ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৩

আজকে আমার এই অফিসে শেষ কর্মদিবস। এরপর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কাগজে-কলমে আমি অফিসের কর্মচারী থাকলেও, ছুটিতে থাকবো। তারপর থেকে আর কাগজে-কলমেও আর থাকবো না এখানকার কোথাও।

আজ আমার এ অফিসে কাজ পাওয়ার স্মৃতিটা মনে পড়ছে বারবার। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে, জানুয়ারির ২০ তারিখে আমায় জার্মানির ইলমিনাউ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন দিয়ে দিয়েছিলো। সেদিন মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাশ করে বের হতে পেরে আমার ভালও লাগছিল আবার একটু চিন্তাও হচ্ছিলো। কেননা ঠিক সেদিন থেকেই চালু হয়ে গিয়েছিল ১৮ মাসের একটা ঘড়ি। এ সময়ের ভেতর আমায় "মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন" সম্পর্কিত কোন একটা চাকুরি জোগাড় করতে হবে নয়তো ব্যাবসা দাঁড় করাতে হবে। নাহলে জার্মানি থেকে পাঠিয়ে ফেরত দেয়া হবে। অন্য কোন লাইনের চাকুরি বা ব্যাবসা হলেও হবে না।

যার জন্য কোনকিছুর সঙ্গে পরামর্শ করতে হয় না

মৌসুম এসে পড়েছে। ঝরা পাতার মৌসুম। বছরের অদ্ভুত সুন্দর একটা সময়। খুব অল্প কয়েকটা দিনের জন্য এ সময়টা আসে। সব গাছের পাতা অল্প কয়েকদিনের জন্য রঙিন হয়ে যায়। পথ চলতে চলতে রঙিন পাতাওয়ালা গাছ দেখতে দেখতে চিরপরিচিত রাস্তাঘাটও খানিকের জন্য অচেনা ঠেকে। তারপর একদিন গাছগুলোকে শুন্য করে দিয়ে সব পাতা ঝরে যায়। পরের বছর আবার পাতায় পাতায় ভরে ওঠার জন্য।

এ সময়টায় করার মতো একটা দারুণ কাজ হচ্ছে ট্রেনে চেপে ঘুরতে যাওয়া। ট্রেনের জানালা দিয়ে রঙিন বাহারি পাতাসমৃদ্ধ গাছগুলো যখন যখন একটা পর একটা পার হয়, তখন সাধারণ ছোটখাটো মানসিক অশান্তির কারণগুলো এমনিতেই ঝরে যায়। তবে খুব বড় যেগুলো, সেগুলো ঝরে না। সেগুলো কখনোই ঝরে না। নিজেদের মতো থেকে যায়। কখনো, হয়তো কোন এক বন্ধ্যা সময়ের বানে, গোপন কুঠুরি থেকে বের হয়ে এসে নিউরণে আঘাত হানে।

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ২

কাটছে সময় কি তার আপন গতিতে? কে জানে তা। আমার তো কখনো মনে হয় সময় যেন কাটছেই না, আবার কখনো মনে হয় এত দ্রুত সবকিছু ঘটছে যেন দেখা ছাড়া আমার দ্বারা আর কিছুই করা হচ্ছে না। তবে এটাও কিন্তু হতে পারে যে, সময় তার নিজের মতো করে সকলের জীবনে ভারসাম্যতা ঠিক করে দেয়। যে কারণে কখনো সেটিকে দ্রুতগতির মনে হয় আবার কখনো মনে হয় মন্থর। আসলে নিজের গতিতে সে আবহসঙ্গীতের মতো চলতেই থাকে পুরোটা সময়।

আজকাল একসঙ্গে নতুন বাসা খোঁজা এবং পুরোনো বাসা হাতবদলের কর্ম সম্পাদনে ব্যস্ত সময় কাটছে। তবে সে ব্যস্ততাটা যে আসলে কি, তা বলা বড় কঠিন। এই যেমন; পুরোনো বাসা কোন মেরামত ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবেই নতুন ভাড়াটিয়াকে বুঝিয়ে দেয়া যাবে কিনা, তা দেখতে আসবেন যিনি, তিনি যেন মুগ্ধ হন- সে চেষ্টা চললো তিনটি দিন। সেটা ছিল একটা ব্যস্ততা। কিন্তু আসলেই কি?

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ১

ইয়েন্স গুটোভস্কি নামের এক ব্যাক্তিকে ফেসবুকে পোস্ট দিতে দেখলাম "ভাঙ্গনজনিত কারণে নতুন বাসার প্রয়োজন পড়েছে" লিখে। কারও সন্ধানে ভাড়া পাওয়ার মতো বাসা থাকলে তাকে যেন জানানো হয়।

যে শহরে থাকি সে শহরের বাসিন্দাদের একটা "ফেসবুক পেইজ" রয়েছে। সেখানে বাসিন্দারা নিজেদের মজার ছবি, অভিজ্ঞতা, অভিযোগ ইত্যাদি যেমন প্রকাশ করেন, তেমন ঘরের পুরোনো আসবাবপত্র বিক্রি, ঘর ভাড়া দেয়া ইত্যাদির বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করেন। আবার ইয়েন্সের মতো কেউ কেউ ঘর ভাড়া বা আসবাবপত্র ইত্যাদির খোঁজে থাকলে, তারাও সুবিধাটা ব্যাবহার করেন।

কবিতা: ধান্দাবাজির এই শহরে ঘাসফুলেদের ঠাঁই নাই

আজকাল সিনেমা
উপন্যাস, গান
কোথাও ঘাসফুলের
কথা বলা হয় না,
কেউ আর বলে না
শিশিরের বিন্দুতে
ঠিকরে পড়া রোদের কথা।
আজকাল শুধু খুন
ধর্ষণ, দুর্ঘটনা আর
ভাঙনের কথা বলে সবাই
জীবনের অর্থ পাল্টে হয়েছে
যেকোন উপায়ে আপন
প্রাণ বাঁচাই।

পরিবারের অর্থ পাল্টে হয়েছে
আগুনের গোলক,
আর কেউ এই "আজকাল"কে মানতে
না চাইলে, পরিবারই তাকে দেহ-
মনে পিটিয়ে লম্বা করে দেখিয়ে দেয়
কোথাকার কোন বালব্যাটা হে তুই বালক?
দুই, চার, পাশশো কিংবা ক'টা হাজার
টাকাও আজ কথা বলে। আর তুই এসেছিস
হিন্দি চুল তুলে আঠিঁ বানাতে?

আর তো সমাজের অন্যান্য
ইনস্টিটিউশনের কথাগুলো বাদই দিলাম।
বিয়ে নাকি এককালে অমন একটি ইনস্টিটিউশন ছিল
হাহাহা, আজকালের বিয়ে মানে যেকোন ছুতোয়
নির্যাতন আর প্রতারণা।

ধর্ম নাকি একসময় মানুষের ভেতর শান্তির
বাতাস বইয়ে দিতো। অট্টহাসি পায় সে কথাটা
এখন ভাবলে। আজ মেকি বানোয়াট শান্তির আধাঁরে

গল্প: জানি না ক'জন জানে সেটা

মুর্শেদ সাহেব পেনশন পান ২৫ হাজার টাকা। তার গাড়ির ড্রাইভার বেতন নেন ১৭ হাজার টাকা। বাদবাকি আট হাজার টাকায় মুর্শেদ সাহেবকে প্রতি মাসে বাড়ির বাজার খরচ, বিদ্যুত বিল, পানির বিল, গ্যাসের বিল দিতে হয়।

গল্প: ঠিক সেই ঘটনাটিই সেদিন স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে ঘটেছিল

তোমার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার ক্ষণটির কথা আজও আমার মনে আছে। টিএসসি এলাকায় ডাস-এর ঠিক পেছনটায়, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটির সামনে; বেদির নিচের যে ছোট্ট সবুজ ঘাসটুকু- ওই খানটায় একটা ঠান্ডা লাচ্ছির গ্লাস নিয়ে বসে ছিলে তুমি। আমি বোধহয় সেদিন তোমায় খানিকটা সময় অপেক্ষা করিয়েছিলাম, তাই না?

সেদিন হয়েছিল আমাদের প্রথম দেখা। আর তার আগে যে কত শত শত টেক্সট মেসেজ চালাচালি! নামি, বেনামি কত অসংখ্য মাধ্যমে। মেসেজ আদানপ্রদান করে-করেই নিজেদের সব কথা বলা হয়ে গিয়েছিল আমাদের, তাই না? যেন বলার ছিল না কোনকিছু, যেবার আমরা প্রথমবারের মতো নিজেদের সামনাসামনি দেখেছিলাম।

দেখা হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কি করেছিলে তুমি? বরফ ঠান্ডা লাচ্ছি মুখে নিয়ে বিষম খেয়েছিলে, ঠিক না? আমাকে যেমনটি ভেবেছিলে একদমই তেমনটি ছিলাম না আমি, ঠিক কিনা? ডিজিটাল এই যুগে আমরা কজনই বা নিজেদের সারাদিন কেমন দেখায়, সেটা পৃথিবীকে দেখাই?

গল্প: এক এক্লিপস্-এ আটকে পড়া কালে ব্লু মুন খুব হেল্প করেছিল

সেবার ভালো না লাগার ব্যামোটা বেশ ভালো ভাবে আমাকে পেয়ে বসেছিল। কোনোকিছু ভালো লাগে না। সকালে ঘুম থেকে উঠতে ভালো লাগে না। বিছানায় গড়াগড়ি দিতে ভালো লাগে না। কারো সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ভালো লাগে না। ভাজা-পোড়া খেতে ভালো লাগে না। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে ভালো লাগে না, চ্যাটিং করতে ভালো লাগে না। টরেন্ট দিয়ে মুভি নামাতে ভালো লাগে না। লাগে না তো লাগেই না। মাথাভর্তি সাইকেডেলিক জ্যাম। ঘরের স্পিকারে পিংক ফ্লয়েডের এক্লিপস্ বাজতে থাকে টানা। দিনের পর দিন কেটে যায়। আশপাশের মানুষ আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। আমি তাদের জন্য কিছুই করতে পারি না।

কবিতা: তোমাকে করার একটা প্রশ্ন আছে মনে

তোমাকে করার একটা প্রশ্ন আছে মনে
আবার চিন্তা হয় নুন আনতে যাহার
পান্তা ফুরায়, তার কি সাজে এই ভুবনে
কাউকে নিয়ে চন্দ্রযানে
সওয়ার হওয়ার
স্বপ্ন দেখার।

চন্দ্রভ্রমণ দূরেই থাকুক
হাতের কাছে সিকিম চলো।
কি হয় তাতে? ছোট্ট সেটা স্বপ্ন আমার
তোমার সাথে রাতের আধাঁর, কাটলে কাটুক
পথেই নাহয়, হাতটি ধরে গল্প করে, চায়ের টংয়ে
পা নাচিয়ে, মেঠো পথে শিশির ছুঁয়ে, হাসতে হাসতে
ভরবো রাত। তোমার সনে একটি সাধ।

আর নাহয় তো বেনিংটনে, ছোট্ট কোন ফ্ল্যাটবাড়িতে
তোমার আমার যৌথখামার, সুখের প্রদেশ শান্তির দ্বার
সকাল যখন সাতটা বাজে, ঘড়ির ডাকে ছুটবো কাজে
রাতের বেলা ছুটছি দুজন, মজার শহর বেনিংটন
মধ্যরাতে খাচ্ছি পিজা, নিচ্ছি ট্রেন ইচ্ছামতো
ফিরছি ভোরে উইকেন্ডে, পাথর মনটা চাচ্ছে যতো।

তাও হবে না? সমস্যা নেই কো
ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগো
যাবে নাকি আমার সাথে
ওখানে একটা হোটেল হবে
সেই হোটেলে করবো আমি

গল্প: রাজকুমারীর যে কথাটা আসলেই হৃদয় অচল করে দিয়েছিলো

সেদিন বাসে করে ফিরছিলাম এয়ারপোর্ট থেকে। গন্তব্য শাহবাগ। ভায়া কাকলী-বনানী-ফার্মগেট। মাঝে হঠাৎ করে খুব অদ্ভুত একটা মেসেজ এলো মোবাইল ফোনে।

গল্প: হয়তো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলেই আমাদের দুজনের কোন একদিন দেখা হবে

১.
ঝরা পাতা নাম ছিল মেয়েটির- খুব প্রচলিত একটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবি, নিজস্ব এক্সপ্রেশনের ভিডিও, মাঝে মাঝে মনের খেয়ালে গেয়ে ফেলা কোন রবীন্দ্র সঙ্গীত এসবই বেশি ভাগাভাগি করে নিতো সে নিজের অনুসারীদের সাথে। আবার কখনো-সখনো সমাজ, প্রচলিত কুসংস্কার, ব্যবস্থাপনা, পুরোনো নিয়ম-নীতির যেসব অগ্রযাত্রার চেয়ে পশ্চাদপদতায় বেশি করে জ্বালানি যোগায়- তার বিরুদ্ধে লিখতো। মেয়েটিকে আমি মাঝে মাঝে ওই সামাজিক মাধ্যমেই দেখতাম।

ওর পোস্ট দেখলে সবসময়ই আমার ভেতর কেমন যেন একটা আগ্রহ তৈরি হতো। কোনো কারণ কিন্তু দৃশ্যত থাকার কথা নেই। তাও হতো। দুজনের কোন পূর্বপরিচয় নেই আমাদের। নেই ভবিষ্যতে পরিচিত হবারও সহজ কোনো সম্ভাবন। তারপরও ভালই লাগতো মেয়েটির কার্যকলাপ অনুসরণ করতে।

অন্য প্রাণীরা

ফ্রাঙ্কফুর্টের দূরপাল্লার ট্রেনস্টেশনে নামার সময় কেন যেন বিরক্তি ভন ভন কর‍ছিল মাথার মাঝে মাছির মতো। কিসের ওপর যে বিরক্তি তা বুঝতে পার‍ছিলাম না। দুই দিনের জন্য বান্ধবীর সাথে দেখা করতে তার শহরে যাচ্ছি। সাড়ে তিন ঘন্টার মাত্র জার্নি। টিকেটও পেয়েছি দারুণ সাশ্রয়ী মূল্যে। সারাদিনে যা কিছু ঘটেছে আমার সাথে তাতেও খুব একটা খারাপ কিছু ছিল না। তারপরও আজাইরা বিরক্তি মাথাটাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল।

ফ্রাঙ্কফুর্টের ছিল ট্রেন বদলের পালা। তার আগে দেড় ঘন্টার মতো জার্নি করেছি। এখন মিনিট বিশেকে বিরতি এবং তারপর আরও দেড় ঘন্টা কি তার একটু বেশি। স্টেশনে দাঁড়িয়ে ধূমপানের কোনো উপায় নেই। স্টেশন থেকে বের হয়ে ধূমপান করতে হয়। ভাবলাম হাতে সময় আছে যেহেতু কাজটা করেই ফেলি।

ঠিক কথা না ভুল কথা

১.
জিরুর মার সাথে ভোলুর বাবার বহুদিন ধরে ঝগড়া। নানান কারণে নানানভাবে সে ঝগড়ার জঙ্গল গড়ে উঠেছে। প্রথম প্রথম হয়তো ছিল একটা-দু'টো আগাছার ঝাড়, সেসবে রোদ-পানি কিচ্ছু ঠিক-ঠিকমতো পড়ে নি। শুধু অন্ধকারে চাপা দিয়ে দিয়ে রেখে যাওয়া হয়েছিল। সেসবই কালে কালে ভোলুর বাবার মনে যেমন, জিরুর মার মনেও তেমনি ডালপালা ছড়িয়ে জঙ্গল গড়েছিল। সেই সব নিয়েই তাদের দুজনের ঝগড়া। ভেতরের কথা কি- তা বাইরের মানুষ কি করে জানবে, কিন্তু উড়ো উড়ো সংবাদ বলতে পাওয়া গিয়েছিল এতটুকুই।

যাপিত দহনের গল্প - ৪

"সুখের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে
শীতের বারান্দা জুড়ে রোদ পড়ে আছে
অর্ধেক কপাল জুড়ে রোদ পড়ে আছে
শুধু ঝড় থমকে আছে গাছের মাথায়
আকাশমনির ।

ঝড় মানে ঝোড়ো হাওয়া, বাদ্ লা হাওয়া নয়
ক্রন্দনরঙের মত নয় ফুলগুলি
চন্দ্রমল্লিকার ।

জয়দেবের মেলা থেকে গান ভেসে আসে
সঙ্গে ওড়ে ধুলোবালি, পায়ের নূপুর
সুখের চট্ কা ভাঙে গৈরিক আবাসে
দিন যায় রে বিষাদে, মিছে দিন যায়..."

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের "দিন যায়" কবিতা। কিছু কিছু বিষাদমাখা দিনের জন্য যুতসই একদম একটা কবিতা। কত এমন দিন কাটে যখন বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে হয় না একটুও। সে সময়ের কবিতা।

জীবনে এমন দিন এক-আধবার আসা খারাপ না। সমস্যা হয় যখন এমন দিন স্থায়ী হতে চায়। আর আমাদের মস্তিষ্কটাও যেন কেমন। এমন দিনের প্রতীক্ষায়ই যেন থাকে ওটা। আসলে কোন রকম দিনের প্রতীক্ষতেই থাকে না আমাদের মস্তিষ্ক। ওটা শুধু অলস হয়ে পড়ার সুযোগ খোঁজে।

যাপিত দহনের গল্প - ৩

“বহুদিন ছিলো আগুনখেলার দিন
বহুদিন ছিলো জলোৎসবের তোড়
বহুদিন ছিলো পথে পথে উড্ডীন
বহুদিন কত রাত হয়ে গেল ভোর।

শূন্যতা এসে শূন্যতে ছিলো মিশে
একাকার সেই পূর্ণতা থেকে কত
বহুদিনকার দিনানুদিনের বিষে
অকাতর ঐ মুখ ছিলো উদ্গত।

সে মুখের কোন সীমানা ছিলো না যেন
এ-কালে ও-কালে ছড়ানো হাজার সাজে
মূর্ছিত হয়ে পড়ে ছিলো সব জ্ঞানও
আধোরাত্রির দূরাগত পাখোয়াজে।

অশরীরী যত নাচের বিভঙ্গেরা
জ্ঞানহীন সেই শরীরে উঠেছে মেতে
ঐ মুখ ছিলো আমার দুহাতে ঘেরা
মগ্ন শিশির নগ্ন ফসলক্ষেতে।

ছন্দ আমার বুকের বাঁপাশে এসে
তুলে আনে আজ সেই রাত্রির ভার
ও যদি ঘুমোয় ঘুমোক না অক্লেশে
ভালোবাসি ছাড়া কী-বা ছিলো বলবার।"