ইউজার লগইন

নাম নাই'এর ব্লগ

দিনের প্যাচাল ৩১

কিছু কিছু শব্দ অত্যন্ত (সন্ধি বিচ্ছেদ মনে পড়ল, অতি + অন্ত) রুড লাগে। 'ফুটলাম' তার মধ্যে একটা। এইটা রুড লাগার কোন কারন নাই, খুবি প্রচলিত শব্দ। আজকে সারাদিন ভাবতেছিলাম কি কি কারনে এই শব্দ আমার রুড লাগে। অনেক ভাইবা যেইটা বুঝলাম সেইটা হইলো, এই শব্দটার মধ্যে একটা, 'আই ডোন্ট গিভ এ ড্যাম এবাউট ইউ, গেলুমগা' ব্যাপারটা আছে। মানে আমার কাছে মনে হয় আর কি। তবে পোলাপাইনের মধ্যে যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা এই বিদায়ী ভাষনটার, তাতে মনে হয় আমার অনুমান ঠিক-ই আছে। নিজেও শুরু কইরা দিবো কিনা ভাবতেছি। তবে সমস্যা হইলো আই ডু গিভ এ লিটল ড্যাম। Stare ...এই পরিস্থিতিতে আসলে কিছু করার থাকেনা।

দিনের প্যাচাল ৩০

কয়েকটা শট আর কিছু আধা ঘুমন্ত কথাবার্তার পর যেই কথাটা মাথায় নিয়ে ঘুমাতে গেলাম সেটা হলো, কেউ যদি অবলিগেইটেড হয়ে আমার জন্য কিছু করে, সেটা চরম তিতকুটে একটা বিষয় হয়। আর আমার তিতা জিনিষপত্র অপছন্দ।

দিনের প্যাচাল ২৯

ক্লাস এইটে অংক ম্যাডামের নাম ছিল মাহমুদা। ওনার ছিল ইয়া লম্বা চুল। তাকে নিয়ে আমার যা স্মৃতি তার সবটাই হইলো তিনি চেয়ারে আরাম করে বসে আছেন, আর আমাদের দুই তেলবাজ ক্লাস ক্যাপ্টেন তার সেই লম্বু চুল হয় আঁচড়ে দিচ্ছে নাইলে বিলি কেটে দিচ্ছে। অংক করাচ্ছেন এইরকম কোন স্মৃতি নাই। সবাই তার বাসায় গিয়ে অংক করতো। আমি যাইতাম না অবশ্য। ক্লাস এইটে অংকে টাইনাটুইনা পাস করলাম। সেই কারনে আমাকে সায়েন্স নিতে দিলোনা। এমন না যে আমি তখন সায়েন্স, আর্টস কোনোটাই পড়তে খুব একটা আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু আমার বাপমার হার্টব্রেক হইলো, সায়েন্স না পড়ার কারনে আমার ভবিষ্যৎ যে আঁধারের চেয়েও অন্ধকার এই বিষয়টা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার আগ পর্যন্ত বারংবার আমাকে তারা মনে করায় দিতো।

দিনের প্যাচাল ২৮

আজকে দুপুরের দিকে অফিসের সামনের রাস্তার পাশের ফুটপাথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে ভাবতেছিলাম হিংসা ব্যাপারটা জীবন থেকে বিদায় করে দিবো। অপ্রয়োজনীয় একটা জিনিষ এইটা। তারপর রাতের বেলা একা একা ফ্ল্যাটটার এই মাথা থেকে ঐ মাথা কানে আইপড নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে মনে হলো আরো একটা ব্যাপার জীবন থেকে বের করে দিতে পারলে একদম নির্ভানা পাইয়া যাইতাম। সেইটা হইলো মন খারাপ নামক একটা বিতিকিচ্ছিরি ব্যাপার।

একটা বোর্ডিং পাস দরকার। মনটা ভালো হইলেও হইতে পারে।

দিনের প্যাচাল ২৭

স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার...এ্যান্ড স্প্রিং নামক এক ফিল্মের কথা অনেকে বলে প্রায়ই। আশেপাশের প্রত্যেকের-ই এইটা দেখা। কোন এক কারনে কোরিয়ান ছবি আমার দেখা হয়নাই একদম। এইটার কারন হইতে পারে অনেক আগে কেউ একজন আমাকে কোন একটা কোরিয়ান ফিল্মের ট্রেইলার দিছিলো, সেইটা দেখে মনে হইছিলো কোন প্যাকেজ নাটকের ট্রেইলার দেখতেছি। তারপর বোধহয় আরো কিছু এইরকম ট্রেইলার দেখসিলাম। আমি ধুমধাম স্টিরিওটাইপ করে ফেলি, তারপর অবশ্য নিজেই অল্পসময় পরে বুঝি যে স্টিরিওটাইপ করতেছি, এইটাই স্বান্তনা।

দিনের প্যাচাল ২৬

মনের উপর বেশ সবুজ চাদরের মতন শ্যাওলা পড়ে আছে। একধরনের শ্যাওলা আছে চারপাঁচটা গোল গোল পাতা মিলে একটা সবুজ রঙের ফুল হবার ভান করে থাকে, ওই শ্যাওলাগুলা। যেহেতু এই শ্যাওলাগুলি আমার অনেক অনেক পছন্দ, তাই আমি ইচ্ছা করেই এদের সরাই না। মাঝে মাঝে কেউ এসে একটু সরায় খানিকক্ষণের জন্য, আর আমি তখন একটু রোদ্দুর আর আকাশটা দেখি...তারপর সেই কেউ টা চলে গেলে আবার আস্তে আস্তে ফাঁকা জায়গাটাকে আশপাশের সবুজ শ্যাওলাগুলি এসে ঢেকে দেয়। আমি চুপচাপ বসে থাকি। অলস তো, শ্যাওলার নিচে নিজেকে লুকায়ে রেখে পলাতক পলাতক ভাব নেই।

দিনের প্যাচাল ২৫

একটা মজার ব্যাপার আছে। সেটা এই মুহুর্তে লিখতে ইচ্ছা করতেছেনা। তাই লিখলাম না এখন।

ঠান্ডাটা কমা শুরু হইলো মনে হয়। রোদ্দুরটা দিনকে দিন একটু একটু করে নিজেকে শক্তিশালী করতেছে কুয়াশা খেয়ে খেয়ে। ব্যাপারটা ভাল। তবে বেশি শক্তিশালী রোদ্দুর আবার চরম বিরক্তিকর। অগাস্ট মাসে যেই রোদ্দুরটা নামে। জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন পুরা।

উত্তরার দিকে অনেকদিন যাইনা। কালকে হঠাৎ যাওয়া পড়ল। পথে দেখি রাস্তাঘাট কাইটেকুইটে ফ্লাইওভার বানানোর তোড়জোড় চলতেছে। এইটা সেই বিশাল ফ্লাইওভার প্রজেক্ট। ভূমিকম্প হইলে আরেকটা জিনিষ মাথার উপর ভেঙে পড়ার জন্য তৈরি হইতেছে। খুশির খবর।

দিনের প্যাচাল ২৪

শীতে মোটামুটি আনকমফর্টেবলি নাম্ব অবস্থা। যত ভারী ভারী জিনিসপত্র আছে বের করে ফেলসি, এখন সেগুলা একটার পর একটা গায়ে চাপায়ে ঘুরি, তাও রক্ত জমাট বেঁধে যেতে চায়। উত্তরবঙ্গে লোকজন মারা যাচ্ছে ঠান্ডায়...আজকে পত্রিকায় দেখলাম আমাদের আবহাওয়াবিদরা নাকি বলছিল যে এইবার খুব একটা ঠান্ডা পড়বেনা, এখন ঠান্ডা পড়তে দেখে তারা অবাক! তাদের অবাক হওয়া দেখে আমি পাল্টা অবাক, কবে ওনারা যা বলছেন তা ঠিকঠাক হইছে?

দিনের প্যাচাল ২৩

zen হবার সংগ্রাম শুরু আবার। মাঝখানে অল্প কিছুদিন অস্থিরতায় গ্যালো, একটু হারায়ে গেছিলাম, তবে 'হারিয়ে যাওয়ার মানেই হলো, নিজেকে আবার খুঁজে পাওয়া' সূত্রানুযায়ী আমি নিজেকে ফিরে পাইলাম, এবং আস্তে আস্তে আবার zenlike অবস্থায় ফিরতেছি। আশেপাশের মানুষগন, যা ইচ্ছা করতে থাকো, আমি কোনকিছুতে আর বিচলিত হবোনা।

দিনের প্যাচাল ২১

স্বপ্নের মধ্যে রং দেখা যায় কিনা সেটা নিয়ে নানানজন নানান কথাবার্তা বলে। কেউ কেউ বিরাট বিজ্ঞানী টিজ্ঞানীর রেফারেন্স এনে প্রমান করে যে স্বপ্নে রং দেখার কোনই অবস্থা নাই, স্বপ্ন আসলে সাদাকালো। আবার কিছু পাবলিক আছে তারা স্বচক্ষে চোক্ষু মুদে রঙিন স্বপ্ন দেখছে বলে দাবী করে। আমার অবশ্য এই বিষয়ে তেমন কোন উত্তেজনা নাই, স্বপ্ন রঙিন হোক আর সাদাকালো, ভাল জিনিষ হইলে এই শো দেখতে আমার কখনোই কোন আপত্তি থাকেনা। তবে স্বপ্নে কখনো রং দেখছি বলে আসলে আমার মনে পড়ে না। আবছা একটা ধারনা থাকে যে এই জিনিষটা এই রঙের। উজ্জ্বল কোন রং চোখে জ্বলজ্বল করতেছে এইরকমটা কখনো হয়নাই স্বপ্নে।

দিনের প্যাচাল ২০

বালিহাঁস আর বক প্রায় একিরকম দেখতে। দুইটাই সাদা। দুইটারি লম্বা গলা। বালিহাঁসের গলা বোধহয় একটু ছোট। তবে বালিহাঁস হইলো অতিথি। আর বক ঘরের লোক। আমরা দুইজনকেই মেরে ফেলি। আমরা অতিথি না। ঘরের লোক-ও না। আমরা অন্য কেউ।

পানকৌরী ছিল ছোটবেলায় প্রিয় পাখি। নামটা সুন্দর লাগতো। এখনো লাগে। সবথেকে সুন্দর দেখতে পাখিটার নাম অবশ্য মাছরাঙা। শুধু রাঙা হইলে আরো ভালো হইতো। রাঙাপাখি!

দিনের প্যাচাল ১৯

মন ভাল্না।

দিনের প্যাচাল ১৮

কাজের অবস্থা সঙ্গিন। সারারাত জেগে বসে থাকি, কাজ নামক জিনিষটার কাছাকাছি যাইতে পারিনা। এইদিকে অফিস থেকে ঘোষনা দেয়া হইছে বুধবার থেকে অফিস হাজিরা দিতে হবে। তবে তারা আমাকে অফিস আনতে পারলেই খুশি, তাই কোন টাইম বেঁধে দেয়নাই। এইটা আগে যখন অফিস যাইতাম তখনকার সিস্টেম। যেকোনো টাইমে ঘুম থেকে উঠে রওনা দেয়া যাবে। কিন্তু বাসায় বসে কাজ করাটার একটা মজা আছে, যখন ইচ্ছা একটু গড়ায়ে নেয়া যায়, ইচ্ছামত চা বানায়ে ফেলা যায়, কাজ করতে করতে ধাম করে একটা সিগ্রেট ধরায়ে ফেলা যায়। সুখের দিন শেষ!

দুইদিন ধরে ঠান্ডা লেগে আছে। সাইনাসটা জ্বালাচ্ছে অনেক। একজন কালকে উপদেশ দিল উইড নাকি সর্বশ্রেষ্ঠ সমাধান সাইনাসের জন্য। এ্যামেরিকা-ইউরোপের নানান রেফারেন্স টাইনা সে বুঝাইলো যে এইটা ছাড়া আমার গতি নাই। আরেকজন আজকে একটা আয়ুর্বেদিক অষুধের কথা কইলো। আমি দুইটার ব্যাপারেই সমান উৎসাহী। এনিথিং টু গেট রিড অফ দিস যন্ত্রনা।

দিনের প্যাচাল ১৭

জার্নি নামে একটা ব্যান্ড আছে, ৮০র দশকের রকব্যান্ড। এদের গান আমার শোনা হয়নাই কখনো। মানে এইদিক ঐদিক শুনছি, কিন্তু ওইভাবে মন দিয়ে শুনিনাই কখনো। তিনদিন আগে ওদের একটা গান শুনলাম, 'don't stop believin'', পুরা লুপে পড়ে গেছি। টানা শুনতেইছি শুনতেইছি, অবস্থা এমন যে আইপডে নিয়ে নিছি যাতে ঘুমাতে গিয়েও শুনতে পারি। আর গুনগুন চলতেছে 'just a small town girl, livin' in a lonely world, she took the midnight train goin' anywhere' ....'streetlights people, living just to find emotion, hiding somewhere in the niiiiiiiiiiiiiiiiiiiiiiiiiight'...

দিনের প্যাচাল ১৬

একটা চাকরি চইলা গেল আজকে। মন একটু উদাস, হিসাব করার চেষ্টা করতেছি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ব কিনা। কিন্তু ইচ্ছা করতেছেনা হিসাব করতে। যা হবার হবে, এতো ভাইবা কি-ই বা হইছে জীবনে। তবে এইটা চইলা গিয়া একদিকে ভাল হইছে। বড় যেই কাজটা ফেলে রাখছিলাম, ঐটা শেষ করা যাবে এইবার। তারপর আরো বড় কাজ হাতে নিতে হবে। ডিসেম্বর হইল ডেডলাইন! সময় নাই সময় নাই!

অফিস জায়গা পরিবর্তন করল গত সপ্তাহে। এখনো নতুন অফিসটা দেখা হয়নাই। এইটা আমার বাসা থেকে দূরে। এমনেই অফিস যাইনা, এখন আরো না যাবার ব্যবস্থা হইছে আর কি।