ইউজার লগইন

নিভৃত স্বপ্নচারী'এর ব্লগ

পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে

বিকেল পাঁচটায় অফিস থেকে বের হয়ে এলাম। ফার্মগেট এসে মনে হল আজ রিকশা করে বাসায় ফিরলে কেমন হয় ! তেজগাঁও কলেজের সামনে এসে কয়েকটা রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করতে অল্প বয়সী একটি ছেলে মিরপুর যেতে রাজি হওয়ায় উঠে পড়লাম।
আকাশে বেশ মেঘ জমেছে। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের মাথায় এসে মনে হল যে কোন মুহূর্তে বৃষ্টি নামবে। রিকশাওয়ালা ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলাম- এই পর্দা আছে ?
ছেলেটা হেসে জবাব দিল- পর্দা নিতে ভুইলা গেছি। হুডটা তুলে দিল। ইতিমধ্যে বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করল। সংসদ ভবনের মোড়ে আসতেই প্রায় ভিজে গেলাম।
হঠাত মনে হল অর্ধেক ভিজে লাভ নেই আজ পুরা পথটাই বৃষ্টিতে ভিজি ! অনেক দিন তো বৃষ্টিতে ভেজা হয় না ! ছেলেটিকে বললাম- এই, হুডটা নামিয়ে দে, আজ বৃষ্টিতে ভিজবো।
-ছেলেটি হেসে বলল- অসুখ করবে না !
-তুই যে ভিজছিস !
-আমগো তো ভেজার অভ্যাস আছে।

বাবা, আমার প্রিয় বাবা

baba.jpg
ব্লগের প্রথম পাতায় একটি পোস্ট থাকতে আরেকটি পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা আসলে ছিল না। বাবা দিবসে আজ বাবার কথা খুব মনে পড়ে গেল, যদিও বাবাকে মনে পড়ার জন্যে কোন বিশেষ দিবসের প্রয়োজন হয় না। লেখাটি শেষ করে তাই মনে হল সবার সাথে সেয়ার করি।

খুব ছেলেবেলায় আমি আমার মাকে হারাই। মা’র চেহারা কেমন ছিল মনে পড়ে না আমার। সবার কাছ থেকে তাঁর সম্পর্কে শুনে শুনে মায়ের একটি ছবি মনে মনে কল্পনা করে নিয়েছিলাম। মা না থাকাতে বাবাই ছিলেন আমার সব, তিনি একাধারে বাবা ও মায়ের দায়িত্ব পালন করতেন। ফুপু, মামা, খালাদের কাছ থেকেও যথেষ্ট আদর যত্ন পেলেও আমি সব সময়ই বাবার আদরের প্রত্যাশী ছিলাম। সৎ মা, সৎ ভাই বোনদের প্রতি তাঁর দায়িত্ব কর্তব্যের কোন কমতি না থাকলেও বাবার ভালবাসা মাপার যদি কোন যন্ত্র থাকতো, তাহলে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি সবার প্রতি তাঁর ভালবাসার চেয়ে আমার প্রতি ভালবাসার পরিমান অবশ্যই বেশী হত। বাবার কাছে মার তো দূরের কথা, কখনও বকা খেয়েছি বলে আমার মনে পড়ে না।

ভোরের শিশির কণা

রঞ্জুর বাসা থেকে বাস স্ট্যান্ডের দূরত্ব খুব বেশী নয়, এটুকু পথ পায়ে হেঁটেই যাওয়া যায়। ঘড়ির কাঁটা ধরে রোজ সকালে একই পথ ধরে ওর যাওয়া আসা। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তাটি বেশ কয়েকটি বাঁক নিয়ে বড় রাস্তায় পড়েছে, তারপর পাঁচ মিনিট হাটলেই বাসস্ট্যান্ড!

আজ একটু দেরী হয়ে যাওয়ায় খুব তাড়া ছিল রঞ্জুর। বাসা থেকে বেড়িয়ে গলির দ্বিতীয় বাঁকটির শেষ মাথায় নুরুল ডাক্তারের বাড়ি পার হয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে, হঠাৎ লম্বা বেণী দুলিয়ে উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণা এক উচ্ছলা ষোড়শী ডাক্তার বাড়ির ডান দিকের গলি থেকে দমকা হাওয়ার মত এসে রঞ্জুর সামনে উদয় হল। মেয়েটি ভাঁজ করা একটি কাগজ রঞ্জুর হাতের মুঠোয় ধরিয়ে দিয়ে ঝড়ের বেগে দৌড়ে পালাল যেদিক দিয়ে এসেছিল ঠিক সেভাবে উল্টা দিকে। ঘটনার আকস্বিকতায় রঞ্জু তো অবাক! কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে না পেরে বেশ কিছুক্ষণ হতবিহ্ববল হয়ে ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকার পর চারিদিকে তাকিয়ে আশেপাশে কেউ নেই দেখে স্বস্তি বোধ করলো। পরে পড়বে ভেবে কাগজটি প্যান্টের পকেটে ভরে হাঁটতে লাগলো বাসস্ট্যান্ডের দিকে।