ইউজার লগইন

প্রজন্মের যুদ্ধ - গর্জে ওঠা শানিত কণ্ঠস্বর!

p1_0.jpg
সময়ের অভাবে ব্লগে লেখা কমে গেছে অনেক, তার উপর শাহবাগ কিছুটা সময় কেড়ে নেওয়াতে লেখা আরও হয়ে ওঠে না। প্রজন্ম চত্বরের অভিজ্ঞতার কথাগুলো লেখা হয়নি এতদিনেও। লিখতে গেলে মনে হত এ তো সবারই জানা কথা! এই সময়ে সবাই কম বেশী শাহবগের বাসিন্দা, মানুষজন দেখি নিয়মিত লেখে। বেশীর ভাগই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জামাত শিবির নিষিদ্ধকরন, প্রজন্ম চত্বর নিয়েই লেখা! পড়তে পড়তে মনে হয় আমার না লেখা কথাগুলো তো লোকজন লিখে ফেলেছে, আমি আর কি লিখবো! তবুও আজ মনে হল নিজের কিছু অনুভূতির কথা অন্তত লিখে রাখি।

আজ দীর্ঘ একুশ ধরে চলছে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এই যুদ্ধ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে তারুণ্যের, ধর্মান্ধতা ও উগ্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সচেতন জনতার! প্রতিটি মানুষই যেন আজ একেকজন যোদ্ধা! প্রতিদিনই লক্ষ মানুষের পদভারে মুখরিত ছিল শাহবাগ! শ্লোগানে শ্লোগানে মানুষ চেতনার জাগরণ ঘটিয়েছে, জানিয়েছে তাদের প্রাণের দাবী। গত ৪২ বছর ধরে মানুষের মনে পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটছে আজ এই প্রজন্ম চত্বরে! আজকের এই জেগে ওঠা সাহসী প্রজন্ম জানিয়ে দিয়েছে তাদের আর দমিয়ে রাখা যাবে না, যাবে ভুল বোঝানো। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা জঞ্জাল সাফ করতে, জমাট বাধা রক্তের দাগ মুছতে গর্জে উঠেছে আজ শানিত হাতিয়ার - প্রজন্ম ২০১৩।

ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা এই আন্দোলনের সূত্রপাত করলেও মূলত আন্দোলনকে বেগবান করেছে সাধারণ জনগণ যারা আজও মনে প্রাণে চায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। তারপরও ব্লগারাই আজ জামাতিদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে। মুল ঘটনা অন্য দিকে প্রবাহিত করার জন্যই খুন করা হল ব্লগার রাজীবকে এবং তারপরই শুরু করেছে অন্য নাটক!

চলমান আন্দোলনের এই এত দিনে প্রজন্ম চত্বর থেকে একবারের জন্যও ধর্মের বিরুদ্ধে কোন স্লোগান কিংবা কোন কথা উচ্চারণ হতে শোনেনি কেউ, তবুও গনহারে সব ব্লগারদের নাস্তিক, ধর্মবিরোধী আখ্যা দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য শুরু হল চক্রান্ত। ব্লগিং সম্পর্কে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের তেমন একটা ধারনা না নেই, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামাত শিবির অত্যন্ত সুকৌশলে মানুষের কাছে একটি ম্যাসেজ পৌছাতে চেয়েছে যে শাহবাগের আন্দোলন নাস্তিকদের আন্দোলন, ইসলাম বিরোধীদের আন্দোলন!
যারা আজ ধর্মের দোহাই ওদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে একই সুরে কথা বলছেন, তাদের বলছি – বিক্ষোভের নামে মসজিদের ভিতরে ঢুকে জায়নামাজে আগুন ধরিয়ে দেয়া কি ধর্মের অবমাননা নয় ?

বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে বুঝলাম জামাত শিবিরের ষড়যন্ত্র অনেক ক্ষেত্রে সফল। আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি এই আন্দোলন নিয়ে আমার খুব কাছের কিছু মানুষের উক্তি শুনে! সেদিন মামার সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল, ফোন করা হয়না কেন জবাবদিহি করার পর শুরু হল তার শাহবাগের পোস্টমোর্টেম! ওখানে কি হয় তোমরা জানো? ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ, অনৈতিক কাজ হয়। আমি বললাম, মামা আমি নিজে প্রায় দিনই যাই, ওখানে ওরকম কিছুই হয় না, আপনাকে যারা বলেছে তারা ভুল বলেছে। তুমি জানো? ওখানে যে ব্লগাররা আন্দোলন করে তারা সব নাস্তিক, মুরতাদ। আমরা পেপারে সব দেখি! আমি তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে এগুলো সব জামাত-শিবিরের মিথ্যা অপপ্রচার, ব্লগাররা কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে না, ওখানে এ রকম কিছুই হয় না। উনি যেন আরও রেগে গেলেন- তোমরা শুধু জামাত শিবিরের কথা বল, এখন তো ওলামা, আলেমরাও বলে ওরা ইসলাম বিরোধী! আমি অনেক চেষ্টা করেও সেদিন ওনাকে বোঝাতে পারিনি। যে মানুষরা জেগে জেগে ঘুমায় তাদের ঘুম ভাঙ্গানো সম্ভব না, তাই আর কথা না বাড়িয়ে পরে ফোন করব বলে কথা শেষ করলাম। গ্রামে বাস করলেও এখন খবর পৌছানো কঠিন কিছু না, আর যে কোন রটনা যেন বাতাসের আগে ছড়ায়! বিশেষ করে মাহমুদুর রহমানের মত হলুদ সংবাদিকতার কারণে অনেক সাধারণ মানুষ আজ বিভ্রান্ত! আমার এই ভেবে আরও খারাপ লাগলো ছেলেবেলা থেকে ওনাকে কখনো আমি ধর্মান্ধ দেখিনি! সেই মানুষ এখন আন্দোলন সম্পর্কে কতটা ভুল বুঝে আছে ভেবে অবাক হচ্ছিলাম!

গত ২২শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবারের নজিরবিহীন সহিংস ঘটনাবলী যে অন্যান্য ইসলামী দলের আড়ালে জামায়াতের কর্মকান্ড সেটা বুঝতে কারে রকেট সাইন্স পড়ার দরকার হয় না! জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা, বিভিন্ন স্থানে আমাদের চেতনার শহীদ মিনার ভাংচুর, জাগরণ মঞ্চ ভাংচুর করে ওরা আজ আমাদের হৃদপিণ্ডে আঘাত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি, যারা এ পতাকাকে কোনদিন স্বীকার করেনি, তারা বার বার আমাদের জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছে। এখনো প্রতিনিয়ত যড়যন্ত্র চলছে, প্রতারণার জাল বিছিয়ে চলছে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে। ওরা যে সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প ছড়াচ্ছে তা আজ প্রতিহত করতে হবে যে কোন মূল্যে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের পতাকাকে অবমাননা করে ওরা আমাদের দুঃসাহস দেখিয়েছে ওরা, তবুও কি ঘুমন্ত জনতা জেগে উঠবে না!

শুক্রবার নামাজের পর অফিসে বসে আছি হঠাত দেখলাম কাওরান বাজার মসজিদ থেকে একটা মিছিল বের হয়ে ফার্মগেটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, কিছুক্ষণ পর আবার দেখি ফার্মগেটের দিক থেকে আরেকটি মিছিল মসজিদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মিছিলকারীদের মারমুখী ভঙ্গী দেখে মনে হচ্ছিল যে কোন মুহুর্তে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে! একটু পরই বাসা থেকে ফোন পেলাম বায়তুল মোকাররম রণক্ষেত্র! অফিসে থাকায় টেলিভিশন দেখার সুযোগ নেই তাই বিডিনিঊজ খুলে দেখলাম জামাত-শিবিরের তান্ডব! সেদিন খুব মন খারাপ হয়েছিল এই ভেবে যে কেন গনজাগরণ মঞ্চ থেকে লোকজনকে চলে যেতে বলা হল! তবে কি এতদিনের অর্জন বৃথা গেল!

শাহবাগে আর যে জিনিসটা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে তা হল বাবা মার হাত ধরে কিংবা কোলে চড়ে আজ যে শিশু এখানে এসেছে। যে শিশু জাগরণ মঞ্চের কণ্ঠের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে স্লোগান দিয়েছে – তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা কিংবা তুমি কে আমি কে? বাঙালী, বাঙালী! এই ক্ষণটা ওদের মনে ঠিকই গেঁথে গেল, আজকের এই দিনটাই ভবিষ্যতে ওদের জন্য একটা ইতিহাস! আজকের এই শিশুই আগামী দিনের তরুন-যুবা, ভবিষ্যৎ। এই আগামী প্রজন্মের মনের গভীরে যে চেতনার বীজ রোপণ করে দেয়া হল -এরাই গড়বে আমাদের আগামীর বাংলাদেশ, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সোনার বাংলাদেশ!

কাল সকালে হরতালের মধ্যে অফিসে যাওয়ার আগে ভাবছিলাম জামাত শিবির আবার কি তান্ডব চালায়! যদিও গতকাল গনজাগরণ মঞ্চ সবাইকে আজকের হরতালকে প্রত্যাখ্যান করার আহবান জানিয়েছে তবুও মনে হচ্ছিল না জানি কোন সহিংসতা হয় আবার! বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি অন্য দিনের মতই স্বাভাবিক ভাবেই যানবাহন চলছে, মানুষজন প্রতিদিনের মতই যার যার কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে ছুটছে। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় দোকানপাট খোলা হয়নি তেমন, শুধুমাত্র ঔষধ ও খাবার দোকানগুলো বাদে। ভালই লাগলো জামাত শিবিরের হরতাল বিফল হওয়ায়! তারপরও মানিকগঞ্জে সহিংসতায় মৃত্যুর খবরে মন খারাপ হল এই ভেবে ওদের ফাঁদে পড়ে নিরীহ মানুষও প্রাণ হারায়!

ব্লগারদেরকে জনসাধারণের প্রতিপক্ষ হসেবে দাঁড় করিয়ে এই গণজাগরণকে বিনষ্ট করাই ওদের প্রধান লক্ষ্য। যত অপচেষ্টাই চলুক সৃজনশীল কোন কিছুকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়, ওরাও পারবে না। ব্লগও একটা যুদ্ধক্ষেত্র। ব্লগে লিখেই ওদের প্রতিহত করতে হবে! এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সব ব্লগারদের আজ ঐক্যবদ্ধ! সেই সাথে আন্দোলন কর্মসূচী ঢাকার বাইরে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার যে কর্মসূচী নেয়া হয়েছে তা সফল হোক।

লক্ষ শহীদের অর্জিত এই এই স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা আর কোন যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধীদের দেখতে চাই না। জামায়াতে ইসলামীর ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ হোক। আন্দোলন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিন শেষ হোক। এ যুদ্ধ কোন ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, প্রতিপক্ষ প্রথম থেকেই অত্যন্ত সুস্পষ্ট!

আমরা সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ বিচার চাই। লাল-সবুজের এই বাংলায় একাত্তরের মীরজাফর রাজাকার-আলবদরদের কোন ঠাঁই নাই!

পোস্টটি ৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ধূসর's picture


জয় বাংলা...

আরাফাত শান্ত's picture


লাল-সবুজের এই বাংলায় একাত্তরের মীরজাফর রাজাকার-আলবদরদের কোন ঠাঁই নাই!

মীর's picture


আন্দোলনকে ভিন্নধারায় প্রবাহিত করার পলিটিক্যাল ম্যানেজমেন্ট। মাহমুদুরকে ধরে কাঁচা চিবিয়ে ফেলতে পারলে আমার আক্রোশ কিছুটা প্রশমিত হতো। এই লোকের নেক্সট সাত জেনারেশন যে এরে গালি দিবে, সেটা কি এই লোক জানে?

জেবীন's picture


লক্ষ শহীদের অর্জিত এই এই স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা আর কোন যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতা বিরোধীদের দেখতে চাই না। জামায়াতে ইসলামীর ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ হোক। আন্দোলন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার দিন শেষ হোক। এ যুদ্ধ কোন ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, প্রতিপক্ষ প্রথম থেকেই অত্যন্ত সুস্পষ্ট!
আমরা সকল যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ বিচার চাই। লাল-সবুজের এই বাংলায় একাত্তরের মীরজাফর রাজাকার-আলবদরদের কোন ঠাঁই নাই!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Sad

তানবীরা's picture


লাল-সবুজের এই বাংলায় একাত্তরের মীরজাফর রাজাকার-আলবদরদের কোন ঠাঁই নাই!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture

নিজের সম্পর্কে

খুব সাধারণ মানুষ। ভালবাসি দেশ, দেশের মানুষ। ঘৃণা করি কপটতা, মিথ্যাচার আর অবশ্যই অবশ্যই রাজাকারদের। স্বপ্ন দেখি নতুন দিনের, একটি সন্ত্রাসমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের।