ইউজার লগইন

দ্য এলিফ্যান্ট ম্যান

দ্য এলিফ্যান্ট ম্যান (১৯৮০)

d elphnt mn.jpg

এই পর্বে প্রথমেই বলতে হবে দ্য এলিফ্যান্ট ম্যান'র কথা । এক হাতিমানবের কাহিনী। সার্কাসের এক হাতি একবার চড়াও হয় এক মহিলার ওপর। দু'জনের মিলনের ফলে জন্ম হয় মানবাকৃতি এক হাতির। নিরীহ এ হাতিমানবটিকে কেউ পছন্দ করে না। সার্কাসে খেলা দেখানো আর বাকী সময় বন্দী হয়ে থাকাই তার জীবন। এরকম চলতে চলতে একদিন তার দেখা পায় এক শল্যচিকিৎসক। চিকিৎসক তাকে নিয়ে আসে নিজের পরীক্ষাগারে। তাকে ভালো কাপড় পরায়, মানুষের মতো চলতে শেখায়। অক্ষরজ্ঞান দেয়। শুরু হয় সেই সার্জনের এক্সপেরিমেন্ট।
ধীরে ধীরে হাতিমানব সভ্য-ভদ্র, অনেকটাই মানুষের মতো হয়ে ওঠে। আর প্রথম থেকেই হাতিমানবের মধ্যে মানবিকতা ছিলো খুব বেশি পরিমাণে। সে নিজেকে ‌‌'আ হিউম্যান বিং' হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি পছন্দ করতো। শেষ পর্যন্ত মনুষ্যকায় কিন্তু মানুষ নয় হাতিমানবের করুণ পরিণতি দেখে খারাপ লাগে। সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে আছে এ্যন্থনি হপকিন্স আর জন হার্ট। হাতির মুভি প্রচুর আছে। ব্রুস লি'কেও দেখেছিলাম হাতি নিয়ে বানানো মুভিতে অ্যাকশন হিরোর রোল প্লে করতে। তবে বিভিন্ন অবাস্তব বিষয়াশয় আর হাতিকে দিয়ে ট্রেইনড মারামারি দৃশ্যায়নের চেয়ে এই মুভিটা অনেক বেশি রিয়েলিস্টিক। ভালো লেগেছে ভিন্নধরনের প্রেক্ষাপটও।

টরেন্ট

ওশেন'স ইলেভেন (২০০১)

Ocn's Elvn.jpg

১৯৬০ সালে প্রথম নির্মিত এ সিনেমাটি রিমেক হয় ২০০১-এ। প্রথম ছবিটা বক্স অফিসে তোলপাড় তুলেছিলো ঠিকই, তবে মূল ঘটনা ঘটিয়েছে রিমেকটাই। এটাতে ড্যানি ওশেন চরিত্রে ফ্র্যাংক সিনাত্রার জায়গায় অভিনয় করেছে জর্জ ক্লুনি আর তার সঙ্গে রয়েছে ব্র্যাড পিট। কাহিনী আবর্তিত হয় লাস ভেগাসের তিনটি বিশাল ক্যাসিনোতে একযোগে ডাকাতির পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। জর্জ ক্লুনি একজন পেশাদার ডাকাত এবং তার সময়ের সেরাজন এ লাইনে। এগার দুধর্ষ সঙ্গী নিয়ে সে একই লোকের মালিকানাধীন তিন ক্যাসিনোতে একসঙ্গে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। এই মালিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে জেলে পাঠিয়ে তার স্থাবর সম্পত্তি ও সুন্দরী স্ত্রী'কে দখল করে নিয়েছিলো।
বেশি কিছু বললাম না, মুভিটা দারুণ লেগেছে, না দেখে থাকলে মিস্ করা উচিত হবে না। জর্জ ক্লুনির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছে ব্র্যাড পিট। সিনেমার বাড়তি পাওনা ষাটের দশকের আবহসঙ্গীত। একটা ফ্লেভার পাওয়া যায়।
ওশেন'স ইলেভেন-এর পর আরো দুইটা পার্ট হয়েছে। সেগুলো মানের দিক থেকে এটার মতো লাগে নি।


টরেন্ট

দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস্ (১৯৯১)

d slnc f d lmbs.jpg

আবার এ্যন্থনি হপকিন্স। তবে এইখানে জুডি ফস্টার বেশি আকর্ষণীয় ছিলো। সিরিয়াল কিলার মুভি। জুডি ফস্টার একজন এফবিআই এজেন্ট। ভয়ংকর এক খুনীকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব পড়ে তার ওপর, যে কিনা একের পর এক সুন্দরী মেয়েকে হত্যা করে চলেছে নৃশংসভাবে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সে নিজেই জড়িয়ে পড়ে একই বিপদের ভেতর। মুভিটা ভালো লেগেছে গতানুগতিকের বাইরে একটু ভিন্ন আঙ্গিকের কাহিনীর কারণে। এই মুভি মানুষের অক্ষমতা যে একজনকে কতভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে তার একটা উত্তম উদাহরণ। খুনী বাফেলো বিলের চরিত্রায়ন স্বার্থক।


টরেন্ট


স্টেজভ্যূ

ওল্ড বয় (২০০৩)

old-boy.jpg

কোরিয়ান এ মুভিটির নায়ক হো দাই সু। যাকে ১৫ বছর ধরে কোন কারণ ছাড়াই আটকে রাখা হয় একটি বদ্ধ ঘরের ভেতর। ১৫ বছর পর একদিন হঠাৎ তাকে বেশ কিছু টাকা, দামী কাপড় ও একটি মোবাইল ফোন দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

মুক্ত হয়ে দাই সু ক্ষেপে ওঠে কে তাকে কেন এই বন্দিত্ব মেনে নিতে বাধ্য করেছিলো সেটা বের করার জন্য। দীর্ঘ বন্দিজীবনের কারণ খুঁজতে গিয়ে বের হয়ে আসে এক ভয়াবহ ঘটনা। মুভিটির কাহিনী কিছুটা কমপ্লেক্স লেগেছে যদিও, তবু বলবো ভীষণ রকম আলাদা একটা মুভি। সিরিয়াস মুভি দেখার মুড আসলে এটা ট্রাই করে দেখা যেতে পারে। প্লটের প্রাপ্তবয়স্ক টুইস্ট খুব খিয়াল কৈরা।


টরেন্ট


স্টেজভ্যূ

স্পিরিটেড এ্যাওয়ে (২০০১)

sprtd away.jpg

আমি খুব বেশি পছন্দের মুভি নিয়ে লিখতে খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। এইটা আমার একটা অত্যন্ত প্রিয় অ্যানিমেশন। জাপানী নাম সেন টু চিহিরো নো কামিকাকুশি। চিহিরো নামের এক বালিকার থিম পার্কে বেড়াতে গিয়ে বিরাট ঝামেলায় জড়িয়ে যাওয়ার কাহিনী। আর কাহিনী বলে কাহিনী, সে পুরো একপ্রস্থ মহাভারত। জাপানী রূপকথার বহর যে কেমন হয়, সেটা সম্পর্কে বেশ একটা ধারণা মিলবে এই মুভিটা দেখলে। ভালো লেগেছে চিহিরো'র উপকারী বন্ধু হাক্কু'র কার্যকলাপ। আর শতপদী বুড়ো, যে ঐ ভুতুড়ে পুরো বাথিং হাউসের মূল ইঞ্জিনটার চালকের ভুমিকায় দিনানিপাত করছে, তার চরিত্রটা যেন কিছুটা রূপক মনে হলো। জাপানীরা কি খুব ঈশ্বরে বিশ্বাসী? ঠিক নিশ্চিত নই।

টরেন্ট
স্টেজভ্যূ

ম্যারি এন্ড ম্যাক্স (২০০৯)

mry nd mx.jpg

আবার অ্যানিম। এবারের কাহিনী পেন-ফ্রেণ্ড নিয়ে। ছোটবেলায় ইংরেজী পাঠ্যপুস্তকে পেন-ফ্রেন্ডের কথা পড়েছিলাম। কালে-ভদ্রে দু'চারটা চিঠিও লেখা হয়েছে এদিকে-ওদিকে। কিন্তু পেন-ফ্রেন্ড বিষয়টা যে আসলে কি, সেটা জানতে হলে এই মুভিটা দেখতে হবে।

ম্যারি, অস্ট্রেলিয়ার এক নিঃসঙ্গ আট বছরের বালিকা। যার কপালে জন্মদাগের কারণে তাকে স্কুলের বন্ধুরা পছন্দ করে না। আর ছোটবেলায় স্কুলের বন্ধু ছাড়া কাছের মানুষ বলতে কেউ তো থাকেও না। তাই সে নিঃসঙ্গ। সে জানে না আমেরিকায় কিভাবে বাচ্চা হয়। তার মা বলেছে অস্ট্রেলিয়ায় বাচ্চা বিয়ারের ক্যানে পাওয়া যায়। তাহলে আমেরিকায় কিভাবে হয়? এটা জানার জন্য সে একদিন টেলিফোন ডিরেক্টরী ঘেটে আমেরিকার ম্যাক্সকে চিঠি লিখলো।

এই মুভিতে চিঠিগুলান যা লেখা হইসে! অদ্ভূত। প্রত্যেকটা চিঠিই মজার। ম্যাক্স আবার মানসিক সমস্যাগ্রস্থ ৪৪ বছরের এক নিঃসঙ্গ লোক। দুইজনের অসম বন্ধুত্ব নিয়ে এক সিরিয়াস কাহিনী। মুভির আরেকটা বিষয় মনে দাগ কেটে যায়। সেটা হচ্ছে ফিনিশিং। গতানুগতিকের বাইরে একটা এ্যানিমেশন, স্বীকার করতেই হবে।

টরেন্ট

স্টেজভ্যূ

পনইও (২০০৮)

ponyo.jpg

জাপানী নাম গেক নো উই নো পনইও। সমুদ্রদেবীর কন্যা পনইও'কে সমুদ্রের তলায় গোল্ডফিশ বানিয়ে বন্দি করে রেখেছে এক দস্যূ। একদিন সে বন্দিশালা থেকে বের হয়ে আসে ঘটনাচক্রে। সমুদ্রেতীরে বাড়ি সোসুকির। সে খুঁজে পায় গোল্ডফিশটাকে। সেটাকে সে যত্ন করে তুলে নিয়ে যায় এবং নিজের কাছে রাখে। দীর্ঘদিন বন্দিজীবন কাটানো পনইও সোসুকি'র কাছ থেকে যে আদর-যত্ন আর ভালবাসা পায়, তা সে অনেকদিন কারো কাছ থেকে পায় নি। পনইও প্রেমে পড়তে শুরু করে সোসুকির। ওদিকে দস্যূ যে হন্যে হয়ে খুঁজছে পনইও'কে। কন্যা পনইও'র পক্ষে এগিয়ে আসে তার মা নিজে। দেখার মতো একটা অ্যানিম। ডিজনী স্টুডিও'র প্রোডাকশন। সহ-প্রযোজনায় ঘিবলী স্টুডিও। খারাপ লাগার কোন কারণ নেই। প্রসঙ্গত জাপানী অ্যানিম বস্ জিনিস। আর মিয়াজাকি'র তো কোন তুলনাই হয় না। স্পিরিটেড এ্যাওয়ে'টাও কিন্তু উনারই পরিচালনায় নির্মিত। তার আরো কিছু স্পেশাল জবস্-এর মধ্যে রয়েছে হাওয়েলস মুভিং কাসল্, মোনোকে হাইম, মাই নেইবার টোটোরো এটসেটরা।

টরেন্ট

স্টেজভ্যূ

পোস্টটি ১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!