ইউজার লগইন

গল্প: সাধু জর্জের উপকূলে, অদ্ভুত ফেস রিডিং ক্ষমতাসম্পন্ন একজন মানুষের সাথে

লেবানীজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডাকে সাড়া দিয়ে সেবার শেষ পর্যন্ত বেইরুত শহরে চলেই যেতে হয়েছিলো।

ঢাকার বিশাল ফ্রেন্ড সার্কেল, কলিগ সার্কেল, পার্ক সার্কেল, গ্যারেজ সার্কেল- সবকিছু বাদ দিয়ে নিজের জন্য কিছু একটা ভাবার কাজটা সহজ ছিলো না কিন্তু আমার বিশেষ কোনো উপায়ও ছিলো না। আমি হতাশ হয়ে পড়ছিলাম দ্রুত গতিতে। একসময় ভয় পেয়ে গেলাম। এভাবে হতাশ হতে থাকলে একসময় বোধহয় জঙ্গী হয়ে পড়া ছাড়া উপায় থাকবে না। নিজের হতাশার কারণে অন্যের জীবন বিষিয়ে তোলার মতো নির্বোধ আমি নিজেকে ভাবতাম না কখনোই। তাই সময় থাকতে সুযোগ খোঁজায় মনোযোগী হওয়াটাকেই বেছে নিয়েছিলাম বিকল্প হিসাবে। তবে সেখানেও বিপত্তি ভালোভাবেই ছেঁকে ধরলো। মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। আমার বেশ ভালো ধরনের একটা বেসরকারী চাকুরী ছিলো। যেটা করতে আমার খুবই বিরক্ত লাগতো। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে একবার এবং রাতে ঘুমাতে যাবার আগে একবার নিজের কপালকে দোষারোপ করতাম। তারপরেও চাকুরীটা আমি টানা পাঁচ-ছয় বছর করেছিলাম। এরপর একদিন সকালে অফিসে গিয়ে দুম করে বসের হাতে রেজিগনেশন লেটার ধরিয়ে দিয়ে চলে আসলাম। হতভম্ব মুখে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, বিষয়টা কি? আমি হাসিমুখে তাকে বললাম, আর পারা গেলো না। স্যরি!

চাকুরী ছেড়ে দেবার পর দেখা গেলো আমার সার্কেলগুলো আমাকে প্রায় লুফে নিলো। আড্ডাস্থল সর্বক্ষণ চালু রাখার মহান দায়িত্ব আমাকে দিয়ে দেয়া হলো। বিষয়টা দাঁড়ালো এমন যে আমি মোটামুটি ঘুম থেকে উঠেই আড্ডাস্থলে চলে যেতাম। সারাদিন বসে থাকতাম। অন্যান্য বিজি পার্সনেরা যে যখন সময় পেতো সেখানে আসতো এবং আমার সঙ্গে আড্ডা দিয়ে যেতো। আড্ডার জায়গায় একজন সার্বক্ষণিক লোক আছে- এই নিশ্চয়তা থাকাটা আড্ডাস্থলের নিয়মিত ভিজিটরদের জন্য সবসময়ই জরুরি। আড্ডায় আড্ডায় আমার সময় কেটে যাচ্ছিলো কিন্তু যে কথা ভেবে আমি চাকুরী ছেড়েছিলাম সেটার প্রায় কিছুই এগুচ্ছিলোনা। এরই মধ্যে একদিন পরিচয় হলো অবন্তীর সঙ্গে।

ওর সঙ্গে আমার দেখা হওয়াটা খুব বেশি রকমের জরুরি ছিলো। কেননা আমার মতো একটা নির্বিবাদী, অলস, অপয়মন্ত, সর্বভূক, অযাচিত, অকর্মণ্য, অকাট মূর্খের জন্য ওর মতো হুজুগে, নচ্ছাড়, অস্থির, অক্লান্ত ও অদূরদর্শী একটি মেয়েই হচ্ছে পারফেক্ট। ওর সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছিলো পার্কে। পার্কের সার্কেলে সে যে কিভাবে, কার সঙ্গে এসে জুটেছিলো মনে নেই। এ ধরনের সার্কেলগুলোর সুবিধেটা হচ্ছে এখানে কে-কখন-কিভাবে আসছে বা যাচ্ছে তার হিসাব করার সময় কারো থাকে না।

এরই মধ্যে একদিন সন্ধ্যায় আমি আধা বোতল সারিনা নিয়ে পার্কে ঢুকে দেখি ইমনরা ছয়-পাঁচজন হারুণের দোকানের সামনের রকে বসে বসে খিস্তি-খেউড় করছে। আধা বোতল ভদকা ওখানে কয়েক মিনিটে উড়ে যাবে বলে কারো সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলাপ করলাম না। তবে হাড্ডি ইমন আমায় প্রায় রগে রগে চেনে বলে অল্প সময়েই বুঝে গেলো আমার আস্তিনে একটা কার্ড লুকানো আছে।

এরপর সুযোগটা ওই বের করে ফেললো আর আমরা অন্ধকার মতো একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে বোতলের বাকিটায় ঠান্ডা পানি মিশিয়ে আস্তে আস্তে চুমুক দেয়া শুরু করলাম। হাফ বোতল দেশি কেরু দুই জনের জন্য মোটামুটি যথেষ্ট। তাই আমাদের খুশির প্রায় সীমা ছিলো না। যথেষ্ট পরিমাণ মদ গিলে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে গুলতানি মারার মজাই আলাদা। নিকট ভবিষ্যতে সেই মজাটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করবো- এটা ভাবতেই মন ভালো হয়ে যাচ্ছিলো। এরই মধ্যে অবন্তী সেখানে এসে হাজির হলো এবং ইমনের উদ্দেশ্যে একটা কপট চোখ রাঙানি ছুড়ে দিয়ে বললো- এই তোরা কি করছিস রে এই অন্ধকারে, গে'দের মতো করে?

আমি তখন একটা বড় ঢোক কেবল গলায় ঢেলেছি। 'গে' শব্দটা চিটাগাংয়ের বন্ধু-বান্ধবরা বিদেশ চলে যাবার পর অনেকদিন কারো মুখে শুনি নি। চিটাগাংয়ের বন্ধুরা দেশে থাকাকালে আমরা সবাই সবাইকে সবসময় কারণ ছাড়াই গে বলে ক্ষেপাতাম। সেদিন সন্ধ্যায় বহুদিন পর দুম করে সেই পুরোনো পরিচিত শব্দটি কর্ণকুহরে প্রবেশ করলো।

একদিকে গরম ভদকা (ঠান্ডা পানিকেও গরম করে ফেলে এই কেরু অ্যান্ড কোং- এর মদগুলা), আরেকদিকে অমন তীক্ষ্ণ শব্দবাণ! মোটামুটি নাকে-মুখেই একটা হেঁচকি উঠে গেলো। আর পিঁপড়ে ইমনটাতো হঠাৎ অমন ধমক শুনে একেবারেই ব্ল্যাঙ্কই হয়ে গেলো। আমাদের দেশে এ ধরনের অবস্থাকে বলে টগা লাগা। শুদ্ধভাষায় বলে বোধহয় কিংকতর্ব্যবিমূঢ়। আমি অস্বীকার করি না যে, খানিকটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তাই তাড়াতাড়ি হাতের বোতলটা ইমনের দিকে চালান করে দিয়েছিলাম। টগা লাগায় আক্রান্ত হবার কারণেই হোক, আর যে কারণেই হোক; সে বোতলটা চুপচাপ অবন্তীর দিকে বাড়িয়ে দিলো। নিজে ঢোক না মেরেই।

অবন্তী আমাদের অবস্থা দেখে তো হেসেই কুল পায় না। মেয়েটির ফেস রিডিং- এর ক্ষমতা বেশ ভালো। সেটা আমি সেদিন সন্ধ্যায় প্রথম টের পেয়েছিলাম। তাকে কোনোকিছু বলে দিতে হয় নি। নিজেই আমাদের মনের অবস্থা অনায়াসে টের পেয়ে গেছে। দেখে আমি ও ইমন বেশ অবাক হলাম। কাউকে প্রথম অ্যাপিয়ারেন্সে অবাক করে দিতে পারলে তাকে দিয়ে অনেক কিছুই করিয়ে নেয়া যায়। সেদিন আমাদের দু'জনকে সেরকম অবাকই করে দিয়েছিলো জাঁদরেল ওই মেয়েটি। ওর পাটকাঠির মতো শুকনো শরীরের ভেতর কত শক্তিশালী একটা মন আছে সেটা ভেবে সেদিন মদ খেতে খেতে আমি ভালোই দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।

পরদিন বিকেলে যথারীতি আড্ডাস্থলের পাহারাদার হিসাবে বসে আছি। কেউ আসে নি তখনো। হারুণ এককাপ কড়া লিকার দিয়ে গেছে। আমাদের আড্ডাস্থলে কনডেন্সড্ মিল্ক দেয়া মিষ্টি চাএর প্রচলন খুব কম। প্রায় নেই বললেই চলে। আমাদের দলের সবাই মদ খায়। মদখোরেরা দুধ-চিনি দেয়া চা খুব বেশি পছন্দ করে না। বরং ওদেরকে আমি সকালের 'হ্যাং ওভার' কাটানোর জন্য লেবু চা আর বিকালের শারীরিক ম্যাজ-ম্যাজানি প্রতিষেধক হিসাবে কড়া লিকার নিতেই দেখেছি বেশি।

গরম লিকারটা আস্তে এবং ধীরে-সুস্থে ঠোঁটে ছোঁয়াতে হবে ভাবতে ভাবতে যেই না কাপটা মুখের কাছে এনেছি, অমনি পেছন থেকে অবন্তী আমার পিঠে একটা রামধাক্কা দিয়ে কানের কাছে চেঁচিয়ে বললো 'বু'।

আর তারপর সেই অলক্ষুণে বিকেলটাতে, সবগুলো অঘটন একসঙ্গেই ঘটলো এবং যা কিছু ঘটার তার সবই ঘটলো। কোনোটা বাদ গেলো না। আমি নাকে-মুখে বিষম খেলাম। ঠোঁট পুড়লো, জিহ্বা পুড়লো, টাকরা পুড়লো, বোধহয় গলার ভেতরেও বেশ খানিকটা পুড়ে গেলো এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে আমার মনে হচ্ছিলো নাকের লোমগুলোর কয়েকটাও সেই সুযোগে বেশ চড় চড় করে পুড়ে গেলো। কেননা অকান্ডটা ঘটার সময় আমি ওই চড় চড় শব্দ এবং খুব সামান্য হারে লোম পোড়ার গন্ধ পেয়েছিলাম। সবকিছু সামলে ওঠার পর খেয়াল করলাম আমার শাদা শার্টে বেশ সুন্দর একটা রেখাচিত্র অঙ্কিত হয়ে গেছে।

অবন্তীর হাসি পরবর্তী আধা ঘন্টায় কেউ থামাতে পারে নি। ওর হাসি দেখে একসময় আমিও হেসে ফেলেছিলাম এবং দোকানী হারুণ, তার স্ত্রী, তাদের ৬ বছর বয়সী পুত্র টিপু সুলতানও হেসে দিয়েছিলো। সবার হাসি শেষ হওয়ার পর অবন্তীই প্রথম কথা বলেছিলো এবং ওর কথাটা ছিলো, তোর মতো বেক্কল আমি জীবনে দেখি নি, চল ওঠ্।

আমি জানতে চাইলাম, কই যাবো?

-আজিজে।
কেন?
-তোকে নতুন শার্ট কিনে দিই।
লাগবে না।
-এক চটকনা দিয়ে উপরের পাটি আর নিচের পাটি থেকে দু্ইটা দুইটা চারটা সামনের দাঁত তুলে আনবো মুখে মুখে কথা বললে। চল্।

এরপরে আর কথা বাড়ানোটা অবান্তর। সেদিন মেয়েটি আমাকে নিত্য থেকে দুইটা টি-শার্ট আর বেশ কয়েকটা ফ্যাশন হাউস ঘুরে চারটা ফুল হাতা শার্ট কিনে দিয়েছিলো। যেগুলোর সবগুলোই ছিলো কটকটে রঙয়ের এবং চেক-চেক। জোর করে একটা কমলা রঙয়ের প্যান্টও কিনতে বাধ্য করেছিলো। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না, হঠাৎ মেয়েটি ক্ষেপেছিলো কেন!

অবশ্য সেসব কথা জিজ্ঞেস করে ঝামেলা বাড়াতে চাই নি। সন্ধ্যার দিকে ওর বদান্যতায় সেদিন আমরা একটা পাসপোর্টের বোতল খুলেছিলাম। জিহ্বা পুড়ে যাওয়ায় আমি কিছু মুখে দিতে পারছিলাম না। তাই ও সেদিনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলো। ঠান্ডা হু্ইস্কি, ঠান্ডা বরফ এবং আগোরা থেকে কেনা ফ্রোজেন ফ্রুট। গভীর রাত পর্যন্ত হারুনের দোকানের আশপাশটা আমরা ক'জন মিলে মুখর করে রেখেছিলাম সেদিন।

পরদিন সকাল সাড়ে ৭টায় মোবাইলের অ্যালার্মের শব্দে অত্যন্ত বিস্ময় নিয়ে জেগে উঠলাম। আমার মোবাইলে অ্যালার্ম কিভাবে আসলো সেটা সকালের ওই অবস্থায় ঠিকমতো বুঝে ওঠা সম্ভব হচ্ছিলো না। মোবাইলটায় অ্যালার্ম দেয়ার সিস্টেম যে একটা আছে তা আমি জানতাম কিন্তু অ্যালার্ম কখন দেয়া হয়েছিলো এবং কেন দেয়া হয়েছিলো, তার কিছুই আমি জানতাম না।

মিনিট তিনেক পর আমার ফোনে একটা কল আসলো এবং আমি পুরো ব্যপারটা জানতে পারলাম। অ্যালার্মটা অবন্তী দিয়ে রেখেছিলো। সকালের কাঁচা ঘুম কোনো কারণ ছাড়া ভেঙ্গে গেলে কেমন লাগে, সেটা সবাই জানে। অবন্তীও জানতো। আমাকে সেই পরিস্থিতিতে ফেলে সে খুবই বিচিত্র এক ধরনের আনন্দ পাচ্ছিলো। আমি তাকে আনন্দ পাওয়ার সুযোগ করে দিলাম। সে জানতো না, ভরসকালে কাউকে আনন্দ দিতে পারার মধ্যেও একটা বিশাল আনন্দ লুকিয়ে আছে।

বেশ খানিকটা সময় আনন্দ পাওয়ার পর অবন্তী জানালো, জরুরি কাজ আছে। আমি যেন আধাঘন্টার মধ্যে ওদের গলির মুখের আইকে টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। আইকে টাওয়ারটা কোন জায়গায় জানতে চেয়ে মুখ ঝামটা খেতে হলো। গুগল ম্যাপ আসার পর নাকি কেউ যখন অবন্তীকে কোনোকিছুর লোকেশন জিজ্ঞেস করে, তখন অবন্তীর তাকে 'ক্ষ্যাত' বলে মনে হয়। কথাটা সে চটপট করে আমাকে শুনিয়ে দিলো। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না, এটা অবন্তী সত্যিই বিশ্বাস করে নাকি আমাকে শোনানোর জন্যই শুধু বললো। তবে আমি কথা বেশি বাড়ালাম না। কারণ হঠাৎ মনে পড়ে গিয়েছিলো অফিসে যাওয়া-আসার পথে অনেকবার আমি কনকর্ড আইকে টাওয়ার নামের একটা নামফলক দেখেছি। কংক্রীটের তৈরি আর বেঢপ আকৃতির কারণেই সম্ভবত সাবকনশাস মাইন্ডে তথ্যটা থেকে গিয়েছিলো। দরকারী সময়ে নিউরণেরা তথ্যটা সামনে নিয়ে এসেছে।

আধাঘন্টার মধ্যেই জায়গামতো উপস্থিত হলাম। মেয়েটি আমার আগেই চলে এসেছিলো এবং ফুটপাথের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলো। আমার সিএনজি দেখামাত্রই দৌড়ে এসে লাফ দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলো। সে এমন কিছু একটা করবে বলে আমি আগেই বুঝতে পেরেছিলাম। যে কারণে ওর দৌড় দেখেই আমি টানাটানি করে সিএনজি'র দরজাটা খুলে দিয়েছিলাম। সিএনজিচালক 'মামা কি করেন, মামা কি করেন' বলে শেষ করার আগে মেয়েটি এসে ঢুকে গেলো এবং বেচারা বেশ ভালোমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো।

বেইরুতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনাটা ওই সিএনজির ভেতর বসেই করা হয়েছিলো। মেয়েটি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলো, আমি কিছুদিনের জন্য বেইরুতে সেটল্ হতে চাই কিনা। আমি একবাক্যে বলেছিলাম, হ্যাঁ। তার অনেকদিন আগে থেকেই আমি নিজের হতাশাগ্রস্থ জীবনটা নিয়ে খুব বেশি কিছু ভাবার আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। তাই একবাক্যে উত্তরটা দিতে আমার কোনো সমস্যাই হয় নি। আর তখন আমার কোনো কিছু ভাবতে ইচ্ছেও করছিলো না। কারণ আমার মনে হচ্ছিলো, মেয়েটি আমার সঙ্গে একটি পরিপূর্ণ ঠাট্টা করছে, আর কিছু না।

এরপর আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। অবন্তীদের ডিপার্টমেন্টে যাই। সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর পেছন দিকটা লাগোয়া অন্ধকারমতো একটা জায়গায় ওদের ডিপার্টমেন্ট। পোশাকী নাম সঙ্গীত ও নাট্যকলা বিভাগ। সে আমাকে নিচে দাঁড় করিয়ে রেখে ওপরে গেলো এবং একতাড়া কাগজ হাতে নিয়ে ফিরলো। ওদের বিভাগ থেকে একটা বৃত্তি দেয়া হয়েছে ওকে। বেইরুতে গিয়ে দুই বছর নাট্যতত্ত্বের ওপর উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য। লেবানীজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। আনুষ্ঠানিক কাজগুলো সে আগেই শেষ করে রেখেছিলো। আমার সঙ্গে যখন ডিপার্টমেন্টে যায় তখন ওর শুধু চূড়ান্ত কাগজ বুঝে নেয়ার কাজটি বাকি ছিলো। আমরা কাগজগুলো নিয়ে লেবানন দূতাবাসে গেলাম। সেখানে কাগজগুলো জমা দেয়ার পর মেয়েটি জানতে চাইলো, আমার পাসপোর্ট করা আছে কিনা। আমি সম্মতিসূচক মাথা নাড়াচাড়া শুরুর আগেই সে বললো, তাহলে সেটা এখনই ওর হাতে বুঝিয়ে দিতে। আমি জানালাম, জিনিসটা বাসায় আছে এখনই বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব না। সে বললো, আমি হারুণের দোকানে বসছি তুই বাসা থেকে নিয়ে আয়। এরপর আমি একটা রিকশা নিয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম আর অবন্তী হেঁটে হেঁটে পার্কের ভেতর ঢুকে গেলো।

আমার ভিসাটা কিভাবে হয়েছিলো সে সম্পর্কে আমার তেমন কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। অবন্তীর এক দুঃসম্পর্কের চাচার সুপারিশে আমি বেইরুতের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে খটমটে নামের একটা বিষয়ের ওপর উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়ে গেলাম। যেটা আমার খুব বেশি দরকার ছিলো না। সবকিছু বেশ দ্রুতগতিতেই ঘটে গেলো। এ সময়ের মধ্যে পার্কে চাউর হয়ে গেলো আমার আর অবন্তীর মধ্যে একটা অ্যাফেয়ার শুরু হয়েছে।

সেই উদ্ভট খবরটা শুনে আমরা হাসতাম আর সন্ধ্যার দিকে সবার কাছ থেকে চাঁদা তুলে একেকদিন একেকটা বোতল কিনে আনতাম। রাত পর্যন্ত সেটা খাওয়া হতো। হৈ-হল্লা করা হতো। সকালে পড়ে পড়ে ঘুমাতাম। অবন্তী আমাকে ফোন করে ঘুম থেকে তুলতো। তারপর আমি কাগজ-পত্র নিয়ে বেশ খানিকটা সময় ইউনিভার্সিটি-ইউজিসি ইত্যাদি এলাকায় ছোটাছুটি করতাম। পনেরো দিনের ছোটাছুটিতেই সব কাজ হয়ে গেলো। বিদেশে যাওয়ার কাগজপত্র তৈরি করা যে এতটা সহজ এবং সবকিছু যে চাইলে নিজে নিজেই করা যায়, সেটা আমার আগে জানা ছিলো না।

আমরা এক অন্ধকার ভোরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে সুলভ মূল্যের দু'টি সিটে চেপে চার ঘন্টা পচিশ মিনিটের উড়ালপথে দোহা গিয়ে নামলাম। সেখান থেকে পরদিন ভোরে ইত্তিহাদের এক বিশালবপু উড়োজাহাজে করে আরো আঠেরো ঘন্টারও বেশি সময় উড়ে বেইরুতের রফিক হারিরি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নামার মধ্য দিয়ে এক সুদীর্ঘ যাত্রা মোটামুটি সফলভাবে সম্পন্ন করলাম। এরমধ্যে কাতারে একবার এয়ারপোর্ট এলাকায় হারিয়ে যাওয়া ছাড়া আমি আর কোনো সংকট তৈরি করি নি।

বিমানে বসে বসে আমরা বাসা থেকে কে কিভাবে বের হয়ে এসেছি, তা নিয়ে আলাপ করছিলাম। অবন্তীর বাসায় মার্গারিটা নামের একজন গৃহপরিচারিকা ছাড়া আর কেউ ছিলো না। যে কারণে ওর কাছে বিষয়টা প্রায় কিছুই ছিলো না কিন্তু আমাকে মোটামুটি একটা মিথ্যার মহাসাগর তৈরি করে রেখে আসতে হয়েছিলো। বিদেশে চাকুরী, থাকা-খাওয়ার সুবন্দোবস্ত, দুই বছর পর সটান ফিরে আসা ইত্যাদি সম্পর্কে বাবা ও মা দুইজনকে আলাদা আলাদা ইন্টারভিউ দিতে হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত তারা আমার কথা কতটা বিশ্বাস করেছিলেন জানি না কিন্তু যাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাঁধা দেন নি। মা শুধু আসার সময় পই পই করে বলে দিয়েছিলেন- কোনো লেবানীজ মেয়ে যেনো ধরে নিয়ে না আসি আমি।

আমাদের বাসাটাও আগে থেকে ঠিক করে রাখা ছিলো। সেই বাসাটা দেখে আমার অবন্তীকে প্রায় আলাদিনের দৈত্য জিনির মতো 'দারুণ' বলে মনে হয়েছিলো! সে আমাদের জন্য অ্যাকসেন্ট ডিজাইন গ্রুপের ১১ হাজার বর্গ ফুট জায়গায় গড়ে তোলা বিশাল অ্যাপার্টমেন্টের ৭৮ তলায় একটি ছয় কক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রেখেছিলো। পুরো বেইরুত শহরের মধ্যে ওই অ্যাপার্টমেন্টটা একটা বিশেষ দর্শনীয় বস্তু ছিলো। সেখানে দুই বছরের ফ্ল্যাট ও গ্যারেজ ভাড়া দিয়ে দেয়া হয়েছিলো অ্যাডভান্স হিসাবে। সে অর্থে বলা যায়, বাসাটা আমরা দুই বছরের জন্য কিনেই নিয়েছিলাম প্রায়। আমাদের ফ্ল্যাটে একটা গেমরুম ছিলো। সেখানে ছিলো একটা অত্যাধুনিক বিলিয়ার্ড বোর্ড। ওই ফ্ল্যাটের বারান্দায় দাঁড়ালে চোখের সামনে নীল রঙয়ের ভূমধ্যসাগর দেখা যেতো। সাধু জর্জের উপকূলও ছিলো কাছেপিঠেই। আমরা দু'জন প্রায়ই ছুটির দিন বিকেলে ওই উপকূলে গিয়ে বসে থাকতাম। বালুকাবেলার ওপর পা ছড়িয়ে আরাম করে বসে থাকতে থাকতে একেক সময় আমাদের প্রায় ঘুমই পেয়ে যেতো। তখন মাঝে মাঝে অবন্তী আমার একটা হাত ধরে রাখতো এবং অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ওর তালুর ভেতর আমার হাতটা ভিজে উঠতো। অবন্তীর এই হাত ঘেমে যাওয়ার বিষয়টি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো।

আমাদের দু'জনের ইউনিভার্সিটি ছিলো বাসার দুই দিকে। সকালের দিকে ঘুম থেকে উঠে আমাদের দু'জনের কাজ ছিলো- কে ব্রেকফাস্ট বানাবে তা নিয়ে একচোট মারপিট করা। মারপিটে বেশিরভাগ দিন কোনো ফল আসতো না। শেষ পর্যন্ত টস্ করতে হতো এবং আমার টস্ ভাগ্য খুব ভালো না থাকায় আমাকে প্রায়ই হারতে হতো। তখন আমি রুটি সেঁকার মেশিনে কয়েকটা রুটি সেঁকে, দু'টো ডিম ঠিকঠাকমতো ভেজে, জ্যাম ও বাটারের কৌটা সমেত টেবিলে ব্রেকফাস্ট পরিবেশন করতাম। আর যেসব দিন অবন্তী টসে হারতো সেসব দিন সে ময়দা গুলে রুটি বানাতো, পাশাপাশি যেকোন একটা ফ্রেশ ভেজিটেবলের কারি তৈরি করতো, কোনোদিন মাশরুম আবার কোনোদিন চীজ দিয়ে ডিমের বিভিন্নরকম ওমলেট তৈরি করতো, জগভর্তি দুধ গরম করতো, কমলার জুস তৈরি করতো, টিনের কৌটায় সংরক্ষিত মিষ্টি বের করে পরিবেশন করতো এবং আমি অবাক দৃষ্টিতে তকিয়ে দেখতাম- একটা মেয়ে কিভাবে মাত্র ২০ মিনিটে এতগুলো কাজ ১০০ ভাগ নিঁখুত ভাবে করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে অবন্তীকে দু'ঘন্টা ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট হিসাবে কাজ করতে হতো আর আমি একটা কল সেন্টারে চার ঘন্টা সময় দিতাম। আমরা ইচ্ছে করেই কাজ কম করতাম। যতটুকু কাজ আমাদের খাওয়া-দাওয়া আর ঘোরাফেরার খরচ নির্বাহের জন্য দরকার ঠিক ততটুকু করতাম। বাকিটা সময় দু'জন দু'জনের সঙ্গে কাটাতাম। উইকডে'তে খুব দূরে কোথাও যেতাম না। আমাদের রাস্তায় রাস্তায় হাঁটার একটা রোগ ছিলো। বেইরুত শহরের রাউশে এলাকায় বড় বড় পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে আকাশছোঁয়া সব দালান। আর পাহাড়ের কিনারার পর থেকেই শুরু হয়েছে ভূমধ্যসাগর। সেই কিনারায় পেতে রাখা বেঞ্চিতে বসে থেকে সামুদ্রিক বাতাস চোখে-মুখে মাখতে আমাদের খুব ভালো লাগতো। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট এলাকার ছবির মতো সুন্দর রাস্তাগুলো ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা হাঁটতেও আমাদের ভালো লাগতো। সেখানে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি আকাশছোঁয়া অট্টালিকা আমাদেরকে গার্ড অব অনার দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতো। হরিণীর মতো প্রাণশক্তিতে ভরপুর ছিলো অবন্তী। আমি হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও ওকে কখনো ক্লান্ত হতে দেখি নি। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বেইরুতের ক্যম্পাসটা ছিলো ছবির চেয়েও সুন্দর। ওখানে বেইরুতের সব বড়লোকের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করতে আসতো। আমরা দু'জন সেখানে গিয়ে এমনভাবে ঘোরাফেরা করতাম যেন সবকিছু আমাদের বহুদিনের চেনা! এছাড়া সাধু জর্জের গির্জা আর রোমান বাথ গার্ডেনেও আমরা দু'জন অসংখ্যবার গিয়েছি। জায়গা দু'টি আমাদের অসম্ভব রকমের প্রিয় ছিলো। নিজেদের প্রোফাইল পিকচারে বাথ গার্ডেনের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি আর কভারে সাধু জর্জের গির্জার ছবি দিয়ে কম্বিনেশন তৈরি করে রাখতে ভালো লাগতো আমাদের দু'জনেরই। কোনো ধরনের ট্যুরে বেইরুত থেকে বাইরে গেলেই কেবল আমরা প্রোফাইল আর কভার ফটো পরিবর্তন করতাম। অন্যসময় সাধু জর্জ আর বাথ গার্ডেনের বিভিন্ন ছবিই অন্তর্জালের ওই জায়গা দু'টিতে থাকতো।

আর মাঝে মাঝে আমরা আমাদের মহল্লার পাবটাতে ঢু দিতাম। ছোট ছোট টাকুইলার পেগ লবণ আর লেবু সহকারে গলায় চালান করতাম। পানীয়টার একটা তীক্ষ্ণ ধরনের স্বাদ ছিলো। বিশেষ করে সিলভার ব্র্যান্ডটা আমাদের বেশি প্রিয় ছিলো। তবে বাইরে কিংবা পাবে আমরা কখনোই দু'-তিন পেগের বেশি পান করতাম না। আমাদের ফ্রিজে সবসময় টাকুইলা, স্মির্নফ, অ্যাবসোলিউট'সহ কয়েক রকমের ভদকা থাকতো। লোকাল বিয়ারও থাকতো কয়েক রকমের। তবে লোকাল ভদকাগুলো আমাদেরকে বেশি আকর্ষণ করতো না। বাসায় পান করার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিলো না। যেদিন যতটুকু খেতে ইচ্ছে করতো, সেদিন ততটুকু খেতাম। সাধারণত পরদিন সকালে ক্লাস না থাকলে পুরো বোতলই শেষ করে ফেলতাম এবং সেসব দিনে আমরা স্মির্নফটাই নিতে পছন্দ করতাম। কারণ স্মির্নফেই পরদিন সকালে সবচে' কম হ্যাং ওভার হতো। অন্যগুলো এক বসায় এক বোতল শেষ করার পর, অবধারিতভাবে পরের সকালে ধরে থাকা মাথা নিয়ে উঠে দাঁড়ানোটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াতো আমাদের জন্য। মদ খেয়ে অল্প মাতাল অবস্থায় এইট বল বা নাইন বল খেলাটা আমাদের প্রায় নেশার মতো হয়ে উঠেছিলো। তবে বেশি মাতাল হয়ে গেলে খেলাধূলা ভালো লাগতো না। তখন আমরা ৭৮ তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরবীন দিয়ে নিচের রাস্তাঘাট, গাড়ি, মানুষ ইত্যাদি দেখতাম। মানুষগুলোকে আমাদের কাছে মাত্র একহাত দূরে দাঁড়িয়ে আছে বা চলাচল করছে বলে মনে হতো। ওদের সঙ্গে বিভিন্ন রকম কাল্পনিক কথা-বার্তা বলতাম। সময়টা বেশ আনন্দেই কেটে যেতো। আর মাঝে মাঝে মদ খেয়ে দেখা হতো স্থানীয় সিনেমা। একবার রাশান সিনেমা 'লুনা পাপা' দেখে আমাদের দুজনের মধ্যেই পাগল হওয়ার ঝোঁক চেপে বসেছিলো। সেবার বেশ কিছুদিন পর্যন্ত অবন্তীর নিজেকে লুনা আর আমার নিজেকে নাসরেদ্দিন মনে হয়েছিলো।

লেবানীজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডাকে জীবনের দু'টো বছর বেইরুতের মতো সুন্দর ও চমৎকার একটা শহরে কাটাতে হয়েছিলো। সঙ্গে ছিলো অবন্তীর মতো দূর্দান্ত একজন বন্ধু। সেই সময়কালটা আমার জীবনের একটা মনে রাখার মতো স্মৃতি হয়ে আছে। আজ হঠাৎ করে মনে পড়ে গেলো, এমন একটা ঘটনা লিখে রাখা হয় নি! তাই চটজলদি লিখে ফেললাম। খুব সম্ভবত এই স্মৃতিটা আমার কাছে আজীবন অমলিন থাকবে।


---


দ্রষ্টব্যঃ একটানে লেখা এবং একবারও এডিট না করা গল্প। ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো সবার প্রতি। আস্তে আস্তে টাইপোগুলো এডিট করে ফেলা হবে।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


এত সাবলীল লেখা পড়লে মনেই হয় না গল্প। আপনার বর্ণনা প্রকাশের ধরন আগের চাইতেও ভালো হইলে।

অবন্তী কে নিয়া সিক্যুয়েল চাই।

শুনছিলাম লেবানিজ মেয়েরা আসলেই বড়ই সৌন্দর্য্য, কিছু ফটুক এড কইরা দিতেন!

নাকের লোম পুড়ে যাওয়ার ফিলিংসটা সিরাম হইছে। এত পাগলা পানি ভালু না, নাস্তিক নাস্তিক গন্ধ করতেছে!

মীর's picture


এত পাগলা পানি ভালু না, নাস্তিক নাস্তিক গন্ধ করতেছে!

পইড়া হাশ্তেই আছি, হাশ্তেই আছি Rolling On The Floor Rolling On The Floor
তেঁতুল হুজুরকে তার নেক্সট ওয়াজের ঠিক আগে আগে এই লেখাটা পড়ানো দরকার।

যাই হোক্ কিরাম আছেন ভাইসাব? 'বর্ণনা প্রকাশের ধরন আগের চাইতেও ভালো হইলে' মানে কি 'হইছে' বুঝাইসেন?

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


হয়ো! Tongue

ভালো-ই আছি ভাইজান।

মীর's picture


যাক্ ভালো থাকেন। শুভকামনা রইলো। সুস্থ থাকেন, শান্তিতে থাকেন।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


বিকেলে অফিসে বসে দেখেছিলাম অনেকদিন পর মীরের লেখা এসেছে কিন্তু পড়ার সময় পাইনি। বাসায় এসে একটানে পড়ে ফেললাম।
একেবারে মীর স্পেশাল! এমন সাবলীল লেখা আরও চাই।

মীর's picture


থ্যাংক্স ভাইজান। লেখা যদি ভালো হয়ে থাকে তাহলে সেটা পুরোপুরিই আপনাদের কারণে। আপনাদের এমন উৎসাহ ছাড়া লেখালেখির অপচেষ্টা চালু রাখা সম্ভব হতো না কোনোদিনও।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


এই অপচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। আমরা যেন এমন লেখা থেকে বঞ্চিত না হই। Smile

জ্যোতি's picture


অনেকদিন পর আপনার চমৎকার একটা লেখা। খুব ব্যস্ত নাকি? এত আড্ডা ছবির হাটে কিন্তু আপনার সাথে দেখা হলো না কখনো!!!!!

অবন্তির খবর কি?

মীর's picture


হাই জয়িতা'পু!

কেমন আছেন? কি করতেসেন? দিনকাল কেমন যায়?

আমি খুব একটা ব্যস্ত না। বলা যায়, একেবারেই ব্যস্ত না। শুয়ে-বসে দিন কাটতেসে।

ছবির হাটে রেগুলার আসেন নাকি? এরপরে দেখলে হাই দেবো, ঠিকাছে?

আর অবন্তির খবর জানে গল্পের ওই অকাল কুষ্মান্ডটা। আমার কাছে জিগান কেনু?

১০

জ্যোতি's picture


আছি আগের মতোই। বহুদিন পর বসলাম পিসিতে ব্লগিং করতে। দিনকাল যাচ্ছে বিরহ বেদনায় Sad
ছবির হাটে এখন আর যাই না বহুদিন। আগে তো যেতাম অনেক, তাই বললাম।
অবন্তির কথা সেই অকাল কুষষ্মান্ডর কাছে জেনে আপনিই বলেন না!

১১

মীর's picture


দেখি অকাল কুষ্মান্ডটাকে পাই কিনা। পাইলে অবন্তির কথা জিজ্ঞেস করবো।

আপনের বিরহকাতর দিন কাটে নাকি? তাহলে একটা লেখা দেন Smile

১২

রায়েহাত শুভ's picture


আপনি মিয়াঁ পাপিষ্ঠ, হাটে দেখেন বাট কথা কন না Sad

১৩

শওকত মাসুম's picture


মীর, দেন একদিন হাটে হাড়ি ভাইঙ্গা

এতো সাবলীল ভাবে লেখেন কেমনে? সব মনে হয় নিজের জীবন থেকে লেখা

১৪

মীর's picture


ঠিক মাসুম ভাই। একদিন হাটে শুভ ভাইসহ সবাইকে হাতেনাতে ধরে ফেলতে হবে।

আর সাবলীল লেখা বিষয়ে যেটা জানতে চাইলেন, সেটার উত্তর হচ্ছে- আপনার লেখা পড়ে পড়ে সহজভাবে লেখার চেষ্টাটা আরো বেশি বেশি করতে ইচ্ছা করে।

১৫

রায়েহাত শুভ's picture


ডায়লগ দিয়েন্না ভাই। আমারে আর রায়হান ভাইরে একদিন দুকানের উপরে দেইখাও দূর থিকা ভাইগা গেসেন Sad থাউক আর কিছু কমু না Sad

১৬

মীর's picture


ওইদিন আপনাদের পাশে বসে চার-পাঁচ কাপ চা খেয়েও কথা বলার সাহস জোগাড় করতে পারি নাই। বিশেষ করে রায়হান ভাইকে দেখে তো ভয়ে হাত-পা পেটের মধ্যেই ঢুকে যাচ্ছিলো বারবার। কি করবো বলেন?

১৭

রায়েহাত শুভ's picture


কেন? রায়হান ভাইরে দেইখা কি মনে হইছে উনি কামড়াইয়া দিবেন? Tongue

১৮

মীর's picture


তা অবশ্য মনে হয় নাই। তাও ভয় লাগছে।

১৯

রায়েহাত শুভ's picture


ভুং চুং বাদ দিয়া বলেন নেক্সট আস্তেসেন কবে? গিয়া বইসা থাকুম ধরনের লাইগা Wink

২০

মীর's picture


সাকা চৌধুরীর রায়ের পরে Smile

২১

আরাফাত শান্ত's picture


অসাধারণ!

২২

মীর's picture


আপনে। আর কতবার বলবো?

২৩

তানবীরা's picture


গলপ হিসেবে ঠিকাছে কিনতু বাসতবে

একটি ছয় কক্ষের ফ্ল্যাট

সকালে এতো সময় ধরে নাসতা Big smile Wink Tongue

২৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


কি সাবলীল লেখা। কত সহজে উঠে এসেছে কত অবর্ণনীয় আবহ।

২৫

সফিক's picture


মির ভাই, লেবানন এমবাসির টিকানা আর স্টুডেন্ট ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে জানালে উপকৃত হতাম। আমি একটা লেবানিস ইউনিতে এডমিশন পেয়েছি।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!