ইউজার লগইন

নাম নাই'এর ব্লগ

আমি

আমি আবার অনেকদিন পর একটা কিপলিং ব্যাগের মালিক হয়েছি! কিপলিং-এর ব্যাগগুলির যিপার হল পৃথিবীর অন্যতম আরামদায়ক ব্যাপারগুলির মধ্যে একটা।

২০১৮

২০১৮ তে আমি যেই বইগুলি পড়বো – স্যাপিয়েন্স-টা শেষ করবো, হোমো ডিউস টা পড়বো। সেলফিস জিন পড়ে ফেলবো। কুদরত রঙ্গিবিরঙ্গী আর ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল অনেকদিন ধরে জমিয়ে রেখেছি পড়বো বলে, এই বছর নিশ্চয়ই হয়ে যাবে। গত বছরের কলকাতা থেকে আনানো বইগুলির ধুলো ঝেড়েমুছে পড়তে হবে। হেমেন্দ্রকুমারের রামায়ণটা অবশ্য অবশ্যই এই বছর পড়ে ফেলবো। আর কিছু যখন ভাল লাগবে না তখন কিছু রাশান বই, আর কখনো গম্ভীর বই শেষ করে ঐসময়ের চটুল বেস্টসেলার। এই লিস্ট কিছুটা ফ্লেক্সিবল, মানে এখানে হঠাৎ পাওয়া কোন বই টুক করে ঢুকে যেতে পারে, তবে এই নামগুলো থেকে কোন বই বাদ যেতে পারবেনা। গত বছর আইস এ্যান্ড ফায়ার পড়তে যারপরনাই সময় নিয়েছি, এই বছর কোন বইয়ের ক্ষেত্রেই সেটা করা যাবেনা।

এই বছর আমি আরেকটা কাজ করবো, নতুন কিছু একটা শিখবো। ইউটিউব দেখে। লিস্টের টপে আছে ভিডিও এডিটিং আর বেইসিক কোডিং (হাহা)। দেখা যাক।

অনেেেেক

অনেেেেক দিন কিছু লিখিনা। কোথাও। এর মধ্যে কখনো যে লিখতে বসিনি তা না, কিন্তু চিন্তাভাবনা, কথাবার্তা সব কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেছে। এক লাইন লেখার পর মনে হয়, আরে এটা তো আগে কত কতবার করে লিখেছি আমি, এখানে, সেখানে, অন্য কোথাও। তারপর ব্যাকস্পেস চেপে ধরে থাকা যতক্ষণ না কালো অক্ষরগুলো একে একে কোথাও হারিয়ে যায়। গত কয়েকমাসে যতগুলো অক্ষর লিখেছি আর তারপর অদৃশ্য করে দিয়েছি ওরা নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও আছে। অস্তিত্ব তো ছিল ওদের, অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও, ছিল তো! কোনরকম সৎকার হয়নি যদিও, ব্যাকস্পেস নামক এনাইহিলিন গান চিরতরে দিয়েছে ওদের ভ্যানিস করে। হয়তো সেই ব্ল্যাকহোলে হারিয়ে যাওয়া বাক্যগুলোর কোন একটা পড়লে এখন আমি মুগ্ধ হতাম, কিংবা অনেক অনেক পুরোনো কোন স্মৃতি আবার মনে পড়ে যেত, কিংবা হয়তো এক্ষনি, এই এক্ষনি আমার মন অসম্ভব ভালো হয়ে যেত। খারাপ-ও হতে পারত হয়তো। কে জানে।

রমজান

রমজান মাসে রোজাদারদের ঢোক গিলতে না পারার কষ্টটা রাস্তায় স্বদর্পে চকচক করে প্রতি বছর। সন্তর্পনে পা ফেলে হাঁটতে হাঁটতে ভাবি, এই ঘিনঘিনে অস্বস্তিটা কি কোন পদচারী রোজদারের মনেও জাগে?

রোজার মাসে বেরোজদার হিসাবে খাওয়াদাওয়ার বেশ অসুবিধা। দুপুরবেলা কোথাও কিছু পাওয়া যাবার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়, আর রাতের বেলায় দশটার মধ্যে স্বাভাবিক খাবারদাবার সব শেষ, শুরু হয়ে যায় সেহেরীর প্রস্তুতি। কতিপয় বেরোজদার রান্নাবান্না অপছন্দ করা লোকজনের জন্য বাধ্য হয়ে অনাহারে থাকাটাই একটা পরোক্ষ রোজা হয়ে দাঁড়ায়। এটার কোন সওয়াব গোনা হবে কিনা কে জানে।

------------------------------------------------

আমি

আমি এখন পর্যন্ত কাউকে শত্রু বলে মনে করতে পারলাম না। হ্যা, কিছু মানুষ আছে/ছিল যাদের আমি সযত্নে এড়িয়ে চলি, আবার কিছু আছে যাদেরকে দেখলে একটা রাগ/ক্ষোভ/বিরক্ত মেশানো অনুভূতি হয়, মাঝে মাঝে ঠাস করে মেরে বসার ইচ্ছাটা জোর করে হজমও করতে হয় - তবে এরা কেউ আসলে আমার শত্রু না। যেকোন মানুষের পক্ষেই পুরোপুরি খারাপ হওয়াটা একটা প্রায় অসম্ভব কাজ। কোথাও না কোথাও তো তারা ভাল মানুষ। আর বিশেষ করে আমার সাথে যাদের ইতিহাস কোথাও না কোথাও জড়িয়ে আছে তারা মোটামুটি সর্বজনগ্রাহ্য ভালমানুষ। এবং এই ইতিহাস খন্ডগুলোর প্রতিটাতেই আমি হলাম দ্য ভিলেইন। খারাপ মানুষটা। যে কিনা এখনো কোন বীরপুরুষ হিরোর অভাবে দিব্যি সবার চোখের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কাপড়

কাপড়টা হতে হবে স্মার্ট, ট্রেন্ডি। জুতোটা হবে দামী, যা দেখেই কিনা ব্যক্তিত্ব বোঝা যাবে। কথা বলতে হবে শুদ্ধ বাংলা/শুদ্ধ ইংরেজি/বাংলা-ইংরেজি মিশ্র ভাষায়। মাপা কথাবার্তায় সবসময় সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোন নেতিবাচক ভাব না এসে যায়, যাকে বলে পজিটিভ এ্যাটিচুড। তবেই আপনি ভদ্রলোক হয়ে ওঠার যোগ্য বলে বিবেচ্য।

অভদ্রলোকেদের জন্য কাজ করতে গেলে যখন ভদ্রলোক হতে হয়, যখন এই ভদ্দরলোকিটা না করলে অভদ্র, গাঁইয়া, ক্ষ্যাত লোকদের জন্যে কিছু করতে চাইলেও করা যায়না - বিষয়টায় একটা অদ্ভুত আয়রনি আছে। সবাই জানে সবার মেকিত্ব, এবং এই জানাজানির মধ্যেই ঠাসাঠাসি করে বেশ সবাই ভাইভাই, বোনবোন।

অবশেষে

অবশেষে কালবৈশাখী। এই বাসাটার জানলা পুরোনো ধরনের কপাটওয়ালা। হুড়কো বলে একটা জিনিষ ছোটবেলায় দেখা, সেটাও আছে। তো কপাট ছিল এম্নি ভেজানো, আর সামনে রাখা ছিল মাগ, তাতে আধখাওয়া গ্রীন টি। মনোযোগ দিয়ে একটা কুটনা কুটনা উপন্যাস পড়ছিলাম, এমন সময় সাঁট করে কপাট খুলে কালবৈশাখী ঘরে ঢুকল মহা তর্জন গর্জনে। মাগ উল্টে গ্রীন টি প্রথমে নোটবুকে, তারপর বিছানার চাদরে! বইপত্র এলোমেলো, অরিগামি কাগজ ডাই করে রাখা ছিল কিছু, রং ছড়িয়ে সারা ঘরে উড়ে বেড়ালো ঘুরে ঘুরে। দৌঁড়ে বারান্দায় গিয়ে বাতাস খেলাম কিছুক্ষণ। এতো মিস করছিলাম বলেই কি এবার এতো তাড়াতাড়ি এসে পড়ল?

কেমন

কেমন যেন ভোঁতা হয়ে গেছে সবকিছু। কোনকিছুই আর বিরক্তি, রাগ জন্ম দিতে পারেনা। সহ্যের সীমারেখাটাও কেমন যেন উধাও হয়ে গেছে। কোনটাই আর কোন বিষয় মনে হয়না। মানুষ মরে গেল, একগাদা লোকের ভীড়ে মেরে ফেলল, যারা শপথ করে বাঁচাবার দায়িত্ব নিয়েছে তারাও একবার দেখে চোখ সরিয়ে নিল, যে মেরে ফেলল সে বেমালুম সবার চোখের সামনে দিয়ে হাওয়া হয়ে গেল, রাজামহারাজারা সবাই মুখে কুলুপ এঁটে ঘরে খিল দিল - কি আসে যায়। কারন এগুলো সবকিছুই তো আগের দেখা সিনেমা। প্রতিবার এটা হতেই থাকবে। এত সাফল্য, এত প্রগতি, এত উন্নতি, এত এত মানুষের মাথা - এতো চাপাতির দু'ঘা খাবার জন্যেই। এতে আর হাহুতাশের কি আছে। আরেকটা মানুষকে কুপিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা - এটাই এই মানবজন্মের সার্থকতা। আমার থম ধরে থাকা মাথাটা কেবল চালু হচ্ছেই না আর। এটাই আমার জীবনের সমস্যা এখন। আর কি।

মন

মন বিক্ষিপ্ত থাকলে আমি মাঝে মাঝে দূর থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি খুঁজে বের করে দেখি। অত উপর থেকে দুনিয়াকে দেখলে আশপাশের যত মন খারাপ করা বিষয়বস্তু সব পিঁপড়ার থেকেও ছোট হয়ে যায়। ন্যান্সি গ্রিফিথের একটা গান আছে, 'ফ্রম এ ডিসট্যান্স'। বিষয়টা হল, দূর থেকে সবকিছুই সুন্দর। পৃথিবীটা দেখতে লাগে সবুজ-নীলের মধ্যে সাদা তুষারঢাকা পর্বতচূড়া। সমুদ্রের পানি মেলে ঝিরির পানিতে, বাতাসে ঈগল ভেসে বেড়ায়। দূর থেকে সব শান্ত লাগে। সবকিছু একতানে বাজে। সেই দূরত্ব থেকে পৃথিবীর সবার সবকিছু আছে, একটা মানুষ-ও ক্ষুধার্ত না, কোন বন্দুক নাই, গুলি নাই, বোমা নাই। দূর থেকে আমরা সবাই একেকটা বাদ্যযন্ত্র, সবাই একদলে, এক-ই সাথে ঘুরে ঘুরে এক-ই সুরে বাজি, আশার সুরে, শান্তির সুরে। দূর থেকে আমাকে আর তোমাকে দেখলে মনে হয় খুব ভাল বন্ধু, যদিও আসলে আমরা যুদ্ধ করছি একজন অন্যজনের সাথে। সেইরকম দূরত্ব থেকেই ঈশ্বর আমাদের দেখে।

বিভ্রম

বিভ্রম। ইলিউশন অর্থ বিভ্রম। অনেককাল ধরে ভেবে এসেছিলাম মায়া।

একেবারে নিজের গভীরে সবার একটা জায়গা থাকে। পরম আশ্রয়ের, পরিপূর্ন শান্তির। একবার সেখানে পৌঁছলে চারপাশের ধুলা, ময়লা, নোংরামী, সংকীর্ণতা সবকিছুই অদৃশ্য হয়ে যায়। সবার থাকে কিনা জানিনা অবশ্য। তবে আমার একটা আছে। সেই নিশ্চিন্ত জায়গাটায় যখনখুশি চলে যাওয়াটা দিনদিন দূরূহ হয়ে যাচ্ছে। কারনটা কি চারপাশের মাত্রাছাড়া অস্থিরতা আর অসহনশীলতা? আমি জানিনা। আমার সবকিছু অসহ্য লাগে। কতদিন ডুব দেইনা! কতদিন পালাইনা! কতদিন কালবৈশাখী ঝড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে রক্তের টগবগ শুনিনা!

মন

মন ভাল থাকেনা। বিভিন্ন কারনে। তার সবটাই যে ব্যক্তিগত তা না, কিছু কিছু কারন একেবারে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক। কিছু ঐতিহাসিক কারনও আছে। বিষয়টা যতটা হাস্যকর শোনাচ্ছে ততটা হাসি আমার ভেতরে নাই। নাহলে এতটুক একটুখানি একটা মুচকি হাসি তো হাসতে পারতাম লিখতে লিখতে, তাও হাসিনি।

শিরচ্ছেদ, জিহাদ, খলিফা, হরতাল, অবরোধ, পেট্রোল বোমা, ককটেল, লঞ্চডুবি, গুলি, লাশ - এইসব খারাপ শব্দের ভীড়ে একটা সুন্দর শব্দ সারাদিন মাথার মধ্যে উড়ে বেড়ায় - 'কঙ্কতিকা' 'কঙ্কতিকা' 'কঙ্কতিকা'!

আমরা

আমরা তেমন কিছু করিনা। সারাদিন বাসায় থাকি, মাঝে মাঝে সিনেমা দেখি। মাঝে মাঝে বই পড়ি। খাবার সময় খাই, ঘুমাবার সময় ঘুমাই। আমাদের বাবা নাই, মা নাই, ভাই নাই, বোন নাই, বন্ধু-বান্ধবী, প্রেমিক-প্রেমিকা কিচ্ছু নাই। আমরা তোমাদের চিনিনা, তোমরা আমাদের চেননা। এই না চেনাচিনির মধ্যে আমরা ভাল থাকার স্ক্রিপ্ট লিখি। যেই স্ক্রিপ্টটা কেউ দেখেনা। কোন এক ধুলাঢাকা চালাঘরের অতিজীর্ণ এক ট্রাঙ্কের কোণে পড়ে থাকে সেই স্ক্রিপ্ট, পাশে কিছু পুরোনো পয়সা, ময়লা শাড়ি পরা একটা কাপড়ের পুতুল, এক পাটি নীল স্যান্ডেল আর একটা চাকাওয়ালা মাটির ঘোড়া।

-------------------------------------------------

কিভাবে

কিভাবে কিভাবে যে হঠাৎ করে মানুষ বড় হয়ে যায়। বড় হওয়া খুব খারাপ জিনিষ।

শ্রীজাতের একটা লেখা পড়লাম কালকে। কিভাবে ছোটবেলাতে তার আশপাশটা বইমেলার সময় রাশিয়া হয়ে যেত, বরফে ঢাকা, তাজা রুটির গন্ধওয়ালা রাশিয়া। কি অদ্ভূতভাবে ব্যাপারটার সাথে রিলেট করলাম আমি। এক মেয়ে তার হবু ভাবীর নাম আলিয়ানোভা ভাসিলিয়া বলে হাসতে হাসতে শেষ, খুব নাকি আজব নাম। আমার কাছে একটুও আজব লাগলোনা। ভাসিলিসা, ইভান, মাশা, আলিয়নুশকা, আলিওশা, মিশকা - আরো কত কত সবাই আমাদের অনেকের ছোটবেলার কি বিশাল অংশ জুড়ে আছে। কিভাবে আজব লাগবে! i am so glad i grew up in the 80's and 90's. before all these tv, internet and other distractions arrived to snatch my reader self away. so glad.

মাঝে

মাঝে মাঝে বুঝিনা কোনটা বেশি ভয়ংকর - উগ্রপন্থি ধার্মিক নাকি উগ্রপন্থি প্রগতিশীল। দুইটাই চেপে ধরার চেষ্টা করে, দম আটকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। যেন কেউ একজন রক্তচক্ষু আর মারমূখী হয়ে তেড়ে আসছে - 'আমারটাই ঠিক এবং আমারটাই তোকে মানতে হবে'। আমি দুইজনকেই ভয় পাই। এবং এই দুইজনের থেকেই দূরে থাকতে চাই। আমি আমার মতন থাকতে চাই, আর পৃথিবীর আর সবাইকে তার তার মতন থাকতে দিতে চাই।

----------------------------------------------------

আড়ালে

আড়ালে থাকা খুব কঠিন বিষয়। মাঝে একটা বাংলা ব্লগ খুললাম কাউকে না জানিয়ে, দেখি কিভাবে কিভাবে যেন সেখানেও মানুষজন পৌছে মন্তব্যটন্তব্য করে একাকার। পরে দিলাম বন্ধ করে, কি দরকার খামোখা আড়াল আড়াল খেলার, এইখানটাই ভাল। দুইএকজন খবর নেয়, খারাপ না, অনেকটা পরিবার পরিবার ব্যাপার।