ইউজার লগইন

সাহাদাত উদরাজী'এর ব্লগ

আমার প্রিয় বন্ধুরা।

জীবন চলার পথে অনেক বন্ধুর সাথে পরিচয় হয়। কেহ থাকে কেহ হারিয়ে যায়। জীবন যেখানে যেমন। জীবন শুধু জানে সামনে এগিয়ে যেতে। শেষ কি হয় কে জানে! আজ আমি আমার তেমন ছয় বন্ধুর কথা শুনাবো। এদের কথা আমি ভুলি কি করে।

এ কঃ
Mizan.jpg
(ছবি তোলার কথা বলা হয় নাই, কিছুদিন আগে একশীতের সকালে এভাবে ফিরছিলাম)

ছবি প্রদশর্নীঃ উৎসর্গ - বকলম ভাই।

আমাদের বন্ধু বকলম ভাইয়ের ছবি গুলো আমি দেখি আর ভাবি, কি করে এত সুন্দর ছবি তোলা যায়। অনেকদিন ধরে ভাবছি, বকলম ভাইয়ের ছবি গুলো দিয়ে একটা পোষ্ট দিব, বকলম ভাইয়ের পাশাপাশি নিজেও কিছু নাম কামাব! পারমিশন কি করে পাওয়া যায় তা নিয়েও ভাবছিলাম। আজ মনে হচ্ছে পারমিশনের কি দরকার! ফাঁসি দিলে আমাদের বকলম ভাই দেবেন, দেক। বকলম ভাই দাম্মাম, আল-খোবার এলাকায় থাকেন, যেখানে আমিও অনেক বছর ছিলাম!

বকলম ভাই, আরব দেশের ছবি তুলছেন এখন! অথচ আমি যখন ছিলাম তখন রাস্তায় ক্যামেরা হাতে ছবি তুলতে দেখলে আরব মুতাওয়া মেরে তক্তা বানিয়ে দিত। দুনিয়া পাল্টে যাচ্ছে! আসুন প্যাচাল না পেড়ে ছবি দেখি।

রাংটিয়া, সমতল ও পাহাড়ীয়া এলাকা।

বাংলাদেশের শেরপুর দিয়ে ভারত বর্ডারে কাছাকাছি একটি জায়গার নাম রাংটিয়া। সমতল ও পাহাড়ীয়া এলাকা। পাহাড় ভাগাভাগিতে আমরা অনেক কম জায়গা পেয়েছি। পাহাড়ীয়া এলাকার বেশীর ভাগ এলাকাই ভারতের! পাহাড়ের গাছপালা ও পরিবেশ দেখতে চাইলে আপনি রাংটিয়ায় গিয়ে গজনীতে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে খুব ভাল রাস্তা। ময়মনসিংহ, শম্ভুগঞ্জ হয়ে আপনি সরাসরি রাংটিয়া চলে যেতে পারেন। দিনে যেয়ে দিনে ফিরে আসা সম্বব, তা না হলে নালিতাবাড়িতে এক রাত কাটিয়ে পরদিন মধুটিলা ইকোপার্ক দেখে ফিরতে পারেন। টাওয়ারের উপর উঠে বিশুদ্ব হাওয়া খেতে খেতে মনটা এমনিতে চাঙ্গা হয়ে যাবে।

বন্ধুদের নিয়ে বের হয়ে যান।

ব্রেকিং - আমরা বন্ধু পিকনিক চলছে।

আমরা বন্ধু'র পিকনিক। গাজীপুর চোরাস্তা পেরিয়ে আমরা বন্ধু'র গাড়ী পিকনিক স্পটের কাছাকাছি এগিয়ে চলছে। সকাল ৭;৩০ ল্যাবএইড, ৮;৩০ শাহবাগ মোড় এবং ৯;০০ টায় রাজধানী স্কুলের সামনে থেকে পিকনিকের গাড়ী বন্ধুদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে আপনাদের একটু বলে রাখা ভাল, বাংগালী স্বভাবমত নিধারিত লিফটিং স্পটে হাল্কা একটু দেরী হয়েছে মাত্র। সর্বশেষ খবর পাওয়া থেকে জানা যায়, রাস্তায় অনেক জ্যাম থাকে কারনে নিধারিত সময়ে গাড়ী পিকনিক স্পটে পোছাতে পারবে না। বিশেষ করে হযরত শাজালাল এয়ারপোর্ট চক্কর পার হয়ে টংগী ব্রিজ থেকেই ভয়াবহ জ্যাম দেখা পাওয়া যায়।

মা জয়িতা, হারিকেনটা নিয়ে আয় তো।

সালাম সাহেবের বয়স অনেক হল। এখন পুরাপুরি বৃদ্ব কালে আছেন। স্ত্রী তামান্নাও বুড়ি হয়ে গেছেন। একমাত্র ছেলেটাকে অনেক পড়া শুনা শিখিয়েছেন, বিরাট বড় চাকুরী করে আমেরিকায়। মাইক্রোহিট নামের একটা ওয়ার্ল্ড রিকগনাইসড কোম্পানীর অপারেশন ডাইরেক্টর। সারা বছর নানা দেশে ঘুরে বেড়ায়। ছেলেটা নিজের ইচ্ছায় ম্যচাচুসেটস এর এক বনেদী পরিবারে বিবাহ করেছে। বিদেশী ছেলের বউটা অনেক ভাল। বিবাহের পর অনেকবার এসে গেছে।

জীবন সাথী।

১।
ঘটনা অনেক আগের, আপনাদের এই ঢাকা শহরের। বিবাহ করে জীবন সাথীকে নিয়ে সুখে দিনাতিপাত করছিল। টাকা পয়সার ব্যাপক প্রযোজনীয়তা তখনো নেই। জীবন একটা সাধারন চাকুরী করে, যা পায় তা দিয়ে কোন রকমে চলে যাচ্ছিলো। দুইজনই যেহেতু নিম্ম মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে ঘর বেধেছিল তাই চাওয়া পাওয়াও কম ছিল। তবে মাসের শেষে বাজার খরচে একটা হালকা টান পড়ে যেত, শেষ দুই চারদিন জীবনের পকেটে টাকা থাকত না। সোজাকথা জীবন ও সাথীর জীবনবোধ তখনো চাঙ্গা হয় নাই। এমনি একদিনে দু’জনে রাতের খাবার খেতে বসে, মাদুর পেতে - ভাত, লাল মরিচভর্তা আর পানিডাল।

বিদ্রোহ করিবার চাহে এ মন।

গতকালের চরম দুঃখবোধ ও ভীষণতা কেটে উঠেছে সারাদেশ। আজ সকালের নুতন সুর্য্য ইংগিত দিচ্ছে আগামীকালের, আগামীকাল আমাদের মহান বিজয় দিবস। আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের বিজয়। এই ধরনের খুশিমাখা দিন এলে আপনাদের সবার মত আমিও আবেগে ভরে যাই। তবে আমার ভিতরে একটা শুন্যতা কাজ করে - মুক্তিযুদ্বে যে পরিবারের সদস্য হারিয়ে গেছে, তার কথা মনে পড়ে সর্বাগ্রে। মনে পড়ে সেই সব পরিবারের কথা। পিতা, সন্তান, ভাই, বোন, স্বামী হারিয়ে এ পরিবার গুলো কি করে এতটা বছর পার করে এলো। ক্ষনে ক্ষনে আমার মনে পড়ে, ওরা আসবে মনে করে যারা আজো বসে আছে! বাবা, আর কত দেরী। আর কত সময় লাগবে তোর!

ছবি রি-সাইজ করুন প্রান খুলে!

আমি একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি, আমাদের অনেক ব্লগার ছবি সাইজ ঠিক করতে পারছেন না। একই পোষ্টে নানা সাইজের ছবি দিয়ে তিনি নিজে যেমন লজ্জা (!) পাচ্ছেন তেমনি আমাদেরও চোখের ১২টা (!) বেজে যাচ্ছে। নানা সময় নানা ব্লগার এ ব্যাপারে জানতে চান, কি করে ছবি রিসাইজ করে সুন্দর করে ছবি পোষ্ট দেয়া যায়। গতকাল এমনি আমাদের এক ছোটবোন এমনি একটা আকুতি জানিয়েছিলেন।

ছবি রিসাইজ/ ছবির ফরমেট পরিবর্তনের নানা সফটওয়্যার এ দুনিয়াতে আছে। ফ্রীতে কিংবা টাকা দিয়ে কেনা যায়। তবে আমি যেহেতু সহজ অপারেট, টাইম সেইভ এবং টাকা নিয়ে মাথা ঘামাই তাই আজ আপনাদের আমি এমন একটি রিসাইজ ও রিফরমেট করার সফটওয়্যারের খোজ দিব (অন্য ভার্সান টাকা দিয়ে কিনতে হয়)। এই ভার্সানটি/ ইঞ্জিনটা ফ্রী! যা আমি অনেক দিন ব্যবহার করে উপকার পেয়েছি! আপনিও উপকার পেতে পারেন। তবে উপকার পেয়ে আমাকে ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না।

উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসাঞ্জকে সালাম জানাই।

উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আসাঞ্জ। গত কদিন ধরে তার খবরা খররের উপর নজর রাখছিলাম। নানা ধরনের নিউজ পড়ছিলাম। জুলিয়ান আসাঞ্জ’র নানা টাইপের ছবি দেখছিলাম। সারা দুনিয়া থেকে নানা মানুষ তার কাছে টাকা পাঠাছিল বলে তার অনেক ব্যাংক একাউন্টও বন্দ করা হয়েছে। গতকাল ইন্টারপোল অবশেষে সমঝোতার ভিত্তিতে (!) তাকে আদালতে নিল। ইংল্যান্ডের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ২০ হাজার পাউন্ডের বদলে তার জামিন চেয়েছিল। আদালত তাকে জামিন না দিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড দিল। সুইডেনে তার বিরুদ্দে দুই নারী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ নামা পড়ে আমার হাসি পেয়েছিল। জুলিয়ান আসাঞ্জ শুধু চেষ্টা করেছিলেন মাত্র! জুলিয়ান আসাঞ্জ’র বিরুদ্দে আসলে এটা ফালতু অভিযোগ বলে মনে হয় কিন্তু ওরা এটাই সত্য বলেই প্রমান করে ফেলবে হয়ত। এই সাহসী বীরের জন্য আমার হ্রদয়ে একটা মায়া জমে গেছে।

শীত এলো বন্ধু, শীত এলো।

(এক বন্ধুবরকে উৎসর্গিত)

১।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
গতকাল শুক্রবারে মসজিদে নামাজে একটাও ফ্যান চলেনি
বুঝা গেলো বন্ধু, শীত এলো।

শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
অফিসে অনেক টাইস্যুট, সুয়েটার চাদর পরা দেখছি
বুঝা গেলো বন্ধু, শীত এলো।

শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
ব্লগে ব্লগে পিকনিকের আমেজে খুশির বন্যা চলছে
বুঝা গেলো বন্ধু, শীত এলো।

২।
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
সকালে ঘাসের পাতায় শিশির বিন্দু দেখার দিন এলো
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো।

শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
গ্রামীণমেলায় মিঠাই নিয়ে নগরদোলায় দোলার দিন এলো
শীত এলো বন্ধু, শীত এলো।

শীত এলো বন্ধু, শীত এলো
স্বামী স্ত্রীদের একই কম্বলে ঘুমানোর দিন এলো
শীত এলো, শীত এলো।

কোরবানীর গরু!

কাল কোরবানীর ঈদ। বড় রাস্তার পাশে আমাদের অফিস। মাঝে মাঝে পাঁচ তলা থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়াই। মানুষ দেখি, মানুষ দেখার মত মজা এই দুনিয়াতে আর নাই। আজ অনেকক্ষন গরু দেখে এলাম। ভাই কত? ভাই কত? অনেক গরুর দাম জিজ্ঞেস করে অনেকে বিরক্ত করেছি মনে হয়। প্রতিশোধ! ছোট বেলায় আমাকেও এভাবে গরু নিয়ে যেতে হয়েছে বহুবার, অনেকবার। আমিও দাম বলতে বলতে গরুর সাথে দৌড়েছি অনেক! আজ গরুর দাম অনেক সস্তা মনে হচ্ছে, গতকালের তুলনায়। গতকালকেও অনেকের কাছে দাম জেনেছি।

আমার মনটা ভাল নেই। আজ অফিস করছি, কাল ঈদের দিনেও আমাকে অফিস করতে হবে! তবে এই অফিস করাটা আমি মেনে নিয়েছি। আমি একা নই, প্রায় বারশত লোকবল আমরা অন্যের সেবায় কাজ করব - ঈদের দিনে, এ আনন্দ বলে শেষ করা যাবে না। আজকাল অফিসে থাকতেই ভাল লাগে। মানুষ অভ্যাসের দাস! মানুষ কি না পারে! প্রথম প্রথম দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা, নাইট ডিউটি সহ শুক্রবারে অফিস করা ভাল লাগত না। আজকাল ভালোই লাগে। অফিসে থাকলে টাকা পয়সা খরচ হয় না। নানাবিধ চিন্তা থেকে মুক্ত থাকা যায়। খালি সালাম আর সালাম পাই, মাঝে মাঝে সালাম দিতেও হয়! তারপর সারাদিন এয়ারকুলার! কি মজা রে! কেমন খাসা চোহারা হয়ে যাচ্ছে!

চোহারার কথা যখন উঠল, তখন বলেই ফেলি। যে কোন ঈদের আগের রাতে আমার বউ আমাকে চেপে ধরে। তোমার চোহারা আজকাল যা হচ্ছে না! কি মিষ্টি চোহারা ছিল আর কি বানিয়েছ! মাথার চুল পড়ে, দুই চাপা ফুলে আমি নাকি আফ্রিকান গুলতি মাছের মত হয়ে যাচ্ছি! গুলতি মাছটা আমিও চিনি না, চিনতে চাইও না! আমি বলি, অফিসে বড় সাহেব হয়ে যাচ্ছি, ধাপে ধাপে এগুচ্ছি! পেট সহ গালগুল একটু মোটা না হলে কি চলে? আপনারাই বলেন বাংলাদেশে প্রাইভেট কোম্পানীর এমন কোন একটা জেনারেল ম্যানেজার দেখাতে পারবেন, যার ভুঁড়ি নাই! গাদুম ঘুদুম!

আমাদের অফিসের সিংহভাগ ম্যানেজারদের পেট! মাশাআল্লাহ! হাতী চালান হয়ে যাবে! ডাইরেক্টর সাহেবদের কথা ছাড়েন। এই যে ধরুন আমাদের মিডিয়া কোর্ডিনেটর! যিনি আমাদের নানা সাংবাদিক বিপদ থেকে বাঁচান। মাশাআল্লাহ, কম পেট বানান নাই! আসলে আমার কি দোষ, আমি এদের সাথে থাকতে থাকতে!

কোন দিকের কথা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি! যা বলছিলাম, আজ ঈদের আগের রাত! বিবাহিতদের জন্য বিশেষ ভালবাসা নিয়ে আসে! যা বলছিলাম আগে, আমার বউয়ের কথা - ঈদের আগের রাতে আমার বউ আমাকে চেপে ধরে! আপনাদের না দেখিয়ে আর পারছি না। দেখুন -

শরবত পান করবেন জনাব।

অনেক গরমে জীবনটা যখন বের হয়ে যাবার দশায় পড়ে যায় তুখন এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত খেয়ে দেখতে পারেন। কেমন লাগে! পুরা শরীরে একটা ঠান্ডার পরশ ছুঁয়ে যাবে, মনে হবে আহ কি শান্তি! শরবতের কথা আমি ছোট বেলা থেকে জানি, আমি দেখেছি আমার বাবা যখন দুপুরে কোথায়ও থেকে আসতেন তখন আমার আম্মা আমার বাবাকে লেবুর শরবত বানিয়ে দিতেন, মাঝে মাঝে পাকা বেলের। এক চুমুকে বাবা পান করে নিতেন। তার পর বের হত বাবার মুখে কথার ফুলঝুরি! (আজকাল কোন স্ত্রী তার স্বামীকে শরবত বানিয়ে দেন কিনা আমার জানা নেই!)

এরপর কখনো আমরা দুপুরের দিকে স্কুল থেকে রোদ্দে পুড়ে ফিরলে আম্মা আমাদেরও শরবত বানিয়ে দিতেন - লেবু, কাঁচা আম, কামরাঙ্গা, তরমুজ আরো কত কি দিয়ে! আমরা ভাই বোন কেহ শরবত পছন্দ করতাম না। তবুও আম্মা বানিয়ে দিতেন। বলতেন খেয়ে দেখ, মনে শান্তি পাবি! বাবার মত আমরাও এক চুমুকে পান করে সতেজতা ফিরে পেতাম। দুপুরের দিকে আমাদের বাসায় কোন মেহমান আসলে, শরবত মাষ্ট। (আজকাল মেহমানদের শরবত দিলে মাইন্ড খেতে পারে!) শরবতের জন্য আমার আম্মাকে আমার এক চাচী বলতেন - শরবতের মাষ্টার। নানা প্রকারের শরবত বানাতে আম্মার জুড়ি মেলা ভার ছিল। তবে আম্মাকে আমি কখনো শরবত খেতে দেখি নাই!

শরবতটা আমাদের সমাজে/ পরিবারে খুব একটা আর টিকে নেই। তবে একটা জায়গায় এখনো আছে। বিয়ে বাড়ীর দরজায়! বিয়ে বাড়ীর দরজায় দুলামিয়াকে ফিতা দিয়ে আটকে দেয়া হয়। তারপর টাকা পয়সা নিয়ে ফয়সালা হলে ফিতা কাটার পর দুলামিয়াকে শরবত খেতে দেয়া হয়। তবে পরীক্ষার একটা ব্যবস্থা থাকে! এক গ্লাসে থাকে লবন দিয়ে আর অন্য গ্লাসে চিনি দিয়ে। দুলামিয়াকে রুমালের ফাঁকে সঠিক গ্লাস চিনে নিতে হয় (এই শরবতের কোয়ালিটি একে বারে জিরো, কোন মতে পানিতে গুলানো, দুলামিয়ার সাথে প্রথম ঠাট্টা হয় শ্বশুর বাড়ীতে!)।

সে যাই হোক, আপনাদের বলা ভাল আমার বিয়েতে এ রকম শরবত খেতে হয় নাই, আলহামদুল্লিলাহে। সুযোগ ছিল না। লম্বা কাহিনী, পরে বলব। মায়ের হাতের শরবতের পর এ দুনিয়াতে আর একজনের হাতের শরবত পান করার সুযোগ হয়েছে, দুই দফায় অনেকবার। প্রথম দফায় তার হাতের শরবত পান করেছিলাম ১৯৯১ সালে, আর ২য় দফায় ২০১০ সালে। আমি তার হাতের শরবতের ভক্ত হয়ে উঠেছি। তার বানানো শরবতের মাঝে যে কি যাদু আছে, না পান করলে বুঝা যাবে না। সেই ছোট বেলা থেকে শরবত বানিয়ে আসছেন, প্রায় ২৫ বছর! একই জায়গায়! একই ধরনের লেবুর শরবত!

তুমি না থাকলে!

আজ পুরা দুপুরটা ফ্রী আছি। কি করে সময় কাটানো যায়। মার্কেটে বেশী ঘুরা ঘুরি আমার পশ্চন্দ না, যা কিনার কিনে ফেলেছি। শহরটা দেখে যেতে চাই। অচেনা জায়গায় হারিয়ে যেতে ইচ্ছা হয়। দেখি কি হয়। একাই বের হয়ে গেলাম।

হোটেল ম্যানেজার প্রেমলাল হাসিমুখে তাকায়। মনে হয় কিছু বলবে, না শুনার সময় নেই। প্রথমে রাস্তায় নেমে ডলার ভাংগালাম। টাকার বিক্লপ নেই দুনিয়াতে। টাকা থাকলে বাঘের দুধ খাওয়া যায়!

চোরাস্তার মোড়ে এসে মনে হল। বন্ধুদের খবর নেই। আমরা বন্ধুতে কিছুক্ষন আড্ডা মারি, তার পর হারানোর চেষ্টা চলবে। অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর এই সাইবার ক্যাফে পেলাম। নাম সাইবার ভেলী। দোতালায় অবস্থান। হাসিমুখে স্বাগত জানালো এক যুবক। পরিচয় দিলে বলল, আপনার যে কোন আইডি কার্ড দিন, যাতে আপনার ছবি আছে। পাসপোর্ট নাই, অফিসের আইডি দিলে সে মেনে নিয়ে আমার একাউন্ট করে দিল। বাহ অনেক ফাস্ট লাইন। চোখের পলকে এসে যাচ্ছে।

বাংলা টাইপিং করার কোন সফটওয়্যার নেই। ওকে জানিয়ে দিলাম, আমি নিজেই সফটওয়্যার নামিয়ে নিব - যুবকটি সায় দিল, আমার পাশে এসে বসল - আমিও দেখব কি সফটওয়্যার দিয়ে আপনি বাংলা লিখবেন! কম্পিউটার এ বসেই আমরা বন্ধুতে একটা চক্কর মেরে অভ্র সাইটে গিয়ে নামিয়ে নিলাম। অভ্র নুতন ভার্সান!

মেশিন রিস্টাট করলে নিল। যুবকটি দেখে যাচ্ছে। বাস, বাংলা টাইপিং শুরু। যুবক সাইটার নাম লিখে নিল। বলল অনেক বাংলাদেশী এখানে আসে, শুধু শেয়ার মার্কেটের খবর নিয়ে চলে যায়। এ প্রথম আমাকে দেখলো, যে বাংলা টাইপ করলো। ওকে অনুরোধ করলাম যাতে অভ্র না মুছে দেয়। আমি যতদিন থাকি এসে লিখে যাব।

থ্যাঙ্ক ইউ অভ্র। তুমি না থাকলে, দুপুরটা আজ মিষ্টি হত না!

বন্ধুরা, আপনারা কেমন আছেন - প্রিয় দেশ কেমন চলছে!

আত্মকথাঃ মিশরের পিরামিড।

গতকাল রাতে স্বপ্নে আমার মনে হল মিশরের পিরামিড ভ্রমনে বেড়িয়েছি! কায়রো শহরের এ মাথা থেকে ওই মাথা ঘুরে বেড়িয়েছি। কত আনন্দ, কত গান, কত আড্ডা! নানা কাহিনী, নানা কথা। কিন্তু লিখে কি আপনাদের বুঝাতে পারব! আপনারা তো আবার ছবি প্রমান চান। আমাদের মুসা ভাইকে আপনারা কত কি বললেন। তিনিই যদি মুর্ত্তি ধরে একটা ছবি তুলতে পারতেন! আমি কিন্তু সে ভুল করিনি। ধাপে ধাপে ছবি তুলেছি! কিন্তু একটা আফসোস যদি পিরামিডের চূড়ায় উঠতে পারতাম! আমি আবার কাজ বেশী করি - চলুন দেখি।

1_0.jpg
১। ইয়া হাবিবী! ইয়া হাবিবী!
2_1.jpg
২। পিরামিড।
4a.jpg
-

আত্মকথাঃ আমাদের প্রথম ভ্রমন।

১৯৮৫ সালে প্রথম আমরা তিন বন্ধু (মাহাবুব, বিশু ও আমি) নানা জেলা শহরে ঘুরে বেড়াতে বের হই। প্রথমে আমাদের টার্গেট হয়, সিলেটের প্রতি। সিলেটে চা বাগান আছে, মাজার আছে এবং জাফলং। শ্রীমঙ্গলের চা বাগানে আমার জন্ম এবং শ্রীমঙ্গলে আমার খালা (আপন নয়, আমার মাকে বোন ডেকে ছিলেন কিন্তু কেহ এটা বুঝতে পারত না) আছেন তাই সাহসটা আমিই দেই, চল কি আছে জীবনে! মাত্র ৯০০ টাকা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

কমলাপুর রেল স্টেশনে যেয়ে দেখি মাহাবুব তার বাসা থেকে ক্যামেরাটা নিয়েছে। টাকার অভাবে আমরা সিলেট শহর ও জাফলং যেতে পারি নাই, তবে শ্রীমংগলে আমরা প্রান খুলে বেড়িয়ে ছিলাম। প্রায় প্রতিদিন চা বাগানে গিয়েছিলাম। আমার খালাম্মা (যিনি পরবর্তিতে জরাযু ক্যান্সারে মারা যান, তার প্রসঙ্গেও আমার লিখার ইচ্ছা আছে ) এত খুশি হয়েছিলেন, যা বলার অপেক্ষা রাখে না।