আমার চোখে বিটলস
অগাস্ট ১,১৯৭১
- ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন নিউইয়র্ক।
স্টেজের পেছনে বসে উত্তেজনায় ঘামাচ্ছেন
গিটার
লিজেন্ড এরিক ক্ল্যাপটন। প্রচন্ড অসুস্থ এরিক।
হেরোইন
এডিকশন তাকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে।
পারবেন
তো ঝর তুলতে গিটারে। যদি ভুল হয়। ঠিক
সে মুহুর্তে ক্ল্যাপটনের চোখে ভেসে উঠে হাজার
মাইল দূরে বাংলাদেশ নামক জন্মযুদ্ধে লিপ্ত এক
দেশের মা হারা সন্তানটার ছবি...এর আগেই
ক্ল্যাপটম
পারফর্ম করতে পারবেন না বলে নিশ্চিত সবাই।
সে ক্ল্যাপটন স্টেজে উঠলেন বাজালেন জয় করলেন।
জর্জ হ্যারিসনের সাথে ক্ল্যাপটনের " হোয়াইল মাই
গিটার
জেন্টলি উইপস" গানে দুই লেজেন্ডের গিটার ডুয়েল
লাইভ কনসার্টের ইতিহাসেরই অংশ হয়ে থাকবে।
অসুস্থ
ক্ল্যাপটন যার বাজাবার কথাই ছিলনা, সে ক্ল্যাপটন
পুরো কনসার্টে একটা কর্ড মিস করলেন না... দিস ইজ
এরিক
ক্ল্যাপটন ফর ইউ।
বব ডিলান তো কনসার্টের আগের দিন থেকে একই
কথা বলে যাচ্ছিলেন, জর্জ আমি পারবো না। কারণ
এর
আগের দুই বছর বব একদম গানই গাননি। সে বব
স্টেজে উঠলেন ,দিলেন ইলেক্ট্রিফ্লায়
িং পারফরমেন্স।
এক রিদমে পাচ পাচটা গান... তাও বব ডিলানের
কন্ঠে।
মায়েস্ত্রো কারে বলে?
ড্রামের পেছনে ছিলেন চির তরুণ রিঙ্গো দা স্টার।
বিটলসের রিঙ্গো। বন্ধু হ্যারিসনের ফোন পেয়ে নতুন
অ্যালবামের কাজ ফেলে ছুটে এসেছেন রিঙ্গো।
টাকা গেলে যাক,হ্যারিসনের
আমাকে দরকার...বাংলাদেশের
সাত কোটি মানুষের আমাকে দরকার
আর সবকিছুর শুরু হয়েছিল কখন?
না ৭১ এ না,৫৮ এর
ফেব্রুয়ারীতে ইংল্যান্ডের লিভারপুল শহরে যখন দুই
বন্ধু
জন লেনন, পল ম্যাকার্টনির সাথে জর্জ হ্যারিসনের
প্রথম
দেখা হয়। হোটেলে অডিশন দিতে গিয়েছিল তিনজন
মিলে গান না শুনেই ম্যানেজার তারিয়ে দেয়
বাচ্চা কাচ্চা বলে। সে তিন বাচ্চা কাচ্চাই
রিঙ্গো দা স্টারের
সাথে পরবর্তী ২০ বছরে রক এন্ড রোল গানের
ইতিহাসই
পাল্টে দেয়...
টাইমস ম্যাগাজিন যে টাকে নাম
দিয়েছে "
গ্রেটেস্ট মিউজিক্যাল জার্নি এভার"
"কনসার্ট ফর বাংলাদেশ" কতটা সারা ফেলেছিল এর
প্রমাণ
পাওয়া যায় পরের দিন নিউইয়র্ক টাইমসের
হেডলাইনে "
বিটলম্যানিয়া সুইপস দা সিটি"।
আর এই কনসার্ট হয়েছিল আমাদের এই
বাংলাদেশের
মানুষের জন্যে। ভাবতে পারেন। জর্জ হ্যারিসন
রবিশঙ্কর
দুইজন না থাকলে যা হোতোনা।কোন
ঠেকা তো ছিলনা তাদের। জর্জের
সোলো ক্যারিয়ার
তখন তুঙ্গে। এটাই ছিল বিশ্বের প্রথম কোন
চ্যারিটি কনসার্ট... রোলিং স্টোন যাকে নাম
দিয়েছিল "
কনসার্ট অফ দা ডেকেড বলে"।
জি এই আমাদের বাংলাদেশের জন্য সেদিন
একি স্টেজে গেয়েছিল রিঙ্গো দা স্টার , এরিক
ক্ল্যাপটন , বব ডিলান , বিলি প্রেস্টন লিওন
রাসেলদের মত
লেজেন্ডরা...
আর সবার আগে ছিল দা বিটলস জর্জ হ্যারিসন...।
জর্জ হ্যারিসনের কাছে আমাদের দেশের আজন্ম
ঋণ।
আমরাও গর্ব করে বলতে পারি বিটলস আমাদের জন্য
গান
গেয়েছিল। পূর্ব রণাঙ্গনে যখন ক্র্যাক প্লাটুনের
ক্র্যাক
ছেলেরা একের পর এক আরবান
গেরিলা অ্যাকশনে হানাদেরদের যখন
ধরণী দ্বিধা হও
অবস্থা, তখন হাজার মাইল দূরে আরেক ক্র্যাক
হেডেড
লেজেন্ড জর্জ হ্যারিসন নিউইয়র্কের ম্যাডিসন
স্কয়ারে গার্ডেনে গিটার টাকে রাইফেল
বানিয়ে বিশ্বের
কাছে পৌছে দিয়েছিলেন আমাদের জয়গান...
বাংলাদেশ
বাংলাদেশ।
দিস ইজ বিটলম্যানিয়া ফর ইউ





ধন্যবাদ
ভালো লাগলো অনেক, এরকম লেখা আরও চাই।
মন্তব্য করুন