ইউজার লগইন

ইমরান হাসান হিমু'এর ব্লগ

আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন

একটি গল্প দিয়ে শুরু করি।গ্রীক পুরাণের খুব বিখ্যাত এক গল্প।ইকো ও নার্সিসাস এর গল্প...
“অনেক অনেক দিন আগে নার্সিসাস নামে এক যুবক ছিল।সে ছিল এক দেবতার পুত্র।রূপ মাধুর্যে সে ছিল অতুলনীয়।তার রূপে মুগ্ধ হয়ে অনেক নারী তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিল।কিন্তু সে কাউকেই প্রেমের আহবানে সাড়া দেয়নি।
একদিন নার্সিসাস তার বন্ধুদের সাথে বনের মাঝে শিকার করতে বের হয়।একটি হরিনের পেছনে ছুটতে ছুটতে সে একটি জলাধারের কাছে এসে থামে। সে খুব তৃষ্ণার্ত ছিল তাই সেই জলাধারের পানি পান করার জন্য নিচু হয়।সে তখন জলাধারের স্বচ্ছ পানিতে প্রথমবার নিজের অপরূপ প্রতিবিম্ব দেখে সব কিছু ভুলে অপলক নয়নে চেয়ে থাকে।

এদিকে ঐ জলাধারে ইকো নামে এক জলপরী বাস করত দেবতার অভিশাপে যে নিজ থেকে কিছু বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল।সে শুধু যা শুনত তাই বলতে পারত।অর্থাৎ প্রতিধ্বনি করতে পারত।
জলপরী ইকো রূপবান নার্সিসাসকে দেখে ভালবেসে ফেলে।কিন্তু সে অভিশাপের কারণে কথা বলে তার ভালবাসা প্রকাশ করতে পারে না।সে তার ভালবাসা প্রকাশের অনেক চেষ্টা করেছিল।কিন্তু নার্সিসাস নিজেতে এত বেশি মগ্ন ছিল যে সে সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করেনি।

ভাঙ্গা মন নিয়ে তুমি, আর কেঁদোনা

তুমি কখনো পুর্নিমার রাতে বৃষ্টিতে ভিজেছো? ছাদে দাঁড়িয়েতো বৃষ্টিতে ভিজেছো, তাই না? তখন কি রাত ছিলো? খোলা আকাশের নীচে, পূর্নিমা বা অমাবস্যায়? হয়তো লোডশেডিং ছিলো। অথবা ছাদে নও, খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজেছো। তোমার চুল বেয়ে পানি মিশে গিয়েছিলো ধরনীতে। আচ্ছা, সেদিন কি তোমার মনে খুব কষ্ট ছিলো? তোমার বুকের ভেতর কিছু কি পাক খেয়ে উঠছিলো? আচ্ছা, তুমি কি সেদিন কাঁদছিলে?

"আমার গল্প শুনে কারো চোখে করুনা জল যদি আসে
ভীষন দুঃখ পাবো, আমিতো রয়েছি সুখে এক বুক বেদনা নিয়ে"
- তপন চৌধুরী

তুমি কি আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল গুঁজে দেয়ার মানে জানো? তুমি কতখানি গুনতে পারো? কখনি কি চেষ্টা করেছো জলপ্রপাত হয়ে ভেসে যেতে? পড়ন্ত বিকেলে কি বাঁশির সুর তোমায় পাগল করে? অথৈ জোছনা না জোনাকিপোকা? রাত গভীর হলে কার ছায়া খুঁজো তুমি?

নিঝুম রাতের আধারে, জোনাকিরা মিটিমিটি জ্বলে
তুমি নেই আজ, আমি শুধু আছি, একা বেঁচে আছি
- অবসকিউর

একজন পতিতা ও কিছু কথা

কয়েকদিন আগে মাদারীপুরের পতিতাপল্লী উচ্ছেদ করা হয়েছে এলাকাকে পাপ কাজ থেকে উদ্ধার করতে এবং সমাজকে কলুষমুক্ত রাখতে! বেশ ক'বছর আগে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার থেকেও এভাবেই উচ্ছেদ করা হয়েছিল যৌনকর্মীদের এবং তারপরের ঘটনা আমরা সবাই জানি! এসব যৌনকর্মী ছড়িয়ে পড়েছিল রাস্তাঘাট, আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে হোটেল এবং বস্তিতেও। একটা এলাকাকে পাপমুক্ত করতে গিয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল! আমি কোনোভাবেই এই পেশার পক্ষে নই; কিন্তু সমাজের সুধীজনদের একটু ভেবে দেখতে অনুরোধ করি, একটা মেয়ে কতটুকু বিপদে পড়লে বা কোন অবস্থায় নিজেকে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত করে বা আদৌ তারা নিজেরা স্বেচ্ছায় এ পেশায় যুক্ত হয় কি-না? আমরা যতদিন পর্যন্ত এসব হতভাগা মেয়ের জীবিকা নির্বাহে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করতে পারব না, রাষ্ট্র এবং সমাজ না করবে, ততদিন পর্যন্ত কোনোভাবেই এ পেশাকে নির্মূল করা সম্ভব কি? যদি তা না হয় তাহলে ২-১টি পল্লী উচ্ছেদ করে এসব মেয়েকে ভাসমান করে পুরো সমাজটাই কি পতিতাপল্লী হয়ে উঠবে না?

যেসব সুধীজন এই অসাধারণ সমাজকল্যাণমূলক ভালো কাজটি করে বাহবা কুঁড়িয়েছেন তাদের কাছে আমার সবিনয়ে কিছু প্রশ্ন_

সীমান্ত হত্যার পরিসংখ্যান দেখবার জন্য খানিক সময় ব্যয় করি, আসুন ।

Tongue Tongue স্টার জলসা, জি সিনেমার ডেইলি সোপ দেখার সময় থেকে খানিক সময় দেই, আসুন । লেহেঙ্গা, সানি লিওনের হাল ফ্যাশনে নিজেকে আবৃত্ত করতে করতে এক নজর চোখ বুলিয়ে নিন । কারণ, আজ আমাদের বিশেষ দিন । বিশেষ দুঃখের দিন । স্টার জলসা, জি সিনেমার কূটনামী সিরিয়াল, লেহেঙ্গা-সানি লিওনের আধুনিক ফ্যাশনের নির্মাতা দেশটি আজ নাঙ্গা হয়েছে । উৎকট নগ্ন শরীরটি দেখিয়েছে । ফেলানীর হত্যাকারীকে তারা বেকসুর খালাস দিয়েছে ।

এইবার পরিসংখ্যান, সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি
সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশীদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে, হত্যা করছে । গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর সীমান্তে মিজানুর রহমানের চোখ উপড়ে হত্যা করে- যা পৃথিবীর জঘন্য ও ঘৃণ্য হত্যার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তাদের মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে, সীমান্তে মানুষ পরিবার নিয়ে নিরাপদ মনে করছে না। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি সীমান্তে বিনা উস্কানিতে এক বাংলাদেশীকে যে ভাবে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে, ভারতীয় টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজ দেখে হতবাক হয়েছে সারা বিশ্ব। সভ্য সমাজের মানবতা যেন ভূলুণ্ঠিত হয়।