ইউজার লগইন

এ টি এম কাদের'এর ব্লগ

নরকের কীট

একদা কি করে জানি
কিছু নরকের কীট
মর্ত্যে নেমে এলো !
পৃথিবীর সবচে উর্বর
মাটিতে করলো ঘর ।

তারপর---------
দিন মাস বছর—
কেটে গেল বহুদিন !
অতঃপর একদিন
বিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মে
ওদের দেহে
অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গজালো
অবিকল মানুষের !

এবং
ওরা মিশে গেল মনূষ্য সমাজে !
কিন্তু-----------
মানুষ হলোনা !
নরকের যাবতীয় দূষণ
রয়ে গেল ওদের শিরায় ।
পৃ্থিবীর কোমল আলো-জলে
পরিশুদ্ধ হলোনা একটুও !

মননে শতভাগ ওরা
থেকে গেল নরকের কীট,
যদিও ওদের দাবি
ওরা নাকি রাজনীতিবিদ !

হলুদ হিমু কালো র্য্যাব

- হুমায়ুন আহমেদ বাংলা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক । ‘হিমু’ তারই সৃষ্ট তরুণ প্রজন্মের প্রিয় নায়ক । আর র্য্যাব নন্দিত/ নিন্দিত/ আলোচিত এক বাহিনী । আমি অতি সাধারন একজন মানুষ । কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের কোটি পাঠক-প্রিয় ‘মিশির আলী’ বা ‘হিমু’ তে আমার তেমন আগ্রহ নাই । একজন হার জিরজিরে রুগ্ন বুড়ো কি এক অলীক মন্ত্র বলে দুনিয়ার তাবৎ সমস্যার জঠ ছাড়ান, অন্য জন তরুণ ভবগুরে গোছের । পকেট বিহীন হলুদ পাঞ্জাবী পরে রাত দুপুরে ঢাকার শহর চষে বেড়ান । যত সব আজগুবি চরিত্রের সাথে তার দেখা হয়ে যায় । তার উদ্ভট আচরণ, উল্টাপাল্টা কথাবার্তা, নির্লিপ্ত ভাব র্য্যাবের মতো কিলার বাহিনীর ( অ্যামনেষ্টি, বুদ্ধিজীবি ও শেখ হাছিনা বিরোধী দলে থাকা সময়ের মতানুসারে ) হাত থেকে শুধু প্রাণে বেঁচে যায়না, নিজের জন্য ভক্তি-শ্রদ্ধা ও আদায় করে নেয় । বাস্তবতা বর্জিত কল্প-কথা, জীবন-জীবিকা-পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যহীণ এসব কাহিনী

বাঙ্গালীর জাতীয় প্রার্থণা

- ' আমাগো শেখ মজিব আইলে বেবাক ঠিক হ’য়া যাইব’ ! ফুটপাত ধরে হাঁটছিলাম, কচি কন্ঠের কথা ক’টি কানে এলো । দাঁড়ালাম । অপর্ণা চরণ গার্ল স্কুলের (নন্দন কানন) অপজিটে যেখানে এখন ইলেক্ট্রিক মার্কেটটি গড়ে উঠেছে, সেখানটা তখনো খালি । প্রকান্ড কড়াই গাছ ক’টি চার দিকে ডাল পালা মেলে দাঁড়িয়ে । ১ জানুয়ারী ’৭২ এর সকাল । হাড় কাঁপানো শীত । নব বর্ষের সোনা রোদ তখনো কোর্ট হিলের ওপারে আটকে আছে, এপাশে তার উষ্ণ সোনালী ছোঁয়া পৌঁছায়নি । ৮ / ১০ বছরের দু’টি বালক তখনো যাদের নাম পথকলি বা টোকাই হয়নি, কুড়িয়ে পাওয়া কাগজ, ঝড়া পাতা আর ছোট ছোট শুকনো ডালপালা দিয়ে আগুন জ্বেলে শীত তাড়াবার প্রাণান্ত চেষ্টা করছে । কাছে গেলাম । আগুনের দিকে হাত মেলে দিতে দিতে বল্লাম, ‘খুব শীত ! তাইনা’ ? ওরা এ ওর প্রতি তাকাল । তারপর আলতো মাথা দোলালো, যেন এ আপদ আবার কোত্থেকে !

যুদ্ধাপরাধের বিচার

যুদ্ধাপরাধের বিচার ।

প্রতিশোধ

- সবাইকে হতবাক করে দিয়ে পরী বিয়েতে রাজী হয়ে গেল । বর বগা চৌধুরির ছেলে কামাল ওরফে গাল কাটা কামাল । বাপ হাড্ডিসার বকের মতো ছিল বলে ‘বগা’ মিঞা বা বগা চৌধুরী । আর ‘কামাল’ ! লোকে বলে বাপ কা বেটা ! বাপ ৭১ এ ছিল রাজাকার, আগুন জ্বেলেছিল গ্রামে । যুদ্ধ শেষ হবার ক’দিন আগে পরাজয় আঁচ করে স্বপরিবারে হিজরত করে ছিল । বছর দুই টিকিটি দেখেনি কেউ । তারপর কেমন করে জানি সব ম্যানেজ হয়ে গেল । চৌধুরি ফিরে এল গাঁয়ে । লোকের ধারণা চৌধুরীর বড় মেয়ে ‘ডল’ এর ক্যারিশ্মা সব । অমন অস্পরার মতো মেয়ে যার, তার সাত খুন মাফ না হয়ে পারে ! হল ও তাই । সাংসদ নিজেই তার দায়িত্ব নিলেন। আপন অনূজের সাথে ‘ডল” এর বিয়ে দিলেন । ভাই অবশ্য প্রথমে একটু গাঁই গুঁই করেছিল । কিন্তু অমন টসটসে ডালিম ! কারই বা সাধ্য জ্বিবের জল সামলে রাখে !

তুমি ডাকলেনাতো-----

তুমি ডাকলেনাতো, নিঠুর ওগো ! আসছি তবু আসছি ।
তোমার পথে চিরতরে হারিয়ে যেতে আসছি । তুমি ডাকলেনাতো-------

আকাশ পাড়ে হাজার তারা, জেগে থাকে তন্দ্রা হারা,
আপন হারা সে তারাদের কোনটি তুমি হও !
সারাটি রাত তাইতো জেগে খুঁজছি তোমায় খুঁজছি । তুমি ডাকলেনাতো-------

পথের ধুলায় পায়ের চিহ্ন যাওনি কিছু রাখি,
পথের মাঝে তাইতো থেমে আছি !
বনের ধারে সারাবেলা,
ফুল পরীদের বসে মেলা,
আপনভোলা সেই কলিদের কোনটি তুমি হও !
তাদের ছুঁয়ে তোমার ছোঁয়া তাইতো পেতে চাচ্ছি,
ওগো কাছে যেতে চাচ্ছি । তুমি ডাক্লেনাতো--------

টি সি বি'র শাড়ী

[- শাড়ি বাঙ্গালী ললনার চিরকালের বসন । অন্য পোষাকে বাঙ্গালী রমণীর রূপ ঠিক খোলেনা । মানায়ওনা । বাঙ্গালীর জীবনে শাড়ী এবং শাড়ী ওয়ালীর প্রভাব প্রতিপত্তি কম নয় , স্মৃতি ও । খুবই নিম্ন মানের এক খানা শাড়ী নিয়ে আজকের এ লেখা।]

- বাবা থাকতেন কোলকাতা । ওখানে ব্যবসা ছিল । পরিবারের যাবতীয় পোষাক–পরিচ্ছদ, তেল-সাবান, আঁতর-সুরমা আসতো কোলকাতা থেকে । আমাদের আলমিরা, তোরঙ্গ নানা রঙের জামা কাপড়ে ঠাসা থাকতো । ৬৩ সালে হাই স্কুলে ভর্তি হলে বাবা পাঠিয়েছিলেন খুব দামী একটা ঝর্ণা কলম, শেফার্স । বন্ধুরাতো বটে স্যারদের কেউ কেউ হাতে নিয়ে দেখতেন ওটা । ৬৫’র আগে দেশীয় পরিধান পরেছি বলে মনে পড়েনা ।

- বাবা আসতেন ছয় সাত মাস অন্তর অন্তর । যে ক’দিন থাকতেন, আদরে আদরে ভরে রাখতেন আমাদের । মা’র সাথে খুনসুটি লেগেই থাকতো । মা’র কপট রাগ আর বাবার দম ফাটা হাসি আমরা দারুন উপভোগ করতাম ।

লিখিনি তোমায় নিয়ে

লিখিনি তোমায় নিয়ে কবিতা কভু,
রচিনি গানের কলি আঁকিনি ছবি ।
হৃদয়ের একান্ত গোপন পরতে
যত কথা যত ব্যথা ঘুম পারিয়েছি ।

কত যে স্বপ্ন মোর তোমায় ঘিরে,
ও সব তোমায় আজো কহিনি সখী !
মনের মুকুরে নিতি ফোটে যে ছবিরা,
রঙ তুলিকায় আজো নিইনি আঁকি ।

তবু ও তোমায় নিয়ে মনো লতিকায়,
অহোরহো কত যে ফোটাই কুসুম ।
লাজুক কামনা রাঙা পিয়াসী অধর,
পেলব ও ঠোঁটে তব আঁকে নিতি চুম !

যদিও কিছুই আজো হয়নি বলা,
তবু তোমারই পথেই এ পথ চলা ।

ধুসর চিঠি উজ্জ্বল স্মৃতি

ধুসর চিঠি – উজ্জল স্মৃতি
এ টি এম কাদের

- ক্যম্পাস ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে এসেছি প্রায় দু’মাস। বিদায়ের আগে বন্ধুদের সাথে ঠিকানা বিনিময় করেছি । কথা ছিল সবাই যোগাযোগ রাখবে । কেউ কথা রাখেনি । বেশ ক’জনকে লিখে ও সাড়া পাইনি । অনেকটা হতাশ দিন কাটছিল । এক দিন দুপুরে পুকুর পাড়ে হিজল ছায়ায় বসেছিলাম, পিয়ন একটা নীল খাম ধরিয়ে দিয়ে গেল । ছাত্রাবাস থেকে রিডাইরেক্ট হয়ে এসেছে । অপরিচিত হাতের লেখা । বেশ আগ্রহ নিয়ে খুললাম । সুন্দর হস্তাক্ষর । লিখেছে,
- প্রিয় বুলবুল,

মাগো আসবোনা আর

মাগো আসবোনা আর
এ টি এম কাদের

মাগো ! না চাও যদি আসবোনা আর চরণ ধুলা নিতে,
তোমার চরণ তলে শরণ নিয়ে তোমার প্রাণে ব্যাথা দিতে ।
মাগো ! সন্তান য দি কানাও হয়,
জানি, মায়ের কাছে ফেলনা নয়—মাগো,
তোমার বাধলনা মা, মা হয়েও আমারে পর করে দিতে -------
আমায় দূরে ঠেলে দিতে!!!!!!
আমি আসবোনা আর ------------

আমি পরের ছেলে পর মাগো
কেউ নাই আপন এই ভুবনে,
যে জন আমার ছিল কাছের---
সে হারাল অচিন বনে ।
আমি কেঁদে কেঁদে হলাম সারা, নিঠুরা সে দেয়না সাড়া,
তুমিও মা নিঠুর হলে--- পারলে আমায় ভুলে যেতে !!!
আমি আসবোনা আর ---------------------------------!

আমার আকাশে শুকতারা তুমি

আমার আকাশে শুকতারা তুমি জ্বলে র'বে চিরদিন চিরদিন চিরদিন---------------------। আমি ঢেলে যাব খুন হৃদয় চিরে চিরে চিরদিন চিরদিন চিরদিন ---------------------------। হয়তোবা সারা পথ একা একা চলব,
স্মৃতির মিনারে তব শামা হয়ে জ্বলব,
হয়তো নিভেই যাব ক্ষণপর, সব কিছু ভুলে রব অতঃপর,

তবুও তোমার কথা,
তোমায় হারানোর ব্যথা,
ভুলবোনা কোনদিন কোনদিন কোনদিন ।

হয়তোবা এ জীবনে আরো কেউ আসবে, হয়তো হৃদয় দিয়ে সেও ভালবাসবে,

"খত মাল্লাহু আলা কুলুবেহিম"

"খতমাল্লাহু আলা কুলুবেহিম”
এ টি এম কাদের

- পবিত্র ক্বোরানের বাণী । আল্লাহ কিছু মানুষের হৃদয় ও কান সীল গালা করে দিয়েছেন । ভাল কোন কিছু ওদের কানে প্রবেশ করবেনা । শুভ কিছুর জন্য জায়গা নাই ওদের হৃদয়ে । তারা সৎ্পথে ফিরবেনা কখনো । অবিশ্বাসী, বেঈমান-মোনাফেকদের উদ্দেশ্যে এই পবিত্র বাণী নায্বেল হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিবাজ আর তাদের তল্পিবাহকরা ও যে এই একই শ্রেণীভুক্ত তাতে কোন সন্দেহ নাই । গত চার দশকের রাজনীতির কান্ডকারখানা দেখলে তাই মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক !

মাগো তাকে বলো---

মাগো তাকে বলো যেন উঠোন খানি নিকিয়ে রাখে,
আমি তারই কাছে আসবো ফিরে এই কথাটি মনে রাখে ।
সকাল বেলার সোনা রোদের একটুখানি ধরে রাখে,
নিশিথ রাতে হাস্নুহেনার সুবাস বুকে ভরে রাখে ।

শরত প্রাতের শিশির কণা ডাগর চোখে জমিয়ে রাখে,
সাঁঝ রবিটার লাল টুক টুক লালিমাটা গালে মাখে ।
কাল বোশেখির উতল হাওয়ায় হদয় পরাণ জুড়িয়ে রাখে ।
আমি তারই কাছে আসবো আবার এই কথাটি মনে রাখে ।

মাগো তারে বলো যেন সাঁঝ প্রদীপটি জ্বেলে রাখে,
শীতল পাটি পরিপাটি সযতনে পেতে রাখে ।
মেঘলা দিনের ' রিম ঝিম ঝিম' বুকের খোপে লুকিয়ে রাখে,
'বউ কথা কও' বউ পাখিটির 'গোপন কথা' গোপন রাখে ।

আমি ফিরে এসে চাইব সবই এই কথাটি মনে রাখে ।

'প্রেম করা শিখিয়েছি-----'

‘প্রেম করা শিখিয়েছি-----‘

এ টি এম কাদের

প্রেম করা শিখিয়েছি তোকে যে আমি ।
চুপিসারে অভিসারে নিয়েছিও আমি,
তোর বুকে যে হৃদয় ধুক ধুক করে
কান পেতে শোন সেথাও রণিতেছি আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি------- হায় অন্যের হলি !!!

(তোর) অধরে প্রথম চুমু এঁকেছি ও আমি,
(তোকে) শির শির শিহরণে জাগিয়েছি আমি,
তোর খোঁপায় প্রথম ফুল দিল যে অলি ,
স্বপ্নের সে রাজপুত্তুর সেও যে আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি----- কি করে হলি !!!

(তোকে) মিলনের স্বর্গ সুখ দিয়েছি ও আমি,
বিরহের জ্বালা তাও দিয়েছি আমি,
তোর উচ্ছ্বল ছলছল ভরা যৌবনে
খোঁজে দেখ সেখানেও আমি শুধু আমি ।
সেই তুই কি করে যে অন্যের হলি ------ আহা অন্যের হলি !!!

শুধু তুমি

শুধু তুমি

এ টি এম কাদের

প্রত্যূষে ঘুম থেকে উঠে
দাঁত মাঝতে মাঝতে অবাক হয়ে দেখি
বেসিনের স্বচ্ছ গতরে তুমি ফোটে আছো !
আমার হাত থেমে যায় ! অপলক দেখতে থাকি—
তোমার শ্বেত-মুক্তো দাঁত, রক্তিম গাল, লাল গোলাপ ঠোঁট ।
আমার মুখ নেমে আসে, আমি ঝুঁকতে থাকি—ঝুঁকতে থাকি ।

‘ খুট ’ করে শব্দ হয় ।
দোর খুলে কেউ বেরিয়ে যায় বাথ রুম থেকে ।
সম্বিৎ ফিরে পাই । তাড়াহুড়ো ডুকে পড়ি ।
দরজার খিল এঁটে শাওয়ার ছেড়ে দিই ।
জলের শীতল পরশ ! আহা কি কোমল !
মনে হয় তুমিই গলে গলে তরল হয়ে
আমার সমস্ত অবয়বে আদর করছো !
আবেশে চোখ বুজে স্থির হয়ে থাকি !
আমি দাঁড়িয়ে থাকি---দাঁড়িয়ে থাকি !

‘টক টক’ দরজায় টোকা পড়ে ।
সহকর্মী কারো তাড়া ।
তোয়ালে দিয়ে গা মুছতে মুছতে হঠাৎ থমকে যাই !
অবাক বিস্ময়ে দেখি—দেয়ালে লাইফ সাইজের আয়নায়
ক্রমে তুমি পষ্ট হচ্ছো !
তোমার কুন্তল, কপাল, ভ্রু, চোখ, কান, নাক, কপোল,