সকলের দোয়াপ্রার্থী
১.
তিনি খুবই বিখ্যাত ব্যক্তি। নোবেলও পাইয়া যাইতে পারেন। একসময় তিনি মিডিয়ার সামনে আসতেন না। একটা রহস্য রাখতে চাইতেন। হঠাৎ কি যেন হইলো. মিডিয়া ক্রেজ শুরু হইলো তার। দুষ্ট লোকেরা বলে তাঁর শুভাকাঙ্খিরা নাকি কইছে নোবেল-টোবেল পাইতে হইলে মিডিয়ায় ঘন ঘন আসতে হবে। তারপর নাকি তার মন ঘুরছে, তিনি মিডিয়ায় পারলে প্রতিদিন আসেন।
কিন্তু চক্ষু লজ্জার একটা ব্যাপার আছে। তিনি তো আর পত্রিকা অফিসে ফোন কইরা বলতে পারেন না যে, তার সাক্ষাৎকার দেওয়ার খায়েশ হইছে।
দিন বদল হইয়া গেছে। এখন মিডিয়া রিলেশন পাইলটা গেছে। নানা তরিকার উদ্ভব হইছে। এখন কিছু পাবলিক রিলেশনস (পিআর) প্রতিষ্ঠান তৈরি হইছে, তারা রমরমা ব্যবসাও করতাছে।
তো, সেই বিখ্যাত লোকটার কথা কই, কেমনে কি হয় তাও কই। একদিন আমারে ফুন দিল এক পিআর কোম্পানির প্রধান। কইলো ঐ বিখ্যাত লোকের একটা ইন্টারভিউ নিতে হবে, সে একটা বিষয় নিয়া কিছু কথা বলতে চায়, বিষয়টা নতুন। আমি কইলাম ঠিক আছে নেবোনে। তারপর একটা টাইম ঠিক হইলো।
পরেরদিনই ফুন দিল সেই বিখ্যাত লোকের নিজে কোম্পানির এক কর্মকর্তা। আমারে কয় ‘আপনারা নাকি আমার বসের সাক্ষাৎকার নিতে চাচ্ছেন, প্রশ্নগুলো পাঠাতে হবে আর কে সাক্ষাৎকার নেবে নামটা বলতে হবে। তারপর দেখি বস কখন টাইম দেয়।’
আমি কইলাম, আমরা চাই নাই, আপনারা চাইছেন। সুতরাং আপনারাই কন কখন টাইম দেবেন।
তখন সে আমতা আমতা কইরা কয়, ঠিক আছে জানাবো তাইলে।
এর পরে দুইটা পত্রিকায় তার সাক্ষাৎকার ছাপা হইতে দেখছি।
২.
তিনিও বিখ্যাত ব্যক্তি। টক শোতে দেখা যায়, বই বের হয়, কলাম লেখেন।
ধরেন অর্থমন্ত্রী কইলো অর্থনীতির অবস্থা ভাল। সামনে আরও ভাল হবে। জিডিপি ৬ শতাংশ ছাড়াইয়া যাইবো। এই রকম কথাবার্তা তো প্রায়শই বলা হয়। সেইদিন আমি নিশ্চিত থাকি একটা ফোনের। সেই বিখ্যাত লোকটি আমারে ফোন দেয়। ফুন দিয়া কয়, অর্থমন্ত্রীর কথাটা শুনছেন। আমি কই জ্বি, শুনছি। তারপর সে কয় এইটা আপনে বাণিজ্য পাতায় ছোট একটা ইন্টারভিউ যাইতে পারে। আপনে আমারে এইটা নিয়া দুই-তিনটা প্রশ্ন করলে আমি জবাব দিতাম। সুন্দর একটা সাক্ষাৎকার হয়। অন্য দেশে এইরকম ছোট ছোট বিষয়ভিত্তিক সাক্ষাৎকার ছাপা হয়।
৩.
তিনি একটা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। আমি তখন ইত্তেফাকে কাজ করি। একদিন এক সাংবাদিক বড় ভাই আমারে ফোন দিয়া কইলো আমার কাছে একটা কাগজ পাঠাইতাছে। পাইলে যেন ফোন দেই। অফিসে যাইয়া দেখি দীর্ঘ একটা ইন্টারভিউ। সেই এমডি ব্যাটার সাক্ষাৎকার, লিখিত। প্রশ্ন তারাই ঠিক করছে, উত্তরও তারা দিছে। আমি ফুন দিয়া কইলাম জিনিষ পাইছি। তারপর সেই বড় ভাই কইলো আমারে এক লোক ফোন করবে।
১ মিনিটের মধ্যেই ফুন দিল এমডির পিএস। আমারে কয় ইন্টারভিউটা ছাপলে আমার জন্য একটা সম্মানি আছে। আমি কইলাম কতো ভাই। সে কয় ১৫ হাজার টাকা। আমি কইলাম মাত্র? আমার তো ধারণা ছিল আমার রেট আরেকটু বেশি। সে কয় কতো। কইলাম, আমি তো তিন কোটি টাকার নীচে নেই না, তয় আপনাদের জন্য কনসেনশসন দিলাম, এক কোটি টাকা হইলেই হবে।
সে তখন কয় আপনে মনে হয় রাগ করছেন। আমি কইলাম জীবনেও যাতে আপনার গলা আর না শুনি।
সেই ইন্টারভিউ একাধিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে ছাপা হইছিল।
৪.
তিনি এক সময় একটা ব্যবসায়িক সমিতির নেতা ছিলেন। এখন আর কোনো পদ নাই। ফোন আসলো সাংবাদিকদের কাছে, একটু বসতে চায়, কিছু কথা বলবেন। কোথায় বসবেন? সোনারগাঁও হোটেল অথবা লা ভিঞ্চি।
গেলো সবাই। জম্পেস খাওয়া দাওয়া হইলো। তিনি কিছু কথা বার্তা বললেন। অর্থনীতি নিয়াই বেশি, ব্যবসা খারাপ যাইতাছে কইলেন। বিশ্বমন্দার প্রভাবের কথা জানাইলেন। সরকার যে কিছু করতাছে না তাও কইলেন।
সেই রাতে দেখি টক শোতে তিনিই অতিথি।
৫.
আজ একটা প্রেস রিলিজ আসছে, ছবি সহ। হুবহু তুইলা দেই-
‘‘বাংলাভিশনে প্রচারিত জনপ্রিয় টকশো ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এর উপস্থাপিকা ও পরিচালক কাজী জেসিন ১৭ মার্চ গুরুতর নার্ভের অসুস্থতাজনিত কারণে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার ২১ মার্চ ব্যাংককের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। তিনি সকলের দোয়াপ্রার্থী।’’

আপনারা সবাই দোয়া কইরেন গো। সাথের ছবিখান কিন্তু সুন্দর দিছে।
৬.
উচ্চ ভ্রমনার্থে আগামিকাল সোমবার, ২২ মার্চ সকাল ৯.৫০ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজ যোগে বৈদেশ যাইতাছি। সময়ের অভাবে সকলের সাথে দেখা করিতে পারি নাই। আমিও তাইলে সকলের নিকেট দোয়াপ্রার্থী। 





আপনের চাকরী আছে এখনো?
আমি আবার কি করলাম?
হাহাহাহাহাহাহাহা
পিরামিড আইনেন কৈলাম
দোয়া করা হইলো। আজকাল কইলাম বিনা পয়সায় হুজুদেরও হাত উপরে উঠে না ।
আমগো জন্যে কিছু খোরমা খাজুর আইনেন
বৈদেশ যাইবেন এইটা কওনের লাইগা এত ভগি চগি ...?
এই তো বুঝছেন।
বৈদেশ যাইবেন এইটা কওনের লাইগা এত ভগি চগি ...?
মিশরের নারীরা নাকি সুন্দর? কোলন পি
ফি আমানিল্লাহ
তয় দুলাভাই, আমার চর্মচোক্ষে দেখা সেরা সুন্দরী মেয়েটা কিন্তু মিসরী ছিলো, সাবধান ।
আরেকটা কথা ... আমার জন্য একটা পিরামিড নিয়া আইসেন কিন্তু .. নইলে কইলাম আপারে ফোন কইরা আপনের ব্লগ লিংক দিয়া দিমু।
কোন দেশে যাইতাছেন ?
মেয়েটিতো বেশ সুন্দরী। বাহ! কে ইনি?
সফর নিরাপদ হোক।
লিনাপা, আপনি কাজী জেসিন রে চিনেন না?এই কথা শুনলে রায়হান ভাই খুউপ মাইন্ড করব।
ভাইয়া আগেরবার আনেন্নাই - এইবার এক বাক্স চকলেট নিয়া আইসেন
তোমার কবিতা যেদিন বুজুম সেইদিন চকলেট পাইবা।
মাসুম ভাই আপনার এখন ত বয়স হইছে মেয়ে বড় হইতেছে মান সম্মান কইয়া একটা জিনিস আছে
এগুলা কি নাচের ছবি দিয়া রাখছেন পাল্টান পাল্টান
আমারই লজ্জা লাগতেছে দেইখা
এইটা তো নাচ না, একজনরে ডাকতাছি। আর সে তো তুমি না। তুমি লজ্জা পাও কেন?
নাচ না কেম্নে কন?!? এই যে আপনার নাচের মাষ্টারনি।
নুশেরাপু গ্রেট !
হি হি হি। নুশেরাপুরে ঝাঝা। মাসুম্ভাই নিশ্চয়ই মাষ্টারনীর ফুন নম্বর চাইব।
দোয়া করি.।
ফি আমানিল্লাহ। আসনের সময় পিরামিড না আনলে কেমনে বুঝমু যে আপনি মিশর গেছেন?আর চকলেট আনা কিন্তু ফরজ। এইবারও কিছু না আনলে দোয়া ফেরত নিমু।
প্রাণ ভরে দোয়া করলাম....................হাহা
চকলেট না পাইলে কিন্তু বুইড়া আংগুলের টিপি ফিরায়া লমু গা!!
যা কইতে চাইছিলাম সাঝু কৈয়া দিছে। দোয়া করলাম। আপনারে না, আপনেরে তো শালিরা করব। আমি করলাম জেসিনের জন্য।
কয়েক্টা নাম আন্দাজ করতে পারতাছি মনে হয়, যাউকগা আসল কথা হইল বিদেশভ্রমণের আগে পাঁজি দেইখা নিয়েন যাত্রাশুভ কিনা, বা যাত্রাকালে কুমড়াভক্ষণ নিষিদ্ধ কিনা। আর পিরামিড না আনলেও দুএকটা মিশরীয় হাসিনার ছবিসহ সাক্ষাৎকার আইনেন।
আর কয়টা দিন পরে গেলে না হয় আমিও যাইতাম আপনের লগে...
জেসিনের লাইগা আফসুস রৈলো, বেচারি !!
কি আছে দুনিয়ায় , দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে চইলা যান ।আমার অনেক দিনের শখ শেয়াল দেবতারে চাক্ষুষ করার ,আনুবিসের একটা মূর্তি টুর্তি আইনেন পার্লে
আমি একটা নামও বুঝবার পারলাম না, একটু হিন্টস তো দ্যান
কর্লাম দোয়া; দোয়া কর্তে তো আর পয়সা লাগে না
বেলি ড্যান্স দেইখা আসতে ভুলবেন না য্যান
মন্তব্য করুন