গ্রীক পুরাণের সৃষ্টি পর্ব - ১
Once upon a time ....... সে বহুকাল আগের কথা অথবা অনেক অনেক দিন আগে এভাবেই গল্প শুরু করতে হয় কিন্তু মুশকিল হচ্ছেএই গল্পের শুরু সময় শুরুর ও আগে যখন আকার-অবয়বহীন শুন্যতা ছাড়া আর কিছুই ছিলো না, আলো আর অন্ধকার মিলেমিশে একাকার হয়ে ছিলো সেই সময়হীন সময়ে, সেই অসীম শূন্যতায় এক বিশালাকার কালো ডানার পাখি নিক্স তার সোনালী ডানায় তা দিয়ে যাচ্ছিলো বিরামহীন। তার প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই সোনালী ডিম থেকে প্রস্ফুটিত হয় ইরস, প্রেমের দেবতা, আর সেই সোনালী ডিমের খোসার অর্ধেকটা রূপান্তরিত হয় ইউরেনাস (আকাশ) আর বাকি অর্ধেকটা হয় গায়া (পৃথিবী)। প্রেমের দেবতা ইরস এর আশীর্বাদে প্রেমবিদ্ধ হয় ইউরেনাস ও গায়া। ইউরেনাস ও গায়ার প্রথম সন্তানরা ছিলো তিন টি দৈত্যাকার সাইক্লোপ, সাইক্লোপ রা ছিলো ৫০ টি মাথা ও ১০০ টি হাত বিশিষ্ট কিন্তু এদের একটি মাত্র চোখ ছিলো, গায়া ও ইউরেনাসের পরের সন্তানরা ছিলো ১২ টি টাইটান, টাইটানরাও দৈত্যাকার ও অসম্ভব শক্তিশালী ছিলো এবং তারা সবাই ছিলো বিদ্ধ্বংসী স্বভাবের। ইউরেনাস মহাবিশ্বের অধিপতির ভয় ছিলো যে তার সন্তানেরা তাকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে নেবে তাই ইউরেনাস তার সন্তানদের বন্দী করে রাখে যা গায়া মোটেও পছন্দ করতে পারে নি।
গায়ার সহায়তায় গায়া ও ইউরেনাস এর সবচেয়ে কনিষ্ঠ সন্তান টাইটান ক্রোনাস ইউরেনাস কে যুদ্ধে পরাজিত করে এবং ক্ষমতা দখল করে কিন্তু সে তার অন্য ভাইদের মুক্ত না করে বন্দী অবস্হায় রেখে দেয় ক্ষমতা নিরুপদ্রব ভাবে উপভোগ করার জন্য। ক্রোনাস তার বোন অপর এক টাইটান রিয়া/রেয়া কে বিয়ে করে, ক্রোনাসেরও ভয় ছিলো তার সন্তানেরাও তারমত তাকে উৎক্ষাৎ করে ক্ষমতা দখল করবে তাই যখনি রেয়ার কোন সন্তান জন্মাত ক্রোনাস তার সন্তানদের গিলে ফেলতো কিন্তু গায়ার আশীর্বাদে ক্রোনাস-রেয়ার সন্তানেরা ছিলো দেবতা, তারা অমর তাই ক্রোনাস তাদের গিলেফেললেও তারা মারা না গিয়ে ক্রোনাসের উদরের ভেতরেই বেড়ে উঠতে থাকে , ক্রোনাস একে একে তাদের ৫ টি সন্তান দিমিত্রি, হেরা, হেসিয়া, পোসাইডন এদের গিলেফেলে। ছয় নম্বর সন্তানের জন্মের পর রেয়া তার শিশুপুত্রকে তার মা গায়ার কাছে লুকিয়ে রাখে এবং একটি পাথরখন্ড কাথায় জড়িয়ে ক্রোনাস কে দেয়, ক্রোনাস সেটাকেই গিলে নেয় এবং নিঃশ্চিন্তে কালাতিপাত করতে থাকে , হায় সে যদি জানতো ওনাকে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে......
রেয়ার সেই লুকিয়ে রাখা ছেলেটাই ছিলো জিউস, দেবরাজ জিউস। জিউস যখন পরিণত বয়ষ্ক হয় তখন রেয়া তাকে তার ভাইবোনদের কথা এবং তার নিজের কথা বলে তাকে উদ্বুদ্ধ করে তার ভাইবোনকে মুক্ত করার জন্য। গায়া ও জিউসের পরামর্শে রেয়া ক্রোনাসের খাবারের সাথে বিশেষ ধরনের লতা-পাতা মিশিয়ে দেয় (তুক-তাক) এবং ক্রোনাস বাধ্য হয় তার সন্তান দের উগরে দিতে। জিউসের পরিচালনায় তারা ক্রোনাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তবে ক্রোনাস ও একা ছিলো না ক্রোনাস এর সাথে ছিলো তার ভাই-বোন অন্য টাইটান রা। দেবতা ও টাইটানদের সেই যুদ্ধ দীর্ঘদিনব্যাপি চলতে থাকে , এ যেন এক অনন্ত যুদ্ধ। টাইটানদের মধ্যে প্রমিথিউস ছিলো ভবিষ্যৎদ্রষ্টা সে বুঝতে পারে এই যুদ্ধে দেবতাদের জয় অনিবার্য। প্রমিথিউষ তখন পক্ষ পরিবর্তন করে এবং গোপনে দেবতাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিতে থাকে, প্রমিথিউসের পরামর্শেই জিউস গায়ার প্রথম তিন সন্তান সাইক্লোপসদের মুক্ত করে দেয় মুক্তিপেয়ে সাইক্লোপস রা প্রানপণে লড়াই করতে থাকে ক্রোনাস এর বিরুদ্ধে কারন ক্রোনাস ইউরেনাসকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরো তাদের মুক্ত করেনি। এভাবে বিশ্বাসঘাতক প্রমিথিউস ও দৈত্যাকৃতির সাইক্লোপদের সাহায্যে দেবতারা যুদ্ধে জয়ী হয় এবং টাইটানদের বন্দি ও নির্বাসিত করে।
যুদ্ধ শেষে দেবতারা তাদের আবাস্হল হিসেবে নির্বাচিত করে অলিম্পাস হিসেবে। অলিম্পাসে দেবতাদের সাথে যোগ দেয় দুজন টাইটান প্রমিথিউস এবং এপিমেথিয়াস।
টাইপ করতে করতে টায়ার্ড হয়ে গেলাম , আগামী পর্বে মানুষ সৃষ্টির কথা লিখবো; এখন আসেন দেখি যেটুকু লিখলাম সেখানথেকে কি শিখলাম:
১) যে যায় লংকায় সেই হয় রাবণ
২)ইতিহাস বারবার পুণরাবৃত্ত হয়
৩)আপনি কার সাথে আছেন সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ কার বিপক্ষে আছেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ কারন যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর শত্রু বন্ধুই হয়।
৪)যুদ্ধে জিততে হলে আপনার বিভীষণের সাহায্য লাগবে
৫)এক বেটি বেওয়াফা হো সাকতি হে, এক বিবি বেওয়াফা হো সাকতিহে লেকিন এক মা কাভি বেওয়াফা নেহি হো সাকতি।
৬)Power can't be given, It must be taken.





এই বিষয়ে আমার জ্ঞান শূন্যের নিচে মাইনাসে; এবং ঠিক এই জিনিসগুলাই (টাইটান কারা, দেবতাদের সাথে এদের মাইরপিট কেন?) কয়েকদিন ধরে জানতে চাইছিলাম! আপ্নে জানলেন কেমন করে? অনেক ধইন্যা, সাথে পুদিনা পাতাও।
পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
আমার নিজের জ্ঞান ও শুন্যের কোঠায়; আর গুগল আংকেল থাকতে এগুলা জানাতো ব্যাপার না, আমি তো গুগল আঙকেল রে খোচাখুচি করেই লিখলাম; আপনার সাথে মনে হয় আমার টেলিপ্যাথিক যোগাযোগ আছে
;
সবসময় গুগল মিয়ারে জিগাইতে ভাল্লাগে না, আপনেরা সহজ কইরা লেইখ্যা দিলে পইড়া আরাম হয়
...
আমি ওইদিন একটা গেম-এ দেখলাম দেবতারা টাইটানদের হেভি কোপাইতেছে, তখন থেকেই জানার ইচ্ছা হইছিল আরকি
...
তা অবশ্য ঠিক;
আমার ক্ল্যাশ অফ টাইটান এড় এড দেইখা টাইটানদের কথা লিখতে মনচাইলো
শিক্ষামূলক লেখাটা ভালো লাগলো...
ধন্যবাদ
বাণীচিরন্তনী!
একটা কুশ্চেনঃ বেওয়াফা মানে কি?
বেওয়াফা মানে বিশ্বাস ঘাতক
জিউসের আগের কাহিনী জানতামনা। ধন্যবাদ।
তবে গিয়্যান শিক্ষার ৫ নম্বরটা বেহুদা হিন্দি দিছেন।
আসলে ৫ নম্বরটার কাছাকাছি প্রচলিত বাংলা কিছু খুজে পাইতেছিলাম না; একবার ভাবছিলাম লিখি কুপুত্র যদিও হয় কুমাতা কখনো নয় কিন্তু ঐটা আসলে ঠিক ভাবটা প্রকাশ করেনা তাই এই বহুল প্রচলিত হিন্দি সিনেমার ডায়লগটাই দিলাম;
পাখি নিক্স কোথা থেকে আসলো?
যাস্ট জানতে চাই
সবকিছুর শুরুতে কি ছিল সেইটা ব্যাখ্যা করতে গেলে একটা প্যারাডক্স আইসা পড়ে। কেউ জানে না শূন্য থেকে কেম্নে এতো কিছু, যেই কারণে যুক্তি দিয়া কেউ আস্তিক-নাস্তিক হইতে পারবে না। বিশ্বাস দিয়াই হইতে হবে।
পড়ার সময় আমার নিজেরো এই কোশ্চেন আসছে কিন্তু আমি জানি না সো আপনারেও জানাইতে পারলাম না
তথ্যবহুল পোস্টের জন্য ধন্যবাদ
অকল্পনীয় এক বর্ননা। আলো আর অন্ধকার মিলেমিশে একাকার.... আচ্ছা সেটা দেখতে কেমন হত?!!!
ঘটনাগুলা মজা লাগছে পইড়া। ৪ নং টা বাস্তব সত্য হইলেই যুদ্ধে Fair না । যদিও "All's fair in Love and War"
বকলম ভাই এই লাইনটাও কপি মারা; প্রাচীনকালে একটা গল্প পড়ছিলাম ঐ গল্পটা এরকম ছিলো যে পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে এক বিশাল শুন্যতায় আলো - অন্ধকার, ভালো-মন্দ , আকাশ পৃথিবী সব মিলে মিশে একাকার হয়ে ছিলো তখন এক দেবী নেচে নেচে সব আলাদা করছিলো আর আকাশ তারা দিয়ে আর মাটি বৃক্ষরাজী দিয়া সাজাইছিলো ঐখান থেকে একটু মেরে দিলাম আর কি
মজার ব্যাপার হৈলো ম্যাক্স ধর্মেই এই ধরণের "তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে" টাইপ একটা না একটা কাহানী রইছে।
কোনোটায় এক্কেবারে প্রথমে, কোনোটায় একটু কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মাঝামাঝি
তা আছে
গ্রীকদের কাহিনী পড়তে মজা লাগে। হিন্দু পুরাণও মজার।
আমার তো সব রকম কাহিনীই কমবেশি মজাই লাগে;
অনেক কিছু জানতে পরিলেম.......
জানাতে পেরে আমি ধন্য
ঘটনা গুলা ঝান্তাম ।
পরের পর্বের অপেক্ষায় ।
কাকন্দির দেখি বানান ভুল কম হইতাছে ইদানিং!! কাহিনী কি?!!!
খাইছে....
হারকিউলিস, সাইকি..এরার কাহিনী পড়তে গিয়া এইসব বাইর হৈছিলো....আমি আবার বেশি নাম মনে রাখতে পারিনা....
এডি কি অনলাইনে পড়ছি?
ফরহাদ খানের প্রাতীচ্য পুরান বা এই টাইপ বই পড়লে বেশি মজা পাওন যায়...কাহিনি সংক্ষেপ আরকি...বড় পড়া পড়তে হয়না কষ্ট কৈরা
বাংলা একটা আমিও পড়ছিলাম তবে লেখকের নাম মনে নাই
কাহিনী পইড়া ভালা পাইলাম।
ধন্যবাদ ; আছেন কেমন ?
ইতিহাস পইড়া টাশকিত হইলাম। আহারে আমাদের সময় ইতিহাসবিদরা যদি এমনকরে পাদটিকা দিতেন।
ইতিহাসের ভাষা অতীব সুন্দর ও আধুনিক ঃ)
মাল্টি ট্যালেন্ট
ইতিহাসের পাদটিকা দিয়া আসলে আখেরে কোন লাভনাই আপু কারন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পাদটিকা হইলো ইতিহাস থেকে কেউ কোন শিক্ষা নেয় না
এইতা পড়ি না আমি ...
গুড; হুদা টাইম লস কইরা ফায়দা নাই
গ্রিক মিথোলজির এই শুরুর অংশটা বড় ধোয়াটে। কয়েকরকম বর্ননা পাওয়া যায়।
আপনি কষ্ট করে বাংলায় টাইপ করছেন, ধন্যবাদ।
হুমায়ূন আহমেদের বৃহন্নলা বইএ একটাঘটনা এরকম যে একজন লোক এক গ্রামে বিয়েতে বরযাত্রি হিসেবে গিয়ে একটা গল্পশোনে গল্পে বর্ণনা ছিলো এরকম্যে এক জঙ্গলটাইপ জায়গায় এক গ্রাম্যবালিকার লাশের কাছে একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে ; মাস ছয়েক পর মুখে মুখে ঘুরতে ঘুরতে গল্পটা দাঁড়ালো অমাবস্যার রাতে এক নগ্ণ তরুণীর মৃতদেহকে ঘিরে চক্রাকারে ঘুরছে একদল কুকুর।
আর এত হাজার হাজার বছর আগের কথা; হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে, পরিবর্তিত হয়েছে, অনেকগুলো ভার্সন তৈরী হয়েছে। মূল গল্পটা কিছিলো আমরা কখনোই জানতে পারবো না।
ভালো লিখেছেন।
মন্তব্য করুন