স্টোনিং অব সুরাইয়া এম
ভার্টিগো সমস্যার কারণে গত তিন দিন দিনের বেলা বাসায় থাকতে হয়েছে। কিন্তু একটানা টিভি দেখা যায় না এবং বিদ্যুৎ থাকে না বলে কোনো মুভিই টানা দেখতে পারি না। তার উপর আছে ছেলে মেয়ের কাটুর্্ন দেখার আবদার। তবুও এরই মধ্যে দুটি মুভি শেষ করলাম। অর্ধেক দেখা অবস্থায় দুটি ছবি নিয়েই পোস্ট দিয়েছিলাম। কিন্তু মুভি দুটি শেষ করার পর আবার নতুন করে কিছু লিখতে খুব মন চাইছে। বিশেষ করে গতকাল রাতে স্টোনিং অব সুরাইয়া এম দেখার পর মনটা ভারি হয়ে আছে। সব প্রথা ভেঙ্গে এই ছবিটা নিয়েই আবার এই পোস্ট।
ফ্রেঞ্চ-ইরানি সাংবাদিক ফ্রেইদুন সাহেবজামের লেখা একটা বই থেকে মুভিটা করা। বইটা প্রকাশ পাওয়ার ব্যাপক হৈচৈ হয়েছিল। সাহেবজাম যাচ্ছিল গাড়ি করে। পথে গাড়ি নষ্ট হওয়ায় চলে যায় পাশের গ্রামে। সেখানে গোপনে এক মহিলা সাহেবজামকে জানায় আগের দিনের ঘটনা। সুরাইয়া নামের এক মেয়েকে কিভাবে শরিয়া আইন অনুযায়ী পাথর নিপে করে মেরেছে সেই কাহিনী।
কাল রাতে শেষ করলাম ছবিটা। ছবির নাম দেখেই বুঝা যায় কাহিনী শেষ পর্যন্ত কি হতে যাচ্ছে। সেটা মনে রেখেই ছবিটা শেষ করলাম। তার আগে ভার্টিগোর ওষুধ হিসেবে খেয়েছিলাম একটা ঘুমের ওষুধ। ভেবেছিলাম ছবিটা শেষ করে তার লম্বা একটা ঘুম দেবো। কিন্তু ছবিটা দেখে আমি ঘুমের ওষুধ খেয়েও এক ঘন্টার বেশি সময় ঘুমাতে পারিনি। পাথর মারা দৃশ্য যেভাবে দেখিয়েছে তাতে কোনো সুস্থ্য মানুষই তা সহ্য করতে পারবে না। আর যেহেতু জানা আছে ঘটনাটি সত্যি, ফলে মন ও মাথার উপর চাপ পড়ে বেশি। এইটাই আমার জীবনের দেখা একমাত্র মুভি যা দেখতে গিয়ে আমি অন্তত তিনবার চোখ ফিরিয়ে নিয়েছি। আমার মতো শক্ত মনের মানুষও দৃশ্যগুলো সহ্য করতে পারিনি।
মুভিটা দেখার সময় আমার বউ সঙ্গে ছিল। সকালে দেখি তার অবস্থা বেশ খারাপ, অনেক রাত পর্যন্ত ঘুমাতে পারেনি। খালি দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভেসে ছিল।
এই ছবিটা কি সবাইকে দেখতে বলবো? নাকি বলবো না?
বুঝতে পারছি না।

ছবিটার একটা পোস্টার

হাত বাঁধা হচ্ছে সুরাইয়ার।

সুরাইয়ার জন্য খোড়া গর্ত

গর্তে নামানো হলো সুরাইয়াকে

সুরাইয়াকে মাটিতে পোতা হলো, যাতে নড়তে না পারে

পাথর ছোড়ার জন্য প্রস্তুত সবাই

অনেক পাথরের একটি, এরকম অনেক হাতের একটি

আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের সময়ের আরেক সুরাইয়া
ছবির শেষে প্রকৃত সুরাইয়ার ৯ বছর বয়সের একটি ছবি দেখানো হয়। এটিই নাকি সুরাইয়ার পাওয়া একমাত্র ছবি।





আমিও কাল রাতে দেখেছি।আমি ঐ দৃশ্যগুলো বাদ দিয়ে দেখেছি।ধর্মের নামে এই যে বাড়াবাড়ি এগুলো সব কাঠমোল্লাদের কারনে সেটা ইরানই হোক আর আফগানিস্তানেই হোক নতুবা বাংলাদেশেই হোক।
ইসলাম শান্তির ধর্ম।আর এই ধর্মের নামে বাড়াবাড়িতে আজ আমরা সারা পৃথিবী থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি।
ঈশ্বর নামক মেকী একটা বিষয়ে, যেটা মেড টু মেক পিপল স্লেভ; বিশ্বাস করায় কি শান্তি বুঝলাম না। সব ধর্মই কি মূলত এক শ্রেণীর মানুষের আরেক শ্রেণীকে শোষণ করার যন্ত্র নয়?
নাকি আসলে এগুলো সব ভুল। আমরা সবাই বেহেশত-দোযখে যাবো, হাশরের ময়দানে বিচার হবে, ১৫-১৬ লক্ষ কেলভিন তাপমাত্রায় ফুটতে থাকা সূর্য মাথার এক হাতে উপরে চলে আসবে -এইগুলো সত্য?
আমি তো রাসেল ভাইয়ের কথায় টেনশনে পড়ে গেলাম।
ভাই , ধর্ম বলতে আমি বুঝি - মানুষের রিপু গুলো কে সংযত রাখার জন্য কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলা । যেখানে শাস্তির ভয় আর ভালো কাজের জ্জন্য ভালো কর্ম ফল দিয়ে ব্যালেন্সড করার চেষ্টা করা হয়েছে। যুগে যুগে সব মনিষী , নবী রাসুল রা এই কথা বলে গেছেন। পার্থক্য হয়েছে ধর্মের আচার কানুন, ধর্ম না।
সেই ধর্মের কথা বলার জন্য , এইসব শাস্তি-গিফট দেবার কথার জন্য যে একজন কে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে - তিনিই ভগবান, গড বা আল্লাহ।
এই ধর্মের বিশ্বাস জলের মত, যার যার মত করে এটাকে রঙীন করেছে সব।
আপনার কথাগুলো ভাল লেগেছে।
।
যদি এটা মনে করে থাকেন তাহলে আর কিছু বলার নাই,বা বলেও লাভ নাই।
আরে মিয়া আমার কথায় টেনশন করলে হবে?একটা গল্প লিখেন।
দৃশ্যগুলো ভয়াবহ। বিশেষ করে নিজের ছেলে দুটিকে যভন পাথর নিক্ষেপ করতে বলে
বুঝতাছিনা, ম্যুভিটা সহ্য করতে পারবো কিনা..
সহ্য করা মুশকিল। তবুও দেখা উচিৎ
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
দেখার আশা রাখলাম।
স্টোনিং দেখতে হপে, থ্যাংকু।
ফেইসবুকে শেয়ার করলাম। ধন্যবাদ মাসুমভাই।
ইরানে তো আরেক মহিলাকে পাথর ছুড়ে মারার রায় দিয়ে দিয়েছে ইরানী আদালত। এই মস্তিস্ক বিকৃত লোকগুলোর হেদায়াত হোক।
মুভিটার পাথর মারার দৃশ্যগুলো খুবই নির্মম। সাধারন বিচারে এইরকম দৃশ্য মুভিতে আসার কথা না। কিন্তু যে ঘটনা বাস্তবে ঘটেছে তা আসবে না কেন?
কিভাবে যে এই ব্যাপারগুলো পৃথিবীতে ঘটে বিশ্বাস করা কষ্ট! মানুষ এত বর্বর হতে পারে।
অসম্ভব, এই মুভি দেখবো না।
বিশ্রাম নেন,দেশের বাইরে ট্রিটমেন্টের জন্য যান। খাঁচার মতো দোল-চেয়ারে বসিয়ে নির্দিষ্ট গতি আর অ্যাঙ্গেলে দুলিয়ে (বিশেষ ধরণের শব্দ শোনাতে শোনাতে) ভার্টিগোর একটা ট্রিটমেন্ট সম্প্রতি আমেরিকায় খুব চলছে।
আপনি ভাবীকেও ভার্টিগোর রোগী বানিয়ে ছাড়বেন দেখি।
মানব কর্তৃক সংগঠিত অমানবিক ব্যাপার। আসলে মানুষই হচ্ছে পৃথিবীর সর্বোনিকৃষ্ট জীব...
বলতে ভুলে গেছি, ভার্টিগো বা মাথাঘোরা নিয়ে একটা ফিচার ছাপা হয়েছিলো আমাদের 'সুখে অসুখে' ম্যাগাজিনে। সংখ্যাটা খুঁজে পেলে আপনাকে দেব। পড়লে কাজে লাগতে পারে।
আমাদের দেশে নূরজাহানের ঘটনাটা নিয়ে মিলনের উপন্যাসের বাইরে আর কোন মুভি, ডকুমেন্টারি, মঞ্চনাটক-- কিছু কি হয়েছিলো?
মুভিটা দেখা দরকার ।
ভয়াবহ ছবি মনে হচ্ছে ... দেখতে হবে
একটা প্রশ্ন জাগলো, মোল্লাগুলা সবসময় মহিলাদেরকেই পাথর মারে কেন?
এই সিনেমা দেখা যাবে না। রাতে আবার চিলড্রেন অব হেভেন দেখে মন খারাপ করে ঘুমাইছি।
সুস্থ হোন তাড়াতাড়ি। এত অসুস্থ থাকা চলবে না মাসুম ভাই।
ছবিটা দেখবো...এই যুক্তিতে যে এর পুরোটাই বাস্তবে হচ্ছে। এক দেশে আমাদের মতোই দু পা, দু হাত, দু চোখ, একটা মাথাওয়ালা মানুষেরা পাথর ছুড়তে পারছে, আমরা তো দেখবোই। আমাদের মানবজনমের ওর্স্ট কেস এনালাইজ করবো আর কি!
দেখলাম ... শেষ দৃশ্যগুলো দেখার সাহস হলো না ।
Don't act like the hypocrite, who thinks he can conceal his wiles while loudly quoting the Koran. - Hafez, 14th Century Iranian Poet.
উদ্ধৃতিটা সিনেমার শুরুতে ছিলো তাই শেয়ার করলাম।
আর নিচে সুরায়ার আসল ছবি আপলোড করে দিলাম - http://www.mediafire.com/i/?re9p3l60k301o51
ছবিটা এখানে দিলাম

ইরান বিরোধী সিনেমাগুলো এখন ভালো বাজার পাচ্ছে
আমি কিছু ইরানী ছবি কিনেছি এবার বসুন্ধরা থেকে। এপোষ্ট আগে পড়লে এটাও কিনতে পারতাম। অন লাইনে পাওয়া যাবে? কোন রেফারেন্স থাকলে প্লীজ আমার কোন পোষ্টে কেউ পেষ্ট করে দেন। খুবই দেখতে ইচ্ছে করছে ফ্লিমটা।
টরেন্টসে আছে।সার্চ দি খোঁজ় লাগাইলে পাবেন।আমি ওখান থেকে ডাউনলোড মাইরা দেখছি।
আমার টরেন্টস নাই, অন্যকোন লিঙ্ক, প্লীজ?
মন্তব্য করুন