টুকরো-টাকরা ৩
এক.
১৯৫৩ সালে এডমান্ড হিলারী আর তেনজিং নরগে শেরপা যখন হিমালয়ে উঠছিলেন তখন তারা প্রমাণ হিসাবে কি দেখাইছিলেন সেইটা আমি জানিনা। কিন্তু ঐ ঘটনার প্রায় ৫৭ বছর পর মুসা ইব্রাহীমের লেইগা প্রমাণের অনেক পরিসর তৈরী হইছে। শেরপারা একটা বুদ্ধমূর্তি লইয়া গেছে উপরে, তার চাইর পাশে লাখে লাখে প্রার্থনার পতাকা জড়ো কইরা রাখে পর্বতারোহীরা। মুসা ইব্রাহীম বুদ্ধমূর্তি পাশে লইয়া কোনো ছবি তুলেন নাই। উপরের ছবিটাতে সেইটাই দেখতে পাই আমরা।
বিতর্ক হইলো তিনি চূড়ায় উঠছিলেন কি উঠেন নাই সেইটা নিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে এক ব্লগাররে দেখলাম আরেকজন অস্ট্রেলীয় পর্বতারোহীর সাক্ষাতকার নিতে। সেই সাক্ষাতকারে মুসা অন্ততঃ ২৯ হাজার ফিট উঠছিলেন সেইটার প্রমাণ পাওন যায়। শেষ ১০০ ফিটের মতোন চড়াই সে অতিক্রম করছিলো কিনা এইটা নিয়া আসলে বিতর্কটা চলতেছে। শুরুতে এইরম মনে হয় নাই আমার। সজল খালেদ নামে একজনের ফোন পাইছিলাম মুসার এভারেস্ট শৃঙ্গে উঠনের দিন। সে কইছিলো মুসা আসলে পুরাটাই ভাওতা মারতেছে কারণ মুহিত নামের আরেকজন যাওয়া কিম্বা আসার পথে মুসারে দেখে নাই। মুহিত ফিরতেছিলো ব্যর্থতা নিয়া।
এরপর এই বিতর্কের জল বহু ঘাট ঘুইরাও তার ঠিকানায় পৌছাইতে পারে নাই। ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধির কোপানলে পড়ছে মুসার অর্জন। অনেক সরাসরি একটা বাক্য লিখলাম। অনুমান নির্ভর এইরম বাক্য আজকাল লেখা হয়না। তবু প্রায় চাইর মাসের ক্যাচালের পর আবারো সেই সাইকো অ্যানালিসিস টাইপ আলোচনা দেখলে এর বাইরে কিছু ভাবতেও পারি না। যাউগ্গা, অনেকেই বুদ্ধমূর্তি না দেইখা বিশ্বাস না করনের পক্ষে...আর মুসা বা তার কাছের লোকেরা যা কইতেছে তাতে বুইঝা গেছি তার বুদ্ধমূর্তি পাশে নিয়া কোনো ছবি তোলা নাই। সে উপরের ছবিটাই তুলছে চূড়ার উপরে (?)। এই ছবি দেখনের পর আমার মনে প্রশ্ন তৈরী হইছে বেশ কিছু,
এক: তিনি আগের থেইকাই জানতেন যে চূড়ার উপরে উঠনটা তার পক্ষে সম্ভব না...আর তাই শেরপাগো কান্ধে বাড়তি একগাদা প্রার্থনার পতাকা তুইলা দিছিলেন যাত্রা শুরুর সময়?
দুই: এভারেস্টের বিভিন্ন জায়গায় আসলে এইরম প্রার্থনার পতাকা ফালাইয়া রাখা হয়, মুসা কি সেইরম একটা জায়গায় দাঁড়াইয়া ছবিটা তুইলা নিছে?
তিন: শেরপা সমাজ কি অসৎ ব্যবসায় নামছে, তারা কি পতাকা ভাড়া দ্যায় সেইসব অভিযাত্রীরে যারা শেষ ১০০ ফিট উঠনের সামর্থ্য রাখে না?
পর্বতারোহন নিয়া আমার কোনো ধারণাই নাই। জীবনে একবার ট্রেকিং করছিলাম বগা লেক পর্যন্ত। সর্বোচ্চ আরোহন হইলো কেওকারাডংয়ের ৪০০ ফিট উপরে, যেইখানে খুমিরা থাকে। সুতরাং এই বিষয়ে অনেক তর্ক করা আমার সাজেনা। শেরপাগো অসৎ ব্যবসা নিয়া আমি নিশ্চিত না কিন্তু বাঙালী ব্লগার আর বেশ কিছু ট্রেকার সংগঠনের আচরণে টের পাই মুসার পর্বতারোহন নিয়া ব্যবসা চলতাছে বেশ। কেউ কেউ স্বপ্ন দেখতেছে রিচার্ড ডকিন্স কিম্বা জ্যারেড ডায়মন্ড হওনের...স্বপ্ন দেখনে আমি কোনো দোষ দেখিনা। সমস্যাটা অসততার। নিজেগো অসততা ঢাকতে পৃথিবীর তাবত লোকরে অসৎ বইলা ট্যাগিংয়ের চেষ্টা দেখলে চুপ কইরা থাকাটা কঠিন।
দুই.
সরকার দুইমাস আগে অ্যানথ্রাক্স বিষয়ে রেড অ্যালার্ট দিছিলো। স্বল্প আয়ের মধ্যবিত্ত চেতনাধারী মানুষের গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ কইরা দিলো প্রায়। সেই সরকার কোরবানীর ঈদের আগে আবার অ্যালার্ট তুইলা নিলো। এই যে মুসলিম সুবিধাবাদী মনোভাব এইটা খুব সুবিধার ঠেকে না।
সরকারী সিদ্ধান্ত আরো স্বচ্ছতা নির্ভর হইলে জনগণ আস্থা ফিরা পায়। নাইলে ব্যবসায়িগো এই সমাজে এইবার ঈদে অ্যানথ্রাক্স মুক্ত গরুর নামে ভালোই ব্যবসা হওয়ার কথা। জিনিস পত্রের দাম, জীবনযাত্রার খরচ মধ্যবিত্তের আয়ের চাইতে কয়েকগুণ বেশী বাড়ছে গতো কয়েক বছরে। চাইলের দাম গতো সপ্তাহেই বাড়ছে আবার। এমন চলতে থাকলে আসলে এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিষয়ে অনাগ্রহ তৈরী হওয়া ছাড়া আর কিছুই ঘটেনা। যুদ্ধাপরাধীগো বিচার তখন মানুষের জীবনে গৌন হইয়া পড়নের সম্ভাবনা তৈরী হয়।
তিন.
জলোচ্ছ্বাসে সমুদ্রতীরবর্তী মানুষ আবারো ঘরহারা, জানিনা এইসব মানুষের মুক্তির উপায় কি...সমুদ্রের সাথে লড়াই কইরা টিকা থাকা মানুষগো দেইখা ঈর্ষা হয়। মানুষ কতোটা জীবনমূখী হইতে পারে! লড়াইয়ে যেরম সমর্পন আছে তেমনি আছে রূপান্তর। সমুদ্রবর্তী মুসলিমরে যখন দেখি কাকড়া আর কচ্ছপের ঝোল খাইতে তখন মনে হয় বিশ্বাস আসলে সংগ্রামহীন মানুষের আয়েশ...আলস্য!





ক্ষমতায় ইতর শ্রেনী থাকলে কোনো উপায় নাই।
সিডরের পর আমার চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি উপকুলীয় বেড়ি বাধ গুলি ঠিকমত নির্মান ও মেইনটেনেন্স করে এই গরীব মানুষগুলির ক্ষতি নাইনটি পারসেন্ট কমানো সম্ভব।
আমাগো দেশে বাঁধ নির্মাণ কইরা সেইটার মেইন্টেন্যান্স আশা করাটা এখন আর বোকামী বা সরলতা নাই, পাপের পর্যায়ে চইলা গেছে...
কাউকে টেনে নামানোটা যে একটা শিল্প এটা একমাত্র আমরাই জানি। হোকনা সেটা নোবেল জয়ী কেউ অথবা এভারেস্ট জয়ী। দেশের বাইরে এসে এই একটা বিষয় ভাল ভাবে বুঝতে পারি। ফুটোর সদ্বব্যবহার আমাদের চাইতে আর কেইবা ভাল পারে? ইদানিং দেখছি কাজের সময়টুকু বাদ দিয়ে এন্টারটেইনমেন্ট মানেই হলো ব্লগ সাইটে বসে বসে তেনা পেচানো।
দাদা, যিনি তেনা পেচাচ্ছেন তাকে একটু দয়া করে জিজ্ঞেস করবেন যে, সে এমন থিসিস যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে করেছিলেন কিনা? যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ নিয়ে এমন গবেষণার টাইম কি তার হাতে নেই? নাকি একজন জাকির নায়েক নিয়ে কীবোর্ড ফাটাতে শীর্ষ সুখ হয়?
"কেউ কেউ স্বপ্ন দেখতেছে রিচার্ড ডকিন্স কিম্বা জ্যারেড ডায়মন্ড হওনের...স্বপ্ন দেখনে আমি কোনো দোষ দেখিনা। সমস্যাটা অসততার। "
সাইটের হিট খরায় ভোগার কারণে অন্যের অর্জনকে এইভাবে ধুলিস্যাৎ করার অপচেষ্টায় বিরক্ত। সাথে জুটছে কিছু তল্পিবাহকও।
ধিক!!! কতটা নির্লজ্জ হতে পারে মানুষ?
ব্যক্তি আক্রমনের জন্য পোষ্টে মাইনাচ।
এই খানে ব্যক্তি আক্রমণ পাইলেন কই!? পোস্টে আমি কিছু ব্লগীয় প্রবণতাকে চিহ্নিত করে তার সমালোচনা করেছি কেবল...
এক নম্বরঃ অতিকচলানো লেবু, তিতার উপ্রে কিছু থাকলে সেই অবস্থায় চলে গেছে।
দুই নম্বরঃ এইটা নিয়া সরকারের কাজ কারবার হাস্যকর পর্যায়ে গেছে। একবার বলে রেড অ্যালার্ট, আরেকবার কয় মুরগিওয়ালাদের ষড়যন্ত্র।
কালকে কোন এফ.এম এর যেন খবর শুনতাছিলাম। সিএনজি স্টেশনের রেশনিং নিয়া। সিএনজি স্টেশন মালিকরা তো আর সরাসরি সরকাররে দোষ দিতে পারে না, বলে-সরকারের মধ্যে একটা বিশেষ মহল সরকারের সুনাম ধুলিস্যাৎ করতে গ্যাস স্টেশন দিনে ছয় ঘন্টা বন্ধ রাখতাছে।
গরুর বেলায় এই বিশেষ মহল হইলো মুরগিওয়ালা।
এক নম্বর:
লেবু কচলাইয়া কেউ শরবত বানায় আবার কেউ কেউ কচলানোতে হাত মকশো করে। সমস্যা হইলো এই দেশে লেবু কচলাইয়া জ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃতি পাওনের ধান্দা করে অনেকে...
দুই নম্বর:
ভালো কইছেন...
এই ছবিটাই মুসার শীর্ষারোহনের পক্ষে যথেষ্ট যতক্ষণ না কেউ এটা প্রমাণ করতে পারে যে ছবিটা ফ্যাব্রিকেটেড। এখানে মুসার পেছনে চোমো লোনজো শৃঙ্গ দেখা যাচ্ছে, সেটা আরো অনেক শীর্ষারোহীর ছবিতেই দেখা যায়।
স্টিফেন গ্রিনের ব্লগ পড়ে অনেক আগেই নিশ্চিত ছিলাম মুসা এভারেস্টের চুড়ার খুব কাছাকাছি চলে গেছে (সাহাদাৎ ভাইয়ের একটা পোস্টের মন্তব্যে জানিয়েছিলাম)। সচলায়তনে কাল জলদস্যু নিকের ব্লগারের পোস্টটি পড়ে মুসা যে শীর্ষজয় করেছেন এটা এখন আমি নিশ্চিত।
ফটোগ্রাফি আর তার পোস্ট প্রোডাকশন নিয়া আমার জ্ঞান খুব বেশী না হইলেও কাজ চালানোর মতোন...আর তাই কইতে পারি এই ছবি যদি ফেব্রিকেইটেড হয় তাইলে যে এইটা করছে তারে দেখার বাসনা জাগ্রত হইলো। এতো সুন্দর কম্পোজিটিং যে করতে পারে তারে গ্রাফিক্সে নোবেল প্রাইজ দেয়া হোক!
গতোকাল ম্যাক্স নামের একজনের ব্লগে পড়লাম থার্ড স্টেপ থেইকা সামিটে পৌছাইতে তার ৩০-৪০ মিনিট লাগছে...(সে শেষ মুহুর্তের চিন্তার কথা লিখতেছে তার ব্লগে, সুতরাং ঐটারে পাস্ট টেন্স হিসাবেই ধরতেছি)
The only way to know is to experience it. There was quite a bit of climbing on windswept rock that had no snow on it, right below the final summit ridge. Climbing on rock like this with crampons is no easy task as the crampons tend to slip very easily on the rock. Again the climbing became completely exposed and it was a long way down. Reaching the final summit ridge was very exciting but I then saw the actual summit still another 100 yards off which was about another 30-40 minutes.
কিন্তু অনেকে কইতে চাইতেছে থার্ড স্টেপ থেইকা সামিটে পৌছাইতে ২/৩ ঘন্টা লাগে, এই কথার যৌক্তিকতা কতোটুকু?
আসলে আমরা যারা এভারেস্টের ধারেকাছেও যাইনাই তারা পর্বতারোহনের ফিচারগুলারে বিচার কইরা মুসা উঠছে কি উঠেনাই এই বিচার করতে গেলে সেইটা হইবো অন্ধের হাতি দেখার মতো।
তাই আমি ছবি আর ফেলো পর্বতারোহীদের টেস্টিমোনি -- এই দুই বিষয়েই শুধু আস্থা রাখতে চাই। দুই বিষয়েই মুসার পর্বাতোরহন প্রমাণিত। (আপনার কমেন্ট মতো ধরে নিতে ভরসা পাইলাম ছবিটা ফ্যাব্রিকেটেড না। তাছাড়া অনেক সমালোচনা আসলেও ছবিটা যে ফ্যাব্রিকেটেড এমন কোন প্রমাণও কেউ দেখাইতে পারেনাই।)
আর ফার্স্ট স্টেপ আর থার্ড স্টেপের ফেব্রিকেশনটা নজরে রাইখেন। ইনফো ম্যান্যুভার কইরা তর্কে জিততে চাইতেছে সব পক্ষই...
মুসা ইব্রাহীমের ব্যাপারটা নিয়া সজল খালেদগো তৈরী করা সন্দেহ যে, এখনো সরবে বাইচা আছে, এইটাই হয়তো তাগো স্বার্থকতা। বিষয়টা ফাইজলামীর পর্যায়ে গেছে । উপরে অতিথি মন্তব্য থেকে একটি উদ্ধৃতি তুলে দেই--
"কাউকে টেনে নামানোটা যে একটা শিল্প এটা একমাত্র আমরাই জানি। হোকনা সেটা
নোবেল জয়ী কেউ অথবা এভারেস্ট জয়ী। ফুটোর সদ্বব্যবহার আমাদের চাইতে আর কেইবা ভাল পারে?"
কাঁকরা খাওয়াটা বোধহয় হারাম না । মাকরুহ । কচ্ছপও খাচ্ছে না-কি ?খুদার কাছে অসম্ভব কিছুই না অবশ্য । যেখানে ভূখা মানুষ স্বপ্রজাতির মাংসও খায় !
আমি যদি এভারেস্ট জয় করতাম আর করার চার মাস পর এই ঘটনা নিয়া সামু'র ফিফা আর সচলের হিমু কাইজ্যা-কেলেংকারী শুরু করতো (তাও নর্মাল কেরিক্যাচাল না, একদম ক্লাসিফাইড গবেষণা, থিসিস-হাইপোথিসিস আর সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুসন্ধান) তাইলে আমি চুপ-চাপ বইসা বইসা মজা নিতাম। দুনিয়ায় ফ্রি'তে এরুম মজা পাওয়া যায় না। গ্যারান্টীড।
খালি দেখি দুইন্যার মাইনষে কত আকামই না করে রে ভাই। এত আজাইরা টাইম কৈ পায়? এই পরিশ্রমগুলো যদি তেনারা জায়গামতো করতেন, তবে ধরিত্রী অনেক উর্বর হয়ে উঠতো। মানুষের বসবাস অনেক সহজ হতো। সর্বোপরি বঙ্গবাসী বিশ্ব দরবারে গৌরব সহকারে মাথা তুলে দাঁড়াতো।
কিন্তু হায়! বড়ই বিচিত্র এ দেশ। দেশের সন্তানেরা।
একটু সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের নিয়ে আলোচনা করি। অনেকেই বিষয়টা ভাল করে বোঝেন না বলেই মনে হল।
১. সাংবাদিক মানে বিশেষজ্ঞ নন। আপনি যদি বলেন যে আপনি চূড়ায় উঠছেন, তাহলে একজন সাংবাদিক নানা সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়ে তবেই রিপোর্টটি করবেন । সাংবাদিক নিজে চূড়ায় উঠে প্রমান খুঁজতে যাবেন না।
ধরেন আমাকে যদি সকালে বলা হয় বণ্যপ্রাণি সংরক্ষন, কাটাবনের খাঁচায় বন্দি পাখী ও আইন নিয়ে আজকেই একটা রিপোর্ট করতে হবে তাহলে সেটি আমি করবো। যদিও এসাইনমেন্টটা পাওয়ার আগে এ নিয়ে আমার জ্ঞান শুণ্যের কোঠায়। সাংবাদিকদের আসলে এভাবেই কাজ করতে হয়। আমার লেখা রিপোর্টটি সন্ধ্যায় অন্তত একহাত ঘুরে ছাপা হবে। বেশি গুরুত্বপূর্ণ আর স্পর্শকাতর হলে দুই থেকে তিন হাত এবং আরও বেশি স্পর্শকাতর হলে সম্পাদকের হাত হয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিনের কাজ দিনে করতে হয় সাংবাদিককে। পরেরদিন বাকিটুকু লিখবো এই সুযোগ থাকে না।
অনেককেই বলতে শুনি সাংবাদিকদের জ্ঞানের অভাব নিয়ে ক্ষুব্ধ। অবশ্যই একজন ভাল সাংবাদিক তিনিই, যিনি ভুল না করে কাজটি করতে পারবেন। তারপরেও যে ভুল হয় না তা বলবো না। যেহেতু সাংবাদিক বিশেষজ্ঞ নন, সেহেতু ঝুঁকি থাকেই। আর একজন যদি বিশেষজ্ঞই হন, তাহলে সাংবাদিক হবেন কেন? বিশেষজ্ঞ হবেন।
২. কলাম ও আর রিপোর্টের মধ্যে পার্থক্য আছে। রিপোর্ট একাধিক হাত ঘুরে তবেই ছাপা হওয়ার যোগ্য হয়। রিপোর্টের ভুল-শুদ্ধ দেখা হয়। বাক্য গঠন দেখা হয়। সাংবাদিকতার ব্যাকরণ দেখা হয়।এসব কাজের জন্য প্রধান প্রতিবেদক, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক-এরকম কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকেন।
আর কলাম লেখকের লেখা কেবল যায় প্রুফের জন্য। সুতরাং একজন কলাম লেখক যদি ভুল কিছু লেখেন তাহলে তার দায় সবচেয়ে বেশি কলাম লেখকের। অবশ্যই পত্রিকার দায় আছে। কিন্তু কলাম লেখকের লেখার ভুল শুদ্ধ দেখার জন্য তিন চার হাত ঘোরার কোনো নজীর নেই।
কলাম লেখক বা রিপোর্টারের পার্থক্যটা বোঝার আহবান জানাই।
মাসুম ভাই কোইনসাইড করলো একটা বিষয়, আজকেই আমরা একটা আড্ডায় কলামিস্ট আর আর্টিকেল রাইটারের পার্থক্য নিয়া আলোচনা করতেছিলাম...লগে রিপোর্টারগো বিষয়টাও ছিলো।
সংবাদপত্রে চাকরী করলেই সাংবাদিক এইরম ধারণা যে আমাগো কথিত প্রগতিশীলরাও বিবেচনা করে সেইটা আগে জানতাম না। আনিসুল হকের এথিক্স নিয়া দেখলাম ভালোই টানাটানি চলতাছে। তিনি ফিচার এডিটর ছিলেন, বিনোদন পাতা দেখতেন। তার স্পেশালিটি কখনোই রিপোর্টিংয়ে ছিলো না। তার কলামের অথেনটিসিটি দিয়া যখন মুসার অভিযাত্রারে বিচার করতে শুরু করা হইলো তখনি বুঝছি এই কৌশলে ঝামেলা আছে। মুসা এই খানে বিষয় না। বিকল্প বক্তব্য দিয়া জাতে উঠনের চেষ্টা। আর এই অপচেষ্টার সাথে যূক্ত হইছে মুসার নর্থ আলপাইন ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন বিএমটি'র লোকজন। আমার কাছে সজল খালেদের মেইল আছে, মুসার খবর বাংলাদেশে আসনের দিন পাঠানো। সে তখন মুহিতের বরাত দিয়া আসলেই কইছিলো, যে আসলে মুসা যায়ই নাই। এখন আরো মানুষরে দিয়া কওয়াইতেছে ফার্স্ট স্টেপ পর্যন্ত গেছিলো। ব্রেন্ডন যদি তার সাক্ষাতকারে থার্ড স্টেপের কথা কয় তাইলে কইবো হ ঐ পর্যন্তই...
তারে সামিট পর্যন্ত উঠতে না'ও দিতে পারে।
তয় আবার এইটাও মনে হয় যে সবশেষে জ্ঞানী মানুষেরা কইবো আমরা কি আর সবার মতো! আমরা যাচাই বাছাই করে তবেই না বিশ্বাস করি...নাহলে বিজ্ঞানে বিশ্বাসী বলি কি করে নিজেদের!
তয় সাংবাদিকতায় বিশেষজ্ঞ তত্ত্ব অর্জিত হয় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়া। পৃথিবীতে এমন নজীর ভুরি ভুরি। যেমন আপনের বিভাগেই সব পোলাপাইন নিছেন অর্থনীতি জানা-বোঝা। দায়িত্বটা নিশ্চিত পিনাকীরে কিম্বা উৎপল শুভ্ররে দেন না...
ধরেন নাটোরের যে ঘটনা, এইটার জন্য আমি পাঠেবো ক্রাইম রিপোর্টারকে। আবার এমন অনেক ঘটনা আছে যা ঘটলে, সেখানো আমি পাঠাবো যিনি ভালো ফিচার লিখতে পারবেন, ভাষা ভাল দখল আছে তাকে। মুসা এভারেস্টে উঠলে সেইটা সত্য মিথ্যা অনুসন্ধানে আমি রিপোর্টার পাঠাবো না, বরং দূতাবাস যখন বলে দেয় এর সত্যতা তখন এমন একজনকে পাঠাবো যিনি বিশেষ এই অর্জনকে অন্যভাবে উপস্থাপন করবেন। লেখায় আবেগ থাকবে। ভাষার সৌন্দর্য থাকবে।তখন ফিচার স্টাইলটাই মূখ্য।
আর কেউ কেউ প্রায় বিশেষজ্ঞ হতে পারেন, সবাই না। যেমন ধরেন, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক মোয়াজ্জেম ভাই অর্থনীতির একজন বিশেষজ্ঞ বলতে পারেন। উন্নত দেশে তো এরকম অনেক আছেন।
মীরের সাথে একমত।
কাকও নাকি কাকের মাংস খায় না।কিন্তু আমরা??????
একটি মানুষ, একটি পাহাড়
উঠেছে কি, ওঠেনি?
কোটি মানুষ, দু'বেলা আহার
জুটেছে কি, জোটেনি?
কাজের মানুষ, আকাজের বাহার
মিটেছে কি, মেটেনি?
আনাল হক, ব্যর্থ গবেষক
খেটেছে কি, খাটেনি?
মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট সামিট করা না করা নিয়া আম-পাবলিক হিসাবে ভেজালের মধ্যে পড়েছি। শেষ পর্যন্ত একটা জিনিসই মনে হয় - কারো কাছে কনক্লুসিভ কিছু নাই। তবে সহ-পর্বতারোহীদের বক্তব্যকে প্রাধান্য দেব জ্বিনের বাদশা ভাইয়ের কথামতো। এবং সেটা আসলে মুসাকে সমর্থন করে।
আল্লাহ বাচাইছে, এডমন্ড হিলারী বাঙালী না। তাইলে এভারেস্টে উঠার প্রমাণ দিতে দিতে তার জান কয়লা হইয়া যাইতো!!!
বাঙালির জাহান্নাম থেকে রক্ষক না থাকা স্বত্তেও পালাতে না পারার কাহিনীটা মনে পড়ে। মুসা ইব্রাহীম এভারেস্টে উঠছে এই কথাটা বিশ্বাস করতে সচুগো সমস্যা কোথায় জানিনা। যাইহোক মুসা এভেরস্টেও উঠলেও বা না উঠলেও কোন সমস্যা নাই, এটা কোন জাতীয় অর্জন না। এতে আমার দেশের কোন মানুষের কোন উপকার হয়নি, একজন অভুক্ত মানুষের একবেলা বেশি খাওয়ার জোটেনি।
জেমস ওয়াইল্ড নামের একজন সপ্তমবারের মতোন সামিট করছে। তার ব্লগে পাইলাম শেষবার তার ক্যামেরা ঠান্ডায় জইমা গেছিলো। তাগো টিমের ১০ জনের মধ্যে মাত্র ৩টা ক্যামেরা কাজ করছে। আর আমরা মুসা ক্যান দামী ব্যাটারী কিনে নাই বইলা তারে গালি দিতেছি...
আমাগো গবেষকেরা ব্যাটারী'র কইলজা পর্যন্ত চিনে...এই লোক জানলে মনে হয় বগলের তলায় ভইরা গবেষকগো লগে লইয়া যাইতো হিমালয়ের চূড়ায়...
আমি বিশ্বাস করতে চাই মুসা এভারেষ্টে উঠেছে। কিন্তু তেনা প্যাচানোর সুযোগ মুসা আর তার ওস্তাদেরাই দিয়েছিল। যেন এভারেষ্ট জয়ের কাহিনী দিয়ে শতকোটি টাকার ব্যবসা হবে এরকম ঢাক ঢাক গুড় গুড়। কিন্তু হয়েছে ঘোড়ার ডিম। শুনেছি মুসার দেনাই নাকি শোধ হয়নি এখনো। শুরুতেই ঝেড়ে কাশলে এত কথার দরকার ছিল না। রহস্য করে জেতা যায় একমাত্র প্রেমের ক্ষেত্রেই।
এভারেস্ট জয় বাঙালী জাতির জীবনে বিশাল অর্জন এই ভাবে যেহেতু বিক্রি করা সহজ, আমাগো পত্রিকাগুলিও তাই করছে। সংবাদপত্ররে মানুষ কি মনে করে জানিনা। কিন্তু আমার কাছে পত্রিকা প্রকাশরে ব্যবসাই মনে হয়।
আমরা যারা ত্যানা প্যাঁচাই তারা কোন স্তরে অবস্থান করতেছি, এইটা এখন প্রশ্ন হইতে পারে এখন। মুসা সুযোগ কইরা দিছে মানে সে নীরব ছিলো। এই নীরবতা যদি ত্যানা প্যাঁচাইতে উদ্বুদ্ধ করে তাইলে আমার বলার কিছু নাই। শুরুতে বিএমটি'র সজল খালেদতো জনে জনে মেইল কইরা বেরাইছে। সেইটা এক্সপেডিশন শেষ হওয়ার দিনেই। ঐটা যে বিরোধী গ্রুপের ধান্দা ছিলো সেইটাতো স্পষ্ট। মুহিত ব্যর্থ হইয়া ফিরা আইসা কইছে যে সে মুসারে দেখেই নাই। অথচ পরে সে স্বীকার করছে যে মুসার সাথে তার দেখা হইছিলো। আমাগো পর্বতারোহীগো সততা নিয়া সন্দেহ তোলা যাইতে পারে অনায়াশে। কিন্তু ব্লগার গবেষকগো ত্যানা প্যাঁচাইতে দেইখা তাগো ক্রেডিবিলিটি নিয়াও প্রশ্ন তোলার সময় আসছে। একজন রিচার্ড ডকিন্স কিম্বা জ্যারেড ডায়মন্ড যখন কোন সংশয় নিয়া কাজ করে, সেইটা হয় সততার জায়গা থেইকা। কিন্তু আমাগো গবেষকরা অহমিকার অবস্থান ধইরা রাখতে চায়।
আমরা চাই জগত-দুনিয়া-আমার দেশ ভালো হোক। কিন্তু নিজেরো যে পাল্টানের প্রয়োজন আছে, আমি নিজেও যে শতভাগ মোহমুক্ত মানুষ না, সেইটা উপলব্ধি করতে পারলেও ছাড় দিতে আমরা রাজী না। এই বিশ্বাসের ফ্যাসীজম দিয়া কখনো কোনো উদারতার নজীর স্থাপন করা যায় না। গালি দেওনের অধিকার পাইতে হইলে গালি খাওনের সম্ভাবনাটাও বিবেচনায় রাখতে হয়।
থাম্বস আপ।
অন্য একটা ব্লগে দেখলাম ব্লগের মডারেটর আনিসুল হকরে শিক্ষিত করতে চাইছেন। প্রথম আলোকে শিক্ষিত করার জন্য ব্লগ খুলছেন। গুগল সার্চ দিয়ে তিনি মাস্টার হয়ে গেছেন। আমি যে মাস্টার্স পাশ করেছি তার সার্টিফিকেট আজ অকেজো। এটা যে কেউ নিলক্ষেত থেকে বানিয়ে আনতে পারে। এখন বিদেশি কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে তোমার কি বৃত্ত সাহেবের সার্টিফিকেট আছে? তখন আমার কি হবে? কে দেবে আমাকে দিক নির্দেশনা? আমার তো তাহলে এখন ব্লগীয় সার্টিফিকেট ছাড়া কোন উপায় নাই। বৃত্ত সাহেবের সামনে বসে আমাকে পরীক্ষা দিয়ে বৃত্তীয় সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
আমার আরো সীমাবদ্ধতা আছে। হাইস্পিড ইন্টারনেট ছাড়া আমি আবার শিক্ষিত হতে পারবো না। এখন আমরা কোথায় পাবো হাইস্পিড ইন্টারনেট?
এভারেস্ট বিজয়ীদের জন্য চীনা আর্মি ক্যাম্পে লিয়াজোঁ অফিসার নাকি সবার জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করে। বৃত্ত সাহেবকে অনুরোধ জানাই আপনি এমন একটা সার্টিফিকেট জোগার করুন। তারপর এসে বলুন যে আমি সার্টিফিকেট জোগার করেছি। আমরা মুসাকে ধিক বলবো। "কাগজের পাতায় বসেই আমরা পাহাড় জয় করে ফেলবো।" আপনি কি কীবোর্ড দিয়ে ব্লগের পাতায় বসে রাজা উজির মারছেন না?
নোংড়ামির একটা সীমা থাকা প্রয়োজন।
Musar uchit silo Himu k sathe niye Everast e otha. eita Musar birat vul hoise. er por jara jara Everast e othbo tader jonno shorkarivabe niyom koira dea uchit j shobbai Himure sathe nia pahar joy korba. naile tomago joyee ghoshona kora hobe na.
এমন ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক কমেন্ট মডারেশন প্যানেল পার না হলে ভালো লাগবে।
মুসার এই এভারেস্ট অর্জন নিয়ে বিতর্কের রসদ কিন্তু মুসা নিজেই তার আগের কয়েকটি পর্বতারোহণের সামিট করা না করেও সামিট করার কান্ডকীর্তির মাধ্যমে সাপ্লাই করেছেন। হিমুর সিরিজটার প্রথম কয়েকটি পর্বের বিষয়ও কিন্তু ছিলো সেইসব অতীত ঘটনাগুলো যেগুলো আসলে কোন না কোনভাবে মুসা ইব্রাহীমের চরিত্রের এই দুর্বল দিকটি সামনে নিয়ে আসে। সামিট না করেও সামিট করার সার্টিফিকেট নিয়ে আসার অতীত সাথে নিয়ে বিতর্কের চাপে চুপচাপ বসে থাকা সাথে মিডিয়া বেনিয়াদের বানিজ্যের ক্যাটালিস্ট হয়ে সেলিব্রিটি তকমা উপভোগ, কারো না কারো প্রশ্নের শিকারতো হবেনই, তাইনা!!
মুসার চরিত্র নিয়া আমি কোনো ধরনের আলোচনায় উৎসাহী নই। যারা এভারেষ্টের চূড়ায় পৌছাইছে তাগোর সবার চরিত্র ফুলের মতোন পবিত্র হইবো এইরম কনসিকুয়েন্স টাননের পক্ষপাতিও আমি না। মুসা এভারেস্টের চূড়ায় না পৌছাইয়া নীচের কোনো জায়গায় একটা সেটআপ ছবি তুলছে কিনা সেইটা নিয়া আমার আগ্রহ তৈরী হইছে ব্লগের বিভিন্ন স্তরে ক্যাচাল দেইখা, নাইলে মুসার এই অর্জন নিয়া আমার আদৌ কোনোরম আগ্রহ ছিলো না।
তয় গতো কয়দিনে অনেকগুলি ব্লগ পইড়া মনে হইতাছে উন্নত বিশ্বের মানুষের লেইগা এইটা একটা বড় অর্জন। আরেকটা বিষয় নিয়া বেশ চিন্তায় পড়ছি ঐ ব্লগগুলি পড়তে গিয়া, কোনো পর্বতারোহীরেই বুদ্ধের মূর্তি বিষয়ে আগ্রহী দেখি নাই। তারা উচায় উঠছে, সেইটার আবেগ টের পাওয়া গেলেও বুদ্ধের মূর্তির লগে ছবি না তুললে তাগোর অভিযাত্রা অপ্রমাণিত থাইকা যাবে এই তথ্য অনুপস্থিত। আমরাই বুদ্ধের মূর্তি নিয়া প্যারালাক্স দিয়া চোমো লোঞ্জোর অবস্থান বাইর করা নিয়া চিন্তায় আছি। আমার কাছে প্রবণতাগুলিরে কন্সপিরেসীর অংশ বইলাই ধারণা হয়। আর এই কন্সপিরেসীর সম্ভাবনা তৈরী হয় সজল খালেদের অতি আগ্রহ দেইখা...তার বন্ধু বান্ধবের তালিকা জাইনা।
একঃ .....এই বিষয়ে ব্লগীয় বন্ধু অদ্রোহ আর অপরিচিত আবিরের সাথে আজই আলাপ হচ্ছিলো। ...পূর্বের পর্বতাভিযানগুলো নিয়ে অসঙ্গতির কারণে মুসা ইব্রাহীমের প্রতি কিছু সংশয় সৃষ্টি হয়েছিলো- স্বীকার করি। কিন্তু ভিনদেশী পর্বতারোহীর সাক্ষ্য যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে- তাহলে ছবি আর ভিডিওর দরকার দেখি না। এই সাক্ষ্য একটি অকাট্য প্রমাণ-নিদেনপক্ষে আমার কাছে।
দুইঃ এন্ত্রাক্সের কথা তুইলা নজ্জ্রুলস্লাম হলে গরু খাওয়া উৎসব মাটি হৈসিলো আরেকটু হৈলে.... এইসব ভ্রান্ত ধারমা...
তিনঃ...... ....... .....
বিশ্বাস আসলে সংগ্রামহীন মানুষের আয়েশ...আলস্য!
চমতকার লেখা।
বিশেষ টোনের মন্তব্য নিরুৎসাহিত করতে দেখে ভালো লাগলো। পরিমিতিবোধের চর্চাটা সত্যিই খুব জরুরি।
মন্তব্য করুন