বেইরুতের গল্পকথা: সাধু জর্জের উপকূলে
১.
আসলে আমাদের জীবনে যা কিছু হয়, ভালোর জন্যই হয়- ঠিক কিনা? আমাদের ইনটুইশন, স্বজ্ঞা বা অন্তর্জ্ঞান যাই বলি না কেন, খুব ভাল করেই জানে আমরা কে কি করার জন্য জন্ম নিয়েছি এবং বেড়ে উঠেছি। তাই আমি জীবনে যখনই কোনো সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য হই, নিজের ইনটুইশনকে প্রশ্ন করি সেটার ব্যাপারে। যেমনটি সেবার চাকুরির ইস্তফাপত্র জমা দেয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, ইস্তফা দেবো কিনা। উত্তর এসেছিল একবাক্যে, হ্যাঁ।
সেই ইস্তফাপত্রটা সেবার জমা না দেয়া হলে, সম্ভবত কখনোই আমার বেইরুতের অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব হতো না। আর সাতপাকে জড়িয়ে জীবনের কি চেহারাটা দাড়াঁতো, তা নাহয় নাই ভাবলাম। চলুন আজ সে অভিজ্ঞতাটার কথাটাই জেনে নেয়া যাক।
ঘটনার পাকেচক্রে সেবার লেবানীজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডাকে সাড়া দিয়ে বেইরুত চলে যেতে হয়েছিল আমায়। ঢাকার বিশাল ফ্রেন্ড সার্কেল, কলিগ সার্কেল, পার্ক সার্কেল, গ্যারেজ সার্কেল- সবকিছু বাদ দিয়ে নিজের জন্য কিছু একটা ভাবার কাজটা সহজ ছিলো না, কিন্তু আমার বিশেষ কোনো উপায়ও ছিলো না। আমি হতাশ হয়ে পড়ছিলাম দ্রুত গতিতে। হতে হতে একসময় ভয় পেয়ে গেলাম। এভাবে হতাশ হতে থাকলে একসময় বোধহয় জঙ্গী হয়ে পড়া ছাড়া উপায় থাকবে না। নিজের হতাশার কারণে অন্যের জীবন বিষিয়ে তোলার মতো নির্বোধ আমি নিজেকে ভাবতাম না কখনোই। তাই সময় থাকতে সুযোগ খোঁজায় মনোযোগী হওয়াটাকেই বেছে নিয়েছিলাম বিকল্প হিসাবে। তবে সেখানেও বিপত্তি ভালোভাবেই ছেঁকে ধরেছিল। মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক।
আমার বেশ ভালো ধরনের একটা বেসরকারী চাকুরী ছিলো। যেটা করতে আমার খুবই বিরক্ত লাগতো। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে একবার, এবং রাতে ঘুমাতে যাবার আগে একবার নিজের কপালকে দোষারোপ করতাম। তারপরও চাকুরিটা আমি টানা পাঁচ-ছয় বছর করেছিলাম। এরপর একদিন সকালে অফিসে গিয়ে দুম করে বসের হাতে রেজিগনেশন লেটার ধরিয়ে দিয়ে চলে আসলাম। হতভম্ব মুখে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, বিষয়টা কি? আমি হাসিমুখে তাকে বললাম, আর পারা গেলো না। স্যরি!
চাকুরী ছেড়ে দেবার পর আমার ব্যস্ততা আরও বেড়ে গেল। পার্কে আড্ডাস্থল সর্বক্ষণ চালু রাখার মহান দায়িত্ব আমাকে দিয়ে দেয়া হলো। এতে করে আমার বন্ধুচক্রটাও অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। কোন বন্ধু যে কোথা থেকে আসছিল সেটার তাল রাখতে পারছিলাম না এবং দরকারও পড়ছিল না।
একসময় বিষয়টা দাঁড়ালো এমন যে আমি মোটামুটি ঘুম থেকে উঠেই আড্ডাস্থলে চলে যেতাম। সারাদিন বসে থাকতাম। অন্যান্য বন্ধুরা যে যখন সময় পেতো সেখানে আসতো এবং আমার সঙ্গে আড্ডা দিয়ে যেতো।আড্ডায় আড্ডায় আমার সময় কেটে যাচ্ছিলো, কিন্তু যে কথা ভেবে আমি চাকুরি ছেড়েছিলাম সেটার প্রায় কিছুই হচ্ছিলো না।
২.
এরই মধ্যে একদিন আমার অবন্তির সঙ্গে পরিচয় হলো। ওর সঙ্গে আমার দেখা হওয়াটা খুব বেশি রকমের জরুরি ছিল। কেননা আমার মতো একটা নির্বিবাদী, অলস, অপয়মন্ত, সর্বভূক, অযাচিত, অকর্মণ্য, অকাট মূর্খের জন্য ওর মতো হুজুগে, নচ্ছাড়, অস্থির, অক্লান্ত ও অদূরদর্শী একটি মেয়েই ছিল পারফেক্ট!
ওর সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছিল পার্কে। পার্কের সার্কেলে সে যে কিভাবে, কার সঙ্গে এসে জুটেছিলো মনে নেই। বন্ধুবান্ধবদের সার্কেলগুলোর সুবিধেটাই হচ্ছে এটা। ওখানে কে যে কখন কিভাবে আসছে বা যাচ্ছে তার হিসাব করার সময় প্রায় কারোই থাকে না বলা চলে।
এরই মধ্যে এক সন্ধ্যায় আমি আধা বোতল সারিনা নিয়ে পার্কে ঢুকে দেখি ইমনরা পাঁচ-ছয়জন হারুণের দোকানের সামনের রকে বসে খিস্তি-খেউড় করছে। আধা বোতল ভদকা ওখানে কয়েক মিনিটে উড়ে যাবে বলে, কারো সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলাপ করলাম না। তবে ইমন আমায় প্রায় রগে রগে চেনে বলে অল্প সময়েই বুঝে গিয়েছিল আমার আস্তিনে একটা কিছু কার্ড লুকানো আছে।
এরপর সুযোগটা ওই বের করে ফেললো আর আমরা অন্ধকার মতো একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে বোতলের বাকিটায় ঠান্ডা পানি মিশিয়ে আস্তে আস্তে চুমুক দেয়া শুরু করলাম। হাফ বোতল দেশি কেরু দুই জনের জন্য মোটামুটি যথেষ্ট। তাই আমাদের খুশির প্রায় সীমা ছিলো না। যথেষ্ট পরিমাণ মদ গিলে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে গুলতানি মারার মজাই আলাদা। নিকট ভবিষ্যতে সেই মজাটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করবো- এটা ভাবতেই মন ভালো হয়ে যাচ্ছিলো।
এরই মধ্যে অবন্তী সেখানে এসে হাজির হলো এবং ইমনের উদ্দেশ্যে একটা কপট চোখ রাঙানি ছুড়ে দিয়ে বললো- এই তোরা কি করছিস রে গে'দের মতো এই অন্ধকারে?
আমি তখন একটা বড় ঢোক কেবল গলায় ঢেলেছি। 'গে' শব্দটা চিটাগাংয়ের বন্ধু-বান্ধবরা বিদেশ চলে যাবার পর অনেকদিন কারো মুখে শুনি নি। চিটাগাংয়ের বন্ধুরা দেশে থাকাকালে আমরা সবাই-সবাইকে প্রায়ই কোনো কারণ ছাড়া গে বলে ক্ষেপাতাম। সেদিন সন্ধ্যায় বহুদিন পর দুম করে সেই পুরোনো পরিচিত শব্দটি কর্ণকুহরে প্রবেশ করলো।
একদিকে গরম ভদকা (ঠান্ডা পানিকেও গরম করে ফেলে এই কেরু অ্যান্ড কোং- এর মদগুলা), আরেকদিকে অমন তীক্ষ্ণ শব্দবাণ! মোটামুটি নাকে-মুখেই একটা হেঁচকি উঠে গেলো। আর ইমনটাতো হঠাৎ ধমক শুনে একেবারেই 'ব্ল্যাঙ্ক'ই হয়ে গেলো। আমাদের বগুড়ায় এ ধরনের অবস্থাকে বলে 'টগা' লাগা। শুদ্ধভাষায় বলে বোধহয় কিংকতর্ব্যবিমূঢ়। আমি অস্বীকার করি না যে, খানিকটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তাই তাড়াতাড়ি হাতের বোতলটা ইমনের দিকে চালান করে দিয়েছিলাম। টগা লাগায় আক্রান্ত হবার কারণেই হোক, আর যে কারণেই হোক; সে বোতলটা চুপচাপ অবন্তির দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিলো। নিজে ঢোক না মেরেই।
অবন্তি আমাদের অবস্থা দেখে তো হেসেই কুল পায় না। মেয়েটির ফেস রিডিং- এর ক্ষমতা বেশ ভালো। সেটা আমি সেদিন সন্ধ্যায় প্রথম টের পেয়েছিলাম। তাকে কোনোকিছু বলে দিতে হয় নি। নিজেই আমাদের মনের অবস্থা অনায়াসে টের পেয়ে গেছে। দেখে আমি ও ইমন বেশ অবাক হলাম। ওর পাটকাঠির মতো শুকনো শরীরের ভেতর কি দারুণ হাসিখুশি-বুদ্ধিমতী-মায়াভরা একটা মন আছে, সেটা নিয়েই সেদিন মদ খেতে খেতে ভাবছিলাম।
৩.
পরদিন বিকেলে যথারীতি আড্ডাস্থলের পাহারাদার হিসাবে বসে আছি। কেউ আসে নি তখনো। হারুণ এককাপ কড়া লিকার দিয়ে গেছে। আমাদের দলীয় আড্ডায় কনডেন্সড্ মিল্ক দেয়া মিষ্টি চায়ের প্রচলন কম। প্রায় নেই বললেই চলে। দলের সবাই মদ খায়। মদখোরেরা দুধ-চিনি দেয়া চা খুব বেশি পছন্দ করে না। বরং ওদেরকে আমি সকালের 'হ্যাং-ওভার' কাটানোর জন্য লেবু চা আর বিকেলের শারীরিক ম্যাজম্যাজে ভাবের প্রতিষেধক হিসাবে কড়া লিকার নিতেই দেখেছি বেশি।
গরম লিকারটা আস্তে এবং ধীরে-সুস্থে ঠোঁটে ছোঁয়াতে হবে- ভাবতে ভাবতে যেই না কাপটা মুখের কাছে এনেছি, অমনি পেছন থেকে অবন্তী আমার পিঠে একটা রামধাক্কা দিয়ে কানের কাছে চেঁচিয়ে বললো 'বু'!
আর তারপর সেই অলক্ষুণে বিকেলটাতে, সবগুলো অঘটন একসঙ্গেই ঘটলো এবং যা কিছু ঘটার তার সবই ঘটলো। কোনোটা বাদ গেলো না। আমি নাকে-মুখে বিষম খেলাম। ঠোঁট পুড়লো, জিহ্বা পুড়লো, টাকরা পুড়লো, বোধহয় গলার ভেতরেও বেশ খানিকটা পুড়ে গেলো এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে আমার মনে হচ্ছিলো নাকের লোমগুলোর কয়েকটাও সেই সুযোগে বেশ চড় চড় করে পুড়ে গেলো। অকান্ডটা ঘটার সময় আমি ওই চড় চড় শব্দ এবং খুব সামান্য হারে লোম পোড়ার গন্ধ পাচ্ছিলাম। যদিও সেটা ছিল আসলে কল্পনা। সবকিছু সামলে ওঠার পর খেয়াল করলাম আমার সাদা শার্টে বেশ সুন্দর একটা রেখাচিত্র অঙ্কিত হয়ে গেছে।
অবন্তীর হাসি পরবর্তী আধা ঘন্টায় কেউ থামাতে পারে নি। ওর হাসি দেখে একসময় আমিও হেসে ফেলেছিলাম। দোকানদার হারুণ, তার স্ত্রী রুপা, এবং তাদের ৬ বছর বয়সী পুত্র টিপু সুলতানও হেসে দিয়েছিল। সবার হাসি শেষ হওয়ার পর অবন্তীই প্রথম কথা বলেছিল এবং ওর কথাটা ছিল, তোর মতো বেক্কল আমি জীবনে দেখি নি, চল ওঠ্।
আমি জানতে চাইলাম, কই যাবো?
-আজিজে।
-কেন?
-তোকে নতুন শার্ট কিনে দিই।
-লাগবে না।
-এক চটকনা দিয়ে উপরের পাটি আর নিচের পাটি থেকে দুইটা দুইটা করে চারটা সামনের দাঁত তুলে আনবো যদি মুখে মুখে কথা বলিস। চল্।
-সামনের দাঁত চটকনা দিয়ে তোলা যায় না।
-তুই দেখতে চাস, যায় কি যায় না?
আর কথা বাড়ানোর সাহস হলো না। মেয়েটির সাথে রওনা দিতেই হলো। সেদিন মেয়েটি আমাকে নিত্য নামের দোকানটা থেকে দুইটা টি-শার্ট এবং আরও বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরে চারটা ফুল হাতা শার্ট কিনে দিয়েছিল। যেগুলোর সবগুলোই ছিলো কটকটে রঙয়ের এবং চেক-চেক। জোর করে একটা কমলা রঙয়ের প্যান্টও কিনতে বাধ্য করেছিলো। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না, হঠাৎ মেয়েটি ক্ষেপেছিল কেন!
অবশ্য সেসব কথা জিজ্ঞেস করে ঝামেলা বাড়াতে চাই নি। সন্ধ্যার দিকে ওর বদান্যতায় সেদিন আমরা একটা পাসপোর্টের বোতল খুলেছিলাম। জিহ্বা পুড়ে যাওয়ায় আমি কিছু মুখে দিতে পারছিলাম না। তাই ও সেদিনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলো। হুইস্কি, বরফ এবং আগোরা থেকে কেনা ফ্রোজেন ফ্রুট। গভীর রাত পর্যন্ত আমরা ক'জন মিলে মুখরিত করে রেখেছিলাম হারুণের দোকানের আশপাশটা।
৪.
পরদিন সকাল সাড়ে সাতটায় মোবাইলের অ্যালার্মের শব্দে অত্যন্ত বিস্ময় নিয়ে জেগে উঠলাম। আমার মোবাইলে অ্যালার্ম কিভাবে আসলো সেটা সকালের ওই অবস্থায় ঠিকমতো বুঝে ওঠা সম্ভব হচ্ছিলো না। মোবাইলটায় অ্যালার্ম দেয়ার সিস্টেম যে একটা আছে তা আমি জানতাম, কিন্তু অ্যালার্ম কখন দেয়া হয়েছিলো এবং কেন দেয়া হয়েছিলো, তার কিছুই জানতাম না।
মিনিট তিনেক পর আমার ফোনে একটা কল আসলো এবং আমি পুরো ব্যপারটা জানতে পারলাম। অ্যালার্মটা অবন্তি দিয়ে রেখেছিলো। সকালের কাঁচা ঘুম কোনো কারণ ছাড়া ভেঙ্গে গেলে কেমন লাগে, সেটা সবাই জানে। অবন্তিও জানতো। আমাকে সেই পরিস্থিতিতে ফেলে সে খুবই বিচিত্র এক ধরনের আনন্দ পাচ্ছিলো। আমি তাকে আনন্দ পাওয়ার সুযোগ করে দিলাম। সে জানতো না, ভরসকালে কাউকে আনন্দ দিতে পারার মধ্যেও একটা বিশাল আনন্দ লুকিয়ে আছে।
বেশ খানিকটা সময় আনন্দ পাওয়ার পর অবন্তি জানালো, জরুরি কাজ আছে। আমি যেন আধাঘন্টার মধ্যে ওদের গলির মুখের আইকে টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। আইকে টাওয়ারটা কোন জায়গায় জানতে চেয়ে মুখ ঝামটা খেতে হলো। গুগল ম্যাপ আসার পর নাকি কেউ যখন অবন্তিকে কোনোকিছুর লোকেশন জিজ্ঞেস করে, তখন অবন্তির তাকে 'ক্ষ্যাত' বলে মনে হয়। কথাটা সে চটপট করে আমাকে শুনিয়ে দিলো। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না, এটা সে সত্যিই বিশ্বাস করে নাকি আমাকে শোনানোর জন্যই শুধু বললো। তবে আমি কথা বেশি বাড়ালাম না। কারণ হঠাৎ মনে পড়ে গিয়েছিলো অফিসে যাওয়া-আসার পথে অনেকবার আমি কনকর্ড আইকে টাওয়ার নামের একটা নামফলক দেখেছি। কংক্রীটের তৈরি আর বেঢপ আকৃতির কারণেই সম্ভবত 'সাবকনশাস মাইন্ডে' তথ্যটা রয়ে গিয়েছিলো। দরকারী সময়ে নিউরণেরা তথ্যটা সামনে নিয়ে এসেছে।
আধাঘন্টার মধ্যেই জায়গামতো উপস্থিত হয়েছিলাম। মেয়েটি আমার আগেই চলে এসেছিলো এবং ফুটপাথের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলো। আমার সিএনজি দেখামাত্রই দৌড়ে এসে লাফ দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলো। সে এমন কিছু একটা করবে বলে আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। যে কারণে ওর দৌড় দেখেই আমি টানাটানি করে সিএনজি'র দরজাটা খুলে দিয়েছিলাম। সিএনজিচালক "মামা কি করেন", "মামা কি করেন" বলে শেষ করার আগে মেয়েটি এসে ঢুকে গিয়েছিল। সব দেখে শুনে সিএনজিচালক মামা বেশ ভালোমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিল।
বেইরুতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনাটা ওই সিএনজির ভেতর বসেই করা হয়েছিল। মেয়েটি আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, আমি কিছুদিনের জন্য বেইরুতে সেটল্ হতে চাই কিনা। আমি একবাক্যে বলেছিলাম, হ্যাঁ।
৫.
তার অনেকদিন আগে থেকেই আমি নিজের হতাশাগ্রস্থ জীবনটা নিয়ে খুব বেশি কিছু ভাবার আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। তাই একবাক্যে উত্তরটা দিতে আমার কোনো সমস্যাই হয় নি। আর তখন আমার কোনো কিছু ভাবতে ইচ্ছেও করছিল না। কারণ আমার মনে হচ্ছিল, মেয়েটি আমার সঙ্গে একটি পরিপূর্ণ ঠাট্টা করছে, আর কিছু না।
এরপর আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। অবন্তিদের ডিপার্টমেন্টে যাই। সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর পেছন দিকটা লাগোয়া অন্ধকারমতো একটা জায়গায় ওদের ডিপার্টমেন্ট। পোশাকী নাম সঙ্গীত ও নাট্যকলা বিভাগ। সে আমাকে নিচে দাঁড় করিয়ে রেখে ওপরে গেলো এবং একতাড়া কাগজ হাতে নিয়ে ফিরলো। ওদের বিভাগ থেকে একটা বৃত্তি দেয়া হয়েছে ওকে। বেইরুতে গিয়ে দুই বছর নাট্যতত্ত্বের ওপর উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য। লেবানীজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। আনুষ্ঠানিক কাজগুলো সে আগেই শেষ করে রেখেছিলো। আমার সঙ্গে যখন ডিপার্টমেন্টে যায় তখন ওর শুধু চূড়ান্ত কাগজ বুঝে নেয়ার কাজটি বাকি ছিলো।
আমরা কাগজগুলো নিয়ে লেবানন দূতাবাসে গেলাম। সেখানে কাগজগুলো জমা দেয়ার পর মেয়েটি জানতে চাইলো, আমার পাসপোর্ট করা আছে কিনা। আমি সম্মতিসূচক মাথা নাড়াচাড়া শুরুর আগেই সে বললো, তাহলে সেটা এখনই ওর হাতে বুঝিয়ে দিতে। আমি জানালাম, জিনিসটা বাসায় আছে এখনই বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব না। সে বললো, আমি হারুণের দোকানে বসছি, তুই বাসা থেকে নিয়ে আয়। তারপর আমি একটা রিকশা নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিয়েছিলাম আর অবন্তী হেঁটে হেঁটে পার্কের ভেতর ঢুকে গিয়েছিল।
আমার ভিসাটা কিভাবে হয়েছিল সে সম্পর্কে আমার তেমন কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। অবন্তির এক দুঃসম্পর্কের চাচার সুপারিশে আমি বেইরুতের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে খটমটে নামের একটা বিষয়ের ওপর উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলাম। যেটা আমার খুব বেশি দরকার ছিলো না। সবকিছু বেশ দ্রুতগতিতেই ঘটে গিয়েছিলো। এই সবকিছু যখন চলছিল তখন পার্কে চাউর হয়ে গিয়েছিল, আমার আর অবন্তীর মধ্যে অ্যাফেয়ার চলছে।
সেই উদ্ভট খবরটা শুনে আমরা হাসতাম এবং সন্ধ্যার দিকে সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলে একেকদিন একেকটা বোতল কিনে আনতাম। রাত পর্যন্ত সেটা পান করা হতো। হৈ-হল্লা করা হতো। তারপর গভীর রাতে বাসায় ফিরতাম। কোনোদিন একা, কোনোদিন অবন্তি গাড়িতে করে নামিয়ে দিয়ে যেতো। ওর জন্য প্রতি রাতে সাদা একটা গাড়ি আসতো। দিনের আর কখনও সেই গাড়িটা দেখা যেতো না। আর সব প্রয়োজনে ও অন্য সকলের মতো রিকশা, সিএনজি এবং কখনও কখনও বাসও ব্যবহার করতো।
গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পর আমি বেলা পর্যন্ত পড়ে পড়ে ঘুমাতাম। অবন্তি আমাকে ফোন করে ঘুম থেকে তুলতো। তারপর আমি কাগজ-পত্র নিয়ে বেশ খানিকটা সময় ইউনিভার্সিটি-ইউজিসি ইত্যাদি এলাকায় ছোটাছুটি করতাম। সব কাজ অবশ্য ১৫ দিনের ছোটাছুটিতেই হয়ে গিয়েছিল। বিদেশে যাওয়ার কাগজপত্র তৈরি করা যে অতোটা সহজ এবং সবকিছু যে চাইলে নিজে নিজেই করা যায়, সেটা আমার আগে জানা ছিলো না। এটা এখনও যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা চাকুরি উদ্দেশ্য চেষ্টা করতে চান তাদের জন্য প্রযোজ্য।
৬.
তারপর আমরা এক অন্ধকার ভোরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে সুলভ মূল্যের দু'টি সিটে চেপে চার ঘন্টা পচিশ মিনিটের উড়ালপথে দোহা গিয়ে নামলাম। সেখান থেকে ইত্তিহাদের এক বিশালবপু উড়োজাহাজে করে আরো সাড়ে তিন ঘন্টারও বেশি সময় উড়ে বেইরুতের রফিক হারিরি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নামার মধ্য দিয়ে সেই সুদীর্ঘ যাত্রা মোটামুটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলাম। এরমধ্যে কাতারে একবার এয়ারপোর্ট এলাকায় হারিয়ে যাওয়া ছাড়া আমি আর কোনো সংকট তৈরি করি নি।
বিমানে বসে বসে আমরা বাসা থেকে কে কিভাবে বের হয়ে এসেছি, তা নিয়ে আলাপ করছিলাম। অবন্তির বাসায় মার্গারিটা নামের একজন গৃহপরিচারিকা ছাড়া আর কেউ ছিলো না। যে কারণে ওর কাছে বিষয়টা প্রায় কিছুই ছিলো না, কিন্তু আমার জন্য ব্যাপারটা অতোটা সহজ ছিল না।
বিদেশে চাকুরী, থাকা-খাওয়ার সুবন্দোবস্ত, দুই বছর পর সটান ফিরে যাওয়ার গ্যারান্টি- ইত্যাদি সম্পর্কে বাবা ও মা দুইজনকে আলাদা আলাদা ইন্টারভিউ দিতে হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত তারা আমার যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাঁধা দেন নি।
ওখানে আমাদের থাকার জায়গাও আগে থেকে ঠিক করে রাখা ছিল। বাসাটা দেখে আমার অবন্তিকে "আই ড্রিম অফ জিনি" সিরিজের জিনি বলে মনে হয়েছিলো! সে আমাদের জন্য অ্যাকসেন্ট ডিজাইন গ্রুপের ১১ হাজার বর্গ ফুট জায়গায় গড়ে তোলা বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট-ভবনের ৭৮ তলায় একটি চার কক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রেখেছিল। পুরো বেইরুত শহরের মধ্যে ওই অ্যাপার্টমেন্টটা একটা বিশেষ দর্শনীয় বস্তু ছিল। সেখানে দুই বছরের ফ্ল্যাট ও গ্যারেজ ভাড়া দিয়ে দেয়া হয়েছিল অ্যাডভান্স হিসাবে। সে অর্থে বলা যায়, বাসাটা আমরা দুই বছরের জন্য কিনেই নিয়েছিলাম প্রায়।
আমাদের ফ্ল্যাটে একটা গেমরুম ছিলো। সেখানে ছিলো একটা অত্যাধুনিক বিলিয়ার্ড বোর্ড। ওই ফ্ল্যাটের বারান্দায় দাঁড়ালে চোখের সামনে ভূমধ্যসাগরের নীল রঙয়ের জলরাশি ও সফেদ ঢেউয়ের রেখা খুব পরিস্কার দেখা যেতো। বেইরুতের বিখ্যাত সাধু জর্জের উপকূলও ছিলো কাছেপিঠেই। আমরা দু'জন প্রায়ই ছুটির দিন বিকেলে ওই উপকূলে গিয়ে বসে থাকতাম। বালুকাবেলার ওপর পা ছড়িয়ে আরাম করে বসে থাকতে থাকতে একেক সময় আমাদের প্রায় ঘুমই পেয়ে যেতো। তখন মাঝে মাঝে অবন্তি আমার একটা হাত ধরে রাখতো।
আমাদের দু'জনের ইউনিভার্সিটি ছিলো বাসার দুই দিকে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমাদের দু'জনের কাজ ছিলো- কে ব্রেকফাস্ট বানাবে তা নিয়ে একচোট মেকি মারপিট করা। মারপিটে বেশিরভাগ দিন কোনো ফল আসতো না। শেষ পর্যন্ত টস্ করতে হতো এবং আমার টস্ ভাগ্য খুব ভালো না থাকায় আমাকে প্রায়ই হারতে হতো। তখন আমি রুটি সেঁকার মেশিনে কয়েকটা রুটি সেঁকে, দু'টো ডিম ঠিকঠাকমতো ভেজে, জ্যাম ও বাটারের কৌটা সমেত টেবিলে ব্রেকফাস্ট পরিবেশন করতাম। আর যেসব দিন অবন্তী টসে হারতো সেসব দিন সে ময়দা গুলে রুটি বানাতো, পাশাপাশি যেকোন একটা ফ্রেশ ভেজিটেবলের কারি তৈরি করতো, কোনোদিন মাশরুম আবার কোনোদিন চীজ দিয়ে ডিমের বিভিন্নরকম ওমলেট তৈরি করতো, জগভর্তি দুধ গরম করতো, কমলার জুস তৈরি করতো, টিনের কৌটায় সংরক্ষিত মিষ্টি বের করে পরিবেশন করতো এবং আমি অবাক দৃষ্টিতে তকিয়ে দেখতাম- একটা মেয়ে কিভাবে মাত্র ২০ মিনিটে এতগুলো কাজ ১০০ ভাগ নিঁখুত ভাবে করতে পারে!
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে অবন্তিকে দু'ঘন্টা ল্যাবরেটরি সহকারি হিসাবে কাজ করতে হতো আর আমি একটা স্থানীয় সুপারশপে চার ঘন্টা সময় দিতাম। আমরা ইচ্ছে করেই কাজ কম করতাম। যতটুকু কাজ আমাদের খাওয়া-দাওয়া আর ঘোরাফেরার খরচ নির্বাহের জন্য দরকার ঠিক ততটুকু করতাম। বাকিটা সময় দু'জন দু'জনের সঙ্গে কাটাতাম। সপ্তাহের ভেতরে খুব দূরে কোথাও যেতাম না। পথে পথে ঘুরতাম বেশি। আমাদের দুজনেরই হাঁটার রোগ ছিলো।
৭.
বেইরুত শহরের রাউশে এলাকায় বড় বড় পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে তৈরি করা রাখা আছে আকাশছোঁয়া সব দালান। আর পাহাড়ের কিনারার পর থেকেই শুরু হয়েছে ভূমধ্যসাগর। সেই কিনারায় পেতে রাখা বেঞ্চিতে বসে থেকে সামুদ্রিক বাতাস চোখে-মুখে মাখা এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা। সে অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য হাতের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে একে অপরকে খুঁজে বের করার একটা তাগিদ আমাদের ভেতর প্রতিদিন দুপুর থেকেই দেখা দিতে শুরু করতো।
আবার শহরের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট এলাকার ছবির মতো সুন্দর রাস্তাগুলো ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা হাঁটতেও আমাদের ভালো লাগতো। সেখানে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি আকাশছোঁয়া অট্টালিকা আমাদেরকে গার্ড অব অনার দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতো। হরিণীর মতো প্রাণশক্তিতে ভরপুর ছিলো অবন্তী। আমি মাঝেসাঝে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও ওকে কখনো ক্লান্ত হতে দেখি নি।
বেইরুতের আরেকটা চমৎকার ঘোরার জায়গা ছিল আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বেইরুতের ক্যাম্পাসটা। ওটা ছিলো ছবির চেয়েও সুন্দর একটা জায়গা। তবে ওদিকে পর্যটকদের আনাগোনা খুব বেশি থাকতো না। যা ছিল আমাদের জন্য আরও বেশি আনন্দের ব্যাপার। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেইরুতের সব বড়লোকের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে যেতো। আমরা দু'জন সেখানে গিয়ে এমনভাবে ঘোরাফেরা করতাম যেন সবকিছু আমাদের বহুদিনের চেনা!
এছাড়া সাধু জর্জের গির্জা আর রোমান বাথ গার্ডেনেও আমরা দু'জন অসংখ্যবার গিয়েছি। জায়গা দু'টি আমাদের অসম্ভব রকমের প্রিয় ছিলো। আমাদের দু'জনেরই নিজেদের ফেসবুক প্রোফাইল ছবিতে বাথ গার্ডেনের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি এবং কভারে সাধু জর্জের গির্জার ছবি দিয়ে কম্বিনেশন তৈরি করে রাখতে ভালো লাগতো। কোনো ধরনের ট্যুরে বেইরুত থেকে বাইরে গেলেই কেবল আমরা প্রোফাইল ছবি আর কভার পরিবর্তন করতাম। অন্যসময় সাধু জর্জ আর বাথ গার্ডেনের বিভিন্ন ছবিই আমাদের ফেসবুকের ওই জায়গা দু'টিতে থাকতো।
মাঝে মাঝে আমরা আমাদের মহল্লার পাবটাতে ঢু দিতাম। ছোট ছোট টাকিলার পেগ লবণ আর লেবু সহকারে গলায় চালান করতাম। পানীয়টার একটা তীক্ষ্ণ ধরনের স্বাদ আছে। বিশেষ করে সিলভার ব্র্যান্ডটার ঝাঁঝ বেশি। আর ওটাই আমাদের প্রিয়তর ছিলো। তবে বাইরে কিংবা পাবে আমরা কখনোই দু'-তিন পেগের বেশি পান করতাম না।
মাঝে মাঝে পাব থেকে বের হয়ে যাওয়া হতো সিনেমা হলে। একবার হলে বসে রাশান সিনেমা 'লুনা পাপা' দেখে আমাদের দুজনের মধ্যেই পাগল হওয়ার ঝোঁক চেপে বসেছিলো। সেবার বেশ কিছুদিন পর্যন্ত অবন্তির নিজেকে সেই সিনেমার চরিত্র লুনা আর আমার নিজেকে নাসরেদ্দিন মনে হয়েছিলো। আমরা অনেকটা ওভাবেই চলাফেরা শুরু করে দিয়েছিলাম।
৮.
লেবানীজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডাকে জীবনের দু'টো বছর বেইরুতের মতো সুন্দর ও চমৎকার একটা শহরে কাটাতে হয়েছিল। সঙ্গে ছিলো অবন্তির মতো দূর্দান্ত একজন বন্ধু। সেই সময়কালটা আমার জীবনের একটা মনে রাখার মতো স্মৃতি হয়ে আছে।
এমন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ আমাদের জীবনে খুব বেশি আসে বলে আমার মনে হয় না। একটা সময় যখন অবন্তির সাথে আমার পরিচয়ও ছিল না, তখন যদি ইনটুইশনকে জিজ্ঞেস করে সেই বেসরকারি চাকুরিটা একদিন ছেড়ে না দিয়ে আসতাম; তাহলে হয়তো কখনোই সে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ আমার হতো না।
---





এত সাবলীল লেখা পড়লে মনেই হয় না গল্প। আপনার বর্ণনা প্রকাশের ধরন আগের চাইতেও ভালো হইলে।
অবন্তী কে নিয়া সিক্যুয়েল চাই।
শুনছিলাম লেবানিজ মেয়েরা আসলেই বড়ই সৌন্দর্য্য, কিছু ফটুক এড কইরা দিতেন!
নাকের লোম পুড়ে যাওয়ার ফিলিংসটা সিরাম হইছে। এত পাগলা পানি ভালু না, নাস্তিক নাস্তিক গন্ধ করতেছে!
পইড়া হাশ্তেই আছি, হাশ্তেই আছি

তেঁতুল হুজুরকে তার নেক্সট ওয়াজের ঠিক আগে আগে এই লেখাটা পড়ানো দরকার।
যাই হোক্ কিরাম আছেন ভাইসাব? 'বর্ণনা প্রকাশের ধরন আগের চাইতেও ভালো হইলে' মানে কি 'হইছে' বুঝাইসেন?
হয়ো!
ভালো-ই আছি ভাইজান।
যাক্ ভালো থাকেন। শুভকামনা রইলো। সুস্থ থাকেন, শান্তিতে থাকেন।
বিকেলে অফিসে বসে দেখেছিলাম অনেকদিন পর মীরের লেখা এসেছে কিন্তু পড়ার সময় পাইনি। বাসায় এসে একটানে পড়ে ফেললাম।
একেবারে মীর স্পেশাল! এমন সাবলীল লেখা আরও চাই।
থ্যাংক্স ভাইজান। লেখা যদি ভালো হয়ে থাকে তাহলে সেটা পুরোপুরিই আপনাদের কারণে। আপনাদের এমন উৎসাহ ছাড়া লেখালেখির অপচেষ্টা চালু রাখা সম্ভব হতো না কোনোদিনও।
এই অপচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। আমরা যেন এমন লেখা থেকে বঞ্চিত না হই।
অনেকদিন পর আপনার চমৎকার একটা লেখা। খুব ব্যস্ত নাকি? এত আড্ডা ছবির হাটে কিন্তু আপনার সাথে দেখা হলো না কখনো!!!!!
অবন্তির খবর কি?
হাই জয়িতা'পু!
কেমন আছেন? কি করতেসেন? দিনকাল কেমন যায়?
আমি খুব একটা ব্যস্ত না। বলা যায়, একেবারেই ব্যস্ত না। শুয়ে-বসে দিন কাটতেসে।
ছবির হাটে রেগুলার আসেন নাকি? এরপরে দেখলে হাই দেবো, ঠিকাছে?
আর অবন্তির খবর জানে গল্পের ওই অকাল কুষ্মান্ডটা। আমার কাছে জিগান কেনু?
আছি আগের মতোই। বহুদিন পর বসলাম পিসিতে ব্লগিং করতে। দিনকাল যাচ্ছে বিরহ বেদনায়
ছবির হাটে এখন আর যাই না বহুদিন। আগে তো যেতাম অনেক, তাই বললাম।
অবন্তির কথা সেই অকাল কুষষ্মান্ডর কাছে জেনে আপনিই বলেন না!
দেখি অকাল কুষ্মান্ডটাকে পাই কিনা। পাইলে অবন্তির কথা জিজ্ঞেস করবো।
আপনের বিরহকাতর দিন কাটে নাকি? তাহলে একটা লেখা দেন
আপনি মিয়াঁ পাপিষ্ঠ, হাটে দেখেন বাট কথা কন না
মীর, দেন একদিন হাটে হাড়ি ভাইঙ্গা
এতো সাবলীল ভাবে লেখেন কেমনে? সব মনে হয় নিজের জীবন থেকে লেখা
ঠিক মাসুম ভাই। একদিন হাটে শুভ ভাইসহ সবাইকে হাতেনাতে ধরে ফেলতে হবে।
আর সাবলীল লেখা বিষয়ে যেটা জানতে চাইলেন, সেটার উত্তর হচ্ছে- আপনার লেখা পড়ে পড়ে সহজভাবে লেখার চেষ্টাটা আরো বেশি বেশি করতে ইচ্ছা করে।
ডায়লগ দিয়েন্না ভাই। আমারে আর রায়হান ভাইরে একদিন দুকানের উপরে দেইখাও দূর থিকা ভাইগা গেসেন
থাউক আর কিছু কমু না 
ওইদিন আপনাদের পাশে বসে চার-পাঁচ কাপ চা খেয়েও কথা বলার সাহস জোগাড় করতে পারি নাই। বিশেষ করে রায়হান ভাইকে দেখে তো ভয়ে হাত-পা পেটের মধ্যেই ঢুকে যাচ্ছিলো বারবার। কি করবো বলেন?
কেন? রায়হান ভাইরে দেইখা কি মনে হইছে উনি কামড়াইয়া দিবেন?
তা অবশ্য মনে হয় নাই। তাও ভয় লাগছে।
ভুং চুং বাদ দিয়া বলেন নেক্সট আস্তেসেন কবে? গিয়া বইসা থাকুম ধরনের লাইগা
সাকা চৌধুরীর রায়ের পরে
অসাধারণ!
আপনে। আর কতবার বলবো?
গলপ হিসেবে ঠিকাছে কিনতু বাসতবে
সকালে এতো সময় ধরে নাসতা

কি সাবলীল লেখা। কত সহজে উঠে এসেছে কত অবর্ণনীয় আবহ।
মির ভাই, লেবানন এমবাসির টিকানা আর স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে জানালে উপকৃত হতাম। আমি একটা লেবানিস ইউনিতে এডমিশন পেয়েছি।
মন্তব্য করুন