ইউজার লগইন

গল্প: কোনো এক ফেব্রুয়ারির রাতে একসাথে

শিখা অনির্বাণকে চোখের সীমানায় রেখে পার্কের এক সবুজ ঢালে সাধনা করতে বসেছিলাম। যদিও শান্তি করে বসার উপায় ছিলো না। আশপাশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অন্ধকার খোঁজার দৃষ্টিকটু রেষারেষি দেখে বিরক্ত হতে হচ্ছিলো। ওদের পিছে আবার বোলতার মতো বোঁ বোঁ করছে বখাটে ছেলের দল। সুযোগ পেলেই হয়তো একটা কমেন্ট পাস্ করে দেয় কিংবা পাশে বসে বিকট স্বরে গানের মহড়া শুরু করে, খুবই বিচ্ছিরি ব্যাপার।
যদিও বিচ্ছিরি লাগার কিছু নেই। হিসেব অনুযায়ী আমার তখন চার-পাঁচটা পরগাছা জুটিয়ে আপনমনে সাধনায় ডুবে থাকার কথা। পার্কে পরগাছা পাওয়া কোনো কঠিন ব্যপার না।
মাঝে মাঝে ইচ্ছা করেই একলা আসি। এদিক-ওদিক ঘুরে আগে কয়েকটা পরগাছা জোগাড় করি। যাদের হয়তো টাকা নাই কিংবা অন্য কোনো কারণে মানুষের আশপাশে এমনিতেই ঘুরঘুর করতে হচ্ছিলো, বিনে পয়সায় মাল খাওয়ার আশায়। আমি সেরকম কয়েকটা জুটিয়ে নিয়ে বসি। অচেনা মানুষগুলোর মাঝে ঘুরে ঘুরে নিজেকে বর্তমান-কাল থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলি। কিন্তু বোলতাগুলোর জন্য বার বার মৌতাত ভাঙছিলো, খুব বিরক্ত হচ্ছিলাম।
বাদ দিতে হলো। নিচে কি একটা গন্ডগোল পেকেছে। সবকিছুরই একটা সীমা থাকে। ঢাউস কালো ব্যগটা পিঠে ফেলে উঠে দাঁড়ালাম। জুতার ফিতে বেঁধে দুই হাতে পেছনটা ভালো করে ঝাড়া দিলাম। এটা হচ্ছে, যেখানে বসা সেখানেই সব ফেলে যাওয়া। নিচে নেমে শিখা অনির্বাণের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আগুনটা এত ভেতরে যে বাইরে থেকে আঁচটাও সেভাবে টের পাওয়া যায় না।
মাথার ভেতরে সিরিয়াস জ্যাম লেগে আছে। যার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে, নতুন এক ধরনের জীবনব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টায় সারাক্ষণ লড়তে হচ্ছে। অভ্যাসগুলো ধুয়ে-মুছে গিয়েছিলো শেষ পাঁচ বছরে। যে কারণে আজকাল খানিকটা খিটখিটে হয়েই থাকি। এখনো যেমন আছি।
ভাত খেয়েছি কখন? দুপুরে। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখি সোয়া আটটা বাজে। ক্ষিদে অনুভব করছি কিন্তু আলসেমীর কারণে কোনো উদ্যোগ নিতে ইচ্ছে হচ্ছে না। আবার আলসেমী করেই যে একটা কিছু করে ফেলা যাবে, এ বাক্যের ওপরেও আমার ভরসা নেই। দাঁড়িয়ে থেকে ভাবলাম, আমি যদি মানুষ না হতাম, কি হতো? নাম নাই, জাত নাই, অনুভূতি নাই, মুখাপেক্ষী কেউ নাই; তেমন হলে বোধহয় মোটেও খারাপ হতো না।
ভেবে ভালো লাগলো। কিন্তু কূল-কিনারা করতে পারলাম না। কেননা আমার এখন অনেকগুলো কাজ আছে। সেগুলো আর কেউ এসে করে দেবে না। আমাকেই করতে হবে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খানিকটা খাদ্যগ্রহণ।
সাইকেলটা কই রেখেছি খুঁজে পাচ্ছি না। পাচ্ছি না, নাকি ভালো করে খুঁজছি না? কারণ আমি জানি, আগে যেখানে বসে ছিলাম, ঢালের সেখানটার ঠিক নিচেই ওটা রেখেছিলাম। এখন দাঁড়িয়ে আছি আরেক জায়গায়। আর মাথা ঘুরাচ্ছি ডানে-বামে। আমার হলো টা কি?
বড় করে একটা শেষ হাই তুলে ঠিক করলাম, নাহ্ যতক্ষণ অন্তত বাসায় না যাচ্ছি ততক্ষণ নো মোর হাই। আগে পেটে কিছু দানাপানি দেয়া যাক। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সাপোর্ট আগে ম্যনেজ করে রাখি। তারপর দেখা যাবে কি করা যায়।
এবার সাইকেলটাও খুঁজে পেলাম। একটু অন্ধকারমতো জায়গায় ছিলো। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বসে বেশ গল্প জুড়ে দিয়েছিলো। ইচ্ছে করছিলো না ওদের বিরক্ত করতে। তবু করলাম। অবশ্য ওদের সামনে যেতেই উল্টো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলো, কি চাই? বললাম, যেটার ওপর বসে আছেন, ওটা চাই। এবার বোধহয় ওরা খানিকটা লজ্জা পেয়ে গেলো। নেমে তাড়াতাড়ি হেঁটে চলে গেল দুইজনে। আমার ধন্যবাদটা দৌড়ে তাদের কান ছুঁতে পারলো কি না বুঝলাম না।
প্রথমে গেলাম চানখাঁর পুল। তেল টিমটিম করছে। রাক্ষসটার গলায় কয়েক লিটার ঢেলে দিলাম একবারে। খা ব্যাটা, কত খাবি খা। কিন্তু টাল্টি-বাল্টি চলবে না। যা বলবো, শুনতে হবে।
এরপর গিয়ে বসলাম মেডিক্যলের ইমার্জেন্সি গেটের উল্টাদিকের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দেয়া পরোটার দোকানে। তেলছাড়া পরোটা, ভাজি আর ডিম-মামলেট, এই ধরনের হোটেলের আদর্শ খাবার। চোখের সামনে সবকিছু আগুনে ভাজা হচ্ছে। দেখলেও জিভটা সকসকায়।
ষষ্ঠটির পর থেকে পরোটা ভেতরে ঢোকাতে একটু সমস্যা হচ্ছিলো। এগারোটায় এসে ক্ষ্যন্ত দিতেই হলো। সাতাশটার রেকর্ড মনে হয় আর এ জীবনে ভাঙা হবে না। শরীরের সেদিন শেষ।
এরপরে সে আসনে বসেই দুধ-চিনি কম, লিকার বেশি -কড়া চাএর ফরমায়েশ দিলাম। ভরপেট রিফুয়েলিংএর পর জমজমাট চা-সিগারেট না হলে বিষয়টা জমে না। চাএর কাপে চুমুক দিতে দিতে ভাবলাম, এখন কি করণীয়?
একটু একটু করে বিরক্তিরা এসে আবারো আশপাশে ঘুর ঘুর লাগিয়েছে দেখে আমি তাড়াতাড়ি বিল-বকেয়া চুকিয়ে রাস্তায় নামলাম। ঠান্ডা বাতাস টের পাচ্ছি। সেজন্যই আস্তে আস্তে চড়ছে ভালো লাগার ব্যরোমিটার, তাও টের পেলাম। ভাবছিলাম, ঠান্ডার সঙ্গে ভালো লাগার সম্পর্ক কি। ভাবতে ভাবতে কখন যে আবার সেই শিখা অনির্বাণ, ছবির হাট এলাকায় পাক খেয়ে গেলাম, টের পেলাম না।
পার্কের ভেতর থেকে সুনসান অন্ধকারের মধ্যে মোল্লায় একটা মেয়েকে একা একা বসে থাকতে দেখে একটু খারাপই লাগলো আমার। শীতের রাত, নয়টার অনেক ওপরে বাজে; এখনো একা? ওস্তাদের যত্নে গড়া পৃথিবী এত কঠিন?
লোহার গেটের ভেতর থেকেই জানতে চাইলাম, এই যে, শুনতে পাচ্ছেন? মেয়েটা বোধহয় কিছু একটা নিয়ে গভীরভাবে ভাবছিলো। যে কারণে প্রথমে কিছু শুনতেই পেলো না। আবার জানতে চাইলাম, এই যে, শুনতে পাচ্ছেন?
বিরক্তিমাখা একটা গলা ভেসে আসলো, আমাকে বলছেন?
জানি অন্ধকারে দেখা যাবে না, তাও দন্তপাটি বিকশিত করে দিলাম; ইয়েস্ ম্য'ম। ওয়ার্কিং ফর পেজিং ইউ।
-এক্সকিউজ মী?
অবশ্যই, নির্দ্বিধায় এক্সকিউজ করলাম। এখানে বসে কি করেন?
-আপনার কি মনে হচ্ছে না যে, আপনি বিরক্তি উদ্রেক করছেন?

ওরে বাবা, এ যে দেখি আমার চেয়েও বেশি বিরক্ত। আজ হলো টা কি? বিশ্ব বিরক্ত হওয়া দিবস নাকি? বললাম, কই না তো। তেমন কিছু কি হচ্ছে নাকি? আমি তো শুধু জানতে চাইলাম, মাঝরাইতে এখানে বসে কি করেন?
-মাঝরাইতের এখনো অনেক দেরি আছে। আমার মুড আসছে, আমি বসছি; আপনের সমস্যা কি?
আমার কোনো সমস্যা নাই। সিগারেট খাবেন?
-না।
সিগারেট খান না?
-খাই, কিন্তু একজন আইসা একটা সিগারেট দিলো আর আমি খায়া ফেললাম; এমন না।
আরে, টেনশন নিয়েন না। আমি এখনো প্যকেট খুলিই নাই। কোনো অজ্ঞান হওয়ার ওষুধ-টষুধ মেশানো হয় নি। আপনারে দিতেছি, প্যকেট খুইলা একটা ধরান। আমারেও একটা দেন। দুই ভাই সিগারেট খাওয়ার সময়টা একটু আলাপ করি।
-আপনে মালটা দেখতেসি বেসুবিধার, একলা একলা একটু বসতে চাইলাম; উপায় রাখলেন না।
উপায় থাকলো না কই আবার? সিগারেটটা খেয়ে আমি ফুটলেই আপনে যেমনে খুশি বসবেন।
-আচ্ছা। ম্যাচ দেন। আপনে কি কোথাও মেয়েদেরকে একলা বসে থাকতে দেখলেই সিগারেট সাধেন? তাইলে কিন্তু বিপদ আছে। সবাই আমার মতো সিগারেট নাও খাইতে পারে।
তাই নাকি? এতবড় তথ্যটা জানতাম না, চিন্তা করেন। আপনে বলে না দিলে কবে কোথায় কার হাতে বদি খেয়ে আসা লাগতো আল্লাই জানে। ধইন্যাপাতা আফা। তয় মাইয়া মাইনষেরে সিগারেট সাধার কথা আমিও আগে কখনো ভাবি নাই। আপনার সঙ্গে কি আলাপ করা যায়, ভাবতে ভাবতে সিগারেটের কথা বইলা ফেলসি।
-কইলাম তো, অসুবিধা নাই। আপনে পার্কের ভেতর কি করেন?
পাবলিক সার্ভিস দিতেছি। ভিতরে যাদের মন খারাপ তাগোরে হেল্পাই।
-আমি তো পার্কের ভিতরে না, বাইরে। আমার কাছে আসছেন ক্যান?
আপনের যে মন খারাপ তাতো বলি নাই। আপনার কাছে এমনিই আলাপ করতে আসছি। বিকালবেলা যখন এই পার্কে ঢুকি, তখন দেখতেছিলাম অনেকের মন খারাপ। কেউ একটু আড়াল পাইতেসে না। সূর্যরে বললাম তাড়াতাড়ি ডুব মারতে। ব্যাস্ সবাই আড়াল পেয়ে গেলো। আপনারে একলা বইসা থাকতে দেইখা ইচ্ছা হইলো একটু গল্প করতে, তাই আসলাম। যাউক্গা, সিগারেট শেষ। প্যকেটটা দেন। আমি ফুটি। ভালো থাইকেন।
-ঠিক আছে। আপনার কাছ থেকে আমি কয়টা সিগারেট রাইখা দিলাম। অসুবিধা আছে?
যে কয়টা রাখবেন হিসাব করে দাম দিয়া দিবেন। অসুবিধা কি?

মেয়েটিকে মনে হলো হঠাৎ যেনো একটু থমকে গেল। বললো, অবশ্যই অবশ্যই, দাম তো দেবোই। এইটা আলাদা করে বলার কি আছে?
আমার অবশ্য তখন চিন্তা ছিলো ভিন্ন। দেখলাম মেয়েটির জিন্সের প্যন্টের সামনের পকেট থেকে মুঠো ভরে বেশ কয়েকটা একশ' আর অনেক রকম নোট বের হলো। অন্ধকারে সব দেখতেও পারলাম না। আমার দিকে একটা পঞ্চাশ টাকার নোট বাড়িয়ে দিয়ে বললো, নেন, ছয়টা সিগারেট রাখছি।
খেয়াল করলাম, 'ইউ কীপ দ্য চেঞ্জ' টাইপের কিছু বললো না। তার মানে আমার কথায় কোনো ভাবান্তর হয় নি। মন খারাপ হবার কি অনেক বড় কোনো কারণ থাকতে পারে মেয়েটির? মানুষের থাকতেই পারে। কোনো কোনো সময় আমারও থাকে।
টেনশনে নিমজ্জিত হলাম। সেই অবস্থায় গেট টপকে মেয়েটির সামনে গেলাম। এস এস পাইপের রেলিং দেয়া গেটটা পার হইতে খুব বেশি কষ্ট হলো না। জিজ্ঞেস করলাম, মন খারাপ?
-হে হে আসছে একটা লোক, আমার মন খারাপ কিনা জিজ্ঞেস করতে।
জ্বি না, মন খারাপ নিয়ে কিছু বলতে আসি নাই। যেহেতু একটু ব্যাবসা হইলো তাই থ্যংকু দিতে আসছিলাম। আচ্ছা দেখি আপনে কেমন পারেন, এই গেটটা পারলে টপকান।
-ক্যান আমি গেট টপকায়া আপনের সঙ্গে পার্কের ভিতর যাবো ক্যান?
আরে পার্ক তো আরো কত ভিতরে। আপনারে খালি গেট টপকাইতে কইসি। পার্কে যাইতে কইসি? সাহস না থাকলে স্বীকার করলেই হয়।
-গেটটা টপকামু ক্যান সেইটাও তো বুঝলাম না।
টাপকায়া দেখেন। এই গেটটা টপকানোর মতো ক্ষমতা আপনার আছে কি না সেটাও তো মনে হয় জানেন না। টেক আ ট্রাই।
-ঠিকাছে দেখেন। এইটা টপকানো এমন কোনো সমস্যা না।

মেয়েটির পর আমিও আবার গেট টপকালাম। ভেবেছিলাম সে সঙ্গে সঙ্গেই আবার টপকে উল্টাপাশে ফিরে যাবে। তারপর আমি ''দেখেন, এই গেটটা যেহেতু আপনি চাইলেই টপকাতে পারেন, সুতরাং জীবনের সব গেটই পারবেন, টেনশন নিয়েন না'' টাইপ একটা বাণী দিয়ে সরে পড়বো। দেখি সেরকম কিছু ঘটে না।
-কি পারছি?
হ, পারছেন তো দেখি। হুন্ডা চালাইতে পারেন?
-মমিন মুসলমান কয় কি! আপনে কি পাগল না কিছু খাইছেন-টাইছেন? ঠিক করে বলেন তো।
পারবেন তো মনে হয়। একটা ট্রাই দেন, আসেন।
-আরে না না। আপনে এমনিতেই যথেষ্ট পাগলামি করেছেন। আর সহ্য হচ্ছে না। এখন ঘটনা ক্লিয়ার করেন। আর পঞ্চাশ টাকার নোটটা আপনের কাছে। কত ফেরত পাবো, ফেরত দেন।

আমি ততক্ষণে সাইকেলটা স্টার্ট দিয়ে ঘুরিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। বললাম, আমার কাছে খুচরা কোনো টাকা নাই। চলেন টাকাটা ভাঙ্গায় দেই।
-কি আশ্চর্যের কথা। আমি কেন আপনের সঙ্গে টাকা খুচরা করতে যাবো? আপনের বিষয়টা কি?

আমি চিন্তা করলাম, শুধু শুধু একটা মানুষকে ভয় দেখায়ে লাভ নাই। আর এটাকে যদি আমি সামান্য দুষ্টামী হিসেবেও দাবি করতে চাই, তাহলে সেটাও যথেষ্ট হয়েছে। এখন বন্ধ করা উচিত। পরে কখনো অন্য কোনভাবে পরিচয় হলে এই ঘটনাটা বলে তাকে অবাক করে দিতে হবে।

বললাম, ঠিক আছে। ভাংতি করে আপনার পাওনাটা দিয়ে দেয়ার ইচ্ছে ছিলো। যাক, টাকা আপাতত আপনার কাছেই থাক। আমি আরেকদিন এসে নিয়ে যাবো।
-এর মানে কি? আপনার উদ্দেশ্যটাই তো বুঝতে পারলাম না।
উদ্দেশ্য তো জটিল কিছু না। ক্যান যে বুঝতে পারলেন না।
-তাইলে একটু ক্লিয়ার করেন। অজ্ঞানের জ্ঞান বাড়ুক।
জানতে চাচ্ছিলাম, আপনার কি মন খারাপ কিনা? আপনাকে একা একা বসে থাকতে দেখে তখন মনে হইসিলো যে, খারাপ।
-হ্যাঁ মন খারাপ। তো? সেটা দিয়ে আপনের দরকার কি?
পেছনে উঠেন।
-কিহ্?
পেছনে উঠেন। হালকা বাতাস লাগলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি দেখছি, আজকের বাতাসটায় কিছু একটা আছে। গায়ে লাগলেই মন ভালো হয়ে যাচ্ছে। উঠেন।
-না, আমি কেন আপনের সঙ্গে বাতাস খাইতে যাবো?
আরে কারো সঙ্গে একসাথে বাতাস খাইলে কিছু হয় না। টেনশন না নিয়ে উঠেন খালি একবার। সারাজীবন তো টেনশন নিলেনই, মাঝে-মধ্যে একটু টেনশন না নিয়েও দেখেন, কেমন লাগে।

আমরা টিএসসি'র গেট দিয়ে বের হয়ে ক্যম্পাসে কয়েকবার ঘুরলাম। মল চত্বর, মুহসীন হল, ফুলার রোড, নেস'কাফের সামনের রাস্তাগুলো দিয়ে। কোনো কথা নাই। বকশী বাজার মোড়ের কাছে একটা দোকান থেকে ঠান্ডা কোক কিনলাম। এ কাজগুলো আসলে এমনিই করা। সময় কাটানোর জন্য। দু'জনের মধ্যে বাক্যালাপও খুব একটা হচ্ছিলো না। ততক্ষণে দশটা পেরিয়ে গেছে। চিন্তা করছিলাম, ম্যাডামকে কি বাসায় পৌছায় দিয়ে আসবো? আর তো কিছু করার নাই।
-আপনে যান কই?
কোথাও না। এমনিই ঘুরতেসি।
-আপনের বাসা-বাড়ি নাই? রাতের বেলা একটা অচেনা মেয়েরে নিয়া রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেসেন। আমি তো আপনেরে এখন ছিনতাইও করতে পারি।
কন কি? তাইলে তো ঘোর বিপদ। অবশ্য ছিনতাই করলে বেশি কিছু নিতে পারবেন না। কারণ যেটা চালাচ্ছি সেটা আপনে চালায় নিয়ে যাইতে পারবেন না। তাহলে পিঠের ব্যগটা ছাড়া আর কিছু বাকীও থাকে না তেমন নেয়ার মতো। অবশ্য এইটাও তুলতে পারবেন কি না সন্দেহ আছে। বাহ্, আমি তো আপনার মতো ছিনতাইকারীই চাই। যাউক্গা সেইটা নাহয় বুঝলাম, কিন্তু আপনারও তো বাসা-বাড়ি বলে জিনিস আছে নাকি? এখন পর্যন্ত একটা মেয়ে বাইরে ঘুরতেসেন একা একা। ঘটনা কি?
-বাদ দেন ওইসব প্যচাল। আপনে যেহেতু ঘুরবেনই তো চলেন সংসদ ভবনের ওইদিকে যাই। লাইটিং দেখে আসি। রাতে সংসদ ভবন আর চন্দ্রিমা উদ্যানের ব্রীজের লাইটিং দেখতে অসাম লাগে।
চ্রম আইডিয়া দিলেন। চলেন যাইতেসি।

চন্দ্রিমা ব্রীজের সামনে কিছুটা সময় দাঁড়ালাম। এখান থেকে সংসদ ভবনের পেছনটা দেখা যায়। লেকের পানির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপত্যকলার দূর্দান্ত নিদর্শনটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। দুইজনে বিল্ডিংটার ডিজাইন, বৃত্ত আর ত্রিভুজ নিয়ে প্রচুর গবেষণা করে সেটাকে এককথায় 'অপরূপ' হিসেবে রায় দিলাম। দিয়ে আবার সাইকেলে উঠলাম। বললাম, চলেন নতুন ডেমরা সেতুটাও দেখে আসি।
-হায় হায়। এতদূর? সেই ডেমরা?
ডেমরা কিন্তু এখন আর আগের সেই নদীর ঘাট নেই। শীতলক্ষ্যার উপর বিরাট ব্রীজ হয়েছে। সেটার ঢালটা দেখলে মনে হয় ঝাড়া দুইশ মিটার উঁচু একটা খাড়ি। উঠতে থ্রিল আছে। চলেন।
-আপনের মাথায় পুরাপুরি সিট আছে। মাঝরাইতে এত থ্রিল সহ্য হইবো না। খিদা লাগছে। আগে চলেন খাই।
বাহ্ অতি উত্তম আইডিয়া। আপনের সঙ্গে ঘুরে খুব মজা পাচ্ছি। সেই কোনবেলায় দু'টো রোটি খেয়েছিলুম। কি কথা মনে করায় দিলেন। কই খাবেন বলেন?
-আপনেরে দেখলে তো পেটুক কিসিমের লোক মনে হয় না। চানখাঁর পুলের দিকে যাই চলেন।

আমরা আবার ক্যম্পাস এলাকায় ফিরে আসলাম। বারোটা প্রায় ছুঁই ছুই রাত। নীরবে গিয়ে দেখি গুটায় ফেলছে। সোহাগে ব্যক করলাম। গরম ভাপওঠা ভাত, গরুর কালাভুনা, চিংড়ি মাছ ভর্তা, কলমি শাক, বেগুন ভাজি আর কুচি কুচি পিঁয়াজ-মরিচ-শসা-ধনেপাতার ওপর হালকা কাগজী লেবুর রস ছিটিয়ে আসন করে বসে পেটপূজায় মনোযোগ দিলাম।

মেয়েটিকে যা মনে করেছিলাম তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ খেতে পারতে দেখে ভালো লাগলো। আর আমি একটা ফুল-লোড নিয়ে নিলাম। কেন জানি হোটেলের মধ্যে বসে চা খেতে ইচ্ছে করলো না। শাহবাগে পূবালী ব্যংকের সিঁড়ির ওপর দুইটা প্লাস্টিকের টুল পেতে বসে দুইজন দুইটা চা আর দুইটা সিগারেট ধরালাম। দেখলাম সন্ধ্যায় যে বিরক্তিগুলো বারবার ছেঁকে ধরতে আসছিলো, ওরা আর আসছে না।
চা খেতে খেতে ভাবলাম, এইবার নতুন কিছু করতে হবে। যা কিছুই করছি, সেই জুত পাচ্ছি না। মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম, সোনারগাঁ হোটেলে যাবেন?
-কেন?
একটা কাজ আছে। চলেন।
-কি কাজ আগে বলেন।
দুইজন দুইটা ব্যরন্স নিয়া রাস্তায় বাহির হওয়া যায়। খাইতে খাইতে ঘুরলাম। কি কন?
-আইডিয়া খারাপ না। চলেন যাই।

সোনারগাঁয়ে দুইশ' টাকার জিনিসের দাম ছয়শ' টাকা। তাই সই। সেখান থেকে বের হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পথ ধরলাম। একটা পাক দিয়ে আসা যায়। সার্ক ফোয়ারা থেকে দৈনিক বাংলার মোড় পর্যন্ত নতুন কার্পেটিং করা রাস্তায় চালিয়ে বেশ মজা পেলাম। খুব বেশি গাড়ি-ঘোড়া না থাকায় স্মুথ একটা টানে রাস্তাটা পেরিয়ে আসলাম।
অবশ্য এরপর জ্যমের হাত থেকে বাঁচার জন্য স্বামীবাগের মিতালি স্কুলের রোডের পরের গলি দিয়ে ঢুকে পড়তে হলো। সায়েদাবাদ ওয়ান্ডারল্যন্ডের আগে বামে। গলির ভেতর দিয়ে এসে পড়লাম বাসস্ট্যন্ডে। এত রাতেও এখানে চোখে পড়ার মতো ভীড় লেগে আছে।
বাসগুলোর যাত্রী আর কন্ট্রাক্টর থেকে শুরু করে টহলদার সার্জেন্ট পর্যন্ত চোখ বড় বড় করে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। সেসবে পাত্তা না দিয়ে ধলপুরের ভেতর দিয়ে উত্তর যাত্রাবাড়ীর গলি-ঘুপচি পেরিয়ে একেবারে কাজলা ব্রীজে গিয়ে বড় রাস্তায় উঠলাম।
এই লাইনের মাতুয়াইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত জায়গাটা বেশ বিপজ্জনক। চিকন রাস্তা, দুইদিক থেকে বড় বড় নাইটকোচ যাতায়াত করে; যে কারণে প্রচুর এক্সিডেন্ট হয়। এর মধ্যেই নাম না জানা মেয়েটির বারংবার নিষেধাজ্ঞা স্বত্তেও বিপজ্জনক স্পীড তুলে টানতে থাকলাম।
দূর থেকে সেতুর সোডিয়াম লাইটের সারি আস্তে আস্তে দৃশ্য হয়ে ফুটে উঠছিলো। দেখা মিললো প্রায় খাড়া উঠে যাওয়া ল্যন্ডিংটারও। এমনকি মেয়েটিকেও বেশ উল্লাসিত মনে হচ্ছিলো। আমি নব্বুই ছুঁই ছুঁই স্পীডে সেতুতে উঠে গেলাম। রাত তখন দু'টো পেরিয়ে গেছে।
শরীরে তিরতিরে একটা উত্তেজনা টের পাচ্ছিলাম। মনে আছে, দূর থেকে একটা টিপটিপে লাল লাইটও জ্বলতে-নিভতে দেখছিলাম। একদম শেষ মূহুর্তে এসে উপনীত হবার আগে বুঝতে পারি নি ওটা একটা লরির টেইল-লাইট। পিঠে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া কার্গোর উপর দুইদিকে দুইটা জ্বলছিলো; যার একটা দেখা যাচ্ছিলো, আরেকটা এতক্ষণ চোখে পড়ছিলো না পথের বাঁকের কারণে। বামে একটু জায়গা ছেড়ে দিয়ে লরিটাকে ওভারটেক করে বেরিয়ে গেলাম।
হাইওয়েতে যখন একেকটা বিশালাকায় গাড়ি ওভারটেক করে যাচ্ছিলাম, তখন মেয়েটি বার বার আমার ঘাড়ে হাত রাখছিলো। হয়তো সেসময় ও একটু ভয় পেয়ে থাকতে পারে। আমি কিন্তু বেশি বেশি গাড়ি চাচ্ছিলাম রাস্তায় যাতে প্রচুর ওভারটেক করা যায়। এক সময় শুনতে পেলাম,
-প্রায় তিনটা বাজে। লেটস্ ব্যক।
শুনে সম্বিত ফিরলো। তাই তো। তিনটা বাজে, হায় হায়। এখন করণীয় কি? বাসায় অবশ্য যাওয়া যায়। নিচের গেটের চাবি সঙ্গে আছে। যেকোন সময় আমি বাসায় ঢুকতে পারি। কোনো সমস্যা ছাড়াই। এমনকি আম্মুও টের পাবে না। কিন্তু আরো একটা কথা মাথায় ঘুরছিলো, আল্লাই জানে কি না কি মনে করে বসে মেয়েটি; যে কারণে প্রস্তাবটা কোনভাবেই পাড়তে পারলাম না।
-এখন কই যাবো আমরা?
বুঝতেসি না। ক্যম্পাসে যাওয়া যায়।
-ক্যম্পাসে গিয়ে? ডাকসু'র সামনে বসে থাকবো? পুরাতন বাসস্ট্যন্ডটার ওখানে যেতে পারলে হয়, জায়গাটা দারুণ।
ওখানে ঢোকার ব্যবস্থা নাই। ডাকসু'র সামনে বসে থাকলে থাকা যায়। কিন্তু বসে বসে সময় কাটাবো?
-তাইলে?
মুভি দেখলে হয়।
-কি মুভি আছে আপনের কাছে? লে ফেবুলেক্স ডেস্টিন ডি আমেলি পোওলেন' আছে? থাকলে দেখতে পারি।
হা হা হা, বাস্টেড্। আছে।

চলন্ত সাইকেলেই পেছন ফিরে ভেংচি কাটলাম মেয়েটিকে। বিনিময়ে অবশ্য পিঠে একটা বেজায় কিল খেতে হলো।

-ঠিক আছে চলেন। ডাকসু'তে, নাকি?
আরেকটা জায়গা আছে। কিন্তু ভয় পাওয়া যাবে না।
-ওকে। কই কন।
কার্জনে; তিনতলা এ্যপ্লাইড ফিজিক্স বিল্ডিংএর বাম দিক দিয়ে যে লোহার রেলিং দেয়া খোলা সিঁড়িটা উঠে গেছে, ওইটার উপরের ল্যান্ডিংএ। হাত-পা ছড়ায়ে আরাম করে বসা যাবে। আর নির্জনতা ছাড়া এখন কোথাও বসলে আসলে জমবেও না।

সায়েন্স ক্যফেটেরিয়ার সামনের গেট খোলা থাকে সারারাত। সেটা দিয়ে কার্জনে ঢুকলাম। গার্ডরুমটায় একটা লাইট জ্বলছিলো। ভেতরে কেউ ছিলো কি না কে জানে। থাকলেও ব্যাটা নিশ্চিত বেঘোর ঘুমে অস্থির। কোনো সাড়া-শব্দ নেই।
প্রায় শেষ হয়ে আসা সেই শীতের চমৎকার রাতটায় আমরা মৎস্যবিজ্ঞানের পাশ দিয়ে এপি'র সিঁড়িটার নিচে চলে আসলাম। দুপ-দাপ দৌড়ে তিনতলায় উঠে গেলাম। দেখি উঠেই মেয়েটি মাটিতে হাত-পা ছেড়ে বসে পড়লো। একটু পর দেয়ালে হেলান দিয়ে প্রায় আধশোয়া।
-উফ্ সারারাত আপনের পেছনে বসে থাকতে থাকতে শরীর ব্যাথা হয়ে গেছে। একটু গড়ানি দিতে পারলে ভালো হতো।
গড়ানি দিতে চাইলেও মনে হয় উপায় নাই। এখানে ময়লা বা নোংরা কিছু নাই ঠিকই, তবে পিঠের নিচে শুকনো কংক্রীটের খোয়া পড়তে পারে। তখন আবার ব্যাথা পাবেন। যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে, দুইটা হাত ক্রস করে মাথার নিচে ঢুকিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখতে পারেন। দেখলাম, খুব ভদ্র মেয়ে, যা বলি তা শোনে।
নোটবুকে আমেলি ছেড়ে আমিও একদিকের দেয়ালে হেলান দিলাম। ফ্রেঞ্চ রোমান্টিক-কমেডীটায় রোমান্স কম, কমেডী বেশি। ভালো লাগছিলো দু'জনেরই। একেকবার মেয়েটি হাসতে হাসতে আধশোয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে উঠে বসছিলো। আমেলি যে পাবে কাজ করে সেখানকার এক বুড়িকে নিয়ে বয়স্ক মদ্যপটা যখন ওয়াশরুমে ঢুকে চারিদিকে কাপুঁনি তুলে ফেললো, তখন তো হাসতে হাসতে সে আমার পেটে-পিঠে কয়েকটা ঘুষিই মেরে বসলো।
মুভিটা ঠিক-ঠাকমতো দেখা শেষ না হতেই হঠাৎ ধবধবে ফর্সা হয়ে গেল চারিদিক। ডীন অফিসের পেছনের কলতলায় গিয়ে দুইজন মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিলাম। মেয়েটির দেখলাম ঘন আর মোটা চুলগুলোয় বাবুদের মতো বয়কাট দেয়া। খুবই কিউট চেহারা। একটা কমপ্লিমেন্ট দিলাম। সে বললো,
-চলেন, এইবার আমারে পৌছায় দিয়া আসেন। আপনেরে সারারাত বহুত যন্ত্রণা দিসি। এখন বাসায় যাবো।
---

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


থ্যাঙ্কু Smile

নায়িক- নায়িকার কত কিছুই হলো কিন্তু কিছুই হলো না Wink

মীর's picture


আমার সবসময়ই শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় না At Wits End

লিজা's picture


Yawn হুমায়ুন পড়ছিলাম । এবি থেকে লগআউট হয়েও আবার ইন করলাম আপ্নের এই গল্পের যন্ত্রনায় । গল্পটা এত মনে ধরল যে, এক্ষুনি একটা কমেন্ট না করলে ভয়াবহ অইন্যায় হবে । জটিল একটা গল্প আমাদের উপহার দেয়ার জন্য ধইন্যা, বস Cool

মীর's picture


উপহার হিসেবে নিয়া আমারে কৃতজ্ঞ করলেন। এবার নিজে একটা চ্রম গল্প লিখে আমারে কৃতজ্ঞতা জানানোর সুযোগ দেন।

জ্যোতি's picture


দুধ-চিনি কম, লিকার বেশি -কড়া এক কাপ চা দেন আগে।
উফফফফ। দারুণ লিখছেন!গল্পের সাথে মিশে গেলাম। গল্প পড়তেই পড়তেই লীনাপাকে বললাম একদিন এমন সারারাত যদি ঘুরতে পারতাম!

লীনা দিলরুবা's picture


লীনাপা'র সাথে ঘুরে দুধ-চিনি কম, লিকার বেশি -কড়া এক কাপ চা খেতে ভালো লাগবে না জয়ি Wink মীর মাথা নাড়ান, জয়িতা রাতভর ঘুরতে চায় Smile

জ্যোতি's picture


চলেন একদিন সবাই মিলে। মীর মাথা নাড়ালে ভালো। খুশী হবো। তবে সে তো আড়াল ভালোবাসে।

শওকত মাসুম's picture


প্রথমে ভাবছিলাম তুমি আর লীনা যাবা খালি!
কম কম জয়িতা।

মীর এইটাও অসাধারণ। দারুণ সব আইডিয়া আপনার।

লীনা দিলরুবা's picture


কম কম জয়িতা Smile জয়িতা খেতাব প্রাপ্ত হলো Wink
আমি যাবো না, মীর যদি রাজি হয়- জয়িতা আর মীর যাবে।

১০

জ্যোতি's picture


আমার খেতাবের কুনু অভাব নাই।
সবাই মিলেই তো যাবো ঘুরতে। মাসুম ভাইও।ভুং ভাং চলবে না।

১১

লীনা দিলরুবা's picture


মীর রাজি থাকলে তুই আর মীর যা, গল্পের নায়ক-নায়িকার মত ঘুর টুর। রিয়্যাল লাইফে এমন হৈতে পারে তো Tongue

১২

জ্যোতি's picture


মীররে ভয় দেখান কেন?আপনারে মাইনাস।তবে মীররকে আমার সেই ইউনির বন্ধুদের মতই লাগে।তাইতো মাঝে মাঝে অবাক হই।

১৩

মীর's picture


তবে মীররকে আমার সেই ইউনির বন্ধুদের মতই লাগে

Big smile Big smile

১৪

জ্যোতি's picture


দুষ্টু পুলাপাইন খালি বানাম বুল ধরে।মীরর বললেও খুব ভুল না।আপনার গল্পগুলোকে আয়নাও মনে হয় মাঝে মাঝে, যেখানে নিজেকে দেখি।

১৫

লীনা দিলরুবা's picture


মীর কিন্তু পিছলাইতেছে। জয়িতা সহ ঘুরতে যাবে কিনা সেইটা পরিস্কার বলুক আমরা একটা উমদা পোস্ট পামু তাইলে Smile)

১৬

মীর's picture


আমি বানাম ভুলের জন্য রীতিমতো মাইর খাইতেসি। লীনা'পুরে বললাম হাতুড়িটা ফেরত দিতে, তাও দেয় না যে লেখালেখির অপচেষ্টা বাদ দিয়া অন্য কাজ করুম।
আমার গল্পগুলো কি ভার্সিটির বন্ধু আছিলো? কেম্নে কি??

১৭

জ্যোতি's picture


লীনাপা হাতুড়ীটা দেন তো! মীরের মাথায় বাড়ি দিমু জোরে। খালি প্যাঁচায়।
আপনার অনেক গল্পে কিছু উড়াধুড়া কাহিনী আছে, আমার বন্ধুরাও এমন উড়াধুরা ছিলো। গল্পগুলো জীবন থেকে নেওয়া বলেই মনে হয়। যদি ভুল মনে হয়ে থাকে তাইলে সেটা মনের দোষ। আমার না।

১৮

মীর's picture


লীনা'পু আমার হাতুড়ি আমারে ফেরত দেন। অন্য কাউরে দিবেন না। Big smile Big smile

১৯

জ্যোতি's picture


আপনেরে কই পাইবো?আমার কাছে দিলে আমি আপনার মাথায় বাড়ি দিয়ে হাতুড়ীটা ফেরত দিয়ে আসপো।

২০

লীনা দিলরুবা's picture


মীর কথা ঘুরায়া লাভ নাই হাতুড়ির গল্প আরেকদিন আজকা কথা দিয়া যান কোন দিন
জয়িতারে নিয়া বেড়াইতে যাইতেছেন। কথা ঘুরালেই আপ্নেরে নিয়া আজগুবি পোস্ট দিমু,
খুব খেয়াল কৈরা Wink

২১

জ্যোতি's picture


কথা ঘুরালেই আপ্নেরে নিয়া আজগুবি পোস্ট দিমু,

Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

২২

মীর's picture


আমি কিন্তু বলসি, আমারে ছিনতাই করলে বেশি কিছু পাওয়ার সুযোগ নাই। আর যা পাবেন তাও নিয়ে যাইতে পারবেন কি না সন্দেহ আছে। Tongue outTongue out

২৩

লীনা দিলরুবা's picture


আপ্নেরে ছিনতাই করবো এইটাতো বলি নাই। বলছি আপ্নে জয়িতারে নিয়া বেড়াইতে যাবেন কখন সেইটা পরিস্কার বলেন এখন দেখি আপ্নে খালি পিছলান। আর আপ্নেরে ছিনতাই করুম সেই বদনজর আমাদের নাই। চিপায় বইসা লেখতেছেন ক্যান আপ্নেরে ডিস্টার্ব দিমু। আমরা আপনার বন্ধু না? আমরা চাই মীর মীরের মত নীরবে লেখুক। তয় জয়িতার লগে বেড়ানোর সাহস নাই বুঝছি Wink

২৪

জ্যোতি's picture


আর ডর দেখাইয়েন না।আমারে নিযা বেড়াতে গিয়ে কি আপনাদের হিংসার আগুনে জ্বলবে নাকি?আমরা ছবির হাটের চিপায় গিয়া এত সবজির ধূয়া খাই কিন্তু মীররে দেখি না কেনু?

২৫

মীর's picture


SurprisedSurprisedSurprised

২৬

মীর's picture


আবার তব্দা খাইলাম। আহেম।

২৭

জ্যোতি's picture


Shock Shock Shock

২৮

নুশেরা's picture


মমনি মুসলমান কয় কি!

এই বাক্যটা বুঝি নাই।

মীরের আগের দুতিনটা গল্প আর একটা ব্লগরব্লগর টাইপ পোস্টের সাথে খাবলা-খাবলা মিল পেলাম। গল্পে বেশ 'জীবন থেকে নেয়া' গন্ধ পাওয়া গেল... একটু পোড়া-পোড়া গন্ধও আসলো Tongue

২৯

মীর's picture


মমিন মুসলমান হবে। ঠিক করে দিসি। আপনারে বিয়াপুক ধইন্যাপাতা। Big smile

৩০

রুমিয়া's picture


আরেকটা দারুণ গল্প... Smile

৩১

মীর's picture


আরেকটা দারুণ কমেন্ট... Smile

৩২

তানবীরা's picture


গল্পটা পড়তে পড়তে রোমান হলিডে ফিল্মটার কথা মনে পড়লো বহুদিন পরে। এটার একটা হিন্দী ভার্সনও ছিল, সোলভা সাল। হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা।

জীবন থেকে নেয়া হয়ে থাকলে এমন জীবনের অধিকারীদেরকে চরম হিংসা Big smile

অসোম, আমি জীবনেও রাতের ঢাকা বাসার বাইরে থেকে দেখি নাই, আজকে আপনার হোন্ডার পিছে আমিও ছিলাম

৩৩

তানবীরা's picture


ইয়েহিতো হ্যায় ও

৩৪

মীর's picture


হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা শুনসিলাম, খুওবই পছন্দের গান। কিন্তু এইটা শুনি নাই। দারুণ লাগসে। থ্যংকিউ তানবীরা'প্পু।
গল্প ভালো লাগার জন্য ফ্রেশ ধইন্যাপাতা। রাতের গল্প আরো লেখার ইচ্ছা আছে। আপনার প্রশংসায় সাহস পেলুম। দেখি কি হয়...

৩৫

তানবীরা's picture


আমার ঐ গানটা থেকে এটা বেশি ভালো লাগে। হেমন্তের কারণে হ্যায় আপনা দিল বেশি ফেমাস বোধহয়

রাত হয় না ক্যান এখোনো? Puzzled

৩৬

মীর's picture


মাসুম ভাইকে মাইকে ধন্যবাদ। আমি তার সঙ্গে সহমত। তবে গল্পের ব্যপারে না Wink

৩৭

জ্যোতি's picture


Nail Biting Angry Angry Timeout Timeout

৩৮

মীর's picture


আপ্নে কুন ব্যপারে সহমত ইকটু যদি জানাইতেন।

৩৯

জ্যোতি's picture


আমি সহমত না। তীব্র প্রতিবাদ । হাতুড়ী দিয়া মাসুম ভাই এর মাথায়ও একটা বাড়ি দিমু ইনশাল্লাহ।
আচ্ছা মীর, নতুন পোষ্ট কই?আইলসা হলেন কনে?

৪০

মীর's picture


একটা লেখা যে দিসি সেটার বয়স এখনো চব্বিশ ঘন্টা হয় নাই। এর মধ্যেই নতুন লেখা লাগবে?

৪১

জ্যোতি's picture


চব্বিশ ঘন্টা হতে আর দেরী নাই। কাল আপনাদের তিন জনের পাল্লায় পড়ে রাত পার করলাম ব্লগে। দুজন এখনও ঘুমায় আর আপনিও ঝিমান। আমি তো সকাল থেকে আপিসে।

৪২

অরিত্র's picture


অসাধারণ সব লেখা মীর ভাইয়ের ঝোলায়। যখনই সময় পাই একটু বের করে পাঠ করি। ভাল লাগে। আগে শাওনের গল্প পেতাম। শাওন ভাই চাকরিতে যোগদানের পর এখন আর পাই না।

ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী Sad

৪৩

মীর's picture


অরিত্রদা'র নতুন লেখা পাই না কয়েক যুগ হচ্চে। Stare

৪৪

নাজমুল হুদা's picture


মীর, দ্যা গ্রেট ! পান কোথায় এ সব আজগুবী আইডিয়া ? সারারাত ঘুরাঘুরি অথচ শেষ পর্যন্ত কিছুই না ! আর এত আসাধারণ করে বলেনই বা কেমন করে ? সংলাপগুলো এত যুৎসই যে মনে হচ্ছিল, নিজের কানে শুনছি । রাতের কাহিনী আরও শোনাবেন বলে নিজেই বলেছেন, অপেক্ষায় থাকলাম ।

৪৫

মীর's picture


নাজমুল ভাই এক জায়গায় আমার ব্যপারে ভুল তথ্য দিসে। খুব দুঃখের কথা। Sad
অপেক্ষায় থাকতে রাজি হওয়ার জন্য ধইন্যা।

৪৬

নাজমুল হুদা's picture


আমি যা জানি তা সবই সত্য, এমন দাবী কখনও করিনি । তবে আপনার কোন ব্যাপারে দেওয়া কোন তথ্যটি ভুল তা জানতে পারলে সংশোধনের চেষ্টা করতাম । ভুল যদি করেই থাকি তা'হলে দুঃখ প্রকাশ করছি ।

৪৭

মীর's picture


আমার নাম বাচ্চু বা এইটাইপ কিছু না। আশা করছি ভবিষ্যতে না জেনে তথ্য উপস্থাপন থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন। অন্তত আমার ক্ষেত্রে।
আমি যেখানে স্পষ্টত জানালাম আপনার ভুল তথ্য দেয়া ঘটনায় দুঃখ পেয়েছি, সেখানে অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকলেও পারতেন।

৪৮

নাজমুল হুদা's picture


এই ব্লগেই কেউ একজন আপনাকে বাচ্চু বলে সম্বোধন করেছিলেন । আর তা থেকেই আমি এই ভুলটা করেছি । ভাই, আমার ভুল আমি অকাতরে স্বীকার করছি এবং নিশ্চিত না হয়ে আপনার নাম সম্পর্কিত ভুল তথ্য পরিবেশনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, সাথে করছি ক্ষমা প্রার্থণা । আশা করি সব ভুলে যাবেন, আমার অনিচ্ছাকৃত ত্রুটীর জন্য আমি সত্যিই লজ্জ্বিত।

৪৯

মীর's picture


রিয়েল থ্যংক্স। এইবার পাঁচ কেজি ফ্রেশ ধইন্যাপাতা নিয়ে যান প্লীজ। Smile

৫০

নাজমুল হুদা's picture


সত্য কথা শুনতে কঠিন লাগে, আপনি হয়তো এত কঠিন করে বলেননি, তবে আমার কাছে মনে হয়েছে খুবই কঠিন, আমার চোখে পানি চলে এসেছিল । আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মীর, আমাকে দায়মুক্ত করার জন্য ।

৫১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


মিল পাইলাম। অনেকগুলান স্পট বিয়াপক পরিচিত। অনেকগুলান স্বভাবও...
চলেন আপনে আর আমি ঘুরি এক রাইতে। আপনের সাইকেলেতো জয়িতা বইবো, আমারটায় কে ?
কাহিনী বালা পাইলাম।

৫২

মীর's picture


আপনে আর মাসুম ভাই, আমি আর রায়হান ভাই। বয়েজ পার্টি। Wink

৫৩

নাম নাই's picture


গল্পের চরিত্রগুলা ইউটোপিয়াতে থাকে বৈলা মনে হইল...সারারাত বাইকে একবারও পুলিশে কিছু কৈলনা! কার্জন হলের সিড়িতে মুভি দেখা হইল, একবারও কোনো মামা আসলোনা দেখতে ঘটনাটা কি... Tongue
যাউগ্গা, আমেলি আমার সবচাইতে প্রিয় মুভি, তাই আর বেশি কিছু কইলাম না Tongue

৫৪

মীর's picture


ইউটোপিয়া

৫৫

নাম নাই's picture


মাথা ফাটাইয়ালাইতেছেন ক্যান? কি হইছে?

৫৬

মীর's picture


এ জীবনে ইউটোপিয়া থেকে বাইর হইতে পারুম কি না জানি নাUndecided

৫৭

নাম নাই's picture


সেইম হিয়ার। ক্যালভিন এ্যান্ড হবস পড়ছেন? ক্যালভিনের একটা কথা আছিল 'reality continues to ruin my life'...একদম আমার জীবনী এক লাইনে Sad

৫৮

মীর's picture


তাইলে ঝামেলায় না জড়ায়া, শিকা যেহেতু আছেই Wink

৫৯

নাম নাই's picture


exactly.

৬০

উলটচন্ডাল's picture


সোহাগে ব্যক করলাম। গরম ভাপওঠা ভাত, গরুর কালাভুনা, চিংড়ি মাছ ভর্তা, কলমি শাক, বেগুন ভাজি আর কুচি কুচি পিঁয়াজ-মরিচ-শসা-ধনেপাতার ওপর হালকা কাগজী লেবুর রস ছিটিয়ে আসন করে বসে পেটপূজায় মনোযোগ দিলাম।

মজা নেন, না? এক সপ্তাহ হইল ভাত-ডিম্ভাজির উপ্রে আছি। Angry Angry

৬১

মীর's picture


ভাত-ডিম্ভাজি এখনো আমার প্রধান খাবার। Big smile

৬২

কিছু বলার নাই's picture


কার্জন হল যাইনা বহুৎদিন। তবে রাত্রেবেলা এতো সহজে বারান্দায় বইসা আমেলি দেখাটা মনে হয় একটু কঠিন হবে।

৬৩

মীর's picture


আপনারে কি আমি এই লেখাটা পড়ার জন্য বলসি? Day Dreaming আর প্রো-পিক যা একটা লাগাইসেন, দেইখা এই শেষ রাইতে ভয় পাইলাম। কার্জনের বারান্দা না, এপি'র তিনতলা খোলা সিঁড়ির কথা বলসিলাম। সেইটা এখন রিকনস্ট্রাকশন হৈতেসে। জিনিসটা থাকে কি না, কে জানে। যাই না আমিও অনেক দিন।
তবে মানছি বারান্দায় বসাটা আসলেই কিছুটা বিরক্তিকর হতো। হয়তো বন্ধু-বান্ধবরা এ নিয়ে পরে প্রচুর ক্ষেপাতো- যে রাতে বেলা মেয়েমানুষের সঙ্গে বসে মুভি দেখছি। এটাকে চিরকুমার সঙ্ঘের বন্ধুগুলো নির্ঘাৎ কোমল স্বভাবের আচরণ হিসেবে গণ্য করতো।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম, আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। এটি একটি মৌলিক ব্লগ। দিনলিপি, ছোটগল্প, বড়গল্প, কবিতা, আত্মোপলব্ধিমূলক লেখা এবং আরও কয়েক ধরনের লেখা এখানে পাওয়া সম্ভব। এই ব্লগের সব লেখা আমার নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত, এবং সূত্র উল্লেখ ছাড়া এই ব্লগের কোথাও অন্য কারো লেখা ব্যবহার করা হয় নি। আপনাকে এখানে আগ্রহী হতে দেখে ভাল লাগলো। যেকোন প্রশ্নের ক্ষেত্রে ই-মেইল করতে পারেন: bd.mir13@gmail.com.

ও, আরেকটি কথা। আপনার যদি লেখাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে করে কিংবা অংশবিশেষ, কোনো অসুবিধা নেই। শুধুমাত্র সূত্র হিসেবে আমার নাম, এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টের লিংকটি ব্যবহার করুন। অন্য কোনো উপায়ে আমার লেখার অংশবিশেষ কিংবা পুরোটা কোথায় শেয়ার কিংবা ব্যবহার করা হলে, তা
চুরি হিসেবে দেখা হবে। যা কপিরাইট আইনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও যারা অন্যের লেখার অংশবিশেষ বা পুরোটা নিজের বলে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে চালিয়ে অভ্যস্ত, তাদের কাছে এই কথাগুলো হাস্যকর লাগতে পারে। তারপরও তাদেরকে বলছি, সময় ও সুযোগ হলে অবশ্যই আপনাদেরকে এই অপরাধের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ততোদিন পর্যন্ত খান চুরি করে, যেহেতু পারবেন না নিজে মাথা খাটিয়ে কিছু বের করতে।

ধন্যবাদ। আপনার সময় আনন্দময় হোক।