আম
আমাদের বাড়িতে বেশ কয়েকটা আমের গাছ ছিল। একেকটা আমের ধরন ছিল একেক রকম। আমি, শান্তি (ছোট পিসি) আর পাখি (কাকাতো বোন)- আমাদের বিকেলের রুটিন ছিল আম পেড়ে ভর্তা বানিয়ে খাওয়া। এই তিনজনের কারণে আমাদের গাছের আম গাছে পেঁকেছে- এমন উদাহরণ বিরল।
ঢাকা শহরে এসে আমি যে কয়েকটি কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হই, তার একটি হচ্ছে আম কিনে খাওয়া। ঢাকায় আসার আগে কখনো মাথায়ই আসে নি যে, আম জিনিসটি কিনে খাওয়ার মতো কিছু একটা। সঙ্গত কারণেই ১৯৯৫ সালের পর থেকে আমার আম খাওয়া কমে যায়। কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য তখন ছিল না, তখন বাড়ি থেকে মাসে পেতাম মাত্র ১০০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে মেসে থাকা, খাওয়া এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে হতো। আমার কিনে খাওয়ার মতো বিলাসিতা তাই তখন দেখানো হয় নি।
পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ চাকরি পাওয়ার পর সামর্থ্য কিছুটা বাড়লেও আম কিনে খাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয় নি। একটা-দুটো আম তো কেনা যায় না! আর কেজিখানেক আম কিনে রাখবো কোথায়! ফ্রিজ নেই। মেসে এক কেজি আম আনলে দশ মিনিটে শেষ। প্রথম প্রথম এনে তারপর আর আনতাম না। ফলে আম খাওয়া আবার বন্ধ। কোনো কাজে কারো বাসায় গেলে হয়তো খাওয়া হয়, নয়তো খাওয়া হয় না। মাঝে মাঝে শাহবাগে কাচা আমের ভর্তা কিনে খাওয়াটাই যা সম্বল!
ঢাকা আসার পর সত্যিকারে আম খাওয়া শুরু করি বিয়ের পর। একসাথে দুই-চার কেজি কিনে আনি, কয়েকদিন খাই। নষ্ট হয় না। এ বছর ভাবছি রাজশাহী থেকে এক-দুই মন আম আনাবো, সম্ভব হলে। পৃথিবীতে যে কয়টি ফল আমি ভালোবাসি, যে কয়টি খাবার আমি ভালোবাসি, আম তাদের শীর্ষে।
*
ভাবতে পারেন, কথাবার্তা ছাড়া হঠাৎ আম নিয়ে লিখতে বসলাম কেন?
সন্ধ্যায় ইন্টারনেটে নানা সাইট গুতাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে গুতা দিলাম ‘আমরা বন্ধুতে’। এক মিনিট যায়, দুই মিনিট যায়- ‘আমরা বন্ধু’র কোনো খবর নাই। এক পর্যায়ে ব্রাউজারের কর্ণারে দেখি লোভনীয়ভাবে জুলজুল করছে ‘আম’ শব্দটি। বিশ্বাস না হলে নিচের ছবিটি দেখুন, প্রয়োজনে একটু বড় করে।

এর মানে কি এটাই যে, এ বছর ‘আমরা বন্ধু’র বন্ধুরা আমাকে আম খাইয়ে ভাসিয়ে দিবে?





২য় প্যারার শুরু পইড়াই টাসকি ... ামার-ও সেইম অভিগ্যাতা.. কয়েকজনরে বলছিও... আম যে কিনে খেতে হবে ব্যাপারটা মানতেই পারছিলাম না.. ২০০৫ সালের আমের সীঝন এই ফ্যাক্ট টার সাথে মানায়া নিতে নিতে কাইটা গেলো.. ২০০৬ এর সীঝন অবশ্য মিস দেই নাই..
.. ততদিনে শিখ্যা গেছি
. তবে আম এখনো কম-ই খাওয়া হয়.. গাছ থেকে যখন ইচ্ছা পেড়ে খাওয়ার স্যটিসফ্যাকশন টা মিস করি তাই... 
ভাইরে, এই লেখার মূল আকর্ষণ শেষ লাইনটা। আম কিনে খাওয়ার চেয়েও এই লাইনটা গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যাপারে কিছু একটা বলেন।
আম গাছে শুয়াপোকা থাকে। @বাফড়া
বেশি আম খাইয়েন না, পরে আম আশয় হইয়া যাইতে পারে
আপ্নে কয়টা আম দিবেন, আগে সেইটা বলেন।
আমি ঢাকার মানুষ, আম তো দিমু না, দিমু কার্বাইড
স্লো নেটের কারণে আমরা শব্দটা পুরা আসে নাই। এ নিয়ে আপ্নের এত আশান্বিত হওয়াটা ঠিক হয় নি
... 
ভাইরে, আম আসার পরপরই নেট স্লো হয়ে গেল কেন? নিশ্চয় এর মধ্যে কোনো ইশারা আছে।
আপনার এসব চিন্তা করে লাভ নেই। কবে আম খাওয়াচ্ছেন শুধু সেটাই বলেন।
আম খেলে লুকে মুটা হয় আর ভীষন ঘুম পায়, আলসি হয় আর এটা ফাজলামি না।
আমি মুটা হমু, ঘুমামু, আলসি হমু- তাতে আপ্নার কী? আর এই মন্তব্যের জন্য আপনাকে এক বস্তার জায়গায় দুই বস্তা নেদারল্যান্ডিয় আম পাঠানোর হুকুমত জারি করা হলো।
তুমি মুটা হইলে, ঘুমাইলে আমার অসুবিধা না মানে? আমারে পিসি ডাকবে কে তাইলে?
ও পিসি গো, আগে য়েক বস্তা য়াম পাঠান। পরে বাকি কতা অবে?
@তানবীরা আপু , আম , ঘুম আর আইলসামি কোনটাতেই আপত্তি নাই
@লেখক , এইডা কি মনে করাইলেন রে ভাই
বিদ্র: আমার আগের কমেন্ট কই গেল????????
লন, তানবীরাপুরে ধরি, আম না পাঠায়া যাবে কৈ?
তানবীরাজী, আম খেলে ফর্সা হয়।
আম আর ফেয়ার এন্ড লাভলী দেখি সমার্থক বস্তু
এখন তো ঢাকায়ে ফরমালিন যুক্ত আমে ভরা...। ফরমালিন ছাড়া আম থাকলে আমি কি দোষ করলাম ভাইয়া...।
ফরমালিন যুক্ত না ছাড়া.?.. যুক্ত হলে কিন্তু আপ্পি আরও মোটা হয়ে যাবে
আম-রা বন্ধুতে সবারই দেখে আম নিয়ে বেজায় উৎসাহ! টুটুল ভাই কৈ?
কোথা থেকে কোথা চলিয়া গেলেন! যাই হোক, মজার লেখা পড়িয়া ব্যাপক মজা পাইলুম, টুটুল ভাই নিশ্চয়ই একটা আম উৎসবের আয়োজন করবে
আমার হয়ে আপনি এক্টু রিকুয়েস্ট করেন্না ভাই!
য়াম খাইতে চাইলে য়াযাদ ভাইয়ের ধরেন।
কিন্তু এই য়াম-এ কি আসল আমের স্বাদ পাওয়া যাবে?
আরে আমের দিনে আম আসপেনাতো কাঠাল আসপে? এইডা কিরম বিচার?
বিচার হৈল আম-রা বন্ধুতে আম উৎসবের আয়ুজন করেন। নাইলে খপর আছে।
লেখা পড়ে হেব্বী মজা পাইলাম, আমরা বন্ধুতে আম ঊৎসব হোক
এইটা এখন জনগণের দাবি।
গৌতম, ফরমালিন হতে সাবধান! আমে ফরমালিন থাকে, আম খেলে ফরমালিন খাওয়া হবে, ফরমালিন খেলে মরণ পা পা করে কাছে এগুবে। এখন বিবেচনা আপনার।
ফরমালিন আগেই হজম হয়ে যায়। এগুলো কোনো ব্যাপারি না। জলদি আম পাঠান।
পোস্ট ওয়াচ কর্তাছি
করেন। তারপর হিসাব করে আম পাঠায়া দিয়েন।
য়াযাদ ভাই য়াম খাইতে চাই
য়াযাদ ভাই য়াম খাইতে চাই।
হা হা হা ... দিনদিন আপনার আমের কনসাম্পশন যেভাবে বিবর্তিত হচ্ছে, তাতে কয়েকবছর পর দেখা যাবে আপনার উঠোনে ট্রাকভর্তি আম!
"আমরাবন্ধু"র নাম সিজন অনুযায়ী বদলালে, ... মানে আমের দিনে আম-রা বন্ধু ... তরমুজের দিনে তরমুজ-রা বন্ধু হলে, গৌতমদার এমন মজার মজার পোস্ট পাওয়া যাবে
জাপানে য়ামের কী অবস্থা! ভালো হলে একবার গিয়ে খেয়ে আসতে হয়!
আমার জন্যও এক মণ আনাইয়েন তাইলে।
আগে আমি পাই, তারপর আপ্নারে দিমুনে।
আমার জন্যও এক মণ আম...
আগে আমি পাই, তারপর আপ্নারে দিমুনে।
মেসবাহ ভাই কিন্তু সত্যি সত্যি রাজশাহী টুরের কথা বলছেন... ভাইবা জানান ...
কবে?
জুনের মাঝামাঝি, আশা করছি
কে কতোটা খাওয়াইবে/খাওয়াইলো জানি না, আমি কিন্তু আপনার আশা পূরন করে দিছি, কারন এইবারের আম খাওয়ার বউনি করে দিছি আমভর্তা খাওয়ানো মাধ্যমে!
হ। কিন্তু শুরু যখন করেছেন, শেষটাও করতে হয়। আশা করি সহিসালামতে শেষ করবেন।
এরা সব পাষাণ।

আপনিই একমাত্র আমার দুঃখটা বুঝতে পারলেন!
মন্তব্য করুন