ইউজার লগইন

মিতুল'এর ব্লগ

হুমায়ূন কথন

" বইন, আমি আপনারে তিনদিন সময় দিছিলাম। আপনি আপনার স্বামীরে ফিরাইতে পারতেন, ফিরান নাই।
আপনি মাষ্টার সাহেবরে খবর দিতে পারতেন, দেন নাই। আপনি পুলিশের কাছে যাইতে পারতেন, যান নাই।

আপনি আপনার নিজের গায়ে থুতু দেন, আপনার স্বামীর গায়ে থুতু দেন ।
আমি কেউ না, আমি কেউ না ।"

......হুমায়ূন আহমেদ, নাটক : মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে। নান্দাইলের ইউনুস এর ডায়লগ মাত্রই মাষ্টার সাহেবকে খুন করে আসার পর।

https://youtu.be/CGMOWoaAB7k

ইঁদুরের দল

ইঁদুরের যখন দাঁত বড় হয় তখন সে কিছুনাকিছু কাটতে থাকে যেন দাঁতগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় কর্মক্ষম থাকে। এরকম একদল ইঁদুর, বড় দাঁতের সুড়সুড়িতে অস্থির হয়ে সামনে যা পেল তাই কাটা শুরু করলো। বই, লেপ, তোষক, কাথা- বালিশ ইত্যাদির শেষেও সুড়সুড়ি না কমায় সে কাটতে শুরু করলো নিজেদের বিবেক, এতে কিছুটা আরামবোধ হলেও পুরোপুরি মুক্তি মিললো না। মুক্তির আশায় ইঁদুরগুলো কাটতে শুরু করলো বিশ্বাস। এরপর, একে একে সততা, চরিত্র ইত্যাদি কেটেও সুস্থির হতে না পেরে, ওরা একে অন্যের লেজ কাটা শুরু করলো। কাটতে কাটতে এমন অবস্থা হলো যে, কেন কাটছে এই বোধটাই হারিয়ে ফেললো । ইঁদুরগুলো আর বোধ ফেরানোর চেষ্টাই করলো না, কাটতেই থাকলো................ কুটুস কুটুস কুটুস।

বৃক্ষবাসীর কথা

20130517_192950.jpg

এটা কোন ভুতুড়ে বৃক্ষ নয়। শতবর্ষী(!) তেতুল গাছ। অনিন্দ্য স্বন্ধ্যায় এক অবিস্মরনীয় নাটক মঞ্চস্থ হল মে ১৭, ২০১৩ এ। ব্রম্মপুত্র নদের তীর ঘেষে যে পার্কটি, তার প্রবেশ পথেই এই মঞ্চ ”প্রেরণাঙ্গন”। অবিশ্বাস্য দক্ষতায় শিল্পীগণ (রূপক বৃক্ষবাসী) গাছের ডালে বসে, শেষভাগে লাফিয়ে, ঝাঁপিয়ে রাজাকার বধে দর্শক- শ্রোতাকে শিহরিত করে জানিয়ে গেলেন ইতিহাস, চেতনা ও প্রজন্ম ভাবনা বৃক্ষবাসীর কথা’র (নাটকের নাম) ছলে। রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার শপথে এ এক নান্দনিক উপস্থাপনা।

photo 1.jpg

মঞ্চ সজ্জ্বা, আলো প্রক্ষেপণ, সংলাপ চয়ন, অভিনয় শৈলী সবকিছূতেই মুন্সীয়ানার ছাপ। ধন্যবাদ ময়মনসিংহ জেলার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কে। ধন্যবাদ এর নাট্য বিভাগ ও সংশ্লীষ্ট কলাকুশলীকে এমন ধারা উপস্থাপনার জন্য।

এবি’ র প্রথম পাতায় যা সংযোজন করা যেতে পারে

এবির প্রথম পাতায় অন্যান্য অনেক কিছুর সাথে ডানদিকে দুটো গুরুত্ত্বপূর্ন হেড আছে ,

১। সাম্প্রতিক মন্তব্য

২।সপ্তাহের সেরা পাঁচ (আলোচিত, পঠিত, পছন্দকৃত)

আরেকটি যোগ করা যেতে পারে

৩। সপ্তাহের সকল লেখা ( লেখকের নামসহ)

এতে পাঠককূল পছন্দের লেখকের লেখা প্রথম পাতা না উল্টিয়ে সরাসরি লেখায় যেতে পারবে।

সুবিধা হল, আলসেমীর জন্য পাতা না উল্টিয়ে, প্রথম পাতা দেখেই অনেকের এবি থেকে সরে আসেন ( অন্তত আমি)। এতে ভালো লেখাগুলো (লেখার/ পোষ্টের ভীড়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পাতায় চলে যাওয়া) পড়া থেকে আড়ালে চলে যায়।এ সমস্যার সরাসরি সমাধান হবে।

অন্যটি হল, লেখকের লেখার শিরোনাম ও লেখকের নাম পুরো সপ্তাহ জুড়েই প্রথম পাতায় থাকবে। এটাও লেখকের জন্য কম প্রাপ্তি নয়।

আমি যদি রাজা হতাম (!)

আমি যদি রাজা হতাম (!)
কিংবা রাজার উজির-নাজির
ঘাড় ঝাঁকিয়ে, হাত উঁচিয়ে,
কখনো বা গাল খামচিয়ে মিথ্যে কথা, তওবা তওবা,
কখনই নয়। কখনই নয়।

আমি তো আর রাজা নই, মানুষ একটা (মানুষই তো!)।

শব্দ শুনেই ভ্রান্তি বাড়ে,
দৌড়ে পালাই, এদিক সেদিক।
গন্ধ শুকেই দিক হারাই,
শূন্যে উড়ি,
উড়ি - উড়ি, পাখা ছাড়াই।
রং দেখেই দৃষ্টিভ্রম,
ঝাঁপ দিই আগুন জেনেই, আগুন ছুঁতে।
কথার ছলে মাথা নোয়াই,
মরবো জেনেই হাটতে থাকি।

আমি তো আর রাজা নই, মানুষ একটা (মানুষই তো!)
পড়ি, মরি, পঁচে গলে গন্ধ ছড়াই।
এহাত-ওহাত, বেহাত হয়ে্ই
ঢলে পড়ি রাজার পায়েই।

আমি যদি রাজা হতাম (!)
কিংবা রাজার উজির-নাজির
ঘাড় ঝাঁকিয়ে, হাত উঁচিয়ে,
কখনো বা গাল খামচিয়ে মিথ্যে কথা, তওবা তওবা,
কখনই নয়। কখনই নয়।

এমনই গহীন অন্ধকার

স্বপ্ন, হয় এমনই।

রমনার বুকে
সবুজ সবুজ প্রমোদ,
নীল আকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে
সাদা মেঘ এলো-মেলো,
কখনো বা এ-ওকে জড়ানো।
বাবুই বাসা,
ঝড়ের পরেই চুপসানো দরজায় বাবুই জোড়ার খুনসুটি।
ঝিরঝির মৃদু বাতাসের তাড়ায়
লালচে শেওলা নিরুপায়,
একে ওকে জড়িয়ে লালাভ ভালবাসা। আহা।

সব ছাপিয়েও কিছু অস্থির,
স্বপ্ন ভাঙার স্বপ্ন,
কালো মেঘে ছাওয়া ধবল চরাচর
এমনই গহীন অন্ধকার।
নীলে নীলে ছেঁয়ে যাওয়া সময়।আহা।

মার চিৎকার,
খোকা, জেগে উঠ।

শাহবাগ থেকে ফিরে

শাহবাগ থেকে ফিরলাম।
শ্লোগানে শ্লোগানে কম্পিত আমি,, তোমরা।
মাথা ঝাঁকিয়েও সেই শব্দের সংকলন এড়াতে পারছি না, এখনও।
তেড়েফুড়ে বেরিয়ে আসছে............................

”বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন
সারা বাংলায় ছড়িয়ে দাও”

বন্ধুরা,
সতর্ক হওয়ার সময় হয়েছে।সতর্ক হও।
শকুনেরা ঘৃণ্য রাজনীতির বিষে মাখামাখি নখর, রক্ত চক্ষু, ভয়ঙ্কর চিৎকারে
ঘরে -বাইরে পাখা মেলতে করেছে শুরু ।

বন্ধু
সতর্ক হও।
নষ্ট রাজনীতি সহজেই নিষ্ফলা করে দিতে পারে তোমায়,
আমার সংহতি, আমাদের শাহবাগ,
সংগ্রামী চেতনা।

বন্ধুরা সাবধান।

আমার শাহবাগ

শাহবাগ ঘুরে এসেছি এইমাত্র। কোন ক্লান্তি নেই। সবার জন্য হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা রেখে আসলাম।কাল অফিস, যেতেই হবে।তবে, ফিরবো শাহবাগ হয়েই। ওটাই এখন প্রান।


দু মাসের যে শিশুটি,
শ্লোগান ওর নাম,
যাকে তার মা দুহাতে ধরলো উঁচিয়ে
লাখো জনতার ‍চিৎকারে হল অভিষেক
কী অসামান্য শক্তি সেই মার !
কী বজ্র বীজ গেঁথে দিল ওর সন্তানের ভিতর !
মাগো, তুমিই মা। তুমিই পেরেছিলে “৭১ এ।
ধন্য মা।
তুমিই ছাড়িয়ে গেলে সবাইকে।
ছড়িয়ে গেল আগুন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

অনেক দিন চোখে জল আসে না। আজ এসে গেল।
চোখ ছল ছল, চোয়াল কঠিন, মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আকাশ ফুঁড়ে উঠে গেল
কন্ঠ ছাড়িয়ে বিস্ফোরিত হল,

”খুনী রাজাকারের রক্ষা নাই
সব রাজাকারের ফাঁসি চাই।”

এখনি বের হচ্ছি। শাহবাগে যাবো।

গতকাল সকাল ১১ টায়
শাহবাগে গিয়েছিলাম,
ফিরলাম রাতে, অনেক রাতে, শাহবাগ জেগে থাকা রাতে
সারাদিন একটা ঘোর, একাত্তর, শহীদ,পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বীর বাঙালী, স্বাধীনতা, পতাকা শ্লোগান.............
খাওয়া নেই, নাওয়া নেই, তাতে কীইবা এসে গেল,
কন্ঠে আগুন ঠিকই ছড়ালো।

বেঁচে আছি, শরীর একটুকুও বিরক্ত করেনি।
গত কয়েকদিনের অসুস্থতাও মনে হল ভাল হয়ে গেছে।
শ্লোগান, মিছিল, হাত তালি, বিশিষ্টজনের এক কাতারে দাড়ানো.............. এই অভিজ্ঞতা ভুলবার নয়। ভুলবার নয় জাফর ইকবাল স্যারের সংক্ষিপ্ত অথচ প্রচন্ড তাৎপর্য়ময় ভাষন।শাবাশ বন্ধুরা, আমার বন্ধু,আমার ভাই, আমার বোন । এগিয়ে যাও।


মৃত্যুর পর যদি কোন এক শহীদের সাথে দেখা হয়,
হয় কথা।
নিশ্চিত জেনো..............................................
এদিনের গল্প শোনাবো ওদের।


ওদের রক্ত বৃথা যায়নি, যাবে না।যাবে না। যাবে না।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ছড়িয়ে পরেছে মুক্তির বারতা।

এখনি বের হচ্ছি। শাহবাগে যাবো।

শামসুর রাহমানের কবিতা “অভিশাপ দিচ্ছি”

আমার প্রিয় একটি কবিতা। সবার জন্য পোষ্ট করা হল।

”না আমি আসিনি
ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রাচীন পাতা ফুঁড়ে,
দুর্বাশাও নই,
তবু আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে
অভিশাপ দিচ্ছি।

আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক
কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে
মগজের কোষে কোষে যারা
পুঁতেছিল আমাদেরই আপন জনেরই লাশ
দগ্ধ, রক্তাপ্লুত
যারা গণহত্যা করেছে
শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে
আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু
সেই সব পশুদের।

ফায়ারিং স্কোয়াডে ওদের
সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে
নিমেষে ঝাঁ ঝাঁ বুলেটের বৃষ্টি
ঝরালেই সব চুকেবুকে যাবে তা আমি মানি না।
হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে মাঠে
ক্যাম্পাসে বাজারে
বিষাক্ত গ্যাসের মতো মৃত্যুর বীভৎস গন্ধ
দিয়েছে ছড়িয়ে,
আমি তো তাদের জন্য অমন সহজ মৃত্যু
করি না কামনা।

আমাকে করেছে বাধ্য যারা
আমার জনক জননীর রক্তে পা ডুবিয়ে দ্রুত
সিঁড়ি ভেঙ্গে যেতে
ভাসতে নদীতে আর বনেবাদাড়ে শয্যা পেতে নিতে,
অভিশাপ দিচ্ছি, আমি সেইসব দজ্জালদের।
অভিশাপ দিচ্ছি ওরা চিরদিন বিশীর্ণ গলায়
নিয়ত বেড়াক বয়ে গলিত নাছোড় মৃতদেহ,
অভিশাপ দিচ্ছি
প্রত্যহ দিনের শেষে ওরা

হায়রে, এমনই সময় আমার

ফ্লোরময়, ছড়ানো, এদিক সেদিক।

প্রায় লেপ্টে যাওয়া তোষক, তেলচিটচিটে চাদর, ঘামে ভেজা বালিশ,
ছেড়া শপিং ব্যাগ, জুতোর বাক্স (খালি),
হূমায়ুনের ”বাদশাহ নামদার”
একটিন কাজু বাদাম, দুমড়ানো কোকের ক্যান(খালি),জায়নামাজ,
এরোসল ক্যান, মিনারেল ওয়াটারের বোতল (খালি),
ল্যাপটপের পাওয়ার কর্ড, এলোমেলো প্যাচানো
এবং আমি।

ওহ, ভুল হল
দুটি তেলাপোকা, মৃত, শুকনো ভঙ্গুর পাখা গুড়োগুড়ো নিঃশেষ প্রায়।
রাত গাঢ় হতে হতেই জানালা গলে দগ্ধ প্রায় চাঁদের উঁকিঝুকি,
আর, ঘৃন্য ভুলে ছেঁয়ে যাওয়া চরাচর।

এবং …
এবং আমি।
হায়রে, এমনই সময় আমার
হাঁটু মুড়ে নির্বাক চেয়ে থাকা ।

আষাঢ়ে

(ক) রহমত মাষ্টার

আষাঢ় মাস। দুদিনের টানা বৃষ্টি সব কিছুকেই যেন থমকে দিয়েছে।

রহমত মাষ্টারের মেজাজ খিচড়ে আছে ভীষন অসময়ে ঘুম ভাঙার জন্য। রাত প্রায় ৩ টা। ঘুম ভাঙার কারন যে পেটে মোচড় তা আর বুঝতে বাকী নাই তার। বাইরে ভীষন বৃষ্টি। গ্রামের এই এককোনে তার টিনের ঘরখানায় সে একা থাকে। বউটা মেয়েটাকে নিয়ে গেছে বাপের বাড়ী, বেড়াতে। টিনের চালে বৃষ্টির টিপ টিপ শব্দ তাকে আবারও সন্ত্রস্ত করে তুললো। পেটের মোচড় নিবৃত করতে চাইলে তাকে ঘর থেকে অন্তত ১০০ গজ হেটে ঝোপ আর বিশাল বাঁশ ঝাড় এড়িযে পুকুরের পাড় ঘেঁষে বাস্তু ভিটার শেষ সিমানায় ছোট ঘরটাতে যেতে হবে। চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখছে না সে যেন কোনভাবেই হোক সকাল পর্যন্ত চেপে রাখা যায়। অন্য স্মৃতি কিছু এদিক সেদিক হাতরে ভুলে যেতে চাইছে ব্যাথাতুর মোচড়টাকে। কিন্তু খুব একটা সুবিধা হচ্ছে না। ঘুরে ফিরে ঘরের খুব কাছে সুন্দর একটা ছোট ঘর নির্মান ও তা ব্যবহারে সুখের কথাই বার বার ভেসে উঠছে।

বলেছিলে, কেমন আছো ?

(১)

তোমাকে বলিনি কখনো, কোনদিন !
লুকোচুরিতে আমার ভীষন ভয়,
এমনি এক কানামাছি খেলার ফাঁকে
হারিয়েছি আমার শখের সোনালী ট্রয়।

(২)

আমার সব হল।
ঘর হল,
হিজলের সাথে একাকিত্ত্ব ভাগাভাগি এবং
ছোট্ট সুন্দর সুখের বাসরও হল।

শুধু তুমিই,
আমার বুকে আছড়ে পড়লে না।

(৩)

ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিক,
অস্থির দৃষ্টি এবং ক্লান্ত স্মৃতি আঁকড়ে গুটিসুটি,
বেশ যাচ্ছিল দিন।

সেসময়, প্রায় ভুলেই তুমি এসেছিলে,
নিঃশব্দে দাঁড়িয়েছিলে,
বলেছিলে, কেমন আছো ?

আমার দুচোখে তখন ভরা বর্ষা ।

ভীত সময় মিথ্যা আলিঙ্গনেও পোয়াতী হয়

(১)

একটু খানি বাতাস এলেই
হেলে দুলে পড়তে থাকি,
অথচ ওই ঝড়ের রাতে
বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম তুলি হাতে,
জলের ভাঁজে রঙ জড়াতে,
নীলে নীলে মাখামাখি।

(২)

হলুদাভ রংয়ের ক্লান্ত বিষন্ন নগর,
পিঠে উপবিষ্ট আমি, তুমি এবং বহুরং এর সময়।
জেনো,
ভীত সময় মিথ্যা আলিঙ্গনেও পোয়াতী হয়।

(৩)

কখনো তুমি, কখনো আমি,
এখন আর আড়া্ল কিছু নয়, প্রায় প্রকাশ্যেই হই খুন ।
ওই উঁচুতে যতগুলো শিমুল ফুটেছে
তার একটিও আর আমার নয়।
ভরা জ্যোৎস্নায় যতটুকু বান ডাকে
তার কাছাকাছি কিছু প্রখর রৌদ্রেও বেসুরো, প্রায় অমিল।
সরল মিথ্যার খুঁজেই সুচতুর হামাগুড়ি,
পরিত্যক্ত ভাগাড়ের কোনে বেমানান
প্রাপ্য চিলতেখানি নিয়েই হাঁটু মুড়ে বসে থাকি, স্থির।

কে যেন বললো, ”সাবধান,
মিউনিসিপালিটির লোকেরা কুকুর মারতে বেড়িয়েছে”

জল ছুঁই ছুঁই

(১)

ডুবে যেতে যেতে যতটুকু ভেসেছি
তার কাছাকাছি ঠিক এসে দাড়ালে,
হাতটিও বাড়ালে,
চেপে চুপে অবশিষ্ট ডুবিয়ে দিতে দিতে বললে,” ভালবাসবি, কখনো আর?”
আমি হাসতে হাসতে ডুবতে ডুবতে বললাম, “ভালবাসি তোমায়” ।

কি বিষ্ময়! তোমার চোখে তখন জল।

(২)

একটু স্থির হই, কাঁদি কখনো
হঠাৎই হাসি, যাই করি।
জল ছুঁই ছুঁই পাড়ে দাড়িয়ে বিষন্ন হই মাঝে মধ্যেই।
এতো কিছু, তারপরও,
তুমি যখন বললে ” তীর্থে যাবো, যাবে ?”
হেসেছি শুধু।

এখন আর আমাদের যেতে নেই।।