ইউজার লগইন

স্বপ্নবিলাসী বৃষ্টিবিলাস......

একাকী অরণ্য......

অফিস থেকে বের হওয়ার পর শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। বাইরে কোনো রিকশা ছিল না। মাঝে মধ্যে দু’একটা লোকাল বাস আসছিলো। তাতেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। অরণ্য একবার ভাবলো অফিসের ভেতর ঢুকে পড়বে। বৃষ্টি থামুক, তারপর না হয় বের হওয়া যাবে। মুহূর্তেই সে চিন্তাটাও বাদ দিল। কারণ তার খুব বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে হচ্ছিলো...। হাতে ফাইলপত্র কিছু ছিল না। ইচ্ছে করলেই নেমে পড়া যায়। ব্যাপারটা হাস্যকর হবে, এক ফাঁকে এটাও ভেবে নিল। ধুর! হাস্যকর হলে হোক।
এই হাস্যকর কাজটাই করে বসলো অরণ্য। পকেটে ছিল মোবাইল ফোন। ভিজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এটাই একটু চিন্তা ছিল। আরো একটা জিনিস সাথে ছিল। ওটা অবশ্য ভিজে নষ্ট হয়ে যাবার ভয় নেই। সেটা খুব যত্ন করে নিজের বুক পকেটে রেখেছে অরণ্য।

বাসায় ফেরার তাড়া ছিল না তার। একা থাকে। বড় এক ফ্ল্যাট। সব কিছু খালি খালি লাগে। মনটাই খারাপ হয়ে যায়। তার চেয়ে সেই ভালো, রাস্তায় ভিজে শত মানুষের কৌতূহলের কারণ হয়ে নিজের একাকীত্বকে ভুলে থাকা। অরণ্যের দেখাদেখি একটা বাচ্চা ছেলেও ভিজছিল। হাফ প্যান্ট পরা, খালি গা। তার প্রায় গা ঘেঁষে ছিল একটা কুকুর। কুকুরটা কেন ভিজছিল...তা ভেবে পাচ্ছিল না অরণ্য।
কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলো ছেলেটা তার পিছু পিছু আসছে। দাঁড়িয়ে পড়ে জিজ্ঞাসা করলো, “কি রে, কিছু বলবি?”
-না
-তাহলে আমার পিছন পিছন আসছিস কেন?
-এমনি...
অরণ্য প্রথমে একটু বিরক্ত হয়েছিল। পরে ভাবলো ক্ষতি কি? আসুক না। এতে যদি ছেলেটা একটু আনন্দ পায়...মন্দ কি!
এই মুহূর্তে তার সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে পারলে আরো একজন আনন্দ পেত...ভীষণ আনন্দ কারণ আজ যে তাদের চতুর্থ বিবাহবার্ষিকী। কিন্তু সে এখন নেই। তার পরিবর্তে বাচ্চা একটি ছেলে আর একটি কুকুর।
আচ্ছা! কুকুরটাও কি আনন্দ পাচ্ছে? হয়তো পাচ্ছে। প্রকৃতি সবসময় ব্যালান্স করে চলে। তার সবকিছুতেই ভারসাম্য। আনন্দেও ভারসাম্য, দুঃখেও ভারসাম্য।
রুধি পাশে থাকলে আনন্দ পেতো। প্রকৃতি তার আনন্দটা বাচ্চা ছেলেটার মাঝে দিয়ে দিয়েছে...হয়তো খানিকটা কুকুরটার মাঝেও। রুধির কথা মনে হতেই অরণ্যের মনটা খারাপ হয়ে যায়। প্রকৃতি হয়তো তার ভারসাম্যের খেলা শুরু করেছে। একটু আগে অরণ্য বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ পাচ্ছিলো। কিন্তু প্রকৃতি রুধির কথা মনে করিয়ে সেই ভারসাম্য ঠিক রাখছে।

স্বপ্নবিলাসী রুধি......

রুধি বৃষ্টি খুব ভালোবাসতো। অরণ্য আর রুধির প্রথম দেখাও এমনই এক বৃষ্টিস্নাত দিনে। রুধিদের দোতলা ঘরটার সামনে খোলা এক উঠান। উঠানের এক ধারে নানান জাতের গাছ আর অন্য ধারে রশি দিয়ে ঝোলানো এক দোলনা। বাবার রেলওয়ের চাকরির সুবাদে প্রায় তিন বছর তারা এখানটায়। তাই দিন দিন জায়গাটার সাথে রুধির সখ্যতা বেড়েই চলছিল। মা রুধিকে প্রায়-ই ধমকের স্বরে বলতো, "তোর বাবার পোস্টিং হলো বলে...কি হবে এত যত্নআত্তি করে, শুনি?"
কে শোনে কার কথা! কলেজ থেকে ফেরার পর রুধির মনটা ঐ বাগান আর দোলনাতেই পড়ে থাকে। বাবার কাছে নতুন এক বায়নাও ধরেছে...মাটির চৌবাচ্চা চায়, মাছ পুষবে বলে। বাবা রাজী হয়েছিলেন বলে তার আনন্দের সীমা ছিল না।
প্রকৃতি জুড়ে তখন ছিল আষাঢ়ের পূর্ণ রূপ। আর বৃষ্টি মানেই মায়ের কাছে রুধির খিচুড়ি রান্নার বায়না। মা শুনেই জুড়ে দেন চিৎকার চেঁচামেচি। আর চেঁচামেচি মানেই বায়না রাখা হচ্ছে...অর্থাৎ খিচুড়ি রান্না হবে।
সেদিন সন্ধ্যার পরপরই বাবা ঘরে ফিরলেন। এসেই রুধিকে ডেকে পাঠালেন। রুধি বাবার কাছে গিয়ে দেখলো, তার মুখ গম্ভীর। মা আঁচলে মুখ গুজে কাঁদছেন। রুধির চোখ-মুখ নিমিষেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলো, “কি হয়েছে বাবা?”
-“আয় রে মা, বস। ছেলেটা হলে থেকে পড়াশুনা করে...তাকে তো চোখেই দেখি না। কাছে আছিস তুই। এখন তোকেও দেখবো না।”
-“আমার আবার কি হলো?!” রুধির চোখে বিস্ময়!
-“আমার বন্ধুর ছেলে। ছেলেটা খুব ভালো। একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করে...”
-“তো?! তোমার বন্ধুর ছেলে ভালো আমি কি করতে পারি বাবা?” রুধি ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরে একটু রাগ করেই কথাটা বললো।
-“তারা কাল একবার তোকে দেখতে চায়। আমি তো কিছুতেই রাজী হচ্ছিলাম না। কিন্তু তারা যেভাবে ধরে বসলো...না বলতে পারলাম না রে মা...”
রুধির চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেল। চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু পানি জমা শুরু হলো। এক দৌড়ে সে বারান্দায় বেরিয়ে এলো।
ঝিরঝির বৃষ্টি তখনো ঝরছিল। হঠাৎ তার চোখগুলো জ্বলজ্বল করতে লাগলো। সুন্দর একটি মাটির চৌবাচ্চা বাগানের ধারে পড়ে আছে। সেটার কাছে ছুটে যেতেই তার দু’চোখ ভেঙে পানি নামলো। বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে উঠলো রুধির।

পরদিন সন্ধ্যায় ছেলেপক্ষ রুধিকে দেখতে আসে। রুধিকে পছন্দ হতেই রুধির হাতে আংটি পরিয়ে দেয় অরণ্যের মা। আংটি পরে রুধি একটু মুখ তুলে অরণ্যকে দেখে নেয়। দৃষ্টি বিনিময় হয় দুজনের।
তখনো রাত খুব বেশি হয়নি। মাটির চৌবাচ্চাতে কিছু ছোট মাছ আর কচুরিপানা ছাড়া হয়েছিল। রুধি তাতে হাত ডুবিয়ে বসেছিল। অন্ধকারে হাতের আংটিটা চিকচিক করছিল। “কি এমন আছে ঐ আংটিটায়? নতুন দিনের সূচনা নাকি পুরোনো দিনের উপসংহার?”

চলবে....
(এসেই অসমাপ্ত গল্প দেয়ার জন্য করজোড়ে মাফ চাই)

স্বপ্নবিলাসী বৃষ্টিবিলাস......২

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


আরে দারুন তো.... চলুক...

স্বাগতম এবিতে Smile

লাবণী's picture


অসংখ্য ধন্যবাদ টুটুল ভাই।
প্রথম পোষ্টের প্রথম কমেন্টের জন্য নৃত্য
ভালো লাগলো। Smile
ভালো থাকবেন Smile

টুটুল's picture


আছেন কিরম?

পরের পর্ব কবে দিবেন?

অদিতি's picture


পরের পর্ব তাড়াতাড়ি আসুক! খুব সুন্দর!!

লাবণী's picture


আদিতিপুউউউউউউ...... Big Hug
তাড়াতাড়ির জন্য আমিও তাড়া করছি......
থ্যাঙ্কু আপি Smile

অতিথি's picture


রেজিষ্ট্রেশনের সময় এখানে আমার কোনো বন্ধু আছে নাকি বাধ্যতামূলকভাবে পূরনীয় চাচ্ছে আমি তো এখানের কাউকে চিনি না, তারপর অন্য কোনো ব্লগে লেখালেখি করি নাকি আমার তো প্রায় সব ব্লগে একাউন্ট আছে। সমস্যা লাগছে, অবশ্য এখানের কথাগুলা দুই তিন শব্দে লিখে পাঠিয়েছি, ঠিক হবে কিনা জানি না, আর কয়দিন পর লিখতে পারব? আমার নাম ওয়াসিম ধন্যবাদ।

লাবণী's picture


ওয়াসিম ভাই, আপনার প্রবলেমটা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু আমি নিজেই তো কাল এলাম এবিতে। আপনার হেল্প কিভাবে করতে পারি (মহা চিন্তার ইমো)?!!
আমি ঠিক এই লিখাটা পুরোনো কারো পোস্টে লিখলে হয়তো উপকৃত হতেন।
এক্সট্রিম্লি স্যরি ভাইয়া Sad :'(

মডারেটর's picture


এই মন্তব্যটুকু শুধু মাত্র মি.ওয়াসিম এর জন্য

রেজিষ্ট্রেশনের সময় এখানে আমার কোনো বন্ধু আছে নাকি বাধ্যতামূলকভাবে পূরনীয় চাচ্ছে আমি তো এখানের কাউকে চিনি না

না থাকলে লিখে দেন যে, "নেই"। বন্ধু যে থাকতেই হবে বিষয়টা কি বাধ্যতামূলক মনে হয়েছে?

তারপর অন্য কোনো ব্লগে লেখালেখি করি নাকি আমার তো প্রায় সব ব্লগে একাউন্ট আছে

তাহলে লিংক দিয়ে দেন। লিংক দিতে তো কোন সমস্যা নেই। নাকি আছে?

মোবাইল নম্বর দেয়ার জন্য একটা অপশন আছে। আপনি একটি ভুল মোবাইল নম্বর প্রদান করেছেন। কর্তৃপক্ষের কোন প্রয়োজনে আপনার সাথে যোগাযোগের পথ কিছুটা রুদ্ধ। বিষয়টা বিব্রতকর। বন্ধুদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা সব সময় সচেষ্ট থাকি। আর আমরাও চাই বন্ধুদের অনেস্টি। বন্ধুরা সৎ ভাবে ফর্মটা পূরন করুক, তথ্যে নিশ্চয়তা কর্তৃপক্ষের।

বন্ধু হওয়ার আগ্রহে অনেকের বন্ধুত্বই খারিজ হয়ে যায়। তার একটা বড় কারণ হচ্ছে সদস্য ফর্মে ভুল তথ্য সরবরাহ। আশা করছি আপনি সহ অনেক বন্ধুই এখন বুঝতে পারবেন "কেন আমরা বন্ধুতে রেজিষ্ট্রেশন করলে এপ্রুভ হয় না"।

আর লাবনী, আপনার পোস্টে এই মন্তব্য করার জন্য দু:খিত। কিন্তু মি. ওয়াসিম সহ অনেক বন্ধুর মনেই এমন প্রশ্ন উকি দিয়ে থাকে।

হ্যাপি ব্লগিং

লাবণী's picture


সে-কি! দুঃখিত হওয়ার কি আছে!! ওয়াসিম ভায়ের সুবাদে মডু আমার নতুন বাড়িতে আসলেন। এ তো আমার জন্য সৌভাগ্যের কথা (মোটেই মিথ্যা বলছি না)।
মজা

কোক খান মডু Laughing out loud

১০

হাসান রায়হান's picture


চলুক। পরের পর্বের অপেক্ষায়..

১১

লাবণী's picture


স্বাগতম লাবনীর বাড়িতে।
অ-নে-ক ধন্যবাদ রায়হান ভাই।
পরের পর্ব শীঘ্রই আসবে
ভালো থাকবেন Smile Smile

১২

শওকত মাসুম's picture


বিয়ের দাওয়াতটা পেলেই হলো। Smile

১৩

লাবণী's picture


আগামী পর্বে ইনশাল্লাহ পাবেন। দোয়া করেন...বিয়ে যেন দিতে পারি Laughing out loud
পাঠের জন্য ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন।

১৪

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


লাবনীপু,
লেখা ভাল্লাগছে।গল্প টা based on true story মনে হইতেছে কেন জানি!হয়তো, লেখার গুনে বা বলার ধরণে।পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

বিমল মিত্রের একটা উপন্যাস আছে,'আমি '।সময় আর খুঁজে পেলে পড়ে দেইখেন তো।

এবি তে স্বাগতম।নিয়মিত লিখবেন।আশা রাখি, হারিয়ে যাবেন না।
ভাল থাকুন।অনেক ভাল।সবসময়। Smile

১৫

লাবণী's picture


অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য, বিষণ্ণ ভাই Big smile
আমার গল্পটা based on true story না। তবে এমন ঘটনা হয়তো অনেকের জীবনেই ঘটেছে।
পরের পর্ব এসে গেছে। আশা করি পড়বেন।
আর হারিয়ে যেতে তো আসিনি, চেষ্টা করবো আপনাদেরই একজন হয়ে থাকার।
ভালো থাকবেন। Smile

১৬

আহমাদ আলী's picture


অরণ্য বৃষ্টিতে ভিজে যেমন আনন্দ পেয়েছে, আমি পোস্টটি পড়ে। অরণ্য-রুবির ৪র্থ বিবাহবার্ষিকীতে Smile মাখা শুভেচ্ছা।

১৭

লাবণী's picture


আপনি আনন্দ পেয়েছেন জেনে আমারও ভালো লাগছে।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
ভালো থাকবেন Smile

১৮

তৌহিদ উল্লাহ শাকিল's picture


নতুন পোস্টেই বাজিমাত। অনেকে এসেছে , অনেক ভালো কথা বলেছে। আমার নিজের কাছেও ভালো লেগেছে । পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম । শুভকামনা রইল

১৯

লাবণী's picture


Cool Glasses চশমা পড়ে ভাব নিচ্ছি। Tongue
অ-নে-ক ধন্যবাদ শাকিল ভাই।
ভালো থাকবেন Smile

২০

তানবীরা's picture


আরে দারুন তো.... চলুক...

স্বাগতম এবিতে

২১

লাবণী's picture


এত্তগুলা এত্তগুলা ধন্যবাদ, তানবীরাপু Smile
বেশী বেশী ভালো থাকবেন।

২২

জেবীন's picture


দারুন একটা গল্প দিয়ে শুরু করেছেন! ভালো লাগ্লো Smile

২৩

লাবণী's picture


আমারও ভীষণ ভালো লাগছে।
মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা।
ভালো থাকবেন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

লাবণী's picture

নিজের সম্পর্কে

আমার আমি.......