ইউজার লগইন

সর্বদলীয় ধুমপায়ী জোট

অবিশ্বাসীদের তুলনায় পৃথিবীতে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা্ অনেক অনেক বেশী, দুরের নক্ষত্রের মহাকর্ষ অভিকর্ষ পৃথিবীর সামান্য কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে না এই বৈজ্ঞানিক সত্যে বিশ্বাসী মানুষও পত্রিকার পাতা উল্টে ভাগ্যগননা দেখে, বছর শেষে " এ বছরে আপনার ভাগ্য কেমন যাবে" পত্রিকার পাতা উল্টে বাৎসরিক ভাগ্য পরিসংখ্যানকে আমলে নেয়। অধিকাংশ মানুষই নিজের রাশি সম্পর্কে জানে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো বিবৃতি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্বাস করে কিংবা তার উপরে আস্থা স্থাপন করতে চায়।

ভাগ্যগননায় বিশ্বাস যতই অদ্ভুতুড়ে হোক না কেনো অদৃষ্টে মানুষের বিশ্বাস স্থাপন করতে চাওয়ার ব্যাধি থেকে অধিকাংশ মানুষই মুক্ত নয়। এইসব বিশ্বাসী মানুষের অধিকাংশই আমার পরিসংখ্যানের সত্যে বিশ্বাস করে, তাদের জন্য চীনা যৌনশক্তিবর্ধক মলম আর জরিবুটির বিক্রী বাড়ে ফুটপাতে, তাদের জন্যই কোষ্ঠিবিচার, তাদের জন্যই জন্ম তারিখ দেখে, সংখ্যা গণনা করে বিবাহরীতি এখনও বহাল তবিয়তে টিকে আছে।

শরীরের কোথায় তিল থাকলে কি ঘটবে, কোথায় জরুল থাকলে কি হবে, হাতের রেখায় কোন দাগ বাঞ্ছিত আর কোন দাগ অবাঞ্ছিত এইসব সংবাদও তাদের কল্যানেই পত্রিকার পাতায় আসে, তাদের কল্যানেই গুজব আর অন্ধবিশ্বাসের পাল্লা ভারী হতে থাকে, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে বলেই বিনাপ্রশ্নে সবকিছু মেনে নেওয়ার আমার আপত্তিটুকু বহাল থাকে।

বৈশ্বিক তামাকবিরোধী প্ররোচনার একটা বড় অংশ তামাকজাতীয় পণ্য ব্যবহার করলে ক্যান্সার হয় এই বিশ্বাসের উপর টিকে আছে। পরিসংখ্যান বলেছে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত ৫৫ শতাংশ মানুষের ধুমপানের অভ্যাস আছে, সুতরাং পরিসংখ্যানের সত্যতা বলছে ধুমপান করলে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে কিন্তু প্রতি ১০০ জন ফুসফুসের ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের অন্য ৪৫ জন কেনো ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হলো এই বাস্তবতা নিয়ে তারা প্রশ্ন উত্থাপন করে না।

পরিবারের কোনো সদস্যের ক্যান্সার হলে অন্য সদস্যদের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এই পরিসংখ্যানের বাইরে কোন উপাদানটা আসলে এর জন্য দায়ী সেটা সঠিক ভাবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া হয়তো চলমান কিন্তু সেসব সম্পর্কে কোনো তথ্য আমার জানা নেই। একই ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়ক অন্যান্য অঙ্গের ক্যান্সারের প্রধানতম দায় সিগারেটের।

সিগারেট নিরব ঘাতক, ধুমপান নিষিদ্ধ করতে হবে এই নিয়ে প্রচারণা চালানো সহজ, আমাদের সামাজিক কাঠামোতে ধুমপানের সাথে সামাজিক সম্মানের প্রশ্নটাও জড়িত হয়ে পড়ায় এখানে ধুমপানের পক্ষে কোনো বিবৃতি দেওয়াটাও কঠিন। সে কারণে তামাকবিরোধী জোটের সংঘবদ্ধ প্রচারণার বিপক্ষে কোনো বিবৃতি দিতে আগ্রহী হবে না কোনো বুদ্ধিজীবী, তবে গত ৪ বছরে যখন সিগারেটের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হলো তখন কোনো বুদ্ধিজীবীর বিবৃতির অপেক্ষা না করে আমার নিজেরই ধুমাপনের সপক্ষে কিছু বিবৃতি দিতে আগ্রহ হলো।

উপমহাদেশে প্রর্থণার অনুসঙ্গ হিসেবে মদ গাঁজা খাওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য বিদ্যমান, এখানে পূজার উপাচার মাদক,
করণবারি পানে বাধা নেই কোনো, মধ্যপ্রাচ্যে ইসলাম বলিষ্ঠ হওয়ার আগে মদপানে তেমন কোনো বিধিনিষেধ ছিলো না, তারা তামাক হয়তো পেতো না, ৪ শতাব্দি আগেও হয়তো তামাকজাত পণ্যের বৈশ্বিক বিস্তার সম্ভব হয় নি, ইউরোপের বাণিজ্যবহর দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে পৌঁছানোর পর হয়তো মানুষ তামাকে অভ্যস্ত হয়েছে এবং ধীরে ধীরে ধুমাসক্ত হয়েছে।

কিন্তু এখন বিশ্বের ৬০০ কোটি মানুষের ভেতরে অন্তত ১৫০ কোটি মানুষ ধুমপায়ী, এটা বিশাল একটা সংখ্যা, এবং তামাকবিরোধী প্রচারণা বলিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে তারা কোণঠাসা হয়েছে, বাসস্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন,রেস্টুরেন্ট এমন কি মাঠে ময়দানেও ধুমপান নিষিদ্ধ হয়েছে, চুপচাপ রাস্তার কোণায় দাঁড়িয়ে সিগারেটের শেষ টান দেওয়ার সুখও ধীরে ধীরে মলিন হয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক প্রচারণায় ধুমপায়ীদের সামাজিক অপোরাধীতে পরিণত করবার প্রক্রিয়াটা শেষ, এখন ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ মাদকে পরিণত হবে সেটা।

বাজেটের আগে তিনটি সভা করে তামাকবিরোধী প্রচারণা চালানো হয়েছে, সেখানে ১০ জন এমপি সাক্ষর করে সিগারেটের উপরে ট্যাক্স বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে, বাংলাদেশের প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ৩৩ শতাংশ ধুমপায়ী, সিগারেটের উৎপাদন ও বিপনন খরচের তিনগুন ট্যাক্স দিয়ে আমাদের ধুমপানের বিলাসটুকু হয়তো ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে।
২০০৭ সালের ৪ টাকার বেনসন আজ দেখলাম ৭ টাকা, ২০০৬ সালে ৩ টাকা ৫০ পয়সায় যা কেনা যেতো ২০১১ তে সেটা কেনা সম্ভব না। প্রতিটা সিগারেটের উপরেই ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে এবং সেটা নিয়ে বিরুদ্ধ সামাজিক প্রতিক্রিয়ার কারণে কেউই এই অন্যায্য করারোপের বিরুদ্ধে কিছু বলছে না।
সবাই উপদেশ দিবে সিগারেট না খেয়ে কলা কিনে খাও, কিন্তু কলা খেলে কি সিগারেটের তৃপ্তি পাওয়া যায়? কি লাভ এতে পরিবেশ দুষণ হয়, সেকেন্ডারি স্মোকিং এ শ্বাসকষ্ট বাড়ে মানুষের, ঢাকা শহরের যানবাহনের কালো ধোঁয়া আর আবাসিক এলাকায় থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক কারখানার বর্জ্য এবং দুষণে শহরের বাতাসে যে পরিমাণ দুষণ সেটার সামান্য অংশ বাড়ায় সিগারেট, কিংবা হয়তো সেটা বাড়ায়ও না তেমনভাবে

নদীতে রাসায়নিক বর্জ্য ফেলে শহরের আশেপাশের নদীগুলো মাছশুণ্য, প্লাস্টিক আর অপচনশীল বর্জ্যে সজীব জলে প্রাণের ছোঁয়া নেই, শহরের সাপ্লাইয়ের পানির সাথে সুয়ারেজ বর্জ্য মিশছে, সেসব প্রতিকার না করে মহান এমপি আর এনজিওচোদারা সিগারেট নিয়ে তিন তিনটা সেমিনার চুদিয়ে দিলো বিষয়টা ভাবলেই মেজাজটা খারাপ হচ্ছে।
শহরের রাস্তায় বের হলেই তাবত পরিকল্পনাকারীদের চোদ্দগুষ্টিকে বিভিন্ন ভাবে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে, সেসব ক্ষোভের সাথে সদ্যবৃদ্ধি পাওয়া সিগারেটের দাম মোটামুটি বিক্ষুব্ধ করেছে আমাকে। সিগারেট দাম বাজেট হলেই বাড়াতে হবে, ব্যাটের রাজস্ব বাড়বে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে, কিন্তু প্রতি নির্বাচনী এলাকার তিন ভাগের একভাগ মানুষ যদি সিগারেটজনিত ক্ষোভে বাজেটওয়ালাদের বিরুদ্ধে ভোট দেয় তাহলে যেকোনো সরকারই সিগারেট মুফতে খাওয়াতে আগ্রহী হবে। সিগারেটখোর বিশাল একটা ভোট ব্যাংক বাংলাদেশের, তাদের সিদ্ধান্তের উপরে সরকারের টিকে থাকা এবং পরবর্তী সরকার গঠনের সম্ভবনা জড়িত। বিভিন্ন ওয়ার্ড আর স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে সিগারেটখোরদের প্রতি বিরোধীদলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। আমাদের অসন্তোষ এভাবেই প্রকাশ করতে হবে, আমাদের সম্মিলিত শক্তি এনজিওচোদাদের চেয়ে অনেক বেশী, তাদের পরিকল্পনাকমিশনের সাথে সদ্ভাব থাকতে পারে কিন্তু আমরা সবাই সিগারেটতুতো ভাই, ভাইয়েরা আসুন আমরা সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাই ব্যালটে।
পরিসংখ্যানের সত্যাসত্য বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে যাওয়াটা বিব্রতকর, বিশেষত যখন পরিসংখ্যান বলছে বলেই

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


ঢাকা শহরের যানবাহনের কালো ধোঁয়া আর আবাসিক এলাকায় থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক কারখানার বর্জ্য এবং দুষণে শহরের বাতাসে যে পরিমাণ দুষণ সেটার সামান্য অংশ বাড়ায় সিগারেট, কিংবা হয়তো সেটা বাড়ায়ও না তেমনভাবে

দূষণ যেহেতু বন্ধ করতে পারে নাই, তাই সিগারেট হালাল হইতে হবে?

নদীতে রাসায়নিক বর্জ্য ফেলে শহরের আশেপাশের নদীগুলো মাছশুণ্য, প্লাস্টিক আর অপচনশীল বর্জ্যে সজীব জলে প্রাণের ছোঁয়া নেই, শহরের সাপ্লাইয়ের পানির সাথে সুয়ারেজ বর্জ্য মিশছে, সেসব প্রতিকার না করে মহান এমপি আর এনজিওচোদারা সিগারেট নিয়ে তিন তিনটা সেমিনার চুদিয়ে দিলো বিষয়টা ভাবলেই মেজাজটা খারাপ হচ্ছে।

নদীর পানি ঠিক নাই, সাপ্লাইয়ের পানি ঠিক নাই, তাই সিগারেট নিয়া সেমিনার করা যাবে না?

তানবীরা's picture


Big smile Big smile Big smile

রাসেল আশরাফ's picture


দূষণ যেহেতু বন্ধ করতে পারে নাই, তাই সিগারেট হালাল হইতে হবে?

হ।

নদীর পানি ঠিক নাই, সাপ্লাইয়ের পানি ঠিক নাই, তাই সিগারেট নিয়া সেমিনার করা যাবে না?

চাঁদবেনে's picture


'আমরা সবাই সিগারেটতুতো ভাই, ভাইয়েরা আসুন আমরা সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানাই ব্যালট'----স্যলুট, জোটে শরিক হতে চাই...

রাসেল's picture


যদি সিগারেটের বিরুদ্ধযুক্তি হয় এইটা পরিবেশ দুষণ করে তাহলে এইটার বাইরে আসলেই বক্তব্য নাই, আপনের যদি কোনো বক্তব্য থাকে তাহলে সেইটা উপস্থাপন করতে পারেন। ৯৯৯টাকা ৯৯ পয়সার হিসাব ফেলায়া আপনি ১ পয়সা কেন মাটিতে পড়লো সেইটা নিয়া হাঙ্গামা করেন তাহলে এর বাইরে কি বলা যায়।

মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতার মাণ ধুমপানের সাথে সাবলীলভাবে মিশে না, সমস্যা এইখানেও, আপনার খাদ্যে ভেজাল, আপনার বাতাসে ভেজাল, আপনি বিল্ডিং কোড মানতেছেন না, আপনি নদী ভরাট কইরা হাউজিং এস্টেট বানাইতাছেন, দেশের পরিবেশের বিপর্জয় ঘটাইতাছেন টাকার লোভে, আর সব ঝাল ঝাড়তেছেন ২ টাকার সিগারেটের উপরে এইটা কেমন ন্যায় হইলো।

সিগারেটের নিকোটিন বিষাক্ত জিনিষ মাইনা নিলাম, মাইনা নিলাম পরিসংখ্যান বলতেছে ফুসফুসের ক্যান্সারের সাথে নিকোটিনের যোগাযোগ আছে, কিন্তু বাকি ৪৫ জন যারা অধুমপায়ী, যারা সেকেন্ডারী স্মোকিংয়ের আওতায় নাই, তাদের ফুসফুসের ক্যান্সারের দায় ধুমাপয়ীদের উপরে বর্তায় কারণ তারা পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সিগারেট টানতেছে, এইটা যুক্তি হিসাবে ধোপে টিকে না।

আর পরিবেশ দুষণ নিয়ে মাথাব্যাথার পরিমাণটা গুরুত্ব বিবেচনা কইরা হওয়া উচিত, ফান্ডিং বিবেচনা কইরা না। এইসব স্বাস্থ্যবটিকাকথাবার্তা কইলে ডোনার বেশ কিছু টাকা দিবো বইলে আমি ''আধুনিক'' সদস্য হইয়া যাবো এইটা নীতির কথা না।

আপনি অধুমপায়ী হইলে আপনার মুখের উপরে আমি ধুয়া ছাড়বো না, সেইটা আপনি পছন্দও করবেন না। কিন্তু আপনের অপছন্দ আপনি আমার উপরে কৌশলে চাপাইতে চাইবেন এইটাই বা আমি মানবো কেন?

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


৯৯৯টাকা ৯৯ পয়সার হিসাব ফেলায়া আপনি ১ পয়সা কেন মাটিতে পড়লো সেইটা নিয়া হাঙ্গামা করেন তাহলে এর বাইরে কি বলা যায়।

আপনে দেখলেন ১ পয়সার যুক্তি, আর আমি দেখলাম "মন্তু চোরায় চুরি করলে কিছু হয় না, আমি ছুরি চালাইলে ক্যান কিছু হইবো" মার্কা যুক্তি।

...কিন্তু বাকি ৪৫ জন যারা অধুমপায়ী, যারা সেকেন্ডারী স্মোকিংয়ের আওতায় নাই, তাদের ফুসফুসের ক্যান্সারের দায় ধুমাপয়ীদের উপরে বর্তায় কারণ তারা পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সিগারেট টানতেছে, এইটা যুক্তি হিসাবে ধোপে টিকে না।

যুক্তি হিসাবে টিকবে কিনা সেইটা তো আপনি কইলেই হইলো না। দুনিয়ার এক মাথায় বন উজাড় করতাছে দেইখা আরেক মাথায় আজকে পুরা একটা দেশ ডুইবা যাইতাছে সাগরের তলে। সেইখানেও নিশ্চয়ই এরকম যুক্তিবিদ কেউ ছিল, যে কইছিল আমার এইখানে গাছ কাটলে ওই মাথার দ্বীপ ডুববে এই যুক্তি ধোপে টিকে না।

আপনি অধুমপায়ী হইলে আপনার মুখের উপরে আমি ধুয়া ছাড়বো না, সেইটা আপনি পছন্দও করবেন না। কিন্তু আপনের অপছন্দ আপনি আমার উপরে কৌশলে চাপাইতে চাইবেন এইটাই বা আমি মানবো কেন?

নেশার টানের তুলনায় পরিসংখ্যান আপনার কাছে খেলো লাগতে পারে, অন্যদের কেইসটা সেইরকম না। সুতরাং খাইবেনই যখন... খান, কিন্তু ইটের ভাটার মতো ধুঁয়া না ছাড়লেই তো হয়। সিগারেটের ধুঁয়া-ছাই সব শুদ্ধা গিলে খাইতে পারলে কোনো অধূমপায়ীর সমস্যা হবে না। সেইটা ট্রাই করেন।

রাসেল's picture


সমস্যা হইলো সামাজিক ধারণাটুকু, আপনে অধুমপায়ী, সেইটা আপনে সামাজিক কিংবা পারিবারিক চাপে, কিংবা আপনি কখনও আগ্রহ বোধ করেন নাই ধুমপানের, সেইটা আপনার ব্যক্তিগত বিবেচনা কিন্তু সেইটার সাথে ভালোমন্দবোধটাকে মিলায়া ফেলাটা আপত্তিকর।

আপনি অধুমপায়ী বলে আপনি ভালো মানুষ, ভালো পোলা, এই সামাজিক স্বীকৃতিটুকু আপনার অবচেতনেই ধুমপায়ীদের একটা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে, ওরা সিগারেট টানে, ওরা খারাপ ছেলে, ওদের সাথে সাবধানে মিশবা, ওরা সিগারেট দিয়ে শুরু করে তার মর গাঞ্জা মদ খায়, তারপর ওরা বখে যাওয়া ছেলে হয়ে যাবে, এইটা টাইপো কিংবা সরবজনস্বীকৃতি সামাজিক প্রবাদটুকুর বাইরে থেকে ভাবতে শিখতে পারলে আলোচনা সহজ।
প্রথমেই আপনি যদি ধরে নেন আপনি ভালো মানুষ যারা ধুমপায়ী তারা সবাই বদ বদমাইশ, তাহলে আলোচনায় একটা প্রেজ্যুডিস চলে আসবে, সেই প্রেজ্যুডিস কাটিয়ে উঠে আলোচনার অংশগ্রহন করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না।

ধুমপানকে সামাজিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা বাংলাদেশের সমাজে সহজ, এখানে মেয়েদের দিকে স্বাভাবিক তাকানোটাও বর্তমানে অপরাধ চিহ্নিত করার পর্যায়ে চলে গেছে, সুতরাং এখানকার সামাজিক ভাবনাকাঠামোর মধ্যে ভালো মন্দ, শুভ অশুভ ব্যপারস্যপার আমার নিজের পছন্দ না, যারা অধুমপায়ী তাদের জন্য আমার কোনো সহানুভুতি কিংবা অলিখিত শ্রদ্ধাবোধও নাই। আমি আমার জীবনযাপনের সঙ্কট কিংবা আমার জীবনযাপনের অসুবিধা নিয়ে বিক্ষুব্ধ হইতে পারি, আমার মনে হইতেই পারে এইসব নাগরিক সমস্যার দিকে নজর না দিয়ে এনজিওচোদারা অহেতুক সিগারেট টানার দায়ে আমাকে কিংবা সকল ধুমপায়ীকে সামাজিক অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইতেছে, সেইটা আমি প্রতিবাদ করবো, কারণ আমি কারো গলায় ছুড়ি ধইরা কাউরে সিগারেট টানতে দেখি নাই, তারা নিজেদের সামর্থ্যমতো সিগারেট টানে, সেইটা টাইনা যারা আনন্দ পায় সেইটা তাদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ,

আপনি চালের দাম বাড়লে যদি আন্দোলনে যাইতে পারেন সেইটার ভোক্তাশ্রেণীর অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় এইখানে আপনার বিক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ কি? প্রথমত আপনি ধরেই নিতেছেন সিগারেটের পিছনে খরচ একতা বিলাসিতা, একটা অপচয়ের খাত, এইটা নিয়া কেউ কথা বললে আপনার যদি মনে হয় ও শালা অপরাধ করতেছে আবার বড় গলায় কথা কইতাছে তাহলে নিজের সেই ধারণারে আগে দমন করতে শিখেন, সেইটা করতে পারলে প্রেজ্যুডিসের বাইরে গিয়া বড় পরিসরে আলাপ করবার যোগ্যতা অর্জন করবেন। পরবর্তী মন্তব্য করবার আগে নিজের ভেতরে ঘুইরা দেখেন কি কি কারণে আপনার মনে হইতাছে এইসব কথা, সেইখানে যদি সামাজিক প্রেজ্যুডিস থাকে তাহলে সেইটা থেইক্যা আলোচনা আগাইবো না।

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


সামাজিক অপরাধী হিসাবে ধূমপায়ীদের চিহ্নিত করা অযৌক্তিক, এইখানে আপনার সাথে আমিও একমত। সিগারেটখোরদের খারাপ পোলা বলার মতো প্রিজুডিসও আমার নাই। এই দুই কেইসই আমার আছে আন্দাজ কইরা আপনি বয়ান করলেন, কিন্তু আমি পরিবেশ ইস্যু কিংবা স্বাস্থ্য ইস্যুটাই হয়তো বড় করে দেখতাছি সেটা আন্দাজ করলেন না, খানিকটা উইশফুল থিঙ্কিং হয়া গেল না?

পরিবেশ কিংবা স্বাস্থ্য ইস্যু তুললে আমি বারবারই ধূমপান বিরোধী। চলতে পথে আমার নাকে অন্য কারো বিলাসিতার ধুঁয়া লাগে, আমি সেটার বিরোধী। সুতরাং সেইক্ষেত্রে দাম বাড়াইলে এইটারে অযৌক্তিক বইলা মনে হয় না। ধূমপায়ী নেশার টানে স্ট্যাটিসটিক্স মানুক আর না মানুক, আমি মানি। কার্বাইড কিংবা ফরমালিনের(ধরে নিছি এদের অন্য কোন ভাল ব্যবহার নাই) উপর ট্যাক্স বাড়াইলে যেমন আমার সমর্থন থাকবে, সিগারেটের উপর বাড়াইলেও সমর্থন থাকবে।

এমনে চিন্তা করেন যে কারো গলায় ছুরি ধরতাছেন না, কিন্তু পাশের মানুষটারে স্লো পয়জনিং করতাছেন। এবং করার পরে বলতাছেন, "কই কিছু তো হয় না...কিসের কি স্ট্যাটিসটিকস!" দুদিন পরে ফরমালিনের মাছ বিক্রি করনেওয়ালারা বলবে ফরমালিন মাছে দিলে মানুষের কিছু হয় না, স্ট্যাটিস্টিকসের সব ভুয়া কথা। কার্বাইডের আম-কলাওয়ালাও লাইনে আছে, আপনাদের পিছে।

রাসেল's picture


প্রেজ্যুডিস নাই কইয়া বিশাল একটা প্রেজ্যুডিসের খেলা দেখাইলেন, ফরমালিন ব্যবসায়ী, কার্বাইডে ফল পাকানো ব্যবসায়ীদের সাথে ধুমপায়ীর তুলনাটাও একটা প্রেজ্যুডিস, য়াপনে মুখে কইতাছেন আপনি ধুমপায়ীদের সামাজিক অপরাধী মনে করেন না আর তাদের সাথে যাদের তুলনা দিতাছেন তারা সবাই সামাজিক অপরাধী, এই বিষয়টারে আপনি যদি এখনও বুঝতে না পারেন তাইলে আপনেরে প্রেজ্যুডিস নিয়া কথা কওনের মানে নাই।

আপনেও কিছু পূর্বানুমাণ কইরা নিছেন, ধুমপায়ী মানেই পাশের লোকটারে নাকে ধোয়া ছাড়া মানুষ, ধুমপায়ী মানেই সে আশেপাশের মানুষরে স্লো পয়জনিং করতাছে, এইগুলা বৃহতার্থে ধুমপায়ীরে অপরাধী হিসেবে সব্যস্ত করা, আপনে বিচার করতাছেন না শুধু, একেবারে রায় দিয়া দিতাছেন, এবং সেইটা যে একটা রায় এইটা মাইনা নিতেও আপনার বিশাল একটা সংকট আছে

ধুমপায়ীদের পরিবেশ দুষণের দায়ে অভিযুক্ত করার আগে পরিবেশ দুষণে তাদের সামগ্রীক অবদান কতটুকু পরিবেশ ইস্যু আর স্বাস্থ্য ইস্যু নিয়া কথা কওনের সময়টাতে এইটাও তো ভাবতে হবে ? আপনে বিজ্ঞানের পোলা ধইরা নিতাছি, নাইলে পুরা বক্তব্যটাই সহজ ভাষায় পুনরায় কইতে হইবো

একটা হাইওয়ে তার আশেপাশের ৫ মাইল এলাকার তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী পর্যন্ত বাড়াইতে পারে, অপরিকল্পিত নগরাওনের ফলে নগরের উপকণ্ঠে স্থাপিত শিল্প কারখানা তার আশেপাশের ১৬ মাইল এলাকার তাপমাত্রা বাড়াইতে পারে ৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট। একই সাথে যোগ করেন জলাভূমি দখল কইরা এপার্টমেন্ট হাউজিং প্রকল্প চালানির বিলাসিতা, সেইখানে সুখের নিবাস গড়তে উদগ্রীব মানুষদের আপনি অপরাধী কইবেন না, কারণ তারা আপনার পরিচিত পন্থার পরিবেশের ক্ষতি করতাছে না। ক্ষতি করতাছে সব ধুমপায়ীর দল, তারা পরিবেশের গোয়া মাইরা ফাকাফাকা কইরা দিতাছে।

আপনে উন্নয়নের নামে পরিবেশের চিরস্থায়ী ক্ষতি করতে আগ্রহী, সেইটা থেইকা মুখ ফিরায়া আপনি চল ফিরে যাই গ্রামে, আমাদের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চাই না, আমরা তাতের কাপড় গায়ে দিয়ে জীবনযাপন করবো এই পরিবেশ বান্ধব মাধ্যমে যাইবেন না, আপনি চাষের জমিতে কেমিক্যাল সারের ব্যবহার নিয়া কথা কইবেন না, ওইসব ব্যবসায়ীদের আপনি সামাজিক অপরাধী চিহ্নিত করবেন না, কারণ আপনের কাছে তথ্য নাই কিংবা তাদের সামগ্রীক ক্ষতির পরিমাণ নিয়া আপনার মাথাব্যাথা নাই। আপনে সামনে কুকুর পাইলে র‍্যাবের প্রতিশোধ নিবেন কুকুরে হোগায় লাত্থি মাইরা, সেইটারে প্রেজ্যুডিস কইলে কইবেন আমি ভালো পোলা কুকুরের হোগায় লাত্থি মাইরা আমি তো প্রতিবাদ করছি আপনে কি বাল ফেলাইছেন।

১০

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


আপনেও কিছু পূর্বানুমাণ কইরা নিছেন, ধুমপায়ী মানেই পাশের লোকটারে নাকে ধোয়া ছাড়া মানুষ, ধুমপায়ী মানেই সে আশেপাশের মানুষরে স্লো পয়জনিং করতাছে

আপনি এমন কি উপায়ে সিগারেট খান যে আশেপাশে ধোঁয়া না ছাইড়াও পারেন? ধুঁয়া-ছাই সবসহ গিল্যা ফেলেন? নাকি এখন কইতে চান যে আপনি যেই ধুঁয়া ছারেন সেইটা পরিবেশসম্মত, কোনো পয়জনই নাই; স্লো পয়জনিং এর প্রশ্নই আসে না!

কার্বাইড আর ফরমালিনওয়ালাদের লগে মিলাইলাম দেইখা আমারে প্রেজুডীসওয়ালা বানায়া দিলেন, ধূমার সাথে অমিলটাও কন। শুনি। নিকোটিনের উপকারিতা নিয়া কেউ কিছু বলে না।

আর শেষে আইসা ঘুইরা ফিরা আপনি প্রথম কমেন্টের লজিকেই ফিরা গেলেন। নগরায়ন বন্ধ হয় না, কেমিক্যাল বন্ধ হয় না; তাই সিগারেট চলবো। লজিক ঠিকই আছে। যেইদেশে খুনের বিচার হয় না, সেইদেশে মোড়ে মোড়ে চুরি-ডাকাতি-ধর্ষণ হওয়া উচিৎ।

(আপনার গোয়া কিংবা হোগার প্রতি আসক্তি মনে হয় নিকোটিনের চাইতে বেশি। আমি আবার ভাল পোলা তো...কতোক্ষণ টিকতে পারি দেখা যাক।)

১১

কিছু বলার নাই's picture


সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং সমস্যা বুঝলাম। কিন্তু সেইটা কি ট্যাক্স বাড়াইয়া সমাধান করা সম্ভব? সিগারেটের দাম বাড়লে আমি সিগারেট খাওয়া বন্ধ কইরা দিব? সাধ্যের বাইরে বাড়লে ডাউনগ্রেড করুম হয়তো, তখন বরং বাজে সিগারেটের ধোঁয়া দিয়া সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিংয়ের শিকার হবেন আপনে। এইটার জন্য পাবলিক প্লেসে সিগারেট টানা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা করার জন্য আন্দোলন চলতে পারে, সিগারেট টানার জন্য প্রত্যেক পাবলিক প্লেসে আলাদা কর্নার করার জন্য আন্দোলন করার যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু ট্যাক্স বাড়ানোতে আসলে ননস্মোকারদের কি লাভটা হইল? 'খুব ভাল হইছে, এখন বেশি পয়সা দিয়া কিননা খা'...এই ধরনের একটা আজব সন্তুষ্টি বাদে আর তো কোন ফায়দা দেখতে পাইনা ননস্মোকারদের।

১২

রাসেল's picture


আপনেও একই লাইনে ঘুরতাছেন, সিগারেটের ধোঁয়া আপনার মুখের সামনে থেকে সরতেছে না। আপনে ধইরাই নিতাছেন যে সিগারেট টানে সে অতিআবশ্যিক ভাবেই আপনার মুখ বরাবর সেইটা ছাড়ে, এইটা মেয়েলী ধাঁচের যুক্তি হইলেও সেইটা কওয়া যাইবো না।

নিকোটিনের ভালো ব্যবহারও আছে, সেইটা আপনে জানেন না কইয়া অযথা নাদান সাজবার প্রয়োজন নাই। আপনি মেয়েলী গীত গাইলে আপনার যদি বাড়তি কোনো সুবিধা হয় তাইলে আপনেরে তাল গাছ দিয়া দিতে পারি,

ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করতে বলছি, আপনি ধুমপায়ীরে সামাজিক অপরাধী চিহ্নিত করবার আগে লিস্টিতে যারা আছে তাদের বিষয়েও কথা কইতে অনুরোধ করছি। সেইটা আপনার পছন্দ হইতাছে না, কিন্তু সেইটা তো বৈজ্ঞানিক সত্য, পরিসংখ্যানের চেয়ে বলিষ্ট বৈজ্ঞানিক সত্য মাইনা নিলে আপনার ভালোপোলা ভাবমুর্তি সংকটাপন্ন হইবো না।

এখন আপনেরে কোয়ান্টিটিভ এনালাইসিস দেখাইতে হইলে বিপদ- মানে ফিক্সেশন ওফ মাইন্ড এবং ফিক্সেশন ওফ ভিউস কাটায়া উঠা সম্ভব না, তারপরও মানুষ মানায়া নিতে শিখে, আপনি সেইটা শিখতেছেন না, এবং যৌক্তিক আলোচনায় আপনার প্রেজ্যুডিসটা উপলব্ধি করতে পারতেছেন না। এইটা আপনার উপলব্ধির সীমাবদ্ধতা, সেইটার প্রতিকার আমার জানা নাই।

আমি প্রথমে কইছিলাম ধুমপানের বিরুদ্ধে আন্দোলনটা বাংলাদেশে আরও বলিষ্ঠ হইছে কারণ এইখানে ধুমপান সামাজিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত, সেইটার বিভিন্ন প্রকাশভঙ্গি আছে, বিজ্ঞাপনেও এইরকম কিছু পানিপড়া দেওয়া আছে, সেই পানিপড়া লাইনে আপনি আছেন, হুমায়ুন আহমেদ আপনার ধোঁয়া আপনার ভিতরে ভরে রাখেন চিত্রনাট্য লিখবার সময় আপনার কথাই স্মরণ করছিলো মনে হয়, সেইটার বাইরে আসলে আপনি আসতে পারতেছেন না।
কারো মুখের উপরে ধোঁয়া ছাড়া অভব্য অসভ্য আচরণ, কিন্তু সেকেন্ডারী স্মোকিং এ আপনার ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট হইতে হইলে আপনার মুখের উপরে চৌদ্দ প্রহর কারো না কারো ধোঁয়া ছাড়তে হবে পর্যায়ক্রমে, আপনি যদি এমন স্মোকিং রুমে বইসা সিগারেট বিরোধি আলোচনা শুরু করছেন কইতে চান তাইলে তো আপনার সাথে কোনো কথা চলে না।

কথা হইলো একটা শহরের কিংবা একটা দেশের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটানোর জন্য ধুমপায়ীরা যথেষ্ট কি না কিংবা ধুমপায়ীদের পরিবেশ দুষণে যথেষ্ট পরিমাণ ভুমিকা রাখতে হইলে কি পরিমাণ ধুমপান করা প্রয়োজন, সেইটা কি একটা ২ লেন হাইওয়ের সমান ক্ষতি করতে পারবে? কথা হইলো পরিমাণগত ক্ষতির তুলনা করতে শিখা, ছোটোবেলা শিখছিলেন বলে অন্য সব কারণগুলারে মাইনা নিয়া ধুমপানকে অতি নগন্য একটা ভুমিকা দিতে অনাগ্রহী হইলে বলতে হয় তালগাছ আমার এই অবস্থান থেইকা আলোচনা হয় না।

দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপদ জৈবজ্বালানী ব্যবহারে বছরে পরিমাণ পরিবেশগত ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় ধুমপানের কারণে সেই পরিমাণ পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হইতে ১০০ বছর লাগবে, এইটা পরিবেশ দুষণের ন্যুনতম একটা পরিমাণ।

ধরেন আপনি যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাইতেছেন, রাজনৈতিক বক্তৃতা দিতাছেন, বিক্ষোভ প্রকাশ করতেছেন, সেইটা যে বাৎসরিক ক্ষতি করে ধুমপায়ীর অন্তত ২০০ বছর লাগাইয়া সেই পরিমাণ ক্ষতি করতে হবে । কিন্তু আশ্চর্য পরিহাসের বিষয় হইলো আপনি নিজের কান্ধে অপরাধ নিতে আগ্রহী না।
আপনি বিদ্যুৎ চাইবেন, চাইবেন নিরাপদ আশ্রয়, আপনি মাইল মাইল হাইওয়ে চাইবেন, আপনি দেশ জুড়ে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি চাইবেন, আপনি চাইবেন জেনেটিক্যালি মডিফায়েড উন্নত কৃষিপণ্য, আপনি চাইবেন পোল্ট্রিফিড, আপনি চাইবেন উন্নয়নের জোয়ার, সেইসবের সহযোগী পরিবেশ দুষণের দায়টা আপনি নিবেন না। কিন্তু যুপকাষ্ঠে উঠাইবেন ধুমপায়ীদের কারণ তারা পরিবেশ দুষণ করতেছে। এই দ্বিচারিতাকে প্রশ্ন করলে আপনি অনেক সবক দিবেন এবং আপনার এই অবস্থানকে প্রেজ্যুডিস কইলে আপনি মৃদু গোস্বাও করবেন।

আপনার অবগতির জন্য জানাই গোয়া আমার প্রিয়। হয়তো আমি পায়ুকামী, পায়ুর প্রতি আমার একটা তীব্ড় ভালোবাসা আছে, তবে অকাটমুর্খের সাথে এই পথে ভাবভালোবাসা করাটা কঠিন। সুতরাং আপনি নিজেকে নিরাপদ ভাবতেই পারেন।

১৩

মনির হোসাইন's picture


:bigsmile:পিলাচ । হাচা কথা Big smile । ক্যান যে অধূমপায়ীরা এই সহজ সরল কথাটা বুঝে না হুক্কা !

১৪

মেঘের দেশে's picture


হুক্কা হুক্কা

১৫

মাহবুব সুমন's picture


হুক্কা
সাতে আচি

১৬

রাসেল আশরাফ's picture


ধুমপান ছেড়ে দিন

ফুলের সুবাস নিন।

১৭

বিষাক্ত মানুষ's picture


সাতে আচি

হুক্কা

১৮

বিষাক্ত মানুষ's picture


biri

১৯

বিষাক্ত মানুষ's picture


pipe

২০

শওকত মাসুম's picture


সিগারেটের উপর কর বাড়ানোর কারণ একটাই। আর সেটা হল রাজস্ব বাড়ানো। কারণ সিগারেটের কর আদায় খুব সহজ। ধুমপান ভাল না টাইপ কথাবার্তা যা বলা হয় সব আইওয়াশ। বাহবা কুড়ানোর জন্য।

২১

রাসেল's picture


হ, সেইটার একটা সীমা থাকা দরকার।

২২

হাসান রায়হান's picture


সাতে আচি। হুক্কা

২৩

টুটুল's picture


বউ যদি কয় সিগ্রেট ফচা.... তাইলে সেইটাই সই Smile

২৪

নরাধম's picture


পোস্ট পড়ে ব্যাপক হাসলাম। সিগারেটখেকোদের প্রতি সহানুভূতি!

২৫

রনি's picture


আজ দেশের লোকজন সন্ত্রাসী চাদাবাজি আর বড় বড় দুর্নীতি ঠেকাতে পারছে না লাগছে আমাদের পিছে। একটু বিড়ি খাই তাতে যেন মনে হয় মহাভারত অশুদ্ধ হইয়া গেছে। আসেন ভাই একটু আন্দলোন করে বিড়ির দামটা কমাই, না হয় মইরা যামু তো। Sad( Sad(

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.