ইউজার লগইন

অনারেবল প্রাইম মিনিস্টার - ইউ টুক থার্টি মিনিটস - ইউ ডেলিভার্ড নিয়ারলি থ্রী থাউজেন্ডস অব ওয়ার্ডস

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী - আপনার ভাষণখানা শুনেছি - প্রায় হাজার তিনেক শব্দের লিখিত বিবরণী - ত্রিশ মিনিট ব্যাপী আপনার সপ্রতিভ উপস্থাপনা - গণমাধ্যমের বদৌলতে আমাদের শ্রুতিগোচর হয়েছে - চারটি বছর ধরে আপনার সরকারের সাফল্যের কাহিনী আপনি বিধৃত করেছেন - অর্থনীতি - বিদ্যুত - কৃষি - স্বাস্থ্য - শিক্ষা - কর্মসংস্থান - যোগাযোগ - তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির বিবরণ দিয়েছেন - নিজের সরকারকে ক্ষুধা দারিদ্রের ঊর্ধ্বে - ন্যায়ভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে দাবি করেছেন - অসাম্প্রদায়িকতা আর যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে নিজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন - বিরোধী দল ও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেও এক হাত নিয়েছেন - কথা প্রসঙ্গে নিজের মেয়ের সাফল্য তুলে ধরতেও পিছপা হননি - এত গোছানো এক খানা ভাষণের পর জোরালো করতালি বক্তার প্রাপ্য হয়ে যায় - আপনারও হয়ত প্রাপ্য হয়েছিল - কিন্তু ক্ষমা করবেন মাননীয়া - আপনার প্রাপ্য খানা আমরা দিতে পারিনি - চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে পারিনি - দু হাতের তালু ও এক করতে পারিনি - তাতে অবশ্য আপনার কিছু যাবে আসবে না - আপনার চতুর্পার্শ্বে তালু বাজিকরদের (তোষনকারী) অবস্থান এখন অপ্রতুল নয়.

ভুল বুঝবেন না মাননীয়া - আমরা বিরোধী দলের কেউ নই - খাটো পাজামা বা অচ্ছুত সুশীল ও নই - আমরা নিতান্তই অভাজন - শ্রম আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মালিকপক্ষ যাদেরকে শোষণ করে সকাল থেকে সন্ধ্যা - কখনো বা মিশকালো রাত পর্যন্ত - বাজারমূল্যের উর্ধ্বগতি যাদের নাড়ির গতি ক্ষীণ করে দেয় - যাদের সন্তানদের সমস্ত মেধা ভর্তি বাণিজ্যের কাছে মার খায় - ঈদ আর পার্বন যাদেরকে আনন্দ নয় - বরং বর্ধিত খরচের অশনি সংকেত জানায় - জ্বালানির বর্ধিত ইন্ডিকেটর যাদের পায়ের নিচের মাটি আলগা করে দেয় - আমরা সেই অভাগা মধ্যবিত্ত - দা ব্লাডি (?) মিডল ক্লাস.

মাননীয়া - যদি এই বঙ্গ দেশের ইতিহাস দেখেন - যদি রাজপট পরিবর্তনের অনন্য সাধারণ গল্পগাঁথা পড়েন - তবে দেখবেন - লাল সবুজের সকল রঙ্গ খেলার প্রথম বলি আমরাই - কখনো স্বেচ্ছায় - কখনো বা শোষকের যাতাকলে - আবার এই বলিরাই কিন্তু প্রতিবার বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট - কত রাজন্যের পতন হয়েছে আমাদের হাতে - কত রাজন্যকে আমরা তুলে নিয়েছি আমাদের স্নেহ কাঁধে - ইতিহাস একবার পড়ে দেখবেন মাননীয়া.

গত নির্বাচনে আপনি ভোট প্রার্থী হয়ে এসেছিলেন - রীতিমত স্বাপ্নিক এক খানা নির্বাচনী ইশতেহার ছাপিয়েছিলেন - ছিল ডিজিটাল সব প্রতিশ্রুতি - ছিল অঙ্গীকার - ন্যায়বিচার আর সমৃদ্ধির - আমরা জানতে চাই - আজ সেসব কোথায়? প্রশ্নের জবাব দিতে আপনি বাধ্য নন - আবার এক অর্থে জবাব না দিয়ে আপনার উপায়ও নেই - পুঁজিপতিদের কাঁধে মাথা রেখে হয়ত সরকার চালানো যায় - কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে জয়ের নিয়ামক কিন্তু ওই আমরাই.

আমরা ছাপোষা মধ্যবিত্ত - নিরন্ন নই - তবু একবেলা মাছ খেলে - অন্য বেলা হিসেবী হই - মাস শেষে নিরামিষে সন্তুষ্টি খুঁজি - প্রতি বছর নতুন কোট হয়ত সেলাই না - কিন্তু বুক সেলফে নতুন বইয়ের আমদানি কখনো থামিয়ে রাখি না - আমাদের হাড়িতে ভাত আছে ভালো কথা - কিন্তু পড়শীর চুলায় আগুন না জ্বললে সে অন্ন আমাদের কাছে গরলসম মনে হয় - এই হচ্ছি আমরা - সম্পদের বিচারে তুচ্ছ - কিন্তু শিক্ষা - রুচি আর বিবেকের মাপদন্ডে আমরা বড় একরোখা.

মাননীয়া - ভুল বুঝবেন না - আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা- শুধু এই পরিচয়টাই আমাদের কাছে বিরাট কিছু - আমরা অনেক ভালোবেসে - অনেক আশা করে আপনাকে ক্ষমতায় পাঠিয়েছিলাম - কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি - কতিপয় পুঁজিপতি আর তোষনকারী আপনার আপন হলো ? এই যে বঙ্গভূমি - এই যে আপামর জনসাধারণ - তাদের ভালবাসা আর প্রত্যাশা কি আপনার কাছে কোনো মুল্য রাখে না ?

আপনার অর্থমন্ত্রী যখন আমাদেরকে আখ্যা দেন - 'রাবিশ - দা ফটকাবাজ' বলে - আমরা ব্যথিত হই - আপনার 'সোনার (?) ছেলেরা' যখন নিরপরাধ কোনো বিশ্বজিতকে কুপিয়ে হত্যা করে - আমরা তখন শিউরে উঠি - অর্থলোলুপ এক মন্ত্রীর কারণে যখন থমকে যায় দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সেতুর কাজ - আমরা হতভম্ব হয়ে পড়ি - আপনার দুদক যখন সত্য উন্মোচনকারী এক 'সিরাজী' কে হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দেয় - আমরা প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলি - আততায়ীর হাতে যখন ন্যায়নিষ্ঠ সাংবাদিকতার অপমৃত্যু ঘটে - আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি - আর সবচেয়ে কষ্ট পাই যখন দেখি - আপনি এক নোবেল বিজয়ীর সম্মান ভুলুন্ঠিত করেন - নিজের কানকে অবিশ্বাস করি যখন শুনি অর্থপিশাচ এক মন্ত্রীকে আপনি দেশপ্রেমিক বলছেন - আতংকে অস্থির হই যখন দেখি আপনার তির্যক মন্তব্য আততায়ীর রক্ষা কবচ হয়ে ওঠে - তবে কি নেতৃত্ব নির্বাচনে আমরা ভুল করলাম?

প্রিয় বঙ্গবন্ধু কন্যা - আমরা অবুঝ নই - আমরা বুঝি - শাসন ক্ষমতার অবশিষ্ট এক বছরে আপনি পদ্মা সেতু নির্মান করে যেতে পারবেন না - বুঝি বিশ্বজিতকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারবেন না - ফিরিয়ে দিতে পারবেন না 'মেঘের' কাছে তার মা বাবাকে - হলমার্ক কেলেঙ্কারির লোপাট অর্থের পুরোটা হয়ত উদ্ধার করে দিতে পারবেন না - সে দাবি ও আমরা করব না - কিন্তু দোষীদের - তস্করদের - আততায়ীদের নির্মমতম শাস্তি কি আপনি নিশ্চিত করতে পারেন না ?

আমরা বিশ্বাস করি - আপনি পারেন - বিশ্বাস করতে চাই - আপনি ঘৃণ্য নরপিশাচদের শাস্তি নিশ্চিত করবেন - একটি বছর তো এখনো আপনার হাতে আছে - কেন পারবেন না ? আর যদি এই বছরটিও হেলায় যায় - মন্ত্রীদের অর্থহীন অতিকথন যদি শুধুই আমাদের কষ্টের পরিধি বাড়ায় - তবে হয়ত আমরা - আমাদের মত লক্ষ কোটি ছাপোষা মধ্যবিত্ত - 'দা ব্লাডি মিডল ক্লাস' - দ্বিধায় পড়ে যাব - ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে হয়ত বিশ্বজিতের রক্তাক্ত চেহারাখানি আমাদের মানসপটে ভেসে উঠবে - হয়ত 'মেঘের' নিষ্পাপ মুখখানি আমাদের বিবেককে ক্ষতবিক্ষত করবে - তখন যদি আমাদের হাত কেঁপে যায় - মন যদি বিদ্রোহ করে বসে - তবে সে দায় একান্তই আপনার - একবার ভেবে দেখবেন কি প্রিয় প্রধানমন্ত্রী?

পোস্টটি ২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মডারেটর's picture


সরানো হইলো, কারনঃ

গ. "আমরা বন্ধু" তে শুধু নতুন লেখাই প্রকাশিত হবে। পুরনো লেখা রিপোস্ট করা যাবে না। অন্য কোনো কম্যুনিটি ব্লগে প্রকাশিত লেখা এবিতে প্রকাশ নিষিদ্ধ। এবিতে প্রকাশিত কোন লেখা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্য কোনো কমিউনিটি ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না। ব্যক্তিগত ব্লগ এবং পত্রিকা এই নিয়মের আওতার বাইরে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

হাসান আদনান's picture

নিজের সম্পর্কে

কিছু মানুষ জন্মায় - একাকিত্বের বীজমন্ত্র নিয়ে - জীবন তাদেরকে খেলায় - নাকি তারা জীবন কে নিয়ে খেলে - বোঝা দায় - সম্পর্ক - সেটা বন্ধুত্বের হোক - হোক ভালবাসার কিংবা রক্তের - তারা এড়িয়ে চলে - কিংবা কে জানে - বন্ধনে জড়ানোর যোগ্যতা হয়ত প্রকৃতি তাদের কে দেয়নি - অর্থহীন জীবন - মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে ওঠা - তারপর অঘুমো বিভীষিকাময় মুহূর্ত গুলো - তবু কাউকে ডাকা নয় - ডাকার জন্য যে প্রণোদনা লাগে তারা তা হারিয়ে ফেলেছে - শুধু ভোরের প্রতীক্ষা - যদিও জানে - ভোর আসবে না - এসব মানুষের জীবনে ভোর আসেনা- আসতে নেই - প্রসারিত কোনো হাতেই এরা হাত রাখে না - বিশ্বাস এদের নড়ে গেছে শুরুতেই - যেন সিজোফ্রেনিয়ার রোগী - এক বিচিত্র জগৎ - কোনো বন্ধন নেই - ভুল হলো- একটি বন্ধন আছে - থাকে - বিধাতার সাথে - সে বন্ধনে কখনো প্রার্থনা থাকে - কখনো ঘৃণা - কখনো অসম লড়াই - আর কখনো সীমাহীন - ব্যাখ্যাতীত অভিমান (আমি হয়ত এমনই একজন )

hasan_adnan'র সাম্প্রতিক লেখা