ইউজার লগইন

পুরোনো আক্ষেপ নতুন করে-

উত্তাল ১৯৭১, এপ্রিল থেকে জুলাই, প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে শরনার্থী জীবনযাপন করছেন, ভারত যেকোনো মুহুর্তে হস্তক্ষেপ করবে, পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ শুরু করবে- এই উচ্চাশাও ফিকে হয়ে গেছে ততদিনে। এ যুদ্ধ কতদিন চলবে তা কেউ তখনও বুঝতে পারছে না, সে সময় প্রবাসী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো শরনার্থী শিবিরে অসংখ্য শিশু আছে যাদের নিয়মিত শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়ে গেলো যুদ্ধের কারণে, তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা শরনার্থী শিবিরে শিক্ষার বন্দোবস্ত করা যায় কি না- মুস্তফা মনোয়ার সে সময় শরানার্থী শিবিরের শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন।

মুস্তফা মনোয়ার পরবর্তীতে বিটিভিতেও শিশুদের জন্য পাপেট শো করেছেন, আমাদের শৈশবে এমন কি কৈশোরের দিনগুলোতেও বিটিভিতে শুক্রবার সকালে পাপেট শো দেখাতো। তখন সংবাদে সারাক্ষণ এরশাদ বন্দনা করলেও শিশুদের জন্য আয়োজনের কমতি ছিলো না। মনে পড়ছে ফেরদৌসি রহমানের এসো গান শিখি'র আসর। বিটিভি তার এই ঐতিহ্য থেকে সরে এসেছে অনেক আগেই।

বাংলাদেশে তারপর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে শিশুদের প্রয়োজন ও বিনোদনের সুযোগ প্রায় বন্ধ- তবে দাতব্য উদ্যোগে( ইউএস এইডের কল্যানে) গত ৬ বছর ধরে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে সিসিমপুর। সময় সেই শুক্রবার সকাল ৯টা১০। বিকেলের বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান নেই তাই সিসিমপুর একাধারে শিক্ষা-সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবটিকার কাজ করছে। আমাদের বিকেল ৫টা ৩০ এ কোরান তেলাওয়াত, গীতাপাঠ আর ত্রিপিঠক পাঠের পরের কার্টুনের অপেক্ষা এখনকার শিশুদের নেই, তারা (যারা সামান্য সচ্ছল) রিমোট চাপলেই ডিজনি, কার্টুন নেটওয়ার্ক আর নিকোলোডিয়ান খুঁজে পাচ্ছে-

কার্টুন নেটওয়ার্ক পাকিস্তানভিত্তিক চ্যানেল অন্তত বাংলাদেশে যেটা প্রচারিত হয়, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য আলাদা করে কোনো বন্দোবস্ত তারা করে নি, আর যা তা নাটক, বিজ্ঞাপন, সংবাদ আর টক শোতে মজে থাকা বাংলাদেশী চ্যানেলগুলোতে শিশুদের জন্য প্রতিযোগিতামূলকনাচ-গানের আসর ব্যতিত বিনোদনের তেমন বন্দোবস্ত নেই। সেরাকণ্ঠ, সেরা নৃত্যশিল্পী- সেরা রিয়ালিটি শো এর যুগে আমি আব্দার করেছিলাম শিশুদের জন্য একটা বাংলা চ্যানেল- সরকার নিজে উদ্যোগ নিতে আগ্রহী নয়, তারা সকল কিছুরই বেসরকারীকরণ বিশ্বাসী, আর অন্য যারা রাজনৈতিক বিবেচনায় চ্যানেলের লাইসেন্স পেয়েছে তারা চাটুকারিতায় যতটা দক্ষ অনুষ্ঠান পরিকল্পনা এবং দর্শণে ততটা দক্ষ নন। তারা জরিপ করে জানতে চান বিজ্ঞাপনবিহীন নাটকের চাহিদা কতটুকু, টক শোতে পাবলিক কি গিলতে চান- প্রায় ৫ কোটি শিশু বাংলাদেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর অন্যতম।

২০০৯ সালে বিশাল আয়োজন করে শিক্ষানীতি ঘোষিত হলো, শিক্ষানীতিতে বলা হলো গণতন্ত্রমণা, আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে হবে- সেখানে বলা হলো শৈশবে মক্তবে আর মসজিদে নীতি-নৈতিকতা শিখবে শিশুরা, মন্দির আর অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো হয়ে উঠবে স্ব স্ব ধর্মের নৈতিকতাশিক্ষা দেওয়ার স্কুল, পরবর্তীতে স্কুলে নিয়মিত ধর্ম শিক্ষা দেওয়া হবে। ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে । ৫০ নম্বরের ধর্ম শিক্ষা বহলে কলেবরে বেড়ে এখন ১০০ নম্বরের নিয়মিত বিষয়- গত দুই যুগে আশৈশব শিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় নৈতিকতা পড়ে আমাদের বর্তমান নৈতিকতার বেহাল দশা দেখে কখনও বিশ্বাস হয় না মসজিদে-মক্তবে-উপাসনালয়ে কিংবা স্কুলে ধর্মশিক্ষা প্রদানে সামাজিক নৈতিকতাবোধে তেমন তারতম্য হয়।

আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারী প্রভাতফেরীতে খালি পায়ে কয়েক মাইল হাঁটতে দ্বিধা বোধ করতাম না। আশেপাশের বাগান থেকে চুরি করা ফুল , হালকা শীত শীত ভোরের শিশির আর কণ্ঠে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, মিছিলে নতুন নতুন মুখ যুক্ত হতো, শহরের প্রধান রাস্তা দিয়ে মিছিল যাচ্ছে, বিভিন্ন রাস্তা আর গলি থেকে এক একটা মিছিল এসে যুক্ত হচ্ছে সেই রাস্তায়- সকলের চেহারায় একই ধরণের শ্রদ্ধামিশ্রিত নম্রতা- আমরা সংকল্প করে, শপথ নিয়ে বাংলা ভাষায় আজীবন কথা বলার অঙ্গীকার করি নি, আমি অন্তত কখনও নববর্ষে নিজের কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি দেই নি, আমি সব সময়ই প্রভাত ফেরীতে যেতে যেতে সিদ্ধান্ত নিতাম আগামী প্রভাত ফেরীর আগে আমি জীবন থেকে কি কি বাজে জিনিষ বাদ দিতে চাই, আমার বাৎসরিক জবানবন্দী একুশের মিছিলে সংশোধন করতাম আমি।

জীবনে প্রথমবার শহীদ মিনারে গিয়েছিলাম বাবার সাথে, সামনের রাধাচুড়ার গাছ থেকে ফুল ছিড়ে সিঁড়ির একেবারে নীচে স্যান্ডেল খুলে লাল লাল সিঁড়ির সবগুলো ধাপ পেরিয়ে বেদিতে গিয়ে ফুল দিয়ে আসার সময় মনে হলো জীবন স্বার্থক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮বছরে কখনও সিঁড়ির উপরেও স্যান্ডেল নিয়ে উঠি নি, এক ধরণের অসস্তি কাজ করতো। সে সময়েই ফেব্রুয়ারী মাসে শহীদ মিনারে পথনাট্য উৎসব শুরু হলো, প্রেসক্লাব সাধারণের অগম্য হয়ে যাওয়ার পর ছোটোখাটো জনসভা, দাবি-দাওয়া আদায়ের মিছিল, সবই শুরু হতো সেখান থেকে। বিসিএস এ অনুত্তীর্ণ এক দল ছেলে-মেয়ে শহীদ মিনারের নীচেই ব্যানার ঝুলিয়ে আমরণ অনশনে শুয়ে পড়লো, তাদের জুতো-স্যান্ডেল ইত:স্তত ছড়ানো শহীদ মিনারের বেদীতে, ভ্রাম্যমান হাসপাতালের মতো প্রতিটা ছেলে-মেয়ের হাতে ঝুলছে স্যালাইনের নল, সেই স্যালাইনের নল আর ত্রিপালের আড়ালে হারিয়ে গেলো শহীদ মিনার। আজ দেখলাম সিঁড়িতে ছোট্টো করে লেখা - "শহীদ মিনারের মূল বেদীতে কেউ জুতো পরে উঠবেন না।" তার সামনেই জুতো পরে উঠছে নামছে সমাবর্তনে আসা অসংখ্য ছেলে-মেয়ে, আজকের দিনটা তারা ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখতে চায়।

আমরা যখন প্রাইমারী পাশ করলাম তখন বাধ্যতামূলক আরবী সংযুক্ত হলো পাঠ্যক্রমে, আমার ধারণা ধর্মশিক্ষার সহযোগী এই আরবি শিক্ষার দিনেই স্কুলে সবচেয়ে বেশী নকল হতো। আমি আমার তিন বছরের আরবী শিক্ষা জীবনে মাত্র একবার আরবিতে পাশ করেছি- ইয়া কালামুন,কিতাবুন, বায়তুন, এইসব পড়তে আমার ভালো লাগে নি কখনও, একটা পর্যায়ে অতি আগ্রহে কোরান পড়বার অভ্যাসও ত্যাগ করেছি- এখন আরবি কোনো বাক্য পড়তে বললে আমি পড়তে পারবো না, অন্তত দুই যুগ আগে আমি থেমে থেমে হলেও যেকোনো আরবি বাক্য পড়তে পারতাম।

হয়তো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা, শাসকের অনিয়ন্ত্রিত দুর্নীতি এবং একই সাথে অন্য সকলের টেন্ডারবাজী এবং অর্থলোলুপতাকে আমাদের নৈতিকতা হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইবেন কেউ কেউ, সেই স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা আমরাই উৎখাত করেছিলাম আজ থেকে ২২ বছর আগে- তবে আমাদের দুর্ণীতির স্বভাবটা আমরা ত্যাগ করতে পারি নি। প্রতিটি গণতান্ত্রিক শাসনামল আগের চেয়ে বেশী দুর্নীতিগ্রস্ত- প্রতিবারই বয়স্ক মানুষদের আক্ষেপ করতে দেখেছি এর চেয়ে এরশাদের আমল অনেক ভালো ছিলো, লুটপাট হয়েছে, কিন্তু তারপর রাস্তাঘাট হয়েছে, শহরের রা্স্তায় টিউবলাইট জ্বলেছে- এখন তো শহরের রাস্তায় একটা ডিমলাইট জ্বালানোর ক্ষমতা নেই গণতান্ত্রিক সরকারের। আগে ছিলো একটা চোর এখন ৪৫০ চোর পরিবার একসাথে লুটপাট করছে- এত ঘাটে এত ধরণের দেনাপাওনা শেষ পর্যন্ত রাস্তায় জ্বালানোর মতো সলতের কাপড়টাও জুটে না মানুষের। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষানীতির উচ্চমাণসম্পন্ন কথাবার্তা নেহায়েত ফাজলামি।

ডিজনি জুনিয়ার আর নিকোলোডিয়ান ভারতভিত্তিক চ্যানেল- সুতরাং সেখানেও অনুষ্ঠানসুচিতে ভারতীয় জাতীয় ভাষার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পরিমাণ বেশী- শুধুমাত্র তামিলনাড়ুতে তামিল কার্টুন নেটওয়ার্ক, তামিল ডিজনি জুনিয়রের অস্তিত্ব আছে। আমাদের বাংলা ভাষায় কার্টুনের দর্শক কি এতই কম? বাংলা ভাষায় কথা বলে ২৫ কোটি মানুষ, তারা এতই অনুকরণপ্রিয় এবং এতই অপাংক্তেয় যে তাদের জন্য কোনো আন্তর্জতিক টিভি চ্যানেল বাংলা ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচারের আগ্রহ দেখায় না। এরা সস্তায় আলকাতরা খায় এদের হিন্দি-উর্দু- আরবি-ফার্সী-জার্মান যে ভাষাই খাওয়াও এরা খাবে, শুধু খাবে তাই না, এমন কি সে ভাষায় ঢেঁকুরও তুলবে পরম আহ্লাদে।

সরকারের মেরুদন্ডে জোর নেই, তারা হাবিজাবি অনেক কিছু নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারী করে, হাইকোর্টে এক ছাগল বসে বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ রীট আবেদন দাখিল করে, তাদেরই রীটের প্রতিক্রিয়ায় শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা ভাষা ব্যবহারের একটি কমিটিও কাজ করা শুরু করেছে, সেই ছাগল হিন্দি-ইংরেজী-উর্দু-কার্টুন সম্প্রচার বন্ধের কোনো নির্দেশনা দিলো না। সে যে সে পরিমাণ সাংস্কৃতিকমনস্ক নন তা তার কমিটির সদস্য বাছাইয়ের ধরণ দেখেই বুঝা যায়- তার ভাষার শুদ্ধতা নির্ধারণ কমিটিতে সাহিত্যিক রয়েছেন, একেবারে ভাষাতাত্ত্বিক হিসেবে কেউ নেই, আনিসুজ্জামান পুরোনো দিনের বাংলা গদ্য নিয়ে একটা নাতিদীর্ঘ পুস্তক লিখেছেন কিন্তু তার গবেষণার বিষয়বস্তু সাহিত্যের ইতিহাস এবং সাহিত্যের ঐতিহাসিক ভুমিকা- বাংলা ভাষায় ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণা করেছেন যারা তাদের কেউই এখানে উপস্থিত নেই, মনসুর মুসা ভাষাপরিকল্পনার উপরে গবেষণা করেছেন, আবুল কালামমনজুর মোরশেদও কিছু কাজ করেছেন ভাষা পরিকল্পনার উপরে- তাদের অনুপস্থিতিতে সাহিত্যিকদের নিয়ে এমন একটা কমিটি তৈরির নির্দেশনা দিয়ে ছাগলের ছাগলত্ব সুপ্রমাণিত হলেও সরকারী উদ্যোগে কমিটি তৈরি হওয়ায় এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেলো ছাগল ব্যাঁ করলে ইদানিং সরকারও স্কেল বদলে ব্যাঁ করতে শুরু করেন।

আনিসুল হক প্রথম আলোর প্রথম পাতায় হাহাকার করে ডোরেমনবিরোধিতা করলেন, তার লেখার মাণ নিম্নগামি এমনটা বলবার সময় অতিক্রান্ত হয়েছে- এখন নিশ্চিত বলা যায় তার লেখার মাণ জঘন্য- তার উপরে তার ভাইয়ের ছেলে মেয়ে এখন হিন্দিতে ভাবছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে এমন কি তার ঘরেও তার বই কেনার মতো মানুষ থাকবে না। তখন লেখককপি ফারুকীর কাছে বেচেতাকে জীবনধারণ করতে হবে- এই ভীতিতে তিনি হিন্দি কার্টুনের বিরুদ্ধে একটা অতিআবেগী লেখা প্রসব করে ফেললেন। কিন্তু বিকল্প কোনো প্রস্তাবনা দিলেন না।

বিটিভির উদ্যোগ নেই, অন্যান্য চ্যানেলগুলোর অবস্থাও তথৈবচ- এরপরও গতকাল ও আজকে সিসিমপুর মেলায় গিয়ে দেখলাম হালুম, টুকটুকি, ইকরি-শিকু একেবারে সুপারস্টার। হালুম হাঁটছে, নাচছে আর দর্শকের সারি থেকে শিশুরা চিৎকার করছে, হাসছে। এমন উচ্ছ্বল উদ্দাম বাঁধ ভাঙা উন্মাদনা হয়তো আরও বৃদ্ধি পেতো যদি অনুষ্ঠানটা নিয়মিত হতো।

আমরা শিশুদের বাঙালী সংস্কৃতির ঐতিহ্যে গড়ে তুলতে চাই, আমরা চাই শিশুরা অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্রমণা আদর্শ নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠুক, আমরা তাদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনের বন্দোবস্ত করেছি, তারা ভোট দিয়ে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন করছে। তাদের এই বেড়ে উঠবার পথে ভোট দিতে শেখানোর বাইরে অন্য কি উদ্যোগ আমরা নিচ্ছি?

বিদেশী টিভি চ্যানেলগুলোতে শিশুদের নিয়ে অনেক ধরণের অনুষ্ঠান হয়, বিভিন্ন বয়েসের শিশুদের চাহিদা অনুযায়ী তারা অনুষ্ঠান তৈরির চেষ্টা করে, ডিজনি সারা বছর সকাল ৭টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে, সেসব অনুষ্ঠানে শিশুদের স্পেলিং, নিয়মানুবর্তীতা, অংক থেকে শুরু করে সাধারণ জ্ঞান ও যৌক্তিক চিন্তা করার প্রক্রিয়াগুলো শেখানো হয়। তারা এরচেয়ে সামান্য বড় শিশু-কিশোরদের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক অনুষ্ঠান- আর্টের অনুষ্ঠান তৈরি করছে এবং প্রচার করছে। এসবের দর্শক চাহিদা সবসময়ই ছিলো- আমাদের অনুকরণপ্রিয় অনুষ্ঠাননির্মাতারা এসব অনুষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন কিন্তু অনুকরণের ক্ষমতা দিয়ে মেধার দুর্বলতা ঢাকা যায় না।

এ অবস্থায় সিসিমপুরের ব্যাপক জনপ্রিয়তা অন্তত এটুকু আশ্বাস দেয় শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করলে সেটা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক একটি বিনিয়োগ হবে। আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো অন্য সবারই সীমাবদ্ধতা, ডিজনিও প্রতি বছর মাত্র ২৪টা নতুন পর্ব তৈরি করে, অধিকাংশ সময়ই তারা প্রতিদিনই পুরোনো অনুষ্ঠানগুলোই পুন:সম্প্রচার করে। প্রতিদিনই আসলে এসব অনুষ্ঠানের নতুন দর্শক তৈরি হয়। সিসিমপুর গত ৫ বছরে অন্তত ১৫০টি পর্ব তৈরি করেছে, সেসব প্রতিদিনই প্রচার করতে পারে তারা। সপ্তাহে একদিন নতুন একটা পর্ব দেখিয়ে বাকি ৬ দিন তারা পুরোনো পর্ব দেখালেও সিসিমপুরের জনপ্রিয়তা কমবে না।

সিসিমপুরের টার্গেট অডিয়েন্স ৫ থেকে ৭ বছরের শিশুরা- এদের থেকে ছোটো শিশুদের জন্য কোনো অনুষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ অন্য কেউ নিবে না। এদের থেকে বড় মানে যারা ১০ থেকে ১২, তাদের জন্যও কোনো অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেই আমাদের। সুতরাং আমাদের বাধ্য হয়েই বিদেশী চ্যানেলমুখাপেক্ষী হয়েই থাকতে হবে। এর বিকল্প হতে পারে ডাবিং- বাংলা ভাষায় ডাবিং এর মাণ আমাদের অনুষ্ঠান নির্মাতাদের মেধার মতোই।

আমরা বাঙ্গালি সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করতে পারে এমন প্রজন্ম নির্মাণের উদ্যোগ নিতে চাইলে আমাদের জাতীয় মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে, সিসিমপুর তেমন বড় কোনো উদ্যোগ না হলেও এই আকালের যুগে একমাত্র উদ্যোগ বলেই তাদের উপরেই প্রত্যাশার ভারটুকু চাপিয়ে দিচ্ছি, তারা যদি সিসেমস্ট্রীটের অনুবাদ বাদ দিয়ে অন্য যেটুকু নিজস্ব ব্যবস্থায় নির্মাণ করেছেন সেসবের ডিভিডি প্রকাশ করেন সেটার ক্রেতার সংখ্যা কিন্তু কম না। সেটা একধরণের লাভজনক বিনিয়োগ হবে-

শুধু তাই না, এখন বিশ্বায়নের যুগে প্রবাসে স্থিতু বাংলাদেশীদের সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন, তাদেরও শিশুরা বড় হয়ে উঠবে একদিন। তাদেরও বাংলা ভাষায় শিক্ষা দেওয়ার আগ্রহ সেইসব বাবা মায়ের আছে- সিসিমপুর এ উপলক্ষে অনলাইনে নিজেদের একটা ওয়েবসাইট বানাতে পারে- সেখানে তারা এইসব অনুষ্ঠানের পর্বগুলো আপলোড করতে পারে। আমি বিটিভিতে অনুষ্ঠান করছে এমন একজনকে অনুরোধ করেছিলাম বিটিভির মহাপরিচালককে যেনো অনুরোধ জানানো হয় বিটিভি আর্কাইভে অতীতের শিশুদের যেসব অনুষ্ঠান আছে সেসব তারা পুন:প্রচারের উদ্যোগ নিতে পারে কি না। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তারা সেসব আর্কাইভের অনুষ্ঠানগুলো ডিভিডিতে প্রকাশের উদ্যোগ নিতে আগ্রহী কি না- বিনিয়োগকারীর অভাব হবে না। আর সরকার যে আসলেই আদর্শ নাগরিক নির্মাণে আগ্রহী সে বিষয়টার প্রমাণও তাদের রাখতে হবে।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মাথামোটা's picture


সবাই ধান্দায় বিজি।
আপনের লেখা পইরা মনে পইরা গেলো ২০শে ফেব্রুয়ারী দুপুর থাইকা সন্ধা পর্যন্ত ফুল চুরির ধান্দায় থাকতাম! একটু দেরী হইলে একটা ফুলও পাওয়া যাইতো না!

সাঈদ's picture


ঐ একই কথা - বিড়ালের গলায় ঘন্টা ঝুলাবে কে ?

তানবীরা's picture


ঐ একই কথা - বিড়ালের গলায় ঘন্টা ঝুলাবে কে ?
Sad

জ্যোতি's picture


ছোটবেলায় ফুপু/ বাবার সাথে শহীদ মিনার যেতাম আর তার জন্য কয়দিন আগে থেকেই ব্যপক উত্তেজনা থাকত। বড় হয়ে যখন যাওয়া শুরু করলাম, একটা মিষ্টি, স্বর্গীয় ভাবনা ছিলো ভবিষ্যতের জন্য। আজকাল সেই ভাবনা ভাবলেও দীর্ঘশ্বাস আসে।
আমাদের জন্য কি আছে আসলে? সব তো তাদের জন্য । আমরা যাই চাই না কেন .... তারা না চাইলে কিছুই হবে না।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

বিষাক্ত মানুষ's picture


এই ব্যাপারটা নিয়া কত বছর ধরেই চিল্লাফাল্লা হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কি কিছু হইছে!

নীতিনির্ধারকদের আসনগুলো কি সব আবাল দিয়ে ঠাসা !! এত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু নিয়া কারো মাথা ব্যাথা নাই !

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.