ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন

তাপিত হৃদয়/ যেখানে শীতল হয়/ সেখানে বস্তু রবে জেনো নিশ্চয়...

বাম হাতের মধ্যমা আর অনামিকায় ধরা লাল বেনসনটায় সুখ টান দিতে দিতে নান্নু পাগলা যখন হেঁড়ে গলায় গানটা গেয়ে সামনে দিয়ে হেঁটে পার হচ্ছিল, তখন রাত প্রায় ১২টা। শাহবাগের সেই রমরমা অবস্থা এখন আর নেই। মেট্টোরেলের লাইন বসার আগে জায়গাটা পুরোপুরি অন্য একরকমের ছিল! কোটি মানুষের শহরের এক বিরাট ব্যস্ত মোড়, তারপরও ওইখানটায় গিয়েই সকলের গতিটা যেন একটু স্তিমিত হয়ে পড়তো! নিন্দুকেরা মোড়ের যানজটকে মুখ্য দায়ে অভিযুক্ত করতে পারেন কিন্তু আমি বলি ওটিই সেই এক্স-ফ্যাক্টর! যার টানে শাহবাগ হচ্ছে শাহবাগ, আর গুলবাগ হচ্ছে গুলবাগ।

গল্প: কষ্টের রেলগাড়ি

অনেক দিন চিকন চালের ভাত আর মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল দিয়ে রাতে খাওয়া হয় না। ভাবতে ভাবতে যেই না মুরগির তাকের দিকে তাকিয়েছেন মুর্শেদ সাহেব, ভিমড়ি খাবার জোগাড় হলো তার।

এমনিতে দোকানটার তাকগুলো খুব সাজানো-গোছানো, যেকোন কিছু যাতে ক্রেতারা সহজে খুঁজে পেতে পারে, সেদিকে পূর্ণ খেয়াল রেখে বিন্যস্ত; সেটা তার জানাই। নিত্যদিন যে আসা-যাওয়া পেনি নামের সেই ছোট্ট ২৪ ঘন্টার স্টোরটায়। যেটা সপ্তাহে সাত দিন আর বছরে ৩৬৫ দিন খোলা থাকে। শুধু যেসব বছর লীপ ইয়ার অর্থাত ৩৬৬ দিনে হয়, সেসব বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি বন্ধ।

অলীক ভাবনার জগতে হারিয়ে যাওয়া - ১

নতুন কোন কিছু অনেকদিন লেখা হয় না। ২০২২ সালের শেষদিকে একটা ডায়েরি শুরু করেছিলাম। সেটা শেষ হয়ে গেছে সেই কবে। তবে তারপর আর নতুন করে কিছুই লিখি নি। মাঝে একটা গল্প লিখেছিলাম। একটা মেয়ের মনের গল্প। সবকিছুর পরও না পাওয়াগুলো যাকে মাঝে মাঝে বিদ্ধ করে। তখন সে একটা অলীক জগতের স্বপ্ন দেখে। যেখানে একটা ঠান্ডা ও নিরিবিলি কাল্পনিক শহরে হারিয়ে যায় সে।

অলীক ভাবনার জগতে এই যে হারিয়ে যাওয়া, এটা বোধহয় আমাদের সবার সঙ্গেই ঘটে। নিজের আশপাশের জীবনটাকে সরিয়ে রেখে একটু হারিয়ে যাওয়া। কিন্তু যথাসময়ে এসব ভাবনার লাগাম পরানোটাও যে জরুরি, সেটাই বোধহয় শেষ গল্পটার প্রতিপাদ্য ছিল। এভাবে প্রতিদিন কত কত স্বপ্নেরা তাদের প্রয়োজনে জেগে ওঠে আবার প্রয়োজনে ডুবে যায় আমাদের মনের মানসপটে!

কি সব দিনরাত্রি

আজকাল কোন স্বপ্ন নিয়ে ঘুম থেকে উঠি না
মিনিমাম ২ ঘন্টা ফোন চালাই বিছানায় শুয়ে শুয়ে
তারপর ক্লান্ত চোখে তাকাই বন্ধ জানালাটার দিকে,
বিচ্ছিরি বিরক্তিরা চারটা পাশ ঘিরে ভিড় করে আসে।

কোথাও একটা ইঞ্চিও ওরা ফাঁকা রাখে না
যেন ফাঁকা কোন বর্গইঞ্চি পেলেই আমি পালিয়ে যাবো
ওইখানে। লুকিয়ে পড়বো সন্তপর্ণে। তারপর বিরক্তিরা আর
আমায় খুঁজে পাবে না।

আমি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই কলের পাড়ে
পানির ট্যাপ- ওটাকে কলপাড় বলা যায় না,
আবার যায়ও হয়তো কে জানে
ওই কলখানা দিয়েই তো ঠান্ডা,
গরম সবরকমের পানি আসে।
তারপরও কি রান্নাঘরের পানির ট্যাপকে কলপাড়
বলা যায়? না উচিত সেটা বলা?

আমার জীবনটাকেও খানিকটা সাযুজ্যময় মনে হয়।
শুধুমাত্র অলস একটা মস্তিষ্করূপী শয়তানের কারখানা ছাড়া
যার আর কোন কিছু নেই,
মানুষ হতাশ হলে বড় বিচ্ছিরি হয়ে যায়।
একসময় যেটাকে কলপাড় মনে হতো
আজকাল পানির ট্যাপও মনে হয় না

অন্য কোন প্রাণী হলে এত জঘন্য আত্মোপলব্ধি হতো না

পৃথিবীর মানুষের ওপর আমার যে ভয়ংকর রাগ হয়েছে। যদিও চেষ্টা করছি কমানোর। কিন্তু কমছে না। রাগে আসলে কি হয়? নিজের ক্ষতি ছাড়া আর তো কিছু দেখি না। ক্ষতিটাও সহজে বোঝা সম্ভব না। মনের ভেতর গোপনে এ ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। খেয়াল করে দেখলাম, ইদানীং আমার ইতিবাচক মানসিকতা ভয়াবহ হারে নিম্নগামী। রাগ নিয়ে ভাবতে থাকলে, আস্তে আস্তে বেড়ে যায় হৃদকম্পনও। যা শরীরের জন্য ভাল না কোনমতেই। তারপরও প্রায় প্রায়ই মানুষ নামক এই প্রাণীটির ওপর আমার অক্ষম নিষ্ফলা আক্রোশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু যদি রাগ সরিয়ে সঠিক তথ্যের আলোকে বাস্তবের দিকে দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখা যাবে, দোষের মূলভাগটি আসলে আমারই।

এই দোষে দুষ্ট কমবেশি আমরা সবাই

প্রতিটা সকালে আমি সামনের বিল্ডিংয়ের জানালা, পর্দা, দেয়াল ইত্যাদি দেখতে দেখতে ঘুম থেকে উঠি। আগে খোলা আকাশ দেখতে দেখতে উঠতাম। এখন এক চিলতে আকাশ কোনমতে জানালা থেকে দেখা যায়। নামকাওয়াস্তে এসব নিয়ে মাতামাতি যদিও আমি করি, কিন্তু এটাও জানি বিষয়গুলো এককভাবে খুব সামান্যই গুরুত্ব বহন করে জীবনে। খোলা আকাশ দেখতে দেখতে ঘুম থেকে ওঠার সুযোগ হেলায় হারিয়ে কংক্রীটের জঞ্জাল দেখতে দেখতে ঘুম থেকে উঠছি বলে যে খুব কিছু গিয়েছে বা এসেছে জীবনে, তা না। পৃথিবীর সব মানুষই বুঝি এমন, তাই না?

জীবনের অপরিহার্য প্রয়োজনগুলো খুঁজে বের করুন

আজ প্রায় মাসখানেক যাবত কফি পান করা ছেড়ে দিয়েছি। তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না। ছেড়ে দেয়ার আগে মনে হতো সকালে এক মগ কফি ছাড়া হয়তো সারাদিন মাথাব্যাথা করবে। দেখলাম তাও করলো না। কফি বাদ দিয়ে প্রতি সকালে এক কাপ করে গ্রিন টি পান করা শুরু করার পর দেখলাম, পানীয়টা শরীরের জন্যও দারুণ। শরীরের ভেতরের অনেক রোগ-বালাইয়ের উপসর্গকে দমিয়ে রাখে। আগে আমার পেটে তৈলজাতীয় খাদ্য থেকে সৃষ্ট জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তিকর অনুভূতি, বুকের কোনায়-কানায় মাঝে মাঝে খেলে যাওয়া ব্যাথা- ইত্যাদি নিয়মিত না হলেও, অনিয়মিতভাবে দেখা দিতে আসতো। গত এক মাসে সেসবের কোন বালাই ছিল না বললেই চলে।

বলতে পারি না কেউ আমরা

দিকে দিকে কত রঙ্গই না ঘটে চলেছে! দেশে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে আবারও খড়্গহস্ত হয়েছে সরকার। রুচির পুলিশেরা মাঠে নেমেছে গণমানুষকে রুচিশীলতার ট্যাবলেট গেলাতে। যারা মাঠে নেমেছে, তারা নিজ নিজ সংস্থা, সংগঠনের উপরের পদে উঠতে কি কি অরুচিকর কাজ করেছে জীবনে, তার হিসেব বেমালুম গাপ করা! আমার আজকের লেখার বিষয়বস্তুও এটা। মানুষে মানুষে বিভেদ এবং তার কারণে সৃষ্ট অনিবার্য পশ্চাৎপদতা।

গল্প: আপনাদের বাড়ি থেকে অরোরা দেখা যায়?

পার্ফমেন্স মার্কেটিং যেমন ডিমান্ডিং, তেমনি হেভিওয়েট একটা জব, যেটা ঘুম ছাড়া দিন-রাত সর্বক্ষণ মাথার ভেতর বন্ধুর মতো সঙ্গ জুগিয়ে চলতে পারে। মানুষের আর বেশি কিছু লাগে না। একটা কোম্পানির চাকুরির বিজ্ঞাপন দেখে ভাবছিল তিষি, কি দারুণ করেই না নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনের ছবি আঁকতে পারে তারা!

প্রতিদিন সকালে কোম্পানির ভেতর কফিমেশিন চলে প্রবল গতিতে। এখন সময় এনালাইসিসের। কেপিআই-গুলোর কি অবস্থা? মেটা-ক্যাম্পেইনটা কেমন চলছে? নতুন ল্যান্ডিং পেইজটা কি কনভার্সন আনছে, যেমনটা আশা করা হয়েছিল?

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৯

ছেলেবেলা থেকে আমার দিনলিপি লেখার অভ্যাস। কিন্তু ছেলেবেলায় একটা বড় সমস্যা ছিল "প্রাইভেসি" নামের। যাই লিখতাম নিজের ডায়েরিতে, বাসায় প্রকাশ হয়ে পড়তো। গোপন কথাবার্তা গোপন থাকতো না মোটেও। অথচ ছেলেবেলার বন্ধু নীলু মামার ছিল সব গোপন কথায় ভরা ডায়েরি। সংখ্যায় অনেক। উনার বাসায় ডায়েরি পড়ার মতো উৎসাহী কেউ ছিল না।

এসেন শহরে মানুষের সংখ্যা অনেক। ছয় লাখের কাছাকাছি। অনাবাদীদের এই দেশে ছয় লাখ একটা শহরের জনসংখ্যা আসলে একটু বেশিই। তাইতো এই শহরটা জনসংখ্যার দিক থেকে জার্মানির নবম বৃহত্তম শহর। নিজের অঙ্গরাজ্যে এর অবস্থান চতুর্থ। উইকিপিডিয়া মাইরি! যারা পরিসংখ্যানের শিক্ষার্থী, তাদের জন্য দৈনিক একটি করে উইকিপিডিয়া আর্টিকেল পড়া বাধ্যতামূলক করে দেয়া যেতে পারে। তাহলে আর আলাদা করে পরিসংখ্যানের রিপোর্ট তৈরি করা শেখা লাগে না।

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৮

"রক্ত রাঙা গোলাপ রাঙা
রাঙা পায়ের আলতা
আলতার চেয়ে রাঙা কি
জানলে বল না তা"

বাংলা লোকগীতি শুনছিলাম। সেখান থেকে জানতে পারলাম, আলতার চেয়ে রাঙা হয় সোনা বন্ধুর ঠোঁটখানা। আমাদের লোকগীতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জীবনের কথাগুলো অনেকাংশেই অভিজ্ঞতালব্ধ বচন। তবে জীবন যেহেতু আমাদের সবারটাই সবার থেকে ভিন্ন, তাই সব সোনাবন্ধুর ঠোঁট লাল হয় না। শিল্পী অবশ্য বুঝিয়েছেন মনের ভেতর কল্পনা করে নেয়া রংয়ের কথা। সে হিসেবেও সবসময় যে সঠিক মিল পাওয়া যায়, সে আশা বাতুলতা। মনে মনে যদি কেউ ঠোঁটের প্রিয় রং কমলা কল্পনা করে নেয়, তখন কি উপায়?

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৭

বেশিরভাগ সময় আমার জীবন কাটে ঝড়ের গতিতে। সকাল থেকে সন্ধ্যা কোথা দিয়ে পার হয়ে যায় তার কোন হদিস থাকে না। তারপর আবার জীবনের এমন সময় আসে যখন সবকিছু চলে অত্যন্ত ধীরগতিতে। সকাল থেকে দুপুর হতে চায় না, দুপুর হয় তো বিকাল হয় না, কোনমতে একবার বিকাল হতে পারলে তারপর আর কোনকিছুই হয় না। সেসব দিনগুলোর সঙ্গে সবসময় মনের অবস্থার কোন যোগসাজশ থাকে এমন না। অমন ধীরস্থির দিনগুলো মন ভাল থাকলেও আসে, মন খারাপ থাকলেও আসে। জীবনের তাৎক্ষণিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

তবে এবার মনের অবস্থা নিয়ে অভিযোগ করার মতো কিছু নেই। চলছে সবই। যতোটা চলবে বলে ভেবেছিলাম, তারচেয়ে বেশিই চলছে। সেদিক থেকে আমি খুশি। প্রতিদিন ভোর ছয়টা ৪৫ মিনিটে একটা অ্যালার্ম বেজে ওঠে। তারপর আমার বিছানা ছাড়তে ছাড়তে সাতটা বাজে। কম্বল আর বিছানাটা গুছিয়ে তারপরে ছাড়ি বিছানাটাকে। রাতে যাতে আবার ফিরে ঝুপ করে ওর ভেতর ঢুকে যেতে পারি।

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৬

সুযোগ থাকলে প্রতিদিন একবার করে লিখতে বসতে সমস্যা কি? সপ্তাহে দুইদিন এবার সুযোগ পাইলাম। এমন সপ্তাহান্ত বারে বারে আসুক।

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৫

বাসায় ঢুকে ব্যাকপ্যাক নামায় রেখে সরাসরি যে বিছানায় চলে যাই, ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। সাধারণত প্রথমে রান্নাঘরে ঢুকে চারপাশটায় একবার চোখ বুলানো হয়। কেন যে কাজটা করা হয় জানি না। যেন ঘরে ঢুকে রান্নাঘরে একবার চোখ বুলিয়ে আমি মস্তিষ্ককে আশ্বস্ত করলাম ঘরে ঢুকেছি।

কাপড় ইত্যাদি পাল্টে তারপর শোবার জায়গাটায় আসি। বিছানাপাতি এখনও পুরোদমে ব্যাবহার করা শুরু করি নি। সামনে সপ্তাহে আলমারি আসবে। যেটা আবার নিজেকে সেট করতে হবে। পার্ট বাই পার্ট। এসব কাজে আমার দক্ষতা চিরকালই প্রশ্নবিদ্ধ। তবে উদ্যম খুঁজে পেলে ঝাপিয়ে পড়তে পারি তেমন কোন সমস্যা ছাড়াই। তবে সমস্যাটা আসলে উদ্যম খুঁজে পাওয়াই। সে ব্যাটার খোঁজ ত্রিভুবনে যারা দিতে পারে তাদের খোঁজ পাওয়াটাই ভীষন দায়।

দিনলিপিতে দু'হাজার বাইশ - ৪

গভীর রাতে ব্লগ লেখার সেই প্রাচীন ব্যামোটি কি আবার ফিরে আসতে পারে না? আমার মনে আছে, কোন এক কালে গভীর রাতে ব্লগ লেখার ব্যামো ছিল। না লিখলে ঘুম আসতো না। হাত নিশপিশ করতো, পানির তৃষ্ণার চেয়ে বেশি ধোঁয়ার তৃষ্ণা পেতো এবং নানান উপসর্গ দেখা দিতো। সেই উজ্জল সময়টা হেলায় হারিয়েছিলাম দেখেশুনেই। এ জীবনে দেখেশুনে আমি যা কিছু হারিয়েছি তার তুলনায়, না বুঝে হারানো সবকিছুর অনুপাতই অনেক কম। কি ভয়ংকর, তাই না? কিন্তু আমার আরও মনে হয়, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ব্যাপারগুলো একই রকম।

হাঞ্চ-মতো একটা কিছু আরকি! একটা সামাজিক গবেষণার মানচিত্র আঁকা গেলে অবশ্য হাঞ্চটা টেস্ট করে দেখা যেতো। সেটা তো সম্ভব না। জীবনের বেশিরভাগ জিনিসপত্রই আবার এই কাতারের, "সম্ভব না"।