ইউজার লগইন

আমাদের আবেগ আমাদের বিশ্বাস

আমরা আদতে ছিলাম মুর্তিপূজারী, আমাদের রক্তে এখনও সেই মুক্তিপূজারী জীন, মাদল শুনলেই ভক্তিরসে টইটুম্বর হয় হৃদয় আর আদ্র হয়ে যায় চোখ, আমরা শ্রদ্ধাস্পদ পূণ্যবান মানুষ খুঁজি চতুস্পদের মতো আর যার তার উপরে অহেতুক মাহত্ব্য আরোপ করি। আমরা যাদের উপরে ভক্তি শ্রদ্ধা এবং মাহত্ব্যআরোপ করি তাদের মৃত্যুর জন্য আমরা অপেক্ষা করি প্রতিদিনই। আমাদের ভক্তিরসের চুড়ান্ত প্রকাশ ওরসে।

এখানে সবচেয়ে সস্তা বিশেষণ, আমাদের অভিধানে কাজের শব্দের চেয়ে অকাজের শব্দ বেশী কিন্তু বিশেষণের মাত্রাতিরিক্ততা আমাদের বিব্রত করবে না কখনও, আমরা বরং বৈয়াকরণিকদের কাছে নিত্যনতুন বিশেষণের দাবি জানাবো। আমাদের বিশেষণপ্রীতি কি পরিমাণ ভয়ংকর তা উপলব্ধি করলাম একদিন ব্লগে, কারো জন্মদিন, তাকে পছন্দ করা ব্লগারদের সংখ্যাও হয়তো কম নয়, আমি ঠিক জানি না, আমি যেহেতু দীর্ঘ দিন ব্লগ পড়ি না সুতরাং সেসব বিষয় আমার জানা ছিলো না, তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে বেশ কয়েকটা পোষ্ট এসেছে, সেখানে একজন প্রায় ৪০০ শব্দ খরচ করে তার পরিচয় লিখেছে, বাংলা ব্লগের প্রবাদপূরুষ দিয়ে শুরু হয়েছিলো সম্ভবত, ব্লগারদের চোখের মণি, সময়ের সাহসী সন্তান, অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার টাইপ কিছু লেখা থাকলেও থাকতে পারে, এত দিন পরে আর মনে নেই তেমন করে। কিন্তু কারো জন্মদিন উপলক্ষে কোনো পোষ্ট লিখতে গিয়ে তার পরিচিতি তুলে ধরতে যখন ৪০০ শব্দ অপচয় হয় তখন বুঝতে হবে আমাদের সময় এবং আমাদের আবেগ দুটোই অপরিণামদর্শীর মতো খরচ করছি আমরা।

আমাদের ভক্তি প্রকাশের ঠেলায় সবার অবস্থাই সঙ্গিন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে পাবলিক টয়লেট সব কিছুর উদ্বোধনের আগে দেওয়া সুলিখিত ভাষণে রবি ঠাকুরের বানী উদ্ধৃত না করলে ভাষণের কূল মর্যাদা কমে যায়, শিক্ষা , ধর্ম, দেশজ সংস্কৃতি, ঋণ এবং কৃতজ্ঞতা বিষয়ে রবি ঠাকুরের বিভিন্ন বানী আছে, এমন কি কদিন আগে শুনলাম তিনি ইউনুসের অনেক আগেই ক্ষুদ্র ঋণের কারবার শুরু করেছিলেন শাহজাদপুরে, দরিদ্র মুসলিম চাষীদের জন্য তার এই ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি মুসলীম চাষীদের ভাগ্য কতটুকু পরিবর্তন করেছিলো সেটাও আমার জানা নেই।

রবি ঠাকুরকে যেনতেনভাবেই যেকোনো জায়গায় টেনে নিয়ে আসবার যে বাঙালীয়ানা তাতে রবি ঠাকুরের মর্যাদা কতটুকু বৃদ্ধি পায় আমি জানি না, কিন্তু তাতে যে আমাদের সুশীল শোভন মানুষের মন তৃপ্ত হয় সেটা নিশ্চিত ভাবেই বলতে পারি। রবি ঠাকুরের মুর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ববঙ্গ হরতাল করেছে, মিছিল করেছে, এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছে, সুতরাং কোলকাতার মানুষেরা আমাদের চেয়ে রবি ঠাকুরকে বেশী ভালোবাসতেই পারে না।

সুলতান পত্রিকায় কলম যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করেই বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন, তার চিত্রকর্ম এবং তার জীবনযাপনের বৈচিত্রের দরুণ, আমাদের নিজের সুলতানের ছবি ভালো লাগে না, হঠাৎ করে তার ছবি দেখলে মনে হয় দেশ জুড়ে সবাই মুগুর ভেজে শরীর বানিয়েছে, এমন কি সুলতানের আঁকা বাচ্চাদের দেখলেও মনে হয় আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের বামন মায়ের স্তনে ঝুলে আছে,আর মাগুলোকে দেখে মনে হয় রেসলার চায়না, সময়ের সাথে আমাদের সুলতানপ্রীতি কমেছে, সুলতানকে নিয়ে হঠাৎ উথলে ওঠা জোয়ারটা এখন নড়াইলের সুলতান মেলার বাইরে তেমন নেই, কিন্তু রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে এখনও কতিপয় মানুষের একই রকম আবেগের জোয়ার। রুদ্র কবি হিসেবে ভালো, একেবারে শহীদ কাদরী না হলেও তার অনেক ভালো কবিতাই আছে, সে সময়ের কবিদের ভেতরে আমার নিজের পছন্দ আবুল হাসান, শহীদ কাদরি আর হেলাল হাফিজ, শহীদ কাদরী স্বেচ্ছা নির্বাসনে, আবুল হাসান মৃত এবং উপেক্ষিত এবং সম্ভবত লোকবিস্মৃত, তার মৃত্যু দিনে এখন শোকের মাতম নেই, একদিন ব্যপী মেলার আয়োজন নেই,

পপগুরু আজম খান বাংলাদেশে নতুন ধরণের সঙ্গিতের ধারা শুরু করেছিলেন, তিনি একা শুরু করেছিলেন এমন না, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা, গ্রহনযোগ্যতা এবং ম্যানারিজমের কাছে পাত্তা পায় এমন সঙ্গীত শিল্পী তৈরি হয় নি বাংলাদেশে। তিনি এককভাবেই শীর্ষে এবং টেকনোপপের জোয়ার শুরু হওয়ার পর তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন উপেক্ষিতই থেকেছেন। তার গান গীটারে তুলে যাদের সঙ্গীত জীবন শুরু হয়েছিলো তারা গান বেচে, গান চুরি করে ইন্ডাস্ট্রীর রথিমহারথি হলেও তিনি থেকে গেলেন একেবারে সাধারণ, তবে তার উপেক্ষার অবসান হয়েছে, এখন তার মৃত্যুদিন স্মরণে বিশেষ ব্যান্ড শো হবে, ৫টা মোবাইল কোম্পানী স্পনরশীপের থলে নিয়ে ঘুরবে ব্যান্ড তারকাদের পেছনে, তাদের দরকার প্রচারণা, , যদি মোবাইল সাবস্ক্রাইবার প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতিটি নতুন ভিডিওর জন্য তারা সেই কোম্পানীর ফোনে ৫০ মিনিট কথা বলবে, প্রয়োজনে তারা নিজের মায়ের সঙ্গমদৃশ্যও মোবাইলের সাবস্ক্রাইবারদের এমএমএস করে পাঠাবে।

আমাদের ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশের উচ্চকিত ধরণটা আমার পছন্দ না, গত কয়েকদিন ধরে এমন উচ্চকিত আবেগের প্রদর্শণী দেখে কিঞ্চিৎ বিরক্তও হয়েছি, সেসব ভিন্ন আলোচনা, বরং আমার নিজের অভিজ্ঞতাই বলি, আমি একজন মেয়েকে পছন্দ করতাম, ভালো বাসতাম, একদিন হঠাৎ করেই আমাকে জিজ্ঞাসা করলো এই যে আমি আমার বন্ধুদের সাথে ঘুরি, আড্ডা দেই, এখানে ওখানে যাই, ইর্ষা হয় না, রাগ হয় না?
আমি বললাম আমার ভেতরে ইর্ষা কম, সম্ভবত অধিকারবোধও কম, তবে আমার ধারণা তুমি তোমার বন্ধুদের সাথে ঘুরবে আড্ডা দিবে সেটাই স্বাভাবিক, আমিও আমার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই, ঘুরি, সেটা তেমন আপত্তিকর মনে হয় না।

আমি অন্য কোনো ছেলের সাথে কথা বললে রাগ হয় না?
আমি বললাম আমার আসলে এইসব হয় না। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি, তোমার সাথে অন্য সবার বন্ধুত্বের সম্পর্ক কিন্তু আমার সাথে তোমার সম্পর্কটা ভালোবাসার আর আমার মনে হয় না সেই জায়গাটা হঠাৎ করে কেউ দখল করতে পারবে। সুতরাং তুমি কোনো ছেলের সাথে কথা বললে আমার তেমন রাগ ক্ষোভ তৈরি হয় না।

এর উত্তরে আমি জানলাম আমার ভালোবাসায় কমতি আছে, কেউ যদি কাউকে ভালোবাসে তাহলে তার সাথে অন্য কোনো ছেলে কথা বললেই সে রাগ করবে, ক্ষুব্ধ হবে সেটাই ভালোবাসার ধরণ।

কিন্তু এইসব প্রেমে পড়া মেয়েরাই বিয়ের পর বদলে যায়, এর আগে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য সার্বক্ষণিক সন্দেহ আর সংশয় ক্ষোভকে ভালোবাসা মনে হলেও বিয়ের পর মনে হয় সেটা স্বাধীনতার উপরে হস্তক্ষেপ, সে সময়ে তাদের মনে হয় তাদের স্বাধীন জীবনযাপনের উপরে স্বামী বেচারা হস্তক্ষেপ করছে, সে সন্দেহপরায়ন, নিম্নরুচির মানুষ, অসাংস্কৃতিক এবং অসভ্য জানোয়ার। স্বামী বেচারা নিশ্চিত ভাবেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেয়ের বুকের দিকে তাকায়, তার অগোচরে যেকোনো মেয়ের সাথে ফ্ল্যার্ট করে, এমন কি সুযোগ পেলে আরও অনেকদুর আগাতে চায় কিন্তু বৌয়ের ক্ষেত্রেই তারা একমাত্র অধিকারপরায়ন হয়ে উঠে।

পাত্র -পাত্রী একই থাকে, শুধু মাঝের সম্পর্কটা বদলে যায়, আগে যখন অধিকার প্রকাশের ধরণটাই ছিলো ভালোবাসার প্রকাশ, পরবর্তিতে সেই আচরণই হয়ে উঠে নোংরামি, অসভ্য সন্দেহবাতিকতা।

সম্পর্কের পরিবর্তনটা বুঝতে হয়, হয়তো সেটার সাথে মানিয়ে নিতে হয়, এইভাবে মানিয়ে নিতে পারাটাই জীবন, পুরোনো বন্ধুদের সাথে ধীরে ধীরে সম্পর্ক ক্ষীণ হবে, নতুন বন্ধুত্ব তৈরি হলেও সেখানে একটা সন্দেহবাতিকগ্রস্ততা থাকবে, নেশা-ভাঙ, অন্য কোনো নারীর উপস্থিতির বাইরে কারো সাথে কারো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকানোর পরে সেটা বুঝতে পারে এমন নারীর সংখ্যা কম, এটা খুব বেশী সাধারণীকরণ হয়ে গেলো হয়তো কিন্তু আমার পরিপার্শ্বপর্যবেক্ষণের পর আমার সেরকমই বিশ্বাস।

সুতরাং এখানে তোমাকে না পেলে মরে যাবো মানুষের সংখ্যা এবেবারে শূণ্য না হলেও তোমাকে না যদি পাই অন্য কাউকেও তোমাকে পেতে দিবো না মানুষের সংখ্যা নিশ্চিত ভাবেই বেড়েছে। আর বেড়েছে মানুষের লোভ, যে মানুষটা অন্য কারো স্মরণে ওরশ মোবারক করে তার ভক্তির চেয়ে বেশী লক্ষ্য থাকে নগদ প্রাপ্তির সম্ভবনার দিকে, যেকোনো ওরশ আয়োজন করলেই চাঁদা পাওয়া যাবে, সবাইকে দিয়ে থুয়ে সে টাকার একটা বড় অংশ পকেটে আসবে, ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় মাইজভান্ডারী বাবার নামে বিভিন্ন দানবাক্স আছে, সেখানে বিভিন্ন মানতে লোকজন টাকা পয়সা দেয়, সে টাকা কেউ না কেউ ভোগ করে, যেমন ভোগ করে গুলিস্তানের মাজারের টাকা পয়সা, নিয়মিত সে টাকায় গাঁজার আসর বসে, সবাই আয়োজন করে সিদ্ধি খায়, কারো না কারো উপকারে আসলেই হয় আসলে, সেটা মাজার পর্যন্ত পৌছানোর প্রয়োজন নেই।

এখানে ভালো মানুষ, শুদ্ধ মানুষ হওয়ার চেয়ে পীর বুজুর্গ হওয়া সহজ, মুখে দাঁড়ি ঝুলিয়ে কয়েক বার আল্লাহ আল্লাহ হেঁকে রাস্তায় নেমে পড়লে পেছনে হাঁটবার মানুষের কমতি হবে না। আমরা স্বভাবত অলস হলেও আমাদের ভক্তি প্রকাশের জন্য আমরা প্রয়োজনে এভারেস্টের চুড়ায় উঠতে প্রস্তুত। পরিশ্রম করে সৎ ও আইনানুগ জীবনযাপনে এখানে কঠিন হলেও ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন সহজ, থালা পাতলে এখানে ভাতের অভাব হয় না, দুই রুকু কোরান হেফজ করলে এখানে খাওয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হয় না,এখানে মানুষের বিশ্বাস সস্তা এবং মানুষ অহেতুক ভক্তিরসে প্লাবিত হয়ে খুব সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলে, তার উপরে আরোপিত মাহত্ব্য যাচাইয়ের প্রয়োজন বোধ করে না এবং একই ভাবি কোনো বাদবিবেচনা ছাড়াই এখানে মানুষ মানুষকে ঘৃণা করতে শুরু করে, কেউ কেউ বলে মানুষ র‌্যাশনাল, তারা কেউ বাংলাদেশের ফুটপাতে আর ফুট ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের দেখে নি, তারা কেউ ঢাকার বাসের ভেতরটা ঢুকে দেখে নি, এখানে প্রতিটা বিবাহিত মানুষ পুরুষত্বহীন, বৌকে ঠিকমতো সুখ দিতে পারে না, তাদের জন্য ২৪ ঘন্টা থেকে ৭২ ঘন্টার ভেতরে নিশ্চিত ফলাফল দিচ্ছে কতগুলো প্রতিষ্ঠান আমি জানি না, বাঙ্গালী সবার কাছেই পুটু মারা খায়, গোয়া মারা খেতে খেতে যখন বাসায় আসে তখন আর সে এইসব পুরুষত্বহীনতার অপমাণ সহ্য করতে আগ্রহী না। বাসায় সে প্রবলপুরুষ, লাঠি, বটি হাতে তার পৌরুষের দাপটে মহল্লাবাসী তটস্থ থাকে, সে মানুষটা এমন পৌরুষ দেখাবে বলেই হয়তো চীনের বাঘের বীচি কাটা পড়ছে, সে মানুষটা এমন পৌরুষ দেখাবে বলেি আফ্রিকার গন্ডারের তীক্ষ্ণ শিং, মেহগনি গাছের ডাল, যা কিছু দৃঢ় এবং বলিষ্ট সেসবের গুরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে এখনও এরা তেমন বৈজ্ঞানিক হয়ে উঠতে পারে নি, আমাদের পরবর্তী কোনো গুরু হয়তো নিদান দিবে পুরুষত্বহীনতায় ভোগা মানুষদের বীচিতে অষ্টধাতুর ব্রেসলেট লাগাতে হবে। সবাই আমরা বীচের ব্রেসলেট লাগিয়ে ঝুনঝুনি বাজাতে বাজতে যাবো পীরের মাজারে, পুরুষত্ব বাড়ালেই হবে না, একটা সেইরকম পুরুষ বাচ্চা জন্মাতে ব্যর্থ হলে বংশের বাতি নিভে যাবে।

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ফিরোজ শাহরিয়ার's picture


আপনার লেখাটি ঠিক কি অর্থে লিখেছেন তা বোঝা গেল না। একবার রবীন্দ্র, একবার রুদ্র আবার আজমখান কোনটার সাথেই কোনটার মিল পেলামনা। শেষে ভালবাসার মানুষকে নিয়ে লেখাগুলোই বা কি অর্থে। মূলকথা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কোন মিল খুজেই পেলামনা।

রাসেল's picture


তেমন বড় করে বলবার মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো মরতবা বহন করে না লেখাটা, আমার নিজের ভাবনার ধরণটাই এরকম এলেমেলো, আমার নিজের কিছু ধারণা আছে, আমাদের শাররীক অস্তিত্বে চেয়ে আমাদের আবেগী অস্তিত্বজীপনের অভ্যস্ততা হয়তো আমাদের পরিপূর্ণার্থে যুক্তিবাদী কিংবা বস্তুবাদী হতে শেখায় না।

এইসব বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনা আমাদের কিংবা আমার চারপাশের মানুষের আবেগের প্রকাশ, রবীন্দ্রনাথ আজম খান, রুদ্র সবাই আমাদের খেয়ালী আবেগ আর ভক্তির উৎস, রবীন্দ্রনাথের প্রতি আমাদের প্রেরিতপুরুষতূল্য ভক্তি, রুদ্রের প্রতি আমাদের মোহ এবং আজম খানের প্রতি আমাদের বিদ্যমান নিস্পৃহতার সাথে সুলতানের আধ্যাত্মিকতার প্রতি আমাদের আকর্ষণের বিষয়টা এভাবেই আসে কিংবা আমার কাছে আদতে বিষয়গুলো এভাবেই ধরা পরে।

আর নিজস্ব প্রেমের গল্পটার সারাংশ আমরা প্রতিনিয়ত যাদের ভালোবাসি তাদের নিয়ন্ত্রন করতে চাই তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে চাই, এবং পরিপার্শ্ব বদলালে আমাদের সেই চাওয়াটার ধরণ বদলে যায়, বিবাহপূর্ব এবং বিবাহপরবর্তী জীবনের এই পালাবদলটুকু যে যতটা মানিয়ে নিতে পারে সে ততটাই স্বাচ্ছন্দ্যে সামাজিক জীবনযাপন করতে সমর্থ হয়।

আমাদের ভক্তিরসপরিপূর্ণ মনন আমাদের যারা জীবন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি তাদের প্রতি একধরণের অন্ধস্নেহ প্রদর্শনে আবিষ্ট করে, এসবের কোনো তাত্ত্বিক ভিত্তি নেই, শুধুমাত্র অনুমাণ

আশরাফুল আলম's picture


আপনি কী খুলনার রাসেল মাহমুদ?

রাসেল's picture


না

নরাধম's picture


লেখাটা ভাল লেগেছে। তবে আমার মনে হয় তিনটা লেখা হতে পারত। প্রত্যেকটা আরো বিস্তারিত হয়ে উঠলে আলোচনা জমত।

রাসেল's picture


বিস্তারিত হলে আরও ভালো হতো, কিন্তু তেমন সময় ছিলো না, আর আলাদা আলাদা করে তিনটা লেখা দেওয়ার আগ্রহও ছিলো না। আলোচনা বিষয়টা আমার সাথে যায় না সম্ভবত, সে কারণে আলোচনার অবকাশ থাকলেও আলোচনা হবে না এখানে।

নরাধম's picture


লেখাটা প্রিয়তে।

তানবীরা's picture


বাঙ্গালী আদতে হুজুগে জাতি

অতিথি's picture


আপনার চিন্তার সাথে অনেক কিছুই মিলে গেল আমার চিন্তার সাথে।

এলোমেলো লেখা কিন্তু খুবই সত্য কথা, অনেকেরই ভাল লাগবেনা এগুলো পরতে।

ধন্যবাদ।

১০

আরাফাত শান্ত's picture


অসাধারন লাগলো!

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.