ইউজার লগইন

স্বপ্নের সাঁকো...... ღღღ

norokerpapiblog_1226679901_1-2222222.jpg

=====================================ღღ

বর্ষায় জলের পর্দার ওপাশে সমস্ত শহরটা যখন নড়তে থাকে…স্বপ্নবতী ধীরে ধীরে নিজের চোখকে ঝাপসা করে...প্রতিটা বস্তু সে অন্যভাবে অনুভব করে। এটা তার অনেকদিনের পুরোনো অভ্যাস। অভ্যাসের শুরুটা হয়েছিল কোনো এক বর্ষায় উঠানের শিমুল গাছটা দেখে। গাছটার দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে কি যেন ভাবছিল...হঠাৎ সে লক্ষ্য করলো শিমুল গাছটার স্থানে এক নারীমূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। যার মাথার চুল খোলা আর আর হাতদুটো উপরের দিকে...নৃত্য করার ভঙ্গিতে। সেদিন-ই স্বপ্নবতী যেকোনো কিছুকে ঝাপসা করে দেখার মজাটা আবিষ্কার করলো। আজও ঝমঝম বৃষ্টির মধ্যে নিজের শোবার ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে স্বপ্নবতী সবকিছুকে নিজের মনের মতো করে দেখছে...ল্যাম্পপোস্ট, রিকশা, দোকানদার, পথচারী---কেউই রেহায় পাচ্ছে না তার দৃষ্টি থেকে।

সেলফোনের মেসেজ টোনটা বাজতেই বাস্তবে ছিটকে এলো স্বপ্নবতী। স্বপ্নহারার মেসেজ--

<<বৃষ্টি দেখছো?
>>হু, দেখছি...তুমি? স্বপ্নবতীর রিপ্লাই।
<<না...
>>কেন?
<<ইচ্ছে করছে না...
>>কেন?
<<ওকে ভীষণ মিস করছি......
>>বৃষ্টি তো আকাশের কান্না! তবে এটা আনন্দাশ্রু! যদি নিজেরও কাঁদতে ইচ্ছে হয়......একসঙ্গেই কাঁদো। আকাশের আনন্দাশ্রু আর তোমার কষ্ট একাকার হয়ে বৃষ্টিতে ভেজার সুখ হয়ে যাবে। বৃষ্টিকে স্পর্শ করো........তারপর অনুভব করো সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে.........
<<আর যদি বৃষ্টি ফুরিয়ে যায়............?
>>প্রতীক্ষা করবে...রঙধনু পেতে হলে বৃষ্টিতে ভেজার কষ্টকে পেছনে ফেলে আসতেই হয়? তুমি রংধনু চাও না?

এরপর স্বপ্নহারা আর কোনো রিপ্লাই করে না। স্বপ্নবতী বুঝতে পারে স্বপ্নহারা এখন সেই মেয়েটিকে কল্পনায় এনে কষ্টের সাথে বসবাস শুরু করে দিয়েছে, যে তাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিল...স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল... স্বপ্নবতী একটা এসএমএস করে-----

>>বিরহের দাহ আজি হল যদি সারা...ঝরিল মিলনরসের শ্রাবণধারা,
তবুও এমন গোপন বেদনতাপে, অকারণ দুখে পরান কেন দুখায় রে?
যদি বা ভেঙেছে ক্ষণিক মোহের ভুল...এখনো প্রাণে কি যাবে না মানের মূল?
যাহা খুঁজিবার সাঙ্গ হল তো খোঁজা, যাহা বুঝিবার শেষ হয়ে গেল বোঝা,
তবু কেন হেন সংশয়ঘনছায়ে...মনের কথাটি নীরব মনে লুকায় রে?

তারপর আবার মনোযোগ দেয় ঝাপসা দৃষ্টিতে! হাত বাড়ায় জলের পর্দাটার দিকে। অমনি জল গলে তার হাতটা ভিজিয়ে দেয়! স্বপ্নবতীর খুব ইচ্ছে হয় এই ভেজা হাতের স্পর্শে স্বপ্নহারাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে...খুব ইচ্ছে হয় তার অনুভূতিগুলো বাতাসের কানে কানে জানিয়ে দিতে আর বাতাস জানিয়ে দেবে স্বপ্নহারাকে।
বৃষ্টিস্নাত সেই সন্ধ্যায় স্বপ্নহারার মেসেজ আসে...

<<জীবন গাড়ির পথ যে হঠাৎ করে এভাবে বাক নেবে ভাবতেও পারিনি। স্টিয়ারিং ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি.....জানিনা দূর্ঘটনা এড়াতে পারবো কিনা।
>>অবশ্যই পারবে। তুমি শুধু একবার তোমার দুঃস্বপ্নটাকে সংকুচিত করে ভাসিয়ে দাও... ভাসিয়ে দাও রাত্রি জেগে শত ধাঁধার প্রশ্নজট খোলা...একবার আপন করে নাও রুপালী চাঁদটাকে....দেখো এক পশলা শীতল বৃষ্টির আবির্ভাব হবেই!

আবার রিপ্লাই বন্ধ স্বপ্নহারার......
পরদিন ভোরে স্বপ্নবতী একটা এসএমএস করে......

>>এই....আজ কি একটু সময় হবে? আজ তোমাকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবো......
<<না...এটা তোমার বাড়াবাড়ি......! প্লীজ স্টপ দিস স্টুপিডিটি...
>>আমি তো শুধু তোমাকে স্বপ্নহারা থেকে স্বপ্নবাজ করতে চেয়েছিলাম......যদি স্বপ্ন দেখতে চাও, চলে এসো...আমি অপেক্ষায় থাকবো...কোথায়? তুমি-ই খুঁজে নিও আমাকে...

জীবনে একটা সময় আসে যখন মানুষের মন নিজেকে বিকাশ করতে চায়। চায় আপন ভুবনের সীমানা পেরিয়ে অন্য কোনো ভুবনের সীমানায় প্রবেশের অধিকার। তখন সে একটা আশ্রয় খোঁজে। যে আশ্রয় তাকে অবলম্বন দেবে...কল্পনাকে উদ্বুদ্ধ করবে....কিন্তু বিকাশকে ব্যাহত করবে না। জীবনের এমনি এক অধ্যায়ে একটা আশ্রয়ের খোঁজে স্বপ্নহারা...আর এই আশ্রয় হতে চায় স্বপ্নবতী...

=====================================ღღღ

একটি মেয়েকে ভালোবাসতো স্বপ্নহারা। এখানে ভালোবাসতো না লিখে ভালোবাসে কথাটাই হয়তো ব্যবহার করা উচিত। কারণ স্বপ্নহারা মেয়েটিকে এখনো সমানতালে ভালোবাসে। মেয়েটি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ধীরে ধীরে স্বপ্নহারার কাছ থেকে দূরে চলে যায়। আর মেয়েটিকে হারানোর পর থেকে স্বপ্নহারা বেপোরোয়া জীবনযাপন করতে থাকে। একদিন সন্ধ্যায় স্বপ্নবতী স্বপ্নহারাকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আবিষ্কার করে একটি অন্ধকার সিঁড়িতে। এই ভবনের তৃতীয় তলায় স্বপ্নবতীর অফিস। দুটো সিঁড়ির মধ্যে এই সিঁড়িটি তেমন ব্যবহার করা হয় না। আর সেদিন প্রথমবারের মতোই উৎসাহবশত স্বপ্নবতী সিঁড়িটি ব্যবহার করেছিল। স্বপ্নহারার মোবাইল নিয়ে লাস্ট ডায়াল নাম্বারে কল করে এক বন্ধুর সহায়তায় তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয় স্বপ্নবতী। এক সুযোগে স্বপ্নহারার নাম্বারটিও নিয়ে নেয়। পরদিন সকালে স্বপ্নহারার ঘুম ভাঙতেই সেলফোনটা চেক করে দেখে একটা এসএমএস...

>>এই যে স্টুপিড ছেলেটা...এমন কাজ করার আগে একটিবার নিজের পরিবারের কথা ভাবুন...বাবা-মায়ের কথা ভাবুন...যারা আপনাকে পৃথিবীতে লালন করার সাথে সাথে নিজেদের স্বপ্নকেও লালন করেছে বুকে...
বন্ধুর কাছে সব শুনে স্বপ্নবতীকে রিপ্লাই দেয়……
<<স্যরি...

এভাবেই শুরু তাদের পরিচয়। তারপর নিজের সব কথা শেয়ার করে স্বপ্নহারা। তবে এরপর তাদের আর কখনো দেখা হয়নি। কথাও হয়নি...শুধু এসএমএস বিনিময় হয়েছে। স্বপ্নহারার কখনো ইচ্ছেও হয়নি স্বপ্নবতীকে দেখার, এমনকি স্বপ্নবতীর নামটাও জানতো না সে। কিন্তু স্বপ্নবতী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এলোমেলো এই ছেলেটিকে স্বপ্ন দেখাবেই...

আজ প্রথমবারের মতো স্বপ্নবতী দেখা করার কথা বলেছে। স্বপ্নহারা সারাদিন পাগলের মতো খুঁজেছে তাকে...... রাত প্রায় আটটা বেজে গেছে...স্বপ্নবতী স্বপ্নহারার কোনো কল বা এসএমএসের রেসপন্স করছে না।
রাত দশটায় স্বপ্নবতীর একটা এসএমএস আসে...

>>আমি ভেবেছিলাম দিনে খুঁজে না পেলেও, আজ রাতের এই চাঁদটা...এ ত্রয়োদশীর জ্যোৎস্না তোমাকে দেবে তোমার ভালোবাসার ঠিকানা। ভেবেছিলাম তোমার সব অপূর্ণতা পূর্ণ হবে ত্রয়োদশী চাঁদের হাত ধরে...
<<স্যরি, এক্সট্রিমলি স্যরি...! আমি বুঝতে পারছি না আমার কি করা উচিত! প্লীজ ক্ষমা করো...
>>ঠিক আছে ক্ষমা করবো এক শর্তে, কাল সকালেই সেলুনে গিয়ে তোমার ঐ আইনস্টাইন মার্কা চুলগুলো কাটাবে আর গাল ভর্তি দেবদাস মার্কা দাড়ির একটা ব্যবস্থা করবে...
<<আমি তোমার শর্ত মানতে কি বাধ্য?
>>হ্যাঁ বাধ্য!
<< !!!!!!!!!!

স্বপ্নহারার মনে এক্সক্লেমেটরি সাইন!!

>>এবার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবে?
<<কি?
>>তোমার কয়টা আস্তানা?
<<মানে?!!
>>মানে তুমি কোথায় কোথায় ড্রিঙ্কস করতে?
<<যেখানে অন্ধকার পেতাম...!!
>>ও! আচ্ছা!
<<এ প্রশ্ন কেন?
>>আমি তোমাকে যে রাতে পেয়েছি...সে রাতে কোথায় ড্রিঙ্কস করেছিলে তা একটু মনে করার চেষ্টা করো...আজ সেখানেই তোমার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম...কাল শেষ বিকেলে আবার অপেক্ষা করবো...মানুষ হয়ে এসো।

এভাবে স্বপ্নবতীর মিষ্টি শাসনে পরাজিত হয়ে স্বপ্নহারা আবার স্বপ্ন দেখতে শেখে একটু একটু করে। দু’হাত তুলে পান করে স্বপ্নের জল। অতঃপর স্বপ্নকে সঙ্গী করে ভালোবাসার নৌকা ভাসায়......
=====================================ღღღ

Erich Segal এর Love Story ফিল্মে জেনিফার-এর একটা কথা আমার দুর্দান্ত লাগে......

“Love means never having to say you’re sorry!”

ღღღ

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


সুন্দর গল্প, শেষটা দারুন।
তবে প্রধান দুইটা চরিত্রের নাম ভাল লাগেনাই কেন জানি।

ও আপু!
আজকাল তোমারে তো দেখাই যায় না! থাকো কই?!

রাসেল আশরাফ's picture


বেশি নাটুকে হয়ে গেছে।

মীর's picture


গল্পের প্লট চমৎকার। আর আপনার হাতে পড়ে সেটা একদম দূর্দান্ত হয়ে উঠেছে। আমার কাছে গল্পের আমেজের সঙ্গে নামগুলো যথাযথই লেগেছে। এমনকি রাসেল ভাইয়ের মতো নাটুকেও লাগে নি। বাস্তব জীবনের কষাঘাতে জর্জর হতে হতে, মানুষ বোধহয় এভাবেই একসময় উঠে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখে।

সুন্দর লিখেছেন লাবণী, খুব সুন্দর! প্রিয়তে নিলাম আপনার গল্প।

কালিক's picture


মেলোড্রামাটিক।

তানবীরা's picture


পুরাই স্বপ্ন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

লাবণী's picture

নিজের সম্পর্কে

রঙিন রোদের জ্বালাতন সহ্য করা আশ্রয়হীন পাখির মতো শুধু ডানায় ভর করে দিগন্তের পর দিগন্ত পাড়ি দিয়ে একসময় আমরা হয়ে পড়ি পথহীন দিকভ্রান্ত পথিক। পায়ের তলায় এসে মাথা কুটতে থাকে পথেরা। ক্লান্ত জীবনে নিঃশব্দের মতো সন্ধ্যা নামে...রাত আসে। জোৎস্না রাতের উজ্জ্বলতায় চেয়ে দেখি বৃষ্টি ভেজা চতুর্দশীর মতো তারায় সেজে আছে আকাশ। শুধু ভাবি...সুবিস্তৃত অসীম আকাশের কোনো এক কোণে কি একটু আশ্রয় পাওয়া যাবে না?