ইউজার লগইন

নিছক গল্প

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার মহাপরিচালক অধীনস্ত কর্মচারীদের ডেকে বললেন
"এই যে মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ, এই উপলক্ষ্যে কি আমাদের কোনো আয়োজন থাকবে না?"
মহাপরিচালক প্রসঙ্গটি উত্থাপনের পূর্বে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভেতরে ঠাট্টা-মশকরার বাইরে এই যে বিশাল মাপের আয়োজন- সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা ছিলো না। তারা প্রত্যেকেই মহাপরিচালকের কক্ষ থেকে বিশাল চিন্তার বোঝ নিয়ে বের হলেন। প্রত্যেকেই সারাদিন ভাবলেন।

বাঁদরের কলা- গন্ডারের কলা পাতা, জলহস্তির কচুরিপানা, বাঘ-সিংহের বরাদ্দ গোস্তের ভাগ-বাটোয়ারা বিষয়ে উদাসীন থেকে তারা শুধুই ভাবলেন। অভুক্ত সিংহ- বুভুক্ষ বাঘ রক্তচাপহীনতায় মাথা ঘুরে উলটে পরে থাকলো গাছের গুড়ির পাশে। ডাক্তার আসতে পারলেন না। তিনিই সনদ বলে চিড়িয়াখানার সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ। তিনি যদি এই সংকটের সুরাহা করতে না পারেন তাহলে আর কি করতে পারবে?

সনদ আর সঙ্গিদের চাপে সন্ধ্যায় বাসায় যাওয়ার আগেই তিনি একটি মুশলিক আসান খুঁজে বের করলেন। একটি উন্মুক্ত সভা আয়োজন করা হবে পরের দিন দুপুরে। সকল পরামর্শই বিবেচনা করা হবে। সবচেয়ে ভালো পরামর্শদাতা মানুষটিকে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কর্মচারীরা জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, চিড়িয়াখানার তোরন, বাসস্ট্যান্ড- বিজ্ঞপ্তি সেঁটে দিলো।

পরদিন দুপুরে শুধু পুরস্কারপ্রত্যাশী পরমর্শক নয় বরং অনেক দর্শণার্থীও উপস্থিত হলো। প্রত্যেকেই আপ্যায়নের প্রভুত আয়োজন করা হয়েছে। চা-চাপ-সিঙ্গারা এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্য্যালয়ের উপাচার্য এই আয়োজনের সাথে থাকতে পেরে গভীর কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন এবং শুভেচ্ছা বানিয়ে পাঠিয়েছেন।

সার্কাসের হাতি-ঘোড়া-বাঘ-সিংহ-সং আর দাঁড়বাজ দিয়ে চিড়িয়াখানার ভেতরে একটা স্থায়ী আয়োজনের প্রস্তাবটাতেই সবচেয়ে ভোট পরেছে। ছোটোবেলার জনপ্রিয় সব সার্কাসের নাম-ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে দেখা গেলো গত ৫ বছরে এদের কাউকেই কোথাও দেখা যায় নি। চীন থেকে জাহাজ ভাড়া করে ওদের দাঁড়বাজদের আমদানী করা যায়- কিন্তু বাংলাদেশের সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সচিবের স্পষ্ট চীনাবিরাগ আছে। তার পছন্দ ইসলামী সংস্কৃতি। তুরস্ক-সৌদি আরবের সার্কাসের দল আছে কি না এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্যে বিশেষ কমিটি তৈরি হলো।

দর্শণার্থীদের ভেতরে উত্তজনে চরমে। সবাই অপেক্ষা করছে চুড়ান্ত পুরস্কার ঘোষণার জন্যে। এর ভেতরে ঘাড়ে বেলুন, বাঘ-সিংহের মুখোশ নিয়ে মঞ্চ উঠলো এক যুবক। জানালো তার নাম রিপন বীরুই। ভাঙাচোড়া চেহারার যুবকের উপস্থিতি কর্তাদের পছন্দে হলো না। তবে উপস্থিত দর্শকদের চাপে তাকেও তার পরামর্শ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো।

যুবক নম্র স্বরে বলা শুরু করলো- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা। তাকে এমন বিদেশী সার্কাসের দল দিয়ে স্বাগত জানানো এক ধরণের ধৃষ্টতা। বেয়াদপি। এতে দেশের অপমান হয়। আমাদের অপমান হয়। আমি কাজগের মন্ড পিষে বিভিন্ন মুখোশ বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আপনার আমার পরামর্শটা একটি মনোযোগ দিয়ে শুনেন। ভালো-মন্দ আপনাদের বিবেচনা।

আমি কাগজের মন্ড দিয়ে জাতির পিতার ১০০০ মুখোশ বানাবো। প্রতিটা মুখোশএর দাম পড়বে ১০০০ টাকা। আপনারা কত টাকা দিয়ে কিনবেন- তা আপনাদের বিবেচনা-

চিড়িয়াখানার বাঁদরের খাঁচায় সকল বাঁদর-হনুমান-ওরাঙ ওটাংদের এই মুখোশ পড়িয়ে দিবো। তারপর মুজিব শতবর্ষের ক্ষণ গণনা শেষ হওয়ার পরের আতশবাজীতে শহর কেঁপে উঠলে এদের সবাইকে খাঁচামুক্ত করে দিবো। আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টার মুখোশ আঁটা প্রাণীগুলোকে বন্দী রাখা উচিত হবে না আমাদের।

এদের প্রত্যেকের মুখোশের সাথে ৫-জি নেটওয়ার্ক আর ব্লুটুথ স্পিকার যুক্ত থাকবে। সেখানে ৭ই মার্চের ভাষন বাজবে। একবার চিন্তা করে দেখেন বিষয়টা- বাঁদরগুলো শহরের বিভিন্ন গাছের ডালে বসে আছে- গাছের ডাল থেকে ৭ই মার্চের ভাষন বাজছে। কেমন গা শিউড়ে ওঠা অনুভুতি। ভাবা যায়? আপনি বসে আছেন- আপানার মাথার উপরে ল্যাজ ঝুলিয়ে বসে আছে একটা বাঁদার- সে দৃঢ় কণ্ঠে বলছে
" রক্ত যখন দিয়েছি- রক্ত আরও দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাল্লাহ।"
আপনি ভাবতে পারেন এর কি প্রভাব পরতে পরবে সবার জীবনে?

উপস্থিত দর্শণার্থী এবং কর্মচারীদের কণ্ঠভোটে রিপন বীরুইএর পরামর্শ প্রথম পুরস্কার পেলো। সনদধারী চিকিৎসক পেটমোটা ফাইলে টেন্ডার-খরচের বিস্তারিত সমেত মহাপরিচালক বরাবর উপস্থাপন করলেন মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উৎসাবের বিস্তারিত।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রিপন বীরুইকে গোয়েন্দা পুলিশ সদর দফতরে আটক করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উপস্থিতি পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রিপন বীরুই মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মানুষ- ভুল করে মঞ্চে উঠে পরেছিলো। তবে এই ষড়যন্ত্রের সাথে বিগত ৪ জোটীয় সরকারের আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত চিকিৎসকের কোনো সংশ্রব আছে কি না তা কতিয়ে দেখতে তারা আলাদতের কাছে চিকিৎসকের ১ মাসের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


আর রাসেলের ব্লগ পড়া হবে না Sad

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.