ইউজার লগইন

সনৎ'এর ব্লগ

ঝরা সময়ের গল্প

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো খুব জোরে চলে। টিএসসি, শাহবাগ মোড় হয়ে বাসটা চলতে থাকে দুরন্ত গতিতে। ব্যাপারটা ভালো লাগে মেয়েটার। দ্রুত বদলে যেতে থাকা পথঘাট দেখতে দেখতে ভুলে থাকা যায় অনেক কিছু।

বৃষ্টি হয়েছে। তবু বিকেলটা ভালো যায়নি ওর। ছেলেটাকে ভালবাসত মেয়েটা। কিন্তু যেটুকু ভালবাসত সেটুকু ভালো ছেলেটা বাসত না। আধভেজা হয়ে বাসে চড়ে এসব কথাই ভুলে যেতে চাইছিলো ও। ক্যাম্পাসে পিছু নিয়েছিলো যে ছেলেটা তার কথাও ভুলে যেতে চাইছিলো। শুরুতে সব ছেলেরা একই কথা বলে, বন্ধু হতে চায়, তারপর প্রেমিক হতে চায়। তারপর অভিভাবক হয়ে যেতে চায়। যেন খাচায় পুরে রাখতে পারলেই ক্ষান্ত হবে। আর একটা সময়ে বুঝিয়ে দেয় যে সম্পর্ক শেষ করার ব্যাপারটা চুল দাড়ি কামাবার মত সহজ কাজ। রোজ রোজ ছেলেদের ন্যাকামি সহ্য করতে করতে বড্ড বিরক্ত জমেছে।

তোমার আশ্রয়

তুমি হয়ত তেমন কাউকে খুঁজে বেড়াচ্ছো
যে তোমার জন্য এক্ষুনি মরে যেতে রাজি
সে যাই হোক
আমিও একা নই।
যদিও কবিতা লেখার জন্য কলমটা খুঁজে বেড়াতে হয়েছে
সিগারেটের মাথায় জমে থাকা গরম ছাইটা
তার একটু আগেই খসে পড়েছে পায়ের আঙুলে
ঠিক যখন তুমি রিকশার হুড তুলে আমাকে পাশ কাটিয়ে গেলে।
এক্ষুনি মরে যেতে রাজি নই আমি;
হয়ত সে কারনেই ডাক শুনতে পাওনি।

এমন এক দুর্দিনের সাথে পরিচয়

এমনও সময় আসবে তা কে জানতো?
আমাদের যায়গায় বসবে মাছের বাজার আর না খেয়ে মরতে থাকবো আমরা
পরিপক্ব হবার আগেই ফলহীন হয়ে যাবে গাছগুলো
আর আমারও দেরি হয়ে যাবে হিসাব করাটা শিখতে।

উপমাগুলো নিরর্থক হয়ে যাবে আর চাঁদটাও রোজরাতে ক্ষয়ে যেতে থাকবে
একদল তরুন পাতা বৃথা শুকিয়ে যাবে
অথচ ওদেরইতো দেবার কথা ছিল অনেকখানি অক্সিজেন
এমনও সময়ে আমাদের অকেজো হয়ে থাকতে হবে আর একদিন
কৌতুকে পরিণত হবো আমরা
আর আমারও দেরি হয়ে যাবে সঠিক পরিমাপ করতে।

এমনও রাতে অসহায় কাঁদবে শুক্রাণুর স্রোত
গলির অন্ধকারে কাঁদতে থাকবে একটি মেয়ে
যে খানিক আগে বারোটি যুবকের হিংস্রতায় পিষ্ট হয়েছে
আর নিরুপায় পতিতাবৃত্তি করতে থাকবে একজন স্নেহময়ী
অথচ এমন সময়ে তার ভাত বেড়ে দেবার কথা ছিল আমাদেরকে
কিন্তু আমার কারনেই ওদের এই দুর্দিন
ঠিক যেমন নদীগুলোকে মেরে ফেলেছি আমি ই
আর দ্বাদশ যুবক হয়ে ধর্ষণ করেছি সেই মেয়েটিকে

আমি নই, প্রিয়তমা

তোমার নামটা মুছে যাক
আমার বুকটা থেকে
চলে যেতে পারো ইচ্ছেমত
দু'চোখ যায় যেদিকে।

রোজ তোমাকে ফুল এনে দেবে
আমি তো তেমন নই
প্রতি ডাক শুনে ফিরে আসবে
রোজ রাতে শুধু ভালোবাসবে
চোখ বেঁধে রেখে বলবে
আমার সঙ্গে চলো-
আহ প্রিয়তমা বলো
আমি কি করে তোমার হই।

সোনালি রোদ্দুরে প্রিয়তমা
দু'ঠোঁটে করে এনে দিতে পারো
যত প্রেম আর ক্ষমা
পরশে কাঁপিয়ে ডানা আর বুক
নিঃশ্বাস ভরে দিতে পারো সুখ
তবু বন্ধু হতে পারো না।

ফুলগুলো সব লাল না হয়ে নীল হলো ক্যান

লেখাটা অনেক ভালো না লাগা নিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে জানি না।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত সেই মেয়েটিকে ভেবেই এটি লিখব বলে ঠিক করেছি। আমার কি-বোর্ডের উপরে সিগারেটের ছাই জমে যাচ্ছে আর অর্ধমাতাল অবস্থায় আমি লিখে যাচ্ছি।

কেননা আধাবোতল হুইস্কি খেয়ে যখন হলে যাচ্ছিলাম তখন দেখেছিলাম মেয়েটিকে কয়েকটি লোকের সঙ্গে বসে থাকতে। ফুলার রোডে। না, সে ফুটপাতে বসে ছিলো না, বসেছিলো রাস্তায়। আর উঁচু ফুটপাতে বসেছিলো দু চারজন যারা মার্ক্সবাদ কিংবা লেনিনবাদে বিশ্বাস করে।

ভালো একটা শিরোনাম খুঁজে পেতেই হবে

মন মাঝি খবরদার
আমার তরী যেন ভেড়ে না
আমার নৌকা যেন ডুবে না।

মজিদ ভাইয়ের দোকানের বেঞ্চে বসে শাফায়াত ভাই গানটা গাওয়া শুরু করলেন। শাফায়াত ভাই চমৎকার গান গাইতে পারে। কিন্তু কদাচিৎ শাফায়াত ভাইয়ের দেখা পাওয়া যায়।
যেসব রাতে দেখা হয়ে যায় সেসব রাত কেটে যায় ভেবে ভেবে। ভাগ্যক্রমে সেদিন রাতেও দেখা হয়ে গিয়েছিল।

গানটা শুনেই পাহাড়ের দেশের রাতে একটা নির্জন জলাভূমির কথা মনে পড়ল। যেখানে চাঁদের আলোয় রাত খেলা করে। একবার প্রকৃতির সেই গোপন স্বপ্নরাজ্য দেখে আমরা পৃথিবীর সব বিষাক্ত দুশ্চিন্তা ভুলে গিয়েছিলাম। তক্ষকগুলো ডেকে যাচ্ছিলো আর পাহাড়ের ভালবাসার পরশে আমাদের দেহমনের সব প্রার্থনা গেয়ে শোনাচ্ছিল লুসি দিদি- সাড়ে তিন হাত নৌকার খাঁচা, মন মন মাঝিরে, ঘন ঘন জোড়া; সেই নৌকাখান বাইতে আমরন, হাড় হইলো গুড়া রে...

কি করে এভাবে আমি থাকি

অনেকেই বলে সময় নষ্ট না করে কিছু একটা কর। একদিন যখন নিজের দুরবস্থার কথা বলে অন্যদের বিরক্ত করছিলাম তখন একজন বলল, কালকে সন্ধ্যা হবার আগে একপাতা হতাশা লিখে ফেলো।

সন্ধ্যার মধ্যে লেখা শেষ হয় নাই। এখন মাঝরাতে এসে লিখতে বসে মনে হচ্ছে লিখে দুঃখ বা হতাশা প্রকাশ করাটা বেশ কঠিন, তাছাড়া দিনে রাতে কত হতাশা জাগে মনে, সেগুলো সব এক পৃষ্ঠায় ধরার কথা নয়। তবুও হতাশা বলে কোনও একটা কিছুর অস্তিত্ব খুঁজে বেড়িয়েছি সন্ধ্যার পর থেকে।

সবচেয়ে বড় হতাশা হল যা ভাবছি তার কিছুই করা হচ্ছে না। কি করা দরকার বুঝতে পারছি কিন্তু কাজে হাত দেয়া হচ্ছে না। অথবা আমি করে উঠতে পারছি না। যা ভাবি তা আসলেই করতে পারবো কিনা তা নিয়েও মনের ভিতর প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

সোনাকাঠির পাশে রুপোকাঠি, পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

মানুষের জীবনের এই যে সীমিত সময়- যদ্দিন বাঁচি খেয়ে পরে আয়েশে কাটাতে হবে। কিন্তু কি করে তা সম্ভব হবে? কয়েক বছর আগেও উত্তরটা সিরিয়াসলি খুজিনি। কয়েক বছর আগে একটা পরিকল্পনা ছিলো। ইন্টার পাশ করে বরফ পড়া কোনও এক দেশে পড়াশোনা করতে যাবো। রাস্তার নির্জনতা মাড়িয়ে ঘরে ফিরবো। ভেবেছিলাম দারুণ হবে ব্যাপারটা।

কিন্তু দেখা গেলো ক্লাসমেটদের ভিতরে যাদের মুখে কখনো বিদেশ যাবার কথা শুনিনি তাদের কেউ কেউ চলে গেছে চীন কিংবা ইন্ডিয়া। আর এদিকে আমি মিশে যাচ্ছি এই শহরের হাহাকারে।

কলেজের দিনগুলো ছিলো নিশ্চিন্তে পথচলার মত। প্রতি রাতে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাদের বুকে আগলে রেখে আমি ঘুমাতাম। সেই ঘুম ছিলো সত্যিকারের শান্তির ঘুম। দিনগুলো কিভাবে যে শেষ হয়ে গেছে তা আমি জানি না। সেই সব দিনে কখনোই ভাবি নি পরের বছরগুলো কেমন হবে।

বিষণ্ণতা যে দিন তারা হয়ে জ্বলবে

কি জানি হচ্ছে ইদানিং। জমে থাকা কাজগুলো করাই হয়ে উঠছে না। টেবিলটা খুব অগোছালো হয়ে আছে। অজস্র ধুলো জমেছে কম্পিউটারের মনিটর আর বইগুলোতে। কয়েকটা ফোন কল আর ইমেইল করার কথা সময়মত মনে থাকছে না।
এরই মধ্যে গরম পড়ে গেলো। কয়েকটা টি শার্ট কেনা দরকার। একটা রোদ চশমাও ভীষণ জরুরী। তার চেয়েও জরুরী আগামি মাসে পাহাড়ে বেড়াতে যাবার জন্য অগ্রিম টিকেট কেটে রাখা। কে কে যাবে, কোথায় কোথায় যাবো সেসবও কিচ্ছু জানি না।
অথচ দিনগুলো একটা একটা করে ফুরিয়ে যাচ্ছে। কাল রাতে সবুজ ঘাসের চাদরে বসে অবকাশ যাপনে রত ছিলাম, আকাশে ছিলো বিশাল আকৃতির চাঁদটা। আধ শোয়া হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে শাহিন ভাই বললেন, চাঁদতো দেখা যাচ্ছে। তখনই আমাদের মনে হল যে ফাল্গুন মাসটা চলে গেলো।

চৈত্রঃ ঝিঁঝিঁর গুঞ্জনে ডুবে যাওয়া বিষন্ন দুপুর

কাল রাতেও ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাবো। কিন্তু রাত দশটার দিকে প্রিয় ক্যাম্পাসে পা রাখতেই ফোন বেজে উঠলো- দ্রুত চলে এসো, সোনালি শিশির ফুরিয়ে যাচ্ছে।

শাহবাগ থেকে জোর কদমে হাঁটা দিলাম। গিয়ে দেখি এখানে ওখানে আসর জমেছে। দূর থেকে শুনতে পেলাম রনি ভাইয়ের গলা- আমার ভালবাসা পিরামিড, আমার দুঃখগুলো নীলনদ। লাইনগুলো সেই যে ঢুকেছে মাথায় আর বের হবার নাম নেই।

পাশেই আর এক দল পাহাড়ে স্থায়ী নিবাস করা সংক্রান্ত এক তুমুল আলোচনায় মগ্ন ছিলো। আমি কিছুক্ষণ ওদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আর মনে মনে ঠিক করে ফেললাম, এবারের বিজুতে ওদের সাথে আমিও যাচ্ছি।

হৈ হল্লা করতে করতে কালো রাস্তা ধরে ভাত খেতে গেলাম। রুমে ফিরতে ফিরতে রাত ২ টা। কম্পিউটারটার কি যে হয়েছে। প্ল্যানেট আর্থ এর জঙ্গল পর্বটা দেখতে দেখতে তিন বার বন্ধ হয়ে গেলো কোনও কারন ছাড়াই। ৩ টার সময় ধরা দিলাম বিছানার কাছে।

শুধু ফুরিয়ে যাবার এই ভয়

হাত পা ধুয়ে ব্যালকনিতে বসে একটা সিগারেট জ্বালানোর পর দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনার দৃশ্যগুলো ফিরে আসে।

ঘুম ভেঙ্গেছিলো দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। অথচ সেই সকাল ৮ টায় লিজা নামের বান্ধবী ফোন করে ডেকে দিয়েছে, আমি বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে ওর সাথে ৫ মিনিট কথা বলেছি। দুপুর দুটোয় পরীক্ষা। বিনিয়োগের কঠিন দুটো চ্যাপ্টার পড়তে হবে। তবুও হেরে গেলাম আলসেমির কাছে।

পরীক্ষাটা খারাপ হল যথারীতি। আরেকজনের খাতার দিকে তাকিয়ে একটা অংক দেখার চেষ্টা করার সময় ম্যাডাম চীৎকার করে উঠলেন- এই যে ঝাঁকড়া চুল, আপনাকে কিন্তু পরীক্ষা দিতে দেবো না।

এই দিন আর রাত একটা ফাঁকা রাস্তার মত

বেশ কিছুদিন ধরে মনের ভিতরে ভাবনা জমে আছে। সেগুলোতে ধুলোও জমেছে বিস্তর। কাজে-অকাজে দিনটা কেটে যাবার পর রাত হলে হটাৎ করে ঠাণ্ডাটা যখন জেঁকে বসে তখন অলসতা আমাকে মেরে ফেলার উপক্রম করে। তার মধ্যে ইদানিং শৈত্যপ্রবাহ নামক শীতকালীন বাতাসটা রাতে-বিকেলে গায়ে লেগে হিম শিহরণ জাগাচ্ছে প্রায়ই।
সেই বাতাসে হেঁটে হেঁটে হলে ফিরি। পাশ দিয়ে রিক্সা চলে যায়, জামাকাপড়ে প্যাকেট হওয়া মানুষগুলো আমার গতিবিধি দেখে উদ্দেশ্যহীন মনে করে হয়ত। মাঝে মাঝে তাদের সাথে আমার দৃষ্টিবিনিময় হয়। তুষারের দেশে পথ পাড়ি দেবার সময় এক পথিক আরেক পথিকের সাথে হয়ত এভাবেই দৃষ্টিবিনিময় করে হয়ত।

চাঁদ, ঝরাপাতা আর বিকেলের পাখিদের সাথে পথচলা

রাতে হলে ফেরার সময় যখন আমি হারিয়ে যেতে থাকি তখন একটা চাঁদ প্রায়ই আমাকে সঙ্গ দেয়। তারপর ঘুমানোর জায়গাটা অ্যাভেইলেভল হলে মেঘ, রাতের চাঁদ আর মাথা জুড়ে থাকা ভাবনাগুলোকে বিদায় জানাতে হয়। ততক্ষণে চোখ মুখ বন্ধ। তখন আমার শরীর মনে অতীতের কোন আচ্ছন্নতা থাকে না। ঘুমের সময় নাকি মানুষ পুরোপুরি নাই হয়ে যায়। এটা সেটা পরিকল্পনা জড়ো করতে করতে ঘুম চলে আসে আমাকে নাই করে দেবার জন্য।