ভাল লাগা ভাবনারা - ৪
এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত
কন্ঠ
পা এক নয় ।
সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার
শাশ্বত শান্তির যারা তারাও যুদ্ধে আসে
অবশ্য আসতে হয় মাঝে মধ্যে
অস্তিত্বের প্রগাঢ় আহ্বানে,
কেউ আবার যুদ্ধবাজ হয়ে যায় মোহরের প্রিয় প্রলোভনে
কোনো কোনো প্রেম আছে প্রেমিককে খুনী হতে হয় ।
যদি কেউ ভালোবেসে খুনী হতে চান
তাই হয়ে যান
উৎকৃষ্ট সময় কিন্তু আজ বয়ে যায় ।
এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময় ।
-হেলাল হাফিজের কবিতা। নাম- নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়। রচনাকাল- ১৯৬৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। হেলাল হাফিজকে নিয়ে আসলে বেশি কথা বলা যাবে না। অল্প সংখ্যক কবিতা লিখেছেন এবং তাই দিয়ে বাংলা কবিতাকে নিজের স্থান থেকে আরো বেশ খানিকটা উপরে উঠিয়ে দিয়েছেন। ক্ষণজন্মা প্রতিভা।
আমার অতিপ্রিয় কবি। তাঁর কবিতা অনেক সময় টনিকের মতো কাজ করে। মন-মেজাজ বেশি খারাপ থাকলে এবং হাতের কাছে ব্যবস্থা থাকলে আমি হেলাল হাফিজ পড়া শুরু করে দিই। তারপর একসময় সবকিছু হালকা লাগতে শুরু করে।
হেলাল হাফিজের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ২টি। যে জলে আগুন জ্বলে (১৯৮৬) আর কবিতা ৭১ (২০১২)। নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় কবিতাটি প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় গ্রন্থেই সংকলিত হয়েছে। উনার আরেকটি অসাধারণ কবিতা হচ্ছে ছোট্ট ছয় লাইনের- ঘরোয়া রাজনীতি। আমার খুবই প্রিয়। রচনাকাল ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। পড়ে নিই কবিতাটি একবার-
ব্যর্থ হয়ে থাকে যদি প্রণয়ের এতো আয়োজন,
আগামী মিছিলে এসো
স্লোগানে স্লোগানে হবে কথোপকথন।
আকালের এই কালে সাধ হলে পথে ভালোবেসো,
ধ্রুপদী পিপাসা নিয়ে আসো যদি
লাল শাড়িটা তোমার পড়ে এসো।
-হেলাল হাফিজের দুই লাইনের কবিতা অশ্লীল সভ্যতা (১৯৮০ সালের ১৮ জুনে লেখা) পড়েন নি বা শোনেন নি এমন লোক সম্ভবত আমাদের মধ্যে একজনও নেই। কিচ্ছু না, ভদ্রলোক শুধু বলে গেলেন-
নিউট্রন বোমা বোঝ
মানুষ বোঝ না!
আর তাতেই কোনো এক বিচিত্র অকারণে মস্তিষ্কটা আক্রান্ত হয়ে পড়লো! ভাষা দিয়ে মানুষকে আঘাত করার এমন চমৎকার নির্দশন পুরো পৃথিবীতেই বোধহয় খুব বেশি মিলবে না।
এইবার উনার প্রেমের কবিতা পড়ি। প্রেমের কবিতা তাঁর হাতে লাল গোলাপের মতো সুন্দর হয়ে ফুটেছে। প্রথমে প্রস্থান কবিতাটিই পড়ে দেখা যাক। '৮০-র জুলাই মাসে লেখা, তারিখ জানতে পারি নি-
এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিয়ো।
এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালী তাল পাখাটা
খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পত্র দিয়ো।
ক্যালেন্ডারের কোন পাতাটা আমার মতো খুব ব্যথিত
ডাগর চোখে তাকিয়ে থাকে তোমার দিকে, পত্র দিয়ো।
কোন কথাটা অষ্টপ্রহর কেবল বাজে মনের কানে
কোন স্মৃতিটা উস্কানি দেয় ভাসতে বলে প্রেমের বানে
পত্র দিয়ো, পত্র দিয়ো।
আর না হলে যত্ন করে ভুলেই যেয়ো, আপত্তি নেই।
গিয়ে থাকলে আমার গেছে, কার কী তাতে?
আমি না হয় ভালোবেসেই ভুল করেছি ভুল করেছি,
নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে
পাঁচ দুপুরের নির্জনতা খুন করেছি, কী আসে যায়?
এক জীবনে কতোটা আর নষ্ট হবে,
এক মানবী কতোটা আর কষ্ট দেবে!
-ঘোর লাগা কবিতা। তার ততোধিক ঘোর লাগা সুর। বিশেষণের খোঁজে শব্দ না হাতড়িয়ে বরং উনার আরেকটি কবিতা দিয়ে আজকের ভাবনার পাট চুকাই। হিরণবালা। ৮১'র ডিসেম্বরের দিকে লেখা। হিরণবালা কার কাছে কেমন লাগে জানায়েন।
হিরণবালা তোমার কাছে দারুন ঋণী সারা জীবন
যেমন ঋণী আব্বা এবং মায়ের কাছে।
ফুলের কাছে মৌমাছিরা
বায়ুর কাছে নদীর বুকে জলের খেলা যেমন ঋণী
খোদার কসম হিরণবালা
তোমার কাছে আমিও ঠিক তেমনি ঋণী।
তোমার বুকে বুক রেখেছি বলেই আমি পবিত্র আজ
তোমার জলে স্নান করেছি বলেই আমি বিশুদ্ধ আজ
যৌবনে এই তৃষ্ণা কাতর লকলকে জিভ
এক নিশীথে কুসুম গরম তোমার মুখে
কিছু সময় ছিলো বলেই সভ্য হলো
মোহান্ধ মন এবং জীবন মুক্তি পেলো।
আঙুল দিয়ে তোমার আঙুল ছুঁয়েছিলাম বলেই আমার
আঙুলে আজ সুর এসেছে,
নারী-খেলার অভিজ্ঞতার প্রথম এবং পবিত্র ঋণ
তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখে সত্যি কি আর শোধ হয়েছে?
পোস্ট এখানে শেষ। পোস্টের সবগুলি কবিতা 'যে জলে আগুন জ্বলে' বইটি থেকে নেয়া। বইটিতে যদি কেউ চোখ বুলাতে চান, তাহলে এখানে ক্লিক করতে পারেন। অন্তর্জালে ঘুরতে ঘুরতে লিংকটা পেয়েছি। যিনি বইটি আপলোড করেছেন, তার কাছে আক্ষরিক অর্থেই কৃতজ্ঞ থাকলাম।
---





আমার মতো অনেকের প্রিয় একজন কবি।
ধন্যবাদ মীর ভাই শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও ধন্যবাদ অনিমেষ ভাই।
হেলাল হাফিজ বাংলাদেশের জাতীয় ভালো লাগার কবি। সবাই ভালোবাসে মুখস্থ করে। এই যেমন আমি। পোষ্টের সবগুলাই কবিতা অতো ভালো না হলেও মোটামুটী ভাবে ঠোটস্থ!
তবে এইটাও একটা প্রশ্ন তিনি আর কেন লিখলেন না?
উনার দুইটা বইয়ের প্রকাশকালের মধ্যে বিদ্যমান দুরত্ব পর্যবেক্ষণ করলে এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন
মনে পড়ে নব্বইয়ের দশকে কবিতার কার্ড প্রকাশ হত। নিউ মার্কেটের বই চত্বরের আড্ডায় হেলাল হাফিজের “এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়” কিংবা “নিউট্রন বোমা বোঝ” এই কবিতাগুলি ছিল আমাদের আলেচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ধন্যবাদ মীর ভাই নস্টালজিক করে দেবার জন্যে।
ভালো লেখকরা এত কম কম লেখে ক্যান?
এই ধরেন সুকুমার ব্যাটা... কয়টা লেখা লেইখাই ফুট্টুস
আপনে আবার সুকুমার রায়ের কথা মনে করায় দিলেন
২ বার কমেন্ট দিলাম, হারিয়ে গেলো সব কথা। এবার ৩য় বার।
যেই বার কমেন্ট আসলো সেইবার আর কথাগুলো বললেন না

যেইবার কমেন্ট আসলো ততক্ষণে মেজাজ ৪৯।
কেমন আছেন? ইফতার করলেন? জট্টিল একটা জিনিস খাচ্ছি। পেয়ারা পাতলা করে কেটে,বিটলবণ, লবণ, শুকনা মরিচ, ধনেপাতা কুচি, কাসুন্দি দিয়ে মাখানো ভর্তা। আহা অমৃত।
জিনিসটা ভালোই মনে হচ্ছে। আমি অবশ্য ওলি মিয়ার হালিম খেলাম। যথারীতি দূর্দান্ত! তবে ফল-ফলাদির আসলে মজাই আলাদা। আপনের খবরাখবর কি বলেন তো?
আমি আছি আর কি! জানেন নো, আমি হলাম ভুয়া মানুষ, যার বেশীরভাগ সময় বিষন্নতায় কাটে। কোথাও মন বসে না।
হালিম খাইতে মন্চাইতাছে।
হ এইবার তো এবিবাসী হালিম-টালিম কিছুই খাইলো না, ছবিও দিলো না; কাহিনী কি?
এবিবাসী এইবার রোজায় কাহিল হয়ে গেছে।রোজা তাদের জড়িয়ে ধরেছে।তাই নড়চেড়ে না।
এমন হইলে তো হবে না। সবাইরে চাইপা ধরেন। বড় হুজুররে বেশি জোরে
দেখি না কি করে! বড় হুজুরে তো খালি ভাষণ দিতো এখন ভাষণ ও দেয় না। দেখতাছি খালি।
আর রাসেল তো সেপ্টেম্বর আসার আগেইব্লেগে হাজিরা দেওয়া ভুলে গেলো। তারপর তো আর দেখাই পাওয়া যাবে না। এর আগেএকটা মিলাদ তো খাওয়া দরকার।
কবিতা নিয়ে পোস্ট।তাই ৫০০ গজ দূরে থাকি।এখন দেখি এখানে খাওয়াখাওয়ি চলতেছে। ফুপুজান খালি মিছা কথা কন। শেষ কবে কী-বোর্ডের ধূলা পরিষ্কার করছেন মনে আছে?

আররে! আমি রোজ কি বোর্ডের ধূলা পরিস্কার করি। চাপা মাইরা লাভ কি!
আপনের তো এখন মন বসে না ব্লগ, ফেসবুক, পড়ার টেবিল কুথাও।ডায়াবেটিস বানাইতে অপেক্ষায় চোখে ধূলা ফালাই দিছেন।
ঘটনা কি? রাসেল ভাই কি সেপ্টেম্বরেই আল্লাহু আকবার?
আপনি এইটাও জানেন না? এইবার তো অবাক হইলাম, মীর!
জানতাম না আসলেই। যাক্ সুখবর শুনে সুখ পাইলাম। এখন মেয়ে (মানে মিসেস হবু রাশ্রাফ আর কি!) কি করে, ভবিষ্যতে কি করবে সেসবের একটা বিস্তারিত বিবরণ পাইলে আরো সুখী হইতাম। আমার আবার কৌতূহলটা একটু বেশি
ভবিষ্যতে রাসেলের ডায়াবেটিস হবে,.....এইটুকুই জানি।
কেন? মিসেস রাশ্রাফ'কি বেশি সুইট?
অসাধারণ তাঁর সব লেখা...
মনে করিয়ে দিলেন মীর মিয়া।
থ্যাংকু আপনেরে।
হ অসাধারণ লেখা যে লেখলো তাঁর কপালে লবডঙ্কা,
যে মনে করায় দিলো তারে দিলেন ধইন্যাপাতা!!
কলিকালের এই নিয়ম।
চমতকার একটা লেখা।
খুব সুন্দর কিছু কবিতা শেয়ার করায় ধইন্যা।
অনেক দিন পর আপনার উছিলায় পুরোনো ভালো লাগা কবিতা পড়া হচ্ছে ; ধন্যবাদ।
হীরণ বালা কবিতা টা পড়লে আমার সুনীলের সত্যবদ্ধ অভিমান কবিতাটার কথা মনে পড়ে যায় মনে হয় কোথাও যেন একটা মিল আছে বোধের
ভালো থাকবেন
মন্তব্য করুন