রিক্যাপচারিং পাস্ট-৫
'রিভার ক্রুজ' শুনতে মাদকতাময় লাগে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সূর্যধোঁয়া বিকেল যখন একটা হালকা আবরণ ঝুলতে থাকে। নদীটার নাম মনে নেই। সামনে বিশাল বঙ্গোপসাগর - এক তীরে বরগুনা এবং অন্য তীরে পাথরঘাটা, দূরে সুন্দরবনের হালকা বনানী, সমতটের পরে দীঘল ছায়া, আঁধারে - রক্তিমাভায় এক অদ্ভুত বিনুনি। মনে হচ্ছে আকাশের গায়ে লেপ্টে থাকা শুভ্রগুল্ফ নদীর ঢেউয়ে আছড়ে পড়বে। সেবার যখন জীবনের একমাত্র সুন্দরবন যাত্রার জাহাজটির ছাদে লেপ্টে রইলাম ধার করা বাইনোকুলার নিয়ে, আমার কেবল চিৎকার নয়, গলা ফাটিয়ে বলতে ইচ্ছে করলো - জেক্কুসসসসসস গিলিম গিলিম গিলিম। কি এর মানে জানি না, ইচ্ছেমত বাতাসের নীরবতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলাম।
সেই দৃশ্যের তরল রঙ মাখা নকশাটা মাথায় আটকে আছে। তখন মনে হয়েছিলো সম্ভবত এই নিবিড় সৌন্দর্য্য আর প্রগাঢ় প্রকৃতি একবারই দেখা মিলছে। দুচোখকে প্রসারিত করে, দেহ থেকে আলাদা করে দেখছিলাম। কপি করে নিচ্ছিলাম। কোনো এক বষন্তবিরাগ কালে এই অপূর্ব নকশা কাটা ছবিটাকে আমি ফ্রেমবন্দী করবো।
স্মরণের এই অক্ষয় দাগ রচনাকালে এমএ পড়ছি। ক্রুজযাত্রীদের মধ্যে আমাদের ব্যাচের কেউ নেই। একজন সিনিয়র আপার সাথে আমার বন্ধুত্ব ছিলো, ভুলে যাওয়া নামের সেই আপা ছিলেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার ডুপ্লিকেট। গলায়। সিনিয়রদের গ্রুপে তিনি মূল্যবান সম্পত্তি, গানে ও রূপে। কিছুটা নিস্তার পেতে এবং কিছুটা আমার প্রেমে তিনি সে যাত্রাটিকে অসহনীয় আর্তনাদ করে তুলেছিলেন। হালকা চটুল প্রেমের সেই অনুষঙ্গ - চারিপাশের দৃশ্য গিলে খেতে অন্তরায় তৈরী করলো। যার প্রতিশোধ অবশ্য ঠিকই হয়ে গেলো। নামটাও মনে পড়ছে না, অথচ নদীটার কথা অবিকল মনে আছে, প্রতিটা ঢেউয়ের নড়নচড়ন সহ, বন্যার নেই।





অসাধারণ! এ ধরনের একটা অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল- মংলা থেকে সুন্দরবন যেতে! অনুভূতিগুলো কাছাকাছি।
এখন মনে হচ্ছে - একবার মানে আরো একবার এই ভ্রমণটায় যেতে হবে..
এই লেখাটা পড়ে আবারো মনে হলো লেখার ক্ষমতার কী দারুণ অপব্যবহার কৌশিক করে বেশিরভাগ সময়ে।
দারুণ এই পর্বটা
থ্যাংকু বস।
কৌশিক, প্রতিভার এক নিদারুণ অপচয়ের নাম
এই পর্বের কোন একটি অংশের কথা আলাদাকরে উল্লেখ করার উপায় লেখক রাখেনি। প্রতিটি পঙক্তি অসাধারণ।
থ্যাংকু থ্যাংকু। আপনার লেখার আমি মু্গ্ধ পাঠক।
আজকে সকালে সদরঘাট গেছিলাম ছবি তুলতে...সকালে দেখি সব বৃহত্তর বরিশাল এলাকার লঞ্চে ভর্তি। লঞ্চ দেখতে দেখতে আর ছবি তুলতে তুলতে আপনের এই সিরিজের কথা মনে হইতেছিলো।
ইস! সদরঘাট গেলে তো আমার মনে হয় বরিশালই চলে এলাম...ছবি কই বস? ফ্লিকারে দিছেন?
এখনো ছবিগুলি নামাই নাই কার্ড থেইকা। ৩/৪টা ছবি আপলোড করনের মতোন হইছে আর কি...একটা পোস্ট দেওনেরও শখ আছে আমরা বন্ধুতে। গল্প-ছবি-কথার ইন্সটলেশন টাইপ...
ইনস্টলেশন*
তাইলে অপেক্ষা করি পোস্টের। আপনি কোনো হলিডেতে গেলে আমারে ডাক দিয়েন - নতুন ক্যামেরাটার কিছু জিনিস শিখতে চাই আপনার কাছ থাইক্কা।
আগামিকালের কি খবর?
যামু বস। খেলা দেখাটা জমবে।
ওকিজ ডোকিজ!
থ্যাংকু থ্যাংকু। আপনার লেখার আমি মু্গ্ধ পাঠক।
সামুর পরথম দিক থেকেই দেখতেছি আপনার লেখার ক্ষমতা আর আইডিয়াগুলা অসাধারন কিন্তু আপনি সিরিয়াসলি লেখেন না।
থ্যাংকু থ্যাংকু। অনেকদিন পরে আপনারে দেখলাম।
নেটে কম আসা হয়। আসলে ।
আপনার আগুনের পরশমনি সিরিজটা আবার চালু করেন। পিলিজ
সহমত। ওইটা আমারও পছন্দের সিরিজ ছিল।
কৌশিক, সিরিজটা শুরু করেন।
আমার মত নাদানের জন্য সমাজ, রাষ্ট্র, পলিটিকস, সাহিত্য, সাইন্স ও ব্লগিং সম্পকে সেলিব্রেটি ব্লগারদের সুন্দর ভাবনা, মতামত জানার জন্য আগুনের পরশমনি জোশ একটা সিরিজ ছিল। । কৌশিক আবার সিরিজটা শুরু করলে আমার মত দুধ-ভাত ব্লগারের জানার পরিধিটা আরেকটু বাড়ত। ।।
কৌশিক, আপনের পিলিজ লাগে ।.
থ্যাংকস। 'আগুনের পরশমনি' নিয়ে ভিন্ন একটা ভাবনা আছে। দেখা যাক পারি কিনা করতে। ভালো থাকবেন।
থ্যাংকস বস সিরিজটা পছন্দের জন্য। তবে প্রচুর সময় দিতে হয়।
দারুন বস
সম্ভবত এই নিবিড় সৌন্দর্য্য আর প্রগাঢ় প্রকৃতি একবারই দেখা মিলছে। দুচোখকে প্রসারিত করে, দেহ থেকে আলাদা করে দেখছিলাম। কপি করে নিচ্ছিলাম। কোনো এক বষন্তবিরাগ কালে এই অপূর্ব নকশা কাটা ছবিটাকে আমি ফ্রেমবন্দী করবো।
লিখায় তো বন্দী হয়েছে সেই অনুভব তাই না??
পড়ছি কিন্তু রিক্যাপচারিং নিয়মিত
মন্তব্য করুন