো। আমার সাথে অনেক অনেককাল কাটানোর পরেও কেউ কেউ এই জিনিষটা বিন্দুমাত্র বুঝতে পারেনা। ব্যাপারটা বেশ কৌতুকের।

সব ঝামেলা শেষে একদিন মুক্ত হবো, তারপর ব্যাকপ্যাকটা কাঁধে তুলে পরিচিত পৃথিবীটাকে বাইবাই দিয়ে একটা অপরিচিত জায়গায় চলে যাবো। এই আমার জীবনের লক্ষ্য এখন।

দিনের প্যাচাল ৪৩

মাঝে মাঝে মনে হয় যাকে নিয়ে দিনরাত ভাবা হয় সে যদি একবার বলতো, ওই, এতো চিন্তার কিছু নাই, আমি পুরাপুরি তোর, এখন নিশ্চিন্তে ঘুমা...তাইলে মনটা পুরাপুরি শান্ত হয়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারতো। সেই এক-ই অস্থিরতা, এক-ই আকুলতা যখন অন্য কারো মধ্যে দেখা যায় নিজের জন্য, আর নিজের মন হয়ে যায় বিভ্রান্ত, তখন খারাপ লাগে। নিজে যাকে পছন্দ করি সেও নিশ্চয়ই ঠিক একই বিভ্রান্তি আর অস্বস্তিতে আছে আমাকে নিয়ে, এইটা মনে হয়। আরেকজনকে এই ধরনের ঝামেলায় ফেলতে তো কারো ভালো লাগার কথা না। হয়তো লাগে কারো কারো, আমার লাগেনা।

দিনের প্যাচাল ৪২

দিনটা ঠিকঠাক গেলো। অনেকদিন পর! এই কারণেই মনটা ভালো লাগতেছে। কি এক অবস্থা, এখন ঠিকঠাক দিন গেলেই খুশি লাগে!

দিনের প্যাচাল ৪১

গত সপ্তার কোনো একটা দিন

বিকালবেলা একা থাকাটা মন খারাপকে হাত ধরে বাসায় নিয়ে আসার মতন। আজব আজব কারণ এসে হাজির হয় মন খারাপের। একজন আমার কারণে মন খারাপ করে বসে আছে অন্য কোথাও, তার জন্য....একজন বন্ধুর হাতটা ধরে বসে আছে আইসিইউতে, তার জন্য....একটা মেয়ে চুপচাপ সামনের বারান্দাটায় বসে আছে গিটার নিয়ে, তার জন্য....একজন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে একটা চাকরির জন্য, তার জন্য....একজন সারা দুপুর একটা ফোনের অপেক্ষার পর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেছে, তার জন্য....একজন ভিনদেশে প্রচন্ড ব্যস্ত, আপনজনের জন্য মন খারাপটাকে ভুলে থাকতে, তার জন্য...একজন বাসায় বসে আছে, তার মেয়েটা তাকে ছেড়ে চলে গেছে, আর ফিরবেনা বলে, তার জন্য....

দিনের প্যাচাল ৪০

১০ তারিখ

বয়স বেড়ে যাইতেছে, অনেককিছু দিয়েই বুঝি আজকাল। তার একটা হইলো আজকাল সুমনের গান অনেক ভালো লাগে। এমন না যে অন্জনের প্রতি টান কমে গ্যাছে বা এই ধরনের কিছু, কিন্তু আগে যেইরকম সুমন শুনলেই মনে হইতো বুড়াদের গান, আজকাল আর সেইটা মনে হয়না...মনে হয় আরে, ব্যাটা তো আমার কথাই বলতেছে! অঞ্জন-ও আমার কথা বলে। সুমন-ও বলে। বড় হইসি, আবার ছোট-ও আছি। খারাপ না এই ব্যাপারটা।

দিনের প্যাচাল ৩৯

বুয়া এসে ঘুম ভাঙ্গায় আজকাল। খুব একটা গভীর ঘুম যে আজকাল হয়না তা টের পাই দরজাজানলা বন্ধ করে ঘুমানোর পরেও কলিং বেলের প্রথম আওয়াজটাতেই যখন ঘুমটা ভেঙ্গে যায়। ঘুমঘুম চোখে দরজাটা খুলে দিয়ে আবার বিছানায় এসে ঘুমাবার চেষ্টা। তারপর ছাড়াছাড়া কিছু বিচ্ছিন্ন ঘোর। ঘন্টাখানেক পর বুয়ার চলে যাওয়ার সময় হলে আবার উঠে দরজা বন্ধ করি। তারপর শুরু হয় দিনের যুদ্ধ। দিনের সবথেকে খারাপ সময় এখন ঘুম ভাঙ্গার ৩০ সেকেন্ড পরের সময়টা। ৩০ সেকেন্ডে ধীরে ধীরে মনে পড়ে সামনে একটা সারাদিনের যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রতিপক্ষ যখন অন্য মানুষ, যেটা এতোকাল ছিলো, তখন আসলে ব্যাপারটা বেশ সহজ। কিন্তু নিজের প্রতিপক্ষ যদি নিজেকেই হতে হয়, তখন আসলে ব্যাপারটা অনেক অনেক অনেক কঠিন।

দিনের প্যাচাল ৩৮

আজকাল লেখায় পাইছে আমাকে। যেখানে সেখানে লেখা। জিমেইলে অসংখ্য ড্রাফটস, ফোনে অসংখ্য নোটস, কোটি কোটি স্টিকিতে ব্যাকাত্যারা হাতের লেখায় কিছু লাইন্স। বেশিরভাগই ইমোশনাল ক্র্যাপ। আজকে সবগুলা স্টিকি একসাথে করে ফেলে দিয়ে আসলাম বাস্কেটে। ড্রাফটস আর নোটস যেহেতু চোখের আড়ালে থাকে, আর একবারে তাদেরকে বিদায় করার কোনো উপায় নাই তাই তারা আপাতত বেঁচে আছে।

দিনের প্যাচাল ৩৭

আমার সমস্তকিছুই অনেক পুরানো ধ্যানধারণার...একটা নির্ধারিত প্যাটার্নেই ঘুরপাক খায় সব চিন্তাভাবনা। এই কারণে আমি অন্য মানুষকে খুব বেশি বুঝিনা। স্বার্থপরতার সবথেকে ভালো উদাহরনটা আমি। এইটা তৈরী হইছে আসলে অনেক ধীরে ধীরে, কোনোরকমের সেইফটি নেট ছাড়া চলতে চলতে। যখন তুমি জানো যে তুমি বিপদে পড়লে তুমি একেবারেই একা, এমনকি পরিবারপরিজন-ও তোমার পাশে এসে দাঁড়াবেনা কোনভাবেই, কিংবা তারা চাইলেও তুমি দিবানা...তখন নিজের মধ্যে গুটায়ে থাকা ছাড়া আর কিছু মাথায় আসে কিনা জানিনা...হয়তো আসে, অন্য কাউকে পাইনাই এখনো এইরকম। আমার সমস্ত চিন্তা আত্মকেন্দ্রিক সেইটা আজকাল বেশি বেশি টের পাচ্ছি...আর ক্যামন জানি ছোট হয়ে যাচ্ছি নিজের কাছে। এইটা ভালো কথা না...স্বার্থপর মানুষজনের নিজের কাছে ছোট হবার কোনো স্পেইস নাই...নিজের কাছে যাতে ছোট না হতে হয় এই জন্য সে আবারো খুবই স্বার্থপর কোনো একটা কাজ করে ফেলবে। আমি সেই কাজটা খুঁজতেসি

দিনের প্যাচাল ৩৬

শোকে কাতর অবস্থা। সারাদিন ছিল প্রচন্ড মন খারাপ, একটু পরপর-ই মনে হয় বুকের মধ্যে টং করে কিছু একটা বিঁধে যাচ্ছে। দোস্তকে বিদায় দিলাম বেশ গম্ভীর মুখে। বাসায় পৌঁছে লিফটে ওঠা মাত্রই এত্তো বুড়ি ধামড়ি মেয়ে হুহু করে কান্না শুরু করলাম। তারপর ঘরের কাজ করি আর কাঁদি। একটু আগে কমলা খাইতে খাইতে যখন ফুপায়ে ফুপায়ে কানতেছি তখন পুরা ব্যাপারটা আরেকটা মানুষ হয়ে দেখার চেষ্টা করলাম, আর এমন হাসি পেয়ে গেলো যে বলার না। গপগপ করে একটা মানুষ কমলা খাচ্ছে আর ফোপাচ্ছে, গাল বেয়ে কান্না - এর থেকে হাস্যকর আর কিছু হইতে পারে?

দিনের প্যাচাল ৩৫

গত দুই বছর ধরে তিল তিল করে একটা শিল্ড বানাইছিলাম নিজের চারপাশে। বিশাল শক্তপোক্ত শিল্ড। ধুরুমধারাম করে ইটা, পাত্থর, লোহা, ম্যাগনেশিয়াম অ্যালয় ইত্যাদি এসে পড়তো ঐটার উপর মাঝে মাঝেই, কিন্তু আমি নিশ্চিন্তে নিজের মনে থাকতাম, আমার শিল্ড আমাকে সবকিছু থেকে বাঁচায় দিতো। নিজে এতোই মুগ্ধ ছিলাম নিজের কারিগরী দক্ষতায় যে কখন হঠাৎ করে সেই শিল্ডে একটা ফাটল দেখা দিলো টের-ই পাইনাই। খুব তাড়াতাড়ি সেইটা বড় হয়ে গ্যালো, তারপর যখন হঠাৎ করে বাইরের ঝড়-বৃষ্টি, সাইক্লোন, সুনামি সব উড়ায়ে আর ভাসায়ে নিয়ে যাইতে শুরু করলো তখন বুঝলাম যে ব্যাটা শিল্ড বিট্রে করসে। পুরা উপলব্ধিটা হইতে একটু টাইম নিছে, আজকে ঠান্ডার মধ্যে ছবির হাটে চুপচাপ হাঁটতে হাঁটতে পুরা ব্যাপারটা বুঝলাম আস্তে আস্তে। এখন খুব তাড়াতাড়ি ফিক্স ইট মোডে যাবো। শিল্ডটা মেরামত করতে হবে। দুর্যোগ পিড়ীত হইলে আমি ক্যামন জানি থতোমতো, জবুথবু একটা জড়ভরত হয়ে

দিনের প্যাচাল ৩৪

অফিসে যাচ্ছি আজকাল। যতটুক সময় থাকি গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। গভীর মনোযোগ দিতে পারিনা, মনোযোগ থাকে অন্য কোথাও। কাজটা মনের পছন্দ না। আমারো না। আর কিছুদিন এই কষ্টটা করবো, যদ্দিন না পাহাড়ে কোন গতি হয়।

sadfasdfa

অফিসে যাচ্ছি আজকাল। যতটুক সময় থাকি গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি। গভীর মনোযোগ দিতে পারিনা, মনোযোগ থাকে অন্য কোথাও। কাজটা তার পছন্দ না। আমারো না। আর কিছুদিন এই কষ্টটা করবো, যদ্দিন না পাহাড়ে কোন গতি হয়।

দিনের প্যাচাল ৩৩

ঢাকা কলেজের উল্টা দিকের মার্কেট আমার পরিচিত মেয়েদের খুবি প্রিয় জায়গা। আমারো প্রিয়। কারন ঐখানে সস্তায় ভাল ভাল কাপড় পাওয়া যায়। কিন্তু এই প্রিয় জায়গায় আমি যতোবার-ই যাই খালিহাতে ফেরত চলে আসি। একটা কারন এ্যাতো এ্যাতো জিনিষ থাকলে আমার মাথায় গোলমাল হয়ে যায়। দুই বান্ধবীর এক্স বয়ফ্রেন্ডদের কথা শুনলাম, তারা দুইজনেই নাকি শুধু ধূসর আর কালো কাপড় কিনতো। কারন তাতে কোনটার সাথে কি এইসব চিন্তায় সময় কম নষ্ট হয়। এই বুদ্ধি আমার পছন্দ হইছে। দেখলে মনে হবে এক জামা-ই পরি প্রতিদিন, সেইটাও একটা মজা। আচ্ছা, দ্বিতীয় কারনটা হইলো, ঐ মার্কেটে ঢোকার ঠিক সাত মিনিটের মধ্যে আমার মাথা ধরে যায়। মাথার মধ্যে একটা চাপ চাপ ব্যথা নিয়ে আমি ঘুরতে থাকি আর একরকমের ভয় আর বিভ্রান্তি নিয়ে কোটি কোটি রং আর ডিজাইনের কাপড় দেখতে থাকি। তবে ওখান থেকে বাইরে বের হবার পর প্রথম নিশ্বাসটা যে কি আরামের ঐটা শুধু আমি-ই জানি। আজক

দিনের প্যাচাল ৩২

সম্পর্ক না থাকার পরেও সম্পর্ক ভাংতেছে এইরকম একটা মন খারাপ মন খারাপ অনুভূতিটা বেশ মজার। হাসিও পায়, আবার কষ্টও লাগে, যেহেতু মন খারাপ। হাহা।

আজকের গান 'বারান্দায় রোদ্দুর'। ঘুম থেকে উঠে শোনা শুরু করলাম তারপর সারাদিন মাথায় ছিলো। এখনো আছে। মনের যেই মুড সুইং চলতেছে তাতে তাকে আনন্দের গান দিয়ে ভুলায়ে রাখার আপ্রান চেষ্টা করতেছি। এই গানটা খুব যে আনন্দের তা না, তবে মজার তো। গলা ফাটায়ে 'তোমার দেখা নাই রে, তোমার দেখা নাই!' গাওয়ার সময় বেশ খুশি খুশি লাগে। হাহা, অথচ দেখা না থাকাটা তো খুশির না। এই কারনেই গানটারে এতো ভাল পাই।