ইউজার লগইন

ননসেন্স'এর ব্লগ

তোমার স্মৃতি

আমারও ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।

নীল আকাশের নীচে দাড়িয়ে গলা ফাটিয়ে চিতকার করে বলতে ইচ্ছে করে "ভালোবাসি অনেক ভালোবাসি।"

হাজারো মানুষের মাঝে হাটুগেরে বসে ফুল দিয়ে বলতে ইচ্ছে করে "তুমি কি আমার হবে?"
তোমায় ঘিরে শত-সহস্র মোমবাতি জ্বেলে বলতে ইচ্ছে করে "এরচেয়েও বেশি আলো তুমি জ্বেলেছো মোর হৃদয়ে।"

চাদেঁর আলোয় তোমার মুখোমুখি বসে চাদঁকে কাচকলা দেখিয়ে বলতে ইচ্ছে করে "তুমি মোর অপরুপা।"

হাজারো নারীর আহ্বান পেছনে ফেলে বলতে ইচ্ছে করে "তুমি আমার একটাই তুমি।"
সর্বোপরি তোমায় বলতে ইচ্ছে করে "তুমিই সে যার ঠোঁটে ঠোঁট ছুইয়ে আমি ঘুমোতে চাই , আবার ঘুমের পরে চোখ খুলেই যাকে দেখতে চাই।

হয়তো আমার এই আবেগ তোমার কাছে স্বস্তা ! কিন্তু তারপরও তুমিই আমার একটাই তুমি। তুমি নেই কিন্তু তোমার স্মৃতি তো আছে, বেঁচে থাকার জন্য ওটাই বা কম কি???

স্বর্ণালী অপ্সরী !!!

যখন ভালোবাসতে শুরু করেছিলাম তখন তুমি তেমন জনপ্রিয় ছিলেনা। তারপর কেটে গিয়েছে অনেক সময়। কিন্তু তুমি সেই সোনালী পোশাকে মোরানো ফর্সা ধবধবেই রয়ে গেছো।

স্বর্ণালী অপ্সরী !!! হ্যাঁ এটাই বুঝি তোমার জন্য সবথেকে ভালো নাম।
হে সোনালী পোশাকে আবৃত শ্বেতশুভ্র অপ্সরী , তোমাকে সবচেয়ে অপরূপা কোথায় লাগে?

দুই আঙ্গুলের ফাকে নাকি দুই ঠোঁটের মাঝে ?

তোমায় চুমুতে ভরিয়ে দেই আমি সর্বদা। যুগে যুগে কত্তো মহামানবরা তোমায় একটি চুমু দেওয়া কে শত নারীর ঠোঁটের চেয়েও মূল্যবান বলেছে।

তুমি এখনো সুন্দর ওই সোনালী ঘরে। তোমার সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায় যখন তুমি জ্বলন্ত অবস্থায় থাকো দুই আঙ্গুলের ফাকে অথবা দু'ঠোঁটের ফাকে।

তুমি একাকিত্বের সঙ্গি। তুমি অবসরের সাথী। তুমি মানসিক প্রশান্তি জোগাও প্রচন্ড ব্যাস্ত সময়ে। করে তোলো উতফুল্ল অনেক চিন্তার মাঝেও। নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করো যখন ভাবনার সীমান্তে পৌঁছে যাই।

মাঝে মাঝে তোমারই কারনে প্রেমিকার সাথে হয়ে যায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ !!!! মাঝেমধ্যে তোমার জন্য মা'র সামনে চকলেট খেতে খেতে যাই।

লং ডিস্টেন্স রিলেশনশীপ

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। স্নিগ্ধর মনটা আজ খুবই খারাপ। তার ভালোবাসার মানুষটি তার থেকে অনেক দূরে থাকে। তাদের সময়ের ব্যাবধান ১২ ঘন্টার ; স্নিগ্ধর দেশে যখন রাত নামে তখন মিনির দেশে করকরে রোদ।

মিনি অনেক ভালো একটা মেয়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতপরিবর্তনশীল দেশে থেকেও যে তৃতীয় বিশ্বের একটি ছেলের জন্য অপেক্ষা করে। তার সকল ভাবনা জুড়েই স্নিগ্ধর বিচরণ। এমনকি স্বপ্নও আসে স্নিগ্ধর স্নিগ্ধতা নিয়ে।

তাদের মাঝে যোগাযোগের একটাই মাধ্যম , সেটা হলো ভার্চুয়াল জিনিস। হয় ফোনে তাদের ভাবনার বিনিময় ঘটে নয়তো চ্যাটিং এর মাধ্যমে আবেগের আদানপ্রদান ঘটে। তবুও হাজার মাইল দূরের দুটি মানুষ কিসের যেনো একটা বাধনে বাধা।

স্নিগ্ধ জানালায় বসে আছে। দেশে এখন চার নম্বর বিপদ সংকেত চলছে। সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারনে সারাদেশে বৃষ্টি নামছে। স্নিগ্ধ স্বাভাবিক একটি ছেলে। আর তাই আজকের আবহাওয়া তার মাঝে রোমান্টিক একটা আবহের সৃষ্টি করেছে; মাঝে মাঝে এটি মিনির শূণ্যতাকে প্রকট করে তুলছে|

কথোপকথন

প্রচন্ড রকম রোমান্টিক কোনো মেয়ের সাথে যদি আত্মভোলা কোনো ছেলের প্রেম হয় তবে তাদের মধ্যকার কথোপকথন অনেকটা এমন হয়।

জানটা তুমি কি করছো?

-- বিড়ি ফুকি।

সারাদিন তোমার কোনো কাজ নাই? যখনই কল করি তখনই বিড়ি খাও।

-- কি করবো বলো কাজের সময় তো আর তুমি কল দাওনা!

ইয়ার্কি মারবা না! তোমার ইয়ার্কি দেখলে আমার গা জ্বলে!

-- ও আচ্ছা, আর কি কি দেখলে তোমার গা জ্বলে?

তোমার সবকিছু তে ই আমার গা জ্বলে!!

-- তাইলে তো তোমার এত্তো দিনে পুড়ে শীক হয়ে যাবার কথা।

সে তো তোমার সাথে সম্পর্কের পর থেকে প্রতিনিয়ত ই হচ্ছি।

-- তাই তো বলি তোমার গায়ের রং কেনো দিনে দিনে কালো হয়ে যাচ্ছে!!!

আবার ইয়ার্কি করে! মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু।

-- মেজাজ খারাপ হওয়া ভালো , এতে মনের দুঃখ পুড়ে ছাই হয়ে উড়ে যায়।

তোমারে নিয়ে আর পারিনা। আচ্ছা তুমি কি কোনোদিনই সিরিয়াস হবা না?

-- কোন ব্যাপারে যেনো সিরিয়াস হওয়া লাগবে?

কেন আমাদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে , রিলেশনের পরিনতির ব্যাপারে।

-- ও আচ্ছা , ওইটা নিয়ে তো আমি সিরিয়াস।

তাই! নাকি? কবে থেকে?

-- এই যে এখন থেকে।

অদ্ভুত সেই ছেলেটি

আজ আকাশের মন খারাপ। সে মুখ গোমড়া করে আছে। গোমড়া মুখে কষ্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে সবার মাঝে ......

এই কষ্ট হঠাৎ স্পর্শ করেছে জানালার ধারে বসে থাকা একাকী অদ্ভুত শ্রাবণ কে। শ্রাবণ আর কেউ না , ঢাকা শহরের যেকোন জানালা দিয়ে অসীম আকাশ পানে তাকিয়ে থাকা সাধারণ একটি ছেলে। নির্মম বাস্তবতা যার সুখ লুটে নিয়েছে। শুধু নিতে পারেনি পথচলার আগ্রহ ! আর তাই সর্বস্ব হারিয়েও বাস্তবতাকে কাচকলা দেখিয়ে সে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে চলে সামনের দিকে।

শ্রাবণ তাকিয়ে আছে আকাশের পানে। আকাশের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ। শ্রাবণের দৃষ্টি মেঘের পানে নয়। মেঘের সৌন্দর্য , প্রভাব , প্রতিপত্তি কিছুই শ্রাবণকে আকর্ষণ করে না। শ্রাবণ সর্বদা মেঘের মাঝে কাকে যেন খুজেঁ ফেরে। হয়তো বৃষ্টিকে , হয়তোবা চাদঁকে !!! নাকি রাতজাগা পাখিটাকে ? এর জবাব তো শুধুমাত্র শ্রাবণই দিতে পারে।

গায়েবি বুক

ফেসবুকে এখন গায়েবি বুকে(নগরীতে) পরিনত হয়েছে। সর্বত্র চলছে গায়েবি ফুউউউউউ।
আজ অমুক সেলিব্রেটির আইডি গায়েব তো কাল তমুক সেলিব্রেটির স্ট্যাটাস। আর পরশু আরেকজনের ফটো।
এভাবেই চলছে আইডি , স্ট্যাটাস আর ফটোর গুম।
এইতো গতকাল গুম হওয়া একটি আইডি পুনরুদ্ধার করা গেছে। এরপর তার কাছথেকে আমরা জানতে পেরেছি যে তাকে নাকি কতিপয় ছাগল খাওয়ার চেষ্টা করেছিলো।

এই কথা শুনে জনৈক মহাপুরুষ বলেছেন, “ আসলেই ছাগলে কি না খায় ?”

ছাগু সর্দার অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “ এই গায়েবের সাথে ছাগু সম্প্রদায়ের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, ইহা শফি সাহেবের ফুউউউউ এর কারসাজি।”

আবেগঘন কন্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমরা ছাগু, আমরা কাঁঠাল পাতা খাই; আর মাঝেমাঝে বাঁশের কেল্লায় গিয়ে বাঁশপাতা খাই, কিন্তু আমরা আইডি খাই না। ”

তাদের এই কথা শুনে প্রতিবাদী কন্ঠে সরকার সাহেব বলেন, “ আপনারা জানেন ছাগলে সবই খায়, আর তারই ধারাবাহিকতায় ছাগুরা বিভিন্ন চেতনাধারীদের আইডি খেয়ে দিচ্ছে।”

একজন অতিসাধারন ছেলের উপাখ্যান

ছেলেটি রাতে জানালা ধরে বসে থাকে। ঘুমের আগ পর্যন্ত জানালাই তার আশ্রয়।
মাঝে মাঝে জানালার বাইরে ঝড় হয়। প্রচন্ড ঝড়। ঝড়ের তান্ডবে পৃথিবীর অনেক কিছুই লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সে ঝড় ছেলেটিকে স্পর্শ করতে পারে না। কিন্তু ওই বেহায়া বৃষ্টি!!! সে তো পিছু ছাড়েনা। ছুটে চলে আসে জানালার ফাকাঁদিয়ে। ভিজিয়ে দেয় ছেলেটির চিবুক। মাঝে মাঝে ঠোঁটের উপরে এসে পরে। তাতে ছেলেটি বিরক্ত হয় না। আসলে বলদ টাইপের ছেলে তো ? তাই সহজে রাগ হয়না।
কখনোবা দক্ষিণের দমকা হাওয়ায় ছেলেটির চোখ বুজে আসে। সে বৃষ্টির এই সব মানষিক অত্যাচার সহ্য করে যায়। দিনের পর দিন বছরের পর বছর। মুখে কোনোরূপ বিরক্তির চিনহ আনেনা। তাতেও বৃষ্টি থামেনা , অবিরাম ঝরতে থাকে।
ইদানিং বৃষ্টির এইসব ছেলেমানুষি ছেলেটা উপোভোগ করে। সে চোখ বুজে অনুভব করে দমকা হাওয়া। আর ছিটে আসা জল থেকে নেয় বৃষ্টির ছোঁয়া ; এই অনুভূতি অপ্রকাশ্যই থেকে যায়। সর্বদা সবার কাছে।

সাধারন একজন মায়ের একজন অতি সাধারন সন্তান

আমার মা, বড্ড সেকেলে !!!!
সে ফেসবুক বোঝে না ! মা দিবস সম্পর্কেও জানেনা !! কিন্তু সে আমার মা।

গতরাতে মায়ের সাথে কথা হচ্ছিলো,
- মা , কাল তো মা দিবস। এইদিন সবাই সবার মা'কে অনেক উপহার দেয়।
-- মা, দিবস আবার কি জিনিস ? মায়ের আবার কোন দিবস লাগে নাকি?
- তোমার কি লাগবে বলো?
-- আমার কিছুই লাগবে না। তুমি ভালো আছো?
- হুম, অনেক ভালো; কিন্তু কি লাগবে বলো ?
-- আচ্ছা যা মোবাইলে কিছু টাকা পাঠিয়ে দিও। এত্তো বড় হয়ে গেছে এখনো জ্বালায়।
- হা হা হা, আমি তো ভালো ছেলে !!! পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো ছেলে। আমি আবার কিভাবে জ্বালাই?
-- হ তুমি তো সবার চেয়ে ভালো। ভালোই থেকো। কোন ভেজালে জড়িও না।
- আচ্ছা। মনে থাকবে।
-- রাতে ভাত খেয়েছো ?
- নাহ, একটু পরে খাবো।
-- কি রান্না করেছে আজ ?
- গরুর গোস
-- তোমাকে না বলেছি গরু খাওয়া কমাতে, এত্তো গরু খেলে তো প্রেসার বেড়ে যাবে।
- মা তুমি কোন টেনশন নিও না, আজই লাস্ট। এই সপ্তাহে আর গরু খাবো না।
-- মনে থাকে যেনো?
- আচ্ছা, মনে থাকবে। মা তোমার শরীর ভালো তো?
-- হ্যাঁ। এখন সুস্থ। তোমার অফিস ঠিক মতো চলছে তো ?
- হ্যাঁ, পারফেক্ট।

হেলিকপ্টার

হেলিকপ্টার :
হেলিকপ্টার একটি রহস্যময় যান। ইহা ব্যাবহার করিয়া খুবই স্বল্প সময়ে একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করা যায়। ইহার ব্যাবহার বাংলাদেশে বহুবিধ।

মুল্য :
একটি ব্যাটারী চালিত হেলিকপ্টারের মূল্য ১৫০০ - ২০০০ টাকা। ইহাকে অতি সহজেই রিমোট কন্ট্রোল ব্যাবস্থার সাহায্যে শূন্যে ওড়ানো যায়। তবে একটি সত্যিকারের হেলিকপ্টারের মূল্য অনেক। ইহা ক্রয়করা সকলের পক্ষে সম্ভব নহে।

ব্যাবহার :
ইহা ব্যাবহার করিয়া সাধারনত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী শূন্যে থেকে পরিস্থিতি অবলোকন করে। তবে মাঝে মাঝে বড় অপরাধী বহনের ক্ষেত্রেও হেলিকপ্টারের ব্যাবহার পরিলক্ষিত হয়। তবে এই সকল কাজে ইহার ব্যাবহার অনেকেরই অপছন্দ; তাহারা হেলিকপ্টারের যত্রতত্র ব্যাবহারকে জামাই আদর বলিয়া থাকে।

যাতায়াত খরচ:
যেহেতু হেলিকপ্টার খুবই আরামদায়ক বাহন তাই ইহার যাতায়াত খরচ ও অত্যাধিক। সাধারনত জামাইগন ইহাতে চাপিয়া শশুর বাড়ি যায়। যেমন আমাদের সুপারস্টার এ জে অর্থাত অনন্ত জলিল। উনি ইহাতে চড়িয়া তাহার শশুর বাড়ি বেড়াইতে গিয়েছিলেন। তিনি একজন সি আই পি তাই তিনি এই খরচ বহনে সক্ষম।

কিছু জিজ্ঞাসা

কর্মকান্ড ১: নতুন প্রজন্ম ১৭ দিন টানা বিক্ষোভ সমাবেশ করলো , কিন্তু কোনো সহিংসতা হলোনা। একটি বারের জন্যও অরাজকতার সৃষ্টি হলোনা। লাখো মানুষের জমায়েত , স্লোগান কিন্তু হলোনা কোনো ক্ষয়ক্ষতি।

ফলাফল: এটা নাস্তিকদের আন্দোলন। এরা ইসলাম এর শত্রু। এদেরকে রুখে দিতে হবে।

কর্মকান্ড ২: তথাকথিত মুসলিমরা আজ শাহবাগের আন্দোলনের প্রতিবাদে মিছিল বের করেছিলো। শুরুতেই পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, বোমা নিক্ষেপ । কয়েকশত মানুষের জমায়েত , স্লোগানের সাথে সাথে হলো আক্রমন প্রতিআক্রমণ , জ্বললো জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম আর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

ফলাফল: এটা ইসলামের আন্দোলন। এরা ইসলাম এর প্রতিষ্ঠা চায়।

জিজ্ঞাসা : হিংস্রতা ইসলামের কোথায় আছে? মসজিদ জ্বালিয়ে ইসলাম কিভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে? ইসলাম শান্তির ধর্ম ; তাহলে এই অশান্তি সৃষ্টিকারীরা কোন হাদিসের আলোকে ইসলাম এর পক্ষে? ইসলাম ধর্মের ক্ষতি কে বেশি করলো , শাহবাগের তরুনরা নাকি আজকের প্রতিবাদকারীরা?

বিশ্লেষণ :যে ঘুমিয়ে থাকে তাকে জাগানো যায় , কিন্তু যে জেগে ঘুমায় তাকে কিভাবে জাগায়?

শাহবাগ একটুকরো বাংলাদেশ

একজন অনুজ আর একজন অগ্রজ এই দুই প্রজন্মের সাথে আছি আমরা , এই তিন প্রজন্মের মিলনস্হান এখন শাহবাগ। অগ্রজ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি প্রতিদিন তার অর্ধাঙ্গিনীকে নিয়ে আসেন শাহবাগে স্বাধীনতা উত্তর প্রজন্মকে উতসাহ দিতে। তারা দুজনই শারীরিক ভাবে অসুস্থ বসতে পারেন না , কিন্তু তাতে কি দাড়িয়ে স্লোগান দিতে ভোলেন না। তার অনেক আশা তাদের শুরু করা কাজ আমরা শেষ করবো।
আর অনুজের বয়স একবছরের কম , সে কথা বলতে পারে না ঠিকমতো , তাই বলে সে কিন্তু থেমে নেই , যখন আমরা সমস্বরে বলে উঠি তুই রাজাকার তখন সেও আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। সে এসেছে তার বাবার কাধেঁ চড়ে। এসেছে হয়তো একটি রাজাকার মুক্ত দেশ পাবার আশায়। আমরা ওর এই চাওয়াকে কিভাবে অপূর্ণ রাখবো?
যাদের সাথে আছে অগ্রজদের আশির্বাদ আর অনুজদের ভালোবাসা তারা কি হারতে পারে? জয় আমাদের হবেই।

একটি রোবটের আবেগ

সময় কত দ্রুত কেটে যায় !!! এই তো সেদিনের কথা, সারাদিন অফিস করে গিয়েছিলাম একটা পার্টিতে। পার্টি যখন প্রায় শেষ তখন, হঠাত বড় আপার ফোন, ধরতেই জিজ্ঞেস করলো, কোথায় তুমি ?
আমি বললাম, এইতো একটু বাইরে আসছি।
তখন হঠাত বড় আপার কন্ঠ ভারী হয়ে গেলো, বললো তারাতারি বাড়ির উদ্দেশ্যে রউনা দাও । কাদতে কাদতে বললো, আব্বা আর নেই ।
আমি আর কিছুই জিজ্ঞাসা করতে পারলাম না। শুধু নিজেকে অস্তিত্বহীন মনেহল । বললাম আচ্ছা।
তারপর ঠিক এমন সময়েই রউনা হয়েছিলাম মৃত বাবার মুখটি দেখতে।
আজ আবার যাচ্ছি , দেখতে দেখতে একটি বছর কেটে গেলো, ছায়াহীন অবস্থায় বেচে আছি। কোথায় যেন একরাশ শূন্যতা। এখন আর শীতের দিনে কেউ কল করে আমায় বলে না, বেশিরাত পর্যন্ত বাইরে থেকো না, আর ঠান্ডা লাগিও না, তোমার তো আবার ঠান্ডার সমস্যা। এই বুঝি আমার একমাত্র হাহাকার।
মাঝে মাঝে বন্ধুদেরকে খুব ভাগ্যবান মনে হয় যখন দেখি ওদের বাবারা ওদের খোজ নিচ্ছে। তখন একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আপন মনে বলি, বাবা যেখানেই থাকো, ভালো থেকো। হয়তো তোমার ভালো ছেলে হতে পারিনি, কিন্তু বিশ্বাস করো খারাপ ছেলে ও হইনি । আর কথা দিচ্ছি হবোও না।

স্বপ্ন

মাঝে মাঝে সাধ জাগে স্বপ্নদেখি ।
স্বপ্নদেখি একটি শুভ্র সকালের, যা দিয়ে শুরু হবে একটি সতেজ দিন।
স্বপ্নদেখি একচিলতে মিষ্টি রোদের, যার ছোঁয়ায় খুলে যাবে ঘুমকাতুরে চোখ।
স্বপ্নদেখি এমন একটি খবরের কাগজের যে সকাল সকাল মেজাজ বিগরিয়ে দেবে না।
স্বপ্নদেখি এমন একটি কর্মক্ষেত্রের যেথায় কর্মচারীদের মানুষ বলে ভাবা হবে।
স্বপ্নদেখি একটি রোদেলা দুপুরের যা কারো না খেয়ে কাটাতে হবে না।
স্বপ্নদেখি একটি স্নিগ্ধ বিকেলের, যখন সকল প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, বন্ধুরা মেতে উঠবে উচ্ছল আলোচনায়।
স্বপ্নদেখি একটি সুন্দর সন্ধ্যার, যেখানে বাড়ি ফেরার জন্য বাসে ঝুলতে হবে না।
স্বপ্নদেখি একটি নিরব রাতের, যেথায় কেউ কোন অশান্তি, ক্ষুদা বা চিন্তা নিয়ে বিছানায় যাবে না।
সর্বপোরি স্বপ্নদেখি একটি সুন্দর সমাজের, যেখানে কোন নারী তার নারীহয়ে জন্মাবার জন্য আফসোস করবে না।
স্বপ্নদেখি একটি সুন্দর দেশের, যেথায় মানুষ বাস করবে, শুধুই মানুষ।
কিন্তু ভয় হয় স্বপ্ন কি সত্যি হবে ? নাকি দিবাস্বপ্ন হয়ে রয়ে যাবে ?

শেষ চিঠি

প্রিয়তমা,
আজ তোমার বিয়ে। কিছুক্ষন পরেই তুমি পরস্ত্রী হয়ে যাবে। এটাই তোমার কাছে আমার শেষ চিঠি। কারন, আজকের পর তুমি আর আমার প্রিয়তমা নও, অন্যকারো।
জানো সোনা, আজ মা'র সাথে কথা বলার সময় জিজ্ঞাসা করলাম, মা আমি কি অনেক খারাপ মানুষ ?
মা বললো, না, কেন?
আমি বললাম তাহলে আমার সাথে কেন এমন হয় ? সবাই কেন আমায় ছেড়ে দূরে চলে যায় ?
মা বললো, আসলে যে বা যারা চলে যায় তারা তোকে চিনতে পারেনি। তারা কক্ষনো বোঝার চেষ্টাই করেনি তুই আসলে কতটা আলাদা সবার চেয়ে। আর হয়তো তাদের কোনদিনই থাকার ইচ্ছা ছিলো না।
আমি বললাম, তুমি বাড়িয়ে বলছো। সব মায়ের ছেলেই তার কাছে আলাদা।
মা বললো, না এটা সত্যি না। তুই যদি আমার ছেলে নাও হতি তবুও আমি তোকে এই কথাই বলতাম। যে তোর সাথে থাকলো না, তার নিজেরই থাকার কোন যোগ্যতা নেই। আর যে অযোগ্য তাকে ভুলে যাওয়াই ভালো। যে তোর মত হীরার টুকরাকে কাচ ভেবে ফেলে যায় সে নিতান্তই অভাগা।

আমি জানিনা মা বাড়িয়ে বলেছে কি না? হয়তো নিজের ছেলে বলেই বাড়িয়ে বলেছে। তবে যাই হোক, আমি আসলেই অনেক ভাগ্যবান যার একজন মা আছে যে আমায় সম্পুর্ণ বোঝে।

আমি পশু হতে চাই

যখন দেখি একজন ধর্ষককে মানুষের আইনে বিচার করা হচ্ছে, তখন আমার পশু হতে ইচ্ছে করে। যখন দেখি সেই ধর্ষকদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কিছু সুশীল, মেয়েদেরকে দোষারোপ করছে , তখন আমার পশু হতে ইচ্ছে করে। যখন দেখি ধর্ষনের কারন হিসেবে নারীর পোষাককে দ্বায়ী করা হচ্ছে, তখন আমার পশু হতে ইচ্ছে করে। যখন শুনি নারীরা উত্তেজনাকর পোষাক পরে বলে তারা ধর্ষিত হয় তখন আমার পশু হতে ইচ্ছে করে।
পশু হওয়াই ভালো, পশুর বিবেক বলে কিছু থাকেনা। নিজের অপারগতার জন্য নিজেকে নগন্য মনেহয় না ।
আমি চাইনা সেই মানুষের জীবন যারা দশ বছরের এক ফুলের মত শিশুকে ধর্ষন করে। আমি চাইনা সেই মানুষ হতে যে তার নিজ বান্ধবীকে ধর্ষিতা করে। আমি চাইনা সেই মানুষ হতে, যে এইসব দেখেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আর বলে আমরা অন্তত ওদের চেয়ে ভালো আছি। আমি চাইনা সেই মানুষ হতে যে বলে ওই মেয়েরই তো দোষ , ও কেন গেলো?