ইউজার লগইন

লাবণী'এর ব্লগ

এক চিলতে বারান্দা থেকে এক টুকরো আকাশ......

aa2.jpg
আকাশে তো আমি রাখি নাই,
মোর উড়িবার ইতিহাস...
তবু উড়েছিনু...এই মোর উল্লাস!

aa.jpg
যত বড়ো হোক ইন্দ্রধনু সে,
সুদূর আকাশে আঁকা...
আমি ভালোবাসি মোর ধরণীর প্রজাপতিটির পাখা!

bb.jpg
সূর্যাস্তের রঙে রাঙা...
ধরা যেন পরিণত ফল,
আঁধার রজনী তারে...
ছিঁড়িতে বাড়ায় করতল!

gg.jpg
সূর্যপানে চেয়ে ভাবে মল্লিকামুকুল...
"কখন ফুটিবে মোর,
অত বড় ফুল!"

ii.jpg
সমস্ত আকাশ ভরা আলোর মহিমা...
তৃণের শিশির মাঝে, খোঁজে নিজ সীমা...

ee.jpg

নিষ্ঠুর ....সময়......

waiting_in_black_and_white_by_overcoming_silence.jpg
-"......সময়, একটু দাঁড়াও প্লীজ...আমাকেও নিয়ে যাও তোমার সাথে।"
-"উঁহু...আমার তাড়া আছে, সভ্যতা আমাকে ডাকছে।"
-"তুমি কেন এভাবে ছুটছো....আমাকে কি নিয়ে যাবে না তোমার সাথে?"
-"তুমিও কি ছুটতে চাও আমার সাথে?"
-"হ্যাঁ, চাই তো...কিন্তু আমার যে অনেক বাধা...."
-"বাধা তো থাকবেই...আমার সাথে চলতে গেলে আরো অনেক বাধা আসবে, পারবে সেগুলোকে অতিক্রম করতে......?"
-"জানি না...শুধু জানি আমি তোমার সাথে যেতে চাই, প্লীজ সময়...নিয়ে যাও না আমাকে!!"
-"ঠিক আছে, আমার পিঠে উঠে বসো...................................কি নিয়ে যাচ্ছো তোমার সাথে?"
-"আমার অনুভূতি..স্বপ্ন...ভালোবাসা...অতীত...সবকিছু।"
-"তাহলে এক্ষুণি নেমে পড়ো....তুমি আমার পিঠে চড়ে ছুটতে পারবে না..."
-"কেন ছুটতে পারবো না!!?"
-"কারণ আমি বড্ড যান্ত্রিক....তোমার স্বপ্ন-অনুভূতিগুলোকে আমি ঠাঁই দিতে পারবো না।"
-"অবশ্যই পারবে....তুমি চাইলেই পারবে....আমাকে ফেলে যেও না, সময়...প্লীজ..."

অপ্রকাশ্য......

180451_150864534968497_148351355219815_265241_5444369_n.jpg
বাইরে অপরিমেয় রোদ, সাদা মেঘের ভেলা...
অপরিমেয় কোলাহল,
ভেতরে গুমোট ইতিহাস
টুপটাপ ঝরছে স্মৃতির পাতা
কপালে জমছে শিশির বিন্দু
কাঁচের জুতা পায়ে স্যান্ডেরিলা…

খবরের কাগজে শিরোনাম হয়ে যাওয়া...
ধর্ষিতা কিশোরীর কপোট স্বীকারোক্তি
মুখোমুখি যাজক-পুরুষ আর লোভের রাজ্য...
কে কি ভাবলো...কিছু এসে যায় না কিশোরী মেয়ের!!
কারণ তার পৃথিবী আজ...
আঁধার করা সর্বনাশা ভয়ঙ্কর অন্ধকার!

ক্যাকটাসে কাঁটা খুঁজতে হয় না,
খুঁজতে হয় এর অপরিমেয় সবুজ…
সবুজই এর ধর্ম..।।
ঐ যে রক্তিম সূর্যটা,
তারও যে অধিকার নেই বিলম্ব করার।
পৃথিবীর উল্টোদিকে ঘুরে আবার উঁকি দেবে পূব আকাশে
থামবে না পাখির সুর করে গান গাওয়া
কিংবা ঘড়ির কাটার অবিরাম ছুটে চলা...টিকটিক...টিকটিক
কিংবা থামবে না সমুদ্র স্রোত...ছলাৎ ছলাৎ ছল...
তবে কেন শিকারী কিশোরীর অশুভ কান্নার রোল?
তবে কেন ডুবে যাবে তার স্বপ্নসূর্য?

অভয় বাজুক তার হৃদয় মাঝে...

স্বপ্নবিলাসী বৃষ্টিবিলাস......২

অরণ্য-রুধির স্বপ্নের সাঁকো

অতঃপর শুরু হল অরণ্য-রুধির স্বপ্নের সাঁকো তৈরির অদম্য বাসনা। একবার বৃষ্টিতে অরণ্যের সাথে হুড খোলা রিকশায় ভিজতে পেরে তার আনন্দ যেন ধরছিলই না। সেটা ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখস্মৃতি। এই কথাটা তার সাথে এক ছাদের নিচে কাটানো তিন বছরে কম করে হলেও তিনশোবার শুনতে হয়েছে অরণ্যকে।
রুধি ছিল স্বপ্নবিলাসী মেয়ে। সে কল্পনায় তার ভবিষ্যৎ জীবনের ছবি আঁকতো। আর তার সেই কল্পনার ক্যানভাসে অরণ্যের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। অরণ্য মাঝে মাঝে রুধিকে বলতো, “তোমার ছবিগুলো খুবই নিচুমানের...একঘেয়ে। সব ছবিতে একই চরিত্রের উপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
রুধি তখন কপট রাগ দেখিয়ে বলতো, “হুমম...এই এক চরিত্রেই আমি খুশি...”
বিয়ের তিন বছরের মাথায় রুধি একদিন অরণ্যকে ষড়যন্ত্রের ভঙ্গিতে বলে, “এই শোনো...আমার কল্পনার ক্যানভাসে অন্য একজনকে আঁকতে শুরু করেছি...তুমি রাগ করো নি তো?”
-“রাগ করবো কি, আমি তো তোমার কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছি না...”
রুধি এবার দু’হাতে অরণ্যের গলা জড়িয়ে ধরে বললো, “আজ মা এসেছিল...আমি যদি কিছুদিনের জন্য মায়ের বাসায় থাকি, তুমি কি রাগ করবে?”

স্বপ্নবিলাসী বৃষ্টিবিলাস......

একাকী অরণ্য......

অফিস থেকে বের হওয়ার পর শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। বাইরে কোনো রিকশা ছিল না। মাঝে মধ্যে দু’একটা লোকাল বাস আসছিলো। তাতেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। অরণ্য একবার ভাবলো অফিসের ভেতর ঢুকে পড়বে। বৃষ্টি থামুক, তারপর না হয় বের হওয়া যাবে। মুহূর্তেই সে চিন্তাটাও বাদ দিল। কারণ তার খুব বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে হচ্ছিলো...। হাতে ফাইলপত্র কিছু ছিল না। ইচ্ছে করলেই নেমে পড়া যায়। ব্যাপারটা হাস্যকর হবে, এক ফাঁকে এটাও ভেবে নিল। ধুর! হাস্যকর হলে হোক।
এই হাস্যকর কাজটাই করে বসলো অরণ্য। পকেটে ছিল মোবাইল ফোন। ভিজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এটাই একটু চিন্তা ছিল। আরো একটা জিনিস সাথে ছিল। ওটা অবশ্য ভিজে নষ্ট হয়ে যাবার ভয় নেই। সেটা খুব যত্ন করে নিজের বুক পকেটে রেখেছে অরণ্য।