লুকানো সংকট
ইয়াহু মেইলের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট) ডেভিড ম্যাকডুয়েল সেদিন বলছিলো, ভাই আমরা কিছু চরম চরম ফিচার লাগিয়েছি আমাদের আপগ্রেড ভার্সনে। এতে তাড়াতাড়ি মেইল করতে পারবেন, আনলিমিটেড স্পেস পাবেন, আরো সহজে আপনার এ্যকাউন্ট ইউজ করতে পারবেন; অনেক কিছু করতে পারবেন।
আমি মুখটা অন্যদিক ঘুরিয়ে রাখলাম। কি পেইন! আমি কি চেয়েছি কোনো বাড়তি সুবিধা? শুধু যে সিস্টেমটায় আমি স্বচ্ছন্দ্য, সেটা বানচাল না হলেই হলো। কিন্তু ডেভিড একটা নচ্ছার। বীমা কোম্পানীর লোকগুলোর মতো পিছে লেগে থাকে। যদিও আমাদের দেশে বীমা কোম্পানীর চেয়ে বেশি দৌরাত্ম্য এমএলএম কোম্পানীর লোকদের। আসলে আমরা তো সবসময় পশ্চিম থেকে পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে থাকি, তাই ওদের পঞ্চাশ বছর আগেকার পুরোনো আমের আঁটি নিয়ে বসে আছি এখনো।
সেদিন একটা কাজে গেলাম এক বহুজাতিক দোকানে। অনেকে বলে থাকেন, দেশের দোকানগুলোর কম-বেশি সবই পয়সা খাওয়ার ধান্দায় খোলা। যখন যে ইস্যূ পাবলিক প্রচুর খায়, সে ইস্যূতে একটা করে দোকান- এ যেন এক নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে আমাদের দেশে। ২০০৮-এ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দোকান খোলার মচ্ছব শুরু হতে দেখে আমারও একবার তাই মনে হয়েছিলো।
সেদিনের বিদেশী দোকানে দেখলাম বিদিক ব্যবস্থা। যেতেই নিজেদের লোগো ছাপানো একটা চটের ব্যাগ আমার হাতে ধরিয়ে দিলো। ওর ভেতরে আছে সেদিনের ব্যবসা'র কাগজ-পত্র, স্যূভেনির। আইডিয়াটা খারাপ না। কিন্তু ঐদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো বলেই সম্ভবত চটের ব্যাগে স্যাঁতস্যাতে গন্ধ ধরে গিয়েছিলো।
যারা চটের ব্যাগ জিনিসটাকে এর আসল কাজেই ব্যবহার করেন, তারা কিন্তু বৃষ্টির দিনে সেটা বের করেন না। বৃষ্টির দিনের জন্য চটের ব্যাগ নয়। কিন্তু ঐ আগাপাঁশতলা দোকানীদের সেটা কে বোঝাবে? ওরা হয়তো গুগল মামা বা উইকিপিডিয়া’র কাছ থেকে কেবল এটুকু জানার সুযোগ পেয়েছে যে, বাঙালি জাতির কাছে এ জিনিস গোল্ডেন ফাইবার। তাই এটাই হতে পারে সেরা অভ্যর্থনা উপহার। চট করে যে কথাটা মাথায় এলো তা হচ্ছে; না জেনে সেন্টিমেন্ট ছুঁতে গিয়ে যদি কোনো গড়বড় ঘটে, তবে তারচে’ বিড়ম্বনা আর হয় না। এজন্যই কখনো মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলতে নেই।
আমি অবশ্য জিনিসটা পেয়ে উপকৃত হলাম। আমার ভেজা রেইনকোটটা ওর ভেতরে চালান করে দিলাম দেরী না করে। সেটা থেকে টুপটাপ পানি পরছিলো আর আগারগাঁওএর সুসজ্জিত ভবনটায় আমাকে ফোঁটা ফোঁটা লজ্জা দিচ্ছিলো। ব্যাগের কাগজগুলো আমার হাতে চলে আসলো। ধন্য সোনালী আঁশ। মানুষ তোমাকে অপমান করলেও, তুমি কখনো মানুষকে পড়তে দাও নি। তোমার বদৌলতে ঐ বেনিয়ারাও আজ একটা ধন্যবাদ পেলো। বাহ্।
কাজে বসে গেলাম। প্রোগ্রাম শেষে ব্যাগটা ফেলে দিতে মায়া হচ্ছিলো। কিন্তু এটা আমার হাতে তুলে দেয়ার পেছনে যে মনস্তাত্ত্বিক অপচিন্তা, তাও সহ্য হচ্ছিলো না। শেষমেষ রাস্তার এক ফকিরকে দিয়ে ল্যাঠা চুকালাম। এখন বাপু তুমি এটা নিয়ে চিন্তা করো। আমি অনেকক্ষণ করলাম।
প্রবলভাবে খিলগাঁওএর রহমানিয়া হোটেলে গিয়ে চিকেন গ্রীল খেতে ইচ্ছে করছে। ওরা অসাধারণের চেয়েও বেশি ভালো একটা সস্ বানায়। আর গ্রীলটা এত দারুণভাবে পোড়ায় যে, মুখে দেয়ার সাথে সাথেই সেটা বিস্কুটের মতো গুঁড়ো হয়ে যায়। অসামান্য! প্রচুর পরিমাণে শসা, কাঁচা পেঁয়াজ-মরিচ, তেল-নুন দিয়ে মাখানো সালাদ আর সস্ দিয়ে জিনিসটা খেতে ইচ্ছে করছে।
দু'দিন ধরে একটা কথা ভাবছি। আসলে মানুষ হিসেবে সুখী থাকার মূলমন্ত্র কি? ঘুমন্ত থাকা? মাঝে মাঝে ভাবি, আমি যখন আমার মাএর ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন কেমন ছিলাম? কেবলই স্বপ্ন দেখে দেখে কেটে গিয়েছিলো অনেকগুলো চোখ-না-খোলা দিন। জীবনে আবার একদিন এই সুযোগ আসবে। ঘুমিয়ে যাবো। কেটে যাবে অনেকগুলো বছর। আমার অস্থিরা, মজ্জারা, শিরা-উপশিরারা, কণায়-বিন্দুতে-শূন্যে মিলিয়ে যাবে। বিষয়টা মোটেও খারাপ হবে না। আমার বিশ্বাস।
ডেভিড অবশ্য বিশেষ অফার দিয়েছে, আমি হারিয়ে গেলেও আমার মেইলগুলো হারাবে না। তারা নাকি সেরকম ব্যবস্থাই করছে। ওগুলো নাকি মানবজাতির ইতিহাস হিসেবে সংরক্ষিত হবে। অবশ্য এতে প্রাইভেসি ভায়োলেট হওয়ার একটা সুযোগ তৈরী হয়ে যায়। আমি একদিন একাউন্টের সবগুলো মেইল একসঙ্গে সিলেক্ট করে ডিলিট করে দিতে পারি। আমার মানবজাতির গড়ে ওঠায় ভূমিকা রাখার শখ নেই। নিজের দেশ গড়ে উঠছে, তাতেই কোনো ভূমিকা রাখতে পারছি না। আর তো গোটা মানবজাতি!
এই কথাটা মনে পড়তেই কিছুটা বিগড়ে গেলাম বলে মনে হচ্ছে। তাই আপাতত খোদা।
---





এতদিনে মেইল সংরক্ষণের চিন্তা করলো?
.... তখন কত্ত দর্কারী জিনিষ হারাইছি
...
আগেতো এর মনে হয় ৩০ দিন ইনএক্টিভ থাকলে সব কিছু মুইছা দিতো
আপ্নার উচিত রহমানিয়াতে একটা এবি আড্ডা ফেলা
ওটা একটা খুবই আল-সালাদিয়া ঢাকা হোটেল টুটুল ভাই। লুক-জন বেশিক্ষণ টিকতেই পারবে না।
এক লেখায় কত কি থেকেই চক্কর দেওয়া আনেন আপনে, মজাই লাগে
এবির আমরা সালা দিয়া ঢাকা কিবা ইটালি হোটেল সবখানেই টিকতে পারি!
আচ্ছা ঠিকাছে, দুইজনকে খবর দেবো।
রহমানিয়া হোটেলে কবে খাওয়াবেন? সালাদ-সস দিয়া গ্রীল খাইতে মন্চাইতেছে।
বারান্দার নাকি জানালার গ্রীল? তা চুরা ব্যাটার লাগি এত্তো মায়া কেন যে আগেই গ্রীল কাইট্টা রাখতে চাও!
মায়া থাকবো না আবার!পরাণ পুড়ে গো বান্ধবী।
জয়িতা'পু কান্নাকাটি করেন ক্যান? কি হইসে?
জয়িতা'পুর গ্রীল খাইতে মন চাইছে
জ্বি না। তার আম্রিকার কথা মনে পড়সে।
আম্রিকার কথা ভুলনের কুনু উপায় আছে? ওবামা আর উসামা যা শুরু হইলো!
হ। মায়াবতী এক্কেরে মনের কথা কইছে। মীর, ভুং ভাং রেখে বলেন তো কবে গ্রীল খাওয়াইবেন?
ঠিক কথা। গ্রীলরে আম্রিকায় ডাইভার্ড করা যাবে না।
শুনেন জয়িতা'পুর মিষ্টি মিষ্টি কথায় ভুইলেন্না। সে কিন্তু আম্রিকার বিষয়টাকে অন্যদিকে ঠিকই ডাইভার্ড করে ফেলসে।
জ্বি। মীর ভুলায়া ভালায়া গ্রীল খাওয়াকে আম্রিকায় নিয়ে ঠেকাইতাছে। মীররে
তাইলে খুব শীঘ্রই চিকেন গ্রীলের দাবাত পাইতেছি ।
ইয়াহু মেইল কি মুছলো কি মুছলো না, সেটা নিয়া চিন্তা নাই, আমাদের দাওয়াতের কথা এবি থেইকা না মুছলেই হইলো।
ওক্কে বস্ চিকেন গ্রীলের দাওয়াত দেয়া হইবে।
য়ামি চিকেন গ্রীল খাইবাম
জিনিসটা য়ামি (ইয়ামি) আছে। কথা ঠিক।
সুমন ভাই, আজকাল অনেক নরম-সরম হয়ে গেছেন। কেন?
রহমানিয়ে হোটেলে যাইতে হবে....
যাওয়ার আগে খপর দিয়েন। কেননা একা একা খেলে পেট ব্যথা করবে।
সবাই গ্রীল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল। পুস্টে যে আরো দু'একটা বিষয় ছিলো দেখলোই না।
গ্রীল খাইতে খাইতে ঐ বিষয় গুলো নিয়ে আলাপ করা হপে।

এইটা অবশ্য ভালো বলসেন। যে কারণে আপনারে এককেজি ফ্রেশ ধইন্যাপাতা দেয়া হইলো
পীর সাব, ইয়ে থুক্কু.... মীর সাব, আমিও গ্রীল খাইবাম
আইচ্ছা। খপর দিবাম। আপনে কিরামাছুইন?
কবে খাইবাম? মরনের পরে?
আছি, ভালাই.....
পীর সাব'রে "কবে" বললেই আর কথার উত্তর দেয় না
মেইল থাকলো আর না থাকলো তা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা নাই । এম্নিতেই প্রতি সপ্তাহে একসাথে ওদের ডাস্টবিনে পাঠাই
।
বিমা কোম্পানী হোক আর এমএলএম কোম্পানীই হোক, সবাই কিছু না কিছু করে খেতে চায়, বিভিন্ন উপায়ে । এটা খারাপ কিছু না । তবে আমাদের একটা স্বভাব তো আছেই নতুন কোন কিছুকে আমরা সহজভাবে নিতে পারিনা । ভালোমন্দ না দেখেই সমালোচনায় মত্ত হই ।
যাই হোক, রহমানিয়া হোটেল কি ফ্লাইওভারের ঢালুর দিকে, ফার্নিচারের দোকানগুলোর পাশে?
ঢালুর দিকে না। আমতলা পার হয়ে একটু সামনে।
এমএলএম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। ওদের একটা প্রতিষ্ঠানে। আমার কখনোই ওদেরকে খুব একটা সুবিধার লাগে না। আর নতুন কোনো কিছুকে সহজভাবে নিতে পারি না- এই কথাটা পুরাই ভুল। ধরেন আমরা ব্লগিং কনসেপ্টটাকে যেভাবে নিয়েছি, সেটা উন্নত ভারতও পারে নি। যে কারণে আমাদের এখানে এই মাধ্যমটা দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ববস্ এ বাংলা ব্লগাররা ফ্রান্স, ইংল্যন্ড, আমেরিকা, জার্মানী, ইরানের ব্লগারদের সঙ্গে দাপটের সঙ্গে লড়াই করে। কিন্তু কোনো ইন্ডিয়ানের নামও খুঁজে পাওয়া যায় না।
এরকম আরো অসংখ্য নতুন বিষয় আছে, যেটা আমরা অর্থাৎ বাঙালিরা সহজভাবে শুধু নেয়াই না, নিয়ে দারুণভাবে চর্চাও করতে পারি।
লোকজন আর মানুষ পায় নাই মীরের কাছে গ্রীল খাইতে চায়??
ওর চাইতে মেসবাহ ভাইরে বললে এতক্ষন খাওয়া হয়ে যেতো।
মীরেরে তুমি মনে হয় পাত্তা দিলানা ভাইস্তা !
অবশ্য তুমি পাত্তা দিলেই কী, আর না দিলেই কী !
আমরাও বৈদেশীগো পাত্তা দেইনা (খালী মানু ছাড়া)...
মানু তোমগো মতন বৈদেশী না !
এইডা কী আমার পক্ষে গেল না বিপক্ষে !
রহমানীয়া হোটেলে যাইতে মঞ্চায় আমারও। মীর কি আমারে
দাওয়াত দিবো ??
কথা ঠিক মেসবাহ ভাই আমি মীররে পাত্তা দিলেই কী আর না দিলেই কী!!
আর বৈদেশীরা আপনার কি করছে আল্লাহ মালুম?? আমরা আপনারে এতো ভাল পাই দাদাভাই কইয়া ডাকি আর আপনে আমাগো ধুর ধুর ছেই ছেই করেন।দিলে খুব চোট পাই ভাই।
মানুদা আমাগো মতো বৈদেশী না ক্যান? হের কি আছে যা আমাগো নাই??
তার চেহেরা সুন্দর আমাদেরটা না এই তো??
আর কথাটা আপনার পক্ষেই কইছিলাম।
=============================================
মীর আপনাগো দাওয়াত দিক। রহমানীয়া হোক আর র্যাডিসনই হোক আপনারা পেট ভরে খাবেন মন ভরে মীররে দেখবেন জমায় আড্ডা দিবেন পরে ব্লগে এসে জাবর কাটবেন আর আমরা তা দেখে হাততালি দিমু।
সেই দোয়া রইলো।আমীন।

বিয়াপক লাইক দিলাম।
তয় মানুর কী আছে, আর তোমগো কী নাই... এই কৈতে শরম পাইতেছি
শরমের কি আছে দাদা ভাই? কইয়া ফেলান।

মেসবাহ ভাই, অবশ্যই আপনাকে দাওয়াত দিবো। এইটা আবার জিজ্ঞেসও করা লাগে নাকি? নাহ্ লইজ্জা পাইলাম।
গ্রীল খাইতে মন্চায়

মি. এপিট্যাক্সি, আপনার এগিয়ে চলা... কবিতাটা দূর্দান্ত হয়েছিলো। কিন্তু এরপরে আর নতুন লেখা নেই। বিষয় কি?
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
ইয়াহু মেইল কি মুছলো কি মুছলো না, সেটা নিয়া চিন্তা নাই, আমাদের দাওয়াতের কথা এবি থেইকা না মুছলেই হইলো।
স্টার রাইটাররা আজকাল সাধারণ ব্লগারদের কমেন্টের জবাব দেয় না
স্টার রাইটার দের লেখা পড়তে পারেন তার জন্য শুকরিয়া আদায় করেন তাতাপু।
কমেন্টের জবাব অনেক পরের কাহিনী।

মুছবে না তানবীরা'প্পু। ফিরে আসেন, আপনাকেও খাওয়াবো।
এই কাজটা আমি গত সপ্তাহে করলাম। একবারে ১০০২টা মেইল সিলেক্ট করে চোখের পলকে ডিলিট করে দিছি।
আমার এখন ২৯৩৬ খানি মেইল আছে। ডিলিট করা দর্কার। কত রকমের আবজাব যে মেইলে আসে আর আসতেই থাকে।
মীর কি সুন্দর করে যে লিখ!
চট করে যে কথাটা মাথায় এলো তা হচ্ছে; না জেনে সেন্টিমেন্ট ছুঁতে গিয়ে যদি কোনো গড়বড় ঘটে, তবে তারচে’ বিড়ম্বনা আর হয় না। এজন্যই কখনো মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলতে নেই।
পড়ি আর মুগ্ধ হই।
শাপলা আপু কেমন আছেন? অনেক অনেক দিন আপনার নতুন লেখা পাই না। লিখছেন না কেন?
মন্তব্য করুন