ইউজার লগইন

ও নদীরে...

ও নদীরে...

মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই, এখন আমার ওষ্ঠে লাগে না কোন প্রিয় স্বাদ...এমন অবস্থাতে বার বার ছুটে গিয়েছি নানা বয়সে, নতুন নতুন বন্ধুদের সাথে একই জায়গায়। আমার একটা নদী ছিল, সে নদীকে আমি কাছের বন্ধু সবার সাথে বছরের পর বছর ভাগাভাগি করে নিয়েছি, বন্ধুরাও সে নদীকে ভালোই বেসেছে তার পাড়ে অজস্র কারখানা না হওয়া পর্যন্ত - আমার সে নদীর নাম মেঘনা। গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা হবার সুবাদে যাতায়াতের পথে মেঘনাকে ঝলক পলকে দেখেছি হয়তো কিন্তু মেঘনাতে দাপাদাপির শুরু ৯৫ সালের ৯ মার্চ থেকে। মীরপুর ১০নম্বরে ই.হক কোচিং সেন্টারের শাখায় কিছুদিন এইচএসসির শুরুতে পড়েছিলাম। সেখানে আমাদের টিচার ছিল সুজন ভাই। আমার জন্মদিনের পরের দিন আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবেন – আরেক টিচার ইলোরা এবং বন্ধু উজ্জ্বল। অনেকেই যাবে বললেও যাবার সময় আর কারো দেখা মিললো না। আমরা মাইক্রোতে না বাসে গিয়েছি মনে পড়ছে না।
মেঘনার পাড়ে গিয়ে একটা ঘণ্টার নৌকা ভাড়া করা হলো। তারপর যেতে যেতে এক চরে গিয়ে নামলাম। সুজন ভাইকে নাম জিজ্ঞেস করলাম বললো বাইল্লার চর - হা হা আসলে কি এই নামে কোন চর আছে! আমি এখনো জানি না। উনি প্রচুর বালি দেখে ঐটার নাম দিয়েছিলেন তাৎক্ষণিকভাবে বাইল্লার চর আমার এটা এখন মনে হয়।
মীরপুরে যারা থাকতো সেই সময় কমবেশি সবাই সুজন ভাইকে চিনতো- কারণ পরে যেটা বুঝেছি তার চিটারি...একদিন আমরা গিয়ে কোচিং সেন্টারের দরোজা তালা মারা পেলাম। সেই তালা আর কোনদিন খুলেনি।
যাই হোক বাইল্লার চরে নামলাম চারজন সাঁতার না জানা মানুষ। এখানে সেখানে টলতে টলতে পা দেই। পানিতে হাঁটতে হাঁটতে ক্ষুধা পেয়ে গেল। সাথে আনা বিরিয়ানির প্যাকেট সাবাড় করতে যেই না বসেছি পানির ভেতর ওমা দেখি পানি বাড়ছে অল্প অল্প হাঁটু পানি নিমেষেই কোমর সমান হয়ে গেল। মাঝি আমাদের অনবরত নৌকায় উঠবার তাগাদা দিচ্ছে কারণ চারজনই সাঁতার জানি না। হাঁচড়ে পাঁচড়ে নৌকায় উঠতে গিয়ে আগেরদিন জন্মদিনের উপহার পাওয়া ফতুয়াতে নৌকার আলকাতরা সুন্দর করে লেপ্টে গেল। নৌকায় বসে মাঝি সহ খাওয়া দাওয়া করলাম। এদিকে আমরা কেউ অতিরিক্ত কাপড় আনিনি। প্রত্যেকে প্রত্যেকের চেহারা দেখে বুঝছি আমাদের আসলে কেমন দেখাচ্ছে - পুরো শরীর ভেজা, কপালে লেপ্টে থাকা চুল, গায়ে কালি, এবং প্রত্যেকের পরনে ভেজা কয়েক সের ওজনের জিন্সের প্যান্ট।

নৌকা পুরো স্ডে চলছে, আমি একদম উপরে গিয়ে বসেছি, বাতাসে ভেজা চুল অল্প অল্প উড়ছে, মার্চ মাসের নাতিশীতোষ্ণ রোদ, পাখির ওড়াওড়ি...আমার চারপাশ কেমন যেন হারাতে থাকলো...আমি মেঘনার প্রেমে পড়লাম; খুব ভালো করে জানলাম আমাকে আবার আসতে হবে মেঘনায়, আসতেই হবে এ পানিতে, মেঘনা ব্রীজের নীচে বসে আড্ডা দিতে।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অনিমেষ রহমান's picture


হুম পড়লাম।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আমার ভালোবাসা নদীর বাস সিলেটে, নাম তার সারী।

রন's picture


ভাল লাগলো!

তানবীরা's picture


তোমাকে আসতেই হবে যেখানেই থাকো যত দূরে Big smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেঘকন্যা's picture

নিজের সম্পর্কে

ব্লগিং করছি 2005/2006 থেকে। এখানে এসে দেখলাম কেউ আগে থেকেই আমার "মেঘ" নিকটা নিয়ে নিয়েছে, যা আমি এত বছর ব্যবহার করছি।
ভালোবাসা লেখালেখি।নিয়মিত লিখতে চাই। জীবনের কোন একসময় শুধুই লেখক হিসেবে স্বীকৃত দাবী করব Smile এই আশায় বেঁচে থাকি...