ইউজার লগইন

যে কথাটা ওই পক্ষের জানা থাকা দরকার

জামাত-শিবিরের ভক্ত-অনুসারী-সমর্থকরা ছড়িয়ে আছে চারপাশে। বিশেষ করে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে এদের সংখ্যা অনেক বেশি। যে কারণে গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে গণমাধ্যমে কাজ করার বিষয়টা কঠিন হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে। এরা প্রথম থেকেই কাদের মোল্লা ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা গণআন্দোলনের সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে খুব বেশি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ না হয়, সে ব্যপারে সচেষ্ট ছিলো। কোনো কোনো পর্যায়ে সফল হয়েছে। সে সময় গণজাগরণ মঞ্চের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের কাজ করাটা কঠিন করে তুলতে এ গোষ্ঠী খুব চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে এরা হেফাজতের পক্ষ নিয়ে গণমাধ্যমে গরম গরম প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এসব ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে অধিকাংশ গণমাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে এক ধরনের মেরুকরণও হয়ে গেছে।

গণমাধ্যমের এ সংকট অবশ্য নতুন নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি বিগত বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়কালে শিবির কিভাবে ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনকে (ডুজা) গ্রাস করে ফেলেছিলো। বেশ কয়েকটা কমিটিতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় পুরো প্যানেলে ছিলো শিবিরের রিক্রুটেড ঢাবি প্রতিনিধিদের সংখ্যাগত আধিপত্য। সেসব প্রতিনিধিরা পরবর্তীতে স্টাফ, সিনিয়র স্টাফ ইত্যাদি নানারকম পদবীধারী রিপোর্টার হয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে ওঠার প্রথম পর্যায় থেকেই এ ইস্যুতে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের একটা শক্ত প্রচেষ্টা তাদের ছিলো। ব্লগার থাবা বাবাকে (আহমেদ রাজীব হায়দার) হত্যার পর কিংবা হেফাজতের তাণ্ডবের পর তারা গণবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে। অনেক পত্রিকায় থাবা'র উপরে বড় বড় নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি হেফাজতের তাণ্ডবলীলাকে পরদিন 'তৌহিদী জনতার মহাসমুদ্র' হিসাবেও উল্লেখ করেছে একটি প্রথম সারির দৈনিক। এসব কাজ এক অর্থে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা খর্ব করার মতো ঘটনাকে সমর্থন করার সমকক্ষ। অবশ্য শুধু রিপোর্টাররাই যে এ অন্যায় করেছেন তা নয়। জামাতপন্থী সিনিয়র সাংবাদিকরা তাদের ব্যাক-আপ দিয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। ওই পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে অনেক অপপ্রচারই আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ দেশের ক্ষতির খতিয়ান লম্বা করেছে।

সেই পক্ষ আজো সোচ্চার। প্রতিবেদনে-প্রবন্ধে এখনো তারা রাজাকারদের পক্ষে প্রচারণা চালায়। সেসব প্রচারণার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের আগ্রহ প্রায়শই পাঠক-শ্রোতা-দর্শকের থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে সুযোগও থাকে না। তারা অনেক সময় কোনো বাছ-বিচার না করে এবং কয়েকটা গণমাধ্যমের তথ্য না মিলিয়েই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়। এটা খুবই ক্ষতিকর একটা প্রবণতা, যা উদ্দেশ্য শিকারিকে সুযোগ করে দেয়।

এজন্য গণমাধ্যমের সবকিছুই বাছ-বিচার ব্যতীরেকে গ্রহণ করার মানসিকতা পরিবর্তন খুব জরুরি। পাঠকের একটু সচেতন পাঠ বা শ্রোতা-দর্শকের সামান্য বাড়তি সচেতনতাই অনেক প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব খুঁজে পেতে সাহায্য করে। একটা প্রতিবেদন বিশ্বাসের আগে সবার উচিত প্রতিবেদনের রেফারেন্সগুলো চেক করা দেখা। আদৌ রেফারেন্স আছে কিনা কিংবা রেফারেন্স হিসাবে যেসব ব্যক্তির মন্তব্য প্রচারিত বা প্রকাশিত হচ্ছে তারা গ্রহণযোগ্য কিনা- এ দিকগুলোতে খেয়াল রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে অবশ্য ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তখন গণমাধ্যমের তুলনামূলক গ্রহণযোগ্যতা বিচারের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছুনো সম্ভব। আর এরপরেও যদি কোনো প্রতিবেদনের ব্যপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছুনো সম্ভব না হয়, তাহলে সে প্রতিবেদন বর্জন করাই সমীচীন।

বিকালে অফিসে বসে থাকতে থাকতেই হঠাৎ করে রাজাকারদের ব্যপারে তীব্র বিবমিষা অনুভব শুরু করলাম। মেজাজ খারাপ থেকে ধীরে ধীরে তিরিক্ষি হয়ে উঠলো। তখন কয়েকটা উল্টাপাল্টা লাইন লিখেছিলাম রাইটিং প্যাডে। খুব বেশি মানসম্মত হয় নি। ভাষার ব্যবহারেও খুব বেশি ভদ্র থাকতে ইচ্ছে হয় নি। আমার মেজাজটা যেমন ছিলো, লাইনগুলোর মেজাজও তেমনি হয়েছে।

তবে মাথা-মেজাজ খারাপ থাকুক, গরম থাকুক, ঠান্ডা থাকুক কিংবা নাই-ই থাকুক; এই আকালের কালে যুদ্ধাপরাধী-জামাত-শিবির-রাজাকারদের আর কোনোরূপ নিস্তার নাই।

যাই হোক্ মেজাজ খারাপ লাইনগুলো পড়ি চলেন-

১.
মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী
গণশত্রু আবদুল কাদের মোল্লা
কোন সাহসে রায় শুনে তুমি
দুই আঙ্গুল তুললা?
একটা আঙ্গুল তুলতে যদি
বাঁচতে দিনের শেষে
দুই আঙ্গুল পাছায় নিতে
বুঝবে মজা কেশে।

২.
সাঈদী ব্যাটা চুতিয়া বেশি
দাড়ির ফাঁকে চিকন হাসি
লুচ্চামি চোখে-মুখে,
ত্যারচা করে চোখের মণি
ভণ্ডবুড়ো দিন-রজনী
ছাত্রীশিবির দেখে।

৩.
মুজাহিদের শয়তানী চোখে
কিসের হাসি খেলে?
বুঝবে মজা বাটপারটা
চোখ কেউ গেলে দিলে।

৪.
কামারু হাটে ধীর পায়েতে
ব্যথা যে গিঁটে-গিঁটে,
ফাঁসির দড়ির স্বপ্ন দেখে
মুখে যন্ত্রণা ফোটে।

৫.
গোজম দেখো গন্ধ ছড়ায়
ঘুরে-ছিটিয়ে পাড়ায় পাড়ায়
ছোটবেলাকার রোগ
সে আজ করছে সাজাভোগ,
চাই ফাঁসি হয়ে যাক তার
হোক জয় এই বাংলার।

---

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

সামছা আকিদা জাহান's picture


আপনি তো এখন ও ওদের প্রতি ভদ্র আচরন করছেন। তুমি তুমি করে বলছেন। কঠিন শব্দে তুই তুই করে বলুন। তবে কাব্য চরম হইছে :)।

মীর's picture


হাই রুনা আপু। কেমন আছেন Smile
আসলেই ঠিক বলেছেন। এদেরকে তুমি সম্বোধন করে বেশি সম্মান দেখানো হচ্ছে। আসলে এরা তুই সম্বোধনেরও যোগ্য না।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


মাঝে মাঝে মেজাজ খারাপ হওন ভালা, এরাম কিছু কথামালা পাওন যাইবো। Laughing out loud

তবে মাথা-মেজাজ খারাপ থাকুক, গরম থাকুক, ঠান্ডা থাকুক কিংবা নাই-ই থাকুক; এই আকালের কালে যুদ্ধাপরাধী-জামাত-শিবির-রাজাকারদের আর কোনোরূপ নিস্তার নাই।

তয়, এইটা একদম খাঁটি কথা। (ফুলের ইমু মিছাইতেছি!)

মীর's picture


এই ফুল চলবে ভাইজান?

তানবীরা's picture


কাব্য চরম হইছে --- লাইক & লাভ ইট

বেবী নাজনীনরে নিয়া একখানা লিখো। যারা এগুলার পদলেহন করে তাদেরকে আরো জোরে লাথি দেয়া উচিত

মীর's picture


শস্যক্ষেত্রে শিবির চরায়
বেবী নাজনীন গাণ্ডে
গানও নাকি ভুলভাল গায়
এই নবীন পাণ্ডে।
পক্ষ নিলো রাজাকারদের
কোনো কিছু না বুঝে
ডোবার আগে ডুবলো বেবী
গু-গোবরের মাঝে।

আরাফাত শান্ত's picture


জোশ লেখা হইছে!

মীর's picture


ধইন্যাপাতা নিয়া যান তাইলে Smile

দূরতম গর্জন's picture


জাতীর জন্য একটা গ্যাংগ্রীন এই জামাত শিবির

১০

মীর's picture


এখুনি এইটা কাইটা বাদ দেয়া দরকার।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!