ইউজার লগইন

ফৌজি বাণিজ্য: দ্বিতীয় পর্ব

অনেকেই হয়তো শুনেছেন। তারপরেও বিবিসির বিশেষ এই ধারাবাহিক প্রতিবেদন এখানে দেওয়ার উদ্দেশ্য দুটি। একটি হচ্ছে, যারা বিবিসি শোনেন না তাদের বিষয়টি জানানো। আরেকটি হচ্ছে নিজের কাছে রেকর্ড রাখা।
রিপোর্টগুলো তৈরি করেছেন বিবিসির কামাল আহমেদ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিষয়টি স্পর্শকাতর হলেও সবার জানার প্রয়োজন থেকেই আমার এই পোস্ট। মোট তিনটি পর্বে ৯টি রিপোর্ট এখানে দেওয়ার ইচ্ছা। আজ থাকলো ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ পর্ব।

ট্রাষ্ট ব্যাংককে ঘিরে বিতর্ক

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের ধারণা থেকে যে ব্যাংকের শুরু, শেষপর্যন্ত তা হয়েছে সামরিকবাহিনীর ব্যাংক। আর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রয়োজনে রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছিলো যে প্রতিষ্ঠান সেটি হলো ট্রাষ্ট ব্যাংক।

ট্রাষ্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা হচ্ছে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট। আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের নিয়ন্ত্রণ তার ট্রাষ্টি বোর্ডের হলেও তার কার্য্যকর নিয়ন্ত্রণ মূলত সেনাসদরে কেন্দ্রীভূত। আর, সেকারণে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের বিনিয়োগ, তার উৎস, সম্পদ কিম্বা আয়-ব্যায়ের হিসাব – এসব তথ্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে হলেও সংস্থার মালিকানায় ষাট শতাংশ শেয়ার থাকার পরও ট্রাষ্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার সুযোগ এখন অনেকটাই সীমিত।

অবশ্য, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রয়োজনে ট্রাষ্ট ব্যাংক ন্যূনতম যেটুকু তথ্য প্রকাশে বাধ্য হয়েছিলো তার কারণেই তৈরী হয় এক নতুন বিতর্ক। ২০০৭ সালের অক্টোবরে সেনাবাহিনী যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নেপথ্য থেকে পরিচালনা করছিলো বলে বলা হয়ে থাকে সেসময়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে সফররত অবস্থায় টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে একটি সাক্ষাৎকার দেন।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য ট্রাষ্ট ব্যাংকের যে প্রস্পেক্টাস প্রকাশিত হয় তাতে দেখা গেলো ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসাবে তাঁর ঋণের যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে তাঁতে তাঁর গৃহনির্মাণ ঋন ছিলো ২০০৫ সালে নিরানব্বুই লক্ষ টাকা এবং ২০০৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে তেত্রিশ লাখ টাকায়।

ব্যাংকের নিরীক্ষাকৃত হিসাবটিতে ব্যাংকের সব পরিচালক - যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন কর্মরত সেনাকর্মকর্তা এবং শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রত্যয়ন করা ছিলো। সঙ্গত কারণেই তাই অভিযোগ ঊঠলো যে জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ যেহেতু একবছরে ছেষট্টি লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেছেন সেহেতু ঐ টাকার উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রয়োজন। জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ তখন বিবিসিকে বলেন যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ম্যালাইন করার জন্য অপপ্রচার করা হচ্ছে। করাপ্ট যাঁরা আছে তাঁদের সঙ্গে এক কাতারে তাঁকে দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে।

জেনারেল আহমেদ বলেন যে, এক কোটি টাকা তিনি কোনদিনই ব্যাংক থেকে লোন নেননি - এটা টোটালি ফলস। আর, দ্বিতীয়ত - ষাট লক্ষ্ টাকা তিনি ফেরৎও দেননি। এইটাও ফলস।

জেনারেল আহমেদ বলেন যে ট্রাষ্ট ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আর্মি অফিসার যতোটুকু লোন পায় আমি ঠিক ততোটুকুই পেয়েছি। তার চেয়ে এক টাকাও বেশী নয়।

জেনারেল আহমেদ আরো বলেন যে হাউজ বিল্ডিংয়ে আমরা পেতে পারি সব্বোর্চ্চ পঁচিশ লাখ টাকা আর পেনশন কমিউট করে আরো দশ লাখ টাকা - টোটাল পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা। আর আমি যে রিটার্ণ করছি - আমি বাড়ী ভাড়া যা পাই তার সবটাই আমি দিয়ে দিচ্ছি।

অবশ্য ট্রাষ্ট ব্যাংকের ঐ প্রসপেক্টাসে প্রকাশিত নিরীক্ষাকৃত হিসাব ভূল ছিলো - এমন কথা কেউই দাবী করেন নি।

ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যাংকটির ঐবছরের অডিটর প্রতিষ্ঠান - এ সি এন এ বি আই এন, ব্যাংকটির শেয়ারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলো যে প্রতিষ্ঠান – সেই এএএ কনসালটেন্টস এন্ড ফিনান্সিয়াল এডভাইজারস কিম্বা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কেউই ঐ প্রসপেক্টাসের তথ্যকে বেঠিক বলে নি।

অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের যাঁর সাথেই কথা বলেছি তাঁরা সবাই র্নিদ্বিধায় স্বীকার করে নিয়েছেন যে সেনাবাহিনীর কোন পদস্থ কর্মকর্তার কোন প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা - বিশেষ করে বাণিজ্যিক কার্য্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার কারণে - সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিরই ভাবমূর্তি ও মর্য্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ থেকে ফৌজি কল্যাণ

এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ইতিহাস একটু দীর্ঘ। এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগের সাথে জড়িতদের একজন হলেন সাবেক এডজুটেন্ট জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী।

জেনারেল চৌধুরী বলেন যে প্রাইভেট ব্যাংকের পারমিশন দেওয়া শুরু হওয়ার সময়, তিনি ছিলেন ডিফেন্স মিনিষ্ট্রিতে – এবং তখন আঁকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের এমডি পদে বদলি করা হয়।

জেনারেল চৌধুরী বলেন যে সেই সময় থেকে ১৯৮৭ সালে তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের জন্য একটা আলাদা ব্যাংক করার পরিকল্পনা হাতে নেন। ১৯৮৮ -৮৯ সালে এর নীতিগত অনুমোদন পাওয়া যায়।

তিনি জানান যে সেই সময় মাত্র চব্বিশ ঘন্টার নোটিশে তাঁকে ট্রাষ্ট থেকে অন্যজায়গায় বদলি করা হয়।

জেনারেল চৌধুরী বলেন যে আমি তখন ভাবলাম যে ব্যাংকের মতো একটা স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের যদি আমি ঠিকমতো ব্যবস্থা করতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে তা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের জন্য আমরা যে মেমোরেন্ডাম অব এসেসিয়েশন এবং আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন তৈরী করেছিলাম সেগুলো আমি রাতারাতি তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল আতিকের কাছে হস্তান্তর করলাম। লাইসেন্সটা এভাবেই তখন সেনাপ্রধানের কাছে দেওয়া হয় এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের সব শেয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে দেই।

জেনারেল চৌধুরী বলেন যে এরপর তিনি আবার যখন ৯২ নালে সেনাসদরে ফিরে যান – তখন দেখেন যে ঐ ব্যাংকের লাইসেন্স তখনও সেনাসদরে পড়ে আছে। এরপর তিনি তা বাস্তবায়নের কাজে আবার হাত দেন।

ট্রাষ্ট ব্যাংক সেনাবাহিনীর জন্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন তাঁরা কেন অনুভব করেছিলেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল চৌধুরী বলেন প্রথমত সেনা কল্যাণ সংস্থার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ব্যাংকিং সেবা প্রয়োজন হতো সেটা মেটানো এবং অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালুর কথা চিন্তা করেই এই ব্যাংকের কথা ভাবা হয়।

ট্রাষ্ট ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে এবং প্রাথমিক র্পয্যায়ে এর পরিশোধিত মূলধন ছিলো কুড়ি কোটি টাকা।

পর্য্যায়ক্রমে অবশ্য ব্যাংকের অনুমোদিত মুলধন এবং পরিশোধিত মুলধনের পরিমাণ বেড়েছে। পুঁজিবাজার থেকে নতুন পুঁজিরও বিনিয়োগ হয়েছে এই ব্যাংকে।

ট্রাষ্ট ব্যাংকের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী ৩১ শে মার্চ ২০০৮ এ ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ হচ্ছে দুশো কোটি টাকা এবং এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১১৬ কোটি টাকারও বেশী।

ঐ সময়ে ব্যাংকটির সারাদেশে শাখা ছিলো ৩৮টি। ঐ বছরেই ব্যাংকটি রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে তার মুলধনের পরিমাণ বাড়ায় এবং তা গিয়ে দাঁড়ায় ১৫৪ কোটি টাকায়।

২০০৮ এর বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০৭ এ ব্যাংকটির মুনাফা ছিলো প্রায় চব্বিশ কোটি টাকার মতো এবং ২০০৮ এ তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছেচল্লিশ কোটি টাকা।

প্রথমদিকে ব্যাংকটির কার্য্যক্রম যদিও ছিলো সেনানিবাসকেন্দ্রিক - এখন তারা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌছানোর কৌশল অনুসরণ করছে।

বেসরকারী খাতে তীব্র প্রতিযোগিতা

তবে, দেশের প্রায় অর্ধশত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতায় ট্রাষ্ট ব্যাংক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে নিয়ে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সেরকমটিই বলছিলেন বেসরকারী একটি ব্যাংকের পরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী।

মি এলাহী বলেন যে ব্যাংকের সিক্সটি ফাইভ পারসেন্ট কিন্তু এখন প্রাইভেট ব্যাংকগুলো কন্ট্রোল করে - দশ বছর আগেও যেটা ছিলো না। ন্যাশনালাইজড ব্যাংকগুলো তা করতো।

তিনি জানান, বর্তমানে যে হারে প্রাইভেট সেক্টরে গ্রোথ হচ্ছে তাতে তাঁর মনে হয়না - সেই রেটে আর্মির বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রোথ হচ্ছে।

মি এলাহী বলেন যে তিনি তাদেরকে প্রাইভেট সেক্টরের জন্য কোন প্রতিদ্বন্দী মনে করেন না। প্রাইভেট সেক্টরের সাথে আর্মির প্রতিষ্ঠান কতোটা প্রতিযোগিতা করতে পারবে - তাতে তাঁর সন্দেহ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ব্যাংকগুলোকে যখন বেসরকারীকরণের কথা বলছে সরকার তখন বিভিন্ন বাহিনীর জন্য সরকারের পৃষ্টপোষকতায় এবং অর্থায়নে আলাদা ব্যাংক করার যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়।

দুই বাহিনীর দুই ব্যাংকে দুই রকম চিত্র

সেনাবাহিনীর মতো সরকার আরো একটি বাহিনীর জন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলো যার অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়৻ এটি হচ্ছে আনসার - ভিডিপি ব্যাংক।

বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআরের জন্যও একইধরণের একটি ব্যায়ক প্রতিষ্ঠার সিন্ধান্ত সরকার নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করে রাখলেও বিষয়টি নানাকারণে এখনও বাস্তাবায়িত হয় নি।

আনসার - ভিডিপি ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো আনসার সদস্যদের নানা অভাব-অভিযোগ দূর করতে তাদের অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া। আনসার-ভিডিপির এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো আনসার-বিদ্রোহের পর।

আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন যে সারা দেশে যে প্রায় ছাপান্ন লক্ষ আনসার - ভিডিপি সদস্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মাইক্রো ক্রেডিট কর্মসূচী দিয়ে এই আনসার ভিডিপি ব্যাংকের কার্য্যক্রম শুরু।

মি চৌধুরী বলেন যে প্রথমে পরিকল্পনা ছিলো প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে শাখা হবে। কিন্তু, দূভার্গ্যজনক হলেও সত্য যে গত বারো তেরো বছরে এটার ছিলো ৮১টি শাখা - আর গত একবছরে তাঁরা আরো উনিশটি শাখা খুলেছেন।

২০০৮ সাল পর্য্যন্ত এর একটা মাত্র প্রোডাক্ট ছিলো - ক্ষুদ্র ঋণ - যা অনেক এনজিও দিয়ে থাকে উল্লেখ করে তিনি জানান যে এখন আরো কয়েকটি প্রোডাক্ট তাঁরা চালু করেছেন - যেমন কনজিউমার ঋণ, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ, এস এম ই ইত্যাদি।

আনসার ভিডিপি ব্যাংক ব্যাংকিং কোম্পানী আইনে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় কোনরকম বাণিজ্যিক ব্যাংকিং করতে পারছে না।

মি চৌধুরী বলেন যে মনে হতে পারে আনসার ভিডিপি ব্যাংক আনসার বাহিনীর একটা ব্যাংক এবং ট্রাষ্ট ব্যাংক সেনাবাহিনীর আরেকটা ব্যাংক। কিন্তু এক্টিভিটির দিক থেকে এখানে ডিফারেন্স আছে - যেমন আনসার ভিডিপির ব্যবসা - সদস্য কিম্বা বাইরে থেকে কোন ডিপোজিট তাঁরা নিতে পারেন না - আবার বাইরে কাউকে তাঁরা ঋণও দিতে পারেন না। কিন্তু, ট্রাষ্ট ব্যাংক সেখান থেকে বেরিযে গেছে - তারা যেহেতু শিডিউলড ব্যাংক -কর্মাশিয়াল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স পেয়েছে।

কার্যত আনসার-ভিডিপি ব্যাংক কাজ করছে একটি ক্রেডিট সোসাইটির মতো। অনুমোদিত মূলধনের যতোটা অংশ সরকার পরিশোধ করবে বলে কথা ছিলো শেষপর্য্যন্ত তার অর্ধেকটা দিয়েছে সরকার।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা

অন্যদিকে, ট্রাষ্ট ব্যাংক শুধু যে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসাবে কাজ করছে তাই নয় - বরং তারা মার্চেন্ট ব্যাংক বা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হিসাবেও কাজ করার অনুমতি পেয়েছে। এছাড়া, বিশেষ রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার আলামতও এখানে স্পষ্ট। যেমন পাসপোর্টের ফি জমা নিয়ে সেই পাসপোর্ট ইস্যু করার ক্ষমতাও এই ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে।

ট্রাষ্ট ব্যাংকের নবনিযুক্ত ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার অবশ্য বলছেন যে কোনধরণের বিশেষ পৃষ্টপোষকতার ওপর ব্যাংকটি নির্ভরশীল নয়।

শাহ আলম সারওয়ার বলেন যে আপনি যদি বলেন প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পায় - সেটা কিন্তু সেভাবে নয়। এই ব্যাংকের প্রথম রেজিষ্টার্ড অফিস ছিলো ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে - কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে কিন্তু এর কর্পোরেট অফিস চলে এসেছে বাণিজ্রিক কেন্দ্র দিলকুশাতে।

তিনি বলেন তার মানে আমরা আর অন্যসব ব্যাংকের মতোই ব্যাংক। এটা হলো এক। দুই নম্বর হলো প্রাইভেট কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারী ব্যবসার প্রশ্নে যেসব রেষ্ট্রিক্শন আছে সেগুলো এই ব্যাংকের ওপরও এপ্লিকেবল। এবং যেকোন প্রতিষ্ঠানের যতো বড় বড় ব্যবসা আছে তাঁরা তার কোনটারই স্পেশাল প্রিভি নন।

মি সারওয়ার বলেন যে - সরকারী ব্যাংক - সোনালী ব্যাংক - লার্জেস্ট সার্ভিস প্রোভাইডার টু আর্মি বা আর্মড ফোর্সেস। সেই তুলনায় তাঁরা কোন পৃষ্টপোষকতা পান না।

তবে, তিনি বলেন যে যেটা তাঁরা পান তা হোল একটা ইউনিক বোর্ড - যে বোর্ডটা একটা ইনিষ্টিটিউশনের প্রতিনিধিদের দ্বারা রিপ্রেজেন্টেড। সুতরাং, তাদের বিহ্যাভিরিয়াল প্যাটার্ণ, অর্গানাইজেশনাল ডিরেকশনটা লাইক এন ইনিষ্টিটিউশন। মি সারওয়ার বলেন যে দুভার্গ্যজনক হলেও তিনি বলতে বাধ্য হচ্ছেন যে প্রাইভেট সেক্টরের কোন ব্যাংকে এটা নেই। এখানে কোন ব্যাক্তিগত বা ইনিষ্টিটিউশনাল ইন্টারভেনশন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে, সরকারী কার্য্যবিধির বিষয়ে অভিজ্ঞ প্রশাসনের সব্বোর্চ্চ পদে কাজ করেছেন সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিবদের একজন ড: আকবর আলী খান বলছেন যে পাসপোর্টের আবেদন এবং ফি গ্রহণের এই কাজ এভাবে একটি ব্যাংককে দেওয়া আইনসম্মত নয়।

মি খান বলেন যে সরকারের যে প্রোকিউরমেন্ট গাইডলাইন আছে তাতে এধরণের ক্ষেত্রে টেন্ডার হওয়া উচিৎ ছিলো ওপেন টেন্ডার। ওপেন টেন্ডারে সবচেয়ে সস্তায় সবচেয়ে ভালো কাজ পাওয়া যেখানে সম্ভব ছিলো সেখানে তা দেওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিলো বলে মনে হয়।

তবে, মি খান বলেন যে অনেকসময় সরকার তাড়াতাড়ি কোন কাজ করানোর জন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে এধরণের কাজ দিতে পারে তবে তা স্বল্পসময়ের জন্য হতে হবে - কোন স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে না।

অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের মতো ট্রাষ্ট ব্যাংকের কার্য্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব একেবারেই নেই। সুতরাং, সেই দিক থেকে এখনও পর্য্যন্ত কোন মন্দ ঋণ বা কুঋণের ভার তাদের তাদের ঘাড়ে চাপেনি।

অবশ্য, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হিসাবে লেনদেন বা মার্চেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় ইতোমধেই ব্যাংকটি কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছিলো।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে ব্যাংকটির পরিচালনায় সাধারণ শেয়ারধারীদের কাছে পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা আইনগতভাবে থাকলেও বিশেষজ্ঞরা ষাট শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের হাতে থাকার কথা উল্লেখ করে বলছেন যে যেহেতু পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই হচ্ছেন সেনাবাহিনীর কর্মরত কর্মকর্তা এবং বোর্ডের চেয়ারম্যান সেনাপ্রধান নিজে - সেখানে সেনাসংস্কৃতির প্রভাব থাকাটাই স্বাভাবিক।

ফৌজি বাণিজ্যের পঞ্চম পর্বে আমরা নজর দেবো সামরিকবাহিনীর ভূসম্পদ কীভাবে বিদেশী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনে ব্যবহৃত হচ্ছে সেদিকে।
---------------------------------------------------------------------------------------
সামরিক ভূসম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহার

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনে নানাভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সামরিকবাহিনীর ভূসম্পদ। হোটেল, ফাষ্ট ফুড শপ এবং গলফ ক্লাব – এসব কিছুরই সেবা এবং সুবিধা সীমিত শুধু বিত্তবানদের মধ্যে।

সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্কিত আরেকটি বড় বাণিজ্যিক প্রকল্প হচ্ছে ঢাকা বিমানবন্দরের কাছে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল রেডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেল।

এই হোটেলটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রথম পর্যায়ে এর সাথে জড়িত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী। তাঁর বর্ণনায় জানা যায় যে ১৯৮৭ সালে প্রথম এই হোটেলের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।

জেনারেল চৌধুরী বলছেন যে সামরিকবাহিনীর অতিথিদের আবাসন – বিশেষ করে বিভিন্ন সেমিনার বা সমাবর্তনে বাইরে থাকা আসা ব্যক্তিবর্গের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য সেনানিবাসের বাইরে একটি হোটেলের প্রয়োজন দেখা দেয়। তিনি বলেন যে বিশ্বের নানা দেশেই এধরণের আবাসন ব্যবস্থা করা হয় যা, তাঁর কথায় অবশ্য, ফাইভ ষ্টার হোটেল নয়।

জেনারেল চৌধুরী বলেন যে সময়ে এই জায়গাটি বেছে নেবার আরেকটি কারণ ছিলো হরতাল এবং যানজটের কারণে শহরের অন্য কোথাও যাওয়া আসায় অসুবিধা হতো।

সেনাকল্যাণ সংস্থা নীরব পৃষ্ঠপোষক হিসাবে থেকে তৃতীয় কোন পক্ষের মাধ্যমে এই হোটেল পরিচালনার কথা চিন্তা করে বলে জানিয়ে জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী বলেন প্রথমে এজন্যে চুক্তি করা হয়েছিলো হলিডে ইনের সাথে কিন্তু পরে সেই একই ব্যবস্থায় তা পরিচালনার দায়িত্ব নেয় রেডিসন।

হোটেলটির পুরোপুরি মালিকানা হচ্ছে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের এবং এটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে আন্তর্জাতিক হোটেল চেইন রেডিসন।

স্থাপত্য নকশার দিক থেকে হোটেলটির নান্দনিক সৌন্দর্য্য যে কারোরই নজর কাড়বে। আর, যেসব বিলাসিতা বা আরাম-আয়েশের জন্য বিত্তবানেরা পাঁচতারা হোটেলের আতিথ্য গ্রহণ করে থাকেন - তার সবকিছুই এখানে আছে। চিত্তবিনোদনের সান্ধ্য আয়োজন অতিথিদের মাতিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট।

রেঁস্তোরাগুলোর খাবারের কথাই বলুন, কিম্বা পানশালার পানীয় অথবা শরীর বা রুপচর্চার সেরা আয়োজনগুলোর সবই রয়েছে এই ৠডিসন ওয়াটার গার্ডেনে।

আর্মি গলফ ক্লাবে খেলার সুযোগ

হোটেলটি যে শুধুমাত্র সামরিক ভূসম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত তাই নয় - এটি ঢাকা সেনানিবাসের অন্যান্য স্থাপনার কিছু সুযোগ-সুবিধাকেও বাণিজ্যিক মুনাফার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে থাকে।

অতিথিদের জন্য যেসব বিশেষ প্যাকেজ রয়েছে তার মধ্যে একটি গলফ প্যাকেজ।

এর ওয়েবসাইটে প্যাকেজটির বর্ণণায় বলা হচ্ছে - “ ঢাকার রেডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে একরাত অবস্থান করে আর্মি গলফ ক্লাবের নাইন-হোল গলফ খেলার সুযোগ উপভোগ করুন। গলফ স্পেশালে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে ডিলাক্স কক্ষে রাত্রিযাপন, বিনাভাড়ায় হোটেলের গাড়ীতে হোটেল থেকে গলফ কোর্সে নিয়ে যাওয়া এবং নিয়ে আসা, বিনাভাড়ায় গলফ ক্লাব এবং প্রত্যেকের জন্য আলাদা ক্যাডি।“

ঢাকায় এধরণের বিলাসবহুল হোটেল রয়েছে আরো পাঁচটি - কিন্তু, আর কারো পক্ষেই তাদের অতিথিদের সেনানিবাসের গলফ কোর্সে গলফ খেলার সুযোগ দেবার কোন অবকাশ নেই।

ঢাকার অন্যান্য পাঁচতারা হোটেলগুলোর মধ্যে দুটির মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের এবং একটি ব্রিটেনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের।

আর, অপর দুটি হোটেলের উদ্যোক্তা পরিচালকরাও নিশ্চিত করেছেন যে ৠডিসনের মতো প্রতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। ৠাডিসনের সাথে সেনাবাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার কারণে এক্ষেত্রে বাণিজ্যে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়লেও হোটেলশিল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞ বিশ্লেষকদের কেউই এবিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন ৠাডিসন হোটেল সেনানিবাসের প্রায় সাত একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে - বর্তমান বাজারদরে যার মূল্য শতকেটি টাকার ওপরে। ঐ ধরণের অংকের বিনিয়োগ কোন বেসরকারী উদ্যোক্তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। আর, সেকারণেই ঢাকায় অন্য কোন পাঁচতারা হোটেলের স্থাপনা রেডিসনের একটি ভগ্নাংশ মাত্র।

ঐ বিশেষজ্ঞ বলেন যে জমি ছাড়াও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের যে অর্থ এই হোটেলে বিনিয়োগ করা হয়েছে - সেই একই পরিমাণ বিনিয়োগ কোন বেসরকারী উদ্যোক্তা যদি ব্যাংক থেকে ঋণ নেন - তাহলে তার সুদের হার হবে দশ থেকে চৌদ্দ শতাংশ। সুতরাং, এখানে কোন প্রতিযোগিতার অবকাশ কোথায় ?

বিষয়টি সম্পর্কে রেডিসন হোটলস এন্ড রিসর্টসের মূল কোম্পানী – কার্লসন হোটেলস ওয়ার্ল্ডওয়াইডের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলে কোম্পানীর এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্পোরেট কমিউনিকেশন্সের পরিচালক জে কৃষ্ণন এক লিখিত বিবৃতিতে জানান যে তাঁরা হোটেল ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠান যারা হোটেলের মালিকদের ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদান করে থাকেন।

মি কৃষ্ণন জানান যে এশিয়া প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলে রেডিসন যেসব হোটেল পরিচালনা করি তার কোনটিতেই তাঁদের মালিকানা নেই। সুতরাং রেডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ঢাকাতেও তাঁদের কোন মালিকানা নেই।

বিবৃতিতে বলা হয় যে অতিথিসেবা বা হসপিটালিটি খাতে এটা একটা প্রচলিত রীতি যে স্থাপনার মালিকের সহযোগিতার ভিত্তিতে ব্যবসার উন্নয়নে নানাধরণের সুযোগ বা সুবিধাকে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়িক কাজে লাগিয়ে থাকেন।

সেনানিবাসের গলফ কোর্স এভাবে একটি হোটেলকে বাণিজ্যিক সুবিধা নেবার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া কতোটা যুক্তিসঙ্গত ? এসম্পর্কে সেনাসদরের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

তবে, জেনারেল চৌধুরী এতে কোন সমস্যা দেখছেন না। তিনি বলেন যে যেহেতু হোটেলটির মালিক সশস্ত্রবাহিনী এবং গলফ কোর্সটিও সেনানিবাসের মধ্যে সেকারণে এটি ঐ পাঁচতারা হোটেলকে ব্যবহার করতে দেওয়ায় সেনাবাহিনীর কোন ক্ষতি হচ্ছে না। তাছাড়া গলফ ক্লাবটিও এভাবে কিছুটা আয় বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বেসরকারী খাতের হোটেলগুলোর মধ্যে একটির উদ্যোক্তা পরিচালক রাজনৈতিক কারণে একবছরেরও বেশী সময়ে বিদেশে অবস্থান করেন।

আর, অপর আরেকটি হোটেলের উদ্যোক্তা পরিচালককে সামরিক গোয়েন্দারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করতে বাধ্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফাষ্ট ফুড শপ

হোটেল এবং বিলাসবহুল খাদ্য - পানীয় এবং বিনোদন সেবা খাতে ৠডিসন ওয়াটার গার্ডেন হোটেলই সেনাবাহিনী-সম্পৃক্ত একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয়। ঢাকায় সেনানিবাস সংলগ্ন সড়কে নতুন প্রতিষ্ঠিত আধুনিক ফাষ্টফুড শপ - ক্যাপ্টেনস ওর্য়াল্ড আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের প্রতিষ্ঠান। লন্ডন বা নিউইয়র্কের মতো শহরগুলোতে যেধরণের ফাষ্ট ফুড শপ দেখা যায় এটি অনেকটা সেধরণেরই একটি প্রতিষ্ঠান।

সংস্থাটি যে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুধুমাত্র বিলাসবহুল হোটেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে তা নয়। খুব সাদামাটা হোটেলের ব্যবসাও বাদ যায় নি। এরকম একটি হোটেল হলো দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খুলনার নিউ টাইগার গার্ডেন হোটেল। খুলনা শহরের প্রবেশমুখেই এই হোটেলটি।

এছাড়াও ওয়াটার গার্ডেন হোটেলস নামে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আরেকটি পাঁচতারা হোটেল প্রকল্প এখন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

বিত্তবানদের জন্য সেনানিবাসের গলফ ক্লাব উন্মুক্ত

আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্টের রয়েছে তিনটি গলফ ক্লাব - ভাটিয়ারী গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব এবং সাভার গলফ ক্লাব। এসব ক্লাবের সবগুলোই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন শত শত একর জমির প্রতিষ্ঠিত।

একমাত্র ভাটিয়ারী গলফ ক্লাবেরই গলফ কোর্স প্রায় ছশো একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তবে, ভাটিয়ারী গলফ ক্লাব লিমিটেড নামে যে কোম্পানী সরকারী এই সম্পদকে বিনোদনমূলক ব্যবসার কাজে লাগাচ্ছে সেই ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদে সেনাবাহিনীর বাইরে ধনী ও বিত্তবান কয়েকজন ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার ঠিক দুবছরের মধ্রেই এই ক্লাবের সদস্যসংখ্যা শয়ের কোঠায় পৌঁছে যায়। এসব ক্লাবের আয়-ব্যয় বা লাভ - লোকসানের কোন হিসাব ক্লাবটির পরিচালকদের বাইরে কারো জানার সুযোগ নেই।

কিন্তু, ভাটিয়ারী গলফ ক্লাবের একটি প্রকাশনায় বলা হচ্ছে - ভাটিয়ারী গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব ১৯৮৪ সালের এগারোই এপ্রিল একটি কোম্পানী হিসাবে যথাযথভাবে রেজিষ্ট্রি করা হয়েছে এবং জাতীয় পর্য্যায়ের একটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসাবে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্বীকৃতি লাভ করেছে। যার অর্থ হলো এই ক্লাবের যেসব দান বা সাহায্য আসবে তার ওপর কোন কর প্রযোজ্য হবে না।

সাভারের গলফ ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে প্রায় উনসত্তুর একর জমির ওপর। বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা সাড়ে সাতশোজন – যার মধ্যে প্রায় চল্লিশ শতাংশ হলেন সেনাবাহিনীর বাইরের। এমনকী এদের মধ্যে আটাশজন প্রবাসী বা বিদেশীও রয়েছেন।

সেনানিবাস সংলগ্ন এসব গলফ ক্লাবের প্রধান হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সেনানিবাসের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং বা জিওসি। আর, পরিচালকদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠরা কর্মরত সেনা কর্মকর্তা।

এসব রাষ্ট্রীয় সম্পদ একটি বিশেষ গোষ্ঠীর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কীভাবে সে প্রশ্নের জবাব অবশ্য সেনাসদর থেকে পাওয়া যায় নি।

তবে, এসব ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সেনাবাহিনী কীধরণের নীতি অনুসরণ করে থাকে – জানতে চাইলে সাবেক এডজুটেন্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরী বলছেন যে সাধারণত সেনা সদর দপ্তরের কাছে গলফ কোর্স থেকে থাকে যাতে কর্মকর্তারা অবসরে খেলতে পারেন।

কিন্তু, ফাইটিং ফরমেশনের কাছে তা থাকেনা। কেননা, অফিসারদেরকে সকাল – বিকাল সাধারণ সৈনিকদের সাথে শরীরচর্চা এবং অন্যান্য খেলাধূলায় অংশ নিতে হয়।

জেনারেল চৌধুরী বলেন যে সাভারে গলফ কোর্স করায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বাইরের সাথে যোগাযোগ বেড়ে যাবে এবং সেটা সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলার জন্য একটা মন:পূত বিষয় হবে না।

সশস্ত্রবাহিনীর প্রায় সব বাণিজ্যিক উদ্যোগের প্রাথমিক পুঁজির যোগানদাতা হলো সরকার। কিন্তু, সরকারের এধরণের নীতি কতোটা যৌক্তিক? সেপ্রসঙ্গ ফৌজি বাণিজ্যের ষষ্ঠ পর্বে।
---------------------------------------------------------------------------------------

অবসরকালীন কল্যাণে রাষ্ট্রের পক্ষপাতিত্ব

অবসরের পর বেসামরিক কর্মচারীদের বিপরীতে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা সুযোগ-সুবিধা অনেকটা বেশীই পেয়ে থাকেন। এই নীতিকে তাই অনেকে পক্ষপাতমূলক বলেও অভিহিত করে থাকেন। বেসামরিক রাজনৈতিক সরকারগুলোর ক্ষেত্রেও এর কোন ব্যতিক্রম দেখা যায় না।

সেনাবাহিনীর যোগসূত্র রয়েছে এমনধরণের সব শিল্প ও বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিনিয়োগকৃত সম্পদের সিংহভাগ এবং প্রাথমিক পুঁজি প্রধানত এসেছে সরকারের কাছ থেকে।

অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের কল্যাণ তহবিলের যেটুকু সম্পদ উত্তরাধিকারসূত্রে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী পেয়েছে তার তুলনায় বহুগুণ বেশী অর্থ এবং সম্পদ নতুন করে যোগান দিয়েছে সরকার এসব বাণিজ্যিক প্রকল্পে।

কিন্তু, অবসরপ্রাপ্ত অন্য কোন সরকারী কর্মচারী বা কর্মকর্তার কল্যাণের জন্যে সরকারের তরফে এতো বিপুল আকারের কোন হিতকর উদ্যোগ দেখা যায় না। অন্য যেকোন সরকারী কর্মচারী অবসরগ্রহণের পর যেসব পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন - সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরাও সেগুলো একইভাবে পেয়ে থাকেন।

বেসামরিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলে অনুদান ২ কোটি টাকা

অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান প্রশ্ন করেন যে যদি তুলনা করা হয় – যারা অবসরপ্রাপ্ত বেসামরিক সরকারী কর্মচারী – তাদের জন্য সরকার কী করে? সেটা তুলনা করলে তো একটা খুবই করুণ চিত্র ফুটে উঠবে। তাদের জন্য তো কিছুই করা হয় না।

তিনি জানান যে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির জন্য সরকার গতবছরে মাত্র দুই কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।

মি খান বলেন যে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের জন্য সেনা কল্যাণ সংস্থা রয়েছে এবং আরো কয়েকটি কল্যাণ সংস্থা হয়েছে যেগুলোর প্রাথমিক সম্পদের যোগান দিয়েছে সরকার এবং পরে হয়তো তা থেকে আরো বড় হয়েছে। অনেকে আবার লোকসানও করেছে। কিন্তু, এগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ্বতার অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সৈনিকদের অবসরকালীন জীবন ও তাদের পরিবারগুলোর কল্যাণের লক্ষ্যে এসব বাণিজ্যিক উদ্যোগে সেনাবাহিনীর আগ্রহী হবার কারণ কী?

‘সেনাবাহিনীর আলাদা সম্পদ তৈরীর উদ্যোগ রাজনৈতিক মাত্রা পেতে পারে‘

এ প্রশ্নের জবাবে সামরিকবাহিনীর অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মিলিটারী ইনকরপোরেটেড: ইনসাইড পাকিস্তান‘স মিলিটারি ইকোনমি বইয়ের রচয়িতা ডঃ আয়েশা সিদ্দিকা বলেন যে কল্যাণের যুক্তির অনেকগুলো পর্যায় রয়েছে। সেনাবাহিনী যে নিজেদের পছন্দমতো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে সম্পদ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এটাই তো একটা বড় বিষয়।

পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ - এদুটো দেশেই তো সামরিকবাহিনীর সদস্যদের অবসরপরবর্তী কল্যাণের বিষয়টি রাষ্ট্র দেখে থাকে - তাদের পেনশন দেওয়া সরকারের দায়িত্ব – একথা উল্লেখ করে ডঃ সিদ্দিকা বলেন যে তারপরও সেনাবাহিনী নিজেদের জন্য আলাদা সম্পদ তৈরীর যে উদ্যোগ নিয়েছে তার ফলশ্রুতিতে সামরিকবাহিনীর অর্থনৈতিক স্বার্থ যে রাজনৈতিক মাত্রা লাভ করবে - সেটা তো শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সামরিকবাহিনীর ভ্রাতৃত্ববোধ এবং রাজনৈতিক সরকারগুলোর কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা আদায় করে নেবার বিষয়টি যে শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে ঘটে থাকে তাই নয় - বরং পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সামরিকবাহিনী অন্য কয়েকটি দেশের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাচ্ছে বলেই মনে করেন ডঃ আয়েশা সিদ্দিকা।

ডঃ সিদ্দিকা বলেন এটি হচ্ছে চীন, ইন্দোনেশিয়া এবং তুরস্কের মডেলের একটি সংমিশ্রণ। তুরস্কের মডেলটি হচ্ছে পেনশন তহবিলের টাকা নিয়ে তা পুর্নবিনিয়োগ করা - তবে, সেনাবাহিনী সেখানে কর্পোরেট ব্যবস্থাপনার ময়লা হাতে লাগায় না - তারা নির্ভর করে পেশাদারদের ওপর। কিন্তু, চীন এবং ইন্দোনেশিয়ায় সামরিকবাহিনী নিজেরাই এতে গভীরভাবে জড়িত।

তিনি জানান যে চীনে সেনাবাহিনী এখন আর সেবাখাতে সম্পৃক্ত নেই - তবে উৎপাদনমুখী শিল্পে তারা জড়িত। তাঁর মতে পাকিস্তান হচ্ছে এই দুইয়ের সংমিশ্রণ - সেনাবাহিনী এখানে যেমন সরাসরি বাণিজ্যে জড়িত তেমনি পরোক্ষভাবেও তারা বিভিন্ন প্রকল্পে বাণিজ্যিক স্বার্থ বজায় রেখেছে। বাংলাদেশের মডেলও প্রায় একরকম বলেই ডঃ সিদ্দিকার ধারণা।

ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়

অবসরজীবনের কল্যাণের কথা বলে সেনাবাহিনী নিজেদের পছন্দে এবং নিয়ন্ত্রণে সম্পদ গড়ে তোলার কারণে রাষ্ট্রের ওপর তার প্রভাব যে খুব একটা সুখকর হয়নি - তার আরেকটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে ইন্দোনশিয়া।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে তার নির্মম প্রতিফলন দেখা যায়। সামরিকবাহিনী নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশটিতে বাণিজ্যিক লালসাতাড়িত হয়ে দূর্নীতি, মানবাধিকার লংঘন এবং অপরাধমূলক নানা কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে।

ব্যাপক গণরোষের মুখে ২০০৪ সালে দেশটির পার্লামেন্ট আইন করে পাঁচ বছর সময় বেঁধে দেয় যে ঐ সময়ের মধ্যে সশস্ত্রবাহিনীকে সব ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু, কেন তা সম্ভব হয় নি ?

ঐ রিপোর্টের রচয়িতা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সিনিয়র ফেলো লিসা মিসোল বলছেন যে এটা একটা বড় হতাশাজনক বিষয় - এবং ইন্দোনেশীয়রা সেজন্যে অত্যন্ত হতাশ। এখানে বিরাট স্বার্থের বিষয় রয়েছে।

তিনি বলেন যে একটা গোষ্ঠী আছে যারা চায় না এই ব্যবস্থাটার ইতি ঘটুক - যে ব্যবস্থায় তারা সম্পদশালী হতে পারবে। এছাড়াও সরকারের তরফে যুক্তি দেয়া হয়েছে আইনগত জটিলতার।

তাঁর মতে আসলে বিষয়টি হচ্ছে রাজনৈতিক ইচ্ছার অভাব। ইন্দোনেশীয় সমাজে সেনাবাহিনী এখনও অত্যন্ত ক্ষমতাবান একটি প্রতিষ্ঠান। আর সে কারণে এগুলো তাদের হাত থেকে নিয়ে নিলে তারা ক্ষুব্ধ হতে পারে - এই চিন্তার কারণে একধরণের অনীহাও রয়েছে।

লিসা মিসোল বলেন যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব একারণেই এবিষয়ে তেমন একটা জোর দেয়নি। যেকারণে পাঁচবছর পর একটা নতুন পদক্ষেপ হিসাবে যা ঘোষণা করা হয়েছে - তা হলো একটি নতুন কমিটি গঠন - যে কমিটি তাদের বাণিজ্যের গতিবিধির ওপর নজর রাখবে যাতে অতীতের মতো অন্যায় কাজগুলো আর না হয়।

বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগে সশস্ত্রবাহিনীর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে সামরিকবাহিনীর ভিতরে কী ধারণা পোষণ করা হয় সেটা অবশ্য জানা দুষ্কর।

বিশেষ করে বাংলাদেশে সশ্স্ত্রবাহিনীর ভিতরে কোনধরণের মতামত জরীপ পরিচালনার কথা কোন অসামরিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভাবা সম্ভব কীনা সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ।

বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট ভূমিকা নিয়ে কোন গবেষণার কোন অস্তিত্ত্ব পাওয়া যায় নি। তবে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবিষয়টি আলোচনায় কর্মরত সেনাকর্তাদের মধ্যে একধরণের অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনাপতিদেরও কেউ কেউও বিষয়টিতে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উন্নত বিশ্বে রসদও আসে বাইরে থেকে

আর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ ইনিষ্টিটিউট অব পিস এন্ড সিকিউরিটিজ ষ্টাডিজের প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম মুনীরুজ্জামান বলছেন ব্যবসা বাণিজ্যে সেনাবাহিনীর এধরণের ভূমিকা তাদের পেশাদারী চরিত্রে ব্যত্যয় ঘটাতে পারে ।

জেনারেল মুনীরুজ্জামান বলেন যে তাঁর কাছে বড় প্রশ্ন হচ্ছে যে সেনাবাহিনীর এধরণের ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত হওয়ার কোন প্রয়োজন আছে কীনা – কেননা, পাঁচতারা হোটেল বা ব্যাংক চালানোর জন্য যেধরণের পেশাগত দক্ষতা প্রয়োজন তা সেনাবাহিনীর সদস্যদের থাকার কথা নয়।

সেনাবাহিনী অনেকসময় তাদের ব্যবহার্য্য রসদপত্রের সরবরাহ ব্যবস্থা অন্যের ওপর নির্ভরশীল না রেখে নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের প্রকল্প হাতে নিয়ে সেগুলো বাণিজ্যিকভিত্তিতে পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে, সামরিক পশু খামারের মতো প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক একজন অর্থসচিব জানিয়েছেন যে সাভারের সামরিক পশু-খামারের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য একবার বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হলে তিনি যখন তার যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছিলেন তখন ঐ প্রস্তাবের সাথে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে সৈনিকদের জন্য নিয়মিত দুধ প্রয়োজন এবং খোলাবাজার থেকে তা কেনা হলে শত্রুরা তাতে বিষ মিশিয়ে দিতে পারে।

সেই যুক্তিটি তখন নাকচ করে দেওয়া হলেও সামরিকবাহিনীর ঐ খামার এখন রয়েছে এবং তার সম্পদমূল্য শুধু জমির দাম হিসাবেই কয়েকশত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

সশস্ত্রবাহিনীর প্রয়োজনীয় রসদ যোগান দেবার এই সংযোগশিল্প বা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের প্রয়োজনীয়তাকেও মানতে নারাজ জেনারেল মুহ্ম্মদ মুনীরুজ্জামান বলেন যে পশ্চিমা দেশগুলোতে বড় সেনাবাহিনী এখন রসদসামগ্রী নিজেরা তৈরী করে না। বাইরে থেকে সংগ্রহ করে থাকে।

তিনি বলেন যে এখন হোল আউটসোর্সিংয়ের যুগ এবং ম্যানেজমেন্টের দিক থেকে ও অর্থের দিক থেকে আউটসোর্সিং হোল লাভজনক এবং সহজ।

জেনারেল মুনীরুজ্জামান পাশ্চাত্যের বৃহৎ সামরিক শক্তিগুলোর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেন যে সেসব দেশে এমনকী সমরাস্ত্র তৈরীর শিল্প বা ডিফেন্স ইন্ডাষ্ট্রিও এখন বেসরকারী খাতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সেসব দেশে সেনাবাহিনী শুধুমাত্র গবেষণা ও অস্ত্রের উন্নয়ন কাজের মধ্যেই নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ রেখেছে।

বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠান হিসাবে সেনাবাহিনীর এসব বাণিজ্যিক উদ্যোগে জড়িত হবার বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করেও সেনাপ্রধান বা সেনাসদরের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি কী তা জানার চেষ্টা চালিয়েও খুব একটা এগুনো যায় নি।

জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই একজন। মি আলী বাংলাদেশে সামরিকবাহিনীর এসব বাণিজ্যিক উদ্যোগে জড়িত হওয়ায় কোন সমস্যা দেখছেন না। তিনি বলেন যে আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাষ্ট বা সেনা কল্যাণ সংস্থা এগুলো অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের কল্যাণের উদ্দেশে করছে এবং এসব কল্যাণমুলক উদ্যোগ ভালো।

তবে, মি. আলী বলেন যে সেনাবাহিনীর এধরণের কল্যাণমূলক কার্যক্রমও একটা পরিসীমার মধ্যে থাকা উচিৎ - যাতে করে তাদের মূলকাজ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সেনাবাহিনীর বিভ্ন্নি বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়ে এই ধারাবাহিকে এপর্যন্ত যেসব প্রকল্পের দিকে আমরা নজর দিয়েছি সেগুলোতে অবশ্য তাদের অংশগ্রহণ হচ্ছে পরোক্ষ। কিন্তু, নানাধরণের কল্যাণমূলক ট্রাষ্টের বাইরে সশ্স্ত্রবাহিনী সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিচালনা করছে এমন প্রকল্পও রয়েছে - সেপ্রসঙ্গ ফৌজি বাণিজ্যের সপ্তম পর্বে।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


সাংবাদিক কামাল আহমেদ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিন মাসুম ভাই। তাঁর এই কাজটা তো যুগান্তরী হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ রিপোর্ট প্রচার হয় কখন? (অলরেডী প্রচার হয়ে গেছে, না কি এখনো হচ্ছে?)

শওকত মাসুম's picture


কামাল ভাই দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করেন। এখন বিবিসিতে, অনেকদিন ধরেই। সর্বশেষ ছিলেন ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে।

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


not worthy

তানবীরা's picture


টাকা পয়সা কার না ভালো লাগে। সেনা বাহিনীকি তার বাইরে? আহারে কেনো সেনায় গেলাম না

জ্যোতি's picture


মাসুম ভাইরে ৫ কেজি ধইন্যা। কত অজানা জানতেছি।

রাসেল's picture


শেয়ার বাজারে সরাসরি সম্পৃক্তির বাইরেও এর মোট মূলধনের ২৭% সরাসরি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে- সম্মিলিত ভাবে দেশের পূঁজি বাজারের সামান্য অংশ ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেও সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা হলো ১০% পর্যন্ত ব্যাংকগুলো শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

মাসুম ভাই ব্যাংকিং নিয়া সেমিনারে আপনার প্রশ্নটা জটিল হইছে।

মুকুল's picture


চলুক। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ।

মামুন হক's picture


মনোযোগ দিয়ে পড়ছি। সিরিজ শেষে বিস্তারিত মতামত মন্তব্যাকারে জানাবো। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

টুটুল's picture


Waiting Waiting

১০

নাহীদ Hossain's picture


খেয়াল করে পড়তেছি ... Smile

১১

নীড় সন্ধানী's picture


বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানী মডেল ধরে এগোতে থাকে, ভয় আছে।
এখন সম্ভবতঃ সেই লাইনেই আছে।

১২

মাহবুব সুমন's picture


বাংলাদেশ আর্মি পাকিস্তানি মডেল হুবুহু ফলো করে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শওকত মাসুম's picture

নিজের সম্পর্কে

লেখালেখি ছাড়া এই জীবনে আর কিছুই শিখি নাই।